পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৩ সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ৩ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি (পাহাড়, নদী, সাগর ইত্যাদি), জলবায়ু ও পরিবেশ, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ (বন, কৃষি, শিল্প, পানি), পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাংলাদেশের সমাজজীবন, সমস্যা, জনমিতিক পরিচয়।। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
নিচের কোন উদ্ভিদ থেকে পেন্সিল তৈরি করা হয়?
  1. ধুন্দল গাছ
  2. গরান গাছ
  3. সুন্দরী গাছ
  4. গেওয়া কাঠ 
ব্যাখ্যা

• ধুন্দল গাছ: 
- ধুন্দল গাছ হলো সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ গাছ।
- সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে ধুন্দল ব্যাপকভাবে জন্মায়।
- এটি সুন্দরবনের উদ্ভিদবৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এর কাঠ খুবই মূল্যবান।
- ধুন্দল গাছ মাঝারি আকারের এবং চিরহরিৎ, অর্থাৎ বছরের সব সময় সবুজ থাকে।
- এই গাছের আরেকটি পরিচিত নাম হলো ‘ক্যাননবল ট্রি’।
- ধুন্দল গাছকে “Puzzle Fruit Tree” ও বলা হয়।
- ধুন্দলের কাঠ শক্ত কিন্তু হালকা, তাই এটি সহজেই কাটা যায় এবং বিভিন্ন আকারে ছাঁচে ফেলা যায়।
- এই কারণে এটি পেন্সিল তৈরি করার জন্য উপযুক্ত।
- এছাড়াও, ধুন্দলের কাঠ নির্মাণ কাজ এবং নৌকা বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি ঘুন-পোকা প্রতিরোধী।
- ধুন্দল বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
- তবে, কাঠ ও অন্যান্য ব্যবহার বেশি হওয়ায় এবং বন ধ্বংসের কারণে এই গাছের সংখ্যা কমে আসছে।  

অন্যদিকে, 
• গরান গাছের ছাল থেকে রং প্রস্তুত করা হয়।
• সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে সুন্দরী। 
• গেওয়া কাঠ থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি প্রস্তুত করা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
পাট কোন ধরনের ফসল? 
  1. শীতকালীন 
  2. শুষ্ক ও গরম
  3. ঠাণ্ডা ও আর্দ্র
  4. উষ্ণ আর্দ্র
ব্যাখ্যা

পাট:
- পাট হলো একটি উষ্ণ আর্দ্র মৌসুমী ফসল।
- এটি ভালোভাবে বৃদ্ধি পায় এমন অঞ্চলে যেখানে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেশি থাকে।
- এটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের দিনের ফসল, অর্থাৎ পাটের বৃদ্ধির জন্য খুব বেশি দিনের আলো প্রয়োজন হয় না।
- পাট চাষ করার জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা উচিত যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫°সে. এবং সর্বোচ্চ ৪৩°সে. থাকে।
- এবং বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় ৬০% থাকে।
- পাটের বৃদ্ধির জন্য বার্ষিক ১০০০–১৫০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত এবং রোদ্র-উজ্জ্বল আবহাওয়া উপযুক্ত।
- পাটের সর্বোত্তম বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তাপমাত্রা ১৮–৩৫°সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০% বা তার বেশি থাকা উচিত।
- পাট সাধারণত জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই চাষের জমিতে ভালো পানি নিষ্কাশন থাকা জরুরি।
-  উচ্চ তাপমাত্রায় (৩২°সে.) পাটের গাছ মোটা ও লম্বা হয়।
- পাটের উৎপাদন মৌসুম- বপন থেকে কাটা পর্যন্ত- প্রায় ফাল্গুনের শেষ থেকে আষাঢ়ের শেষ পর্যন্ত থাকে।
- পাটের চারটি প্রধান জাত হলো—দেশী পাট, তোষা পাট, কেনাফ এবং মেস্তা পাট, যা মূলত আঁশ উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন [লিঙ্ক]; 
২. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

.
গিনি কোন ধরনের ঘাস?
  1. নাতিশীতোষ্ণ অস্থায়ী
  2. শীতমন্ডলীয় স্থায়ী
  3. গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্থায়ী
  4. গ্রীষ্মমন্ডলীয় অস্থায়ী
ব্যাখ্যা

গিনি ঘাস:
- পশুপালনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- নেপিয়ার ঘাস, গিনি ঘাস এবং তাদের সংকর জাত যেমন সুপার নেপিয়ার ও ব্রাকিয়ারিয়া।
- বিশেষ করে এই ঘাসগুলো দুধ ও মাংস উৎপাদনে সাহায্য করে।

