পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৩ টপিক: ২. পদ্য: খ) কিরাতার্জুনীয়ম (১ম সর্গ) কবি পরিচিতি, কাব্যের উৎস, নামকরণ, বিষয়বস্তু, কাহিনি, চরিত্রসমূহ ও অন্যান্য। উৎস: ৯ম ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কালিদাস
  2. ভারবি
  3. ভামহ
  4. ভাস
ব্যাখ্যা

 কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের রচয়িতা হলেন ভরবি (Bharavi)। তিনি উত্তর-শাস্ত্রীয় যুগের মহাকবি। তাঁর সাহিত্যকীর্তি একমাত্র এই মহাকাব্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও কীরাতার্জুনীয়ম তাঁকে অমর করে রেখেছে। ভরবি কাব্যের নিখুঁত শব্দকৌশল, অলঙ্কার এবং গাম্ভীর্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

.
ভারবি কোন রাজবংশের সভাকবি ছিলেন?
  1. গুপ্ত বংশ
  2. পল্লব বংশ
  3. হোয়সলা বংশ
  4. চালুক্য বংশ
ব্যাখ্যা

অনেক পণ্ডিতের মতে ভরবি চালুক্য বংশীয় রাজা বিক্রমাদিত্য-এর সভাকবি ছিলেন। এই রাজসভায় তাঁর সাহিত্য প্রতিভার বিশেষ কদর ছিল। তবে এ তথ্য সম্পূর্ণভাবে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু সাহিত্য ও ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি প্রচলিত।

.
ভরবির কাব্যশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অলঙ্কারসর্বস্বতা
  2. রসসর্বস্বতা
  3. কৌতুকপ্রধানতা
  4. লঘু ও সরলভাষা
ব্যাখ্যা

ভরবির কাব্যশৈলীতে অলঙ্কারসর্বস্বতা স্পষ্ট। বিশেষত শ্লেষ, উপমা, অনুপ্রাস ও শব্দকৌশলের নিপুণ প্রয়োগ তাঁর কবিতাকে গম্ভীর ও মহিমান্বিত করেছে। এজন্য তাঁকে অনেক সময় "শব্দশক্তির কবি" হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

.
ভরবিকে কোন অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ "কাব্যগাম্ভীর্যপ্রধান" কবি বলেছেন?
  1. মম্মট
  2. ভামহ
  3. আনন্দবর্ধন
  4. রাজশেখর
ব্যাখ্যা

অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ মম্মট তাঁর কাব্যপ্রকাশ গ্রন্থে ভরবিকে "গাম্ভীর্যপ্রধান কবি" বলেছেন। কারণ ভরবির কবিতায় অর্থগভীরতা ও দার্শনিকতার ছাপ স্পষ্ট। তাঁর বাক্যগঠন কঠিন হলেও অর্থগভীরতা পাঠককে আকৃষ্ট করে।

.
ভরবির কবিত্বের জন্য কোন উপাধি প্রচলিত?
  1. কাব্যসম্রাট
  2. কবিচক্রবর্তী
  3. শব্দশক্তির কবি
  4. রসকবি
ব্যাখ্যা

ভরবিকে শব্দশক্তির কবি বলা হয়। তাঁর কবিতার মূল আকর্ষণ রস নয়, বরং শব্দের কারুকার্য ও অলঙ্কারের ব্যবহার। তিনি শব্দকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যে তার থেকে নতুন নতুন অর্থের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

.
ভরবির সাহিত্য রচনার পরিমাণ কতখানি?
  1. একাধিক মহাকাব্য
  2. বহু নাটক
  3. কেবল একটি মহাকাব্য
  4. গীতিকাব্য ও মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

ভরবির সাহিত্যকীর্তি মূলত একটিই – কীরাতার্জুনীয়ম মহাকাব্য। তবে এই একটিই তাঁকে সংস্কৃত সাহিত্যের অমর কবিদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। এই মহাকাব্য শব্দশক্তি ও কাব্যকৌশলে অনন্য উদাহরণ।

.
ভরবির কবিতায় কোন রসের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে বেশি?
  1. শৃঙ্গার রস
  2. বীর রস
  3. হাস্য রস
  4. করুণ রস
ব্যাখ্যা

ভরবির কাব্যে প্রধানত বীর রসের প্রকাশ দেখা যায়। কারণ কীরাতার্জুনীয়ম মূলত অর্জুন ও শিবের বীরোচিত সংঘর্ষের কাহিনি। শ্লোকগুলিতে শক্তি, মহিমা ও গাম্ভীর্যই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

.
ভরবির সাহিত্যিক উত্তরাধিকার নিয়ে সঠিক উক্তি কোনটি?
  1. তিনি প্রাচীন বৈদিক কবি
  2. তিনি নাট্যধারার প্রবর্তক
  3. তিনি প্রথম অলঙ্কারশাস্ত্র রচয়িতা
  4. তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের সর্বশেষ মহান কবি
ব্যাখ্যা

ভরবিকে প্রায়শই সংস্কৃত সাহিত্যের শেষ মহান কবি বলা হয়। তাঁর পরবর্তী যুগে যদিও মঘ প্রমুখ কবি আবির্ভূত হয়েছেন, তবে ভরবির মতো গাম্ভীর্য ও কাব্যকৌশল আর কারো মধ্যে পাওয়া যায়নি।

.
ভরবির কবিত্বশক্তি সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. তিনি কেবল সরল ভাষা ব্যবহার করেছেন
  2. তাঁর কবিতা অলঙ্কারশূন্য
  3. তিনি গভীর দার্শনিকতা প্রকাশ করেছেন
  4. তিনি কেবল শৃঙ্গার রসেই পারদর্শী
ব্যাখ্যা

ভরবির কবিত্বশক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হল গভীর দার্শনিকতা। তাঁর কবিতায় রাজনৈতিক তত্ত্ব, নীতি, সমাজদর্শন ও মানবজীবনের গভীর উপলব্ধি ধরা পড়ে। এজন্য তাঁর কাব্য শুধু কাহিনীমূলক নয়, চিন্তামূলকও।

