পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
Exam - 39 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-8 Topic: • Temporary Injunction (Order-39) • Appointment of Receiver (Order-40) • Alternative Dispute Resolution (Sections 89A-89E) • Review (Sections 114 & Order-47) • Reference (Section 113) • Revision (Section 115)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ অনুসারে নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. অভিযুক্তের সম্পত্তি জব্দ করতে পারে।
  2. অভিযুক্তকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখতে পারে।
  3. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে বা আদেশের শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আদালত নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারে:
১. সম্পত্তি জব্দ (Attachment of Property):
বিধি ২(৩) অনুসারে, আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তির সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দিতে পারে আদালত।

২. কারাদণ্ড (Civil Imprisonment):
আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে আদালত।

৩. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি:
যদি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের পরও এক বছরের মধ্যে আদেশ পালন না হয়, তবে জব্দ করা সম্পত্তি বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

আদেশ ৩৯ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত – ১) সম্পত্তি জব্দ করতে পারে, ২) ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে, এবং ৩) প্রয়োজন হলে সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আপিলে মধ্যস্থতা
  2. আপিলে সাক্ষ্যগ্রহণ
  3. আপিলে ডিক্রির সংশোধন
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গ (Section 89C) আপিল আদালতে মধ্যস্থতার (mediation in appeal) বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি আদেশ ৪১ এর অধীন কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং তা মূল পক্ষগণ বা তাদের স্থলাভিষিক্তদের মধ্যে হয়, তাহলে আপিল আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে বা অন্য কারো মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে।
- এ ধারায় সাক্ষ্যগ্রহণ বা ডিক্রির সংশোধন সংক্রান্ত কোনো বিধান নেই।
- অতএব, একমাত্র সঠিক উত্তর হলো — ক) আপিলে মধ্যস্থতা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান আপিলে মধ্যস্থতা (Mediation in Appeal): যদি আদেশ ৪১ এর অধীনে মূল ডিক্রি হতে কোন আপিল দায়ের হয় এবং যদি একই পক্ষগণের বা মূল পক্ষগণের স্থলাভিষিক্ত পক্ষগণের মধ্যে উক্ত আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত উক্ত আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে অথবা আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এরূপ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আপিল আদালত প্রয়োজনীয় মনে করলে যতদূর সম্ভব ৮৯ক ধারার বিধানসমূহকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Mutatis Mutandis) সাপেক্ষে অনুসরণ করবে।
----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89C- Mediation in Appeal:
(1) An Appellate Court shall mediate in an appeal or refer the appeal for mediation in order to settle the dispute or disputes in that appeal, if the appeal is an appeal from original decree under Order XLI, and is between the same parties who contested in the original suit or the parties who have been substituted for the original contesting parties. 
(2) In mediation under sub-section (1), the provisions of section 89A shall be followed with necessary changes (mutatis mutandis) as may be expedient.
.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দিলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিকার কী?
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. নতুন মোকদ্দমা করা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ অনুসারে, যদি আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Temporary Injunction) আবেদন নামঞ্জুর করেন, তবে সেই আদেশটি "আদেশ" (Order) হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি আপীলযোগ্য (appealable order)।

⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। যদি আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করে তাহলে আপীল করা যাবে। কেননা দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুসারে এটি একটি আপীল যোগ্য আদেশ।

⇒  মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনার সময় আবেদনকারীকে কিছু বিষয় প্রমাণ করতে হবে–
(১) আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
(২) আবেদনকারী আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করবে যে অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি বলতে সেই ক্ষতিকে বুঝাবে যা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(৩) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেরে আদালত বিবেচনা করেন। তাই আবেদনকারীকে সুবিধা এবং অসুবিধার ভারসাম্য আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) জনস্বার্থে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা যায়। যা সাধারণত সরকারের বিপক্ষে করা হয়। সেই ক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিষয়টি কার্যকর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণের জন্য কোন বিধি প্রযোজ্য?
  1. আদেশ-৪০, বিধি-১
  2. আদেশ-৪০, বিধি-২
  3. আদেশ-৩৯, বিধি-১
  4. আদেশ-৪০, বিধি-৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০-এর অধীনে রিসিভারের নিয়োগ ও কর্তব্য নিয়ন্ত্রিত হয়।
- আদেশ ৪০-এর বিধি ১-এ রিসিভার নিয়োগ এবং তার ক্ষমতা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- আর রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান আছে আদেশ ৪০-এর বিধি ২-এ।
- এই বিধি অনুসারে, আদালত রিসিভারের সেবার জন্য পারিশ্রমিক সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারে।
- অন্য কোনো বিধিতে রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান নেই। তাই সঠিক উত্তর হলো আদেশ-৪০, বিধি-২।

- আদেশ ৪০ বিধি-২: পারিশ্রমিক: আদালত একটি সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা রিসিভারের কার্যের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারবে।
- Order 40 Rule-2: Remuneration: The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় Leave for Revision-এর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১১৫(৫) ধারায়
  2. ১১৫(৪) ধারায়
  3. ১১৫(৩) ধারায়
  4. ১১৫(২) ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫(৪) অনুযায়ী, Leave for Revision বা "রিভিশনের অনুমতি" সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
- এটি মূলত Second Revision এর সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে, জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক ধারা ১১৫(২) বা ১১৫(৩)-এর অধীনে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করা যায়, তবে একটি শর্তে, যদি হাইকোর্ট মনে করে যে ঐ আদেশে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ভুল হয়েছে যা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়েছে, তখনই হাইকোর্ট Leave (অনুমতি) দেবে এবং রিভিশনের আবেদন গ্রহণ করবে।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ (৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিলে গুরুত্বপূর্ণ আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনের অনুমতি মঞ্জুর করে সেই ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) অথবা (৩) এর অধীনে প্রদত্ত জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে দরখাস্ত করা যাবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ যেরূপ উপযুক্ত মনে করে মোকদ্দমা বা কার্য প্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-----------
⇒ Section 115(4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৫ক অনুসারে যদি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রার্থী পক্ষের বিপক্ষে যায় এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপক্ষ পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  2. ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  3. ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রার্থী পক্ষকে কারাদণ্ড দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক(৪) অনুসারে, যদি মামলার রায় সেই পক্ষের বিপক্ষে যায়, যার অনুরোধে আদালত অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা (ad interim or temporary injunction) দিয়েছিল; এবং দেখা যায়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপক্ষ পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে;
- তাহলে আদালত, মামলার রায় ঘোষণার সময়, বিপক্ষ পক্ষের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (compensatory cost) আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে।
- এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, চাইলে আরও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, তবে এই ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ তখনকার চূড়ান্ত হিসাবের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

