পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
Exam - 3 The Code of Criminal Procedure-1898: Test-3 Topic ➝ Section 154-205D • Information to the police and their powers to investigate • The jurisdiction of the criminal courts in inquiries and trials • Complaints to magistrates • The commencement of proceedings before magistrates
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
কে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন?
  1. আদালত
  2. পুলিশ
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  4. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
পুলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলিশ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৪ মতে, কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বিশেষ ভাবে ক্ষমতাবান অন্য কোন পুলিশ অফিসার যদি সংবাদ পান যে,কোন ব্যক্তি-

> আত্মহত্যা করেছে, অথবা
> অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক বা কোন প্রাণী কর্তৃক বা কোন যন্ত্র দ্বারা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, অথবা
> এরূপ অবস্থায় মারা গেছে- যা যৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি করে যে অন্য কোন ব্যক্তি অপরাধ করেছে। [ধারা ১৭৪ (১)]

• তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোন পুলিশ কর্মকর্তা সুরতহাল তদন্তের জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন নিকটতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন এবং মৃত ব্যক্তির লাশ যেখানে রয়েছে সেই স্থানে গিয়ে দুই বা ততোধিক স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে তদন্ত চালাবেন।

• তখন পুলিশ উক্ত মৃত ব্যক্তির দেহের জখম, অস্থিভঙ্গ বা থেতলে যাওয়া এবং অন্যান্য জখমের চিহ্ন সম্পর্কে বর্ণনা করবে এবং যে উপায়ে বা অস্ত্র বা যন্ত্র দ্বারা উক্ত জখমের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয় তার উল্লেখ করে মৃত্যুর দৃশ্যমান কারণ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন। এটাই সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report).
.
এক ব্যক্তি “খ” আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে আহত হলো এবং “গ” আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখিত ব্যক্তির সাথে সংঘঠিত অপরাধের বিচার কোন আদালতে করা যাবে?
  1. খ আদালতে
  2. গ আদালতে
  3. বাদী যেখানে চাইবে
  4. খ বা গ যেকোনো আদালতে
সঠিক উত্তর:
খ বা গ যেকোনো আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ যেকোনো আদালতে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৭ অনুসারে, প্রত্যেকটি অপরাধ যে আদালতের এখতিয়ারধীন সীমানার মধ্যে সংঘটিত হয় সাধারণত সেই আদালত কর্তৃক এর অনুসন্ধান ও বিচার হবে।

• তবে ধারা ১৭৯ এ দেয়া আছে-
যেক্ষেত্রে কোন কিছু সম্পাদন এবং এর পরিণতির কারণে কোন কাজ অপরাধ হয় সেক্ষেত্রে এরূপ অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার নিম্নোক্ত যেকোনো একটি আদালতে হতে পারবে-

>যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত সীমানার মধ্যে উক্ত কাজ করা হয়েছে
সেই আদালতে অথবা
>যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে এর ফলাফল দেখা দিয়েছে। 
.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ধারা ১৮৭
  2. ধারা ১৮৯
  3. ধারা ১৮৮
  4. ধারা ১৮১
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৮৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৮৮
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৮ তে বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে

• এই ধারা অনুসারে, যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমানার বাইরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে;অথবা যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে টা যেখানেই থাকুক না কেন, কোন অপরাধ করে ;তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেই স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

• এই সকল অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা এবং দন্ডবিধির ৪ ধারা একত্রে মিলিয়ে পড়তে হয়। দন্ডবিধির ৪ ধারায় রাষ্ট্রীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে দন্ডবিধির ব্যপ্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
.
ম্যাজিস্ট্রেট কয়টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ২টি
  4. নির্দিষ্ট নয়
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারা অনুযায়ী,ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন-

> অভিযোগ [ (ধারা ১৯০(১)(ক) ]
> পুলিশের লিখিত রিপোর্ট [ ধারা ১৯০(১)(খ) ]
> তথ্য,নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহবশত কোন তথ্য পেলে [ ধারা ১৯০(১)(গ) ] । তবে এই উৎসের উপর ভিত্তি করে ৩য় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারবেন না।
.
অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতের (রিমান্ডের) আদেশ দিতে পারেন-
  1. যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট
  2. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• গ্রেফতার ও রিমান্ড সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ এবং ১৬৭(২) ধারায় যা বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ-

