পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৯ টপিক: যতিচিহ্ন, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়া ভাব ছন্দ ও অলংকার [লাইভ ক্লাস – ৩৭, ৩৮ ও ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাড়ি
  2. কমা 
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা 
ব্যাখ্যা

• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

.
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে বলা হয়-
  1. তানপ্রধান
  2. ধ্বনিপ্রধান
  3. ধ্বনিমাত্রিক
  4. কলাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
তানপ্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানপ্রধান
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-

১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার। 
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।

অন্যদিকে,
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে বলা হয়- ধ্বনিপ্রধান, ধ্বনিমাত্রিক, কলাবৃত্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বরবৃত্ত ছন্দকে কী নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. ধ্বনিপ্রধান ছন্দ
  2. লোকছন্দ 
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. পায়রা ছন্দ
সঠিক উত্তর:
লোকছন্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকছন্দ 
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
.
সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝাতে কোন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. খানি
  3. জন
  4. টুকু
সঠিক উত্তর:
টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুকু
ব্যাখ্যা

• টুকু
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন
- সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -টা,-টি
⇒ বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও-টে। যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা।

• -খানা,-খানি
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন : ব্যাপারখানা, ভাবখানা।

• -জন
⇒ শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন : বিজ্ঞজন, লোকজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

.
শব্দসংক্ষেপ, ক্রমনির্দেশ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়-
  1. বিকল্পচিহ্ন 
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু 
  4. বিন্দু
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
ব্যাখ্যা

বিন্দু(.)
- শব্দসংক্ষেপ, ক্রমনির্দেশ ইত্যাদি কাজে বিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. বাগর্থ।

উল্লখ্য,
ত্রিবিন্দু (...)
- কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

বিকল্পচিহ্ন (/)
- একটির বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্নের ব্যবহার হয়।
যেমন
- শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

.
কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. আমি বাড়ি যাই।
  2. সে একটু হাসুক।
  3. পরিশ্রম করলে সফল হবে।
  4. মিথ্যা বলবে না।
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা বলবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা বলবে না।
ব্যাখ্যা

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক: 
বর্তমান কালে- চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে- তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক:
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে- মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক:
বর্তমান কালে- ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে-আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক:
বর্তমানে কালে-মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে- স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে,
⇒ সাধারণ নির্দেশক : আমি বাড়ি যাই।
⇒ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: সে একটু হাসুক।
⇒  সাপেক্ষ ভাব: পরিশ্রম করলে সফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

.
’তারা সেখানে বেড়াতে গেল।’- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অতীত
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

অন্যদিকে,
• ঘটমান অতীত
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• পুরাঘটিত বর্তমান
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন : আমি অঙ্কটি করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

.
'কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।'- বাক্যটি কোন কালের?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
  2. সাধারণ অতীত
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কাল :
⇒ সাধারণ বর্তমান কাল যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

⇒ নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়।
(২) ঐতিহাসিক বর্তমান :অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
(৩) কাব্যের ভণিতায় :মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।
(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

.
’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’ - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  3. নিত্য ভবিষ্যৎ
  4. ঘটমান ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’-  বাক্যটি ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।

• ভবিষ্যৎ কাল
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।

⇒ ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১০.
সর্বপ্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার ঘটে কোন গ্রন্থে?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. সীতার বনবাস
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১.
’যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।’  বাক্যটির ক্রিয়া অতীতের কিন্তু ঘটনা কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

•সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
-  শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের;কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

উল্লেখ্য,
⇒ ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ
- অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।

- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।

- প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১২.
’যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।’- বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২০ সালের সংস্করণ)।

১৩.
ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার ভাব (Mood):
⇒ বাক্যগুলোতে ক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার বিভিন্ন রীতি প্রকাশ পেয়েছে। ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

⇒ ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার:
১. নির্দেশক ভাব (Indicative Mood)
২. অনুজ্ঞা ভাব (Imperative Mood)
৩. সাপেক্ষ ভাব (Subjunctive Mood)
৪. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব (Optative Mood)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

১৪.
বাংলা সাহিত্যে অর্থালংকার কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. পাঁচ
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা

অর্থালংকার:
⇒ অর্থের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য - বিধায়ক অলঙ্কারকে বলা হয় অর্থালঙ্কার। অর্থালংকারে শব্দধ্বনি গৌণ, তার অর্থই প্রধান। এজন্য অর্থ ঠিক রেখে শব্দ বদলে দিলেও অর্থালংকারের কোনো পরিবর্তন হয় না।

⇒ অর্থালংকার প্রধানত ৫ প্রকার :
যথা :
- সাদৃশ্যমূলক।
- বিরোধমূলক।
- শৃঙ্খলামূলক।
- ন্যায়মূলক।
- গূঢ়ার্থমূলক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫.
‘গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।’—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে কেন?
  1. উদ্ধৃতি বোঝাতে
  2. সম্বোধন বোঝাতে
  3. একাধিক শব্দ আলাদা করতে
  4. প্রশ্ন প্রকাশ করতে
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
ব্যাখ্যা

⇒ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে একদিক শব্দের মধ্যে প্রতিটি শব্দ আলাদা করার জন্যে।

• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।