১০.
ভারবি কোন কাব্যধারায় শ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন?
  1. মহাকাব্য
  2. নাট্যকাব্য
  3. চূটিকাব্য
  4. স্তুতিকাব্য
ব্যাখ্যা

কবি ভারবি মূলত মহাকাব্যধারায় সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। তাঁর কীরাতার্জুনীয়ম মহাকাব্য এর উজ্জ্বল প্রমাণ।

১১.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের মূল কাহিনি কোন প্রাচীন মহাকাব্যিক উৎস থেকে নেওয়া?
  1. ভাগবত
  2. রামায়ণ
  3. মহাভারত
  4. পুরাণসমূহ
ব্যাখ্যা

কীরাতার্জুনীয়মের কেন্দ্রীয় কাহিনী—অর্জুন ও কীরাতের (বনবিদ্যস্ত শিবের অবতার) সংঘাত ও শিবের প্রদত্ত পাশুপতাস্ত্র লাভ—মহাভারতের প্রচলিত কাহিনীর একটি অংশ থেকে নেয়া। ভরবী বিষয়টিকে মহাকাব্যাকারে সংক্ষেপ না রেখে গভীরভাবে প্রসারিত করে, আখ্যানকে কাব্যশৈলীতে রূপ দেন। তিনি মূল ঘটনা ধরে রেখে বহু অলঙ্কার, বর্ণনা ও নৈতিক-দার্শনিক উপসর্গ যোগ করেন যাতে কাহিনি মহাকাব্যীয় স্তর পায়। ফলে মূল উৎসের উপাদান থাকলেও কীরাতার্জুনীয়ম নিজে স্বাধীন কাব্যরূপে আত্মপ্রকাশ করে।

১২.
শিরোনাম "কীরাতার্জুনীয়ম" শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
  1. কীরাত এবং অর্জুনের সম্পর্কিত কাব্য
  2. কীর্তি-অর্জন নামক দেবতা
  3. কীর্তিমানের অর্জুনের কাহিনি নয়
  4. কীরাত ও অর্জুন দুই আলাদা কাব্য
ব্যাখ্যা

শিরোনামের দু’টি উপাদান—“কীরাত” (শিকারি/শিবের বনবেশ) ও “অর্জুনীয়” (অর্জুন সম্পর্কিত)—মিলিয়ে কীরাতার্জুনীয়ম মানে হচ্ছে কীরাত ও অর্জুনের সম্পর্কিত ঘটনা বা কাহিনি। শিরোনাম থেকেই পাঠককে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে কাব্যটি একটি নির্দিষ্ট দ্বন্দ্ব ও তার পরিণতির উপর ভিত্তি করে। ভরবী এই নাম বেছে নিয়েছেন যাতে পাঠক প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় ঘটনা জানেন এবং কাব্যের গাম্ভীর্য ও বীরত্ববোধ আন্দাজ করতে পারেন।

১৩.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের কেন্দ্রীয় দৃশ্য কোনটি?
  1. অর্জুনের শিষ্যত্ব গ্রহণ
  2. অর্জুন ও কীরাত (শিব)-এর দ্বন্দ্ব/যুদ্ধ
  3. রাজ্যদখল সম্পর্কিত শাশ্বত বিবাদ
  4. অর্জুন ও ছদ্মবেশীর-এর দ্বন্দ্ব/যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

কাব্যের মূল দৃশ্য হচ্ছে অর্জুন ও বনবেশী কীরাতের মধ্যে তীব্র লড়াই—যা পরে প্রকাশ পায় যে কীরাত আসলে শিবের অবতার। এই সংঘর্ষ শুধুমাত্র বাহ্যিক যুদ্ধ নয়; তা অর্জুনের পরিশ্রম, ধৈর্য, ভক্তি ও আত্মপরীক্ষার প্রতীক। লড়াইয়ের শেষে অর্জুনের ভক্তি ও যোগ্যতা যাচাই করে শিব তাঁকে পাশুপতাস্ত্র প্রদান করেন। ভরবী যুদ্ধের বর্ণনায় শক্তিশালী ভাষা ও অলঙ্কার ব্যবহার করে ঘটনাটিকে মহিমান্বিত করেছেন।

১৪.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্য কোন ধরণের সাহিত্যশৈলীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. কাব্য
  2. মহাকাব্য 
  3. ছন্দবদ্ধ সংহতি
  4. ছোট গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

কীরাতার্জুনীয়ম একটি পূর্ণাঙ্গ মহাকাব্য—অর্থাৎ দীর্ঘ, শ্লোকভিত্তিক ও বহুবিধ অলঙ্কার ও রূপকধর্মী কাব্য। মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্য হিসেবে আছে পাঠ্যবহুল বর্ণনা, নৈতিক ও দার্শনিক আঙ্গিক, নানাবিধ অনুচ্ছেদ (সর্গ) এবং নায়ক-কেন্দ্রিক রচনার বিস্তৃতি—এসবই ভরবীর রচনাকে মহাকাব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁকে অন্যান্য মহাকাব্যিক কাব্যকারদের সঙ্গে তুলনা করে পাঠ্য-পর্যায়ে উচ্চাকাঙ্খী কাব্যকৌশলের নমুনা হিসেবে দেখা হয়।

১৫.
ভরবীর কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যে মোট কতটি সর্গ (অধ্যায়/চরণ) আছে—ঐতিহ্যগতভাবে গণ্য?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৮টি
  4. ৩৬টি
ব্যাখ্যা

ঐতিহ্যগত গ্রন্থানুসারে ভরবীর কীরাতার্জুনীয়মে মোট আঠারো (১৮) সর্গ রয়েছে। প্রতিটি সর্গে একাধিক শ্লোকের মাধ্যমে ঘটনা ও বর্ণনা প্রসারিত হয়। আঠারো সর্গের বিন্যাস বহু মহাকাব্যিক রচনায় প্রচলিত একটি কাঠামো—যা কাব্যকে পর্যায়ক্রমে পরিব্যাপ্ত করতে সহায়ক। প্রতিটি সর্গে আলাদা-আলাদা উপদৃষ্টান্ত, যুদ্ধবর্ণনা বা নৈতিক সংলাপ ধরা পড়ে, ফলে কাব্যটির সামগ্রিক আখ্যান-তরঙ্গ সুসংহত থাকে।

