পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ টপিক: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস) [মার্কস-৫০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
'আবির্ভাব' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. বিভক্তি দ্বারা
  2. সন্ধি দ্বারা
  3. প্রত্যয় দ্বারা
  4. সমাস দ্বারা
সঠিক উত্তর:
সন্ধি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি দ্বারা
ব্যাখ্যা
• 'আবির্ভাব' শব্দটি গঠিত হয়েছে- সন্ধি দ্বারা। 
------------ 
• 'আবির্ভাব' শব্দের অর্থ:
- উদয়; প্রকাশ,
- অধিষ্ঠান; অবতরণ।
------------- 
• 'আবির্ভাব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - আবিঃ+ভাব।  

• সন্ধির নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আবিঃ+ভাব = আবির্ভাব, 
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
.
'পদ্মনাভ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
পাপে মতি যার = পাপমতি,
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষ্য হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
দুই কান কাটা যার = দুকানকাটা,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
বোটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
পা চাটে যে = পা-চাটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়?
  1. দোলনা
  2. খেলনা
  3. গায়ক
  4. নাচন
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা
• গায়ক = [√গৈ + ণক] সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

কৃৎ প্রত্যয়: 
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা :
১. বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
২. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √ণী + ণক ˃ নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + ণক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
আরবি 'কলম' শব্দটি 'কলমোস' শব্দ থেকে এসেছে। 'কলমোস' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
• কলম (qalam):
শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী।

• কলম (qalam) শব্দটির আদি উৎস কলমোস (Kalamos/Κάλαμος) যা মূলত গ্রিক ভাষার শব্দ।

• Kalamos/Κάλαμος শব্দের অর্থ - a reed, a pen.
It refers to the writing instrument made from a reed or a similar material. This term was borrowed into various languages, including Arabic.

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান ও Etymology (Language Forum) ওয়েবসাইট।
.
কোনটি ভিন্নার্থক শব্দ?
  1. অহি
  2. ভুজঙ্গ
  3. ভুজগ
  4. অরি
সঠিক উত্তর:
অরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরি
ব্যাখ্যা
• 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ:
- সর্প, অহি, ভুজঙ্গ, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গম, আশীবিষ, উরগ, কুণ্ডলী, বিষধর, পন্নগ, ফণাধর।

অন্যদিকে,
- শত্রু শব্দের সমার্থক শব্দ :অরি, দুশমন, অমিত্র, অবন্ধু, বিরোধী, বৈরী, রিপু, প্রতিপক্ষ, অরাতি।

উৎস : ভাষা শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'লাজ + উক = লাজুক' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
৮. উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে-  লাজ + উক - লাজুক।
১. আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: বোমা + আরু - বোমারু।
১০. আলো-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: জমক + আলো -জমকালো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'কাছা-আলগা' শব্দের অর্থ কী?
  1. অসতর্ক
  2. ঢিলেঢালা স্বভাববিশিষ্ট
  3. উদাসীন
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কাছা-আলগা' শব্দের অর্থ:
- অসতর্ক;
- ঢিলেঢালা স্বভাববিশিষ্ট;
- উদাসীন।

উল্লেখ্য,
‘কাছা ঢিলা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অসাবধান।
উদাহরণ: কাছা ঢিলা লোককে কোন বড় দায়িত্ব দিতে নেই।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
"মধুতে তার কণ্ঠ মাখানো।" — এখানে ‘মধুতে’ কোন কারকে, কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. কর্মে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘
করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

বাক্যটি- মধুতে তার কণ্ঠ মাখানো।
কণ্ঠ কী দ্বারা মাখানো?
উত্তর: মধুতে ⇒ মধু দ্বারা, অর্থাৎ করণ কারক।
➤ এবং ‘মধুতে’ শব্দে ‘তে’ বিভক্তি ⇒ সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি নয়?
  1. নিরাকার
  2. প্রাতরাশ
  3. দুরাত্মা
  4. দ্যুলোক
সঠিক উত্তর:
দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্যুলোক
ব্যাখ্যা
• নিরাকার, প্রাতরাশ, দুরাত্মা- এগুলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
যেমন- 
নিরাকার = নিঃ + আকার;
প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ;
দুরাত্মা = দুঃ + আত্মা।

অন্যদিকে,
'দ্যুলোক' নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
এর যথার্থ সন্ধিবিচ্ছেদ হলোঃ দিব্ + লোক = দ্যুলোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১.
'মন্থর' এর বিপরীত শব্দ-
  1. প্রফুল্ল
  2. উদ্ধত
  3. ত্বরিত
  4. হর্ষ
সঠিক উত্তর:
ত্বরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরিত
ব্যাখ্যা
• 'মন্থর' এর বিপরীত শব্দ- 'ত্বরিত'। 
কারণ,
• 'মন্থর' শব্দের অর্থ - চটপটে নয় এমন; অলস।
• 'ত্বরিত' অর্থ - দ্রুত, ক্ষিপ্র।