- Order XXXIX – Rule 5A: (4) If the suit is ultimately decided against the party at whose instance the ad interim or temporary injunction was granted, and it appears that the other party has suffered loss due to such injunction,
→ The Court shall, while deciding the suit, award compensatory costs not exceeding ten thousand taka in favor of that other party, in addition to any other costs he may be entitled to.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯(ক) ধারা অনুযায়ী, আদালত কবে মধ্যস্থতার জন্য মামলা পাঠাতে পারেন?
  1. আরজি দাখিলের সময়
  2. লিখিত জবাব দাখিলের আগে
  3. লিখিত জবাব দাখিলের পর উভয় পক্ষ হাজির হলে
  4. বিচার্য বিষয় নির্ধারণের পর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯(ক) ধারায় বলা হয়েছে, লিখিত জবাব দাখিলের পর উভয় পক্ষ আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক শুনানি মুলতবি রেখে মধ্যস্থতা শুরু করতে পারেন।
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯(ক) অনুযায়ী যখন মোকদ্দমার উভয় পক্ষ (বাদী ও বিবাদী) লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালতে হাজির হয়, তখন আদালত শুনানি মুলতবি রেখে ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতার ব্যবস্থা করতে পারেন।
- এই সময় আদালত হয় নিজে মধ্যস্থতা করতে পারেন, অথবা একজন মধ্যস্থতাকারীর (Mediator) কাছে বিষয়টি পাঠাতে পারেন।
- এটি আদালতের জন্য একটি বাধ্যতামূলক করণীয় যাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা যায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে যে, লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ নিজে / আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয় তাহলে আদালত শুনানী মুলতবী রেখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
- মধ্যস্থতার ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে আদালত পরবর্তীতে ৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।
- মধ্যস্থতার সময় হবে ৬০ দিন তবে সর্বাধিক ৯০ দিনের বেশি নয়।

⇒ মধ্যস্থতার সংজ্ঞা (Definition of Mediation)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতার সংজ্ঞা রয়েছে। ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতা বলতে প্রসারিত অনানুষ্ঠানিক, অবাধ্যতামূলক, গোপনীয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং সমঝোতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী মীমাংসার কোন শর্তে নির্দেশ না করে কিংবা তৎসম্পর্কে কোন আদেশ না দিয়ে পক্ষগণের মধ্যকার বিরোধগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ করে দেন।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ অনুযায়ী, রিসিভারকে নিম্নলিখিত কোন ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে?
  1. মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা গ্রহণ
  2. সম্পত্তি উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন
  3. ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ ও প্রয়োগ
  4. উপরোক্ত সকল ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ (Order XL)-এর অধীনে রিসিভার (Receiver) নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
- আদেশ ৪০-এর বিধি অনুযায়ী, আদালত রিসিভারকে সম্পত্তি সংরক্ষণ, উন্নয়ন, মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা, ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ এবং সেগুলো ব্যবহারের মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করতে পারে, যা মালিক নিজে করতে পারতেন বা আদালত যেটুকু উপযুক্ত মনে করে। তাই উপরোক্ত সব ক্ষমতা রিসিভারকে দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ রিসিভার নিয়োগ:
১(১) যদি আদালতের নিকট এটি ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা—
(ক) যে কোনো সম্পত্তির (ডিক্রি প্রদানের পূর্বে বা পরে) রিসিভার নিয়োগ করতে পারে;
(খ) কোনো ব্যক্তিকে ঐ সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করতে পারে;
(গ) উক্ত সম্পত্তি রিসিভারের দখল, হেফাজত বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে; এবং
(ঘ) রিসিভারকে এমন সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা গ্রহণ, সম্পত্তি উদ্ধার, ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ, সেগুলোর প্রয়োগ ও ব্যয়, এবং দলিল সম্পাদন—যেমন মালিক নিজে করতে পারতেন, অথবা আদালত যেটুকু উপযুক্ত মনে করে সেই ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
১(২) এই বিধানের কিছুই আদালতকে কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রদান করে না, যদি না মামলার কোনো পক্ষ সেই ব্যক্তিকে বর্তমানে অপসারণ করার অধিকার রাখে।
২ পারিশ্রমিক: রিসিভারের সেবার জন্য আদালত সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারে।
--------------
The Code of Civil Procedure, 1908, Order XL – Appointment of Receivers:
1. Appointment of Receivers:
(1) Where it appears to the Court to be just and convenient, the Court may by order—
(a) appoint a receiver of any property, whether before or after decree;
(b) remove any person from the possession or custody of the property;
(c) commit the same to the possession, custody, or management of the receiver; and
(d) confer upon the receiver all such powers, as to bringing and defending suits and for the realization, management, protection, preservation, and improvement of the property, the collection of the rents and profits thereof, the application and disposal of such rents and profits, and the execution of documents as the owner himself has, or such of those powers as the Court thinks fit.
(2) Nothing in this rule shall authorise the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.