- গিনি ঘাস উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালোভাবে জন্মায়;
- এবং একবার রোপণের পর দীর্ঘদিন উৎপাদন দেয়।
- তাই এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্থায়ী ঘাস হিসেবে পরিচিত।
- গিনি ঘাস পশুপালনে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চ ফলনশীল ঘাস।
- এটি গবাদি পশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
- সারা বছর সবুজ খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করে।
- গিনি ঘাস দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বছরে একাধিকবার কাটা যায়, যা পশুর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
- এছাড়াও, এটি সহজে চাষযোগ্য।
- বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রথম বৃষ্টির পর লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
- গিনি ঘাসের জন্য বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না।


উল্লেখ্য,
- পশুপালনের জন্য জনপ্রিয় ঘাসগুলোর মধ্যে রয়েছে-
নেপিয়ার ঘাস:
- এই ঘাস শক্তপোক্ত, ভালো ফলন দেয় এবং দুগ্ধ খামারে প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

সুপার নেপিয়ার বা গিনি-নেপিয়ার হাইব্রিড:
- এই ঘাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলন বেশি এবং প্রোটিনের পরিমাণও বেশি (১২–১৪%), যা সারা বছর পাওয়া যায়।

পাকচং ঘাস:
- এটি স্থায়ী এবং উঁচু জমিতে চাষযোগ্য।
- এই ঘাস গবাদি পশুর জন্য পুষ্টিকর ও বটে । 

ব্রাকিয়ারিয়া ঘাস:
- এই ঘাস পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ;
- সহজে হজম হয় এবং
- দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক;
- এছাড়াও এটি খরা সহনশীল।

- এই ঘাসগুলো জনপ্রিয়, কারণ-
 • এদের প্রোটিন, ফাইবার ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে।
• এছাড়া, বছরের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কাটা যায় এবং প্রতি বিঘায় ভালো ফলন দেয়। 
• এগুলো সহজে বিভিন্ন ধরনের মাটিতে বা বিশেষ পরিবেশে চাষ করা যায়।
• কিছু ঘাস সরাসরি খাওয়ানো যায়, কিছু থেকে খড় তৈরি করা যায় বা সাইলেজ করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

.
বাংলাদেশ থেকে প্রথম রপ্তানি করা জাহাজ কোনটি?
  1. এমভি স্টেলা মেরিস
  2. এমভি স্টেলার মেরি
  3. এমভি স্টেলার
  4. এমভি স্টেলার মেরিস
ব্যাখ্যা

জাহাজ রপ্তানি:
বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো জাহাজ রপ্তানি করা হয় ২০০৮ সালে।
• জাহাজটির নাম ছিল MV স্টেলা মেরিস (Stella Maris).
• এটি নির্মাণ করেছিল আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড।
• বাংলাদেশের আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড যুক্তরাজ্যের এনজিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেডকে ৬,১০০ ডিডব্লিউটির এই জাহাজটি রপ্তানি করেছে।
• এটি ডেনমার্কের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
• এই জাহাজটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত সবচেয়ে বড় জাহাজ হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন জাহাজ শিল্পকে প্রভাবিত করে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া ও স্রোতের পরিবর্তন বন্দরের অবকাঠামো ও সমুদ্রপথে সমস্যা সৃষ্টি করে;
- পাশাপাশি জাহাজ শিল্প নিজেও গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখে।

উৎস:
১. The Business Standard;
২. প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত কোন প্রকৃতির হয়ে থাকে?
  1. ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি
  2. স্বয়ংভোগী মিশ্র কৃষি
  3. ধান-প্রধান বাণিজ্যিক কৃষি
  4. স্বয়ংভোগী শস্যচাষ ও পশুপালন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের কৃষি:
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক সোনালি অধ্যায়ের নাম কৃষি।
- বাংলাদেশের কৃষি মূলত ধান-ভিত্তিক নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।
- স্বয়ংভোগী কৃষির অর্থ হলো - কৃষক নিজের পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই প্রধানত চাষাবাদ পরিচালনা করেন।
- এই কৃষি পদ্ধতিতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নত বীজ, সার ও সেচ ব্যবহার করে বেশি ফলন করা হয়।
- দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশগুলো—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন ও জাপানে এ ধরনের ধান-নির্ভর কৃষি প্রচলিত। 

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্র ধানকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রায় ৮০% আবাদি জমিতে ধান উৎপাদিত হয়;
- পাশাপাশি গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজিও গুরুত্বপূর্ণভাবে চাষ করা হয়।
- তাই বাংলাদেশের কৃষিকে ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি ব্যবস্থা বলা হয়।