ধারা ৬১ অনুযায়ী তদন্ত কার্য সম্পন্ন না করা গেলে,গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় আটক রাখা যাবে না।তাকে নিকটস্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিটের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

• ধারা ১৬৭(২)এ রিমান্ড বিষয়ে বলা হয়েছে-

(১) যখনই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা যাবে না এবং এরুপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢভিত্তিক, তা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসার, তিনি যদি সাব-ইন্সপেক্টর পদের নিম্নপদস্থ না হন, অবিলম্বে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরিতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যের নকলসহ আসামিকে নিকটতম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করবেন।

(২) এই ধারা অনুসারে আসামিকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করা হবে, তার সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্রে থাকুক বা না থাকুক, তিনি তার বিবেচনামতে আসামিকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য বিভিন্ন সময়ে কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট ১৫ দিনের অধিক হবে না।

• মামলাটি বিচার করার অথবা বিচারার্থে পাঠানোর অধিক্ষেত্রে যদি তার না থাকে এবং তিনি আরো আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তা হলে তিনি আসামিকে এইরূপ অধিক্ষেত্র সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণের আদেশ দিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক এ বিষয়ে বিশেষভাবে ক্ষমতাবান নন, এইরূপ কোনো দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পুলিশের হেফাজতে আটক রাখার কর্তৃত্ব দেবেন না।
.
যেই মামলা একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য, সেই মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কাকে নোটিশ দিতে হবে?
  1. অভিযোগকারীকে
  2. আসামী পক্ষকে
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তাকে
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
সঠিক উত্তর:
পাবলিক প্রসিকিউটরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবলিক প্রসিকিউটরকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫(গ) তে যে মামলাসমূহ একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য,সেই সকল মামলার স্থানান্তর সম্পর্কে বলা হয়েছে।অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে যদি ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,অপরাধটি একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য তাহলে তিনি-

> মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
> জামিন সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানসমূহের শর্ত সাপেক্ষে আসামিকে হেফাজতে রাখার জন্য প্রেরণ করবেন;
> সাক্ষ্যের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এরূপ দলিলাদি এবং জিনিসপত্র(যদি থাকে) তা সহ আদালতে প্রেরণ করবেন;
> পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ দিবেন
.
“ক” ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে ট্রেনে যাওয়ার পথে এক নারীকে অশালীন মন্তব্য করে। তার এই অপরাধের কোন আদালত কর্তৃক অনুসন্ধান করা যাবে?
  1. ঢাকা বা চট্রগ্রামের এখতিয়ারধীন 
  2. যাত্রাপথের যেকোন এখতিয়ারধীন এলাকার
  3. ক বা খ
  4. ক যেই এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার এখতিয়ারধীন 
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৩ অনুযায়ী,ভ্রমণকালে (যেকোনো যানবাহনযোগে, স্থলপথে, সমুদ্রপথে, আকাশ পথে) যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে অপরাধী ভ্রমণের সময় যেসব এলাকা অতিক্রম করবে সেসব এলাকার মধ্যে যেকোনো এলাকার এখতিয়ারাধীন অপরাধের অনুসন্ধান ও বিচার করতে পারবে।

• প্রশ্নে উল্লেখিত “ক” ব্যক্তির অনুসন্ধান ও বিচার ঢাকা বা চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট বা যাতায়াতের পথে যেকোনো এখতিয়ারাধীন এলাকার আদালতে করা যাবে।
.
তদন্তের সময় তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুসারে করা হয়?
  1. ধারা ১৬৫
  2. ধারা ৯৯
  3. ধারা ১০০
  4. ধারা ১৬১
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৬৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৬৫
ব্যাখ্যা
• তদন্তের সময় তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৫ অনুযায়ী কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের সময় যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস করেন যে-
অপরাধ সম্পর্কে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কোন জিনিস কোন স্থানে পাওয়া যাবে এবং অহেতুক বিলম্ব ব্যতীত অন্য কোনভাবে উক্ত জিনিস সংগ্রহ করা যাবে না,তখন উক্ত কর্মকর্তা তার এরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করে উক্ত থানার সীমানার মধ্যে অবস্থিত যে কোন স্থানে সেই জিনিসের জন্য তল্লাশি করবেন বা করাবেন।

