পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৪ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস (যুদ্ধ-বিগ্রহ, সভ্যতা, বিপ্লব ইত্যাদি), জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা ও চুক্তি।। উৎস: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
বাস্তিল দুর্গের পতন কোন বিপ্লবের ফলাফল?
  1. রুশ বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. চীনা বিপ্লব
  4. শিল্প বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

.
মন্ট্রিল প্রটোকল চুক্তিটি নিম্নের কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা
  2. জৈব নিরাপত্তা
  3. বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর রক্ষা করা
  4. ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল বিষয়ক
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিয়াল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিয়াল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

.
বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে বড় অংশীদার কোন দেশ? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. চীন
  2. ভারত
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

- বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণে শীর্ষ দেশ চীন।

• কার্বন নিসরণে শীর্ষ ৪ টি দেশ - ২০২৫:

১। চীন → ৩৩.৯৮%
২। যুক্তরাষ্ট্র → ১২%
৩। ভারত → ৭.৫৭%
৪। রাশিয়া → ৫.৩%

তথ্যসূত্র: World Population Review ওয়েবসাইট। (Link)

.
'কিউনিউফর্ম' লিপি কোন সভ্যতার উদ্ভাবন?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. ক্যালডীয়
  4. ফিনিশীয়
ব্যাখ্যা

• সুমেরীয় সভ্যতা :
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তর্গত প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা ।
- সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠী।
-  লিখন পদ্ধতি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- তাদের উদ্ভাবিত লিপির নাম - কিউনিফর্ম।
- কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা মহাকাব্য- গিল-গামেশ।
- নগররাষ্ট্র নিয়ে প্রথম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেন- সম্রাট ডুঙি।
- তাদের  বিখ্যাত দেবতা শামাশ (সূর্যদেবতা) ।

 তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

.
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন ‘Fridays for Future’- এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গ্রেটা থুনবার্গ
  2. ডেভিড অ্যাটেনবরো
  3.  র‍্যাচেল কারসন
  4. রাইলে ভলকিন
ব্যাখ্যা

• ফ্রাইডেস ফর ফিউচার:
- 'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলন হলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সূত্রপাত হওয়া একটি আন্দোলন।
- ২০১৮ সালের আগস্টে সুইডেনে স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থুনবার্গের উদ্যোগে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবীতে সারা বিশ্বে স্কুল শিক্ষার্থীরা শুক্রবারে স্কুলে না গিয়ে রাজপথে নেমে আসে।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থানবার্গকেও গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তথ্যসূত্র: ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্ট ওয়েবসাইট।

.
ইউরোপের ইতিহাসে ′ওয়াটার লু যুদ্ধ‘  ঘটনা কোন সালে ঘটেছিল?
  1. ১৮১৫
  2. ১৮২০
  3. ১৮০৫
  4. ১৮২৫
ব্যাখ্যা

• ওয়াটারলু যুদ্ধ:
- বিখ্যাত ওয়াটার লু যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়ামে অবস্থিত।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ওয়াটার লুর যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন)।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

.
'এল নিনো' বলতে কী বোঝায়?
  1. সামুদ্রিক ঝড়
  2. মহাসাগরের তাপীয় জলস্রোত
  3. ভূমিকম্পের ঘটনা
  4. আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• এল-নিনো:
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।

তথ্যসূত্র: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.

.
'Natural Disaster Risk by Country-2025' অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ কোনটি? 
  1. ফিলিপাইন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. চীন
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

'Natural Disaster Risk by Country-2025' অনুসারে, দূর্যোগ ঝুঁকি সূচক ও বিশ্বের শীর্ষ দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি দেশ:
১। ফিলিপাইন → ৪৬.৯
২। ইন্দোনেশিয়া → ৪১.১
৩। ভারত → ৪১
৪। মেক্সিকো → ৩৭.৮
৫। কলম্বিয়া → ৩৫.৯

তথ্যসূত্র: বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউ রিপোর্ট। (লিংক)

.
ইরানে 'ইসলামিক বিপ্লব' কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

• ইরানের ইসলামিক বিপ্লব:
- এই বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালে।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বিপ্লবের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আবির্ভূত হয় ইরান।
- শেষ রাজা ছিলেন শাহ পাহলভী।
- ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন আয়াতোল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
- তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১০.
বলশেভিক বিপ্লবের প্রধান নেতা হিসেবে কে পরিচিত?
  1. লেনিন
  2. স্টালিন
  3. কার্ল মার্ক্সের 
  4. ম্যাক্সিম গোর্কি
ব্যাখ্যা

• রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে "১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব" (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে ও সমাজতন্ত্রের সূচনা ঘটে।

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র: i) Britannica
ii) History.com

