পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৬৩
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 12” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ১] বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলি⎯১ [১০০ নাম্বার] (টপিকগুলোর বিস্তারিত সিলেবাস বাটনে বা পিএসসির সিলেবাসেই পাবেন।) ১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি। ২) বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ। ৩) বাংলাদেশের অর্থনীতি। ৪) বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৩ প্রশ্ন

.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কে ফোর্স' নিম্নের কোন যুদ্ধটি পরিচালনা করেছে?
  1. বিলোনিয়ার যুদ্ধ
  2. চিলমারীর যুদ্ধ
  3. হরশপুর যু্দ্ধ
  4. কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড সংগঠন ও অপারেশন:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকটা ছিল গেরিলাভিত্তিক কিন্তু এভাবে গেরিলা যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর সুশিক্ষিত সৈন্যদের পদানত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছিল না।
- ফলে যুদ্ধ ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়ন ও মুক্তাঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গঠন বিন্যাসের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- এপ্রিল মাসে মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সম্মুখ সমরের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়।
- এরা হচ্ছে: জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।

⇒ কে ফোর্স:
- লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফের নামানুসারে সেপ্টেম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় কে ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ ইস্ট বেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১ ফিল্ড ব্যাটারি (মুজিব ব্যাটারী) আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী।
- কে ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল দেউশ মন্দভাগ অভিযান, শালদা নদী অভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবার যুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনী যুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয় ও ময়নামতি বিজয়।

অন্যদিকে,
- চিলমারীর যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন জেড ফোর্স।
- কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুর যু্দ্ধ পরিচালনা করেছেন এস ফোর্স।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
'মিন্টো' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. বেগুন
  2. মরিচ
  3. গম
  4. টমেটো
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।

অন্যদিকে,
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মতিউর রহমান কবে নিহত হয়েছিলেন?
  1. ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।

⇒ ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি মিছিলে পুলিশের গুলিতে গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান নিহত হলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- তাই ২৪ জানুয়ারিকে গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা করা হয়।

⇒ এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
২০২৪ সালে কততম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক শুমারি:
- অর্থনৈতিক শুমারি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সুনির্ধারিত অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট সমগ্রকের (Population) সকল অর্থনৈতিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ গণনা পদ্ধতি।
- অর্থনৈতিক শুমারির মূল লক্ষ্য হলো সময়ের বিবর্তনে একটি দেশের অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে, সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
- এ শুমারির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অকৃষি খাত বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নমুখী করার লক্ষ্যে মানসম্মত পরিসংখ্যান প্রণয়ন করা।

⇒ ২০২৪ সালে ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে দেশের শিল্প উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে, সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, বদ্বীপ পরিকল্পনা, পরবর্তী ৯ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর আলোকে পরিকল্পনা পরিবীক্ষণ, জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সম্পদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশে ১ম অর্থনৈতিক শুমারি ১৯৮৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এ শুমারির নাম ছিল “কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও অক্ষম ব্যক্তিদের শুমারি-১৯৮৬"।
- ২য় অর্থনৈতিক শুমারিতে ২০০১ এবং ২০০৩ সালে দুটি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শহর এলাকায় ২০০১ সালে এবং পল্লী এলাকায় ২০০৩ সালে।
- ৩য় অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
.
পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুসারে, কত ধরনের পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক রয়েছে?
  1. ১৩
  2. ১৭
  3. ১৯
  4. ২১
ব্যাখ্যা
পাটজাত পণ্য ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা:
- পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুসারে, ১৯ ধরনের পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পাট চাষি ও পাটকল মালিকদের স্বার্থ রক্ষা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার সীমিত করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ৬টি পণ্য অর্থাৎ ধান, চাল, গম, ভূট্টা, সার ও চিনি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি আরো মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুষ-খুদ-কুড়াসহ মোট ১৭ (সতের)টি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।
- ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট পোল্ট্রি ও ফিস ফিড মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।
- পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এর ধারা-১৪ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
- এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০।
.
নিম্নের কোন সালে দেশে কোন কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি? 
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭৬ সালে দেশে কোন কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি।

কৃষি শুমারি:
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
.
ইলবার্ট বিল কবে প্রস্তাবিত হয়েছিল?
  1. ১৮৮১ সালে
  2. ১৮৮৩ সালে
  3. ১৮৮৮ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
ইলবার্ট বিল:
- লর্ড রিপন তার শাসনামলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং নতুন নতুন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- তার শাসনকালীন সময়ের অন্যতম কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল নামে একটি আইনের পরিকল্পনা।
- এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা।
- লর্ড রিপন বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সচিব ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়নের দায়িত্ব দেন।
- যার কারণে স্যার ইলবার্ট এর নামানুসারে এ বিলটি ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
- এ বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়।
- এ বিলটি ১৮৮৩ সালে পাস হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. জামালপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর:
- 'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' ময়মনসিংহে অবস্থিত।

⇒ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রী সহ ঢাকায় আসেন।
- ২০ ফেরুয়ারী শাশুড়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আবদুল জব্বার মেডিকেলের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্রব্যারাক-এ উঠেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবে ঘটে।
- আবদুল জব্বারও সমাবেশে যোগদেন।
- সেসময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০০সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
- বর্তমানে তার নামে একটি জাদুঘর ও শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।
- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন ০৬ নং রাওনা ইউনিয়নের “জব্বার নগর” (পাচুয়া) গ্রামে ভাষা শহীদ আঃ জব্বারের নিজ বাড়ীর নিকটে শহীদ জব্বার বেসরকারী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ মিনারের পার্শ্বের জমিতে ২০০৭ সালে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
কৃষিক্ষেত্রে রবি মৌসুমের শস্য কোনটি?
  1. মিষ্টি কুমড়া
  2. পাট
  3. লাউ
  4. ভুট্টা
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:

i) রবি মৌসুম: শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য। কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়। কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়। বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম: গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য। চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

খরিফ-১ মৌসুম: যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে। এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে। যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

