পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২০: রিভিশন পরীক্ষা [অভিজ্ঞদের জন্য বিসিএস প্রস্তুতি বাটনের বিগত ৩টি পরীক্ষার টপিকের উপর রিভিশন পরীক্ষা।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
কোথায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয়?
  1. ক) ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. খ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) পিলখানা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র' মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানের শাসক ছিলেন -
  1. ক) আইয়ুব খান
  2. খ) ইস্কান্দার মির্জা
  3. গ) জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ক) ৪২৬ জন
  2. খ) ৬৭০ জন
  3. গ) ৬৭২ জন
  4. ঘ) ৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সংবিধানে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  2. খ) জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  3. গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
  4. ঘ) মুক্তিসংগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই বলা হয়েছে: 'আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;'।
- উল্লেখ্য, সামরিক শাসনকালে (১৯৭৫ - ১৯৯১) সংবিধানের এই অংশটুকু পরিবর্তন করা হয়েছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম' প্রতিস্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
ROM BIOS-এর মধ্যে যে ডেটা এবং নির্দেশগুলো থাকে তা হলো -
  1. ক) হার্ডওয়্যার
  2. খ) হিউমেনওয়্যার
  3. গ) ফার্মওয়্যার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফার্মওয়্যার (Farmware) :
- সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করার সময় কম্পিউটারের মেমরিতে যে সকল প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়া হয় তাকে ফার্মওয়্যার বলে।
- এ সকল প্রোগ্রাম কম্পিউটার ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারে না।
- ROM BIOS-এর মধ্যে যে ডেটা এবং নির্দেশগুলো থাকে তা হলো ফার্মওয়্যার।

হার্ডওয়্যার (Hardware) :
- কম্পিউটার তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস বা যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশসমূহকে বলা হয় কম্পিউটার হার্ডওয়্যার।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, মাইক্রোপ্রসেসর, মাদারবোর্ড প্রভৃতি যন্ত্রপাতি নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও সহায়তা করার জন্য রয়েছে অন্য ডিভাইসসমূহ যেমন-ডিস্ক, ডিস্ক ড্রাইভ, কি-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি। উল্লিখিত সকল যন্ত্রপাতিই কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার।

হিউম্যানওয়্যার (Humanware) :
- ডেটা সংগ্রহ, প্রোগ্রাম বা ডেটা সংরক্ষণ ও পরীক্ষাকরণ, কম্পিউটার চালনা, প্রোগ্রাম লেখা, সিস্টেমগুলো ডিজাইন ও রেকর্ড লিপিবদ্ধকরণ এবং সংরক্ষণ, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি কাজগুলোর সাথে যুক্ত সমস্ত মানুষকে একসাথে হিউম্যানওয়্যার বলে।
- একজন কম্পিউটারের ব্যবহারকারী (হিউম্যানওয়্যার) প্রথমত ডেটা সংগ্রহ করেন। কম্পিউটার প্রসেস করার জন্য কম্পিউটারের সিস্টেম ডিজাইন করেন এবং কম্পিউটারের প্রোগ্রাম লেখেন। এরপর কম্পিউটার ব্যবহারকারী কম্পিউটার চালনার মাধ্যমে প্রোগ্রামটিকে চালিয়ে দেখেন এবং ডেটাগুলোকে পরীক্ষা করেন। এ সব কাজই হিউম্যানওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
IBM Pentium এক ধরণের-
  1. ক) সুপার কম্পিউটার
  2. খ) মেইন ফ্রেম কম্পিউটার
  3. গ) মিনি কম্পিউটার
  4. ঘ) মাইক্রোকম্পিউটার
ব্যাখ্যা
সুপার কম্পিউটার: সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যান্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার। এ ধরনের কম্পিউটার হলো CRAY-1, CYBER - 250, Supper XII।

মেইন ফ্রেম কম্পিউটার : ক্ষমতা ও আকার বিচারে মেইন ফ্রেম কম্পিউটার সুপার কম্পিউটার তুলনায় ছোট কিন্তু প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা এবং মেমরি ধারণ ক্ষমতা অত্যান্ত বেশি। IBM4341, NCR, N8370, IBM Amdah1580, UNIVAC 1100, CYBER 170 উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

মিনি কম্পিউটার: আকার ছোট ও কম ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার। NOVA-3 PDP11, IBM-S/400, NCR S / 9290, IBM S / 36, IBM S/34 উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় ।

মাইক্রোকম্পিউটার: আকার ও ক্ষমতা বিচারে সুপার কম্পিউটার তুলনায় ছোট কম্পিউটার। কিন্তু একীভূত বর্তনীর মাইক্রোপ্রোসেসর সংযুক্ত। এ কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি বলা হয়। IBM386, MACINTOSH, IBM Pentium উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। বর্তমানে দেশে আমরা যে সব কম্পিউটার ব্যবহার করি তা সবই প্রায় মাইক্রোকম্পিউটার।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
'অধ্যাদেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধ তৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'অধ্যাদেশ' একটি তৎসম শব্দ। 

