পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা সাহিত্য পরীক্ষার টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ, ২. প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ, ৩. মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাসমূহ [পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য ইত্যাদি।] উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মনসাবিজয়
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

• এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: ১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গোবিন্দমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
ব্যাখ্যা
গোবিন্দমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়।
- বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোনো যোগসূত্র নেই।
- প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

• লৌকিক শ্রেণি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শিবায়ন বা শিবমঙ্গল,
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর),
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সারদামঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. চর্যাপদ
  3. রামায়ণ
  4. পদাবলি
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন হচ্ছে চর্যাপদ।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য  ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
• ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, হানিফা-কয়রাপরী, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, জেবলমুলুক-শামারোখ প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি ফারসি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
• গুলে-বকাওলী, লোরচন্দ্রানী, পদ্মাবতী, মধুমালতী, গদামল্লিকা প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি হিন্দি-আরবি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
আরাকান রাজসভার কবিগণ কোন ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার কবিগণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন।

- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর একটা অংশ আরাকান রাজসভার কবিগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল।
- কবি দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর ও আলাওলের মত প্রতিভাশালী কবি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, কোরেশী মাগন ঠাকুরের চন্দ্রাবতী এবং আলাওলের পদ্মাবতী ও সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাব্য।
- আরাকান রাজসভার কবিগণের বিস্ময়কর প্রতিভা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিকতা অতিক্রম করে মানবীয় ভাবধারায় সমৃদ্ধ করেছে।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩। বাংলাপিডিয়া।
.
'গুলে বকাওলী' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
  4. মঙ্গল সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'গুলে বকাওলী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য।

• নওয়াজিস খান: গুলে বকাওলী
- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের ধারায় 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- গদ্যে ও পদ্যে গুলে বকাওলী প্রেমকাহিনি বাংলায় পরিবেশিত হয়েছে এবং বিশ শতকেও সাহিত্যরূপ লাভ করায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণিত।
- বাংলা ভাষা ছাড়া হিন্দি, ফারসি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায়ও এ কাব্য রচিত হয়েছিল।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব-
  1. নাথ সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন গ্রন্থের অংশ?
  1. পদ্মাবতী
  2. শূন্যপুরাণ
  3. গীতগোবিন্দ
  4. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ শূন্যপুরাণ গ্রন্থের অংশ।

• নিরঞ্জনের উষ্মা
- নিরঞ্জনের উষ্মা 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন, পণ্ডিত যোগেশ চন্দ্র রায়, ড. সুকুমার সেন প্রমুখ ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক সময় শূন্যপুরাণ রচিত হয় বলে মনে করেন।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিরঞ্জনের উষ্মা' সম্পর্কে ভূদেব চৌধুরীর অভিমত, এই অংশটুকু 'তুর্কি আক্রমণের পরবর্তী কালের রচনা।'
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অনাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং অত্যাচার-অবজ্ঞার প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
- সহদেব চক্রবর্তীর 'নিলপুরাণে'ও (১৭৩৫) এই কাহিনি অন্তর্ভুক্ত থাকায় সুকুমার সেনের অভিমত হলো যে, শূন্যপুরাণ অন্তর্ভুক্ত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' প্রকৃতপক্ষে সহদেব চক্রবর্তীর রচনা।
- কেননা, 'শূন্যপুরাণে' কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ ঘটেছে। এসব মতান্তরের কারণে নিরঞ্জনের উষ্মার রচনাকাল সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
.
চর্যাপদের কোন কবির পদসংখ্যা সর্বাধিক?
  1. ডোম্বীপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কবিকুলগুরু
  2. বৈষ্ণবাচার্য
  3. কবিকণ্ঠহার
  4. বৈষ্ণব সাধক
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার
ব্যাখ্যা
মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে কবিকণ্ঠহার উপাধিতে ভূষিত করেন।

• বিদ্যাপতি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি- বিদ্যাপতি।
- তিনি  মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩। বাংলাপিডিয়া।
১১.
রামায়ণ মহাকাব্যটি কতটি কাণ্ডে বিভক্ত?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
সাতটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতটি
ব্যাখ্যা
রামায়ণ মহাকাব্যটি সাতটি কাণ্ডে বিভক্ত।

• রামায়ণ:
- রামায়ণ আদি মহাকাব্য।
- শিল্পসম্মত ও আলঙ্কারিক কাব্যকৃতি রূপে রামায়ণই প্রথম কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- রামায়ণ মহাকাব্যে আর্য-সভ্যতা ও সংস্কৃতির সর্বাত্মক বিকাশের রূপ ফুটে উঠেছে।
- রামায়ণ সপ্ত কাণ্ডে বিভক্ত। কাণ্ডগুলো হল বাল, অযোধ্যা, আরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর কাণ্ড।
- চব্বিশ হাজার অনুষ্টুপ শ্লোকে এটি রচিত।
- এই দুই কাণ্ডে রামকে বিষ্ণুর অবতার বলে নির্দেশ করে ভক্তি দেখানো হয়েছে।
- কিন্তু বাকি পাঁচটি কাণ্ড সংহত ও মহাকাব্যের রীতি অনুসারে রচিত এবং এগুলোতে রাম বীর ও আদর্শ চরিত্র রূপে অঙ্কিত হয়েছে।

- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
- মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- তিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যে অবিনশ্বর ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে ড. সুকুমার সেন 'অসমসাহসিকতার নামান্তর' বলে অভিহিত করেছেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মানিকরাম
  2. ময়ূর ভট্ট
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. খেলারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ময়ূর ভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়ূর ভট্ট
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদিকবি ময়ূর ভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' – এই দুটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' – এই দুটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চণ্ডীদাস
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলার কারণ:
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌঁছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢং, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।
- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য-বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
চর্যাগীতিকা কোন রাজবংশের আমলে বিকশিত হয়?
  1. সেন বংশ
  2. মৌর্য বংশ
  3. পাল বংশ
  4. গুপ্ত বংশ
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতিকা পাল রাজবংশের আমলে বিকশিত হয়।

• পাল আমলে চর্যাপদের বিকাশ:
- বাংলার পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন।
- তাঁদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল।
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাইরে নেপালে পাওয়া গেছে।
- বৌদ্ধধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল ভারতবর্ষে এবং বিস্তার লাভ করেছে বিশ্বজুড়ে।
- বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি একদিন এদেশকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছিল। কিন্তু এদেশ থেকে বৌদ্ধ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সারা ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধশাস্ত্র, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের অবসান ঘটেছে। 
- তিব্বতি, চীনা ও মঙ্গোলীয় ভাষায় অনূদিত হয়ে বৌদ্ধশাস্ত্র ও ধর্মীয় সাহিত্য রক্ষিত হয়েছে।
- আধুনিক যুগে এ সবের আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬.
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
  3. দার্শনিক উপস্থাপনা
  4. রাজনীতি ও বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ।

• মঙ্গলকাব্য
- মঙ্গলকাব্য মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক – অর্থাৎ গল্প বা আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য।
- মূল কাহিনির সঙ্গে দেব-দেবীর লীলা, ধর্মতত্ত্ব, বর্ণনা ইত্যাদি যুক্ত হয়ে কাব্যগুলো বিপুল আয়তনে পরিণত হয়েছে।
- লৌকিক ও পৌরাণিক আদর্শের মিশ্রণ মঙ্গলকাব্যের বড় বৈশিষ্ট্য।
- এই কাব্যে লৌকিক দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মচিন্তার একধরনের সমন্বয় রয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য হলো আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
দৌলত কাজী কোন ধরনের কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. রোমান্টিক আখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী রোমান্টিক আখ্যান কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত।

• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন।
- ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
- পরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮.
চর্যাপদে কোন ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে?
  1. বৈষ্ণব
  2. শৈব
  3. বৌদ্ধ
  4. শাক্ত
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে বৌদ্ধ ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. কলিমা জলাল
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. শূন্যপুরাণ
  4. হপ্তপয়কর
সঠিক উত্তর:
হপ্তপয়কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
হপ্তপয়কর অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূন্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জলাল' বা 'নিরঞ্জনের রুম্মা',  হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়ার' অন্তর্গত।
- পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়তে' নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি এ সময়ের বাংলা সাহিত্যসৃষ্টির নমুনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময়ে রচিত কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন।

• হপ্তপয়কর
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল এই কাব্য রচনা করেন।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০.
'মনসাবিজয়' কাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. দ্বিজ মদন
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস পিপিলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেন।

• মনসাবিজয়':
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন- 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল(পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

অপরদিকে, 
দ্বিজ মদন - চণ্ডীমঙ্গলের কবি।
ঘনরাম চক্রবর্তী - ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আবদুল হাকিম
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’ কাব্যের রচয়িতা ছিলেন আলাওল।
- এছাড়াও দোনাগাজী চৌধুরী, ইব্রাহিম ও মালে মুহম্মদ এই প্রেম কাহিনি অবলম্বনে কাব্য রচনা করেছিলেন। তন্মধ্যে আলাওলের কাব্যই সমধিক পরিচিত।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বৈদিক ধর্মের মাহাত্ম্য
  2. শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
  3. ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রচার
  4. ধর্মীয় জ্ঞান প্রসার
সঠিক উত্তর:
শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখের গৌরব ব্যাখ্যা করা।

• সেক শুভোদয়া:
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা।'
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত।
- আর্যার সংখ্যা তিনটি এবং এগুলো বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত পীর মাহাত্ম্য-জ্ঞাপক কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- হিন্দু কবির দৃষ্টিতে পীরদরবেশগণের ওপর জাগ্রত দেবমাহাত্ম্য আরোপিত হয়েছে।
- সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের প্রেমসঙ্গীতটিকে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়।
- প্রাচীন যুগে ব্যক্তিমানসের যে প্রতিফলন এতে ঘটেছে তা অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সেক শুভোদয়া গ্রন্থে প্রাচীন আমলের সমাজচিত্রেরও পরিচয় মিলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২৪.
নিচের কোন চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানসিংহ
  2. হরিশ্চন্দ্র
  3. কালকেতু
  4. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর:
কালকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকেতু
ব্যাখ্যা
কালকেতু চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- হরিশ্চন্দ্র,
- লাউসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।