খরিফ-২ মৌসুম: যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে। যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১০.
নিম্নের কোন ব্যক্তি জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেননা?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেননা।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকাট
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১.
BRTA কোন ধরনের লাইসেন্স প্রদান করে?
  1. পাসপোর্ট
  2. ড্রাইভিং লাইসেন্স
  3. ব্যবসা লাইসেন্স
  4. জাতীয় পরিচয়পত্র
ব্যাখ্যা
BRTA:
- BRTA-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Road Transport Authority বা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
- Bangladesh Road Transport Authority ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- ড্রাইভিং লাইসেন্সের পূর্বশর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স।
- ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী পাশ।
- অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে।
- মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

উৎস: BRTA ওয়েবসাইট।
১২.
বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষিখাতের অবদান -
  1. ক্রমহ্রাসমান
  2. অনিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে
  3. নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি খাতের অবদান:
- কৃষিখাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩.২১ শতাংশ।
- কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৫.০০%।

⇒ স্থিরমূল্যে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষিখাতের অবদান:
- ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে: ১৩.৬২ শতাংশ,
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে: ১৩.১৪ শতাংশ,
- ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে: ১২.৫৬ শতাংশ,
- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে: ১২.৫২ শতাংশ,
- ২০২০-২০২১ অর্থবছরে: ১২.০৭ শতাংশ,
- ২০২১-২০২২ অর্থবছরে: ১১.৫০ শতাংশ।
- ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে: ১১.২০ শতাংশ।
- ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে: ১১.০২ শতাংশ।

⇒ সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান: ক্রমহ্রাসমান।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৩.
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে, মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য কত জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে?
  1. ১২১-৩৫০ জন
  2. ১২১-৩০০ জন
  3. ১২১-২৫০ জন
  4. ১২১-২০০ জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিল্পনীতি:
- সর্বশেষ জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে এসএমই ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান/উদ্যোগ এর শ্রেণিবিন্যাস -

⇒ বৃহৎ শিল্প (Large scale industries):
- উৎপাদনের ক্ষেত্রে ‘বৃহৎ শিল্প’ (Large Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ (Replacement Cost) ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা তৈরী পোশাক/শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। যে সকল তৈরী পোশাক/শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের সংখ্যা ১০০০ এর অধিক কেবল সে সকল তৈরি পোশাক শিল্প বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে।
- সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘বৃহৎ শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

⇒ মাঝারি শিল্প (Medium scale industries):
- ম্যানুফ্যাকচারিং এর ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ (Medium Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১-৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তবে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান/শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০০ জন।
- সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ২ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৫১-১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

⇒ ক্ষুদ্র শিল্প (Small industries):
- ম্যানুফ্যাকচারিং এর ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ (Small Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৬-১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
- সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৬-৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

⇒ মাইক্রো শিল্প (Micro Industry):
- ‘মাইক্রো শিল্প’ (Micro Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ০১-২৫ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
- সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাইক্রো শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নীচে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

উৎস: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।
১৪.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এর কোন উইংটি মাঠ পর্যায় তত্ত্ববধান করে থাকে?
  1. ক্রপস উইং
  2. প্রশাসনিক উইং
  3. সরেজমিন উইং
  4. প্রশিক্ষণ উইং
ব্যাখ্যা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং:
- ডিএই’র কর্মকান্ডের মুল কেন্দ্রবিন্দুই হলো সরেজমিন উইং।
- ডিএই’তে কর্মরত প্রায় ২৫ হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারী এ উইংয়ে কর্মরত।
- একজন পরিচালক উইং এর দায়িত্বে আছেন।
⇒ মাঠ পর্যায়ে বার্ষিক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মপরিকলনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা এ উইং-এর মূল কাজ।
- এছাড়াও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, উপকরণের চাহিদা নিরূপন, বরাদ্দ ও মনিটরিং এবং মাঠের কার্যক্রম তদারকী করা।
⇒ সম্প্রসারণ সেবা প্রদানকারী অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন, বার্ষিক রাজস্ব বাজেট প্রণয়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য সমূহ সম্প্রসারণ বার্তা হিসেবে রূপান্তর করে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা।
- এ ছাড়া ১৪টি অঞ্চল (ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা ও সিলেট), ৬৪টি জেলা, ৪৮৫টি উপজেলা ও ১২৬৪০টি ব্লকের সম্প্রসারণ কার্যক্রমের তদারকি এ উইং এর মাধ্যমে করা হয়।
অন্যদিকে,
- প্রশাসন ও অর্থ উইং-এর প্রধান কাজ হচ্ছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করা ও নথিপত্র সংরক্ষণ।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৫.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম কে শহিদ হয়েছিলেন?
  1. মুন্সি আব্দুর র‍উফ
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর র‍উফ:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, মুন্সী আবদুর রউফ তাঁদের অন্যতম।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহিদ।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আবদুর রউফ ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি লড়াই হয়। কৌশলগত কারণে সহযোদ্ধাদের পিছু হটতে বলে তিনি নিজেই শত্রুসেনাদের মোকাবেলা করেন, একপর্যায়ে শহীদ হন। সহযোদ্ধারা পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের চিংড়ি খালসংলগ্ন একটি টিলার ওপর সমাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও আত্মদানের জন্য বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফকে অনারারি ল্যান্স নায়েক পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দান করে।

অন্যদিকে,
• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

• সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।

• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৬.
বিবির বাজার স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. ফেনী
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বিবির বাজার স্থলবন্দর:
- বিবির বাজার স্থলবন্দর কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর, যা ভারতীয় সীমান্তের সাথে সংযুক্ত এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ২০০৬ সালে এই স্থলবন্দর উদ্ধোধন হয় এবং ২০১০ সালে এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
১৭.
বর্তমানে দেশে পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ কোনটি? [মে, ২০২৫]
  1. খুলনা
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
পাট:
- পাট এক ধরনের কৃষিপণ্য।
- এটি একটি বর্ষাকালীন ফসল। 
- এর জীবনকাল ১০০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত।
- পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে দুই ধরনের পাট দেখতে পাওয়া যায়: সাদা পাট ও তোষা পাট।

⇒ পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে পাট এবং পাট শিল্পের সাথে জড়িত।
- পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, বিছানার চাদর, পর্দা সোফার কভার,কার্পেট এবং আরো নানা ধরনের পণ্য।
- দেশের ভেতরে পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা হলে পাটের বিপুল চাহিদা তৈরি হবে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুসারে, পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ: ঢাকা।