অন্বয় অপশনে,
- 'ভাবিত' এর বিপরীত শব্দ- 'প্রফুল্ল'।
- 'হর্ষ' এর বিপরীত শব্দ- 'বিষাদ'।
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ-বিনীত।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১২.
'আকাশ' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অম্বর
  2. ব্যোম
  3. অন্তরীক্ষ
  4. বহ্নি
সঠিক উত্তর:
বহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহ্নি
ব্যাখ্যা
• 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গগন, আসমান, খ, অম্বরব্যোম, নভ, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক, নীলিমা।

অন্যদিকে,
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগ্নি, অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
বাংলা ধ্বনিতত্ত্বে জিহ্বার উচ্চতা অনুসারে প্রথম উচ্চ স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধ্বনিতত্ত্বে জিহ্বার উচ্চতা অনুসারে - উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ]।

এদের মধ্যে বর্ণের ক্রম অনুসারে,
প্রথম উচ্চ স্বরধ্বনি 'ই'।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
"প্রীতি> পিরীতি, গ্লাস> গেলাস" এগুলো কিসের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, গ্লাস > গেলাস, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পাথরের পুঁথি
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. এই শাওনে এই পরবাসে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত গ্রন্থ- পাথরের পুঁথি; জন্মই আমার আজন্ম পাপ; এই শাওনে এই পরবাসে। 

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ; 
- এই শাওনে এই পরবাসে; 
- আমি ভাল আছি তুমি; 
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদ কাদরী
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ:
- ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ শহীদ কাদরী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ কাব্য গ্রন্থটি তাদের একমাত্র ছেলে আদনান কাদরীকে উৎসর্গ করেছিলেন কবি শহীদ কাদরী। 

উল্লেখ্য,
• ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ গ্রন্থটি শহীদ কাদরী তাঁর স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছিলেন।

--------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ),
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ।
১৭.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. গড্ডলিকা
  3. নবান্ন
  4. পল্লীসমাজ
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

অন্যদিকে,
• 'স্বপ্নদর্শন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• 'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
• 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসুর ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
নিচের কোন কাব্যটি খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. গঙ্গামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়।
যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা।
ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১৯.
'পদ্মাবতী' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. তোহফা
  2. লাইলী ওয়া মজনুন
  3. সিকান্দারনামা
  4. পদুমাবৎ
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোনটি আগে বসবে?
  1. চাঁদা
  2. চাকরি
  3. চাঁপা
  4. চাকা
সঠিক উত্তর:
চাঁদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদা
ব্যাখ্যা
• বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

তাই, • বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে বসবে: 
চাঁদা → চাঁপা → চাকরি → চাকা  এই হলো সঠিক বর্ণানুক্রম।

সঠিক উত্তর: ক) চাঁদা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. অন্তরিন, স্বচ্ছল
  2. ঠ্যালা, নির্ণিমেষ
  3. কাঁচি, দরুণ
  4. দারুণ, বর্গি
সঠিক উত্তর:
দারুণ, বর্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারুণ, বর্গি
ব্যাখ্যা

অপশন ঘ) - এর (দারুণ, বর্গি) - সবগুলো বানান শুদ্ধ।

অপশন ক) - এর স্বচ্ছল বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - সচ্ছল।
অপশন খ) - এর নির্ণিমেষ বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - নির্নিমেষ।
অপশন গ) - এর দরুণ বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - দরুন।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
'অধিকতর'- এর সঠিক উচ্চারণ -
  1. অধিকোতরো
  2. ওধিকতর
  3. ওধিকোতরো
  4. অধিকতরও
সঠিক উত্তর:
ওধিকোতরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওধিকোতরো
ব্যাখ্যা
• ‘অধিকতর’ একটি তৎসম শব্দ, এবং বাংলা ব্যাকরণের শুদ্ধ উচ্চারণরীতি অনুযায়ী, যখন ‘তর’ (তৎসম বিশেষণসূচক প্রত্যয়) শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তখন অনেক সময় তা ‘তোরো’ রূপে উচ্চারিত হয়।

• অধিকতর → এর সঠিক উচ্চারণ হয়: ওধিকোতরো।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. জগৎ
  2. উন্নয়ন
  3. সৌন্দর্য
  4. জাগতিক
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।