১১.
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গৃহীত 'প্যারিস জলবায়ু চুক্তি' কবে থেকে কার্যকর হয়?
  1. ২০১৫
  2. ২০১৬
  3. ২০১৭
  4. ২০১৮
ব্যাখ্যা

• প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- পূর্ণরূপ: Paris Agreement under the United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC)।
- গৃহীত হয়: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫.
- স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স। 
- কার্যকর তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০১৬। 
- উদ্দেশ্য: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২°C এর নিচে সীমাবদ্ধ করা, এবং ১.৫°C লক্ষ্য অর্জনে প্রচেষ্টা করা।
- অংশগ্রহণকারী দেশ: ১৯৫ দেশ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১২.
‘গ্রিনপিস’ কোন দেশ ভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা ?
  1. নেদারল্যান্ড
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. কানাডা
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

• গ্রিনপিস:
- গ্রিনপিস নেদারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়:  ১৯৭১ সালে।
- সদরদপ্তর: নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে।
- ১৯৭১ সালে আলাস্কার আমচিটকা দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে Greenpeace প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ও পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা বন্ধে ১৯৬৯ সালে Don't make a wave Committee গঠিত হয়।
- পরে ১৯৭১ সালে এটি 'গ্রীনপিস' নামে রুপান্তরিত হয়।
- সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য পৃথিবী নামক এই গ্রহের সব ধরনের জীববৈচিত্রের প্রতিপালনের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
- সংস্থাটির উদ্দেশ্য সারা বিশ্বে বন্য পরিবেশ ধ্বংস, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, অধিক হারে মৎস্য শিকার, বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকার এবং পারমানবিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রচারনা চালানো।

তথ্যসূত্র: গ্রিনপিসের ওয়েবসাইট।

১৩.
চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক দেন কে?
  1. লি চেং
  2. মাও সেতুং
  3. চিয়াং কাইশেক
  4. সান ইয়াৎ সেন
ব্যাখ্যা

• চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব :
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১৪.
আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ কখন শুরু হয়?
  1. ২০১০
  2. ২০১১
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা

• আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন।
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ:
- ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
- এটি আরব বসন্ত (Arab Spring) আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুরু হয়, যা ২০১১ সালের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ আনে।

উল্লেখ্য,
- ২০১১ সালে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল, সিরিয়ার নাগরিকরা সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।
- বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় দক্ষিণ সিরিয়ার ডারা শহরে, যখন কয়েকজন ছাত্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান লিখে দেয়।
- এরপর পুলিশ তাদের আটক করে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালায়, যা ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করে।
- আন্দোলনটি দ্রুত সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি এক পর্যায়ে সরকার বিরোধী সহিংস গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়।

- টানা গৃহযুদ্ধের কারণে কার্যত ধসে গেছে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা।
- এইচটিএস বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও প্রাণঘাতী ছিলো।
- বিদ্রোহীদের ১২ দিনের পতন হয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) BBC.

১৫.
কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি বিপজ্জনক রাসায়নিকের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত হয়?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. রটারডাম কনভেনশন
  3. অটোয়া প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

- বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করার উদ্দেশ্যে 'রটারডাম কনভেনশন'  গৃহীত হয়।

• রটারডাম কনভেনশন:

- রটারডাম কনভেনশন হলো একটি বহুপাক্ষিক পরিবেশগত চুক্তি।
- এটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছিল।
- কনভেনশনটি গৃহীত হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে।

- চুক্তিটি গৃহীত হয়েছিল: ১০ ​​সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮।
- স্থান: নেদারল্যান্ডের রটারডামে।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪।
- কনভেনশনের উদ্দেশ্য হলো মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পক্ষগুলির মধ্যে ভাগ করা দায়িত্ব এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রচার করা।
- এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬-এ বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: Rotterdam Convention ওয়েবসাইট।

১৬.
কনস্টান্টিনোপলের পতনের মধ্য দিয়ে কোন সম্রাজ্যের ইতিহাসে সমাপ্তি আসে?
  1. পারস্যিক
  2. বাইজেন্টাইন
  3. অটোমান
  4. মিশরীয়
ব্যাখ্যা

• বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত।

- কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।

» কনস্টান্টিনোপলের পতন:
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

তথ্যসূত্র: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা কোন আদালত দিয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
  2. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
  3. ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত
  4. জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক আদালত
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে মামলা:
- জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ে এক দেশের বিরুদ্ধে এখন থেকে মামলা করতে পারবে অন্য দেশ।
- জুলাই, ২০২৫-এ এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছে ’আন্তর্জাতিক বিচার আদালত′ (ICJ)।
- এই রায় বাধ্যতামূলক না হলেও এর ব্যাপক পরিণতি হতে পারে বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

- আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এই অভূতপূর্ব মামলার বিষয়টি ২০১৯ সালে আলোচনায় এসেছিল।
- যখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির মুখে থাকা নিম্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের একদল তরুণ আইনের শিক্ষার্থী এই ধারণাটি সামনে আনেন।
- বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিজে, যার বৈশ্বিক অবস্থান ও এখতিয়ার রয়েছে।
- যদিও এ বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত হবে না বলে আগেই বলেছিল যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলো।
- এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল, এই সমস্যা মোকাবিলায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘের প্যারিস চুক্তিসহ বিদ্যমান জলবায়ু চুক্তিগুলোই যথেষ্ট।
- উন্নত দেশগুলোর এই যুক্তি বুধবার খারিজ করে দেন আদালত।

তথ্যসূত্র: বিবিসি। (Link)

১৮.
চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কোন ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে?
  1. ভেলভেট বিপ্লব
  2. বলশেভিক বিপ্লব
  3. অরেঞ্জ বিপ্লব
  4. রোজ বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution):
- ১৯৮৯ সালে চেকোস্লোভাকিয়াতে একটি অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে।
- এই বিপ্লব খুব শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হয়েছিল, তাই একে "Velvet Revolution" বলা হয়।
- ফলাফল: কমিউনিস্ট শাসন থেকে দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
- এরপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েনের কারণে চেক ও স্লোভাক অঞ্চলের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জোরদার হয়।
- চূড়ান্ত বিভাজন: ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি চেকোস্লোভাকিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ভেঙে যায়।
- জন্ম নেয় দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র:চেক প্রজাতন্ত্র (Czech Republic) ও স্লোভাকিয়া (Slovakia)।
- এই বিভাজনকে বলা হয়: "Velvet Divorce" (ভেলভেট তালাক) কারণ এটি রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- অরেঞ্জ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ইউক্রেনে।
- রোজ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল জর্জিয়ায়।
- বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল রাশিয়ায়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১৯.
′জি- জিরো জোট′ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোন দেশ?
  1. ভুটান
  2. পানামা
  3. সুরিনাম
  4. মরিশাস
ব্যাখ্যা

 • ′জি- জিরো জোট′ এর অন্তর্ভুক্ত নয়- মরিশাস।

• জি- জিরো জোট:

- তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৪
-  স্থান: বাকু, আজারবাইজান
- আয়োজন: UNFCCC-এর ২৯তম কপ সম্মেলন (COP29)
-  উদ্দেশ্য: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদার
-  লক্ষ্য: নেট-জিরো, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রকৃতি-পজিটিভ ভবিষ্যৎ গঠন
- সদস্য দেশ: ভুটান, মাদাগাস্কার, পানামা ও সুরিনাম
- জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে চারটি দেশ- ভুটান, মাদাগাস্কার, পানামা ও সুরিনাম মিলে “জি-জিরো ফোরাম” উদ্বোধন করেছে এবং একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছে। 
- এই ঘোষণা আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (UNFCCC) ২৯তম পক্ষসম্মেলন (COP29)-এ গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট। (Link)

২০.
নুরেমবার্গ ট্রায়াল কোন যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. কোরিয়া যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• নুরেমবার্গ ট্রায়াল:
- 'নুরেমবার্গ ট্রায়াল' যুদ্ধাপরাধ-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নুরেমবার্গ ট্রায়াল হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫-৪৬ সালে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়ার নাম। 
-  ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিচার করে।

- তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরনের যথা:
১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা।
২. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: মানুষকে সমূলে বিনাশ করা, বাসস্থান থেকে বিতাড়ন করা এবং গণহত্যা।
৩. যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লঙ্ঘন।
৪. উপরিউক্ত তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।

- আন্তর্জাতিক এই সামরিক ট্রাইবুনালে বিশিষ্ট ২২ জন নাৎসি কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই নুরেমবার্গের আদালতে শীর্ষ নাৎসি সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
- যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিচার হয় তাদের।
- বিচারাধীনদের মধ্যে ছিল ।
- ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হয় এই বিচার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২১.
কোরিয়া সংকটের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়?
  1. 181
  2. 222
  3. 307
  4. 377
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ:
- ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কোরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে শান্তির জন্যে ঐক্য প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- এটি সাধারণ পরিষদের 377 A(V) রেজ্যুলেশন নামে পরিচিত।

• কোরীয় যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: (১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল)
- বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।
- যুদ্ধের ফলাফল: কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়।
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে 'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