১৬.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্য সাধারণত কোন ঐতিহাসিক/সাহিত্যিক যুগের প্রতিনিধিত্ব করে বলে ধরা হয়?
  1. বৈদিক যুগ
  2. মধ্যযুগীয় বাংলা যুগ
  3. গুপ্ত ও পরবর্তী (উত্তর-শাস্ত্রীয়) যুগ
  4. আধুনিক কালের সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

ভরবীর কাব্যকে সাধারণত গুপ্ত-কালের পরে দাঁড়ানো উত্তর-শাস্ত্রীয় (post-Gupta / কласিক-পরবর্তী) যুগের সাহিত্যধারার অংশ মনে করা হয়। এই পর্যায়ে কাব্যিক রীতিতে অলঙ্কার, শব্দকৌশল ও গাম্ভীর্য অধিক প্রাধান্য পায়। ভরবীর রচনাশৈলী—শব্দের সৌন্দর্য, কঠোর বাক্যগঠন ও প্রাচুর্য—এই যুগের বৈশিষ্ট্যগুলোর সঙ্গে খাপ খায়। তাই কীরাতার্জুনীয়মকে উত্তর-শাস্ত্রীয় কাব্যরীতির উজ্জ্বল নমুনা বলা হয়।

১৭.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের যে সাহিত্যগত গুণটির জন্য বিশেষ খ্যাতি, সেটি কোনটি?
  1. সরল ভাষা ও সহজ পাঠ্যতা
  2. কেবল মাত্র কাব্যিক রস প্রধান
  3. বহু-রহস্যমূলক অলৌকিক ঘটনা
  4. শব্দশৈলী-শক্তি ও গাম্ভীর্য 
ব্যাখ্যা

ভরবীর রচনা-শৈলীকে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি দিয়েছে তাঁর শব্দশক্তি ও গম্ভীরতা—অর্থাৎ সূক্ষ্ম শব্দচয়ন, জটিল বাক্যরচনা ও অলঙ্কারের দত্তক। তিনি সরলতা অনুরাগী নন; বরং ভাষাকে কাব্যিকভাবে উৎকর্ষ করে এক ধরণের উচ্চাঙ্গ কাব্যিক গরিমা তৈরি করেছেন। ফলে কীরাতার্জুনীয়ম পাঠে পাঠকের জন্য বহুবার পুনঃপাঠ প্রয়োজন হয়, অথচ প্রতিবারই নতুন অর্থ ও রূপক উন্মোচিত হয়।

১৮.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের শেষে অর্জুন কোন মোক্ষম পুরস্কার/অস্ত্র লাভ করে বলে বর্ণিত?
  1. পাশুপতাস্ত্র
  2. সৌরাস্ত্র
  3. দ্যুতি কীর্তি
  4. ব্রহ্মাস্ত্র না পাওয়া
ব্যাখ্যা

কীরাতার্জুনীয়মে অর্জুন শিব-কীরাতকে পরাজিত করার পরে তাঁর ভক্তি ও যোগ্যতা দেখে শিব-পাশুপতি (পাশুপতাস্ত্র) দেবেন। এই অস্ত্র মহাশক্তিশালী এবং অর্জুনের যুদ্ধদক্ষতাকে নবউৎকৃষ্ট করে। কাহিনীর নৈতিক অংশও এটাই—বীরত্ব দু’চরণে নয়, সৎউদ্দীপনা, ধৈর্য ও ভক্তি মিলেই দেবতাদের অনুগ্রহ লাভ হয়। ভরবী এই পরিণতি কাব্যরূপে সুচারুরূপে উপস্থাপন করেছেন।

১৯.
কীরাতার্জুনীয়ম কেন সংস্কৃত সাহিত্যের মধ্যে উচ্চমানের রচনারূপে গৃহীত হয়েছে?
  1. কারণ এটি সরল ও জনসাধারণের জন্য লিখিত
  2. কারণ এতে প্রচুর অলৌকিক ঘটনা আছে
  3. কারণ এতে ভাষাগত দক্ষতা, অলঙ্কার ও দার্শনিক-গাম্ভীর্য অনন্যভাবে মেশানো আছে
  4. কারণ এটি খুব সংক্ষিপ্ত ও সহজ অনুকরণযোগ্য
ব্যাখ্যা

কীরাতার্জুনীয়মকে উচ্চমানের রচনারূপে বিবেচনা করা হয় কারণ ভরবী ভাষাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন—অলঙ্কার, ঘটমান রূপক ও গভীর অর্থবোধক চিত্রায়ন মিশে কাব্যটিকে সাহিত্যের শিখরে তুলে ধরে। এতে কেবল কাহিনি নেই; আছে নৈতিক, দার্শনিক ও রীতিমতো কাব্যতাত্ত্বিক খনিজ। অনেক শাস্ত্রবিদ ও সমালোচক ভরবীর এই কাব্যকৌশলকে প্রশংসা করেছেন এবং কীরাতার্জুনীয়মকে শিক্ষণীয় কাব্য হিসাবে বিবেচনা করেন।

২০.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যে অর্জুন কেন তপস্যা করেছিলেন?
  1. রাজ্যলাভের জন্য
  2. অস্ত্রপ্রাপ্তির জন্য
  3. ধনসম্পদ অর্জনের জন্য
  4. যশলাভের জন্য
ব্যাখ্যা

অর্জুন তপস্যা করেছিলেন শত্রুদের দমন করার জন্য দেবতার কাছ থেকে অজেয় অস্ত্র পাওয়ার উদ্দেশ্যে। মহাভারতের কাহিনি অনুযায়ী, দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভর-পরবর্তী সময়ে দ্রৌপদী-অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্পে তিনি দেবতাদের পূজা করেন। ভরবী এই তপস্যাকে মহাকাব্যিক মহিমা দিয়ে বর্ণনা করেছেন, যেখানে যোগ, ধৈর্য, বীরত্ব এবং ভক্তির সমন্বয় ফুটে উঠেছে।

