পরীক্ষা আর্কাইভ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

পরীক্ষা২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
'One belt one road' প্রকল্পের উদ্যোক্তা কোন দেশ?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. রাশিয়া 
  4. ভারত
ব্যাখ্যা

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI):
- বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) হলো চীন প্রবর্তিত একটি মহাপরিকল্পনা।
- ২০১৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম এই প্রকল্পের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
- এ প্রকল্পকে 'One belt one road' কিংবা নিউ সিল্ক রোড নামেও অভিহিত করা হয়।
- উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ উদ্যোগের বিশাল সংগ্রহ মূলত ভৌত অবকাঠামোর মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপকে সংযুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই উদ্যোগ।
- মে ২০১৮ থেকে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ১৯টি ব্যাকগ্রাউন্ড পেপারের একটি সিরিজ তৈরি করেছে (নীচে উপলব্ধ) এবং একটি সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঋণ, সংগ্রহ, পরিবেশ, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অবকাঠামোর সাথে BRI-এর লিঙ্কগুলির স্বাধীন বিশ্লেষণ প্রদান করে।

⇒ BRI এর মূল লক্ষ্য হলো চীন ও অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
- প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে উন্নতি সাধনের চেষ্টা করা।
- প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে করার পরিকল্পনা আছে।

উল্লেখ্য,
- চীন প্রবর্তিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)' কে মোকাবিলা করতে জি৭ভুক্ত দেশসমূহ নতুন যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তার নাম PGII.
- PGII- এর পূর্ণরূপ: Partnership for Global Infrastructure and Investment.
- চীনকে মোকাবিলায় বৈশ্বিক অবকাঠামো ও বিনিয়োগ অংশীদ্বারিত্ব (PGII) প্রকল্প গ্রহণকারী সংস্থার নাম – G7।
- ২০২২ সালে ৪৮তম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হয় 'PGII'।

উৎস: Britannica.

.
সম্প্রতি [সেপ্টেম্বর, ২০২৫] আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে যে দেশ - 
  1. রাশিয়া 
  2. ভারত 
  3. তুরস্ক 
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি:
- দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ৮ আগস্ট, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান।
- এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

উল্লেখ্য,
- বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত।
- অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
- আর্মেনিয়া নাগোর্নো কারাবাখের দখল নেয়ার পর কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয় দুই দেশের মধ্যে।
- ২০২৩ সালে পুনরায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারবাইজান।

উৎস: Reuters.

.
সাংহাই কো অপারেশন সংস্থার বর্তমান সদস্য দেশ কয়টি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ৮টি 
  2. ৯টি 
  3. ১০টি 
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা:
- সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) হলো একটি ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা।
- এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- গঠিত হয়: ১৫ জুন, ২০০১ সাল।
- সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন।
- প্রতিষ্ঠিত সদস্য দেশ: ৬টি (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি (রাশিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, বেলারুশ)।
- সর্বশেষ সদস্য: বেলারুশ।
- বর্তমান মহাসচিব: Nurlan Yermekbayev।
- ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র: আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালের Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩১ আগস্ট -১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এটি SCO-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন ছিল। 
- সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

উৎস: Shanghai Cooperation Organisation ওয়েবসাইট।

.
২০২৫ সালের উইম্বল্ডন পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন কে হয়েছেন?
  1. ইয়ানিক সিনার
  2. নোভাক জোকোভিচ
  3. কার্লোস আলকারাজ
  4. রজার ফেদেরার
ব্যাখ্যা

টেনিস:
- টেনিস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা।
- অনেক জায়গায় এটি লন টেনিস নামে পরিচিত।
- টেনিস খেলার জন্য প্রয়োজন হয় তারযুক্ত একটি দন্ড যা 'রেকেট' নামে পরিচিত, একটি বল এবং জাল।

⇒ গ্র্যান্ড স্ল্যাম একই বছরে চারটি বৃহৎ টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাকে বোঝায়। গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে রয়েছে:
• অস্ট্রেলিয়ান ওপেন (জানুয়ারির মাঝামাঝি),
• ফ্রেঞ্চ ওপেন (মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরুতে),
• উইম্বলডন (জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে),
• ইউএস ওপেন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)।

⇒ উইম্বলডন (Wimbledon) ২০২৫:
• পুরুষ একক:
- চ্যাম্পিয়ন: ইয়ানিক সিনার (ইতালি)।
- রানার আপ: কার্লোস আলকারাস।

• নারী একক:
- চ্যাম্পিয়ন: ইগা সিয়াতেক।
- রানার আপ: অ্যামান্ডা অ্যানিসিমোভা।

উৎস: International Tennis Federation ওয়েবসাইট। 

.
'এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল'-এর নিম্নের কোন দেশটি সম্পর্কযুক্ত নয়?
  1. কম্বোডিয়া
  2. মিয়ানমার
  3. থাইল্যান্ড
  4. লাওস
ব্যাখ্যা

এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল:
- 'এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল' কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও লাওস-এই তিন দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল। 

⇒ এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গলে মিলিত হয়েছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা। 
- কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমান্ত দ্বন্দ্ব শত বছরের বেশি পুরোনো। সীমান্তে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ নামে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে ১১ শতকের মোয়ান থম নামের একটি মন্দির নিয়ে ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড শত্রুতা বাড়ে।
- এরপর বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত সংঘাতে দুই দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

উৎস: i) The Economic Times.
ii) প্রথম আলো।

.
নেপালের রাজতন্ত্র কত সালে বিলুপ্ত হয়েছিল?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৬ সালে 
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে 
ব্যাখ্যা

নেপাল:
- নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- রাজধানী: কাঠমান্ডু।
- মুদ্রা: নেপালি রুপি।
- ভাষা: নেপালি।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: কে পি শর্মা ওলি।
- বর্তমান রাষ্ট্রপতি: রাম চন্দ্র পাওদেল।
- নেপালের আইনসভার নাম পার্লামেন্ট।
- নেপালের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।

⇒ ২৮ মে, ২০০৮ সালে নেপালের সংবিধান সভা (Constituent Assembly) আনুষ্ঠানিকভাবে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে নেপালকে “গণপ্রজাতন্ত্রী নেপাল” (Federal Democratic Republic of Nepal) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ ছিলেন নেপালের শেষ রাজা।
- এভাবে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৬৮ সালে পৃথ্বী নারায়ণ শাহ কাঠমান্ডু জয় করেন ও ঐক্যবদ্ধ একটি রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- ১৭৬৯ সালে নেপালে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নেপালের ১ম রাজা ছিলেন পৃথ্বী নারায়ণ শাহ।
- নেপালের সর্বশেষ রাজা ছিলেন রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব।
- তিনি রাজা বীরেন্দ্রের হত্যার পর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি সর্বশেষ হিন্দু রাজাও ছিলেন।

উৎস: Britannica.