• তিনি যদি নিজে তল্লাশি,পরিচালনা করতে অসমর্থ হন তাহলে তার অধস্তন কোন কর্মকর্তাকে তল্লাশি করতে বলবেন।
• ১০২ ও ১০৩ ধারায় বর্ণিত তল্লাশি সম্পর্কিত সাধারণ বিধানসমূহ যথাসম্ভব এই ধারানুসারে পরিচালিত তল্লাশির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৯ অনুযায়ী সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি-
  1. খালাস পাবে
  2. মুক্তি পাবে
  3. অব্যাহতি পাবে
  4. ক বা গ
সঠিক উত্তর:
মুক্তি পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি পাবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৯ ধারা অনুসারে-
তদন্তের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ নাই তাহলে আসামি হেফাজতে থাকলে একটি মুচলেকা সম্পাদনের পর উক্ত কর্মকর্তা তাকে মুক্তি দিবেন।

• সেই মোতাবেক উক্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দিবেন যে, কখনো প্রয়োজন হলে তার বিচারের জন্য বা তাকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হতে হবে।
১০.
সহায়ক হিসেবে কোন ক্ষেত্রে পুলিশ ডায়েরি তলব করা যায়?
  1. আদালত কর্তৃক অনুসন্ধানে
  2. আদালত কর্তৃক তদন্তে
  3. আদালত কর্তৃক বিচারের ক্ষেত্রে
  4. ক বা গ
সঠিক উত্তর:
ক বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা গ
ব্যাখ্যা
•  পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি যে ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করা হয়, সেটা হলো পুলিশী ডায়েরী । ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭২ ধারায় পুলিশ ডায়েরী সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে।

• পুলিশ ডায়েরীতে পুলিশ যে সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করে [ধারা ১৭২(১)]:

ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭২ ধারায় বলা হয়েছে, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিদিন একটি ডায়েরীতে তার তদন্তের অগ্রগতি লিপিবদ্ধ করবে এবং কখন তিনি খবর বা তথ্য পেয়েছিলেন,কখন তিনি তদন্ত শুরু এবং সমাপ্ত করেছেন, কোন কোন স্থান বা স্থানসমূহে তিনি পরিদর্শন করেছেন এবং তার তদন্তের মাধ্যমে তিনি কোন কোন ঘটনাসমূহ চিহ্নিত করেছেন সেই বিষয়ে একটি বিবৃতি তিনি পুলিশ ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করবেন।

• কখন কিভাবে পুলিশ ডায়েরীর ব্যবহার করা হয়? [ধারা ১৭২(২)]

যে কোন ফৌজদারী আদালত উক্ত আদালতে অনুসন্ধান বা বিচারাধীন কোন মামলার পুলিশী ডায়েরী চেয়ে পাঠাতে পারে এবং এই ডায়েরী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করে বরং উক্ত মামলার আদালত ব্যবহার করতে পারবে। পুলিশ ডায়েরী পুলিশ তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য [to refresh his memory] ব্যবহার করতে পারে বা এমন পুলিশ কর্মকর্তার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, আদালত পুলিশ ডায়েরী ব্যবহার করতে পারে।

• এখানে উল্লেখ্য যে, আসামী বা তার বৈধ প্রতিনিধি পুলিশ ডায়েরী চেয়ে পাঠাতে বা দেখবার অধিকারী হবে না।
১১.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন কোন ধারায় G.R  [General Registered Case] সম্পর্কে উল্লেখ আছে?
  1. ১৫৪, ১৫৬
  2. ১৫৪, ১৫৫
  3. ১৫৭, ১৫৮
  4. ১৫৮, ১৫৯
সঠিক উত্তর:
১৫৪, ১৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৪, ১৫৬
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী পুলিশকে আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য উভয় ধরণের মামলা বা অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রদান করা যায়। পুলিশকে আমলযোগ্য অপরাধের [Cognizable offence] সংবাদ দিলে, তা পুলিশ ১৫৪ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে। এই ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেস (FIR case) বা পুলিশ কেস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত। এই মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে।

• অন্যদিকে পুলিশকে আমলঅযোগ্য অপরাধের [Non-cognizable offence] সংবাদ দিলে, সেক্ষেত্রে পুলিশ ১৫৫ ধারা অনুসরণ করেন।১৫৫ ধারায় আমলঅযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে যে মামলা শুরু হয় তা -