২১.
কাব্যটির প্রথম সর্গে শূকর নিহত হওয়ার পর তার মৃত্যু কোন ঘটনার সূচনা করে?
  1. অর্জুনের বিজয়যাত্রা
  2. পার্বতীর অভিশাপ
  3. ভীমের প্রবেশ
  4. অর্জুন ও কীরাতের তর্ক ও সংঘাত
ব্যাখ্যা

শূকর নিহত হওয়ার পর কীরাত ও অর্জুন উভয়েই দাবি করেন যে তাঁদের তীরেই শূকর নিহত হয়েছে।
এই দাবি-প্রত্যাদানের ফলে তীব্র তর্ক শুরু হয়।
তর্ক থেকে ধীরে ধীরে শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
এই যুদ্ধই প্রথম সর্গের প্রধান নাটকীয় মুহূর্ত।
অতএব শূকরের মৃত্যু ঘটনাপ্রবাহের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২২.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের প্রধান নায়ক হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. শিব
  2. দ্রৌপদী
  3. কৃষ্ণ
  4. অর্জুন
ব্যাখ্যা

যদিও শিব এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, তবুও কাব্যের নায়ক অর্জুন। কারণ তাঁরই বীরত্ব, তপস্যা, ধৈর্য এবং ভক্তির কাহিনিই মূল কেন্দ্রে রয়েছে। মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নায়কের গুণাবলী ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাই মূল উপজীব্য হয়—যা অর্জুনকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২৩.
ভরবীর কীরাতার্জুনীয়ম কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা?
  1. ভক্তি ও প্রেম
  2. হাস্য ও কৌতুক
  3. বীরত্ব ও তপস্যা
  4. কৃষিজীবন
ব্যাখ্যা

কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের মূল সুর হলো বীরত্ব ও তপস্যা। অর্জুনের যোগ-অনুশীলন, ধ্যান, শারীরিক শক্তি এবং শিবের সঙ্গে যুদ্ধের দৃশ্য বীর রসের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটায়। একইসঙ্গে তাঁর ধৈর্য, ভক্তি ও একাগ্রতা—তপস্যার ফলাফল হিসেবে—দেবতার অনুগ্রহ অর্জনের পথ তৈরি করে।

২৪.
কীরাতার্জুনীয়ম কোন দিক থেকে অন্যান্য সংস্কৃত মহাকাব্যের চেয়ে ভিন্ন?
  1. এতে শব্দকৌশল ও গাম্ভীর্যের বিশেষ প্রয়োগ আছে
  2. এতে কোনো দেবতার উপস্থিতি নেই
  3. এতে হাস্যরস প্রধান
  4. এতে কোনো যুদ্ধ নেই
ব্যাখ্যা

 ভরবীর কীরাতার্জুনীয়ম বিশেষভাবে পরিচিত শব্দশক্তি ও গাম্ভীর্যের জন্য। কালিদাসের কাব্যে রসপ্রধানতা বেশি থাকলেও ভরবীর কাব্যে গাম্ভীর্য, দার্শনিকতা এবং শব্দের কৌশলী বিন্যাস মুখ্য। এজন্য এটিকে পাঠ করা কঠিন হলেও বিদগ্ধ পাঠকের কাছে এর সাহিত্যমান অমূল্য।

২৫.
কীরাতার্জুনীয়ম-এ কীরাত চরিত্রের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. অর্জুনকে অপমান করা
  2. অর্জুনকে শিকার শেখানো
  3. অর্জুনের তপস্যা ও শক্তির পরীক্ষা নেওয়া
  4. অর্জুনকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা
ব্যাখ্যা

কীরাত চরিত্র আসলে শিবের ছদ্মবেশ।
এর মূল উদ্দেশ্য অর্জুনের ধৈর্য, শক্তি, বীরত্ব ও আধ্যাত্মিক সাধনার দৃঢ়তা পরীক্ষা করা।
শিব অর্জুনকে ‘পাশুপতাস্ত্র’ দেওয়ার আগে তাঁর যোগ্যতা যাচাই করতে চান।
এই কারণেই কীরাত ও অর্জুনের সংঘাত সৃষ্টি হয়।
অতএব কীরাত চরিত্র দেব-পরীক্ষার প্রতীক।

২৬.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যে ভরবী মূলত কোন ধরণের কাব্যধারা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. রসধারা
  2. নীতিকাব্যধারা
  3. ভক্তিকাব্যধারা
  4. অলঙ্কারধারা
ব্যাখ্যা

ভরবীর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য অলঙ্কারধর্মিতা। তিনি নানা শ্লেষ, অনুপ্রাস, উপমা, রূপক প্রভৃতির নিপুণ প্রয়োগ করেছেন। এজন্য তাঁর কাব্য কঠিন মনে হলেও তা শিক্ষিত ও বিদগ্ধ পাঠকের কাছে মহামূল্যবান। কীরাতার্জুনীয়ম অলঙ্কারধারার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

২৭.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের সাহিত্যিক গুরুত্ব কী?
  1. এটি সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম কাব্য
  2. এটি মহাকাব্যের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ নিদর্শন
  3. এটি কেবল ধর্মকাব্য
  4. এটি কেবল কৃষ্ণভক্তিকাব্য
ব্যাখ্যা

ভরবীর কীরাতার্জুনীয়মকে প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের শেষ দিকের পূর্ণাঙ্গ মহাকাব্য হিসেবে ধরা হয়। কালিদাস, ভামহ প্রমুখের পরে ভরবী মহাকাব্যের ধারাকে আরও উন্নত শৈলীতে রূপ দেন। তবে তাঁর পরবর্তী যুগে মহাকাব্যের ধারা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে আসে।

২৮.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যে অর্জুনের চরিত্রকে কোনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. দুর্বল ও নির্ভরশীল
  2. ভীরু ও অলস
  3. বীর, ধৈর্যশীল ও ভক্তিমান
  4. কৌতুকপ্রবণ
ব্যাখ্যা

অর্জুনের চরিত্র ভরবীর কাব্যে বীরত্ব, ধৈর্য ও ভক্তির সমন্বয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি কঠিন তপস্যার মাধ্যমে দেবতার কৃপা অর্জন করেন এবং শিবের সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্ব দেখান। এই দ্বৈত গুণাবলিই তাঁকে মহাকাব্যের প্রকৃত নায়ক করে তুলেছে।