উৎস: i) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
ii) পাট অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৮.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে, বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার কোন দেশ?
  1. চীন
  2. যুক্তরাজ্য 
  3. জার্মানি
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
রপ্তানি আয়:
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি আয়: ৩২,৮৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫.৪৫%।

উল্লেখ্য,
- নীটওয়্যার: ১৮,৫৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৮.৩৫%)।
- তৈরি পোশাক: ১৪,২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৭.১০%)।

⇔ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দেশ হিসেবে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। 
- এই রপ্তানি ২০২৩ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

উৎস: i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
ii) ১১ মার্চ, ২০২৫, প্রথম আলো।
১৯.
চীন কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭৫ সালের ১১ জুলাই
  2. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭৫ সালের ২২ আগস্ট
  4. ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল।

⇒ সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২০.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়? [মে, ২০২৫]
  1. সেবা খাত
  2. শিল্প খাত
  3. কৃষি খাত
  4. পরিবহন খাত 
ব্যাখ্যা
খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান:
⇒ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে -
• কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৫.০০%।
• শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ১৭.০০%।
• সেবা খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৩৮.০০%।

⇔ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয় এবং সবচেয়ে কম কর্মসংস্থান হয় শিল্পখাতে। 

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
২১.
প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষিশুমারি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে কোনটি?
  1. ৩য় কৃষি শুমারি
  2. ৪র্থ কৃষি শুমারি
  3. ৫ম কৃষি শুমারি
  4. ৬ষ্ঠ কৃষি শুমারি
ব্যাখ্যা
পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি:
- ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়।
- তাই এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
- এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
২২.
২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো -
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ২১ জানুয়ারি
  3. ১১ মার্চ
  4. ১৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস:
- ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়।
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় বক্তব্য প্রদান ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব দাখিল করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয়।
- এদিন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সব মুসলিম সদস্য একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও হরতাল পালিত হয় পূর্ব বাংলার প্রায় সবগুলো জেলা শহরেই।
- ১১ মার্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি, ছাত্র ধর্মঘটের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছিল।
- তীব্র আন্দোলনের মুখে খাজা নাজিমুদ্দীন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৮টি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই করতে বাধ্য হন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
কত সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
BEZA:
- BEZA-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Economic Zones Authority.
- বেজা বা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন- ২০১০ অধ্যাদেশ দ্বারা গঠিত।

⇒ এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর বিধানানুসারে ৯ নভেম্বর ২০১০ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বেজা'র লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে পশ্চাতপদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভবনাময় সকল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা।
- অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন, রপ্তানী ও কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
- এ লক্ষ্যে বেজা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
- দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং তিন জন নির্বাহী সদস্য সমন্বয়ে বেজার নির্বাহী বোর্ড গঠিত।

উৎস: বেজা ওয়েবসাইট।
২৪.
জাতীয় কৃষি দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ১১ নভেম্বর
  2. ১৫ নভেম্বর
  3. ২০ নভেম্বর
  4. ২২ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
জাতীয় কৃ‌ষি দিবস:
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক সোনালি অধ্যায়ের নাম কৃষি।
- উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর বা ১লা অগ্রহায়ণ 'জাতীয় কৃ‌ষি দিবস ও নবান্ন উৎসব' পালিত হয়।
- কৃষিই সমৃদ্ধি এ শ্লোগানকে ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বর বা '১লা অগ্রহায়ণ, ১৪১৫' সালে প্রথম জাতীয় কৃষি দিবস পালন করা হয়।
- সেই থেকে প্রতিবছর কৃষি দিবস পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৫.
নিম্নের কোনটি বেসরকারি ইপিজেড?
  1. কর্ণফুলী ইপিজেড
  2. আদমজী ইপিজেড
  3. কোরিয়ান ইপিজেড
  4. ভুটানিজ ইপিজেড
ব্যাখ্যা
কোরিয়ান ইপিজেড:
- দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেড।
- এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
- কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং।
- চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেড এর কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে শুরু হয়।
- প্রথমে দুই দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান গ্রুপ শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলে বেসরকারিভাবে।
- ইয়াংওয়ান করপোরেশন পরিচালিত কেইপিজেডে বর্তমানে ৪৮টি শিল্পে ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- এই ইপিজেডের ৫২ শতাংশ জমি বনায়ন ও পরিবেশের জন্য নির্ধারিত।
- ফলে এটিকে বড় পরিবেশবান্ধব ইপিজেড বলা হয়।

অন্যদিকে,
- কর্ণফুলী ইপিজেড ও আদমজী ইপিজেড সরকারি ইপিজেড ও ভুটানিজ ইপিজেড বলতে দেশে কোন ইপিজেড নেই।

উৎস: i) বণিক বার্তা।
ii) বেজা ওয়েবসাইট।
২৬.
নিম্নের কোনটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান?
  1. ব্র্যাক
  2. সাজেদা ফাউন্ডেশন
  3. শক্তি ফাউন্ডেশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র ঋণ:
- ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণাটি হচ্ছে, দরিদ্র ব্যক্তিদের কিছু টাকা ঋণ দেওয়া।
- সেই টাকায় তাঁরা ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার মুনাফা থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন প্রতিষ্ঠানকে।
- প্রতিষ্ঠান আবার ওই টাকা ঋণ দেবে অন্য কাউকে।
- এভাবেই বিষয়টি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- ব্র্যাক, আশা, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, এসএসএস, সাজেদা ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন, শক্তি ফাউন্ডেশন-এ ১০টি দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।

⇒ বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।
- এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়।
- এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দেখভালে বহু বছর কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না।
- প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ২০০৬ সালে গঠিত হয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।
- এ সংস্থার সনদ ছাড়া বর্তমানে কেউ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে পারেন না।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বিবিসি বাংলা।
২৭.
কোনটি তালিকাভুক্ত তফসিলী ব্যাংক নয়?
  1. জনতা ব্যাংক
  2. অগ্রণী ব্যাংক
  3. রূপালী ব্যাংক
  4. আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
ব্যাংক খাত:
- বর্তমানে দেশে প্রধানত দুই শ্রেণির ব্যাংক রয়েছে। যথা:
১। তফসিলী ব্যাংক:
- যে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত হয়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়ম-নীতি মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে।
- বর্তমানে মোট তফসিলি ব্যাংক: ৬২টি। যথা:
• রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক: ৬টি,
• বিশেষায়িত ব্যাংক: ৩টি,
• বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: ৪৩টি,
• ডিজিটাল বাণিজ্যিক ব্যাংক: ১টি,
• বিদেশি ব্যাংক: ৯টি।