.
'র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার' কোন দেশ থেকে প্রদান করা হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. নরওয়ে
  3. সুইডেন 
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা

র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার:
- এই পুরস্কারটি ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি র‍্যামন ম্যাগসেসের নামে প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৭ সালে বিমান দুর্ঘটনায় র‍্যামন ম্যাগসেসের মৃত্যু ঘটে।
- ভূমি সংস্কার এবং দেশে কমিউনিস্ট শক্তি দমনের জন্য ১৯৫০ এর দশকে তিনি পৃথিবীর একজন যশশ্রী ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত।

⇒ জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা, সাহিত্য বিসৃজনশীল কলা এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- ১৯৫৮ সালে প্রথম এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- এই পুরস্কারটি এশিয়ার নোবেল পুরস্কার নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের আগস্টে ৬৬তম র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
- ২০২৪ সালে ৪জন ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠান র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন।
- নভেম্বর, ২০২৪-এ ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

⇒ পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন:
- কর্ম ফুন্টশো, ভুটান;
- হায়াও মিয়াজাকি, জাপান;
- এনগুয়েন থি এনজিওক ফুং, ভিয়েতনাম;
- ফারউইজা ফারহার, ইন্দোনেশিয়া;
- প্রতিষ্ঠান: Rural Doctors Movement, থাইল্যান্ড।

উৎস: The Ramon Magsaysay Award Foundation ওয়েবসাইট।

.
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন -
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি:
- আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
- সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ।
- দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি দেন।
- আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

⇒ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
- ১৯৬২ সালে আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন।
- ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- ১৯৮১ সালে দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে।
- রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।
- ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
- আয়াতুল্লাহ খামেনি শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। 

উৎস: i) BBC.
ii) Middle East Eye.

.
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কোন দেশের প্রধান সামরিক বাহিনী?
  1. ইরাক 
  2. ইরান 
  3. পাকিস্তান
  4. লেবানন 
ব্যাখ্যা

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস:
- The Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) ইরানের প্রধান সামরিক বাহিনী।

⇒  ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী শাখা, যার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গার্ডস বাহিনী বিশেষত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য,
- ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি ইসরাইলের চালানো বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
- হোসেইন সালামি ২০১৯ সাল থেকে বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ইরানের পরমাণু ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
- তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে একাধিক সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে, বিশেষত ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে।

উৎস: i) Council on Foreign Relations ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১০.
জৈনধর্মের সর্বশেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন -
  1. ঋষভনাথ
  2. শ্রীনিষ্কাশয়
  3. মহাবীর
  4. সম্ভবনাথ
ব্যাখ্যা

জৈনধর্ম:
- জৈনধর্ম হলো ভারতীয় উপমহাদেশের একটি প্রাচীন ধর্ম।
- এই ধর্ম বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মমতগুলোর অন্যতম।
- জৈন শব্দটি এসেছে সংস্কৃত জিন শব্দ থেকে। সংস্কৃতিতে জিন অর্থ জয়ী।
-  জৈনদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম দ্ব্বাদশ অঙ্গ। জৈনদের দুটি প্রধান সমপ্রদায়ের নাম শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর।

⇒ যে মানুষ আসক্তি, আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ, অহংকার, লোভ ইত্যাদি জয়ের মাধ্যমে পবিত্র অনন্ত জ্ঞান লাভ করেছে, তাকে জিন বলা হয়।
- জিনদের আচরিত ও প্রচারিত পথের অনুগামীদের বলে জৈন।
- এরা তাদের প্রধান ধর্মগুরুকে বলতেন তীর্থঙ্কর।
- জৈনরা তাদের ইতিহাসে চব্বিশজন তীর্থঙ্করের কথা উল্লেখ করেছেন।
- এঁদের শিক্ষাই জৈনধর্মের মূল ভিত্তি।
- প্রথম তীর্থঙ্করের নাম ঋষভনাথ এবং সর্বশেষ তীর্থঙ্করের নাম মহাবীর।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে জৈনধর্মের সর্বাধিক প্রভাবশালী প্রচারক ছিলেন মহাবীর। তিনি জৈনধর্মের ২৪তম তীর্থঙ্কর। মহাবীরকে অনেক সময় ভুলবশত জৈনধর্মের প্রবর্তক মনে করা হয়। প্রকৃতপক্ষে জৈনধর্ম তাঁর আগে থেকে প্রচলিত ছিল এবং তিনি গোড়া থেকেই এই ধর্মের অনুগামী ছিলেন।
- মহাবীরের পূর্বসূরি ২৩তম তীর্থঙ্কর ছিলেন পার্শ্বনাথ।
- ২২তম তীর্থঙ্কর নেমিনাথ ছিলেন পার্শ্বনাথের পূর্বসূরি। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি। 

১১.
মিনামাটা কনভেনশন (Minamata Convention) মূলত কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  2. পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ
  3. পারদ দূষণ নিয়ন্ত্রণ
  4. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

মিনামাটা কনভেনশন (Minamata Convention on Mercury):
- পারদের ব্যবহার ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি মিনামাটা কনভেনশন।
- চুক্তিটি মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে পারদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে জাপানের মিনামাটা শহরের নামে, যেখানে ২০শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পারদ-দূষিত শিল্প বর্জ্য পানিতে মিশে হাজার হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা 'মিনামাটা রোগ' নামে পরিচিত। 

⇒ গৃহীত হয়: ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালে (জেনেভা, সুইজারল্যান্ড)।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১০ অক্টোবর, ২০১৩, কুমামোটো, জাপান।
- কার্যকর হয়: ১৬ আগস্ট, ২০১৭।
- সদস্য দেশ: ১৫২টি।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

১২.
'দারিয়ুস দ্য গ্রেট' কোন সভ্যতার সম্রাট ছিলেন?
  1. পারস্য 
  2. রোমান 
  3. মিশরীয়
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা

দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস দ্য গ্রেট' পারস্য সভ্যতার সম্রাট ছিলেন।