• সৌন্দর্য (বিশেষ্য):
অর্থ -
১ রূপ; মনোহর রূপমাধুরী (দৈহিক সৌন্দর্য)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৪.
শিক্ষক ছাত্রটিকে বেতাচ্ছেন- এখানে 'বেতাচ্ছেন' কীসের উদাহরণ?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২৫.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় ক্রিয়ার কোন ভাব হয়?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. আকাঙ্ক্ষা ভাব
  3. নির্দেশক ভাব
  4. অনুজ্ঞা ভাব
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬.
'রোগ হলে ওষুধ খাবে।' - বাক্যটিতে কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. অনুরোধ
  3. উপদেশ
  4. বিধান
সঠিক উত্তর:
বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধান
ব্যাখ্যা
• 'রোগ হলে ওষুধ খাবে।' - বিধান অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।

• অনুজ্ঞা পদ:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
(১) আদেশে: সদা সত্য বলবে।
(২) সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
(৩) বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
(৪) অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
সত্য বই মিথ্যে বলবো না। এখানে 'বই' কী?
  1. বিশেষণ
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, বই, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

- সত্য বই মিথ্যে বলবো না।
- মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮.
জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা !- কী ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সিদ্ধান্ত আবেগ
  2. আতঙ্ক আবেগ
  3. বিরক্তি আবেগ
  4. বিস্ময় আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি আবেগ
ব্যাখ্যা
জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা !- এখানে বিরক্তি আবেগ প্রকাশ পেয়েছে। 

আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো।
সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।
যেমন -
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯.
কোন নির্দেশকটি সংখ্যার পরে আলাদা শব্দের মতো বসে? 
  1. টুকু
  2. টু
  3. গুলো
  4. জন
সঠিক উত্তর:
জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ বা লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন:  -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

• -জন:
- শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন - 
বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
- সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন - 
একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

- অধিক সংখ্যার বেলায় ‘-জন’ নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে।
যেমন - 
পাঁচ জন, পচিঁশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি -নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. '-সব'
  2. 'সমূহ'
  3. '-আবলি'
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’, ‘-সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩১.
সরল বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
  2. এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
  3. সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
  4. সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন -
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন -
- আমরা তিন ভাইবােন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন -
- জনাব মাহবুব খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

অন্যদিকে,
সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে এটা ভুল। সাপেক্ষ যোজক থাকলে তা জটিল বাক্য হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২.
কোন যতিচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়?
  1. কোলন
  2. হাইফেন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

অন্যদিকে,
থামার প্রয়োজন নেই - হাইফেন।
১ সেকেন্ড থামতে হয় - কোলন; দাঁড়ি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  3. আশুতোষ চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৩৪.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ কোনটি?
  1. সহসা
  2. আবার
  3. আলবত
  4. আপাতত
সঠিক উত্তর:
আলবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবত
ব্যাখ্যা
• অব্যয়:
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
যথা,
- ১. বাংলা ২. তৎসম ৩. বিদেশি।
বাংলা অব্যয় শব্দ : আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দ : যদি, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, পুনশ্চ, আপাতত, দৈবাৎ, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
“জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি কোন পালার অন্তর্গত?
  1. মলুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. মহুয়া
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• “জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি ‘মহুয়া’ পালার অন্তর্গত।

• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মৈমনসিংহ গীতিকা।
৩৬.
বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. দাশরথি রায়
  3. রামরাম বসু
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. শরবপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শরবপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরবপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - শরবপা। তবে, শবরপা নামে একজন কবি আছেন।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮.
রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. গৃহদাহ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

-----------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
গৃহদাহ - উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - গােবিন্দলাল, রােহিনী, ভ্রমর।
যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী ও মধুসুদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
•  'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

• 'সংস্কৃতি' নামে আরও কিছু গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর - গোপাল হালদার। 
- 'সংস্কৃতির সংকট' - 'বদরুদ্দীন উমর'।
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৪১.
'Copy' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নকল
  2. প্রতিলিপি
  3. লিপি
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• 'Copy' এর বাংলা পরিভাষা:
- নকল;
- প্রতিলিপি;
- লিপি।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের বাংলা পরিভাষা:
• 'Latitude' এর বাংলা পরিভাষা - অক্ষাংশ।
• 'Longitude' এর বাংলা পরিভাষা - দ্রাঘিমাংশ।
• 'Fiction' এর বাংলা পরিভাষা - কথাসাহিত্য।
• 'Interpreter' এর বাংলা পরিভাষা - দোভাষী।
• 'Plosive' এর বাংলা পরিভাষা - ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪২.
'সন্দেশ'- শব্দটি অর্থগত দিক দিয়ে কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. যোগরুঢ়
  2. রুঢ়ি
  3. মৌলিক
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
রুঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুঢ়ি
ব্যাখ্যা
• অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ় বা রুঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৩.
"হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।"- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• “হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।”- এটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন- 
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)।