পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৪৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৩: বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. বাংলা ভাষা [ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়] ২. ধ্বনিতত্ত্ব [ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; যুক্তবর্ণ; ধ্বনির গঠন ও উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন] এবং বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
কোন ভাষা রীতিতে পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট?
  1. কথ্য রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
কোনটি চলিত রীতিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সুতা  
  2. বন্য  
  3. রঙ্গিন 
  4. কিছুক্ষণ 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ঘ) কিছুক্ষণ। এটি সাধু ভাষায় হবে- কিয়ৎক্ষণ।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) সুতা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "সুতো"।

খ) বন্য - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "বুনো"।

গ) রঙ্গিন - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "রঙিন"।

সুতরাং "কিছুক্ষণ" শব্দটি চলিত রীতির প্রমিত শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'Morphology' দিয়ে ব্যাকরণের কোন শাখাটি নির্দেশ করে?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- 'Morphology' শব্দের অর্থ শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব।

অন্যদিকে,
- 'Semantic' শব্দের অর্থ অর্থতত্ত্ব।
- 'Phonology' শব্দের অর্থ ধ্বনিতত্ত্ব।
- 'Syntax' শব্দের অর্থ বাক্যতত্ত্ব।
- 'Lexicography' শব্দের অর্থ অভিধানতত্ত্ব।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); অভিগম্য অভিধান।

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে কতভাগে ভাগ করেছেন?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে - পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে,
বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যাইতে পারে,
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

.
সাধু রীতির বহু সর্বনামে কোন বর্ণ যুক্ত থাকে?
  1. ‘ক’-বৰ্ণ
  2. ‘স’-বৰ্ণ
  3. ‘হ’-বৰ্ণ
  4. ‘প’-বৰ্ণ
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।

- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
 যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
বিষমীভবন বলতে কী বোঝায়?
  1. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
  2. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  3. স্বরধ্বনির প্রভাবে ব্যঞ্জধ্বনির পরিবর্তন
  4. একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয় - 
  1. বিশেষ্য
  2. শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  3. বাগ্‌যন্ত্র
  4. বাক্যের উপাদান লোপ
ব্যাখ্যা

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

---------------
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব: 
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি
  1. ঞ্‌ + ছ = ঞ্চ
  2. হ্‌ + ঊ = হু
  3. হ্‌ + ণ = হ্ণ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্জ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
যেমন:
- হ্‌ + উ = হু, 
- হ্‌ + ঊ = হূ, 
- হ্‌ + ঋ = হৃ,
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্‌ + ন = হ্ন,  
- হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য- 
  1. চটুল
  2. সরল
  3. গুরুগম্ভীর
  4. সাবলীল
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১০.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - 
  1. ক্ত
  2. ক্ষ্ম
  3. ঞ্চ
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১১.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কোন দুটি মূর্ধন্যধ্বনি?
  1. দ, ধ
  2. ট, ঠ
  3. জ, ঝ
  4. ভ, ম
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চারণস্থান অনুসারে স্পর্শধ্বনির পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। মূলত কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত ও ঠোঁট - এই পাঁচটি উচ্চারণস্থানের জন্য স্পর্শধ্বনি গুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এই বিভাগগুলোকে বর্গ বলে। প্রথম ধ্বনির নাম অনুসারে বর্গের নাম নির্দেশ করা হয়।

মূর্ধন্যধ্বনি:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।

তালব্যধ্বনি:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ।

দন্ত্যধ্বনি:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।

ওষ্ঠ্যধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১২.
বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ১ম ও ৩য় বর্ণ
  2. ১ম ও ২য় বর্ণ
  3. ২য় ও ৪র্থ বর্ণ
  4. ২য় ও ৩য় বর্ণ
ব্যাখ্যা

• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
• পঞ্চম বর্ণ নাসিক্য ধ্বনি।

এছাড়া,
• প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ ধ্বনি।
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
ত - বর্গীয় ধ্বনিকে কী বলে?
  1. মূর্ধন্য ধ্বনি
  2. কণ্ঠ ধ্বনি
  3. দন্ত ধ্বনি
  4. তালব্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
"ই, ঈ, চ" বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. তালু
  2. মূর্ধা
  3. জিহ্বামূল
  4. ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা

তালব্য বর্ণ:
- উচ্চারণস্থান - তালু।
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, য়, শ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য বর্ণ:
- উচ্চারণস্থান - মূর্ধা।
- ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

ওষ্ঠ্য বর্ণ:
- উচ্চারণস্থান - ওষ্ঠ। 
- উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।

কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- উচ্চারণস্থান - কণ্ঠ বা জিহ্বামূল।
- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৫.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ –
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬.
উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. দাঁত 
  2. সালাম
  3. হরিণ 
  4. আম 
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত শব্দ হলো খ) সালাম ও গ) হরিণ।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
দ্বিস্বরধ্বনি যুক্ত শব্দ কোনটি? 
  1. তাই
  2. সেই
  3. বউ
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌ ]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৮.
"এ" - এই ধ্বনির সঠিক উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. জিহ্বামূল
  2. ওষ্ঠ্য
  3. মূর্ধা 
  4. কণ্ঠ ও তালু
ব্যাখ্যা