⇒ বর্তমান ‘ইরান’ নামে পরিচিত অঞ্চলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য।
- পারস্য অঞ্চলে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপত্তি লাভ করা একাধিক সাম্রাজ্যের সমষ্টি।
- ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- আকামেনিদ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০), সেলুসিড সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩১২-খ্রিস্টপূর্ব ৬৩), পার্থিয়ান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭-২২৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং সর্বশেষ সাসানীয় সাম্রাজ্য (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৩.
'The Tiger of Bicycle' বলা হয় কোন দেশকে? 
  1. মিয়ানমার
  2. থাইল্যান্ড
  3. ভিয়েতনাম
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

The Tiger of Bicycle:
- 'The Tiger of Bicycle' বলা হয় ভিয়েতনামকে।

⇒ ভিয়েতনাম:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম।
- দেশটিতে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান।
- ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম দখল করে সমাজতান্ত্রিক উত্তর ভিয়েতনাম।
- এর মাধ্যমে একক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ দেশটি। 
- রাষ্ট্রীয় নাম: সোশালিস্ট রিপাবলিক অব ভিয়েতনাম।
- রাজধানী: হ্যানয়। 
- বৃহত্তম নগরী: হো চি মিন শহর।
- ভাষা: ভিয়েতনামিজ।
- মুদ্রা: ভিয়েতনামি ডং। 

উৎস: Britannica.

১৪.
UNCCD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. United Nations Convention on Climate and Development
  2. United Nations Convention to Combat Desertification
  3. United Nations Centre for Climate and Desertification
  4. United Nations Council for Climate and Development
ব্যাখ্যা

UNCCD:
- UNCCD-এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention to Combat Desertification.
- UNCCD হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা মরুকরণ, ভূমি অবক্ষয় এবং খরার প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এটি গৃহীত হয়: ১৭ জুন, ১৯৯৪ সালে, প্যারিস।
- কার্যকর হয়: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ সালে।
- সদস্য: ১৯৭টি (১৯৬টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন)।
- UNCCD একমাত্র আইনি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পরিবেশ ও উন্নয়নকে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করে।

⇒ UNCCD-এর মূল উদ্দেশ্য: মরুকরণ প্রতিরোধ এবং খরার প্রভাব হ্রাস করা।

উৎস: UNCCD ওয়েবসাইট।

১৫.
ন্যাটোর কোন অনুচ্ছেদে কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সবার সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ৪
  3. অনুচ্ছেদ ৫
  4. অনুচ্ছেদ ১০
ব্যাখ্যা

NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।
- সর্বশেষ ৩২তম সদস্য হলো সুইডেন।

⇒ অনুচ্ছেদ/আর্টিকেল - ৫: Collective Security বা যৌথ নিরাপত্তা।
- অনুচ্ছেদ - ৫ এ বলা হয়েছে - জোটভুক্ত কোনো দেশ যদি বিদেশি শক্তির দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে জোটের সব সদস্যদেশ একযোগে তা প্রতিহত করবে। অর্থাৎ সদস্যদেশগুলো সম্মিলিতভাবে একে অপরকে সুরক্ষা দেবে।
- ন্যাটোর মূল ভিত্তি ধরা হয় এ ধারাকে।

এছাড়াও ন্যাটোর অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১: শান্তিপূর্ণ সমাধান,
- অনুচ্ছেদ ২: বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক,
- অনুচ্ছেদ ৩: প্রতিরক্ষা সক্ষমতা,
- অনুচ্ছেদ ৪: পরামর্শ,
- অনুচ্ছেদ ৫: সম্মিলিত প্রতিরক্ষা,
- অনুচ্ছেদ ৬: আক্রমণের সংজ্ঞা ,
- অনুচ্ছেদ ৭: জাতিসংঘ সনদের বাধ্যবাধকতা,
- অনুচ্ছেদ ৮: অ-দ্বন্দ্বমূলক সম্পৃক্ততা,
- অনুচ্ছেদ ৯: বাস্তবায়ন পরিষদ,
- অনুচ্ছেদ ১০: অতিরিক্ত পক্ষসমূহ,
- অনুচ্ছেদ.১১: চুক্তি অনুমোদন এবং প্রয়োগ,
- অনুচ্ছেদ ১২: চুক্তি পর্যালোচনা,
- অনুচ্ছেদ ১৩: জোটের সদস্যতা ত্যাগ,
- অনুচ্ছেদ ১৪: চুক্তির অন্যান্য সংস্করণের গ্রহণযোগ্যতা।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬.
২০২৫ সালের ২০তম G-20 সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. কানাডা
  2. ব্রাজিল
  3. ফ্রান্স
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

G-20:
- G-20 বা Group of 20।
- G-20 আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান ফোরাম।
- বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয়েছিল।
- এটি শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নীতি সমন্বয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

⇒ জি-২০’র সদস্য: ২১টি।
- দেশ ১৯টি এবং জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন।
- সদস্য দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক।
- স্পেন স্থায়ী অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়।

⇒ বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৮৫ শতাংশই এই জোটের দখলে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশের সঙ্গে জড়িত জি-২০ দেশগুলো।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের ২২-২৩ নভেম্বরে ২০তম জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

উৎস: i) Department of Foreign Affairs and Trade ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

১৭.
রাইডার কাপ ট্রফি কোন খেলার সাথে জড়িত?
  1. ব্যাডমিন্টন
  2. লন টেনিস
  3. গলফ
  4. দাবা
ব্যাখ্যা

রাইডার কাপ ট্রফি (Ryder Cup):
- রাইডার কাপ ট্রফি গলফ খেলার সাথে জড়িত।

⇒ রাইডার কাপ হলো গলফ খেলার একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট যা প্রতি দুই বছর পর পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের শীর্ষ পেশাদার গলফারদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ১৯২৭ সালে শুরু হয়। 
- এই টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে ইংরেজ ব্যবসায়ী স্যামুয়েল রাইডার-এর নামে, যিনি এই প্রতিযোগিতার জন্য ট্রফি দান করেছিলেন।
- প্রতিটি দল (যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ) ১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালে ৪৫তম রাইডার কাপ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: i) Ryder Cup ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১৮.
ফিলিস্তিনের গেরিলা সংগঠন হামাসের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ইয়াহিয়া সিনওয়ার
  2. হাসান নাসরুল্লাহ
  3. শেখ আহমেদ ইয়াসিন
  4. ইসমাইল হানিয়া 
ব্যাখ্যা

হামাস:
- হামাস ফিলিস্তিনের গেরিলা সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭।
- প্রতিষ্ঠাতা: শেখ আহমেদ ইয়াসিন।
- এর সদরদপ্তর গাজায় অবস্থিত।
- সামরিক শাখা: ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডস।

উল্লেখ্য,
- ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়। কট্টর ইসরায়েলবিরোধী আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে আবদেল আজিজ আল-রান্তিসি ও মাহমুদ জহর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- শুরু থেকেই নীতিগতভাবে প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্বাধীনতাপন্থী সংস্থা পিএলও এর বিরোধিতা করে আসছে দলটি।
- দের প্রথম উদ্দেশ্য এর সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
- ২০০৬ সালে গাজার সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে হামাস।
- ২০০৭ সালে গোটা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ পায় দলটি।

উৎস: i) Al Jazeera.
ii) Britannica.
iii) CIA World Factbook.