১. Non-Gr (Non-Registered) Case

২. Non-FIR Case

৩. Non-Cognizable Case নামে পরিচিত

আবার, আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ১৫৫(২) ধারায় প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিলে শুধুমাত্র তখনই পুলিশ তদন্ত করতে পারে।
১২.
The Code of Criminal Procedure,1898 এর কোন ধারায় নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন?
  1. ২০৩
  2. ২০৪
  3. ২০১
  4. ২০০
সঠিক উত্তর:
২০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা। ২০০ বিধান অনুযায়ী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি নিতে বাধা ।

• ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে-

১. নালিশকারীকে বা
২. উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবে এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন।নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

• যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-

ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই;

খ. যে মামলায় আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে;

গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই।
১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ করার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নের কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন?
  1. ২০২ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট
  2. ফরিয়াদী কর্তৃক শপথপূর্বক প্রদত্ত বিবৃত্তি (যদি থাকে)
  3. ২০২ ধারার অধীন অনুসন্ধান রিপোর্ট
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করে দিতে পারেন। যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হয়েছিল বা যার নিকট নালিশটি বদলি করা হয়েছিল, শুধুমাত্র সেই ম্যাজিস্ট্রেট ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ করতে পারেন।

নালিশ খারিজ করতে ম্যাজিস্ট্রেট যে সকল বিষয় বিবেচনা করবে-

ক) ২০০ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য (যদি থাকে) এবং
খ) ২০২ ধারার অধীন তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করবে।

• নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য (যদি থাকে) এবং ২০২ ধারার অধীন তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করার পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করে যে, মামলা পরিচালনা বা অগ্রসর হওয়ার কোন কারণ নেই তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করতে পারে। ২০০ ধারায় নালিশ খারিজ বলতে অভিযুক্ত ব্যক্তির অব্যাহতি বা খালাস বোঝায় না।

• প্রতিকার :
- ২০০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজের আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়। যেক্ষেত্রে ২০০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ খারিজ করে, সেই ক্ষেত্রে দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ ৪৩৬ এবং ৪০৯ ধারায় অধিকতর অনুসন্ধানের [further inquiry] নির্দেশ দিতে পারে।

 - ২০৩ বা ২০৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করলেও একই বিষয়ে নতুন অভিযোগ দায়ের করা যাবে। এই ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারার দোবারা সাজার (double jeoparty) নীতি প্রযোজ্য হবে না।
১৪.
কোন আদালত ''আদি আমলী আদালত (As a court of original jurisdiction)'' হিসেবে সব মামলা আমলে নিতে পারেন না?
  1. দায়রা আদালত
  2. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. মহানগর আদালত
সঠিক উত্তর:
দায়রা আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা
• আদি আমলী আদালত হিসাবে (As a court of original jurisdiction), দায়রা আদালত সব মামলা আমলে নিতে পারে না। মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে দায়রা কোর্টে পাঠানোর পর ১৯৩ (১) ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ অপরাধ বিচারার্থে আমলে নিতে পারে।তাছাড়া অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ এমন অপরাধের বিচার করতে পারে যখন-

১. সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বিচারের নির্দেশ দিলে বা

২. দায়রা জজ অপরাধটি বিচারের জন্য তাদেরকে অর্পণ করলে। [ধারা ১৯৩ (২)]
১৫.
ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে(তথ্য, নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহের ভিত্তিতে) নিলে কখন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অবগত করবেন যে, সে অন্য আদালতে তার মামলার বিচার পাবার অধিকারী?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  2. চার্জ গঠনের পর
  3. মামলা আমলে নেয়ার সময়
  4. এই রকম কোনো অধিকার দেয়া হয় নি
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৩ অনুসারে, ধারা ১৯০(১) (গ) এর অধীনে তথ্য, নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহের উপর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিলে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে আসামিকে জানাবেন যে সে অন্য আদালতে তার মামলার বিচার পাবার অধিকারী।
তখন যদি আসামি বা আসামিদের মধ্যে একজন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার পরিচালনায় আপত্তি করে মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করতে হবে অথবা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।
১৬.
পুলিশী তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে দাখিলকৃত রিপোর্টের প্রচলিত নাম-
  1. রিলিজ রিপোর্ট
  2. ডিসচার্জ রিপোর্ট
  3. ফাইনাল রিপোর্ট
  4. চার্জ শিট
সঠিক উত্তর:
ফাইনাল রিপোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইনাল রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
• পুলিশ রিপোর্ট: পুলিশ অফিসার বা মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন পেশ করে, তাকেই পুলিশ রিপোর্ট বলে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ এ পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• সাধারণত পুলিশ রিপোর্ট ২ প্রকার-