2. Remuneration of Receiver:
The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৬ অনুসারে, আদালত কোন পরিস্থিতিতে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি অবিলম্বে বিক্রির আদেশ দিতে পারে?
  1. যখন বাদী তা চায়।
  2. যখন সম্পত্তির উপর মোকদ্দমার খরচ মেটানো দায় থাকে।
  3. যখন সম্পত্তিটি দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল হয়।
  4. যখন সম্পত্তিটি আদালতের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যখন সম্পত্তিটি দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল হয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৬ অনুযায়ী, আদালত মামলা চলাকালীন কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে এমন অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে যা মোকদ্দমার বিষয়বস্তু, বা যা রায় ঘোষণার আগে ক্রোক (attach) করা হয়েছে, এবং যা দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত বা যেখানে ন্যায়সঙ্গত ও পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে অবিলম্বে বিক্রয়ের। আদালত নিজ বিবেচনায় বিক্রয়ের পদ্ধতি, শর্ত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও নির্ধারণ করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৬ এর বিধান অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা (Power to order interim sale):
- কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকলে অথবা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকলে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায় সঙ্গত এবং যথেষ্ট কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করার প্রয়োজন হয়, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেন।
⇒ আদেশ ৩৯ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর আগে শুনানীকাল পর্যন্ত বা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যে আদেশ দেওয়া হয় তাঁকে ad interim injunction order বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ বলা হয়।
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর পর দরখাস্তের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দিতে হয়, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরখাস্তের গুণাগুণ যাচাইয়ের দরকার পড়ে না, বরং পরিস্থিতি খুবই জরুরি হলে এই আদেশ দেওয়া যায়।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-39 Rule-6. Power to order interim sale:
- The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movable property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.
১০.
দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৪০, বিধি ৫ অনুসারে কোন ক্ষেত্রে কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়?
  1. যে ভূমির জন্য সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয়
  2. যে ভূমির রাজস্ব মুক্ত করা হয়েছে
  3. যে ভূমির রাজস্ব বরাদ্দ করা হয়েছে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার-৪০, বিধি-৫ অনুসারে, কালেক্টরকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করা যায় এমন ভূমির ক্ষেত্রে যেগুলো নিম্নলিখিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত:
- যে ভূমির জন্য সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয় (Revenue-paying land to the Government)।
- যে ভূমির রাজস্ব বরাদ্দ করা হয়েছে (Land of which the revenue has been assigned)।
- যে ভূমির রাজস্ব মুক্ত করা হয়েছে (Land of which the revenue has been redeemed)।
এছাড়া, আদালতকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যে কালেক্টরের ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের স্বার্থ রক্ষিত হবে। তবে, কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগের জন্য কালেক্টরের সম্মতি প্রয়োজন।

⇒ অর্ডার-৪০, বিধি-৫ অনুযায়ী, যদি ভূমিটি সরকারের কাছে রাজস্ব প্রদান করে অথবা যার রাজস্ব রিডিম (মুক্ত) বা বরাদ্দ (অ্যাসাইন) করা হয়ে থাকে, এবং আদালত মনে করে যে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য কালেক্টরের ব্যবস্থাপনা দরকার, তখন আদালত কালেক্টরকে সেই ভূমির রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারে। তাই রাজস্ব প্রদেয়, রাজস্ব মুক্ত বা বরাদ্দকৃত যে কোনো ভূমির ক্ষেত্রে কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়। এজন্য সঠিক উত্তর “উপরের সবগুলো”।

⇒ Order-40 Rule-5.When Collector may be appointed receiver:
Where the property is land paying revenue to the Government, or land of which the revenue has been assigned or redeemed, and the Court considers that the interest of those concerned will be promoted by the management of the Collector, the Court may, with the consent of the Collector, appoint him to be receiver of such property.
১১.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-৩ক অনুসারে যদি নোটিশ ফেরত আসে, তবে নোটিশ পুনরায় প্রেরণের জন্য কত দিনের সময়সীমা নির্ধারিত আছে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৩ক (Rule 3A) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যদি আদালত কর্তৃক প্রেরিত নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পরিষেবা ছাড়াই ফেরত আসে, তাহলে সেই নোটিশ আদালতে ফেরত আসার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে আদালতকে আবার পাঠানোর নির্দেশ দিতে হবে।
- এই পুনরায় পাঠানো নোটিশ আদেশ ৫-এর বিধি ২০ অনুসারে সম্পাদিত হবে এবং এটি বৈধ সার্ভিস (due service) হিসেবে গণ্য হবে।

- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ- XXXIX, বিধি- ৩ক এর বিধান:
বিধি-৩ক এ বলা হয়েছে: "Any notice directed to be served under rule 3 shall be returned, with or without service, to the Court within seven days of issuance; and if the notice is returned without service, the Court shall cause the notice to be served again within seven days thereof in accordance with the provision of rule 20 of Order V, so far as may be applicable, and such service shall be deemed as due service of the notice."

- বিধি ৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ, তা প্রদান করা হোক বা না হোক, জারির ৭ দিনের মধ্যে আদালতে ফেরত দিতে হবে।
যদি নোটিশ প্রদান না করে ফেরত আসে (অর্থাৎ, বিপক্ষ পক্ষের কাছে পৌঁছানো না যায়), তবে আদালত নোটিশটি পুনরায় প্রেরণের ব্যবস্থা করবে, এবং এই পুনঃপ্রেরণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
পুনরায় প্রেরণের ক্ষেত্রে, আদেশ-৫, বিধি-২০ এর বিধান অনুসরণ করা হয়, যতদূর প্রযোজ্য। এই পুনঃপ্রেরিত নোটিশের প্রদানকে যথাযথ প্রদান হিসেবে গণ্য করা হয়।
১২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪৭ বিধি-৭ অনুসারে, রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশের বিরুদ্ধে কী করা যায়?
  1. আপিল দাখিল করা যায়
  2. রিভিশন দাখিল করা যায়
  3. নতুন রিভিউ আবেদন করা যায়
  4. কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৪৭, বিধি ৭ এর বিধান অনুসারে, রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপিলযোগ্য নয়, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে রিভিশন দাখিল করতে পারেন। এর বিপরীতে, যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা যায়।
- ৪৭ আদেশ ৪ বিধি এর বিধান যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র অগ্রাহ্য হয়: আদালত যদি মনে করেন রিভিউ এর যথেষ্ট কারণ আছে তাহলে তা মঞ্জুর করতে এবং যদি মনে করেন যথেষ্ট কারণ নেই তাহলে তা না-মঞ্জুর করতে পারেন।
- ৪৭ আদেশ ৭ বিধি এর বিধান প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপিলযোগ্য নয় ; আবেদন মঞ্জুর করার আদেশে আপত্তি: রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে তবে রিভিউ আবেদন না মঞ্জুর করলে রিভিশন চলবে।

- দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর অধীনে, কোনো আদালতের আদেশে যদি এখতিয়ারের অপব্যবহার বা আইনগত ভ্রান্তি থাকে, তবে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দাখিল করা যায়। রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে, যদি আবেদনকারী মনে করেন যে আদালত ভুলভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বা বিধি ১ বা বিধি ৪ এর শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে (যেমন, হাইকোর্ট বিভাগ) এর প্রতিকার চাইতে পারেন।

- রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ: রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। তবে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর অধীনে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দাখিল করতে পারেন, যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে আদালতের আদেশে আইনগত ভ্রান্তি বা এখতিয়ারের অপব্যবহার হয়েছে।
- রিভিউ আবেদন মঞ্জুরের আদেশ: যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা যায়, বিশেষ করে যদি আবেদন মঞ্জুর অর্ডার ৪৭, বিধি ১ বা বিধি ৪ এর বিধান লঙ্ঘন করে দেওয়া হয়। এই আপিল সাধারণত উচ্চতর আদালতে দাখিল করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-১ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন মঞ্জুর করা হয়?
  1. মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে
  2. শুধুমাত্র জমি সংক্রান্ত বিরোধে
  3. বিবাদী ঋণ পরিশোধ করলে
  4. নালিশী সম্পত্তি নষ্ট বা হস্তান্তরের ঝুঁকি থাকলে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। বিধি ১ অনুযায়ী যখন নালিশী সম্পত্তি কোন পক্ষ কর্তৃক ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্থ বা হস্তান্তরিত হওয়ার বা কোন ডিক্রি জারিমূলে অন্যায়ভাবে বিক্রি হতে পারে, অথবা বিবাদী যখন পাওনাদারকে বঞ্চিত, প্রতারিত করার জন্য তার সম্পত্তি হস্তান্তর করার হুমকি প্রদান করে বা ইচ্ছা পোষণ করে, তখন আদালত উক্ত নালিশী সম্পত্তি ধ্বংসকরণ, ক্ষতিগ্রস্থকরণ, হস্তান্তর, নিলাম, বিক্রয়, অপসারণ বা সমর্পণ স্থগিত করার উদ্দেশ্যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে বা আদালত কর্তৃক যেরূপ উপযুক্ত বিবেচিত হবে সেরূপ আদেশ দিতে পারেন।

- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ অনুযায়ী, আদালত তখন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন যখন প্রমাণ হয় যে নালিশী সম্পত্তি নষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত, হস্তান্তরিত, বা ভুলভাবে বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, অথবা বিবাদী তার সম্পত্তি লুকিয়ে ফেলছে বা বিক্রি করে পাওনাদারকে প্রতারিত করতে চাচ্ছে। এইরূপ পরিস্থিতিতে আদালত সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-২:
১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।
২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।
৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয়মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।
৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।

১৪.
দেওয়ানি মামলায় রিভিউ আবেদনের সর্বোচ্চ সময়সীমা কতদিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী রিভিউ (Review) বলতে বোঝায় আদালতের নিজস্ব ডিক্রি বা আদেশের বিচারিক পুনর্বিবেচনা। রিভিউ সংক্রান্ত সময়সীমা নির্ধারিত আছে Limitation Act, 1908-এর প্রথম তফসিলে।
- এই আইনের অধীনে রিভিউ আবেদনের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন, যা ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে গণনা করা হয়।

⇒ যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।

উদাহরণস্বরূপ, যদি সহকারী জজ ১ জুলাই রায় দেন, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবে। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে আবেদন তামাদি বলে গণ্য হবে, যদি না যথাযথ কারণে বিলম্ব মাফ চাওয়া হয় (ধারা ৫ অনুযায়ী)।
 তাই, দেওয়ানি মামলায় রিভিউ আবেদনের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ৯০ দিন, এবং সঠিক উত্তর: গ) ৯০ দিন।
১৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ কখন পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে?
  1. মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত
  2. আদালতের পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত
  3. নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত
  4. 'ক' অথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির (Code of Civil Procedure) আদেশ-XXXIX, বিধি-১ এবং বিধি-২ এর বিধান অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের কার্যকর থাকার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত, অথবা আদালতের পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত – আদালত চাইলে যেকোনো সময় নিষেধাজ্ঞা বাতিল, পরিবর্তন বা স্থগিত করতে পারে।

আদেশ- XXXIX, বিধি- ১ এর বিধান:
- বিধি- ১ এ বলা হয়েছে:
"The Court may by order grant a temporary injunction to restrain such act, or make such other order for the purpose of staying and preventing the wasting, damaging, alienation, sale, removal or disposition of the property as the Court thinks fit, until the disposal of the suit or until further orders."
অর্থাৎ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত এমন আদেশ দিতে পারে যা সম্পত্তির ক্ষতি, নষ্ট, হস্তান্তর বা বিক্রয় রোধ করবে।
- এই নিষেধাজ্ঞা মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, যেটি আদালত উপযুক্ত মনে করে।