১৯.
'চে গুয়েভারা' কোন বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. রাশিয়ান বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. কিউবান বিপ্লব
  4. চীনা বিপ্লব
ব্যাখ্যা

চে গুয়েভারা:
- চে গুয়েভারার পুরো নাম- এর্নেস্তো গেভারা দে লা সের্না।
- ১৯২৮ সালের ১৪ই জুন তিনি আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- চে গুয়েভারা ছিলেন এক বরেণ্য আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবা বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ছিলেন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বন্ধু ও সহযোদ্ধা। 
- তিনি কিউবা বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে কিউবায় বিপ্লব সফল করার পর চে বেরিয়ে পড়েছিলেন মূলত বিপ্লবের নেশায়।
- ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর নিহত হন চে।
- ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে ফিদেল কাস্ত্রো তাঁকে বিপ্লবীদের দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য,
- 'Guerrilla Warfare' গ্রন্থটি চে গুয়েভারা (Che Guevara) রচনা করেছেন।
- এই বইটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ নিয়ে আলোচনা করে।

⇒ তিনি কিউবা বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- কিউবার স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তাস-এর বিরুদ্ধে ১৯৫৩ – ১৯৫৯ সালের দিকে কিউবান বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এর ফলে বাতিস্তাস সরকারের পতন ঘটে এবং ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হন। 

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

২০.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কত শতাংশ কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল?
  1. ২৩ শতাংশ
  2. ২৭ শতাংশ
  3. ৩৭ শতাংশ
  4. ৪৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে। 
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

২১.
SDG-এর কত নং লক্ষ্যমাত্রায় সর্বত্র সকল নারী ও মেয়ের বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটানোর কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৫.১ নং লক্ষ্যমাত্রা 
  2. ৫.২ নং লক্ষ্যমাত্রা 
  3. ৫.৩ নং লক্ষ্যমাত্রা 
  4. ৫.৪ নং লক্ষ্যমাত্রা 
ব্যাখ্যা

SDG:
- SDGs-এর পূর্ণরূপ: Sustainable Development Goals.
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে Sustainable Development Goals (এসডিজি) গ্রহণ করে।
- এসডিজি-এর মূলনীতি: Leaving no one behind.
- এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়।
- মেয়াদকাল: ২০১৬-২০৩০ সাল।

⇒ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা হলো:
 ১. দারিদ্র্য বিলোপ;
২. ক্ষুধা মুক্তি;
৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
৪. মানসম্মত শিক্ষা;
৫. লিঙ্গ সমতা;
৬. নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
৭. সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
৮. শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
১০.অসমতার হ্রাস;
১১. টেকসই নগর ও জনপদ;
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন;
১৩. জলবায়ু কার্যক্রম;
১৪. জলজ জীবন;
১৫. স্থলজ জীবন;
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
১৭. অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব৷

⇔ এসডিজির ৫ নং লক্ষ্যমাত্রা হলো: জেন্ডার সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন
- ৫.১ সর্বত্র সকল নারী ও মেয়ের বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটানো,
- ৫.২ পাচার, যৌন হয়রানি ও অন্যসব ধরনের শোষণ-বঞ্চনা সহ ঘরে বাইরে সকল নারী ও মেয়ের বিরুদ্ধে সকল ধরনের সহিংসতার অবসান,
- ৫.৩ শিশুবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ এবং নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদের মতো সকল ধরনের ক্ষতিকর প্রার অবসান,
- ৫.৪ সরকারি সেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালার মাধ্যমে অবৈতনিক পরিচর্যাকার্য ও গৃহস্থালি কাজের মর্যাদা ও স্বীকৃতিদান এবং বাসা ও পরিবারের অভ্যন্তরে জাতীয়ভাবে যুক্তিযুক্ত অংশীদারিত্বমূলক দায়িত্বপালনকে উৎসাহিত করা,
- ৫.৫ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল পর্যায়ে নেতৃত্ব দানের জন্য নারীদের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা,
- ৫.৬ জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ও বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন এবং এদের পর্যালোচনামূলক সম্মেলনসমূহের ফলাফল-দলিলের আলোকে স্বীকৃত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং প্রজনন অধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের সার্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা,
- ৫.ক বিদ্যমান জাতীয় আইনকানুনের আলোকে, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং ভূমিসহ সকল প্রকার সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক সেবা, উত্তরাধিকার এবং প্রাকৃতিক সম্পদে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পাদন,
- ৫.খ নারীদের ক্ষমতায়নে সহায়ক প্রযুক্তি, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো,
- ৫.গ সকল পর্যায়ে নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন এবং নারী পুরুষ সমতা আনয়নে যথাযথ নীতিমালা ও প্রয়োগযোগ্য আইনি বিধান প্রণয়ন ও শক্তিশালী করা।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২২.
Transparency International কোন দেশভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা?
  1. জার্মানী
  2. যুক্তরাজ্য
  3. কানাডা 
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা

Transparency International:
- Transparency International (TI) জার্মান ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৯৩ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা: পিটার ইজেন।
- সদর দপ্তর: বার্লিন, জার্মানি।

উল্লেখ্য,
- এটি প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি ধারণা সূচক (CPI) প্রকাশ করে।

উৎস: Transparency International ওয়েবসাইট।

২৩.
জাতিসংঘ শিশু সনদ অনুযায়ী ‘শিশুর বয়স’ কত?
  1. ০-১২ বছর
  2. ০-১৪ বছর
  3. ০-১৬ বছর
  4. ০-১৮ বছর
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ:
- জাতিসংঘ শিশু সনদ অনুযায়ী ‘শিশুর বয়স’ ০-১৮ বছর।

