পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়11 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১১: টপিক: রিভিশন পরীক্ষা [১ থেকে ১০ পর্যন্ত সকল পরীক্ষার টপিক সমূহ] [লাইভ ক্লাস - ১ থেকে ২২ পর্যন্ত]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
‘বাগধারা’ ব্যাকরণের কোন্ অংশে আলোচিত হয়? 
  1. ক) রূপতত্ত্বে
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্বে
  3. গ) অর্থতত্ত্বে
  4. ঘ) শব্দতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
নবম ও দশম শ্রেণির পুরাতন ব্যাকরণ অনুযায়ী বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কিন্তু নতুন ব্যাকরণ ও বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ অনুসারে বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন অর্থতত্ত্বে আলোচিত হবে।
কারণ, বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচনে বাক্য নয়, অর্থই মুখ্য। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ। 
.
ব্যাকরণ সম্পর্কে কোনটি সত্যি নয়?
  1. ক) ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান
  2. খ) ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে
  3. গ) ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে
  4. ঘ) ব্যাকরণ ভাষাকে পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ। আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায় মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।
- ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
- ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
- ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে।
- ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ।
.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) শ্রীলংকা
  2. খ) ভারতীয়
  3. গ) মর্ত্য
  4. ঘ) ধরণ
ব্যাখ্যা
ধরন বানানে ন হবে, কিন্তু ধারণ বানানে ণ হয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান 
.
নিচের কোনটি ণত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) দুরন্ত
  2. খ) ক্ষরণ
  3. গ) কৃষক
  4. ঘ) ভাষণ
ব্যাখ্যা

বানানে ণ এর ব্যবহারের বিধানকেই ণত্ব বিধান/ ণত্ব বিধি বলে।
অর্থাৎ, ণত্ব বিধির প্রযোজ্যতা বা অপ্রযোজ্যতা বিবেচনা করতে হলে প্রথমত বানানে ন/ণ থাকতে হবে।
কৃষক বানানে ন/ণ নেই। তাই ণ-ত্ব বিধি আসার প্রশ্নই আসে না।

নিয়ম অনুযায়ী দুরন্ত তে ণ হয়, ত-বর্গের সাথে যুক্ত হয়েছে বলে ণত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়।
তাই সঠিক উত্তর: ক)

এছাড়া,
ক্ষরণ - ণত্ব বিধি অনুযায়ী হয়েছে।
কৃষক - ষ-ত্ব বিধি অনুসারে হয়েছে।
ভাষণ শব্দে স্বভাবতই ণ হয়েছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ।

.
‘ব্রাহ্মণ’ শব্দে যুক্তবর্ণ হিসেবে কোনটি আছে?
  1. ক) ক + ষ
  2. খ) ষ + ণ
  3. গ) হ + ণ
  4. ঘ) হ + ম
ব্যাখ্যা
ক + ষ = ক্ষ
ষ + ণ = ষ্ণ
হ + ণ = হ্ণ
হ + ম = হ্ম 

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’। (নতুন)।
.
‘বড় দাদা > বড়দা’ শব্দের এই পরিবর্তনকে কী বলে? 
  1. ক) অন্তর্হতি    
  2. খ) অভিশ্রুতি
  3. গ) স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
দুটো সমবর্ণের একটির লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে। যেমন : 
বউদিদি > বউদি
বড়দাদা > বড়দা
ছোটকাকা > ছোটকা

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
.
পাকা > পাক্কা - ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. ক) সমীভবন
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) দ্বিত্বব্যঞ্জন
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
কথায় জোর সৃষ্টির জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণকে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বা ধ্বনিদ্বিত্ব বলে। 
সকাল > সক্কাল
পাকা > পাক্কা
চাকা > চাক্কা
মুলুক > মুল্লুক

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
.
‘সাহিত্যসভা’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো :
প্রদত্ত শব্দ  --  ব্যাসবাক্য    
সিংহাসন  --  সিংহ চিহ্নিত আসন    
সাহিত্যসভা  --  সাহিত্য বিষয়ক সভা
জোৎস্না রাত  --  জোৎস্না শোভিত রাত    
রান্নাঘর  --  রান্না করার ঘর
পলান্ন  --  পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন    
মৌমাছি  --  মৌ সঞ্চয়কারী মাছি

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি নয়?
  1. ক) গবাক্ষ
  2. খ) কুলটা
  3. গ) পরোক্ষ
  4. ঘ) প্রত্যেক
ব্যাখ্যা
প্রত্যেক নিয়ম অনুসারে হয়েছে। প্রতি + এক = প্রত্যেক। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা।
১০.
কটূক্তি শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. ক) কটূ + উক্তি
  2. খ) কটূ + ঊক্তি
  3. গ) কটু + উক্তি
  4. ঘ) কটু + ঊক্তি
ব্যাখ্যা
সন্ধিবদ্ধ শব্দে ঊ থাকলে ঊ = উ/ঊ + উ/ঊ হবে। 