২৯.
কীরাতার্জুনীয়ম কাব্যের নৈতিক শিক্ষা কী?
  1. অর্থই সর্বস্ব
  2. অহংকারে পতন হয়
  3. ভক্তি, তপস্যা ও বীরত্বের মাধ্যমে দেবতার অনুগ্রহ লাভ হয়
  4. কেবল কৌতুকই জীবন
ব্যাখ্যা

কাব্যের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো—ধৈর্য, ভক্তি ও বীরত্ব মিলেই সাফল্যের পথ তৈরি করে। অর্জুন অহংকারে নয়, বরং কঠোর সাধনায় দেবতার কৃপা অর্জন করেন। শিবের প্রদত্ত পাশুপতাস্ত্র প্রমাণ করে যে দেবতার অনুগ্রহ পেতে হলে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভরবী এই নৈতিকতাকে কাব্যশৈলীতে অনন্যভাবে প্রকাশ করেছেন।

৩০.
কীরাতার্জুনীয়ম প্রথম সর্গের মূল প্রেক্ষাপট (স্থাপন) কোথায়?
  1. সমতল ক্ষেত্র
  2. শহুরে অশোকবন
  3. উচ্চ পাহাড়ি অরণ্য (পর্বতমালা)
  4. কোনও রাজপ্রাসাদ
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে কাব্যকার পাঠককে সরাসরি উচ্চতর পাহাড়ি বনভূমিতে নিয়ে যান।
পাহাড়, গুহা, ঝর্ণা ও জঙ্গলের বর্ণনায় প্রাকৃতিক দৃশ্যের গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে।
এ ধরণের প্রেক্ষাপট অর্জুনের তপস্যা ও দেবতার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য উপযোগী হিসেবে চিত্রিত।
পাহাড়ি পরিবেশ দেবতাতাত্ত্বিক উপস্থিতি এবং আধ্যাত্মিক কঠোরতা বোঝাতে সাহায্য করে।
অতএব কাহিনীর মানসপট ও নাটকীয় উত্তেজনা এখানে পাহাড়ি অরণ্যেই গঠিত হয়।

৩১.
প্রথম সর্গে অর্জুন কেন সেই অরণ্যে তপস্যা করছিলেন?
  1. রাজ্যপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে
  2. কেবল বন্যজীবন শিকারের জন্য
  3. গৌরব-চর্চার জন্য
  4. দেবতা থেকে মহা-অস্ত্র প্রাপ্তির জন্য
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে অর্জুনের তপস্যার লক্ষ্য ছিল দেবতার কাছ থেকে বিশেষ শক্তিশালী অস্ত্র বা অনুকূল শক্তি লাভ করা।
মহাকাব্যে সেটা পরবর্তী ঘটনাগুলোতে স্পষ্ট হয়—অস্ত্রই তাঁর যুদ্ধজীবনে অত্যন্ত প্রয়োজন।
ভরবী তপস্যার দৃশ্য বিশদভাবে লিখে অর্জুনের মনোসংকল্প ও স্থিতধৈর্য দেখান।
তপস্যার চিত্রায়নে ঔপাসনিক ভঙ্গি ও বীরত্বের মিল লক্ষ্য করা যায়।
এই উদ্দেশ্যই কাহিনীর যোগ্যতা ও পরবর্তী সংঘাতের ভিত্তি তৈরি করে।

৩২.
কীরাতার্জুনীয়ম প্রথম সর্গে ঘটনাটিকে তরজমা দেয় এমন কোন প্রাণীর আবির্ভাব হলো প্রথম বিমূর্ত উত্তেজনার কারণ?
  1. বাঘ
  2. বন্য শূকর 
  3. সিংহ
  4. গাছের পাখি
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে হঠাৎ করে একটি বন্য শূকর মঞ্চে এসে পড়ে, যা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
শূকরটিকে দু’জনেই লক্ষ্য করে—অর্জুন ও বনবেশী কীরাত (শিকারি/শিবের ছদ্মবেশ)।
এই প্রত্যাশাহীন প্রাণীর আগমন দিয়েই কাহিনীর আলোচ্য সংঘাত সঞ্চালিত হয়।
শূকর–দৃশ্যটি ভ্রমণ, শিকার ও দ্বন্দ্বের মিলান হিসেবে রচনা করা হয়েছে।
এবং সেটিই পরে দুই চরিত্রের মধ্যে বিতন্ডা ও লড়াইয়ের সূত্রপাত করে।

৩৩.
কী কারণে অর্জুন ও কীরাতের মধ্যে কথার দ্বন্দ্ব/সংঘাত শুরু হয়?
  1. দু’জনেই একসঙ্গে শূকরকে তীর করায়—মৃত্যুর মালিকানা নিয়ে টক্কর হয়
  2. কীরাত অর্জুনকে অপমান করে বলে
  3. কীরাত রাজ্যদখলের দাবি করে
  4. অর্জুন ভুলে সঠিক শিকারকেই নামায় না
ব্যাখ্যা

ঘটনাস্থলে দু’জনেই একই শূকরকে লক্ষ্য করে তীর বর্শণ করে এবং উভয়ের তীর প্রায় একসাথে লাগে।
পরে শূকর কার তীরের ফলে মারা গেল—এই নিয়ে মালিকানা কিংবা শিকার-অধিকার নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়।
এই সাধারণ শিকারদ্বন্দ্বই কাব্যে ধ্রুব নাটকীয়তা সৃষ্টি করে এবং যুদ্ধে পরিণত হয়।
ভরবী এ দ্বন্দ্বকে কাব্যিকভাবে প্রসারিত করে নৈতিক, ভক্তিমূলক ও বীরত্বগত দিক প্রদর্শন করেন।
এভাবেই সহজ ঘটনার মধ্যেই নায়ক-পরীক্ষা ও দেবতার পরীক্ষার প্রবাহ তৈরি হয়।

৩৪.
কীরাত (শিকারি) চরিত্রের বহির্ব্যক্ত চিত্রণটি প্রথম সর্গে কেমনভাবে করা আছে?
  1. রাজকীয় মালাবিহীন বরং সরল ও বনজীবী চেহারা—জটাজট কেশ, ভস্মাবৃত শরীর, চামড়ার পোশাক ও ধনুক-মলট
  2. সুসজ্জিত রাজকীয় পোশাক ও মর্যাদাপূর্ণ
  3. নগ্ন ও শিশুসুলভ
  4. নগর জীবনের চিপসিল
ব্যাখ্যা