⇒ বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা এবং জাতিসংঘ নীতিমালা ও ঘোষণা অনুযায়ী সমঅধিকারের স্বীকৃতিই হচ্ছে স্বাধীনতা, ন্যায় বিচার ও বিশ্ব শান্তির ভিত্তি৷
- এই বিষয়টি সামনে রেখে জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালায় এ কথা স্বীকৃত হয়েছে যে গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধমৃ, রাজনৈতিক অথবা ভিন্নমত, জাতীয়তা কিংবা সামাজিক পরিচয়, শ্রেণী, জণ্মসূত্র কিংবা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়াই এই ঘোষণায় বর্নিত সব ধরনের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করবে৷

• অনুচ্ছেদ-১: শিশুর বয়স
- এই সনদে ১৮ বছরের নীচে সব মানবসন্তানকে শিশু বলা হবে, যদি না শিশুর জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় ১৮ বছরের আগেও শিশুকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

২৪.
'OSCE' কোন অঞ্চলের নিরাপত্তা সংগঠন?
  1. দক্ষিণ এশিয়া 
  2. ইউরোপ 
  3. পূর্ব আফ্রিকা 
  4. ল্যাটিন আমেরিকা 
ব্যাখ্যা

OSCE:
- OSCE-এর পূর্ণরূপ: The Organisation for Security and Co-Operation in Europe.
- এটি হলো ইউরোপের বৃহত্তম আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন। 
- সদস্য: ৫৭টি দেশ।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৫ সালে (হেলসিঙ্কি চুক্তির মাধ্যমে)।
- সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান মহাসচিব: ফেরিদুন এইচ. সিনিরলিওগলু  (তুর্কিয়ে)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০-এর দশকের ডিটেনটে পর্বে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংলাপের জন্য Conference on Security and Cooperation in Europe (CSCE) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চুক্তি CSCE-কে একটি বহুপাক্ষিক ফোরাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল।
- ১৯৯০ সালের প্যারিস শীর্ষ সম্মেলনে CSCE নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- এরপর, ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে CSCE এর নাম পরিবর্তন করে OSCE রাখা হয়।

উৎস: OSCE ওয়েবসাইট।

২৫.
২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16) অনুষ্ঠিত হয়েছিল -
  1. বাকু, আজারবাইজান
  2. নাইরোবি, কেনিয়া
  3. হেগ, নেদারল্যান্ডস
  4. ক্যালি, কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা

২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16):
- ‘জীব বৈচিত্র্য কনভেনশন’ সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১৬তম সম্মেলন (কপ-১৬) ২০২৪ সালের অক্টোবরে কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ‘জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্টাগেনা প্রটোকলে’র পক্ষগুলোর ১১তম সম্মেলন এবং ‘নাগোয়া প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর পঞ্চম সম্মেলন কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- কপ-১৬ সম্মেলনের থিম হল ‘প্রকৃতির সাথে শান্তি’।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের পরিবেশ মন্ত্রী হুয়াং রুন ছিউ উল্লেখ করেন যে, জীব বৈচিত্র্য মানুষের বেঁচে থাকা ও বিকাশের ভিত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণীকুলেরও ভিত্তি। 
- প্রতিনিধিরা ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ভূমি ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা এই জৈব বৈচিত্র্য কনভেনশনের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে সমবেত হয়েছেন।
- ২০২২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত শেষ বৈঠকে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক নামক এক চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন তারা।

উৎস: i) OECD ওয়েবসাইট।
ii) Convention on Biological Diversity.

২৬.
কত সালে অ্যান্টার্কটিক চুক্তি (Antarctic Treaty) স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা

অ্যান্টার্কটিক চুক্তি (Antarctic Treaty): 
- অ্যান্টার্কটিক চুক্তি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের শান্তিপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য একটি বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ ডিসেম্বর ১৯৫৯ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৬১ সালে। 
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- চুক্তি প্রথমে স্বাক্ষর করেছিল: ১২টি দেশ।
- বর্তমানে সদস্য: ৫৮টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭-৫৮ সালের আন্তর্জাতিক ভূ-পদার্থিক বছর (IGY) চলাকালীন অ্যান্টার্কটিকায় এবং তার আশেপাশে অবস্থিত দেশের বিজ্ঞানীরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
- চুক্তিটি প্রথমে ১৯৫৯ সালে ১২টি দেশ (যারা অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল) দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ অ্যান্টার্কটিক চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিধান:
- শান্তিপূর্ণ ব্যবহার: অ্যান্টার্কটিকা শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে (আর্টিকেল I)।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা: অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক তদন্তের স্বাধীনতা থাকবে এবং গবেষণা ফলাফল বিনিময় করা হবে (আর্টিকেল II ও III)।
- আঞ্চলিক দাবি নিষিদ্ধ: চুক্তির অধীনে নতুন আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দাবি বা পুরনো দাবির প্রসারণ নিষিদ্ধ (আর্টিকেল IV)।
- কোনো সামরিক কার্যকলাপ নয়: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো সামরিক কার্যকলাপ বা পারমাণবিক পরীক্ষা করা যাবে না।

উৎস: Antarctic Treaty ওয়েবসাইট।

২৭.
২০২৫ ন্যাটো ৭৬তম সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জিডিপির কত শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়?
  1. ২ শতাংশ
  2. ৩ শতাংশ
  3. ৪ শতাংশ
  4. ৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা

২০২৫ ন্যাটো ৭৬তম শীর্ষ সম্মেলন:
- ২০২৫ সালের ২৪-২৫ জুন নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সম্মেলনে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ নির্ধারণের ব্যাপারে একমত হয়েছে।
- ন্যাটোর গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রতিটি দেশকে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত।
- এই ৫ শতাংশের মধ্যে অন্তত ৩.৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে সরাসরি প্রতিরক্ষার জন্য, বাকি অর্থ ব্যয় করা হবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত "গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো," নাগরিক প্রস্তুতি, উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।

উল্লেখ্য,
- এর পূর্বে প্রতিটি দেশকে জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা ছিল।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

২৮.
বিশ্বের উষ্ণতা রোধে 'কার্বন সনদ' হিসেবে মনে করা হয় -
  1. কিয়োটো প্রটোকলকে
  2. মন্ট্রিল প্রটোকলকে
  3. কার্টাগেনা প্রটোকলকে
  4. নাগোয়া প্রটোকলকে
ব্যাখ্যা

কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।

⇒ কার্বন সনদ:
- বিশ্বের উষ্ণতা রোধে কিয়েটো প্রটোকলকে কার্বন সনদ হিসেবে মনে করা হতো।
- এই প্রটোকলের প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রীনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কমানো।
- কারণ, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাস এবং এটি বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির (গ্লোবাল ওয়ার্মিং) জন্য দায়ী প্রধান উপাদান।