মূল শব্দ  =  সন্ধি বিচ্ছেদ    
মরূদ্যান = মরু + উদ্যান    
কটূক্তি = কটু + উক্তি    
বহূর্ধ্ব = বহু + ঊর্ধ্ব
ভূর্ধ্ব = ভূ + ঊর্ধ্ব    
অনূর্ধ্ব = অনু + ঊর্ধ্ব    
তরূর্ধ্ব = তরু + ঊর্ধ্ব

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা।
১১.
হিতৈষী শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. ক) হিত + ঐষী
  2. খ) হিতা + এষী
  3. গ) হিত + এষি
  4. ঘ) হিত + এষী
ব্যাখ্যা
সন্ধিবদ্ধ শব্দে ঐ থাকলে ঐ = অ/আ + এ/ঐ

মূল শব্দ    সন্ধি বিচ্ছেদ    
হিতৈষী = হিত + এষী
সর্বৈব = সর্ব + এব
হিতৈষণা = হিত + এষণা 
অতুলৈশ্বর্য = অতুল + ঐশ্বর্য
একৈক = এক + এক
তথৈব = তথা + এব

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা।
১২.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয়?
  1. ক) বৃহস্পতি 
  2. খ) পতঞ্জলি 
  3. গ) তস্কর 
  4. ঘ) সংলাপ
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
বৃহৎ + পতি= বৃহস্পতি, 
পতৎ + অঞ্জলি= পতঞ্জলি,
তদ্‌ + কর= তস্কর, 
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো+অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র+এষণ = প্রেষণ,
কুল+অটা = কুলটা,
পর+পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

• 'সংলাপ' শব্দের সন্ধির নিয়ম: 
ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  
যেমন,
সম্‌+ লাপ= সংলাপ, 
সম্‌+ সার= সংসার, 
সম্‌+ বাদ= সংবাদ,
সম্‌+ যম= সংযম,
সম্‌+ রক্ষন= সংরক্ষণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ, ভাষা-শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
১৩.
নিচের কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জন সন্ধি নয়।
  1. ক) সংস্কার 
  2. খ) সংস্কৃত 
  3. গ) পরিস্কার 
  4. ঘ) সংসার
ব্যাখ্যা
সংসার নিয়ম অনুযায়ী ব্যঞ্জনসন্ধি। 

বিশেষ নিয়মের উদাহরণ হলো :
সংস্কার = সম্ + কার
সংস্কৃত = সম্ + কৃত
পরিস্কার = পরি + কৃত
উত্থাপন = উৎ + স্থাপন
পরিষ্কৃত = পরি + কৃত
সংস্কৃতি =  সম্ + কৃতি
উত্থান = উৎ + স্থান 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা।
১৪.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক?
  1. ক) উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্ত অর্থদ্যোতকতা আছে
  2. খ) উপসর্গের অর্থদ্যোতকতা নেই কিন্ত অর্থবাচকতা আছে
  3. গ) উপসর্গের অর্থদ্যোতকতা নেই কিন্ত অর্থ পরিবর্তন করে
  4. ঘ) উপসর্গের অর্থদ্যোতকতা নেই কিন্ত অর্থ শব্দ নির্মাণ করে
ব্যাখ্যা
উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্ত অর্থদ্যোতকতা আছে। অর্থাৎ কোনো শব্দ বা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরা সংযুক্ত শব্দ বা পদের অর্থের নানারকম পরিবর্তন ঘটায়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১৫.
নিমরাজি শব্দটি নিম কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) কম
  3. গ) অর্ধ
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
এটি ফারসি উপসর্গ। এটি অর্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

নিম
- অর্ধেক অর্থে
- নিমরাজি, নিমমোলা।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৬.
কাজটি ভালো দেখায় না। - কোন ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক
  2. খ) কর্তৃবাচ্যের ধাতু
  3. গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) নাম ধাতু
ব্যাখ্যা
১. মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগ করে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়। এটি বাক্যে ব্যবহারের সময় বাক্যের ক্রিয়াপদকে অনুসরণ করে ব্যবহৃত হয়।
২. কাজটি ভালো দেখায় না।
৩. যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ
১৭.
কারক শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √কৃ + অক/ণক
  2. খ) √র্কা + অক/ণক
  3. গ) √কৃষ্ + অক/ণক
  4. ঘ) √কৃ + আরক
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ‘অক’ থাকলে অক/ণক (বিশেষ্য) হবে। 

প্রদত্ত শব্দ = প্রকৃতি ও প্রত্যয়    
কারক = √কৃ + অক/ণক    
রঞ্জক = √রন্জ্ + ই + অক/ণক
দর্শক = √দৃশ্ + অক/ণক    
নর্তক = √নৃৎ + অক/ণক

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।