পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: i) মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি, মূল্যবোধ সম্পর্কিত বই, মূল্যবোধ ও সুশাসন। ii) দূর্নীতি, জাতীয় শুদ্ধাচার, গণতন্ত্র, আমলাতন্ত্র, মানব উন্নয়ন সূচক। [Live Class – 7 & 8]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক হলেন -
  1. জন ফিফনার
  2. রবার্ট প্রেসথাস
  3. অধ্যাপক এস ই ফাইনার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অধীনে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. এনজিও
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
  3. জাতীয় সংসদ
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

.
‘প্রজাতন্ত্র’ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Democracy
  2. Republic
  3. Presidential
  4. Parliamentary
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল (democracy)।
- এই শব্দটি Demos ও Kratos শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratos শব্দের অর্থ ক্ষমতা।
- গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেন, “গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার"। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।
- গণতান্ত্রিক সরকার দু'ধরনের- (ক) প্রজাতন্ত্র এবং (খ) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

⇒ প্রজাতন্ত্র (Republic):
- প্রজাতন্ত্র বলতে গণতান্ত্রিক সরকারকে বুঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের সরকার যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
- রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যায় না। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। কাজেই এটি প্রজাতন্ত্র। কিন্তু বৃটেন প্রজাতন্ত্র নয়। কেননা সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করা যায়।
- বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতির উপাদান?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. হাতিয়ার 
  4. সাহিত্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম। এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

বস্তুগত সংস্কৃতি
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ব্যক্তি কী থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. সামাজিক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
- ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. বার্কার
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। 
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- বার্কারের মতে, 'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অপরিহার্য শর্ত কোনটি? 
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. জনগণের অংশগ্রহণ
  3. রাজনৈতিক অঙ্গীকার
  4. ধনী নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা।
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
নৈতিকতা কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. আইন ও সরকার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক চাহিদা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
​- এছাড়াও, নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন- "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১২৯তম
  2. ১৩০তম
  3. ১৩১তম
  4. ১৩৩তম
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI (Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

⇒ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১০.
কোন ধরনের গণতন্ত্রে জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে?
  1. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

• নাগরিকগণ যখন সরাসরিভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ করে, নীতি নির্ধারণ করে এবং আইন প্রণয়ন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। এই শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ একটি সভায় সম্মিলিত হয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করে থাকে। প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্ট্রগুলোতে এই ধরনের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। আধুনিককালে সুইজারল্যান্ডের চারটি ক্যান্টন প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ভিত্তিতে শাসিত হয়। বর্তমান যুগে প্রত্যেক গণতন্ত্র কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেবলমাত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোতে কার্যকর করা যেতে পারে। আধুনিক রাষ্ট্র বহু জনসংখ্যা অধ্যুষিত জাতি-রাষ্ট্র। এসব রাষ্ট্রে জনসংখ্যা খুব বেশী এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সেহেতু প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের পরিবর্তে পরোক্ষ গণতন্ত্র চালু করা হয়েছে।

• পরোক্ষ গণতন্ত্র হল জনগণের প্রতিনিধির শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন যে, পরোক্ষ গণতন্ত্র হল সেই শাসন ব্যবস্থা যেখানে জনগণ পর্যায়ক্রমিক নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনসাধারণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে জনগণের শাসন কার্য পরিচালনা করেন। আধুনিক যুগ মূলত পরোক্ষ গণতন্ত্রের যুগ।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রয়োজন -
  1. আইনের শাসন 
  2. সুশিক্ষা 
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. সামরিক শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
 ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. স্থির ও অপরিবর্তনীয়
  2. পরিবর্তনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক
  3. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রিত
  4. আইনগত বাধ্যবাধক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল। 

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩.
আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?
  1. পল স্যামুয়েলসন
  2. অ্যারিস্টটল
  3. জন লক
  4. ক্লিসথেনিস
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক।
- জন লক ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আলোকিত যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৬৩২ সালে ২৯ আগস্ট ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে জন লকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু।

অন্যদিকে -
- গণতন্ত্রের জনক হচ্ছেন অ্যারিস্টটল।
- ক্লিসথেনিসকে 'এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.