২। অ-তফসিলী ব্যাংক:
- যে সকল ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয় তাদেরকে অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে। এরূপ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি-নিষেধ মেনে চলে না।
- বর্তমানে অ-তফসিলী ব্যাংক: ৫টি।
১. আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক,
২. কর্মসংস্থান ব্যাংক,
৩. গ্রামীণ ব্যাংক,
৪. জুবিলি ব্যাংক,
৫. পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
২৮.
বর্তমানে দেশের কত শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের কোনো জমি নেই? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ৪৪ শতাংশ
  2. ৪৮ শতাংশ
  3. ৫২ শতাংশ
  4. ৫৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা
কৃষি নির্ভর পরিবার:
- গ্রামীণ কৃষি খাতে নিয়োজিত বেশিরভাগ পরিবার এখন ভূমিহীন।
- ৫৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের কোনো জমি নেই।
- সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভূমিহীন পরিবার রয়েছে, আর খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ভূমিহীন পরিবার রয়েছে।
- ভূমিবণ্টন ব্যবস্থার এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে।

উৎস: i) আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই)।
ii) কালের কন্ঠ। [link]
২৯.
বাংলাদেশের প্রথম চিনিকল কোনটি?
  1. পঞ্চগড় সুগার মিলস লি
  2. পাবনা সুগার মিলস লি
  3. কেরু এন্ড কোং (বিডি) লি
  4. নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (BSFIC):
- BSFIC এর পুর্ণ রূপ: Bangladesh Sugar and Food Industries Corporation.
- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ১৫টি চিনিকল, ১টি ডিস্টিলারি ইউনিট, ১টি ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা, ১টি জৈবসার কারখানা ও ২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
- চিনিকলগুলোতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫২,৯৪৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২১,৩১৩ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নাটোরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লি দেশের প্রথম চিনিকল।

⇒ করপোরেশনের আওত্তাধীন চিনিকলসমূহ:
- পঞ্চগড় সুগার মিলস লি:
- ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লি:
- শ্যামপুর সুগার মিলস লি:
- জয়পুরহাঁট সুগার মিলস লি:
- সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লি:
- রংপুর সুগার মিলস লি:
- ফরিদপুর সুগার মিলস লি:
- নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লি:
- কেরু এন্ড কোং (বিডি) লি:
- পাবনা সুগার মিলস লি:
- রাজশাহী সুগার মিলস লি:
- নাটোর সুগার মিলস লি:
- জিল বাংলা সুগার মিলস লি:
- কুষ্টিয়া সুগার মিলস লি:
- মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস লি:।

উৎস: i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
ii) বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৩০.
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা লাভ করে -
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
স্টক এক্সচেঞ্জ:
- বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ (শেয়ার বাজার) দুইটি। যথা:
• ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৫৪ সাল),
• অপরটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৯৫ সাল)।

⇒ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ:
- ঢাকার শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়ে গঠিত।
- এটি দেশের বৃহত্তম শেয়ার বাজার।
- এটি রাজধানী ঢাকার প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে অবস্থিত।
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৫৪ সালে এবং আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৫৬ সালে।

• ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর ইনডেক্স:
i) DSE Broad Index,
ii) DSEX Shariah Index,
iii) DS30 Index,
iv) DSE CDSET Index.

উৎস: DSE ওয়েবসাইট।
৩১.
মুক্তিযুদ্ধে ৬নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হেজামারা
  2. বুড়িমারী
  3. মেলাঘর
  4. হরিণা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সদরদপ্তর:
= ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।

= ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।

= ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।

= ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।

= ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।

= ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমারী (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।

= ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।

= ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।

= ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।

= ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২.
খরা সহনশীল জাতের ধান -
  1. ব্রি ধান-৫১
  2. ব্রি ধান-৫২
  3. ব্রি ধান-৫৫
  4. ব্রি ধান-৭৯
ব্যাখ্যা
খরা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫৫,
• ব্রি ধান-৫৬,
• ব্রি ধান-৫৭,
• ব্রি ধান-৬৫,
• ব্রি ধান-৬৬,
• ব্রি ধান-৭১.

অন্যদিকে,
⇒ জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫১, 
• ব্রি ধান-৫২, 
• ব্রি ধান-৭৯ প্রভৃতি।

উৎস: i) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ii) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৩৩.
নিম্নের কোন অর্থকরী ফসলটি 'সাদা সোনা' হিসেবে পরিচিত?
  1. তুলা
  2. পাট
  3. তামাক
  4. চা
ব্যাখ্যা
অর্থকরী ফসল তুলা 'সাদা সোনা' হিসেবে পরিচিত।

তুলা:

- বস্ত্র শিল্পের মূল ও প্রধান উপাদান তুলা।
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং আন্তর্জাতিক শিল্প ফসল, যা বিশ্বব্যাপী ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্প বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা।

⇒ বাংলাদেশে মূলত সমভূমি জাতের এবং সীমিত আকারে পাহাড়ী জাতের তুলার চাষ হয়ে থাকে। প্রধানত যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বন্যামুক্ত সমভূমিতে এবং বন্যামুক্ত চরাঞ্চলে তুলা চাষ হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলের সমতল ভূমিতেও সমভূমির জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। যেহেতু তুলা একটি খরা ও লবন সহনশীল ফসল, তাই কম বৃষ্টি প্রবণ রাজশাহী ও রংপুরের বরেন্দ্র অঞ্চলে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমভূমি অঞ্চলে তুলাচাষ নির্ভরই আমাদের বস্ত্র শিল্প।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
৩৪.
হলওয়েল বর্ণিত অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নিম্নের কে জড়িত?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. নবাব আলীবর্দী খান 
  3. শের শাহ 
  4. ইসলাম খান চিশতী 
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা জড়িত।