- ধান-ভিত্তিক নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:
• ক্ষুদ্র জমি, নিবিড় ও ধারাবাহিক চাষাবাদ, 
• ধানের প্রাধান্য, 
• কায়িক শ্রমের ব্যবহার এবং 
• প্রকৃতিনির্ভর উৎপাদন।

উৎস:
১. বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়,
২. ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিউমাটোফোরের পৃষ্ঠে ছোট ছোট ছিদ্রকে কী বলা হয়?
  1. স্টোমাটা
  2. রাইজোম
  3. ভ্যাকুয়োল
  4. লেন্টিসেল
ব্যাখ্যা

• নিউমাটোফোর:
- নিউমাটোফোর হলো জলজ বা হাইড্রোফাইট উদ্ভিদের একটি বিশেষ ধরনের মূল।
- এটি হলো মূলত “শ্বাস নেওয়ার মূল,” যা জলজ উদ্ভিদের জন্য জীবনরক্ষাকারী। 
- এ ধরনের মূলকে শ্বাসমূল বা বায়বীয় মূলও বলা হয়। 
- এই মূলগুলো জলের পৃষ্ঠের উপরে উঠে আসে, কারণ মাটির নিচে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে।
- নিউমাটোফোরের মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে।
- যা শিকড়কে সুস্থ রাখে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি বজায় রাখে।
- নিউমাটোফোরের পৃষ্ঠে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়। 
- লেন্টিসেল গ্যাসের আদান-প্রদান সহজ করে।
- এই মূলগুলো প্রধানত সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত বা কাদা মাটিতে বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়াও, নিউমাটোফোর নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস এবং লোহার মতো পুষ্টি শোষণে সহায়ক।

উৎস: Britannica. 

.
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প পার্ক কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. সিরাজদিখান 
  2. মিরসরাই 
  3. গজারিয়া
  4. শ্রীনগর 
ব্যাখ্যা

ওষুধ পার্ক:
- বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প পার্ক (API Industrial Park) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
-
এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে স্থাপিত।
- ২০০৮ সালে সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়, ওষুধশিল্পের পার্ক স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
-পার্কটির মূল উদ্দেশ্য হলো-
• দেশীয় ওষুধ কোম্পানির ব্যবসা প্রসার, 
• পণ্য বৈচিত্র্য সৃষ্টি,
• এবং মান উন্নয়নের জন্য গবেষণা।
-পার্কটি দেশের ওষুধের কাঁচামাল আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- এছাড়া, এর উদ্দেশ্য হলো ওষুধের রপ্তানি বাড়ানো।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ প্রথমবার ওষুধ রপ্তানি শুরু করে ১৯৯২ সালে।
- তখন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পেনিসিলিনের কাঁচামাল ইরান, হংকং, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠাত।
- পরের বছর তারা প্যারাসিটামল ও অন্যান্য ১৮ ধরনের ওষুধ রাশিয়ায় রপ্তানি করে;
- এটি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক ছিল।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ১৪৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।
- বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে বেশি ওষুধ রপ্তানি করে- মিয়ানমারে।
- শ্রীলংকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চপরিমানে রপ্তানি করে।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. The Daily Star Bangla;
৩. প্রথম আলো। 

.
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দ্বারা উদ্ভাবিত কলার জাত কোনটি? 
  1. জি-৯ কলা 
  2. সবরি কলা 
  3. বারী কলা-১
  4. যমুনা কলা 
ব্যাখ্যা

কলা:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) কলাসহ বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করে থাকে।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারি কলা-১, যা ২০০০ সালে BARI কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল কলার জাত।
- এই জাতটি অমৃতসাগর জাতের চেয়ে দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও এর ফলন দেড় থেকে দুই গুণ বেশি।
- এবং প্রতি কাঁদির ওজন প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
- BARI নিয়মিতভাবে কলার বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা চালায়।

- বাংলাদেশে উৎপাদিত কলার বিভিন্ন নাম:
• সবরি কলা, 
• বারি কলা,
• মিহের সাগর,
• আনাজি কলা,
• অগ্নিশর,
• অমৃতসাগর,
• মোহনবাশি,
• বিটজোবা,
• সিংগাপুরি,
• কানাইবাশি।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত কলার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ফলন কমছে, রোগবালাই বাড়ছে;
- এবং সামগ্রিক উৎপাদন ও চাষাবাদের ঝুঁকি বাড়ছে, যা কলার দাম বৃদ্ধি ও কৃষকদের জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলছে। 