ভরবী কীরাতকে বনবেশী শিকারি-রূপে বিশদভাবে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি জটাজট কেশ ও ভস্মাবৃত দেহে, কঠোর আবহে ধনুক হাতে দেখিয়েছেন।
চামড়ার পোশাক ও কুষ্ঠ-জল প্রভৃতি বনজীবীর চিহ্ন চরিত্রকে প্রকৃত বনবাসীর মতো করে তোলে।
এই বহির্ব্যক্তি পাঠককে জানায় যে তিনি সাধারণ লোক নন—শিবের ছদ্মরূপে দেবত্বের সম্ভাবনা আছে।
চিত্রণটি কাহিনীকে মিস্টিক ও পরীক্ষামূলক করে তুলেছে।

৩৫.
শূকর-বিষয়ক বিতণ্ডা পরবর্তীতে অর্জুন কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান?
  1. শান্তভাবে বিতর্ক মিটিয়ে নেন
  2. পালিয়ে যান
  3. দেবতাকে ডাকেন
  4. অবিলম্বে যুদ্ধের পক্ষে ঝাঁপ দিয়ে যান—তরৎ প্রস্তুত ও তীক্ষ্ণ কর্তব্যবোধ দেখান
ব্যাখ্যা

অর্জুন বিতর্কে বাক্যতর্কে থামেন না; তিনি তৎক্ষণাত রণবীর হিসেবে উঠেন।
প্রথম সর্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া হলো দক্ষতা ও তৎপরতা; লড়াইয়ের জন্য নিজের অস্ত্র সাজান।
ভরবী অর্জুনের তীক্ষ্ণ যৌদ্ধিক মনোভাব ও মনোবল বিস্তার করে দেখান।
এই সিদ্ধান্তই কাহিনীকে যুদ্ধে নিয়ে যায় এবং অর্জুনের বীরত্ব প্রদর্শন শুরু করে।
এতে তাঁর তপস্যার দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ পায়।

৩৬.
ভরবীর প্রথম সর্গে প্রকৃতি ও পরিবেশ বর্ণনা প্রধানত কীভাবে প্রতীয়মান?
  1. কোমল ও আলোকসজ্জিত প্রেমময়ী
  2. বিরাট, গাম্ভীর্যপূর্ণ ও রাগান্বিত—যুদ্ধোৎপন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করে
  3. দৈনন্দিন নগর জীবনের নৈমিত্তিক চিত্র
  4. কেবল হালকা হাস্যরসাত্মক
ব্যাখ্যা

ভরবীর ভাষ্যে পাহাড়, ঝর্ণা, বন ও আকাশ সবকিছুই বিশাল ও গতিশীলভাবে চিত্রিত হয়েছে।
তারা কেবল সৌন্দর্য নয়—একধরনের ভীতিকর ও মহিমাময় আবহ সৃষ্টিতে সহায়ক।
এই ঠাণ্ডা, ভয়ঙ্কর পরিবেশ অর্জুনের তপস্যার কঠোরতা ও সংঘাতের পাঠ্যভিত্তি গড়ে তোলে।
পাঠককে প্রাকৃতিক দৃশ্য মধ্য দিয়ে মানসিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
অতএব বর্ণনা গাম্ভীর্যপূর্ণ ও নাটকীয়।

৩৭.
ভাষিক/কাব্যিক দিক থেকে প্রথম সর্গে ভরবীর কোন কৌশল সর্বাধিক লক্ষ্যযোগ্য?
  1. সরল, ছন্দময় কথ্যশৈলী
  2. নাটকীয় সংলাপের আধিক্য
  3. প্রাঞ্জল উপহারমূলক নিদর্শন
  4. গভীর অলঙ্কার ও শব্দকৌশল—জটিল সমাস ও রূপক প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

ভরবীর বিশেষত্ব হল তাঁর অলঙ্কারপ্রধান কাব্যশৈলী—শব্দের খেলায় অর্থের গভীরতা সৃষ্টি করা।
প্রথম সর্গে জটিল সমাস, অনুপ্রাস, উপমা ও রূপক ইত্যাদি ব্যবহার করে দৃশ্য-চিত্রকে শৈল্পিক মাত্রা দিয়েছেন।
এই কৌশল পাঠকে তাত্ত্বিকভাবে ভাবতে বাধ্য করে এবং বহুবার পুনঃপাঠের আবেদন রাখে।
তাই এখানে সরল বর্ণনার বদলে উচ্চশৈলী ও কঠিন শব্দবিন্যাস লক্ষ্য করা যায়।
এবং সেটাই কীরাতার্জুনীয়মকে শিক্ষিত পাঠকের জন্য মূল্যবান করে তোলে।

৩৮.
প্রথম সর্গে অর্জুন ও কীরাতের মধ্যকার লড়াই কীভাবে শেষ হয় (অথবা কী ধরনের পরিণতিতে পৌঁছায়)?
  1. অর্জুন সহজে জয়ী হন এবং কীরাত পালায়
  2. কীরাত অচল হয়ে পড়ে—তাৎক্ষণিক পরাজয় ঘটে
  3. দু’জনে আলাপ করে বন্ধ করে দেয়
  4. লড়াই দীর্ঘ ও তীব্র হয়; কোনো নির্ধারক জয় ঘটে না—ঘটনাটির পর দেবীয় অনুপ্রকাশের संकेत ধীরে ধীরে আসে
ব্যাখ্যা

ভরবী প্রথম সর্গে লড়াইকে দীর্ঘ ও নাটকীয়ভাবে চিত্রিত করেছেন; তা সহজ সমাধিতে পৌঁছায় না।
যুদ্ধের তীব্রতা ও দক্ষতার প্রদর্শনে দু’পক্ষই শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয়।
এই অনির্ণীত লড়াই পরে দেবতার উপস্থিতি বা আবির্ভাবের প্রস্তুতি রূপে কাজ করে।
সুতরাং প্রথম সর্গে দৃশ্যটি উত্তেজনাপূর্ণভাবে ক্ষণস্থায়ী জয়ের বদলে ব্যাপক ক্লাইম্যাক্সের দিকে ধাবিত করে।
এটি পরবর্তী সর্গে দেবতা-প্রকাশ ও পুরস্কার-প্রাপ্তির জন্য মঞ্চ তৈরী করে।

