• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-
১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার।
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।
অন্যদিকে,
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে বলা হয়- ধ্বনিপ্রধান, ধ্বনিমাত্রিক, কলাবৃত্ত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।