পরীক্ষা আর্কাইভ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

পরীক্ষা৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
পার্ট-১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি : প্রাচীনকাল হতে সম-সাময়িক কালের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস: ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের নির্বাচন; ছয়-দফা আন্দোলন, ১৯৬৬; গণ অভ্যুত্থান ১৯৬৮-৬৯; ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন; অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১; ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ; স্বাধীনতা ঘোষণা; মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যাবলি; মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল; মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা; পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পার্ট-২) 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals; [পার্ট-১ সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই। পার্ট-২ সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC পৌরনীতি বোর্ড বই।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ৪ জানুয়ারী ১৯৬৯
  2. খ) ১১ জানুয়ারী ১৯৬৯
  3. গ) ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৮
  4. ঘ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু ভবনে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া), ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) ও ডাকসু'র উদ্যোগে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ। এই পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রবল আন্দোলনে ১৯৬৯ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং ২৫ শে মার্চ ১৯৬৯ আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
হামিদুর রহমানের নকশায় স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬৩ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে ২৩ শে ফেব্রুয়ারী প্রথম অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয় যা শহীদ শফিউরের পিতা উদ্বোধন করেন কিন্তু পুলিশ তা ভেঙে ফেলে। ১৯৫৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হামিদুর রহমানের নকশায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে স্থায়ী শহিদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় যা ১৯৬৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী উদ্বোধন করা হয়। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী এটি ভেঙে ফেললে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে একই নকশায় একই স্থানে পুনরায় এটি নির্মাণ করা হয়। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৫ সালের ২১ শে অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেওয়া হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তা করা হয়। একই কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। (সূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) বীর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো গাজীপুর চৌরাস্তায় নির্মিত জাগ্রত চৌরঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ সংঘটিত হয় গাজীপুরে ১৯শে মার্চ ১৯৭১ । এ চেতনার অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালে এটি স্থাপিত হয়। এর শিল্পী আবদুর রাজ্জাক। এটির উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)
.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ক) ২৬ মার্চ
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ২১শে ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস। ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। (সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
.
জাতীয় স্মৃতিসৌধ কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৩
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৬
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ 'সম্মিলিত প্রয়াস' নামে পরিচিত। এটি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উদ্বোধন করেন। এর আগে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন। এটি সাভারে অবস্থিত। এর উচ্চতা ১৫০ ফুট। এতে মোট ৭ টি স্তম্ভ রয়েছে যা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ৭ টি অধ্যায় (৫২, ৫৪, ৫৬, ৬২, ৬৬, ৬৯ এবং ৭১) কে নির্দেশ করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
.
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  2. খ) অপরাজেয় বাংলা
  3. গ) সাবাশ বাংলাদেশ
  4. ঘ) মুক্ত বাংলা
ব্যাখ্যা
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে স্থাপিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য। এটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এর স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ। অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকার পটভূমিতে নির্মিত। জাগ্রত চৌরঙ্গী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য যা গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত। সাবাশ বাংলাদেশ এবং মুক্তবাংলা ভাস্কর্য যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
.
সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সেন রাজা-
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
পাল বংশের পতনের পর একাদশ শতকের মধ্যভাগে হেমন্ত সেন বাংলায় সেন বংশের সূচনা করেন। ১০৬১ সাল থেকে ১২০৪ সাল পর্যন্ত সেন বংশ বাংলা শাসন করে। হেমন্ত সেনের (১০৬১-১০৯৮) পর তারপুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০), বিজয় সেনের পর তার পুত্র বল্লাল সেন (১১৬০-১১৭৮) এবং বল্লাল সেনের পর তার পুত্র লক্ষণ সেন (১১৭৮-১২০৪) বাংলা শাসন করেন। ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন। সেন বংশ দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে বাংলায় আসেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
সোমপুর বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ক) হর্ষবর্ধন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) বিজয় সেন
  4. ঘ) রামপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১) রাজত্ব করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রসারে তিনি নওগা জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এখনো পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বিহার হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০.
মাৎস্যন্যায় বিরাজমান ছিলো কোন শতকে?
  1. ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে
  2. খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে
  3. গ) ৭ম-৮ম শতকে
  4. ঘ) ৮ম-৯ম শতকে
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলা অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১.
পদ্মা ও ভাগিরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে কোন রাজ্যের অবস্থান ছিলো?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বরেন্দ্র
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) গঙ্গারিডি
ব্যাখ্যা
পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গঙ্গারিডই নামক রাজ্যের অবস্থান ছিলো। আলেকজান্ডার কর্তৃক ভারত আক্রমণের সময় এ রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো বলে অনুমান করা হয়। একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও অস্তিত্ব ছিলো। হরিকেল জনপদ সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত, সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল এবং বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২.
স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে কোনটি স্থাপিত হয়?