৩৯.
প্রথম সর্গে যে নৈতিক/আধ্যাত্মিক প্রতিপাদ্য সবচেয়ে জোর করে উপস্থাপিত হয়েছে তা কোনটি?
  1. ধন-সম্পদ অর্জনই সার্থকতা
  2. ত্রুটিমুক্ত কূটচালাই জীবনের পথ
  3. তপস্যা, ধৈর্য ও নৈতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেবতার পরীক্ষা ও অনুগ্রহ অর্জন
  4. কেবল শিকারই জীবনের লক্ষ্য
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে অর্জুনের তপস্যা ও তার ফলস্বরূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার থিমটি ব্যাপকভাবে প্রতীয়মান।
ভরবী দেখান যে বীরত্ব কেবল বাহ্যিক যুদ্ধ নয়—মানসিক দৃঢ়তা, ধৈর্য ও ভক্তিও সমানভাবে জরুরি।
শূকর-দৃশ্য ও লড়াই ইদানীং ওই আধ্যাত্মিক পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবেই কাজ করে।
কাব্যটি পাঠককে জানায় যে দেবতাদের অনুগ্রহ অর্জন করার পথে পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য।
এবং প্রথম সর্গে সেই নৈতিক শিক্ষা সূচিত করা হয়—বাকি ফল পরবর্তী সর্গে প্রকাশ পায়।

৪০.
কীরাতার্জুনীয়ম প্রথম সর্গে অর্জুনকে কেমন সাধক-রূপে দেখানো হয়েছে?
  1. বিলাসী রাজপুত্র
  2. দুঃখকাতর ভিক্ষুক
  3. কঠোরতর তপস্বী যিনি ভোগত্যাগী
  4. সাধারণ শিকারি
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে অর্জুন রাজ্যচিন্তা ছেড়ে কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন।
তিনি অরণ্যে বসে অনাহারে, উপবাসে এবং ভোগ-বিলাস বর্জন করে দেবতাকে আহ্বান করছেন।
ভরবী তাঁকে আত্মনিয়ন্ত্রণে দৃঢ়, ধৈর্যশীল ও উচ্চমনস্ক হিসেবে বর্ণনা করেন।
অর্জুনের এই সাধক-রূপই দেবতার পরীক্ষার যোগ্যতা তৈরি করে।
তপস্যার গাম্ভীর্য কাব্যের মূল সুর স্থাপন করে।

৪১.
প্রথম সর্গে কীরাতের (শিবের) ভাষাশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সরল ও স্নিগ্ধ
  2. কেবল হাস্যরসাত্মক
  3. অতিরিক্ত প্রশংসামূলক
  4. ব্যঙ্গাত্মক ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ
ব্যাখ্যা

কীরাত প্রথমে অর্জুনকে হেয় করে এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করেন।
তাঁর ভাষায় বিদ্রুপ, কটাক্ষ এবং চ্যালেঞ্জের ঝলক পাওয়া যায়।
এভাবে তিনি অর্জুনকে রাগিত ও উত্তেজিত করেন, যাতে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
ভরবী ভাষাশৈলীতে শ্লেষ ও কৌতুক মিশিয়ে চরিত্রটিকে রহস্যময় করেন।
শিবের এই রূপ আসলে নায়ককে পরীক্ষা করার মাধ্যম।

৪২.
প্রথম সর্গে অর্জুন ও কীরাতের দ্বন্দ্ব কোন প্রতীকী বিষয়কে বোঝায়?
  1. শক্তি বনাম দুর্বলতা
  2. প্রকৃতি ও সভ্যতার লড়াই
  3. অরণ্য ও নগরের দ্বন্দ্ব
  4. মানব ও দেবতার মিলন-বিরোধ
ব্যাখ্যা

অর্জুন এখানে মানবপ্রতিনিধি—বীর, তপস্বী ও যোদ্ধা।
কীরাত আসলে শিব, যিনি দেবতার প্রতীক।
তাদের সংঘর্ষ মানে দেবতা মানুষকে পরীক্ষা করছেন এবং মানুষ নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করছে।
এ দ্বন্দ্বে মানবশক্তি ও দ্যৈবশক্তি একত্রে প্রতিফলিত হয়।
ভরবী এভাবে কাহিনীর গভীর প্রতীকী তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলেছেন।

৪৩.
প্রথম সর্গে বর্ণিত শূকরটি প্রতীকীভাবে কী নির্দেশ করে?
  1. ভোগবিলাস
  2. রাজকীয় ধনসম্পদ
  3. আনন্দের প্রতীক
  4. অশুভ শক্তি ও প্রতিবন্ধকতা
ব্যাখ্যা

শূকরটি হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে নায়ককে বিভ্রান্ত করে।
এটি অর্জুনের তপস্যা ও শক্তির পথে বাধা হিসেবে চিত্রিত।
শূকর মারার মধ্য দিয়েই আসল পরীক্ষার সূত্রপাত হয়।
এটি আসলে জীবনের অশুভ শক্তি, যা জয় করতে পারলেই দেবতার অনুগ্রহ মেলে।
তাই ভরবী শূকরকে প্রতীকী রূপ দিয়েছেন।

৪৪.
প্রথম সর্গে ভরবী অর্জুনের বীরত্বের পাশাপাশি আর কোন গুণকে ফুটিয়ে তুলেছেন?
  1. ধৈর্য ও আত্মসংযম
  2. করুণা
  3. হাস্যরস
  4. কূটনীতি
ব্যাখ্যা

অর্জুন কেবল বীর যোদ্ধা নন, তিনি কঠিন তপস্যায় ধৈর্যশীল ও আত্মনিয়ন্ত্রিত সাধক।
তাঁর ক্ষুধা, দুঃখ, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য।
ভরবী এই গুণগুলিকে বীরত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখিয়েছেন।
এটি বোঝায় যে সত্যিকারের বীরত্ব কেবল শক্তিতে নয়, ধৈর্যেও নিহিত।
তাই অর্জুন নৈতিকতার উচ্চতর আসনে প্রতিষ্ঠিত।