• 'এ এবং ঐ' ধ্বনিরগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান 'কণ্ঠ ও তালু'।
- এবং এই দুইটি বর্ণকে কণ্ঠতালব্য বর্ণ বলা হয়।

অন্যদিকে,
→ "ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - মূর্ধা।
→ "অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - কণ্ঠ বা জিহ্বামূল।
→ ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
'অজ্ঞাত' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ -
  1. অগ্‌গাতও
  2. অগ্‌গাতহো 
  3. অগ্‌গ্যাঁতো
  4. ওগ্‌গাত
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অজ্ঞাত' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ - অগগ্যাঁতো।

 

আরো কিছু উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)

২০.
"ঐ" এর উচ্চারণ- 
  1. ওউ
  2. অয়ই
  3. ওই
  4. ক এবং গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• "ঐ":
- উচ্চারণস্থান কন্ঠ ও তালু;
- বাংলা উচ্চারণ ‘অই’, ‘ওই’;
- বাংলা বর্ণমালার নবম স্বরবর্ণ।

"ঐ" এর সঠিক উচ্চারণ= "ওই"।

উদাহরণ:
- ঐক্য = ওইক্‌কো;
- বৈশাখ = বোইশাখ;
- ঐচ্ছিক = ওইচ্ছিক।

উৎস: অভিগম্য অভিধান।

২১.
'বড় দাদা > বড়দা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সম্প্রকর্ষ 
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. স্বরসংগতি
  4. ব্যঞ্জনসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি > বউদি। 
- বড়দাদা > বড়দা। 
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
কোনটি হ্রস্বস্বর?
  1. ঊ 
  2. এ 
  3. ই 
  4. ঔ 
ব্যাখ্যা

• হ্রস্বস্বর (৪টি): অ, ই, উ, ঋ।
• দীর্ঘস্বর (৭টি): আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

• ‘ই’ বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর।
- এর উচ্চারণস্থান তালু। 
- এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হলে ‘w’ বা ই-কার রূপ প্রাপ্ত হয়; যথা ক+ই=কি; ছ+ই=ছি ইত্যাদি। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।

২৩.
নিচের কোনটিতে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3. পাকা > পাক্কা
  4. লাল > নাল
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

---------------------- 
অন্য অপশনে, 
অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। 
যেমন: পাকা > পাক্কা। 

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

২৪.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নানা
  2. কাকা
  3. চাচা
  4. দাদা
ব্যাখ্যা

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ, দন্ত্যধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।

২৫.
"ফলাহার > ফলার" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. অন্তর্হতি
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশি?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. সরণ
  3. বল
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা

• দৈর্ঘ্য একটি স্কেলার রাশি; কারণ এর শুধুমাত্র মান আছে, দিক নেই।

• ভেক্টর রাশি ও স্কেলার রাশি:
- ভৌত রাশি হলো এমন পরিমাপযোগ্য ভৌত বৈশিষ্ট্য যা মান দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- ভৌত রাশিকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে — স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি।

• স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
- স্কেলার রাশি প্রকাশের জন্য কেবল সংখ্যামান ও একক প্রয়োজন হয়।
- উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা।

• ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
- ভেক্টর রাশি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে মান ও দিক উভয়ই উল্লেখ করতে হয়।
- উদাহরণ: সরণ, বেগ, ত্বরণ, বল।

• ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়।
- ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- সরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বল: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- ত্বরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. নীলস বোর
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা করেন।

• পদার্থবিজ্ঞান :
- বিশ্ব প্রকৃতিতে যা স্থান দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে তাকে পদার্থ বলে।
- পদার্থ ও শক্তির প্রকৃতি এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে পদার্থবিজ্ঞান বলে।
- পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বস্তু ও শক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং ফলাফল পরিমাপগতভাবে প্রকাশ করাই পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য।

• পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর :
- বিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হলো পদার্থবিজ্ঞান।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশলশাস্ত্র, জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ব্যবহৃত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞানকে বলবিজ্ঞান, তাপবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, চুম্বকত্ববিজ্ঞান, তড়িৎবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, - নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

• পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ :
- প্রাচীন যুগে থেলিস সূর্যগ্রহণ ও জ্যামিতি বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন।
- পিথাগোরাস জ্যামিতিক উপপাদ্য ও সূত্র প্রবর্তন করেন।
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক পরমাণু ধারণা প্রদান করেন।
- আর্কিমিডিস ভাসমানতার নীতি ও জ্যামিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- মধ্যযুগে জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নে অবদান রাখেন।
- আল-খোয়ারিজমি গণিতে গবেষণা করেন এবং Algebra শব্দটির উৎপত্তি তাঁর গ্রন্থ থেকে।
- ইবনে আল-হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানে অবদান রাখেন।
- আল-বিরুনি পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।
- রজার বেকন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।
- কপর্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করেন।
- কেপলার গ্রহের গতিসূত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র, ক্যালকুলাসের নীতি ও আলোর কণাতত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন।
- ওয়েরস্টেড, ফ্যারাডে, লেঞ্জ তড়িৎচুম্বকত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বক তত্ত্ব প্রদান করেন।
- মার্কনি বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।
- রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- বেকেরেল ও মেরি কুরি তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে অবদান রাখেন।
- জে. জে. থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি সমীকরণ E=mc2 প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ড নিউক্লিয় তত্ত্ব প্রদান করেন।
- নীলস বোর পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন।
- অটো হান নিউক্লিয় বিভাজন প্রমাণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব প্রদান করেন।

• অন্যান্য অপশন :
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব ও ভর-শক্তি সমীকরণ প্রদান করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র ও ক্লাসিক্যাল বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- নীলস বোর হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তর তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় কত?
  1. 0.55
  2. 0.70
  3. 0.85
  4. 1.00
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় 0.85, অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চুম্বক ও চুম্বকত্ব:
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্মবিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং মুক্তভাবে ঝুলালে উত্তর-দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে, তাকে চুম্বক বলে।
- চুম্বক পদার্থের ভৌত ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না।
- তবে তাপমাত্রা চুম্বকত্বের উপর প্রভাব ফেলে।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের যে দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক, সেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলে।
- উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) থাকে।

• চৌম্বক অক্ষ:
- চুম্বকের দুই মেরুকে সংযোগকারী সরলরেখাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বই চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

• জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য:
- দণ্ডচুম্বকের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্বকে জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক:
- চৌম্বক দৈর্ঘ্য / জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য ≈ 0.85 অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মধ্যতল:
- মুক্তভাবে ঝুলন্ত চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

• ভৌগোলিক মধ্যতল:
- কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কল্পিত উল্লম্ব তলকে ভৌগোলিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যে কৌণিক ব্যবধানকে বিচ্যুতি বলে।

• চৌম্বক দ্বিমেরু:
- প্রতিটি অণুচুম্বক দুই মেরুবিশিষ্ট, তাই চুম্বককে চৌম্বক দ্বিমেরু বলা যায়।
- একটি দণ্ডচুম্বকও চৌম্বক দ্বিমেরু।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলই দ্বিমেরু ভ্রামক।
- M = m(2l).
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক ফ্লাক্স বা আবেশ:
- একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাই চৌম্বক আবেশ।
- একক = ওয়েবার/মিটার2 বা টেসলা।

• চৌম্বক ক্ষেত্র:
- চুম্বক বা বিদ্যুৎবাহী তারের চারপাশের সেই অঞ্চল, যেখানে চৌম্বক প্রভাব অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।

• চুম্বকায়ন:
- প্রতি একক আয়তনে চৌম্বক ভ্রামককে চুম্বকায়ন বলে।
- I = M / V.
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতই চৌম্বক প্রাবল্য।
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- μ = B / H.
- শূন্যস্থানে μ₀ = B₀ / H.
- একক = টেসলা-মিটার/অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ কী?
  1. বস্তুর প্রসারণ
  2. বস্তুর কম্পন
  3. মাধ্যমের সংকোচন
  4. মাধ্যমের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

• শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ হলো বস্তুর কম্পন।

• শব্দ (Sound):
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- শব্দ আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুকে আঘাত করলে তা কম্পিত হয়।
- এই কম্পনের ফলেই শব্দ উৎপন্ন হয়।
- একটি ধাতব পাত্রে আঘাত করলে “ঝন্-ঝন্” শব্দ শোনা যায়।
- কিছুক্ষণ পরে কম্পন বন্ধ হলে শব্দও থেমে যায়।
- পাতলা কাগজের সামনে জোরে ফুঁ দিলে কাগজ কাঁপে এবং শব্দ হয়।
- ফুঁ দেওয়া বন্ধ করলে কাগজের কম্পন ও শব্দ উভয়ই বন্ধ হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বস্তুর কম্পন থেকেই শব্দের সৃষ্টি হয়।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- কোনো মাধ্যমে কোনো বিন্দুতে কম্পন সৃষ্টি হলে মাধ্যমের কণাগুলি আন্দোলিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- তরঙ্গ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়।
- পার্শ্ববর্তী কণাগুলিও পর্যায়ক্রমে আন্দোলিত হয়।
- এভাবে শব্দ তরঙ্গ আমাদের কানে পৌঁছে।
- কানের ভেতরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
- আমরা তখন শব্দ শুনতে পাই।

• শব্দ সঞ্চালনের শর্ত:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
অনিশ্চয়তা নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. আর্থার কম্পটন
  2. লুই দ্য ব্রগলি
  3. নিলস বোর
  4. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ
ব্যাখ্যা

• অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle):
- প্রবর্তন করেন Werner Heisenberg.
- এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার (যেমন ইলেকট্রন) অবস্থান ও ভরবেগ একই সাথে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় না।
- কোনো কণার অবস্থান যত বেশি নির্ভুলভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ তত কম নির্ভুলভাবে জানা যাবে—এবং বিপরীতটিও সত্য।

• গুরুত্ব:
- এটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র জগতে (Quantum world) নির্ধারিত (deterministic) ধারণা প্রযোজ্য নয়।
- কণার আচরণ সম্ভাবনাভিত্তিক।
- শাস্ত্রীয় পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই স্পষ্ট হয়।

• সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে অবদান):
- Max Planck — কোয়ান্টাম তত্ত্ব,
- Albert Einstein — আপেক্ষিকতা তত্ত্ব,
- Niels Bohr — পরমাণু মডেল,
- Louis de Broglie — বস্তু তরঙ্গ তত্ত্ব,
- Arthur Compton — কম্পটন প্রভাব।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
এক্স-রে (X-Ray) সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ।
  2. এটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
  3. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি।
  4. এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে (X-Ray):
- এক্স-রে হলো তড়িৎচৌম্বক (Electromagnetic) তরঙ্গ, যা তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের দোলন দ্বারা গঠিত।
- এটি কোনো পদার্থগত কণার প্রবাহ নয়, বরং নিরপেক্ষ শক্তি বহনকারী বিকিরণ।
- এক্স-রে পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পর্যায়ে শোষিত হয়, যা একে চিকিৎসা ও শিল্পে বহুল ব্যবহৃত করে।
- শিল্প ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয় ধাতু বা যন্ত্রাংশের ত্রুটি নির্ণয়ে।
- এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত 0.01 nm থেকে 10 nm পর্যন্ত।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এক্স-রে উচ্চ শক্তিধর এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
- শক্তি নির্ণয়ের সূত্র: E = hν = hc/λ.
- অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, শক্তি তত বেশি।
- এক্স-রে কোনো চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ: এক্স-রে কণাপুঞ্জ নয়, এটি তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি: এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অনেক কম।
- এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়: শক্তি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিপরীতানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩২.
বিভবশক্তির সূত্র কোনটি?
  1. Ep = 1/2(mv2)
  2. Ep = mv
  3. Ep = gh
  4. Ep = mgh
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি বস্তুর ভর (m), উচ্চতা (h) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর ওপর নির্ভরশীল, তাই এর গাণিতিক প্রকাশ Ep = mgh.

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- কোনো বস্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উচ্চতায় অবস্থান করে, তার বিভবশক্তি তত বেশি হয়।
- বিভবশক্তি বস্তুর ভর এবং উচ্চতার ওপর নির্ভর করে।
- বিভবশক্তির সূত্র: Ep = mgh.
- এখানে, m = বস্তুর ভর, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ, h = ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা।
- যখন কোনো বল ঢাল বরাবর নিচের দিকে নামে, তখন তার উচ্চতা ক্রমশ কমতে থাকে।
- উচ্চতা কমার ফলে বিভবশক্তিও কমে যায়।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলনের কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- কোনো বস্তু স্থির অবস্থা থেকে চলতে শুরু করলে তার গতিশক্তি সৃষ্টি হয়।
- গতিশক্তি বস্তুর ভর এবং বেগ উভয়ের ওপর নির্ভরশীল।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তখন তার বেগ বৃদ্ধি পায়।
- বেগ বৃদ্ধির ফলে গতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।
- বিভবশক্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে গতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া লক্ষ্য করা যায়।

• শক্তির রূপান্তর সম্পর্কিত ধারণা:
- উচ্চ স্থানে অবস্থানরত বস্তুর বিভবশক্তি বেশি এবং গতিশক্তি কম থাকে।
- বস্তু নিচের দিকে নামার সময় বিভবশক্তি কমে এবং গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- এই প্রক্রিয়ায় শক্তির এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন ঘটে।

• অন্যান্য অপশন:
Ep = 1/2(mv2) — এটি গতিশক্তির সূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
সরল ছন্দিত গতির ক্ষেত্রে ত্বরণের দিক সর্বদা কোন অভিমুখে থাকে?
  1. সরণ অভিমুখী
  2. বেগ অভিমুখী
  3. সাম্য অবস্থান অভিমুখী
  4. বাহ্যিক বলের অভিমুখী
ব্যাখ্যা

• সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী এবং এটি সরণের সমানুপাতিক।

• পর্যাবৃত্ত গতি:
- কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- পর্যাবৃত্ত গতি দুই ধরনের, ঘূর্ণন গতি, স্পন্দন গতি।

• পর্যায়কাল:
- পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।

• স্পন্দন গতি:
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় এক নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে।

• সরল ছন্দিত গতি:
- পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি যদি সরল রৈখিক হয় তবে তাকে সরল ছন্দিত গতি বলে।
- এ গতিতে ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
- ত্বরণের দিক সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী।

• তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না তাকে তরঙ্গ বলে।

• যান্ত্রিক তরঙ্গ ও তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে।
- মাধ্যম ছাড়াও যে বিশেষ ধরনের তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় তাকে তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক কোনটি?
  1. ওয়েবার
  2. টেসলা
  3. অ্যাম্পিয়ার-মিটার2
  4. নিউটন-মিটার
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2), কারণ M = m(2l) এবং মেরুশক্তি ও চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলই ভ্রামক।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো চুম্বকের একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলকে চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বলে।
- গাণিতিক রূপ: M = m(2l)।
- এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্ব।
- জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক।
- উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু থাকে।

• অন্যান্য অপশন:
- ওয়েবার → চৌম্বক ফ্লাক্সের একক।
- টেসলা → চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক।
- নিউটন-মিটার → কাজ বা টর্কের একক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে তাপকে অণুগুলোর গতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. কাউন্ট রামফোর্ড
  2. জে. জে. থমসন
  3. হেনরি বেকেরেল
  4. মাদাম কুরি
ব্যাখ্যা

• কাউন্ট রামফোর্ড ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রমাণ করেন যে তাপ পদার্থের অণুগুলোর গতির ফল।

• তাপ ও তাপমাত্রা:
- এক খণ্ড বরফ হাতে নিলে ঠান্ডা এবং ফুটন্ত পানিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়।
- এই অনুভূতির কারণই তাপ।
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়।
- এক সময় ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ।
- কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয় বলে মনে করা হতো।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের অণুসমূহের গতির ফলই তাপ।

• অণুর গতি ও তাপ:
- পদার্থের অণুগুলো সর্বদা গতিশীল অবস্থায় থাকে।
- বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করলে অণুর গতি বৃদ্ধি পায়।
- অণুর গতি বৃদ্ধি পেলে বস্তু গরম হয়।
- তাপ হলো বস্তুর অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি।
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়।
- তাপ শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং অন্য শক্তিকেও তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপমাত্রা:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- গরমের মাত্রা প্রকাশ করতে উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- দুইটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে আনলে তাপের আদান প্রদান ঘটে।
- তাপের আদান প্রদান তাপের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না।
- এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর নির্ভর করে।
- বস্তুর তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ গরম বস্তু থেকে ঠান্ডা বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- বস্তুর এই তাপীয় অবস্থাকেই উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- জে. জে. থমসন → ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরি → তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
আপেক্ষিক তাপের একক কোনটি?
  1. JkgK-1
  2. JK-1
  3. Wm-1K-1
  4. Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা

• আপেক্ষিক তাপের একক হলো Jkg-1K-1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):
- একই পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
- যেমন ০.৫ kg পানির তুলনায় ৫ kg পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতা তুলনা করতে একক ভর ধরা হয়।
- ১ kg ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা ১ K বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি s অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• উদাহরণ:
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 অর্থাৎ ১ kg সীসার তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে ১৩০ J তাপ প্রয়োজন।

• বিভিন্ন পদার্থের আপেক্ষিক তাপ (Jkg-1K-1):
- পানি → 4200,
- বরফ → 2100,
- জলীয় বাষ্প → 2000,
- তামা → 400,
- রূপা → 230,
- সীসা → 130,
- মাটি → 800 থেকে 1400,
- বায়ু → 700 থেকে 1000.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলতে কী বোঝায়?
  1. পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমন
  2. পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজনের প্রক্রিয়া
  4. ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তনের ঘটনা
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণই প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- আগে ধারণা করা হতো পরমাণু অবিভাজ্য।
- স্যার জে. জে. থমসন (Sir J. J. Thomson) ইলেকট্রন আবিষ্কার করার ফলে বিজ্ঞানীরা পরমাণু সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা শুরু করেন।
- সর্বপ্রথম স্যার জে. জে. থমসন পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড (Rutherford) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন একটি পরমাণু মডেল প্রদান করেন, যা রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
- তাঁর মতে, পরমাণুর ধনাত্মক আধানগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে না থেকে কেন্দ্রে অতিক্ষুদ্র অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- এই কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে নিউক্লিয়াস বলে।
- ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার পথে আবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক (Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনও নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।

• তেজস্ক্রিয় রশ্মি:
- প্রকৃতিতে কিছু পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম এ ধরনের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এ রশ্মির নাম দেওয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তীতে মাদাম মেরি কুরী (Madame Marie Curie) ও পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।
- বর্তমানে এ রশ্মি তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ:
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার—প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।

• প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া → এটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
- নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজন → এটি কৃত্রিম রূপান্তরের একটি পদ্ধতি হতে পারে।
- ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তন → এটি তেজস্ক্রিয়তার সংজ্ঞা নয়, বরং শক্তিস্তর পরিবর্তনের ঘটনা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন কে?
  1. পিয়ের কুরি
  2. মেরি কুরি
  3. আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
  4. হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন আর্নেস্ট রাদারফোর্ড।