⇒ ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা হলো অন্ধকূপ হত্যা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কত? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ১ম 
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ 
ব্যাখ্যা
ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান:
- ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১ম।
- বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে।
- ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ।
- বার্ষিক উৎপাদন প্রায় তিন লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। বার্ষিক উৎপাদন প্রায় তিন লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন
- বাংলাদেশে ইলিশের চারটি প্রজনন ক্ষেত্র এবং ছয়টি অভয়াশ্রম আছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি।
৩৬.
বাংলাদেশে নোটিফায়েড ফসল কয়টি? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
নোটিফায়েড ফসল:
- বাংলাদেশে নোটিফায়েড ফসল ৭টি।
- ধান, গম, পাট, আলু, আখ, মেস্তা ও কেনাফ হচ্ছে নোটিফায়েড ফসল।
- শুধুমাত্র পাব্লিক ম্যান্ডেটেড গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় নোটিফায়েড ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে পারে।
- নোটিফায়েড ফসলের জাত অবমুক্তকরণের পূর্বে অবশ্যই জাতীয় বীজ বোর্ড এর টেকনিক্যাল কমিটি পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে।

এছাড়াও,
⇒ নন-নোটিফায়েড ফসল:
- অন্যান্য নন-নোটিফায়েড ফসলের ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যথাযথ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাত অবমুক্ত করতে পারে।
- এক্ষেত্রে পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে আবশ্যক নয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA)
৩৭.
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় কোন স্থাপনাকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়?
  1. সংসদ ভবন
  2. গণভবন
  3. বঙ্গভবন
  4. রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর:
- জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

⇒ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি এবং বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যত অন্যায়–অবিচার হয়েছে, তার সবকিছু সংরক্ষণ করার জন্য এটাকে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
- গণভবন যে অবস্থায় আছে, জনগণ যেভাবে রেখেছেন সে অবস্থায় রাখা হবে। এর মধ্যে ভেতরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৩৮.
জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীপুর, গাজীপুর
  2. আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
  3. গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ
  4. ছাতক, সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ):
- SEZ-এর পূর্ণরূপ: Special Economic Zone.
- এসইজেড (SEZ) একটি বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চল যা শুল্কমুক্ত ছিটমহল হিসাবে বিবেচিত হয়।
- ​​বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইপিজেড বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন (Special Economic Zone) বা এসইজেড (SEZ) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‌
- যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে এস ই জেডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত।
- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মোট ১১১০ একর জমিতে নির্মাণ হচ্ছে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- জাপানের সুমিতমো করপোরেশন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

উৎস: BSEZ ওয়েবসাইট।
৩৯.
আকিজ জুট মিলস কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ফরিদপুর
  2. গোপালগঞ্জ
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা
আকিজ জুট মিল:
- বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আকিজ জুট মিলস।
- এটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং আকিজ জুট মিলের মালিক এস কে নাসির উদ্দিন।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশের পাট শিল্প:
- বাংলাদেশে বছরে ১১-১২ লাখ টন পাট উৎপাদন হয়।
- যার মধ্যে দুই লাখ টন কাঁচা পাট সরাসরি রপ্তানি করা হয় এবং আরও দুই লাখ টন স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
- বাকি সাত লাখ টন ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে বিশ্ববাজারে রপ্তানির জন্য সুতা তৈরিতে।

উৎস: i) আকিজ জুট মিল ওয়েবসাইট। 
ii) The Business Standard পত্রিকা রিপোর্ট।
৪০.
কোন আমের জাতটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে?
  1. হিমসাগর
  2. ফজলি
  3. ল্যাংড়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জিআই (GI):
- জিআই (GI) এর পূর্ণরুপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক।
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের খিরসাপাত আম (হিমসাগর), রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম, রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

উৎস: i) পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৪১.
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯১
  2. ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯২
  3. ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯৩
  4. ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯৫
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিক ব্যাংক:
- যে ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ঋণদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
- ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত হয়।

ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯১
- ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে তফসিলি ব্যাংক বলা হয়।
- আইনের ধারাগুলি ব্যাংকিং কোম্পানিগুলির কার্যক্রম দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: i) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
৪২.
বর্তমানে কয়টি চলমান স্থলবন্দর রয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ২৪টি
  2. ২২টি
  3. ১৮টি
  4. ১৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ:
- স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজতর এবং উন্নতর করাই বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
- বর্তমানে স্থলবন্দরের মোট সংখ্যা ২৪টি এবং চলমান স্থলবন্দরের সংখ্যা ১৬টি।

⇒ ১৬টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর যেমন বেনাপোল, ভোমরা, আখাউড়া, বুড়িমারী, নাকুগাঁও, তামাবিল, সোনাহাট, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, বিলোনিয়া, শেওলা ও ধানুয়াকামালপুর স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাস্থবক) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সোনামসজিদ, হিলি, টেকনাফ, বাংলাবান্ধা ও বিবিরবাজার এই ৫টি স্থলবন্দর BOT ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
- এছাড়া রামগড় ও বাল্লা এই ২টি স্থলবন্দর চালুর জন্য অপেক্ষাধীন রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএসবিকে) প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে।
- স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ।
- স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম সহজ ও অধিকতর উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছে এ সংস্থাটি।
- বিএসবিকের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ২৪টি স্থল শুল্ক স্টেশনকে ‘স্থলবন্দর’ ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৪৩.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত ইপিআর বাহিনীর কতজন বীরশ্রেষ্ঠ ছিলেন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বিজিবি:
- মুক্তিযুদ্ধে ইপিআর বাহিনীর সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন।
- এর মধ্যে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৮ জন ‘বীর উত্তম’, ৩২ জন ‘বীর বিক্রম’ ও ৭৮ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে এক অসামান্য অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর)।
- একটি আধা সামরিক বাহিনী হয়েও সামান্য সংখ্যক সনাতন অস্ত্রকে সম্বল করে এই বাহিনীর বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন।
- তারা হলেন: শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।

⇒ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর আক্রমন করে।
- এ বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়।
- ফলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সৈনিক ও জনতা।
- প্রথম দিকে ইপিআরের বাঙালি সদস্যগণ রণকৌশলগত কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিঞ্জিরায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এ বাহিনীর ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে ৯ মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে।
- এ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ও শত্রুঘাটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্মঘাতি আক্রমণসহ অসংখ দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৪৪.
নানকার বিদ্রোহ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
নানকার বিদ্রোহ:
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটে সংঘটিত হয়েছিল।