উৎস:
১. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
কোন প্রজাতিকে সুন্দরবনের ফ্ল্যাগশিপ প্রজাতি বলা হয়?
  1. রয়েল বেঙ্গল টাইগার
  2. কুমির
  3. মায়া হরিণ 
  4. বানর 
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা জলাভূমির বন হিসেবেও পরিচিত।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে বিস্তৃত সুন্দরবনের আয়তন ২,৪০০ বর্গমাইল বা ৬২%।
- সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- এখানে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো- রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- সুন্দরবনের ফ্ল্যাগশিপ প্রজাতি হলো- রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- কারণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার এই ম্যানগ্রোভ পরিবেশে টিকে থাকতে অভিযোজিত হয়েছে।
- এছাড়া এর সাঁতার কাটার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। 

উল্লেখ্য,
• সুন্দরবন যে এলাকাগুলো জুড়ে রয়েছে: সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা।
• সুন্দরবনের অভয়ারণ্য বা restricted area এর মধ্যে রয়েছে: হিরণ পয়েন্ট, আলকী দীপ।

• সুন্দরবনের প্রধান ম্যানগ্রোভ গাছগুলো হলো:
- সুন্দরী, গেওয়া, গড়ান, পশুর, বাইন, হেঁতাল, গোলপাতা, কেওড়া, ধুন্দুল।
-  এই গাছগুলো লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকে এবং বনটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• সুন্দরবনের বিখ্যাত প্রাণী:
- চিত্রা ও মায়া হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, বন্য শূকর, বিভিন্ন ধরনের পাখি (যেমন মদনটাক, মাছরাঙ্গা, শঙ্খচিল), কুমির, সাপ, গাঙ্গেয় ডলফিন, এবং ভোঁদড়সহ নানা স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণী।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর,
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০.
সংশোধিত জাতীয় বাজেটে (২০২৫-২৬) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কত?
  1. ৪%
  2. ৫%
  3. ৬%
  4. ৭%
ব্যাখ্যা

সংশোধিত জাতীয় বাজেট (২০২৫-২৬):
- ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- এই বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বাজেটটি ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
- চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমায় বাজেটের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

- সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানোর জন্য উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
- সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।
- এবং দেশীয় অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।
- সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এছাড়া সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।
- এই ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা 

১১.
BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh Standards and Testing Institution
  2. Bangladesh Scientific and Technical Institute
  3. Bangladesh Standard Technology Institute
  4. Bangladesh Standard Testing Initiative
ব্যাখ্যা

 বিএসটিআই (BSTI):
- BSTI-এর পূর্ণরূপ হলো- Bangladesh Standards and Testing Institution.
- বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। 
- এটি দেশে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত পণ্যের গুণমান নির্ধারণ, তদারকি এবং লাইসেন্স প্রদান করে।

- বিএসটিআই-এর প্রধান দায়িত্ব হলো:
• দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্য, বৈদ্যুতিক ও প্রকৌশল পণ্য, খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের জন্য জাতীয় মান নির্ধারণ এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়া তৈরি করা।• প্রণীত মান অনুযায়ী পণ্যের গুণমান পরীক্ষা ও নিশ্চয়তা প্রদান।
• ব্যবসায় ও বাণিজ্যে মেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন এবং ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন ওয়েবসাইট।  

১২.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা-
  1. প্রায় ৫৫০ মিটার
  2. প্রায় ৮৭০ মিটার
  3. প্রায় ৭৬২ মিটার
  4. প্রায় ১০০০ মিটার
ব্যাখ্যা

• চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়।
- পাহাড়টি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এই পাহাড়টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট (৭৬২ মিটার) উঁচু।
- চিম্বুককে "বাংলার দার্জিলিং" নামেও ডাকা হয়।
- এখান থেকে বিস্তৃত পাহাড়ের সারি দেখা যায়, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো মনে হয়।
- এছাড়া, মেঘে ঢাকা উপত্যকার দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
- চিম্বুককে "পাহাড়ের রানী" নামেও সম্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৩.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জোয়ার ভাটার বন কোনটি?
  1. পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বন
  2. নাইজার ডেল্টা ম্যানগ্রোভ
  3. বোর্নিও ম্যানগ্রোভ 
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন:
- প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন হলো এমন একটি বন যা জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় শুকিয়ে যায়।
- এই বনকে জোয়ার-ভাটার বন বা ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন সাধারণত লবণাক্ত সমতলভূমিতে গঠিত হয়।
- এই বনের উদ্ভিদের শ্বাসমূল (Pneumatophores) থাকে, যা উদ্ভিদের জন্য অক্সিজেন গ্রহণে সহায়ক।
- বিশ্বের বৃহত্তম জোয়ার-ভাটার বন হলো সুন্দরবন।
- বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মাতামুহুরী নদীর মোহনায় অবস্থিত চকোরিয়া সুন্দরবনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন।
------------------- 
• সুন্দরবন:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি।
- এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ সুন্দরবন বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের বড় অংশ বাংলাদেশে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় বিস্তৃত।
- এছাড়াও খুলনা ও বাগেরহাট জেলার পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার কিছু এলাকা সুন্দরবনের অন্তর্ভুক্ত।
------------------------- 
অন্যদিকে,
- পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুড্ডালোর জেলায় অবস্থিত। 
- নাইজেরিয়ার নাইজার ডেল্টা ম্যানগ্রোভ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনগুলোর মধ্যে একটি। 
- এছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত বোর্নিও ম্যানগ্রোভ বনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৪.
যমুনা নদী কোন নদীর সাথে মিলিত স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. তিস্তা
  2. গঙ্গা
  3. পদ্মা
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা

যমুনা:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা।
- এটি গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প এবং ভয়াবহ বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়, যা বর্তমান যমুনা নদীর সৃষ্টি করেছে।
- প্রথমে যমুনা নদীর নাম ছিল জোনাই।
- যমুনা নদী তিস্তা নদীর মিলিত স্রোতধারার সঙ্গে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে যুক্ত হয়েছে।
- যমুনার শাখানদী হিসেবে রয়েছে-
∗ ধলেশ্বরী ও
∗ বুড়িগঙ্গা।
- এছাড়া বিভিন্ন উপনদী রয়েছে, যেমন:
- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, বাঙ্গালী, কালজানি, ডোরসা, যমুনেশ্বরী, দুধকুমারত, গঙ্গা, তুলসী গঙ্গা, বড়াল ও নারদ।

উৎস: ভূগোল, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
মেঘনা নদীর উপনদীগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত? 
  1. তিস্তা 
  2. আত্রাই 
  3. বাউলাই 
  4. করতোয়া 
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী: 
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী।
- এই নদীটি মূলত বরাক নদী থেকে উৎপন্ন হয়।
- বরাক নদী ভারতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- এই দুটি নদী সিলেট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সীমান্তে মারকুলীতে মিলিত হয়ে কালনী নামে পরিচিত হয়।
- এরপর ভৈরব বাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে নদীটি মেঘনা নাম ধারণ করে।

- মেঘনার উপনদীসমূহ হলো-
• বাউলাই, 
• ধলেশ্বরী,
• গোমতি,
• তিতাস,
• মনু,
• ফেনী।

উল্লেখ্য,
- মেঘনা নদী দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- আরও দক্ষিণে এটি নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা দ্বীপের মধ্য দিয়ে মেঘনা লোয়ার নদী নামে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫০ মাইল।
-  নদীটি গভীর এবং প্রবাহ খুব দ্রুত, কখনও কখনও নিজস্ব চ্যানেল এবং বালির তীরে বিভক্ত হয়।
- সারা বছর নৌযান চলাচলের জন্য উপযোগী হলেও ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে বসন্তের জোয়ারে, যখন সমুদ্রের পানি প্রায় ২০ ফুট (৬ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. Britannica.

১৬.
WARPO-এর পূর্ণরূপ-
  1. Water Resource Protection Organization
  2. Water Resource Planning Organization
  3. Water Regulation and Planning Office
  4. Water Resource Production Organization
ব্যাখ্যা

ওয়ারপো (WARPO):
- ওয়ারপো হলো বাংলাদেশের একটি স্বশাসিত সরকারি সংস্থা।
- এর পূর্ণরূপ- Water Resources Planning Organization (পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা)।
- এটি দেশের পানি সম্পদকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের কাজ করে থাকে।
- এর মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। 
- এটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর অধীনে কাজ করে।
- সংস্থাটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ ও বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩-এর আওতায় দেশের সর্বোচ্চ পরিকল্পনাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এই সংস্থার সদর দপ্তর ৭২ গ্রিন রোড, ঢাকায় অবস্থিত। 

উল্লেখ্য,
• ওয়ারপোর প্রধান কাজগুলো হলো:
- জাতীয় পানি সম্পদ পরিকল্পনা (NWRP) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
- বাংলাদেশ পানি আইন-এর সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করা।
- সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (IWRM)-এর জন্য কাজ করা।
- জাতীয় পানি সম্পদ ডেটাবেস ও জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- পানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও পর্যবেক্ষণ করা।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতি ও প্রবিধান বাস্তবায়ন করা 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
গ্রামীণ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি
  2. ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্ব
  3. ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর
  4. ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ 
ব্যাখ্যা

