পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ২৩ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয়দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
ভাষা আন্দোলন বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১৩৬০ সনে
  2. ১৩৫৮ সনে
  3. ১৩৫৭ সনে
  4. ১৩৫৫ সনে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।
.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন অভিযুক্তকে জেলখানায় হত্যা কয় হয়?
  1. সার্জেন্ট জহুর উদ্দীন
  2. মোয়াজ্জেম হোসেন
  3. আমির হোসেন
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার' আসামীদের মধ্যে প্রথম সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' এর প্রথম দফা কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. স্বাতন্ত্র্য মুদ্রা
  3. ধর্ম নিরপেক্ষতা
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' এর প্রথম দফা - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।

ছয়দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. ড: শামসুজ্জোহা
  3. জহুরুল হক
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
- এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন। 
- তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- আসাদ দিবস: ২০ জানুয়ারি।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নামানুসারে আইয়ুব গেইটের নামকরণ করা হয় আসাদ গেইট । 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহিদ কে হন?
  1. শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ
  2. শহিদ আবুল বরকত
  3. শহিদ আব্দুল জব্বার
  4. শহীদ শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহিদ হন -  শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ।

রফিক উদ্দিন আহমদ:

- রফিক উদ্দিন (১৯২৬-১৯৫২) ভাষাশহীদ।
- ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯৪৯ সালে বায়রা স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সারা ঢাকায় ধর্মঘট আহবান ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
- সরকার ঐদিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গণে মিছিলের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে এবং ঘটনাস্থলেই রফিক উদ্দিন শহীদ হন। 
- ভাষা আন্দোলন-এ আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা কত দফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়?
  1. ৬ দফা
  2. ২০ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে -
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. বাংলা একাডেমি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট আসন লাভ করে -
  1. ২২৩টি
  2. ১৬৯টি
  3. ৩০৯টি
  4. ১৯৬টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?
  1. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. মুসলিম লীগ
  3. পিপলস পার্টি
  4. আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পরিষদ নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন (৭টি মহিলা আসনসহ) লাভ করে। 
- বাকি দু'টি আসনের মধ্যে ১টি লাভ করে পিডিপি নেতা নুরুল আমীন এবং অপর আসনটি লাভ করেন নির্দলীয় প্রার্থী রাজা ত্রিদিব রায় চৌধুরী। 
- জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল কয়টি দল নিয়ে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি  দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।
১১.
কখন 'আমাদের বাঁচার দাবি' ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক পুস্তিকাটি প্রকাশ পায়?
  1. ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. ৪ মার্চ, ১৯৬৬
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  4. ৬ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন৷ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য কোথায় শুরু হয়?
  1. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. ইসলামাবাদ
  3. লাহোর
  4. করাচি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
ছয়দফা দাবি কোথায় উথাপন করা হয়?
  1. চট্টগ্রামে
  2. করাচীতে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকায়
ব্যাখ্যা
ছয়দফা দাবি:
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে।
- তিনি ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তোলেন।
- ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ছয়দফার আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?
  1. চৌধুরী খালেকুজ্জামান
  2. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।

তমদ্দুন মজলিশ:
- এটি ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

অধ্যাপক আবুল কাশেম:
- আবুল কাশেম (১৯২০-১৯৯১) শিক্ষাবিদ, ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ, লেখক।
- তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। 
- আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক। এই সংগঠনের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের দাবি উত্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।