⇒ কার্বন সনদের ধারণাটি আসে বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন কমানোর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা।
- কিয়োটো প্রটোকল কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নির্গমন কমানোর জন্য 'কার্বন ক্রেডিট' ব্যবস্থাও চালু করেছিল, যার মাধ্যমে এক দেশ অন্য দেশের নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টা কিনতে পারে বা বিক্রি করতে পারে।
- এর মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক বাজার তৈরি হয়েছিল, যা 'কার্বন সনদ' বা 'কার্বন ক্রেডিট' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৮০টি দেশের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে পৃথিবীর শিল্পোন্নত ৩৮টি দেশকে ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তাদের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে (১৯৯০) ৫.২% কমানোর জন্য সীমা বেধে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ বিষয়ে বাণিজ্য বা যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে (আর্টিকেল-১৭, কিয়োটো প্রটোকল)।
- মূলত এখান থেকে কার্বন বাণিজ্যের সূত্রপাত।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

২৯.
World Economic Forum-এর বার্ষিক সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. নিউইয়র্ক
  2. প্যারিস 
  3. বার্লিন 
  4. দাভোস
ব্যাখ্যা

World Economic Forum:
- WEF-এর পূর্ণরূপ: World Economic Forum.
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (World Economic Forum, WEF) হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, অ্যাকাডেমিক, এবং সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একত্রিত করে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭১ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস সোয়েব।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

⇒ শুরুতে এটির নাম ছিলো European Management Forum.
- এটি ১৯৮৭ সালে World Economic Forum নামধারণ করে।

⇒ WEF-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধান করা, এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি স্থিতিশীল, সহযোগিতামূলক এবং আরও উন্নত ভবিষ্যৎ গঠন করা। 
- প্রতিবছর জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: WEF ওয়েবসাইট।

৩০.
নিম্নের কোনটি 'বাল্টিক রাষ্ট্র' নয়?
  1. এস্তোনিয়া
  2. লাটভিয়া
  3. লিথুয়ানিয়া
  4. বেলারুশ
ব্যাখ্যা

বেলারুশ 'বাল্টিক রাষ্ট্র' নয়।

বাল্টিক রাষ্ট্র:
- বাল্টিক রাষ্ট্র বলতে ইউরোপের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল তথা  বাল্টিক সাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহকে বুঝায়।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে।
- দেশগুলো হলো: এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া।

এছাড়াও,
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য কিছু আন্তঃসরকার সংস্থা রয়েছে।

⇒ বাল্টিক সাগর:
- বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তরাংশে অবস্থিত।
- এর চারদিকে স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ, ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ড এবং ডেনমার্কের দ্বীপসমূহ অবস্থিত।
- পূর্বে এটি উত্তর মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
- কৃত্রিম শ্বেত সাগর খালের মাধ্যমে এটি শ্বেত সাগরের সাথে যুক্ত।
- বাল্টিক সাগরের সাথে যেসব দেশের সরাসরি সীমানা রয়েছে: ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, সুইডেন।

উৎস: Britannica.

৩১.
বর্তমানে [সেপ্টেম্বর, ২০২৫] আসিয়ানভুক্ত দেশের সংখ্যা - 
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

ASEAN:
- ASEAN-এর পূর্ণরূপ: Association of Southeast Asian Nations.
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অর্থনৈতিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট, ১৯৬৭ (ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে)।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। 
- সদরদপ্তর: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি।
- সদস্য দেশগুলো: মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া।
- বর্তমান সভাপতি: আনোয়ার ইব্রাহিম (মালয়েশিয়া)।
- মহাসচিব: কাও কিম হৌর্ন।
- আসিয়ান এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি যার মোট দেশজ উৎপাদন ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং চীন আসিয়ানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৯৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

উল্লেখ্য,
- মে, ২০২৫ সালে ৪৬তম ASEAN শীর্ষ সম্মেলন মালয়েশিয়ায়র কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- প্রথম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন ১৯৭৬ সালের ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উৎস: ASEAN ওয়েবসাইট।

৩২.
বর্তমানে শেনজেনভুক্ত দেশের সংখ্যা কয়টি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫] 
  1. ২০টি
  2. ২২টি 
  3. ২৭টি 
  4. ২৯টি
ব্যাখ্যা

শেনজেন চুক্তি (Schengen):
- শেনজেন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তিদের অবাধ চলাচলের অনুমতি প্রদান করে।
- শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- স্থান: লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে।
- কার্যকর হয়: ২৬ মার্চ, ১৯৯৫।
- ১৯৯৫ সালে চুক্তিটি কার্যকর হলে ভিসামুক্ত ইউরোপের যাত্রা শুরু হয়।
- বর্তমানে শেনজেনভুক্ত দেশ: ২৯টি (ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫টি দেশ এবং ইইউর বাইরের চার দেশ সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং লিচেনস্টাইন)।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে শেনজেন অঞ্চলে যুক্ত হয়েছে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া।

উৎস: European Union ওয়েবসাইট।

৩৩.
'জাতিসংঘের ওশান সম্মেলন-২০২৫' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
  2. নিস, ফ্রান্স
  3. কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. লিসবন, পর্তুগাল
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের ওশান সম্মেলন-২০২৫:
- জাতিসংঘের ওশান সম্মেলন-২০২৫ ফ্রান্সের নিস শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

⇒ ৯ জুন -১৩ জুন, ২০২৫ তারিখে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- আয়োজক: কোস্টারিকা ও ফ্রান্স। 
-  সম্মেলনের মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ (SDG 14) অর্জন এবং মহাসাগর, সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। 
- পাঁচদিনের এই সম্মেলনে ফ্রান্সের নিস শহরে ৬০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, সহস্রাধিক বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও পরিবেশবাদীরা অংশ নেন।
- ‘High Seas Treaty’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে নিসে ১৯টি দেশ নতুন করে স্বাক্ষর করেছে, ফলে মোট স্বাক্ষরকারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০। চুক্তি কার্যকর করতে ৬০টি দেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৩৪.
D-Day কোন যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
  2. মার্কিন গৃহযুদ্ধ
  3. ২য় বিশ্বযুদ্ধ
  4. শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