• তৎসম শব্দ: 
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যেমন :
- অধ্যাদেশ।
- গণপ্রজাতন্ত্রী।
- মহাপরিচালক। 
- সচিবালয় ইত্যাদি।  

• অর্ধ-তৎসম শব্দ: 
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।

• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।

• ফারসি শব্দ: আমদানি, জানোয়ার, রোজা, দোকান, নামাজ, চশমা ইত্যাদি।   

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ এবং ২০২১ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
.
নিচের কোনটি সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) ঘুমা
  2. খ) পড়া
  3. গ) যোগ কর
  4. ঘ) কাট্‌
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
ধাতু ৩ প্রকারের। যথা -
১. মৌলিক ধাতু, 
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু। 

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা -
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।
=======================
অন্যদিকে, 
পড়া, ঘুমা- সাধিত ধাতুর উদাহরণ। 
যোগ কর- যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু। 

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
যোগ(বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর'(সংযোগমূলোক ধাতু।

• সাধিত ধাতু: 
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়।
- আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।
যেমন:
- দেখ্‌ + আ= দেখা।
- পড়্‌ + আ = পোড়া।
- বল্‌ + আ = বলা।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
.
অর্থ অনুসারে 'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) মৌলিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থ অনুসারে 'সন্দেশ'- রূঢ়ি শব্দ। 

অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো -
১.যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
৩.যৌগরূঢ় শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে সেসব শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় (সম্ + দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ।
- কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি। প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।
- আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, গবেষণা। 

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয় -
  1. ক) নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে
  2. খ) প্রাতিপদিকের পরিবর্তনকে
  3. গ) কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে
  4. ঘ) কৃৎ-প্রকৃতির অন্তস্বরের পরিবর্তনকে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের গুণ ও বৃদ্ধি: 
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ- প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ- প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়। 
-  এ পরিবর্তনকে বলা গুণ ও বৃদ্ধি।
- কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।

• গুণ :
» ই/ঈ-স্থলে এ ; √চিন + আ = চেনা, √নী + আ = নেওয়া
» উ/ঊ-স্থলে ও ; √ধু + আ = ধোয়া
» ঋ-স্থলে অর ; √কৃ + তা = করতা ˃ ক্রেতা

• বৃদ্ধি:
» অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক(অ = পাচক
» ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
» উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
» ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।  
১১.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রতয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) বৈদ্য
  2. খ) নন্দন
  3. গ) মাধুর্য
  4. ঘ) প্রাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
নন্দন= √ নন্দি + অন; সংস্কৃত কৃৎ প্রতয় সাধিত শব্দ।

• নন্দন' শব্দের অর্থ- পুত্র, বংশধর। 

• কাব্য, মাধুর্য, প্রাচ্য- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রতয় সাধিত শব্দ।
- বৈদ্য= বিদ্যা+ অ (বাংলা একাডেমি); বেদ + ষ্ণ্য;  
- মাধুর্য= মধুর +য (বাংলা একাডেমি)/ মধুর + ষ্ণ; 
- প্রাচ্য= প্রাচ্‌ + য (বাংলা একাডেমি); প্রাচী + য; 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
১২.
World Food Programme কত সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে?
  1. ক) ২০১৮ সালে
  2. খ) ২০১৯ সালে
  3. গ) ২০২০ সালে
  4. ঘ) ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
WFP:

- ২০২০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে WFP (World Food Programme) বা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
- বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণে অবদানের জন্যে WFP কে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
- সংস্থাটি বিশ্বের ৮৮টি দেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে।
- WFP ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির সদরদপ্তর ইতালির রোম শহরে অবস্থিত।
- বর্তমান নির্বাহী মহাপরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন।

তথ্যসূত্র - WFP ও নোবেল পুরস্কার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩.
International Fund for Agricultural Development এর সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৭৪টি
  2. খ) ১৭৫টি
  3. গ) ১৭৬টি
  4. ঘ) ১৭৭টি
ব্যাখ্যা
IFAD:

- আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD) এর সদর দপ্তর রোমে। 
- আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD)।
- IFAD এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- International Fund for Agricultural Development জাতিসংঘের একটি - বিশেষায়িত সংস্থা।
- রোম সম্মেলনের তিন বছর পর, ১৯৭৭ সালে IFAD একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৭৭ সাল।
- সদস্য সংখ্যা- ১৭৭টি দেশ।

তথ্যসূত্র - IFAD অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৪.
জাতিসংঘের কোন সংস্থাটি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে?
  1. ক) UNDP
  2. খ) UPU
  3. গ) UNHCR
  4. ঘ) UNFPA
ব্যাখ্যা
UNHCR:

- জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা UNHCR এর পূর্ণরূপ United Nations High Commissioner for Refugees.
- UNHCR ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
- UNHCR এর প্রধানকে বলা হয় হাইকমিশনার।
- এর বর্তমান হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি।
- কার্যক্ষেত্র - ১৩৫টি দেশ।

তথ্যসূত্র - UNHCR এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৫.
IMO এর সদর দপ্তর কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) প্যারিস
  3. গ) রোম
  4. ঘ) জেনেভা
ব্যাখ্যা
IMO:

- International Maritime Organisation ( IMO ) হলো সমুদ্র চলাচল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- IMO প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ জেনেভায় একটি কনভেনশন গৃহিত হয় যা ১৭ মার্চ ১৯৫৮ কার্যকর হয়।
- শুরুতে এর নাম ছিলো Inter-governmental Maritime Consultative Organisation (IMCO) ১৯৮২ সালে International Maritime Organisation নামকরণ করা হয়।
- ১৯৫৯ সালের ১৩ জানুয়ারি এটি জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থার মর্যাদা লাভ করে।
- IMO এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৫টি। 
- বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে IMO এর সদস্যপদ লাভ করে।

তথ্যসূত্র - IMO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৬.
জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা সদর দপ্তর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জেনেভা
  2. স্পেন
  3. ফ্রান্স
  4. ইতালী
ব্যাখ্যা
UNWTO:

- জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা UNWTO.
- UNWTO এর পূর্ণরূপ - United Nations World Tourism Organization.
- পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়- ২৭ সেপ্টেম্বর।
- UNWTO আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৬ সালে।
- এর সদর দপ্তর মাদ্রিদ, স্পেন।
- জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থার মর্যাদা লাভ করে- ২০০৩ সালে।
- বর্তমান সদস্য- ১৫৯ টি।

তথ্যসূত্র - UNWTO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৭.
United Nations System Staff College এর সদর দপ্তর কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) তুরিন
  2. খ) রোম
  3. গ) ফ্লোরেন্স
  4. ঘ) মিলান
ব্যাখ্যা
UNSSC:

- এর পূর্ণরূপ United Nations System Staff College.
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে।
- The UNSSC is an open, dynamic and engaged community committed to innovative learning and training programmes focused on public policy.
- বর্তমান পরিচালক হলো জাফর জাভান।
- এর সদর দপ্তর হলো তুরিন, ইতালি।

তথ্যসূত্র - UNSSC এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৮.
একটি ছক্কা একবার নিক্ষেপ করা হলে তিন দ্বারা বিভাজ্য সংখ্যা উঠার সম্ভাবনা কত? 
  1. ক) ১/৩
  2. খ) ১/২
  3. গ) ১/৪
  4. ঘ) ৩/৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি ছক্কা একবার নিক্ষেপ করা হলে তিন দ্বারা বিভাজ্য সংখ্যা উঠার সম্ভাবনা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি, 
একটি ছক্কায় সংখ্যা থাকে = ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ 
এখানে, 
তিন দ্বারা বিভাজিত সংখ্যা হলো = ৩ ও ৬ 

∴ তিন দ্বারা বিভাজিত সংখ্যা উঠার সম্ভাবনা = ২/৬ 
= ১/৩
১৯.
তথ্য সারির মোট মানের সংখ্যা y টি এবং তা বিজোড় হলে, মধ্যমা কত? 
  1. ক) (y + 2)/2 তম পদ
  2. খ) (y + 1)/2 তম পদ
  3. গ) (y + 3)/2 তম পদ
  4. ঘ) (y + 5)/2 তম পদ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: তথ্য সারির মোট মানের সংখ্যা y টি এবং তা বিজোড় হলে, মধ্যমা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি, 
উপাত্তের সংখ্যা বিজোড় হলে, 
y সংখ্যক উপাত্তের জন্য মধ্যমা = (y + 1)/2 তম পদ
২০.
স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১৫ জন ১০০ মিটার দৌড়ে, ১২ জন ২০০ মিটার দৌড়ে এবং ৭ জন দুটিতেই অংশগ্রহণ করে। ৩ জন প্রতিযোগী কোনোটিতেই অংশগ্রহণ না করলে মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা কত? 
  1. ক) ১৯ জন
  2. খ) ১৭ জন
  3. গ) ২১ জন
  4. ঘ) ২৩ জন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১৫ জন ১০০ মিটার দৌড়ে, ১২ জন ২০০ মিটার দৌড়ে এবং ৭ জন দুটিতেই অংশগ্রহণ করে। ৩ জন প্রতিযোগী কোনোটিতেই অংশগ্রহণ না করলে মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা কত? 