⇒ 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

⇒ বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব গৌরবমণ্ডিত আন্দোলন-বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো 'নানকার বিদ্রোহ'। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম শোষণ পদ্ধতি ছিল নানকার প্রথা।
- নানকার প্রজারা জমিদারের দেওয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করত; কিন্তু ওই জমি ও বাড়ির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না।
- নানকার প্রজারা বিনা মজুরিতে জমিদারের বাড়িতে কাজ করত।
- চুন থেকে পান খসলেই তাদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন।
- মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার রেঙ্গা পরগনাসমেত এই অঞ্চলে এই সামন্তপ্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূমালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। 
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় দানা বাঁধতে থাকল নানকার আন্দোলন।
- কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সব নির্যাতিত জনগণকে সংগঠিত করার কাজ। 
- সে সময় অজয় ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কাজ করেছেন শিশির ভট্টাচার্য্য, ললিত পাল, জোয়াদ উল্ল্যা, আব্দুস সোবহান ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েক জন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া, এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজনকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
বাংলাদেশে ইলিশের কয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৩৮টি
ব্যাখ্যা
ইলিশ:
- জাতীয় মাছ ইলিশ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
- বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১%।
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১১%।
- বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬%।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা জেলায়।
- বাংলাদেশে ইলিশের ৪টি প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে।
- দেশে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ৩৮টি।
- দেশে ইলিশের অভয়াশ্রম ৬টি।

উৎস: i) ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
ii) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।
৪৬.
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সর্ববৃহৎ সংগঠন কোনটি?
  1. BEZA
  2. BEPZA
  3. BGMEA
  4. BKMEA
ব্যাখ্যা
BGMEA:
- BGMEA-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association.
- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সর্ববৃহৎ সংগঠন বিজিএমইএ।
- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় বণিক সমিতি।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- BGMEA বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করার জন্য ব্র্যান্ড এবং উন্নয়ন অংশীদার সহ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সাথে সহযোগিতা করে।
- বর্তমানে BGMEA-তে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত পোশাক কারখানা রয়েছে।

⇒ বিজিএমইএ পরিচালিত হচ্ছে ৩৫ সদস্যের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা।
- পরিচালনা পর্ষদ দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৭ সালে মাত্র ১২ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরুর পর থেকে সমিতিটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়ন ও বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কাজ করে আসছে।
- বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৫০০ এর কাছাকাছি।
- বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলির প্রায় ৪০% নিটওয়্যার এবং সোয়েটার প্রস্তুতকারক এবং বাকি ৬০% বোনা পোশাক প্রস্তুতকারক।
- বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলি দেশের ১০০% বোনা পোশাক রপ্তানি এবং ৯৫% এরও বেশি সোয়েটার রপ্তানি করে, যেখানে হালকা নিটওয়্যার রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই তাদের দ্বারা তৈরি করা হয়।

উৎস: BGMEA ওয়েবসাইট।
৪৭.
'অগ্নিশ্বর' কোন ফলের উন্নত জাত? 
  1. কমলা
  2. কলা
  3. আম 
  4. আনারস 
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উন্নত জাতের আনারস:
- জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।

উন্নত জাতের কমলা:
- রামরঙ্গন, বারি কমলা-১, বারি কমলা-২, বারি কমলা-৩, খাসি, ম্যান্ডারিন।

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৪৮.
BSEC-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. প্রধান উপদেষ্টা
  2. মহাপরিচালক
  3. পরিচালক
  4. চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
BSEC:
- BSEC-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Securities and Exchange Commission.
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসইসি।
- ৮ জুন, ১৯৯৩ তারিখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ -এর অধীনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিএসইসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ সংস্থা সরকারের সহযোগিতায় তার কর্মপরিধির আওতায় পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন তথা একটি স্বয়ংক্রিয়, টেকসই ও উন্নত পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।
- কমিশনের উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকের পুঁজির নিরাপত্তা বিধান ও পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
- কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে গঠিত এবং চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন এবং সে মোতাবেক বাজার তদারকি করা কমিশনের সার্বিক দায়িত্ব।
- কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত।
- BSEC ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশন (IOSCO) এর 'A' ক্যাটাগরির সদস্য।

⇒ BSEC-এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

উৎস: BSEC ওয়েবসাইট।
৪৯.
নিম্নের কোনটির কারণে বাজারের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়?
  1. মুদ্রাস্ফীতি
  2. বাণিজ্য ঘাটতি
  3. তারল্য সংকট
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুদ্রাস্ফীতি:
- বাজারে উৎপাদনের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি হলো মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি।
- এতে করে টাকা তথা মুদ্রার মান হ্রাস পায়। পক্ষান্তরে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

⇒ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:
• উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের উপর প্রভাব:
- পূর্ণ নিয়োগস্তর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি মুদ্রাস্ফীতি ঘটে তাহলে মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও কর্মনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয় না।
- ফলে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে এবং দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

• আয় বণ্টনের উপর প্রভাব
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থ ও সম্পদ এক শ্রেণীর লোকের হাত হতে অন্য এক শ্রেণীর লোকের হাতে চলে যায়।

• মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মূল্যস্তর ও উৎপাধন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
- ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে,
- একটি দেশ যখন পণ্য রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি করে তখন তাকে বাণিজ্য ঘাটতি বলে।
- কোনো কারণে গ্রাহক যদি ব্যাংকের নিকট (তার সঞ্চিত অর্থ কিংবা বিনিয়োগের জন্য ঋণের টাকা) চেয়ে না পান তখন যে অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই অবস্থা। অর্থাৎ গ্রাহকের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর মতো টাকা ব্যাংকে জমা না থাকার মত অবস্থাকে তারল্য সংকট বলে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান:
- বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়।
- বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম।
- মিঠা পানির মাছ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়।
- ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১ম।
- কাঁকড়া চাষে বাংলাদেশ নবম অবস্থানে রয়েছে।
- সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম।
- তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) প্রকাশ করা বিশ্বের মৎস্যসম্পদবিষয়ক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২৪’–এ এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ২০২২ সালের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) FAO ওয়েবসাইট।
৫১.
সেন আমলে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন -
  1. বল্লাল সেন
  2. বিজয় সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
মৎস্য আইন অনুসারে, কত সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের রুই মাছ ধরা নিষেধ?
  1. ৯ সেন্টিমিটার
  2. ১৩ সেন্টিমিটার
  3. ১৮ সেন্টিমিটার
  4. ২৩ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
মৎস্য আইন:
- বিশেষ বিশেষ মৎস্যপ্রজাতির পোনা ও রেণু সংরক্ষণ এবং কতিপয় মাছ শিকার কার্যক্রম সীমিত করার জন্য ১৯৫০ সালে প্রাদেশিক আইন সভায় পূর্ব বাংলা মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন পাস করা হয়।
- ১৯৬৩, ১৯৭০, ১৯৮২ ও ১৯৮৫-১৯৮৮ সালে এ আইনের বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