আদেশ- XXXIX, বিধি- ২(২) এর বিধান:
- বিধি- ২(২) এ বলা হয়েছে: "The Court may by order grant such injunction, on such terms, as to the duration of the injunction, keeping an account, giving security or otherwise, as the Court thinks fit."
অর্থাৎ বিধি- ২ এর অধীনে, আদালত চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোনো ক্ষতি রোধ করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে।
- এই নিষেধাজ্ঞার সময়কাল আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে, এবং এটি সাধারণত মামলার নিষ্পত্তি বা আদালতের পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৩৯, রুল ২(৩) (Order 39, Rule 2(3) of CPC) অনুসারে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ ভঙ্গের শাস্তি নিম্নরূপ:
- সম্পত্তি ক্রোক (Attachment of Property), অথবা
- সিভিল কারাবাস (Civil Imprisonment), যার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৬ মাস, অথবা
- উভয় দণ্ড (ক্রোক + কারাবাস)।
- অতএব, দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৬ মাসের কারাদণ্ড।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-২(৩) অনুসারে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি হলো: সম্পত্তি ক্রোক অথবা উক্ত অমান্যকারীকে ৬ মাস দেওয়ানী কারাবাসে আটক অথবা উভয় প্রকার দণ্ড প্রদান করতে পারেন। 
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে হয় ৩৯ আদেশের ১ এবং ২ (১) বিধির অধীন। ৩৯ আদেশের ১ বা ২(১) বিধির অধীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করলে তা যদি অমান্য করা হয় সেই ক্ষেত্রে অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ৩৯ আদেশের ২(৩) বিধির অধীন মামলা করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে আদালত অমান্যকারীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিতে পারে বা দেওয়ানী কারাগারে অনধিক ৬ মাস আটকের আদেশ দিতে পারে ।
- মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-১ বা বিধি-২ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পিটিশন দাখিল করতে হয়।
১৭.
পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে আদালত সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ২১ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ক অনুযায়ী, যদি লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত মামলাটি মধ্যস্থতার জন্য পাঠান এবং পক্ষগণ ১০ (দশ) দিনের মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নিজে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

- অর্থাৎ পক্ষগণ যদি মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে না পারে, তাহলে আদালত বাধ্যতামূলকভাবে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section: 89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, রিভিউ বা পুনর্বিচারের আবেদন করার বৈধ কারণ (গ্রাউন্ড) মোট কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৪ অনুসারে, একজন ব্যক্তি যদি সংক্ষুব্ধ (aggrieved) হন, তাহলে তিনি ৩টি নির্দিষ্ট কারণে রিভিউ বা পুনর্বিচারের আবেদন করতে পারেন।
- সেই ৩টি গ্রাউন্ড হলো:
১. যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে এই আইনমতে আপিল করা যায়, কিন্তু আপিল করা হয়নি।
২. যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে এই আইনমতে কোনো আপিল করা যায় না।
৩. স্বল্প-এখতিয়ার আদালতের রেফারেন্স অনুযায়ী গৃহীত আদালতের প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে।
তবে, উক্ত ব্যক্তি ডিক্রি বা আদেশদানকারী আদালতের নিকট এর রায় পুনর্বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবে এবং আদালত তৎসম্পর্কে যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী এই ৩টি গ্রাউন্ডে রিভিউ বা পুনর্বিচারের আবেদন করা যায়। 
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 114. Review:
- Subject as aforesaid, any person considering himself aggrieved:
(a) by a decree or order from which an appeal is allowed by this Code, but from which no appeal has been preferred, 
(b) by a decree or order from which no appeal is allowed by this Code, or 
(c) by a decision on a reference from a Court of Small Causes 
may apply for a view of judgment to the Court which passed the decree or made the order, and the Court may make such order thereon as it thinks fit.
১৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, সহকারী জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন কে নিষ্পত্তি করেন?
  1. জেলা জজ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. যুগ্ম জেলা জজ
  4. সিনিয়র সহকারী জজ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী, যদি কোন আদেশ যেটির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান না থাকে, সেটি সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদান করা হয়, তখন সেই আদেশ সংশোধনের জন্য রিভিশন আবেদন জেলা জজ আদালতে করা হয়। জেলা জজ সেই আদেশের নথি তলব করে, ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ও আইনগত ভুল থাকলে আদেশ সংশোধন করে। তাই সহকারী জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন নিষ্পত্তির দায়িত্ব জেলা জজের।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫(২) এ উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, বা সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান না থাকে, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত মোকদ্দমার নথি তলব করতে পারে।
- জেলা জজ আদালত এই আদেশ বা ডিক্রিতে আইনগত ভ্রান্তি বা এখতিয়ারের অপব্যবহার পরীক্ষা করে এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা সংশোধন করতে পারে।
- তবে, ধারা ১১৫(৩) অনুসারে, জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে হস্তান্তর করতে পারেন, এবং তখন অতিরিক্ত জেলা জজের জেলা জজের মতো একই ক্ষমতা থাকবে।
- যদি জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের রিভিশন আদেশে আইনগত ভ্রান্তি থাকে, তবে ধারা ১১৫(৪) অনুসারে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন।
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।
৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।
২০.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় সালিশ (Arbitration) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১১৫
  2. ধারা ৮৯ক
  3. ধারা ৮৯খ
  4. ধারা ৮৯গ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯খ-এ সালিশ (Arbitration) সংক্রান্ত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, আদালত মোকদ্দমার পক্ষগণের সম্মতিতে বিরোধীয় বিষয় সালিশের (arbitration) মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং সালিশ আইন, ২০০১ অনুসারে সেই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

