পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৮ টপিক: রিভিশন [নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন সম্পূর্ণ সিলেবাস]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র হচ্ছে-
  1. মনের এক নিষ্ক্রিয় সংগঠন।
  2. মনের এক অপ্রকাশিত সংগঠন।
  3. মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
  4. মনের এক সাময়িক সংগঠন।
ব্যাখ্যা
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র:
-মানুষের মানসিক জীবনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে তার চরিত্র।
-চরিত্র হচ্ছে মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
-অনেকে একেই নৈতিক অবধারণের প্রকৃত বিষয়বস্তু বলে মনে করেন এবং প্রেষণা ও অভিপ্রায়কে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেখেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিঙ্ক]
.
'Prolegomena to ethics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. টি. এইচ. গ্রীন
  3. ডেভিড হিউম
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন:

-টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন (ইংরেজি: Thomas Hill Green; ৭ এপ্রিল ১৮৩৬ ১৫ মার্চ ১৮৮২ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, রাজনৈতিক আমূল বিপ্লবী ও মদ্যপানবর্জন সংস্কারক এবং ব্রিটিশ ভাববাদী আন্দোলনের সদস্য।
- টি. এইচ. গ্রীন ও তাঁর সমকালের এবং একই চিন্তার অধিকারী দার্শনিক ব্রাডলে এবং বোসাঙ্কোয়েটকে সাধারণত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য ভাববাদী বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- উনিশ শতকের শেষের দিকে টি. এইচ. গ্রীনের নীতিবিদ্যায় এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যায়।
- টমাস হিল গ্রীন ফ্রিডরিখ হেগেলের অধিবিদ্যামূলক ইতিহাসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- টমাস হিল গ্রীনের রচনাবলীর মধ্যে নীতিশাস্ত্রের উপর 'প্রলেগোমেনা টু এথিক্স' এবং রাজনীতির উপর 'প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল অবলিগেশন' বিশেষভাবে পরিচিত।
- টি. এইচ. গ্রীন তাঁর Prolegomena to Ethics গ্রন্থে তাঁর পূর্ণতাবাদী তত্ত্ব ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, 
-'Political Ideals' এবং Human Society in Ethics and Politics- গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- A Treatise of Human Nature; এবং Human Understanding; গ্রন্থের লেখক ডেভিড হিউম।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাকে কয়টি বিভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সরকার কাঠামো:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের ৩টি বিভাগ রয়েছে। যথা:
১. আইন বিভাগ,
২. বিচার বিভাগ,
৩. শাসন বিভাগ।
- একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ।

শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।

আইন বিভাগ:
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্ৰণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।
- বিচারিক কার্যের অংশ হিসেবে এই বিভাগটি মূলত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে থাকে ও জনগণের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যম
  3. সুশাসনের মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন। জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘Civil Society’ এর অর্থ কী?
  1. যুব সমাজ
  2. বুদ্ধিজীবী
  3. সুশীল সমাজ
  4. সামরিক সমাজ
ব্যাখ্যা
 সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ ( Civil Society)  কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. পরিবার
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবােধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচারণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশুরা তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায়।
- সুতরাং,  নৈতিক মূল্যবােধের উৎস - নৈতিক চেতনা।
- নৈতিক চেতনা হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ নীতি, যা তাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রভাব থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যার মধ্যে ধর্ম, পরিবার এবং সমাজও অন্তর্ভুক্ত।
- তবে নৈতিক চেতনা নিজেই একটি প্রধান উৎস যা মানুষকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- যদিও পরিবারের সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায় কিন্তু নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস মানুষের নৈতিক চেতনা।
 
উল্লিখিত প্রশ্নে নৈতিক মূল্যবোধের মূল উৎস হিসেবে দেওয়া অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো: ঘ) নৈতিক চেতনা

তথ্যসূত্র: ১) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আমলাগণ 
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
 সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন:
- সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র।
- অর্থাৎ আমলাগণ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।
- আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে।
- আমলাদের দ্বারা সরকারি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের উপর সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
“সকল ধরণের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”− কে বলেছেন?
  1. আর জি গেটেল
  2. ল্যারি ডায়মন্ড
  3. হেনরী মেইন
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
শর্তগুলো হল এরূপ:
- (ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
- (খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
- (গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বাচনে ভোট দেবার ক্ষমতা কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- অর্থাৎ নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানূয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
“অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।” এটি কার উক্তি?
  1. অধ্যাপক ডাইসি 
  2. অধ্যাপক বার্কার
  3. অধ্যাপক গেটেল
  4. অধ্যাপক গার্নার
ব্যাখ্যা
অধিকারের ধারণা:
-সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, "অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।"
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন- পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
- অধিকার ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। সেই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
- এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি বলেন 'অধিকার বলতে আমরা সামাজিক জীবনের সেসব শর্তকে বুঝি, যা ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন অসম্ভব।"
- এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অধিকার অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।