২২.
বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন চুক্তিটি গৃহীত হয়?
  1. রামসার কনভেনশন
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• বাসেল কনভেনশন:
- বাসেল কনভেনশন হলো বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল এবং তাদের নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি
- পূর্ণরূপ: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি। 
- এটি ১৯৮৯ সালে গৃহীত হয় এবং ১৯৯২ সালে কার্যকর হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কনভেনশনটি অনুমোদন করেনি কারণ এর সমস্ত বিধান বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত দেশীয় সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ নেই। 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।

» মূল উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ।
- বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অবৈধ বর্জ্য রপ্তানি প্রতিরোধ।

তথ্যসূত্র: i) United Nations Environment Programme. 
ii) Basel Convention Official Website.
iii) U.S. DEPARTMENT of STATE

২৩.
বর্তমানে কোন মহাদেশে বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণায়ন ঘটছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. আফ্রিকা
  2. উত্তর আমেরিকা
  3. এশিয়া
  4. এন্টার্কটিকা
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে এশিয়া মহাদেশ বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ উষ্ণ হচ্ছে।
- ২০২৪ সাল ছিল এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর।
- এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ এবং ভয়াবহ সমুদ্র তাপমাত্রার কারণে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র ও সমাজে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
- এশিয়ায় ভূমির পরিমাণ বিশাল এবং তা আর্কটিক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হারও বেশি।
- স্থলভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাধারণত সমুদ্রের চেয়ে বেশি হয়, ফলে মহাদেশটি দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে।
- ২০২৪ সালে এশিয়ার সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।
- এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রতি দশকে ০.২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।
- বিশেষ করে উত্তর ভারত মহাসাগর ও পূর্ব চীন সাগরসহ সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অংশে এই উষ্ণতা লক্ষ করা গেছে।
- এতে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন। (Link)

২৪.
কোন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতি ঘটে?
  1. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  2. ডেটন চুক্তি
  3. লুজন চুক্তি
  4. অসলো চুক্তি
ব্যাখ্যা

• প্যারিস শান্তি চুক্তি:
- প্যারিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়- ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান-প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ- ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্র।
- এই চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।
- এই শান্তি চুক্তির কারণে হেনরি কিসিঞ্জার ও লি ডাক থো ১৯৭৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। 

তথ্যসূত্র: Britannica ও History.com, বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।

২৫.
কোন দেশ থেকে শিল্প বিপ্লবের সূচনা ঘটে?
  1. ইতালি
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

• শিল্প বিপ্লব: 
- শিল্প বিপ্লব ছিল একটি প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের যুগ।
- যা ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপ, বিশেষ করে ব্রিটেনে শুরু হয় এবং পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

• প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব ছিল একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ধারা,
- যা আনুমানিক ১৭৬০ সালে গ্রেট ব্রিটেনে শুরু হয়।
- এবং ১৮৪০ সালের মধ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
- এটি যন্ত্রনির্ভর উৎপাদনের যুগের সূচনা করে।
- সময়কাল: আনুমানিক ১৭৬০ – ১৮৪০।
- প্রধান কেন্দ্র: গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ড),
- পরে ইউরোপ ও আমেরিকা

• মূল চালিকাশক্তি: 
- বাষ্পশক্তির ব্যবহার (Steam Power),
- কয়লা ও লোহা ব্যবহারে দক্ষতা,
- নতুন যন্ত্রের উদ্ভাবন,
- কৃষি উৎপাদনের উন্নয়ন ও উদ্বৃত্ত শ্রম।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২৬.
কোন চুক্তির মাধ্যমে Biosafety Clearing-House (BCH) প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কার্টাগেনা প্রটোকল
  2. নাগোয়া প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল
  4. কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• Biosafety Clearing-House (BCH):
- Biosafety Clearing-House (BCH) প্রতিষ্ঠিত হয় কার্টাগেনা প্রটোকলের অধীনে
- Biosafety Clearing-House (BCH) হলো একটি অনলাইন তথ্য কেন্দ্র, যার মাধ্যমে জীবিত পরিবর্তিত জীব (LMOs) সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, দেশগুলো তাদের বায়োসেফটি আইন-কানুন, নীতিমালা, সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে,
- এটি Cartagena Protocol বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

• কার্টাগেনা প্রটোকল:
- কার্টাগোনা প্রটোকল এর পূর্ণরূপ: Cartagena Protocol on Biosafety to the convention on Biological Diversity। এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল। এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।
- কার্টাগেনা প্রটোকল অনুমোদন: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯, কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে।
- তাই শহরের নামানুসারে এর নাম কার্টাগেনা প্রটোকল।
- কার্টাগেনা প্রটোকল গৃহীত ও কার্যকর: কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত ও কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে ২০০০ সালে এবং অনুমোদন করে ২০০৪ সালে।

তথ্যসূত্র: UNTC ওয়েবসাইট।