- ৮৯খ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত কোন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধীয় বিষয়টি সালিশের নিকট পাঠাতে পারেন এবং এই জন্য মোকদ্দমার পক্ষগণ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দিবেন।
- তারপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে হবে অর্থাৎ কোন বিরোধ সালিশে (Arbitration) পাঠানো হলে তা সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।
- তবে এই ক্ষেত্রে কোন কারণে সালিশ অনুষ্ঠিত না হলে বা সালিশের রোয়েদাদ প্রদত্ত না হলে উক্ত মোকদ্দমাটি পক্ষগণ পুনঃদাখিল করতে পারবেন।
- সর্বশেষ ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির বিকল্প বিরোধ সংক্রান্ত বিধানগুলো (ধারা-৮৯ক থেকে ৮৯ঙ) সংশোধন করা হয়।
- এছাড়া ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা কোনো দেওয়ানী মামলায় একজন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
২১.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯ক ধারার বিধান অনুযায়ী, মধ্যস্থতা কার্যক্রম কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়?
  1. ৩০ দিন, সর্বোচ্চ ৬০ দিন
  2. ৬০ দিন, সর্বোচ্চ ৯০ দিন
  3. ৭৫ দিন, সর্বোচ্চ ১০০ দিন
  4. ৯০ দিন, সর্বোচ্চ ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯(ক) অনুসারে মধ্যস্থতা (Mediation) সংক্রান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে স্পষ্টভাবে।
- মূল সময়সীমা: মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরুর দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
- বর্ধিত সময়সীমা: যদি উপযুক্ত কারণ থাকে, তাহলে আদালতের অনুমতিক্রমে সময়সীমা আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
- মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তা শেষ করা বাধ্যতামূলক।
- সঠিক উত্তর: খ) ৬০ দিন, সর্বোচ্চ ৯০ দিন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section: 89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
২২.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, কীসের ভিত্তিতে আদালত কোনো মামলা হাইকোর্টে রেফারেন্স হিসেবে পাঠাতে পারে?
  1. আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে
  2. কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে
  3. হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে
  4. 'ক' অথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬, বিধি ১ অনুসারে, কোনো আদালত যদি মনে করে যে বিচারাধীন মামলায় আইন বা আইনের রীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে আদালত স্ব-প্রণোদিতভাবে (own motion) অথবা কোনও পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের অভিমতের জন্য রেফারেন্স করতে পারে।
- সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেরণকারী আদালতকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা আদেশ দিতে পারে।
- অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ) 'ক' অথবা 'খ'।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ নং আদেশে রেফারেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
- ৪৬ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী আপিল-অযোগ্য ডিক্রির মামলার বিচার পর্যায়ে বা আপিলে অথবা উক্ত ডিক্রি জারি করার সময়, আইন বা আইনের ন্যায় বলবৎ কোন রীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সৃষ্টি হলে, উক্ত মামলার বিচারকারী আদালত বা আপিল আদালত অথবা ডিক্রি জারিকারক আদালত, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারে।
- রেফারেন্স প্রেরণকারী আদালত রেফারেন্স প্রেরণ করা সত্ত্বেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রসর হতে পারে কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ প্রেরিত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন।
- ৪৬ নং আদেশের ৫ নং বিধি অনুযায়ী অধীনস্ত যে আদালত হাইকোর্টে রেফারেন্সের জন্য কোন বিষয় পাঠাবে, সেই বিষয়ে উক্ত আদালত কর্তৃক দেওয়া ডিক্রি/আদেশ হাইকোর্ট বিভাগ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে অথবা যে কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
- ৪৬ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে ক্ষুদ্র বিষয়ক এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করার বিধান রয়েছে। ৬ নং বিধি অনুযায়ী যেক্ষেত্রে মামলা ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে বিচারার্থে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে উক্ত সন্দেহের কারণ সম্বলিত একটি বিবৃতিসহ হাইকোর্ট বিভাগে একটি নথি দাখিল করতে পারে।
২৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারা এবং আদেশে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখিত আছে?
  1. ধারা-১১৫ এবং অর্ডার-৪৮
  2. ধারা-১১৪ এবং অর্ডার-৪৭
  3. ধারা-১১৪ এবং অর্ডার-৪৫
  4. ধারা-১২০ এবং অর্ডার-৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে রিভিউ (পুনর্বিচার) সংক্রান্ত বিধান ধারা ১১৪ এবং অর্ডার ৪৭-এ উল্লেখিত আছে।
- ধারা ১১৪: রিভিউ করার অধিকার সম্পর্কে সাধারণ বিধান দেয়।
- অর্ডার ৪৭: রিভিউ পিটিশনের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী এবং প্রয়োগের বিস্তারিত নিয়ম উল্লেখ করে।

⇒ রিভিউ (Review) বলতে বোঝায় আদালত কর্তৃক তারই প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের বিচারিক পুনঃপর্যালোচনা।
দেওয়ানি কার্যবিধিতে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান দুটি জায়গায় রয়েছে:

⇒ ধারা ১১৪: এই ধারায় উল্লেখ আছে, আদালত নিজেই তার ডিক্রি বা আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করতে পারে, যদি—
- ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলযোগ্য হলেও আপিল না করা হয়,
- ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলযোগ্য না হয়,
- ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতের রেফারেন্সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