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান:
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে কিছু পদার্থ বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে।
- তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra), পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- এটি আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল, পিয়ের কুরি সহ) লাভ করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি এককভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

• রাদারফোর্ডের অবদান:
- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন।
- আলফা (α) রশ্মি → ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী, কম অনুপ্রবেশক্ষম।
- বিটা (β) রশ্মি → ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
- গামা (γ) রশ্মি → কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, সর্বাধিক অনুপ্রবেশক্ষম।

• অন্যান্য অপশন:
- পিয়ের কুরি → তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কারে অবদান রাখেন।
- মেরি কুরি → রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৩৯.
Alternating current (AC)-এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. প্রবাহের মান স্থির থাকে
  2. প্রবাহ কেবল ধনাত্মক মান গ্রহণ করে
  3. প্রবাহ একদিকে স্থায়ীভাবে চলতে থাকে 
  4. প্রবাহের দিক পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

• প্রবাহের দিক পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হওয়াই Alternating Current (AC)-এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

• Alternating Current (AC):
- Alternating Current হলো এমন এক ধরনের বৈদ্যুতিক প্রবাহ যেখানে ইলেকট্রনের গতি সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে।
- AC-তে তড়িৎধারা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- AC-তে ভোল্টেজ ও কারেন্ট উভয়ের মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।
- AC সাধারণত sine wave আকারে পরিবর্তিত হয়।
- এক পূর্ণ চক্রে মান শূন্য, ধনাত্মক, পুনরায় শূন্য, ঋণাত্মক, আবার শূন্য অবস্থায় ফিরে আসে।

• AC ও DC-এর পার্থক্য:
- DC (Direct Current) একদিকে স্থায়ীভাবে প্রবাহিত হয়।
- AC নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে।
- DC-তে ভোল্টেজ সাধারণত স্থির থাকে।
- AC-তে ভোল্টেজ ও কারেন্ট পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়।

• AC-এর ব্যবহারিক গুরুত্ব:
- AC সহজেই ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ভোল্টেজ বৃদ্ধি ও হ্রাস করা যায়।
- উচ্চ ভোল্টেজে শক্তি দূরদূরান্তে পরিবহন করা যায়।
- গৃহস্থালী ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে AC ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- প্রবাহের মান স্থির থাকে → এটি DC-এর বৈশিষ্ট্য।
- প্রবাহ কেবল ধনাত্মক মান গ্রহণ করে → এটি একমুখী প্রবাহের ধারণা।
- প্রবাহ একদিকে স্থায়ীভাবে চলতে থাকে → এটি Direct Current-এর বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা [লিংক]।

৪০.
পদার্থবিজ্ঞানে সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রথম কে প্রদান করেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. নিকোলাস কোপারনিকাস
  3. জোহানেস কেপলার
  4. আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা

• নিকোলাস কোপারনিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করে পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন।

• পদার্থবিজ্ঞান:
বিশ্ব প্রকৃতিতে যা স্থান দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে তাকে পদার্থ বলে।
পদার্থ ও শক্তির প্রকৃতি এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে পদার্থবিজ্ঞান বলে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বস্তু ও শক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং ফলাফল পরিমাপগতভাবে প্রকাশ করাই পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য।

• পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর:
- বিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হলো পদার্থবিজ্ঞান।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশলশাস্ত্র, জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ব্যবহৃত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞানকে বলবিজ্ঞান, তাপবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, চুম্বকত্ববিজ্ঞান, তড়িৎবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

• পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ:
- থেলিস সূর্যগ্রহণ ও জ্যামিতি বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন।
- পিথাগোরাস জ্যামিতিক উপপাদ্য ও সূত্র প্রবর্তন করেন।
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক পরমাণু ধারণা প্রদান করেন।
- আর্কিমিডিস ভাসমানতার নীতি ও জ্যামিতিতে অবদান রাখেন।
- জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নে অবদান রাখেন।
- আল-খোয়ারিজমি গণিতে গবেষণা করেন এবং Algebra শব্দটির উৎপত্তি তাঁর গ্রন্থ থেকে।
- ইবনে আল-হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানে অবদান রাখেন।
- আল-বিরুনি পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।
- রজার বেকন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।
- নিকোলাস কোপারনিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করেন।
- জোহানেস কেপলার গ্রহের গতিসূত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র, ক্যালকুলাসের নীতি ও আলোর কণাতত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন।
- ওয়েরস্টেড, ফ্যারাডে, লেঞ্জ তড়িৎচুম্বকত্বে অবদান রাখেন।
- ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বক তত্ত্ব প্রদান করেন।
- মার্কনি বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।
- রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- বেকেরেল ও মেরি কুরি তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে অবদান রাখেন।
- জে. জে. থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি সমীকরণ E=mc² প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ড নিউক্লিয় তত্ত্ব প্রদান করেন।
- নীলস বোর পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন।
- অটো হান নিউক্লিয় বিভাজন প্রমাণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব প্রদান করেন।

