পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ১১ টপিক: রিভিশন [ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ সিলেবাস]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
কোনটি আহ্নিক গতির ফলাফল নয়?
  1. ঋতু পরিবর্তন
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  4. সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'ঋতু পরিবর্তন' আহ্নিক গতির ফলাফল নয়।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে প্রতি ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তিত হয়।
- এই সময়কে সৌরদিন এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো: পৃথিবীর আবর্তন ও পৃথিবীর আকৃতি।
- পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোলাকার নয়। এটি নিরক্ষরেখার কাছে কিছুটা স্ফীত এবং মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সবচেয়ে বড় হওয়ায় এখানে আহ্নিক গতির গতি সর্বোচ্চ। এই গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- আহ্নিক গতি পৃথিবীর দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং সময়ের পার্থক্য সৃষ্টি করে, যা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

⇒ আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
- দিবা-রাত্রির সংঘটন,
- জোয়ার-ভাটা,
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।

⇒ ঋতু পরিবর্তন হলো বার্ষিক গতির ফলাফল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
২১ শে মার্চ দক্ষিণ গোলার্ধে কোন ঋতু বিরাজ করে?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শরৎকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
⇒ ২১ শে মার্চ দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

 উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- ২২শে ডিসেম্বরের পর পৃথিবী নিজ কক্ষপথে অগ্রসর হতে থাকে।
- ২১শে মার্চ পৃথিবী এমন অবস্থানে পৌঁছায় যখন সূর্যের রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পড়ে।
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়।
- জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- একই সময় (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে) দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

অন্যদিকে,
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল:
- ২১শে জুনের পর পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে দক্ষিণ মেরু সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে।
- ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যের রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পড়ে।
- এই দিনে মেরুদেশীয় অঞ্চল ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান থাকে।
- জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- এই দুই ঋতুতে তাপমাত্রা মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে, যা আরামপ্রদ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কোন ঋতু স্থায়ী হয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শীতকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ষাকাল:
- বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়- জুন থেকে অক্টোবর।
- জুন মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশে ৮০-৯০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে।
- এই সময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
- গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ সেন্টিমিটার থেকে ৩৪০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

⇒ শীতকাল:
- শীতকালে বাংলাদেশের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে এবং সুন্দর আবহাওয়া থাকে।
- সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- শীতকালে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দুই শতাংশের বেশি নয় এবং ১০০ মিলিমিটার এর বেশি হয় না।
- শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে, প্রায় ৩৬ শতাংশ।

⇒ গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়।
- মার্চে আকাশে মেঘের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ থাকে, যা মে মাসে বেড়ে ৫০-৬০ শতাংশে পৌঁছায়।
- গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড় বজ্র বিদ্যুৎসহ প্রবল বেগে চলে।
- এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার, কখনও কখনও ১২৮ কিলোমিটারও হতে পারে।
- এই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ৫১০ মিলিমিটার হয়।

তথ্যসূত্র:- অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি পদ্মা নদীর শাখানদী নয়?
  1. গড়াই
  2. কুমার
  3. মহানন্দা
  4. মাথাভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর শাখানদী নয়।
- 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর প্রধান উপনদী।

পদ্মা (Padma):

- পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী।
- এ নদী ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নামে উৎপন্ন হয়েছে।
- গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- কুষ্টিয়ার কাছে এসে এটি পদ্মা নামে পরিচিত হয়।
- রাজবাড়ির গোয়ালন্দে যমুনার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশে যায়।
- এরপর তিনটি নদীর মিলিত ধারা মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।
- পদ্মার উপনদীগুলোর মধ্যে মহানন্দা প্রধান। 
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার কারণসমূহ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উচ্চ তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস করে, খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পানির স্তর নেমে যায় এবং পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: মাটির আর্দ্রতা কম থাকায় রবি ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনটিকে "পৃথিবীর ফুসফুস" বলে হয়?
  1. সুন্দরবন
  2. আমাজন
  3. কঙ্গো বেসিন
  4. বোরিয়াল ফরেস্ট
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজনকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- আমাজান বন আমাজন নদী এবং তার উপনদীগুলোর নদী অববাহিকা জুড়ে বিস্তৃত।
- বৃষ্টির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি এবং গরম আবহাওয়া এই বনের বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
- তাইগা (Taiga) বা বোরিয়াল ফরেস্ট হলো পৃথিবীর বৃহত্তম বনভূমি, যা শীতল অঞ্চলে বিস্তৃত।
- এটি উত্তর গোলার্ধের অনেক অংশে, বিশেষ করে কানাডা, রাশিয়া, আলাস্কা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
.
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭ টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
- আন্তর্জাতিক নদী ১ টি। (পদ্মা)
- বাংলাদেশের প্রায় সব নদীর প্রবাহের দিক উত্তর থেকে দক্ষিণে (সর্পিল গতি)।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত নদী মাতামুহুরী, ডাকাতিয়া, গোমতী।
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- সর্বাধিক নাব্য নদী মেঘনা। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১ টি (হালদা)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।