৪৫.
প্রথম সর্গে যুদ্ধদৃশ্য বর্ণনায় ভরবীর কাব্যশৈলীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সরল বর্ণনা
  2. বিশদ উপমা ও তুলনা
  3. শুধু সংলাপের ব্যবহার
  4. গান ও গীতিকাব্যরীতি
ব্যাখ্যা

যুদ্ধের সময় ভরবী নানা উপমা ব্যবহার করেছেন—যেমন ঝড়, সিংহ, বজ্র ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা।
এতে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও গৌরব উভয়ই ফুটে ওঠে।
বর্ণনা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং পাঠক যুদ্ধক্ষেত্র কল্পনায় দেখতে পান।
এই উপমা-প্রধান বর্ণনাই ভরবীর মহাকাব্যিক বৈশিষ্ট্য।
তাই যুদ্ধ দৃশ্য শুধু তথ্য নয়, শিল্প হয়ে উঠেছে।

৪৬.
প্রথম সর্গে দেবতা কেন অর্জুনকে কীরাত রূপে পরীক্ষা করেন?
  1. তাঁকে লজ্জিত করতে
  2. তাঁর ভক্তি, ধৈর্য ও বীরত্ব যাচাই করতে
  3. তাঁকে যুদ্ধ থেকে বিরত করতে
  4. তাঁকে কৌতুক দেখাতে
ব্যাখ্যা

শিব কীরাত রূপে এসে অর্জুনের শক্তি ও মনোবল যাচাই করেন।
শুধু শৌর্য নয়, অর্জুনের ভক্তি ও আত্মসংযমও পরীক্ষা করা হয়।
এই পরীক্ষা সফল হলে তবেই দেবতার অনুগ্রহ ও অগ্নেয় অস্ত্র পাওয়া সম্ভব।
ভরবী দেখাতে চান যে দেবতার অনুগ্রহ সহজে মেলে না, কঠিন পরীক্ষার পরেই তা অর্জনযোগ্য।
তাই কীরাত রূপের উপস্থিতি আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে।

৪৭.
কীরাত রূপে কে আবির্ভূত হন?
  1. বিষ্ণু
  2. শিব
  3. ইন্দ্র
  4. ব্রহ্মা
ব্যাখ্যা

প্রথম সর্গে শিব কীরাত (বনবেশী শিকারি) রূপে উপস্থিত হন।
তিনি অর্জুনের ভক্তি, ধৈর্য ও বীরত্ব পরীক্ষা করার জন্য ছদ্মবেশ নেন।
শিবের এই কীরাত-রূপ রহস্যময় ও প্রতারণাপূর্ণ হলেও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।
কাহিনীতে এর মাধ্যমে নায়ক-পরীক্ষা ও দেব-অনুগ্রহের থিম ফুটে ওঠে।
তাই কীরাত চরিত্র আসলে শিবের লীলার অংশ।

৪৮.
প্রথম সর্গে কীরাতকে (শিকারি) কেমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. নগরজীবী ভদ্রলোক হিসেবে
  2. রাজসভায় সজ্জিত কবি হিসেবে
  3. জটাজট কেশ, ভস্মাবৃত শরীর, চামড়ার পোশাক পরিহিত বনবাসী হিসেবে
  4. ব্রাহ্মণ সন্ন্যাসী হিসেবে
ব্যাখ্যা

ভরবী কীরাতকে সাধারণ বনবাসী শিকারির মতো চিত্রিত করেছেন।
তাঁর শরীরে ভস্ম, মাথায় জটা, হাতে ধনুক ও বর্শা, পরনে চামড়ার পোশাক।
এই রূপ দেখে প্রথমে তাঁকে সাধারণ বনবাসী বলে মনে হলেও আসলে তিনি শিব।
এই ছদ্মবেশ দেবতার পরীক্ষা-নিয়ামক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এভাবে বহিরঙ্গে সরল কিন্তু আভ্যন্তরীণভাবে গূঢ় দেবত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

৪৯.
প্রথম সর্গে কীরাতের সাথে অর্জুনের সংঘাতের কারণ কী?
  1. রাজ্য ভাগাভাগি নিয়ে
  2. একই শূকরকে উভয়ের দ্বারা হত্যা করা
  3. ধর্মতর্ক নিয়ে
  4. অস্ত্রশিক্ষা নিয়ে
ব্যাখ্যা

অর্জুন ও কীরাত দু’জনেই একই শূকরকে তীর নিক্ষেপ করেন।
তাঁদের উভয়ের অস্ত্রেই শূকর আহত হয় ও মারা যায়।
এর ফলে শিকার কার তীরের দ্বারা মারা গেল—এই নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়।
এই বিতর্কই কথার লড়াই থেকে বাস্তব যুদ্ধের দিকে গড়িয়ে যায়।
ভরবী এই ঘটনার মাধ্যমে নাটকীয় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছেন।

৫০.
প্রথম সর্গের কাহিনীতে পার্বতীর ভূমিকাটি কীভাবে প্রতীয়মান?
  1. তিনি নিজেই যুদ্ধ করেন
  2. তিনি শূকর রূপে আসেন
  3. তিনি অর্জুনকে অভিশাপ দেন
  4. তিনি শিবকে কীরাতরূপ ধারণে প্রেরণা দেন
ব্যাখ্যা

কাহিনীতে সরাসরি না থাকলেও পার্বতীর উপস্থিতি আভাসে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি শিবকে কীরাতরূপ ধারণ করতে উৎসাহ দেন, যাতে শিব অর্জুনকে পরীক্ষা করতে পারেন।
এভাবে দেবী আধ্যাত্মিক নাটকে এক প্রকার সহায়ক শক্তি।
ভরবী এর মাধ্যমে দেব-লীলার সামঞ্জস্য ও পরিপূর্ণতা দেখিয়েছেন।
অতএব পার্বতী চরিত্র সরাসরি নয়, কিন্তু কার্যকরভাবে যুক্ত।