• অন্যান্য অপশন :
- গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক হিসেবে পরিচিত।
- জোহানেস কেপলার গ্রহের গতিসূত্র প্রদান করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র ও ক্লাসিক্যাল বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।

৪১.
আলোর দ্বৈত প্রকৃতি (Wave-Particle Duality) দ্বারা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ পায়?
  1. আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে
  2. আলো কেবল বিভঙ্গ ও ব্যতিচার প্রদর্শনকারী তরঙ্গ
  3. আলো শক্তি কেবল ধারাবাহিক তরঙ্গরূপে সঞ্চারিত হয়
  4. আলো কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহজনিত তড়িৎধারা
ব্যাখ্যা

• আলোর দ্বৈত প্রকৃতি বলতে বোঝায় যে আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• আলোর প্রকৃতি:
- আলো তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- আলো বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরস্পর লম্ব কম্পনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়।
- আলো শূন্যস্থানে মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে।
- শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 108 m/s.

• আলোর তরঙ্গ ধর্ম:
- আলো বিভঙ্গ, ব্যতিচার, মেরুকরণ প্রদর্শন করে।
- এসব ঘটনা আলোর তরঙ্গ প্রকৃতিকে নির্দেশ করে।
- দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙের ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে।

• আলোর কণাগত ধর্ম:
- আলো ফোটন নামক কণার সমষ্টি।
- ফটোইলেকট্রিক প্রভাব আলোর কণাগত ধর্ম প্রমাণ করে।
- আলো শক্তি কণারূপে শোষিত ও নির্গত হয়।

• দ্বৈত প্রকৃতি:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে আলোকে একই সাথে তরঙ্গ ও কণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই ধারণাকে Wave-Particle Duality বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪২.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত?
  1. 1×10-7 m থেকে 4×10-7 m
  2. 4×10-6 m থেকে 7×10-6 m
  3. 7×10-7 m থেকে 1×10-6 m
  4. 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m
ব্যাখ্যা

• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m.

• আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলোর বর্ণক্রম, বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
- এই বর্ণগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m।
- ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বিক্ষেপণ:
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে বিক্ষেপণ কম হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৩.
কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়?
  1. পরিচলন
  2. পরিবহন
  3. বাষ্পীভবন
  4. বিকিরণ
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে গমন করে।
- তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়, পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না।
- অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
- উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- কঠিন পদার্থে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে স্থান পরিবর্তন করে।
- তরল ও বাষ্পীয় পদার্থে তাপ পরিচলনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই তাপ সঞ্চালিত হয়।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে আসে।
- এ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত তাপকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
2) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
দূরত্ব বাড়লে বৈদ্যুতিক তারে শক্তি অপচয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ কী?
  1. তারের রোধ বৃদ্ধি
  2. চৌম্বক ফ্লাক্স হ্রাস
  3. ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন
  4. ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হওয়া
ব্যাখ্যা

• দূরত্ব বাড়লে বৈদ্যুতিক তারে শক্তি অপচয়ের প্রধান কারণ হলো তারের রোধ বৃদ্ধি।

• বিদ্যুৎ পরিবহন:
- বৈদ্যুতিক তারের নিজস্ব রোধ থাকে।
- রোধের কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
- বিদ্যুতের একটি অংশ তাপে অপচয় হয়।
- দূরত্ব যত বেশি, তারের দৈর্ঘ্য তত বেশি।
- দৈর্ঘ্য বাড়লে রোধও বৃদ্ধি পায়।
- ফলে শক্তি অপচয় বৃদ্ধি পায়।

• ভোল্টেজ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন:
- শক্তি অপচয় কমানোর জন্য ভোল্টেজ বাড়ানো হয়।
- ভোল্টেজ বাড়ালে কারেন্ট কমে।
- কারেন্ট কম হলে I²R লস কম হয়।
- তাই দূরবর্তী সঞ্চালনে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারের কাজ:
- ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে।
- কারেন্ট হ্রাস করে।
- লাইন লস কমায়।
- দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহন সহজ করে।

• অন্যান্য অপশন:
- চৌম্বক ফ্লাক্স হ্রাস → এটি সঞ্চালন লাইনের প্রধান অপচয়ের কারণ নয়।
- ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন → বিদ্যুৎ পরিবহনে সাধারণত ফ্রিকোয়েন্সি অপরিবর্তিত থাকে।
- ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হওয়া → বাস্তবে সঞ্চালন লাইনে ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হয় না।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।

৪৫.
শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে নিচের কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. বস্তুর ভর
  2. তাপমাত্রা
  3. বৈদ্যুতিক রোধ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ দূরবর্তী বাধায় প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে এলে মূল ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।
- এককথায়, প্রতিফলিত শব্দই প্রতিধ্বনি।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমপক্ষে ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।