সমাধান: 
কোনোটিতেই অংশগ্রহণ করে না = ৩ জন 
উভয় খেলায় অংশগ্রহণ করে = ৭ জন 
শুধু ১০০ মিটার দৌড়ে অংশগ্রহণ করে = (১৫ - ৭) জন 
= ৮ জন 

আবার, 
শুধু ২০০ মিটার দৌড়ে অংশগ্রহণ করে = (১২ - ৭) জন 
= ৫ জন 

∴ মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা = (৩ + ৭ + ৮ + ৫) জন 
= ২৩ জন 
২১.
একটি থলিতে 6টি নীল বল, 8টি সাদা বল এবং 10টি কালো বল আছে। দৈবভাবে একটি বল তুললে সেটি নীল না হওয়ার সম্ভাবনা কত? 
  1. ক) 1/4
  2. খ) 1/3
  3. গ) 3/4
  4. ঘ) 4/3
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি থলিতে 6টি নীল বল, 8টি সাদা বল এবং 10টি কালো বল আছে। দৈবভাবে একটি বল তুললে সেটি নীল না হওয়ার সম্ভাবনা কত? 

সমাধান: 
বলটি নীল হওয়ার সম্ভাবনা = 6/(6 + 8 + 10) 
= 6/ 24
= 1/4 

∴ বলটি নীল না হওয়ার সম্ভাবনা = {1 - (1/4)} 
= (4 - 1)/4 
= 3/4 
২২.
একটি রেলওয়ে কামড়ায় একটি বেঞ্চে 6 টি আসন খালি আছে। তিন জন যাত্রী কতভাবে এই 6 টি আসনে বসতে পারবে? 
  1. ক) 120
  2. খ) 140
  3. গ) 160
  4. ঘ) 180
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি রেলওয়ে কামড়ায় একটি বেঞ্চে 6 টি আসন খালি আছে। তিন জন যাত্রী কতভাবে এই 6 টি আসনে বসতে পারবে? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
বেঞ্চ সংখ্যা = 6 টি
এবং যাত্রী সংখ্যা = 3 জন 

∴ বিন্যাসের নিয়মানুসারে উপায় সংখ্যা হবে = 6P
= 6!/(6 - 3)! 
= 6!/3!
= (6 × 5 × 4 × 3 × 2 × 1)/(3 × 2 × 1) 
= 120 

∴ 120 উপায়ে বসতে পারবে। 
২৩.
একটি দাবা প্রতিযোগিতায় 6 জন প্রতিযোগী একে অপরের সাথে 1 বার করে খেলবে। প্রতিযোগিতায় মোট কতটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে? 
  1. ক) 12
  2. খ) 15
  3. গ) 18
  4. ঘ) 30
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি দাবা প্রতিযোগিতায় 6 জন প্রতিযোগী একে অপরের সাথে 1 বার করে খেলবে। প্রতিযোগিতায় মোট কতটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে? 

সমাধান: 
একবার খেলার জন্য প্রতিযোগী প্রয়োজন = 2 জন 

∴ 6 জন প্রতিযোগীর মধ্যে মোট খেলা = 6C
= (6 × 5)/(2 × 1) 
= 15 
২৪.
'খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।'- পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. ক) পল্লীজননী
  2. খ) নিমন্ত্রণ
  3. গ) দেশ
  4. ঘ) পল্লী বর্ষা
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন:
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ 'সূচয়নী'।

• 'দেশ' কবিতা: 
- জসীমউদ্‌দীন রচিত 'দেশ' কবিতাটি 'মাটির কান্না' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এ কবিতায় কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষের ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এই কবিতায় অত্যন্ত সৌখিনতার সহিত কবি গ্রামবাংলার রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। 
- গ্রামবাংলার প্রকৃতির একদিকে রয়েছে দিগন্ত-বিস্তৃত ধানের খেত, সেখানে পাখ-পাখালির আনাগোনা, শরতের শোভা, ফসলের হাতছানি।

তাঁর রচিত অন্যান্য জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত
- মাটির কান্না,

জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়;
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি; 
- জারিগান। 

দেশ' কবিতা
-------------জসীমউদ্‌দীন। 
'খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।'
সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক,
চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কাল কাল কাক।
সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা,
শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায় মানিক আলা।
তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া;
মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাব-হরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, দেশ' কবিতা।
২৫.
'সুরধুনী কাব্য' এর রচয়িতা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
'সুরধুনী কাব্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- দীনবন্ধু মিত্র।
- সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা।
- এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক 

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬.
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা: 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। 
- পরাধীন ভারতে বাঙালিদের মধ্যেই যেমন প্রথম বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বাঙালির কণ্ঠেই প্রথম জলদমন্দ্র ধ্বনিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ গানের মধ্য দিয়ে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

"বঙ্গ আমার জননী আমার"- কবিতা,
------------- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুস্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধুলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
.
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কণ্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
.
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।

একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার তিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?
.
উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কণ্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাসও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।