⇒ এই আইন অনুসারে,
- মধ্য আষাঢ় মাস থেকে মধ্য পৌষ মাস (জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস) ২৩ সেন্টিমিটার বা ৯ ইঞ্চি বা তার চেয়ে ছোট আকারের রুই, কাতলা, কালবাউশ, ঘনিয়া প্রভৃতি মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস) ২৩ সেন্টিমিটার বা ৯ ইঞ্চি বা তার চেয়ে ছোট আকারের ইলিশ মাছ (জাটকা) ও পাঙ্গাস মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস) ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) বা তার চেয়ে ছোট পাঙ্গাস, শিলং, বোয়াল, আইড় প্রভৃতি মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- নদ-নদীসহ বৃহদাকার জলাশয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বা স্থায়ীভাবে জাল পেতে মাছ ধরা বা মাছের স্বাভাবিক চলাচলে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- বিস্ফোরক দ্রব্য, বন্দুক, তীর, বর্শা ইত্যাদি মারণাস্ত্র ব্যবহার করে বা জলাশয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছের আবাসস্থল বা প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট করা আইনগত দন্ডনীয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
নিম্নের কোনটি অগ্রাধিকার শিল্প নয়?
  1. পাট ও পাটজাত শিল্প
  2. চা শিল্প
  3. উইন্ড মিল
  4. পর্যটন শিল্প
ব্যাখ্যা
পাট ও পাটজাত শিল্প অগ্রাধিকার শিল্প নয়।

অগ্রাধিকার শিল্প:

- 'অগ্রাধিকার শিল্প (Priority Sector)' বলতে সে সমস্ত শিল্প গণ্য হবে যে শিল্পখাতগুলো বিকাশমান এবং ক্রমবর্ধমানভাবে দেশের সামগ্রিক রপ্তানিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোন কোন শিল্পখাত/শিল্প উপ-খাত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাত/উপ-খাত হিসেবে চিহ্নিত হবে তা সময়ে সময়ে সরকার কর্তৃক ঘোষিত হবে।

⇒ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্পখাতসমূহ:
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান,
- পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প,
- পর্যটন শিল্প,
- হোম টেক্সটাইল শিল্প,
- উইন্ড মিল,
- ভেষজ ঔষধ শিল্প,
- হাসপাতাল ও ক্লিনিক,
- এলইডি, সিএফএল বাল্ব উৎপাদন,
- চা শিল্প,
- বীজ শিল্প,
- প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ,
- সিমেন্ট শিল্প,
- লজিস্টিকস শিল্প খাত।

উৎস: জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২।
৫৪.
'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' কবে জারি করা হয়?
  1. জুন, ১৯৭১
  2. জুলাই, ১৯৭১
  3. আগস্ট, ১৯৭১
  4. সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পক্ষের সহযোগী বাহিনী:
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' জারি করেন।
- শুরুতে আনসার, মুজাহিদদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়।
- পরে পাকিস্তানপন্থি অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেয়।
- এই বাহিনী গঠনে জেনারেল নিয়াজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

উল্লেখ্য,
- রাজাকারদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ। রাজাকারদের ট্রেনিং দিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর এবং আলশামস নামে আরও দুটি বাহিনী ছিল। এরাও বিভিন্নভাবে হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে।মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় প্রথম যে সংগঠনের জন্ম হয় তা হলো 'শান্তি কমিটি'। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫.
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?
  1. ১৭৫৮ সালে
  2. ১৭৬২ সালে
  3. ১৭৭৮ সালে
  4. ১৭৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রিঃ):
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে 'পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়।
- গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
- সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি সাগর বঙ্গোপসাগর ইংরাজী সাইন ভারতবর্ষ, ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় 'সিক্রেট কমিটি'ও গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
VGF কী? 
  1. শিশুদের স্বাস্থ্য কার্যক্রম
  2. নারী শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম
  3. খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম
  4. বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম
ব্যাখ্যা
VGF:
- VGF- এর পূর্ণরূপ: Vulnerable Group Feeding.
- VGF হলো খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একটি ত্রাণ কর্মসূচির নাম।
- ভিজিএফ কর্মসূচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়।

⇒ সাধারণত দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দরিদ্র মানুষের জীবিকা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
- প্রতি পরিবারকে মাসিক ২০-৪০ কেজি করে ২ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা দেয়া হয়।
- এছাড়া, মা ইলিশ ও জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেরাও ভিজিএফ সহায়তা পেয়ে থাকেন।
- বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে দরিদ্র জনগণও ভিজিএফ সহায়তা পান।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১,০৮৯.৭৮ কোটি টাকা।

⇒ ভিজিএফ একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সরকার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করে থাকে।
- ভিজিএফ কর্মসূচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়।

⇒ এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস করা:
(১) দুঃস্থ ও গরীর জনগণের দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন করার লক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
(২) পীড়িত জনগণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ করা;
(৩) মন্দার সময়ে কর্মহীন জনগণের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করা;
(৪) উপকারভোগীদেরকে সাময়িক সাহায্যেরমাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে অবদান রাখা, বিশেষ করে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

