পরীক্ষা - ৫৮:
বিষয়: বাংলা
টপিক: বাক্য প্রকরণ, বাক্য রূপান্তর।
উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন
১.
‘চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।’ কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
জটিল বাক্য
খ
সরল বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন: - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। - চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি। - পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। - দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২.
'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
ক
ইহাদের ন্যায় রূপবতী এবং রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
খ
ইহারা রূপবতী ও রমণী ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে কেউ নাই।
গ
ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
ঘ
ইহারা রূপবতী রমণী কিন্তু ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে নাই।
ব্যাখ্যা
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর: সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-
• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন: - সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।' - জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়। যেমন: - সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।' - জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়। যেমন: - সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।' - জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়। যেমন: - সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' - জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।' - জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম: • সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।
• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
ক
যারা ধার্মিক তারা সুখী।
খ
সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
গ
সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
ঘ
আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: - হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। - সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি। - সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷ - অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি। - তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
অন্যদিকে, - যারা ধার্মিক তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য। - সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি সরল বাক্য। - আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪.
একটি বাক্যের কয়টি অংশ থাকে?
ক
পাঁচটি
খ
চারটি
গ
তিনটি
ঘ
দুইটি
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা: ১. উদ্দেশ্য, ২. বিধেয়।
• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে। যেমন: - মামুন বল খেলে। এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। যেমন: - মামুন বল খেলে। এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫.
‘যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।’- কোন ধরনের বাক্য?
ক
যৌগিক বাক্য
খ
জটিল বাক্য
গ
সরল বাক্য
ঘ
বিস্ময়বোধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন: - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন: - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। - যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। - যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে। - যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
ক
সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
খ
দৃশ্যটি কী দারুণ!
গ
আর কি পথ আছে?
ঘ
আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।
ব্যাখ্যা
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।- অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ।
--------------- • বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন- • আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম। • তারা তােমাদের ভােলেনি।
• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন- • তােমার নাম কী? • সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়? • আর কি পথ আছে?
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন- • আমাকে একটি কলম দাও। • তার মঙ্গল হােক। • সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন- • দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। • অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি! • দৃশ্যটি কী দারুণ! • আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৭.
বাংলা বাক্যে উদ্দেশ্য কোথায় বসে?
ক
বাক্যের মাঝে
খ
বাক্যের শেষে
গ
বাক্যের শুরুতে
ঘ
যে কোনো জায়গায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।
------------------- • একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা: ১. উদ্দেশ্য, ২. বিধেয়।
• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে। যেমন: - মামুন বল খেলে। [এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]
• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। যেমন: - মামুন বল খেলে। [এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮.
‘সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।’- এখানে ‘বই’ কী?
ক
বিধেয়ের প্রসারক
খ
বিধেয়ের ক্রিয়া
গ
উদ্দেশ্যের প্রসারক
ঘ
বিধেয়ের পূরক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
• উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে। যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
• বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।
বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক। যেমন: - সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।
[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৯.
‘আমার মা চাকরি করেন।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
জটিল বাক্য
খ
সক্রিয় বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
অক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় : - সক্রিয় বাক্য - অক্রিয় বাক্য
• সক্রিয় বাক্য: যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে. যেমন: - আমার মা চাকরি করেন।
• অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: - তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়। যেমন: - ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
ক
সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।
খ
পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
গ
বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
ঘ
যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন: - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। - পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে। - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। - চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি। - পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। - দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।
অন্যদিকে, - সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। - বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ। - যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
‘যে রক্ষক সেই ভক্ষক।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
ক
রক্ষকই কিন্তু ভক্ষক।
খ
যিনি রক্ষক তিনি ভক্ষক।
গ
রক্ষকই এখন ভক্ষক।
ঘ
সেই রক্ষক অথচ সেই ভক্ষক।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন: • জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। • যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।
• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে। • যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক। • যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর। • যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ। • যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
‘সৎপথে তার মতি হোক।’- কী ধনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
আবেগবাচক বাক্য
খ
বিবৃতিবাচক বাক্য
গ
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ঘ
প্রশ্নবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন- • আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম। • তারা তােমাদের ভােলেনি।
• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন- • তােমার নাম কী? • সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়? • আর কি পথ আছে?
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন- • আমাকে একটি কলম দাও। • তার মঙ্গল হােক। • সৎপথে তার মতি হোক। • সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন- • দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। • অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি! • দৃশ্যটি কী দারুণ! • আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।