D-Day:
- D-Day দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে ১৯৪৪ সালের ৬ জুন প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার যৌথ বাহিনীর সদস্য ফ্রান্সে অবতরণ করেন।
- ফ্রান্স উদ্ধারের জন্য মিত্রবাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে যে অপারেশন পরিচালনা করে তার কোডনাম ছিলো Operation Overlord।
- দিনশেষে প্রায় সাড়ে চার হাজার সৈন্য মারা যান, যা বিশ্বের সেনা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
- ফ্রান্সের নরম্যান্ডির উপকূলে ডি-ডে নামে খ্যাত ওই অভিযানের মধ্যে দিয়ে নাৎসী জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিজয়ের সূচনা হয়।
- ৬ জুন দিনটিকে ডি ডে (D-Day) হিসাবে পালন করা হয়।
- এই লড়াইয়ের এক বছর পর পরাজয় স্বীকার করে জার্মানি।

উল্লেখ্য,
- ডি দিবস (D Day) বা অবতরণ দিবসের দিন ধার্য হয় ১৯৯৪ সালের ১ জুন।
- কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য পিছিয়ে ৬ জুন করা হয়।
- এই সুবিশাল সামরিক অভিযানের নেতা ছিরেন আমেরিকান সেনাপতি আইজেনহাওয়ার।

উৎস: History.com

৩৫.
USMCA-এর সদস্য দেশ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

USMCA:
- USMCA-এর পূর্ণরূপ: United States-Mexico-Canada Agreement।
- এটি হলো উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের তিনটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- দেশগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২০।

⇒ চুক্তিটি NAFTA (North American Free Trade Agreement) চুক্তির স্থলে স্বাক্ষরিত হয়।
- NAFTA চুক্তি কিছু সময় পরেই বিভিন্ন সমস্যা এবং বাণিজ্যিক অসুবিধার সৃষ্টি করতে শুরু করে।
- এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে এবং চুক্তির আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে USMCA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ USMCA চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
- বাণিজ্য সম্পর্ক আধুনিকীকরণ,
- কৃষি এবং উৎপাদন খাতের উন্নয়ন,
- শ্রমিক অধিকার,
- বুদ্ধিজীবী সম্পত্তি।

উৎস: United States Trade Representative (.gov) ওয়েবসাইট।

৩৬.
নিম্নের কোন প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ও রাশিয়াকে বিভক্ত করেছে?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. হরমুজ প্রণালী
ব্যাখ্যা

বেরিং প্রণালী:
- 'বেরিং প্রণালী' এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে।
- বেরিং প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ও রাশিয়াকে আলাদা করেছে। 
- প্রণালিটি আর্কটিক মহাসাগরকে বেরিং সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালিটির গড় গভীরতা ৯৮ থেকে ১৬৪ ফুট (৩০ থেকে ৫০ মিটার) এবং এর প্রশস্ততা প্রায় ৫৩ মাইল (৮৫ কিমি)। 

উল্লেখ্য, 
- একসময় আলাস্কা রাশিয়ার মালিকানায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনে নেয়।

অন্যদিকে -
- জিব্রাল্টার প্রণালী আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছ এবং ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- পক প্রণালী ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
- পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে জাহাজ প্রবেশের একমাত্র সমুদ্রপথ হলো হরমুজ প্রণালী। এর এক পাশে অবস্থিত আরব দেশগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্রসমূহ, এবং অন্য পাশে রয়েছে ইরান।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

৩৭.
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর দেশ কোনটি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. চীন 
  2. রাশিয়া 
  3. যুক্তরাষ্ট্র 
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা

2025 Military Strength Ranking:
- প্রকাশক: Global Firepower। 
- দেশে দেশে সামরিক শক্তির সক্ষমতা নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছরই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
- ২০২৫ সালে মোট ১৪৫টি দেশের মধ্যে সামরিক সক্ষমতার বিচার করেছে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার।
- এটি করা হয় মূলত দেশগুলোর সৈন্য সংখ্যা, সামরিক সরঞ্জাম, আর্থিক স্থিতিশীলতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্জিত সম্পদ সহ অন্তত ৬০টি দিক বিবেচনা করে।
- এই বৈশিষ্ট্যগুলো যৌথভাবে শক্তির সূচকে স্কোর নির্ধারণ করে। এই সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম হয়, তার শক্তিমত্তা তত বেশি হয়।

⇒ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ১০ দেশ:
- ১ম: যুক্তরাষ্ট্র,
- ২য়: রাশিয়া,
- ৩য়: চীন,
- ৪র্থ: ভারত,
- ৫ম: দক্ষিণ কোরিয়া।

উল্লেখ্য।
- বাংলাদেশের অবস্থান ৩৫তম [সূচক: ০.৬০৬২]

উৎস: Global Firepower ওয়েবসাইট।

৩৮.
কোন দেশটি Nuclear Non- Proliferation Treaty (NPT) থেকে প্রত্যাহার করেছিল?
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইসরায়েল
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা

'NPT' চুক্তি:
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- এটি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।

⇒ আনুষ্ঠানিকভাবে NPT দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র (NWS) হলো ৫টি।
- চুক্তিটি এই দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্বীকৃতি দেয়।
- কিন্তু NPT-এর ৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের চিরস্থায়ীভাবে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখার উল্লেখ নেই।
- ৫টি রাষ্ট্র: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য,
- ভারত, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল কখনই NPT-এ যোগ দেয়নি। কিন্তু দেশগুলি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে পরিচিত। 
- উত্তর কোরিয়া একটি অ-পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে NPT-এ যোগদান করেছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে NPT থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল। 

উৎস: i) Arms Control Association ওয়েবসাইট।
        ii) UNODA ওয়েবসাইট।

৩৯.
UNRWA-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. United Nations Relief and Welfare Agency
  2. United Nations Relief and Works Agency for Palestine Refugees in the Near East
  3. United Nations Refugee and Welfare Agency for Palestine in the Middle East
  4. United Nations Regional Works Agency
ব্যাখ্যা

UNRWA:
- UNRWA-এর পূর্ণরূপ: The United Nations Relief and Works Agency for Palestine Refugees in the Near East.
- এটি হলো ফিলিস্তিনি শরনার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি মানবিক সহায়তা এজেন্সি।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে।
- কার্যক্রম শুরু হয়: ১ মে, ১৯৫০ সালে।
- বর্তমান কমিশনার জেনারেল: ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি।
- সদরদপ্তর: আম্মান, জর্ডান এবং গাজা।।
- UNRWA জরুরি ত্রাণ সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করে থাকে।

⇒ ১ জুন ১৯৪৬ থেকে ১৫ মে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল সংঘাত এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়ে জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম সহ পশ্চিমতীরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরনার্থীদের সহায়তার কাজে UNRWA নিয়োজিত।
- ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের Resolution - 302 (4) - এর মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে UNRWA গঠিত।
- UNRWA প্রায় পুরোটাই জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছায় অবদানের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ফিলিস্তিন বাদে বাকি সকল দেশের শরনার্থী নিয়ে UNHCR কাজ করে থাকে।

