পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাস: ১৯৪৭ থেকে বর্তমান। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই। [এই পরীক্ষা থেকে পড়া শুরু করলে আগামী ১৫০ দিনে বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাস কাভার হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে কোথায় ?
  1. ক) লাহোরে
  2. খ) ঢাকায়
  3. গ) করাচিতে
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) করাচিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করাচিতে
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তান গণপরিষদ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট করাচিতে।
- ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭-এর শর্তানুযায়ী দুটি গণপরিষদের একটি স্থাপিত হয় ভারতে এবং অপরটি পাকিস্তানে।
- ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
-ভারতের স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী গণপরিষদের দুটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল: দেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত একটি ফেডারেল আইনসভা (সংসদ) হিসেবে কাজ করা।

সোর্স: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মজাম্মেল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।

.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা ও সুর করা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ এবং “তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি “।
- গোবিন্দ হালদার - এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে/পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে…
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির সুরকার দুইজন। প্রথমে আব্দুল লতিফ গানটিতে সুর দেন এবং পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদ গানটিতে সুর দেন। বর্তমানে যে সুরে গানটি গাওয়া হয় সেটি আলতাফ মাহমুদের দেয়া।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' -সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন।

[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]

.
কোন প্রেক্ষাপটে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি’ গঠিত হয়?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)’ গঠিত হয়।
- এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
- পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)।

.
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা ছয় দফার প্রথম দফা-
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  3. গ) প্যারা মিলিশিয়া গঠন
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা বাংলা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মনু মিয়া, মজিবুল্লাহ, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন। ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হন সিলেটের মনু মিয়া। বর্তমানে ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ছয়টি দফা হলো-

১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপন করেছিলেন -
  1. ক) প্রাদেশিক পরিষদের সম্মেলনে
  2. খ) আওয়ামীলীগের সম্মেলনে
  3. গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
  4. ঘ) জাতীয় পরিষদের সম্মেলনে
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া

.
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদে পূর্ববাংলার সদস্য সংখ্যা কতজন ছিল?
  1. ক) ৪২
  2. খ) ৪৩
  3. গ) ৪৪
  4. ঘ) ৪৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন অনুসারে পাকিস্তানে সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি গণপরিষদ গঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট করাচিতে ।
- গণপরিষদে মোট সদস্য ছিল ৭৯ জন এর মধ্যে পূর্ব বাংলার সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৪ জন।
- ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দানের বিল উত্থাপন করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ক্যাপ্টেন শওকত আলীকে
  2. খ) ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহকে
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  4. ঘ) ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
ব্যাখ্যা

- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে করে গণআন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া]

.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ-
  1. ক) শম্ভু সরকার
  2. খ) সন্তু নাথ
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) শঙ্কু সমজদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার। তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।

(সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় , বাংলাপিডিয়া)

১০.
নিচের কে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ক) জেহাদ হোসেন
  2. খ) ডা. মিলন
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৯ সালে সংঘটিত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে স্বৈরাচার আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে। -এই আন্দোলননে ২৪ জানুয়ারি ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।
- একইদিন মকবুল, রুস্তম ও আলমগীর নামে আরও তিনজন শহিদ হন।
- এছাড়া ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান,
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।

- অন্যদিকে নূর হোসেন, জেহাদ এবং ডা. মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া, দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১১.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা-
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৪৩৯ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ৬৭২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৭২ জন
ব্যাখ্যা

- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

খেতাব বাতিল হওয়া চার খুনি হলেন-
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীরউত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীরবিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভা কবে গঠিত হয়?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত এ সরকারে
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি,
- তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী,
- এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া পান।
- এম এ জি ওসমানী প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি”র আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) কমরেড মনি সিং
  3. গ) মনসুর আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)

১৪.
সংবিধান প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ কোনটি ?
  1. ক) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি
  2. খ) গণপরিষদ আদেশ জারি
  3. গ) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
  4. ঘ) সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
সঠিক উত্তর:
ক) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন:
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসেন।
- তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি নতুন ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ক নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৭খ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৬ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ক নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ক নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদ অনুসারে শক্তি প্রয়োগ বা অন্যকোন অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ কিংবা এরূপ কর্মের উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকা বা এরূপ কর্মে সহযোগিতা ও অনুসমর্থন প্রদান প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- ৬ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিকত্ব
- ৮ নং অনুচ্ছেদ : মূলনীতিসমূহ।

(সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)

১৭.
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা বাকশাল গঠন করা হয়।
- এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- এর আগে ২৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেনী এবং বাংলাপিডিয়া ।

১৮.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চুড়ান্ত রায় হয় কবে ?
  1. ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
  2. খ) ২৩ ডিসেম্বর ২০১০
  3. গ) ১৯ নভেম্বর ২০১০
  4. ঘ) ২৩ ডিসেম্বর ২০১০
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
ব্যাখ্যা

- হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল।
- অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

সোর্স: দৈনিক পত্রিকা।

১৯.
কার নির্দেশনায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. ক) রাও ফরমান আলী
  2. খ) টিক্কা খান
  3. গ) আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  4. ঘ) গোলাম আযম
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে দুঃখখজনক ও মর্মান্তিক যে  ঘটনা হয় সেটি হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
- ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পুরো নয় মাস বিশেষত ১০-১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পাক-বাহিনী এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে অবশেষে হত্যা করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ও যশস্বী শিক্ষকসহ, গবেষক, প্রখ্যাত চিকিৎসক, লেখক-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিজীবীদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা স্পষ্টতই ছিল সামরিক জান্তার নীল নকশার বাস্তবায়ন, যে নীল নকশার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙ্গালি জাতিকে নেতৃত্বহীন ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়ায় পরিণত করা
- ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসাবে পালন করে ঐ সময়ে শহীদ হওয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের কিছু তথ্য:
- সার্বিক নির্দেশনা -- পাক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
- সার্বিক তত্ত্ববধায়নকারী -- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
- বাস্তবায়নে ছিলো -- ব্রিগেডিয়ার বশির, লেঃ কর্নেল হেজাজী, মেজর আসলাম, মেজর জহুর, ক্যাপ্টেন নাসের, ক্যাপ্টেন কাইউম।
- দেশীয় দোসর -- আলবদরআলশামস বাহিনী
('আলবদর' এর ঘাতকরা ছিলো জামাত ইসলামীর তৎকালীন অঙ্গ ছাত্রসংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘ' এর সদস্যরা এবং আলশামস বাহিনীর ঘাতকরা ছিলো মুসলিম লীগ, জামায়েত ইসলামীউর্দুভাষী বিহারীদের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী।)
- ঢাকার মিরপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগ, মোহাম্মদপুর সহ আরো কিছু স্থানে এই হত্যাকন্ড সংঘটিত হয়।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র) বই ও বাংলাপিডিয়া।

২০.
শহীদ আসাদ ১৯৬৯ সালের কত তারিখে শহীদ হন-
  1. ক) ১৯ জানুয়ারি
  2. খ) ২০ জানুয়ারি
  3. গ) ২১ জানুয়ারি
  4. ঘ) ২৪ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

- শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদের স্মরণে শেরে বাংলা নগরের ‘আইয়ুব গেট’ ও ‘আইয়ুব এভিনিউ’ এর নাম পাল্টে যথাক্রমে ‘আসাদ গেট’ এবং ‘আসাদ এভিনিউ’ করা হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১.
প্রথম তৈরি শহিদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. গ) আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. ঘ) আবুল হাশিম
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ড. বদরুল আলমের ডিজাইনে কলেজের ছাত্ররা বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রথম শহিদ মিনার নির্মান করেন।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান অনানুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক ‘আবুল কালাম শামসুদ্দিন’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকালবেলা পুলিশ সে শহিদ মিনার ভেঙ্গে দেয়।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

সূত্র : বাংলাপিডিয়া।

২২.
ক্র্যাক প্লাটুন কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
  2. খ) স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
  3. গ) আকাশ বাণী থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধত্তোর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
ব্যাখ্যা

- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।

- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।

- ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল)

২৩.
সাংবিধানিকভাবে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে?
  1. ক) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) লতিফুর রহমান
  3. গ) হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) ফখরুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।
- এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
- ৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এর আগে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।
- ফখরুদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

২৪.
অপারেশন জ্যাপকট কবে পরিচালিত হয়?
  1. ক) ১০ জুন
  2. খ) ১৭ জুলাই
  3. গ) ১৫ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

২৫.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতটি রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং
- জাতীয় পার্টি।

২৬.
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাত পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান
  2. খ) মেজর জেনারেল মঞ্জুর
  3. গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
  4. ঘ) মেজর জেনারেল এইচ এম এরশাদ
সঠিক উত্তর:
গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

- কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ (জন্ম: ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪) যিনি কে এম শফিউল্লাহ নামেও পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার।
- তিনি ৩নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং এস ফোর্সের প্রধান হিসেবে হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।
- তিনি ৭ এপ্রিল ১৯৭২ থেকে ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবিহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েবসাইট।

২৭.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য ছিলো কতজন?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭জন
  4. ঘ) ১২ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড : পৃষ্ঠা-১৩, ১৯)

২৮.
১৯৭১ সালের কোন তারিখে বাংলাদেশে বেতারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়?
  1. ক) ১০ জানুয়ারি
  2. খ) ২২ ডিসেম্বর
  3. গ) ২৬ আগস্ট
  4. ঘ) ১৬ মে
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশ বেতারের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী-
- ৭ ই মার্চ পাকিস্থান রেডিও ঢাকা কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার।
- ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়।
- ২৮ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়।
- ২৫ শে মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।
- ৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র নামকরণ।
- ২২ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেতারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।