উৎস: i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
ii) সমাজসেবা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৫৭.
কোন জেলা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ঝিনাইদহ
  2. কুষ্টিয়া 
  3. যশোর 
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
তুলা:
- ১৯৭৩-৭৪ সনে বাংলাদেশে সমভূমির তুলাচাষ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলা চাষ এলাকা ও উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
- বর্তমানে সমতল এলাকার পাশাপাশি ৩টি পার্বত্য জেলাতেও পাহাড়ি জাতের তুলার চাষাবাদ হচ্ছে।
- বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলা গবেষণা, এর সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও জিনিং এবং ঋণ বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

⇒ সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৩ অনুসারে তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ঝিনাইদহ।
- অর্থাৎ ঝিনাইদহ জেলা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।


উৎস: i) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
ii) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫৮.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. আব্দুল কুদ্দুস মাখন
  2. নূরে আলম সিদ্দিকী
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. শাজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

• পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে,
- জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- অর্থাৎ, পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থের অনুপাত = ১০ : ৬ = ৫ : ৩।
- পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং লাল বৃত্তের মাঝের অনুপাত = ১০ : ৬ : ২ = ৫ : ৩ : ১।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
iii) প্রথম আলো।
iv) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯.
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোন বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক অর্থায়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করে?
  1. অর্থ বিভাগ
  2. আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ
  3. অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ
  4. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ
ব্যাখ্যা
অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance):
- অর্থ মন্ত্রণালয় নিম্নে বর্ণিত চারটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত:
১. আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি),
২. অর্থ বিভাগ (এফডি),
৩. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং
৪. অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

⇒ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (Economic Relations Division):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম, নীতি প্রণয়ন, উক্ত বিষয়ে সুপারিশ প্রদান এবং দেশের উন্নয়ন কর্ম পরিকল্পনায় আর্থিক ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের দায়িত্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপর ন্যস্ত।
- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বৈদেশিক সম্পদ (অনুদান, ঋণ ও খাদ্য সাহায্য) আহরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে থাকে।
- এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিভাগটি সরকার গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা এবং বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে।
- এ সকল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থ ছাড়করণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ পরিবীক্ষণ এ বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব।
- এ দায়িত্ব পালনের জন্য এ বিভাগের সমস্ত কার্যক্রমকে বিশ্বের ভৌগোলিক অবস্থানভেদে উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উপর ভিত্তি করে অনুবিভাগওয়ারি বিন্যস্ত করা হয়েছে।

উৎস: অর্থ মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৬০.
বাংলাদেশে সামুদ্রিক বন্দর কয়টি? [মে, ২০২৫]
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশে সামুদ্রিক বন্দর ৩টি। এগুলো হলো:
১. চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর:
- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।

২. মংলা সমুদ্র বন্দর:
- মংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। এটা দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর। বন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ ডিসেম্বর, ১৯৫০ সালে। এটি পশুর নদী ও মংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত।

৩. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর 'পায়রা বন্দর' পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে, কোন ইপিজেডে উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. ঢাকা ইপিজেডে
  2. কর্ণফুলী ইপিজেডে
  3. আদমজী ইপিজেডে
  4. চট্টগ্রাম ইপিজেডে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ):
- শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ-বেপজা (Bangladesh Export Processing Zone Authority-BEPZA) দেশে ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণসহ দেশে শিল্প খাত বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৮টি সরকারি ইপিজেড রয়েছে।
- যথা: চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, উত্তরা, আদমজী ও কর্ণফুলী ইপিজেড।
- ইপিজেডসমূহে উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ৪৫০টি এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে: ১০৩টি।

উল্লেখ্য,
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চট্টগ্রাম ইপিজেডে উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ১৪৫টি।
- সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয় ও রপ্তানি আয় আসে চট্টগ্রাম ইপিজেড।

⇒ দ্বিতীয়: ঢাকা ইপিজেড; উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ৮৮টি।
- সবচেয়ে কম উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঈশ্বরদী ইপিজেডের; উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ২২টি।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৬২.
বাংলাদেশ ব্যাংক কতদিন পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে?
  1. মাসিক
  2. ত্রৈমাসিক
  3. ষান্মাসিক
  4. বার্ষিক
ব্যাখ্যা
মুদ্রানীতি (Monetary policy):
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে নীতি গ্রহণ করা হয়, তাকে মুদ্রানীতি বলে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
- মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।
- এ জন্য দেশের আর্থিক খাতের চিত্র কেমন হবে এ নিয়ে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নীতি ঠিক করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে প্রতি ছয় মাস (ষান্মাসিক) পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- সাধারণত জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর—এই সময়সীমা ধরে বাংলাদেশে মুদ্রানীতি দেওয়া হয়।

⇒ ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম মুদ্রানীতি দেওয়া হয়। তখন বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করত বাংলাদেশ ব্যাংক।
- পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবির বছরে একবার মুদ্রানীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেন।
- পরের কয়েক বছর এমনই ছিল।
- পরে ২০২৩ সাল থেকে আবার বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণার রীতিতে ফিরে যায় বাংলাদেশ।

⇒ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো:
১. অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় মূল্যের স্থায়িত্ব,
২. টেকসই বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন,
৩. উচ্চ কর্মসংস্থান,
৪. সম্পদের অর্থনৈতিক এবং দক্ষ ব্যবহার,
৫. আর্থিক ও পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সময়ের মুদ্রানীতিতে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: i) Bangladesh Bank ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৬৩.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা কে করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. অর্থ মন্ত্রী
  3. বাণিজ্য মন্ত্রী
  4. শিল্প মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
বাজেট:
- বাজেট শব্দটি Bougette শব্দ হতে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এই ফরাসী শব্দটির অর্থ হলো ব্যাগ বা থলে।
- বৃটিশ অর্থমন্ত্রী ১৭৩৩ সালে কমন্স সভায় সর্বপ্রথম বাজেট শব্দটির উল্লেখ করেন।
- তখন থেকে বাজেট শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- বাংলা একাডেমির বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানে বলা হয়েছে, ১৯০২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় বাজেট শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

⇒ সাধারনত কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়-ব্যয়ের হিসাবই বাজেট।
- বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট বৎসরে সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেখানে ঐ সময়ের আর্থিক অবস্থা ও আর্থিক উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করে।
- অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক পরিকল্পনাকেই বাজেট বলে।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ মন্ত্রী।

এছাড়াও,
- স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
- তিনি একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।