উৎস: UNRWA ওয়েবসাইট।

৪০.
কোন যুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. কোরিয়ান যুদ্ধ
  4. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

নুরেমবার্গ ট্রায়াল:
- 'নুরেমবার্গ ট্রায়াল' যুদ্ধাপরাধ-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নুরেমবার্গ ট্রায়াল হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫-৪৬ সালে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়ার নাম। 

⇒ ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিচার করে।
- তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরনের যথা:
১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা।
২. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: মানুষকে সমূলে বিনাশ করা, বাসস্থান থেকে বিতাড়ন করা এবং গণহত্যা।
৩. যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লঙ্ঘন।
৪. উপরিউক্ত তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।

⇒ আন্তর্জাতিক এই সামরিক ট্রাইবুনালে বিশিষ্ট ২২ জন নাৎসি কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই নুরেমবার্গের আদালতে শীর্ষ নাৎসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
- যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিচার হয় তাদের।
- বিচারাধীনদের মধ্যে ছিল সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
- ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হয় এই বিচার।

উৎস: Britannica.

৪১.
যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট International Atomic Energy Agency (IAEA)- এর প্রস্তাবক ছিলেন?
  1. ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  2. হ্যারি এস. ট্রুম্যান
  3. ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
  4. জন এফ. কেনেডি
ব্যাখ্যা

IAEA:
- IAEA-এর পূর্ণরূপ: International Atomic Energy Agency.
- আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৯৫৭।
- বর্তমান সদস্য: ১৮০টি।
- সর্বশেষ সদস্য: গিনি।
- সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান মহাপরিচালক: রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি (আর্জেন্টিনা)।

⇒ IAEA ২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পায় লাভ করে।
- IAEA-এর সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ এল বারাদি এবং IAEA ২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
- মোহাম্মদ এল বারাদি মিশরের নাগরিক। 
- তিনি ১৯৯৭ - ২০০৯ সাল পর্যন্ত IAEA এর চতুর্থ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার 'International Atomic Energy Agency (IAEA)'- এর প্রস্তাবক ছিলেন
- তিনি ১৯৫৩ সালে জাতিসংঘে 'Atoms for Peace' নামক একটি উদ্যোগের আওতায় পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
- এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পরমাণু শক্তি শুধুমাত্র অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে IAEA প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: IAEA ওয়েবসাইট।

৪২.
পশ্চিম তিমুর বর্তমানে কোন দেশের অংশ?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. মালয়েশিয়া
  3. ফিলিপাইন
  4. পূর্ব তিমুর
ব্যাখ্যা

পশ্চিম তিমুর:
- পশ্চিম তিমুর ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য।
- তিমুর হল তিমুর সাগরের উত্তর তীরে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- দ্বিপটি পূর্ব অংশে পূর্ব তিমুরের সার্বভৌম রাজ্য এবং পশ্চিম অংশ ইন্দোনেশিয়ার অংশ হিসাবে বিভক্ত।
- ইন্দোনেশিয়ান অংশ, পশ্চিম তিমুর নামেও পরিচিত, পশ্চিম অংশটি নুসা তেনগারা প্রদেশের অংশ।
- খ্রিষ্টান অধ্যুষিত পূর্ব তিমুর ২০০২ সালের ২০ মে ইন্দোনেশিয়ার নিকট থেকে স্বাধীন হলেও পশ্চিম তিমুর স্বাধীন নয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮৬০ ও ১৮৯৩ সালে বিবাদমান উপনিবেশিক শক্তিগুলোর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে পূর্ব তিমুর শাসনের অধিকার লাভ করে পর্তুগীজরা।
- চুক্তি ১৯১৪ সালে কার্যকর হয়।
- ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব তিমুর পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
- ১৯৭৫ সালে Revolutionary Front for an Independent East Timor গঠিত হয় এবং এর বেশিরভাগ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৬ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর আক্রমন করে দখল করে এবং এটি নিজেদের অঞ্চল বলে ঘোষণা করে।
- ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট পূর্ব তিমুরে স্বাধীনতার স্বপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং জনসাধারণ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়। পশ্চিম তিমুর ইন্দোনেশিয়ার সাথে থেকে যায়।
- তারপর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পূর্ব তিমুর জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০২ সালের এপ্রিলে Xanana Gusmão প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় এবং জাতিসংঘ তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এবং পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

৪৩.
'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস' পালিত হয় -
  1. ৩০ আগস্ট
  2. ৩১ আগস্ট
  3. ২৯ সেপ্টেম্বর
  4. ৩০ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস:
- ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়।

⇒ ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সনদ হিসাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
- ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়।
- ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট গুম হওয়া মানুষগুলোকে স্মরণ এবং সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।
- আর গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি আছেন সাধারণ লোকজনও।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪৪.
WTO-এর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14) কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. মরক্কো
  2. ব্রাজিল
  3. ক্যামেরুন
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14) ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ইয়াউন্দে, ক্যামেরুন-এ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য,
- WTO-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা হলো Ministerial conferences।
- মন্ত্রী পরিষদের অধিবেশন (Ministerial conference) সকল সদস্য নিয়ে গঠিত।
- এটি বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থার কার্যকরী বিভাগ।
- সাধারণ পরিষদ (General Council)-মন্ত্রী পরিষদের অধিবেশনের অন্তর্বর্তী সময়ে এটি কার্য পরিচালনা করে।
- WTO-এর "Ministerial Conference" প্রতি দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এর ১৩ তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন) অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে–
১) উরুগুয়ে রাউন্ডের চুক্তিসমূহের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা,
২) বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার জন্য ফোরাম হিসেবে কাজ করা,
৩) বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করা,
৪) বিভিন্ন সদস্য দেশের জাতীয় বাণিজ্য নীতিমালা পরীক্ষা করে দেখা এবং,
৫) কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশসমূহের বাণিজ্য নীতিমালার বিষয়ে সহায়তা করা।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

৪৫.
লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার প্রথম শুরু করে কারা?
  1. হিট্টাইটরা
  2. গ্রিকরা
  3. ব্যাবিলনীয়রা
  4. সিন্ধুরা
ব্যাখ্যা

লৌহযুগ:
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু।
- এর ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
- সহজলভ্য ও দামে সস্তা হওয়ায় লোহার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।

⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়।
- এর ফলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আর্থ- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লেনদেন ও ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়।
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।