• গ্রামীণ ব্যাংক: 
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড.  মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হয় ১৯৭৬ সালে।
- চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামে পরিচালিত একটি পল্লী ব্যাংকিং পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে।
- এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে জামানত ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা।
- এই প্রকল্পে প্রথম ঋণগ্রহীতা ছিলেন দরিদ্র গৃহবধূ সুফিয়া বেগম।
- দীর্ঘ পরীক্ষামূলক সাফল্যের পর ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর গ্রামীণ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে

- গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকটি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক সুনাম অর্জন করে।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়।

উৎস: গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট। 

১৮.
আদমশুমারি পরিচালনার দায়িত্ব কোন মন্ত্রণালয়ের?
  1. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  2. অর্থ মন্ত্রণালয়
  3. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  4. জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• আদমশুমারি:
- আদমশুমারি হলো জনগণের সংখ্যা ও অন্যান্য সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহের একটি প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- এই সময় দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৭.৬৪ কোটি ছিল।
- এ পর্যন্ত মোট ৬টি আদমশুমারি সম্পন্ন হয়েছে [ডিসেম্বর,২০২৫]। 
- আদমশুমারি সম্পন্ন হয়েছে- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং ২০২২ সালে।
- সর্বশেষ ২০২২ সালের ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৯.
এখন পর্যন্ত কতটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি 
  4. ১০টি 
ব্যাখ্যা

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা:
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট কৌশল, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রণীত হয়।
- বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে।
- ২০২০ সাল পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। 

- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো-
• সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, 
• অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, 
• কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, 
• শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, 
• অবকাঠামো উন্নয়ন, 
• দারিদ্র্য বিমোচন, 
• কর্মসংস্থান সৃষ্টি, 
• টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি।
----------------------
• বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো হলো:
- প্রথম (১৯৭৩-১৯৭৮): যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন।
- দ্বিতীয় (১৯৮০-১৯৮৫): মৌলিক চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ।
- তৃতীয় (১৯৮৫-১৯৯০): শিল্পায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।
- চতুর্থ (১৯৯০-১৯৯৫): অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাস।
- পঞ্চম (১৯৯৭-২০০২): ৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
- ষষ্ঠ (২০১১-২০১৫): টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা।
- সপ্তম (২০১৬-২০২০): SDG লক্ষ্য অর্জন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন।

২০.
তিব্বতের আংশিক ভূখণ্ডে ব্রহ্মপুত্র নদকে কী নামে ডাকা হয়?
  1. সিন্ধু
  2. সালউইন
  3. ইয়ারলুং সাংপো
  4. মেকং 
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট উৎপন্ন হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ শুরু হয় তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে।
- এখানে মানস সরোবর হ্রদের কাছাকাছি একটি ছোট হিমবাহ (বরফের অংশ) রয়েছে। 
- সেই হিমবাহকে আংসি হিমবাহ বলা হয়।
- আবার এই হিমবাহকে চেমায়ুংডুং হিমবাহ নামেও ডাকা হয়।
- নদীর মূল উৎস এই হিমবাহ থেকে পানি গলে বের হয়ে প্রবাহ শুরু করে।
- উৎপত্তিস্থলে নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে প্রবাহিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৯০০ কিলোমিটার।
- তিব্বতের উচ্চভূমি অতিক্রম করার পর এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- পরে এটি ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা। 

উৎস: 
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাপিডিয়া।

২১.
২০২২ সালের জনশুমারির মূলমন্ত্র ছিল- 
  1. "সঠিক তথ্য প্রদান করুন, দেশের জন্য কাজ করুন" 
  2. "প্রতিটি বাড়ি গননা করুন, উন্নয়নে সাহায্য করুন"
  3. "জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন"
  4. "সঠিক তথ্য দিন, উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিন"
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- ২০২২ সালের জনশুমারির মূলমন্ত্র ছিল- "জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন"।
-
এই মূলমন্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। 
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

- জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বণ্টন অনুযায়ী,
→ ঢাকা জেলা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ (১০,০৬৭ জন প্রতি বর্গকিমি),
→ আর রাঙ্গামাটি জেলা সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ (১০৬ জন প্রতি বর্গকিমি)।

- জেলা ও বিভাগের দিক থেকে,
→ সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা বিভাগে (৪৫,৬৪,৪৫,৮৬ জন) বসবাস করে;
→ এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (৯,৩২৫,৮২০ জন) বসবাস করে।

→ ঢাকা বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বাধিক (২,১৫৬ জন প্রতি বর্গকিমি),
আর বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বনিম্ন (৬৮৮ জন প্রতি বর্গকিমি)।

- শহরভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
→ সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন) বসবাস করে; 
→ এবং সবচেয়ে কম বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন) বসবাস করে।

- শহরগুলোর ঘনত্বের দিক থেকে,
→ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ (৩৯,৪০৬ জন প্রতি বর্গকিমি)
→ এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনে সর্বনিম্ন (৩,৪৪৫ জন প্রতি বর্গকিমি)।

→ ভাসমান জনসংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ
→ এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ বিভাগ।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।

২২.
দেশ গার্মেন্টস কোন দেশের কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. দক্ষিণ কোরিয়া
  2. জাপান
  3. চীন
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

দেশ গার্মেন্টস দক্ষিণ কোরিয়ার দেউও (Daewoo) কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-----------------------------
দেশ গার্মেন্টস:
- ১৯৭৭ সালে মোঃ নুরুল কাদেরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশ গার্মেন্টস বাংলাদেশের প্রথম ১০০% রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮০ সালে এটি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে।
- কোম্পানির প্রধান কারখানা চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় স্থাপিত।

- দক্ষিণ কোরিয়ার দেউও (Daewoo) কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি হয় এই কারখানা। 
- কারখানাটি দেশে প্রথম আধুনিক পোশাক উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে আসে।
- এছাড়া, ১৯৭৮ সালে দেশ গার্মেন্টস দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠিয়েছিলো পোশাক ব্যবসা সম্পর্কে জানার জন্য, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। 
- দেশ গার্মেন্টস বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন পুরস্কারও পায়।
- এটি আমেরিকা ও কানাডায় সবচেয়ে বেশি কোটাধারী কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।
- বর্তমানে দেশ গার্মেন্টস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের জন্য সুপরিচিত।

উৎস: দেশ গার্মেন্টসের ওয়েবসাইট। 

২৩.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. প্রায় ৫০ মাইল
  2. ১০০ মাইল
  3. প্রায় ৭৫ মাইল 
  4. ১২০ মাইল
ব্যাখ্যা

• কক্সবাজার: 
- কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত।
-  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম  সমুদ্র সৈকত।
- এই সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)।
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ছিল পালংকি।
- এর আগে এটিকে প্যানোয়া নামেও ডাকা হতো, যার অর্থ হলুদ ফুল।
- পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিরাম কক্সের নামে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় কক্সসাহেবের বাজার।
- এরপর থেকে ধীরে ধীরে এটি কক্সবাজার নামে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৪.
NIPORT কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. আর্থিক সংস্থা 
  2. স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান 
  3. স্থানীয় সরকার সংস্থা
  4. আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

NIPORT:
-  NIPORT এর পূর্ণরূপ- National Institute of Population Research and Training.
- NIPORT (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) হলো বাংলাদেশের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
- এটি মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
-
এর মূল কাজ হচ্ছে-
∗ জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গবেষণা পরিচালনা করা,  
∗ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া,
∗ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা।

উল্লেখ্য,
- নিপোর্টের আওতায় ১৪টি আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (RPTI) আছে।
- এছাড়া এর আওতায় রয়েছে ২১টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)।

উৎস: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)। 

২৫.
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজারের মহেশখালী
  2. চট্টগ্রামের বাঁশখালী
  3. পটুয়াখালীর কলাপাড়া 
  4. কক্সবাজারের টেকনাফ
ব্যাখ্যা

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর:
- মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। 
- এটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে নির্মাণাধীন।
- এই বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেল ১৬–১৮ মিটার গভীর হওয়ায় বড় আকারের জাহাজ বা মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে।
- প্রকল্পটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উদ্যোগ, যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে।
- মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটি সম্প্রসারণ করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বন্দরে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
- জাপান সরকারের সরকারি সংস্থা জাইকার- সহায়তায় নির্মিত এই বন্দর ২০২৬ সালে প্রথম ধাপে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; 
- এবং ২০২৯–২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
- এটি বড় কন্টেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট সুবিধা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন [লিঙ্ক]। 

২৬.
নিচের কোনটির ওপর ভিত্তি করে আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়?
  1. ব্যক্তির মাসিক আয়
  2. ব্যাংক হিসাবের স্থিতি 
  3. বিদেশী বিনিয়োগ 
  4. শেয়ারের মুনাফা
ব্যাখ্যা

আবগারি শুল্ক:
- আবগারি শুল্ক (Excise Duty) হলো একটি পরোক্ষ কর।
- এটি সরাসরি মানুষের আয় বা মুনাফার ওপর বসে না।
- বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা বা আর্থিক লেনদেনের ওপর ধার্য করা হয়, যেমন:
• ব্যাংকে টাকা রাখা, 
• মোবাইলে কল করা, 
• সিগারেট বা বিলাসদ্রব্য কেনা, ইত্যাদি। 