১৪.
মানব উন্নয়ন সূচকের মৌলিক নির্দেশক কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

HDI:
- HDI-এর পূর্ণরূপ: Human Development Intex বা মানব উন্নয়ন সূচক।
- UNDP কর্তৃক মানব উন্নয়ন সূচক তথা HDI ধারণাটির উদ্ভাবন হয়।
- HDI মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের উপর ভিত্তি করে:
• আয়: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
• শিক্ষা: মানুষের শিক্ষা গ্রহণের হার, যার মধ্যে গড় বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের বছর এবং শিক্ষার প্রসারের হার অন্তর্ভুক্ত।
• আয়ু: গড় আয়ু, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কোনো দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা HDI টি যদি ০.৫৫০ এর নিচে হয় সে দেশটিকে অনুন্নত দেশ বলা হয়।
- কোন দেশে HDI যদি ০.৫৫০ - ০.৭৯৯ হয় সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।
- যদি ০.৮০ থেকে বেশি হয় সেসব দেশকে আমরা উন্নত দেশ বলি।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১৫.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. অভিলক্ষ
  2. প্রতিপাদ্য
  3. রূপকল্প
  4. স্লোগান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৬.
মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া কী প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. সুশাসন
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক বিভেদ
  4. মানসিক উন্নতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭.
'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র'-এ উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. সি.এফ. স্ট্রং
  3. অধ্যাপক লিন্ডসে
  4. অধ্যাপক সিলি
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"
- প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
নিম্নের কোনটি আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য?
  1. স্থায়িত্ব
  2. নিরপেক্ষতা
  3. লালফিতার দৌরাত্ম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
⇒ আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য সংগঠন। নিম্নে আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হল।
- পদ সোপাননীতি: আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পদসোপাননীতি। পদ সোপাননীতি অনুসারে বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস ও সংগঠন করা হয়। এ নীতি অনুসারে প্রত্যেক কর্মকর্তার উপর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অধস্তন কর্মকর্তা পালন করে থাকেন।
- স্থায়িত্ব: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মচারীগণ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কর্মে বহাল থাকেন। সরকার পরিবর্তন বা পতন হলেও আমলাদের পতন হয় না। এ জন্য আমলারা প্রশাসনের স্থায়ী অংশ।
- সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র: আমলাদের কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। তারা তাদের কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
নিকট জবাবদিহি করে থাকেন।
- পেশাদারি ও বেতনভুক্ত: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মকর্তারা পেশাদারি হয়ে থাকেন এবং যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
- নিয়োগ ও পদোন্নতি: মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মে যোগদানের ভিত্তিতে, বয়স কিংবা একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।
- নিরপেক্ষতা: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা। দলীয় মনোভাব পরিত্যাগ করে জনগনের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। আমলারা দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আনুষ্ঠানিকতা: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে আমলারা আনুষ্ঠানিকতা এবং দৈনন্দিন কাজের উপর গুরুত্বারোপ করে। তারা বিধি মোতাবেক যথাযথ নিয়মে সবকিছু করে থাকে। আমলাতন্ত্রে সকল কাজই হয় রুটিন মাফিক।
- দক্ষতা: আমলারা সাধারণত দক্ষ। একই ধরনের কাজ বার বার করার কারণে তাঁরা দক্ষতা অর্জন করে। এছাড়া
তাঁদের জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নিরবিচ্ছিন্নতা: আমলাগণ প্রশাসনিক কাজে নিরবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কোন আমলার পদ শূন্য হলে সেই পদে নতুন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে কাজে গতিশীলতা রক্ষা করা হয়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য: লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):
- ২১ শে নভেম্বর ২০০৪ বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১৭ ধারা অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিরোধ, গবেষণা এবং গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- রুপকল্প: সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করা। 
-  লক্ষ্য: অব্যাহতভাবে দুর্নীতির দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং উত্তম চর্চার বিকাশ সাধন করা।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৬(১) ধারার বিধানমতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ হলেন -
(১) জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন;
(২) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী; এবং
(৩) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।