⇒ অর্ডার ৪৭: এখানে রিভিউ আবেদনের নিয়মাবলি ও ভিত্তি উল্লেখ আছে। রিভিউ করা যাবে নিম্নোক্ত ৩টি কারণে—
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কৃত হলে,
- মামলার রেকর্ডে ভুল বা ভ্রান্তি থাকলে,
- অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকলে।
- তাই রিভিউ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ এবং অর্ডার ৪৭-এ।
২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার উপধারা (১২) অনুযায়ী, পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত যে আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে -
  1. আপিল ও রিভিশন উভয়ই করা যাবে
  2. আপিল করা যাবে কিন্তু রিভিশন করা যাবে না
  3. রিভিশন করা যাবে কিন্তু আপিল করা যাবে না
  4. আপিল বা রিভিশন কোনোটিই করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গ(১২) (Section 89C(12)) অনুযায়ী, যদি পক্ষগণের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি হয় এবং সেই ভিত্তিতে আদালত কোনো আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করে, তাহলে সেই আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিশন করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান: উপধারার-১২: এই ধারা অনুসারে নিস্পত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
--------------
 The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89A(12): No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য সম্পত্তি জব্দের সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ২ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ২(৪) অনুযায়ী বলা হয়েছে: “No attachment under this rule shall remain in force for more than one year…”
অর্থাৎ, এই বিধির আওতায় কোনো সম্পত্তি ১ বছরের বেশি সময় জব্দ রাখা যাবে না।
-  যদি এক বছরের মধ্যে আদেশ পালন না হয়, তবে আদালত জব্দকৃত সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারে এবং বিক্রয়ের অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।

- আদেশ XXXIX, বিদ্ধি- ২(৪) এ বলা হয়েছে:
- "No attachment under this rule shall remain in force for more than one year, at the end of which time, if the disobedience or breach continues, the property attached may be sold, and out of the proceeds the Court may award such compensation as it thinks fit, and shall pay the balance, if any, to the party entitled thereto."

- অর্থাৎ এই বিধি অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে বা লঙ্ঘন করে, তবে আদালত তার সম্পত্তি জব্দ করতে পারে। জব্দকৃত সম্পত্তি সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত জব্দ অবস্থায় থাকতে পারে।
- এক বছরের পর, যদি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তবে আদালত জব্দকৃত সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে। বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে আদালত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে এবং বাকি অর্থ (যদি থাকে) সম্পত্তির মালিককে ফেরত দেওয়া হবে।
 
অর্থাৎ সম্পত্তি জব্দের সর্বোচ্চ সময়সীমা = ১ বছর
- ১ বছরের মধ্যে আদেশ মানা না হলে → বিক্রয় করে ক্ষতিপূরণ।
- তাই সঠিক উত্তর: খ) ১ বছর। 
২৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে, সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন দেওয়া যাবে না?
  1. সরকারি আইনজীবীকে নোটিশ না দিয়ে এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে।
  2. যদি নিষেধাজ্ঞা উন্নয়ন কর্মসূচীতে হস্তক্ষেপ করে।
  3. যদি নিষেধাজ্ঞা জনস্বার্থে ক্ষতিকর হয়।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৫ক (Order-39, Rule-5A) অনুসারে, সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে একতরফা (ex parte) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে:
- সরকারি আইনজীবীকে নোটিশ না দিয়ে এবং তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে।
- যদি উক্ত নিষেধাজ্ঞা উন্নয়ন কর্মসূচী বা উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- যদি উক্ত নিষেধাজ্ঞা জনস্বার্থে ক্ষতিকর হয়।
এই তিনটি শর্তই পূরণ না করলে আদালত একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারবে না।

অর্থাৎ প্রশ্নে উল্লেখিত তিনটি শর্তই একতরফা নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার কারণ হিসেবে আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক-তে বলা আছে, তাই উত্তর হবে: “উপরের সবগুলো”।

Order-39 Rule-5A. No order of ad interim or temporary injunction without hearing the opposite party:
(1) Court shall not, without serving reasonable notice to the Government Pleader and giving him or any Pleader authorised by him in that behalf an opportunity of being heard, pass ex parte any order of ad interim or temporary injunction under any of the aforesaid rules of this Order at the instance of a private party against the Government or any statutory public authority, if such order is likely to prejudice or interfere with any measure designed to implement any development programme, or any development work or otherwise harm public interest.

(2) The Court shall, in all cases where a private party makes an application for ad interim or temporary injunction against another private party, direct notice of the application to the opposite party, unless it appears that the object or granting the injunction would be defeated by the delay.

(3) If any order of ad interim or temporary injunction is passed ex-parte at the instance of a private party against another private party, the Court shall hear and dispose of the matter on merit within seven days of appearance of the opposite party, unless the period is extended further at the instance of the opposite party; and any such order of ad interim or temporary injunction shall stand vacated, if the party at whose instance it was passed, prays for adjournment, or on being called upon by the Court, fails to attend hearing.
২৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে, যদি একটি আপিলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা না হয়, তবে কী করা যায়?
  1. রিভিশন দাখিল করা যায়
  2. রেফারেন্সের আবেদন করা যায়
  3. নতুন মোকদ্দমা দাখিল করা যায়
  4. কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষ সময়মতো বা কাঙ্ক্ষিতভাবে আপিল দাখিল না করে, তখন সেই ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধিতে দ্বিতীয়বার আপিলের সুযোগ নেই, তাই রিভিশন হলো সেই ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। অন্য  অপশন যেমন নতুন মোকদ্দমা বা রিভিউ এই পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য নয়। তাই সঠিক পদক্ষেপ হলো রিভিশন দাখিল করা।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুসারে, যদি একটি আপিলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা না হয় এবং সেই ডিক্রিতে আইনগত ভ্রান্তি বা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা থাকে, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিশন দাখিল করতে পারে। 
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এ উল্লেখ আছে যে, রিভিশন দাখিল করা যায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান নেই।
- যে ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য হলেও আপিল দাখিল করা হয়নি।
- যদি ডিক্রি বা আদেশে আইনগত প্রশ্নে ভ্রান্তি বা এখতিয়ারের অপব্যবহার হয়, যার ফলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হয়।
এই ক্ষেত্রে, সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালতে (যে আদালতের এখতিয়ারের অধীনে মোকদ্দমা পড়ে) রিভিশন দাখিল করতে পারে। রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালত নিম্নতর আদালতের আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে সংশোধন বা যথাযথ আদেশ প্রদান করে।
২৮.
দেওয়ানী মোকদ্দমা চলাকালে আদালত যেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিষয়বস্তু বা সম্পত্তির উপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখেন, তার নাম কী?
  1. Mandatory Injunction
  2. Prohibitory Injunction
  3. Perpetual Injunction
  4. Temporary Injunction
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী মোকদ্দমা চলাকালে যদি আদালত মনে করেন যে মামলার বিষয়বস্তু (যেমন, কোনো জমি, বাড়ি, সম্পত্তি ইত্যাদি) বিবাদী দ্বারা বিক্রি, হস্তান্তর, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তখন স্থিতিবস্থা (status quo) বজায় রাখার জন্য আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) প্রদান করেন। - এটি দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ অনুসারে জারি হয়।