  1. ক) রাজসিক বিহার
  2. খ) শিখা চিরন্তন
  3. গ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  4. ঘ) স্বোপার্জিত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্ণ হয় তথা রজতজয়ন্তী উদযাপন হয়। একে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়। এ স্থানেই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। রাজসিক বিহার ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তিতে বাংলামটরে স্থাপন করা হয়। জাগ্রত চৌরঙ্গী গাজীপুর চৌরাস্তায় স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য। স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ১৯৮৯ সালে টিএসসি সড়কদ্বীপে স্থাপন করা হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৩.
ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
১৬০০ সালে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশি যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। রবার্ট ক্লাইভ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন। ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। লর্ড ক্যানিং সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় (১৮৫৮)। মাউন্টব্যাটেন ভারতের শেষ ভাইসরয়।(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৪.
'একাত্তরের বর্ণমালা' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) এম আর আখতার মুকুল
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'একাত্তরের বর্ণমালা' বইটির রচয়িতা এম আর আখতার মুকুল। তার আরও কয়েকটি বই হলো আমি বিজয় দেখেছি, মুজিবের রক্ত লাল প্রভৃতি। একাত্তরের ডায়েরি এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল। একাত্তরের নিশান, ফেরারি সূর্য এবং বাগানের নাম মালিনীছড়া বইয়ের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। একাত্তরের বিজয় গাথা, শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রতিরোধের প্রথম প্রহর প্রভৃতি গ্রন্থগুলির রচয়িতা মেজর অব রফিকুল ইসলাম। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – ড. সৌমিত্র শেখর)
১৫.
মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) জীবন থেকে নেওয়া
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  4. ঘ) আলোর মিছিল
ব্যাখ্যা
জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে নির্মিত এটি একমাত্র চলচ্চিত্র যা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তি পায়। রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) এবং আলোর মিছিল (১৯৭৪) যথাক্রমে মমতাজ আলী, সুভাষ দত্ত এবং মিতা পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র যা দেশ স্বাধীনের পরে মুক্তি পায়। (সূত্রঃ রোর বাংলা, দৈনিক কালেরকণ্ঠ এবং বিডিনিউজ২৪)
১৬.
'শিশু স্বর্গ' কি?
  1. ক) ভাস্কর্য
  2. খ) জাদুঘর
  3. গ) চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান
  4. ঘ) হাসপাতাল
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান প্রতিষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান 'শিশু স্বর্গ'। এস এম সুলতান তার জীবনের সঞ্চয় দিয়ে শিশুদের জন্যে একটি নৌকা তৈরি করে এতে 'শিশু স্বর্গ' নামে ভ্রাম্যমাণ চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান খোলেন। পরবর্তীতে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় এস এম সুলতানের গ্রামে বাংলাদেশ সরকার সুলতান কমপ্লেক্স তৈরি করে এবং সেখানে শিশু স্বর্গ নামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখার একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া এস এম সুলতান চারুপীঠ এবং নন্দকানন নামে আরো দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। (সূত্রঃ নড়াইল জেলা ওয়েবসাইট এবং বিডিনিউজ২৪)
১৭.
তুমি কি দেখেছো কভু গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) গাজী মাযহারুল আনোয়ার
  3. গ) সত্য সাহা
  4. ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় ২০তম ছিলো ''তুমি কি দেখেছো কভু, জীবনের পরাজয়'' গানটি। এটির শিল্পী আব্দুল জব্বার, সুরকার সত্য সাহা এবং রচয়িতা ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। এটি ১৯৬৮ সালে প্রথম গাওয়া হয়। (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)
১৮.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা'র জন্ম কোন জেলায়-
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা কে সুর সম্রাট বলা হয়। তার জন্ম ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শিবপুর গ্রামে। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের রাগ সঙ্গীতকে পাশ্চাত্যে পরিচিত করেন। তার বড় ভাই ছিলেন বিখ্যাত সুরসাধক ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খা। আলী আকবর খা এবং অন্নপূর্ণা দেবী তার ছেলে ও মেয়ে। পণ্ডিত রবিশংকর ছিলেন তার শিষ্য ও জামাতা। (সূত্রঃ বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া - বাংলা একাডেমি)
১৯.
'জাতীয় গ্রন্থাগার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শাহবাগ
  2. খ) গুলিস্তান
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) শেরে বাংলা নগর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার শেরে বাংলা নগরে আগারগাঁও এ অবস্থিত। ১৯৭২ সালে পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের একটি পরিত্যক্ত ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে সেখান থেকে সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়িতে এবং ১৯৮৫ সালের ১ নভেম্বর শেরে বাংলা নগরে নিজস্ব ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়। শাহবাগে গণগ্রন্থাগার এবং গুলিস্তানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অবস্থিত। (সূত্রঃ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
২০.
ঝুমুর নাচ কোন অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
ঝুমুর নাচ রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ। এটি পূর্বে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা সাধারণের নিকটও বেশ জনপ্রিয়। সাঁওতালরা তাদের করম উৎসবে ঝুমুর নাচ ও গান পরিবেশন করে থাকে। সিলেট অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ মণিপুরী নৃত্য। যশোর অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ বল নৃত্য এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যান নাচ হলো জারি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি - বাংলা একাডেমি)
২১.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কবে প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৮১ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগরে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
২২.