.
ভিক্টোরিয়া হ্রদ কোন নদীর উৎসস্থল?
  1. নীলনদ
  2. দানিয়ুব
  3. টাইগ্রিস
  4. আমাজান
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- "নীল" নামটি গ্রিক শব্দ "নিলোস" থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকায় অবস্থিত এবং এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬,৬৫০ কিলোমিটার।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ নীল নদের প্রধান উৎস।
- নীল নদ বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশে যায়।
- এটি ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
.
কোনটি ধলেশ্বরী নদীর প্রধান শাখা নদী?
  1. মেঘনা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা
ধলেশ্বরী নদী:
- ধলেশ্বরী নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯২ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ১৪৪ মিটার।
- ধলেশ্বরী নদী সর্পিলাকার প্রকৃতির।
- এটি যমুনা নদীর একটি শাখা, যা টাঙ্গাইল জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যমুনা থেকে শুরু হয়েছে।
- নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষা নদীর সাথে মিশে পরে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- ধলেশ্বরীর প্রধান শাখা নদী হলো বুড়িগঙ্গা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকায় ধলেশ্বরীর নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ২৭।
 
উল্লেখ্য,
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০.
'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০:
- বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে 'জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০' তৈরি করেন।
- ১৩ অক্টোবর ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ এর বিল পাশের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
- ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল এর সার্বিক পরিচালনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ৯ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে।
- ট্রাস্ট ফান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহনেরে ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ বোর্ড।
- ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী।
- প্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের যাচাই-বাছাই করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ১২ অনুযায়ী একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর কার্যাবলি:
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা;
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড এবং কারিগরি কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান;
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে প্রাপ্ত প্রকল্পসমুহ কারিগরি কমিটিতে উপস্থাপন এবং কারিগরি কমিটি কর্তৃক  সুপারিশকৃত প্রকল্প প্রস্তাবসমুহ ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন;
- ট্রাস্টি বোর্ড এর সিদ্ধান্তসমুহ বাস্তবায়ন করা;
- ভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফোকাল পয়েন্টদের সাথে সমন্বয় সাধন;
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত সুবিধাভোগী, সিভিল সোসাইটি সাথে, এনজিও, প্রাইভেট সেক্টর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন;
- বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

তথ্যসূত্র: জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১১.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- যেটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
কোনটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়?
  1. ত্রিপুরা
  2. আসাম
  3. সিকিম
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত প্রশ্নে সিকিম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়।

সীমান্তবর্তী ভারতের:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের উত্তরে- ভারতের পশ্চিবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- বাংলাদেশের পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
কোন সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. ১৭৮৪ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৮৪ সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):

- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমারেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমারেখা) হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান -
  1. প্রশমন
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. প্রতিরোধ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
- যথা- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ সংঘটনকালীন ও পরবর্তী সময় সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন, উন্নয়ন, প্রতিরোধ, এবং পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। এগুলো হলো:
(১) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(২) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(৩) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৫.
বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌযান চলাচলযোগ্য হ্রদ -
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. আসাল হ্রদ
  3. টিটিকাকা হ্রদ
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা
টিটিকাকা হ্রদ:
- টিটিকাকা হ্রদ বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌযান চলাচলযোগ্য হ্রদ।

- এটি ১২,৫০০ ফুট (৩,৮১০ মিটার) উচ্চতায় আন্দিজ পর্বতে অবস্থিত।
- হ্রদটি পেরু ও বলিভিয়া সীমানায় অবস্থিত।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ।
- টিটিকাকা হ্রদটির আয়তন ৩,২০০ বর্গমাইল (৮,৩০০ বর্গকিলোমিটার)।
- হ্রদটি ১২০ মাইল (১৯০ কিলোমিটার) দীর্ঘ এবং ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার) চওড়া।
- টিকিনা প্রণালী হ্রদটি দুটি অংশে বিভক্ত করে।
- হ্রদটির তীরে আয়মারা, কেচুয়া, এবং উরোস আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস।
- হ্রদটির তীরে ৩০ লাখ মানুষের বাস।

উল্লেখ্য, 
- হ্রদটি মধ্য আন্দিজ পর্বতশ্রেণিতে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত,
- এই উচ্চতার কারণে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌযান চলাচলযোগ্য হ্রদ হিসেবে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৬.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন সাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- গ্রীনিচ থেকে ১৮০° পূর্ব বা পশ্চিমে স্থলভাগকে এড়িয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- এই রেখাটিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়।
- অর্থাৎ এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অঙ্কিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারণের এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালীতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. ডেনমার্ক
  2. লাতভিয়া
  3. এস্তোনিয়া
  4. লিথুয়ানিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'ডেনমার্ক' বাল্টিক রাষ্ট্র নয়।

⇒ বাল্টিক রাষ্ট্র:
- উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের পূর্বতীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে; এস্তোনিয়া,  লাতভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া।
- বাল্টিক দেশগুলো শীতল, আর্দ্র জলবায়ুর অঞ্চল। 
- অঞ্চলটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি অরণ্যাঞ্চল, যেখানে বার্চ ও শঙ্কু গাছ প্রধান।
- বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে এল্ক, বন্য শূকর, হরিণ, নেকড়ে ইত্যাদি।
- এস্তোনিয়ানরা ফিনো-উগ্রিক ভাষা বলে, যা ফিনিশ সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত।
- লাতভিয়ান এবং লিথুয়ানিয়ানরা বাল্টিক-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বলে।
- বাল্টিক রাষ্ট্র গুলো সোভিয়েত শাসন হতে ১৯৯১ সালের স্বাধীনতা লাভ করে। 
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৮.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি -
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশে
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশে
  4. ৯০° অক্ষাংশে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

-  নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- অর্থাৎ পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি ০° অক্ষাংশে।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।

উল্লেখ্য:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°,  বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।