- যদি কোনো ব্যাংক হিসাবের মধ্যে বছরে একবার হলেও ৩ লাখ টাকা থাকে, তাহলে সেই হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা হয়।
- মূলত, হিসাবের স্থিতির ওপর ভিত্তি করে আবগারি শুল্ক বসে।
- বাংলাদেশে এই শুল্ক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সংগ্রহ করে।
- কিন্তু বাস্তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব থেকে শুল্ক কেটে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়।


উল্লেখ্য,
• আবগারি শুল্কের উদ্দেশ্য হলো:
- সরকারকে রাজস্ব সংগ্রহে সাহায্য করা,
- উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের করজালে আনা,
- ব্যাংক হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,
- আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা,
- প্রশাসনিক সুবিধা ও করদাতার সুবিধা নিশ্চিত করা।
- মোট কথা, সব ধরনের হিসাব থেকে—সঞ্চয়ী, চলতি, এফডিআর, ডিপিএস বা বেতনভিত্তিক—আবগারি শুল্ক কাটা হয়, যা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস।

উৎস: প্রথম আলো। 

২৭.
বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কোন সময় প্রবাহিত হয়?
  1. জুন থেকে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর 
  2. মার্চ থেকে মে/এপ্রিল 
  3. নভেম্বর থেকে জানুয়ারি
  4. ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি 
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু: 
- বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নির্ধারিত হয়।
- বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু জুন-সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে প্রবাহিত হয়।
- এই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে।
- সেই বায়ু দেশে প্রবেশ করলে বৃষ্টি হয় এবং জলবায়ু শীতল ও আর্দ্র অনুভূত হয়।
- মৌসুমি বায়ুটি মূলত সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত বয়ে আনে।
- শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বয়ে আনে শুষ্ক এবং আরামদায়ক পরিবেশ। 

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু (Tropical Monsoon Climate) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- বাংলাদেশট কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত।
- এখানে প্রধানত তিনটি ঋতু দেখা যায়:
• গ্রীষ্মকাল (মার্চ-জুন),
• বর্ষাকাল (জুন-অক্টোবর),
• এবং শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)।
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষত সিলেট এলাকায় সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৮.
বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট রুটের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ২৫০০.৬৭ কিমি
  2. ৩৫০০.৮১ কিমি
  3. ২০০৫.৪৪ কিমি
  4. ২৯৫৫.৫৩ কিমি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের একটি প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এটি ১৮৬২ সালে দর্শনা-জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে শুরু হয়।
- এটি ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ট্র্যাক পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংযোগ স্থাপন করেছে।
- বাংলাদেশ রেলওয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি মালিকানায় পরিচালিত হয়। 
- বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট রুটের দৈর্ঘ্য ২৯৫৫.৫৩ কিমি।
- ১৯৮২ সালে রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব রেলওয়ে ডিভিশনের অধীনে ন্যস্ত হয়।
- দেশের কিছু জেলায় এখনও রেলপথ নেই, যেমন কক্সবাজার, বরিশাল, সাতক্ষীরা, বান্দরবান ইত্যাদি।
- বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন পদ্মা রেল সেতু নির্মাণ এবং ডাবল লাইন তৈরি করার মাধ্যমে রেলযাত্রাকে দ্রুত ও বেশি সক্ষম করে তুলেছে।
- এছাড়াও, রেলসেবা অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাত্রীদের জন্য টিকেট ক্রয় এবং অন্যান্য পরিষেবা আরও সহজ ও সুবিধাজনক করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন [ লিঙ্ক]। 

২৯.
বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও নদী প্রবাহ
  2. ভৌগোলিক প্রকৃতি ও বনভূমিধ্বস 
  3. মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি
  4. ভৌগোলিক প্রকৃতি ও শিল্পায়ন
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাতের কারণ: 
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।
- বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটে।
- বিশেষ করে জুড়ি, শ্রীমঙ্গল, এবং গোয়াইনঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতেও যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়।
- এই বিভাগের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, এবং খাগড়াছড়ি এলাকায়ও প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে- মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি।
- এছাড়া বেশি বৃষ্টিপাতের আরেকটা কারণ হলো মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, যা বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে।
- এছাড়া, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় সিলেটের দিকে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় এবং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়। 
-  সিলেটের লালাখাল এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
- আর সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নাটোরের লালপুরে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।