• প্রতিধ্বনির ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে।
- কুয়ার গভীরতা নির্ণয়ে।
- দূরত্ব পরিমাপে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
একটি আয়তাকার পরিবাহকের মধ্য দিয়ে X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং Y-অক্ষ বরাবর একটি সমসত্ত্ব চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হলো। যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হয়, তবে আধান বাহক কেমন হবে?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

• হল প্রভাবের ক্ষেত্রে উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হলে হল বিভব ধনাত্মক হয় এবং আধান বাহক ধনাত্মক।

• হল প্রভাব (Hall Effect):
- কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত অবস্থায় প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে পরিবাহকের দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- এই বিভব পার্থক্যকে হল বিভব (Hall Voltage) এবং ঘটনাটিকে হল প্রভাব বলা হয়।

• অক্ষ ভিত্তিক ব্যাখ্যা:
- যদি X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- Y-অক্ষ বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
- তবে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হয়।

• হল প্রভাবের কারণ:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে প্রবাহিত আধান কণার উপর চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
- আধান কণাগুলি এক পার্শ্বে সঞ্চিত হয়।
- বিপরীত পার্শ্বে সমপরিমাণ বিপরীত আধান সঞ্চিত হয়।
- ফলে দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• আধানের প্রকৃতি নির্ণয়:
- যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব (Vb) নিচের পৃষ্ঠের বিভব (Va)-এর চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ Vb > Va হয়।
- তবে VH = Vb – Va ধনাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ধনাত্মক।
- যদি Va > Vb হয়।
- তবে VH ঋণাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ঋণাত্মক।

• অর্ধপরিবাহকের ক্ষেত্রে হল প্রভাব:
- হল বিভব ধনাত্মক হলে আধান বাহক ধনাত্মক আধান (হোল)।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি P-টাইপ।
- হল বিভব ঋণাত্মক হলে আধান বাহক ইলেকট্রন।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি N-টাইপ।

• হল বিভবের রাশিমালা:
- হল বিভব চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব তড়িৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব আধান বাহকের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

• হল প্রভাবের প্রয়োগ:
- আধান বাহকের প্রকৃতি নির্ণয়।
- আধান বাহকের ঘনত্ব নির্ণয়।
- অর্ধপরিবাহকের ধরন নির্ণয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
পেরিস্কোপের প্রধান কার্যপদ্ধতি কোন নীতির উপর ভিত্তি করে?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর বিচ্ছুরণ
  3. আলোর ব্যতিচার
  4. আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

• পেরিস্কোপ (Periscope):
- পেরিস্কোপ একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
- এটি সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- সাধারণত সাবমেরিনে পানির নিচ থেকে উপরের বস্তু পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

• কার্যপদ্ধতি:
- পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না বা প্রিজম ব্যবহৃত হয়।
- আয়নাগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে আলো প্রথম আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় আয়নায় পৌঁছায়।
- দ্বিতীয় আয়না থেকে প্রতিফলিত হয়ে আলো পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছে।
- এই পুরো প্রক্রিয়া আলোর প্রতিফলন নীতির উপর নির্ভরশীল।

• ব্যবহার:
- সাবমেরিনে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ কাজে।
- ট্যাঙ্ক ও নজরদারি টাওয়ারে।

• অন্যান্য অপশন:
- আলোর প্রতিসরণ → প্রিজমে আলো বেঁকে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
- আলোর বিচ্ছুরণ → মাধ্যমের মধ্যে আলো ছড়িয়ে পড়া।
- আলোর ব্যতিচার → তরঙ্গের উপর তরঙ্গের প্রভাবজনিত প্যাটার্ন।

উৎস: ব্রিটানিকা [লিংক]।

৪৮.
গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি
  2. অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
  3. অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে
  4. অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে
ব্যাখ্যা

• গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকা।

• পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম:
- গ্যাসের অণুগুলো খুব দ্রুত ও স্বাধীনভাবে গতিশীল।
- অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুব দুর্বল।
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে।
- ফলে গ্যাসের ঘনত্ব কঠিন ও তরল অবস্থার তুলনায় অনেক কম।
- গ্যাস নির্দিষ্ট আকৃতি বা আয়তন রাখে না।
- পাত্রে রাখলে গ্যাস পাত্রের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করে।
- গ্যাস সহজে সংকুচিত করা যায়।
- গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা ও চাপের উপর নির্ভরশীল।

• গ্যাসের সংকোচনীয়তা:
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকায় চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন কমে যায়।
- এই বৈশিষ্ট্যকে সংকোচনীয়তা বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি → গ্যাসের ঘনত্ব ভরের জন্য নয়, দূরত্বের কারণে কম।
- অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে → গ্যাসে অণুগুলো সদা গতিশীল।
- অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে → এটি কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।