Temporary Injunction (অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা): এটি এমন এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা, যা মামলার শুনানির আগ পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে। মোকদ্দমা চলাকালীন, যদি কোনো পক্ষ মামলার বিষয়বস্তুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে বা সম্পত্তি হস্তান্তর, পরিবর্তন বা ধ্বংস করার আশঙ্কা থাকে, তখন আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়।

অন্যদিকে,
Perpetual Injunction (চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা): এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর ডিক্রির মাধ্যমে দেওয়া হয় এবং এতে বিবাদীকে চিরতরে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয় যা বাদীর অধিকারের পরিপন্থী।
Mandatory Injunction: এটি এক ধরনের আদেশ যা কোনো কাজ করতে বিবাদীকে নির্দেশ দেয়, যেমন সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
Prohibitory Injunction: এটি এমন আদেশ যেখানে কাউকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, তবে এটি সাধারণভাবে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী উভয় ধরণের নিষেধাজ্ঞার একটি উপশ্রেণী হতে পারে।
২৯.
আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক এর অধীনে, একটি একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদানের পর, অপরপক্ষের হাজির হওয়ার তারিখ থেকে শুনানি ও নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো একতরফাভাবে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তাহলে অপরপক্ষ হাজির হওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে আদালতকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে, যদি অপরপক্ষ চায়, তাহলে আদালত সময় বাড়াতে পারে।
অতএব, সর্বোচ্চ সময়সীমা: ৭ দিন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক এর বিধান অপর পক্ষের শুনানি ছাড়া অন্তবর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না:
- কোন আদালত সরকারি আইনজীবীর উপর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) জারি না করে এবং তাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করে বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে কোন একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবে না, যদি অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কোন উন্নয়ন কর্মসূচী বা কর্ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিষ্ট বা হস্তক্ষেপ করার আশু সম্ভাবনা থাকে বা অন্যভাবে জনস্বার্থে অনিষ্টকর হয়।
- কোন বেসরকারি পক্ষ অন্যকোন বেসরকারি পক্ষের বিপক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত করলে আদালত নোটিশ ছাড়া তা মঞ্জুর করবে না, তবে দেরীর কারণে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ব্যাহত হলে সেক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া যাবে।
- যদি বে-সরকারি পক্ষের অনুরোধ অপর বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদত্ত হয়, তাহলে অপর পক্ষের হাজির হওয়ার তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
- যে পক্ষের অনুরোধে অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয় সেই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং দেখা যায় যে এরূপ নিষেধাজ্ঞার জন্য অন্যপক্ষের ক্ষতিসাধন হয়েছে তাহলে আদালত, অন্যপক্ষ যে খরচ পাবে তার অতিরিক্ত অনধিক ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ অনুমোদন করবেন।
----------
Order-39 Rule-5A.
(3) If any order of ad interim or temporary injunction is passed ex-parte at the instance of a private party against another private party, the Court shall hear and dispose of the matter on merit within seven days of appearance of the opposite party, unless the period is extended further at the instance of the opposite party; and any such order of ad interim or temporary injunction shall stand vacated, if the party at whose instance it was passed, prays for adjournment, or on being called upon by the Court, fails to attend hearing.
৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী, যদি সহকারী জজ রায় প্রদান করেন, তবে রিভিউ আবেদন কোথায় দাখিল করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. সহকারী জজের আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও অর্ডার ৪৭ অনুযায়ী, রিভিউ আবেদন করতে হয় সেই আদালতেই, যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে। অর্থাৎ, আদালত নিজেই তার রায়/আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা রাখে।
- যদি সহকারী জজ রায় প্রদান করেন, তবে সেই রায়ের রিভিউ আবেদনও সহকারী জজের আদালতেই দাখিল করতে হবে, অন্য কোনো উচ্চতর আদালতে নয়। রিভিউয়ের এখতিয়ার একমাত্র থাকে রায়দাতা আদালতের হাতে, আপিলের মত উচ্চতর আদালতে নয়।

- উল্লিখিত প্রশ্নে সহকারী জজ রায় দিলে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত সহকারী জজের নিকট রিভিউ আবেদন করতে হবে।
৩১.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশে (Order) Reference সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে?
  1. আদেশ-৪৭
  2. আদেশ-৪৬
  3. আদেশ-৪৫
  4. আদেশ-৪০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪৬ (Order XLVI)-এ Reference সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান রয়েছে।
- এই আদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো মামলা বা আপিলের শুনানির সময় বা ডিক্রি কার্যকর করার সময় আইনগত কোনো প্রশ্ন বা usage having the force of law বিষয়ে সংশয় দেখা দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালত তা স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে বা পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশনে রেফারেন্স পাঠাতে পারে।

এছাড়া আদেশ ৪৬-এ আরও বলা হয়েছে: 
- হাইকোর্ট রেফারেন্সকৃত মামলার আইনি প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেবে।
- রায় বা আদেশ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।
- ক্ষুদ্র বিষয়ে এখতিয়ার নিয়ে সন্দেহ হলে হাইকোর্টে পাঠানো যাবে।