ইয়াহিয়া খান কবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. ক) ২২ শে ফেব্রুয়ারী
  2. খ) ১০ মার্চ
  3. গ) ২১ মার্চ
  4. ঘ) ২৫ শে মার্চ
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান ২৫ শে মার্চ সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করলে ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১ তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২৩.
৭ই মার্চের ভাষণে কোন দাবিটি ছিলো না-
  1. ক) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত করা
  3. গ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভা সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণে তিনি চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত করা এবং নির্বাচত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড এ অন্তর্ভুক্ত করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
২৪.
সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় কবে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১১ এপ্রিল
  3. গ) ১৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ১০ মে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪ টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। (সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৫.
অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) কমরেড মনি সিং
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)
২৬.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশটি বাংলাদেশকে সমর্থন প্রদান করে?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) চীন
  4. ঘ) সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো মুক্তিযুদের পক্ষে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইরাক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়। পশ্চিমা দেশগুলোর গণমাধ্যমসমূহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৮.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) সুইডেন
  3. গ) স্কটল্যান্ড
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
একজন বিদেশি হয়েও ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে। ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। অসীম সাহসিকতার জন্যে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। তিনি ২০০১ সালে মারা যান। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২৯.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন কে?
  1. ক) মতিউর রহমান
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুন্সি আবদুর রউফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ৭ জন শহীদ কে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ জন (সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর), ইপিআর থেকে ২ জন (ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ) এবং বিমানবাহিনী (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান) ও নৌবাহিনী (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন) থেকে একজন করে। এদের মধ্যে সবার আগে মারা যান ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (৮ এপ্রিল) এবং সবার শেষে মারা যান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর)। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৩০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ৬ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৯ নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে। এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর। ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৩১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন কে?
  1. ক) জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. খ) জেনারেল রুস্তম জী
  3. গ) জেনারেল স্যাম মানেকশ
  4. ঘ) জেনারেল বিপিন রাওয়াত
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল স্যাম মানেকশ। তিনি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের প্রধান ছিলেন। জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান। তখন ভারতীয় বিএসএফ প্রধান ছিলেন কে এফ রুস্তমজী। বিপিন রাওয়াত ভারতের সদ্যসাবেক সেনাপ্রধান। (সূত্রঃ ইন্ডিয়ান আর্মি ও বিএসএফ ওয়েবসাইট)
৩২.
অপারেশন জ্যাপকট পরিচালিত হয়?
  1. ক) ১০ জুন
  2. খ) ১৭ জুলাই
  3. গ) ১০ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ কমান্ডোরা এক যোগে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে হামলা চালায়। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানভোট ডুবে যায়। নৌ কমান্ডোদের প্রথম পরিচালিত এ অপারেশনের নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন জ্যাকপট'। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তিলাভ করেন-
  1. ক) ২৮ ডিসেম্বর
  2. খ) ৪ জানুয়ারি
  3. গ) ৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বিশ্বসম্প্রদায়ের চাপে পাকিস্তান সরকার ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি মুক্তিপেয়ে লন্ডন যান। সেখান থেকে ৯ জানুয়ারি হওয়ানা হয়ে ১০ জানুয়ারি তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বিমানে করে দিল্লি হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় আসেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট)
৩৪.
সুশাসন বলতে বোঝায়-
  1. ক) সৃজনশীল শাসন
  2. খ) কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. গ) ধর্মীয় শাসন
  4. ঘ) নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানে হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন বা উত্তমরূপে শাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা। স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে শাসন না করা। সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা ঐচ্ছিক বিষয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩৫.
মূল্যবোধ-
  1. ক) অপরিবর্তনশীল
  2. খ) স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অভিন্ন
  3. গ) আপেক্ষিক
  4. ঘ) ধর্মীয় বিধান
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। মূল্যবোধ আপেক্ষিক বিষয়। কেননা সময়ের ব্যবধানে কিংবা স্থানভেদে এটি পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ সকল সমাজের মূল্যবোধ এক নয়, সমাজ ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন ভিন্ন হয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩৬.
আমলাতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) ক্ষমতা
  3. গ) জনকল্যাণ
  4. ঘ) কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ। একজন আমলা বা প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা। এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন প্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩৭.
মূল্যবোধ মানুষের কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) আত্মিক
  3. গ) অভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণকে নিয়ন্ত্রন করে। মূল্যবোধ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এবং ব্যক্তির সাথে সমাজের আচরণ বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। মানুষের সমাজ জীবনকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিময় করতে মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন)
৩৮.
কোনটি মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম নয়?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  3. গ) সভা
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। এগুলো মানুষ প্রথমে পরিবার থেকে শিখে। পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)