১. Charge Sheet ( অভিযোগ পত্র): প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Charge Sheet বলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর ভিত্তিতে মামলায় অগ্রসর হন।

২. Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন): প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Final Report বলে এবং এর উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি [Discharge] দেন।
১৭.
কোন ধারা অনুযায়ী অধিকতর তদন্ত (Further Investigation) করা হয়?
  1. ১৭২(২খ)
  2. ১৭৩(৩ক)
  3. ১৭৩(৩খ)
  4. ১৭২ (৩ক)
সঠিক উত্তর:
১৭৩(৩খ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৩(৩খ)
ব্যাখ্যা
• অধিকতর তদন্ত [Further Investigation) এবং সম্পূরক চার্জশীট (Supplementary Charge Sheet)-

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)

• অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।

• তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।

• ১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
১৮.
রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়েরকৃত কোন মামলা আদালত আমলে নিবেন না-
  1. সরকারের নালিশ ব্যতীত
  2. সুপ্রীম কোর্টের আদেশ ব্যতীত
  3. সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নালিশ ব্যতীত
  4. ক বা গ
সঠিক উত্তর:
ক বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ধারা ১৯৬ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত আমলে নিতে পারেন।
১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ করতে ম্যাজিস্ট্রেট বিবেচনা করবেন না-
  1. ২০০ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য
  2. ২০২ ধারার অধীন তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল
  3. ১৯২ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
১৯২ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করে দিতে পারেন। যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হয়েছিল বা যার নিকট নালিশটি বদলি করা হয়েছিল, শুধুমাত্র সেই ম্যাজিস্ট্রেট ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ করতে পারে্ন।

• নালিশ খারিজ করতে ম্যাজিস্ট্রেট যে সকল বিষয় বিবেচনা করবেন-

ক) ২০০ ধারার অধীন নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য (যদি থাকে) এবং

খ) ২০২ ধারার অধীন তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করবেন

• নালিশকারীর শপথপূর্বক বক্তব্য (যদি থাকে) এবং ২০২ ধারার অধীন তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করার পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করে যে, মামলা পরিচালনা বা অগ্রসর হওয়ার কোন কারণ নেই, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করতে পারেন।
২০.
যখন একই অপরাধের জন্য অভিযোগের ভিত্তিতে সি.আর কেস এবং পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে অন্য একটি মামলা চলমান থাকে, সেই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন সিদ্ধান্তটি সঠিক?
  1. পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলাটি চলমান থাকবে
  2. একই আদালত কর্তৃক উভয় মামলা একত্রে অনুসন্ধান এবং বিচার করা যাবে 
  3. উভয় মামলার বিচার এবং অনুসন্ধান স্থগিত থাকবে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
একই আদালত কর্তৃক উভয় মামলা একত্রে অনুসন্ধান এবং বিচার করা যাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একই আদালত কর্তৃক উভয় মামলা একত্রে অনুসন্ধান এবং বিচার করা যাবে 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ এ একই অপরাধ বিষয়ে নালিশী মামলা ও পুলিশ তদন্ত চলতে থাকলে তখন যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তা উল্লেখ করা হয়েছে-

নালিশের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান বা বিচারকালীন সময়ে যদি এটা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করা হয় যে- ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধের বিচার বা অনুসন্ধান শুরু করেছেন উক্ত অপরাধের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃক তদন্ত চলমান আছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার অনুসন্ধান বা বিচার কার্যক্রম স্থগিত করবেন এবং তদন্ত পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হতে রিপোর্ট তলব করবেন।

এই ক্ষেত্রে একই আদালত কর্তৃক উভয় মামলা একত্রিত করণ এবং বিচার করা যাবে যেন উভয় মোকদ্দমা পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে [ধারা ২০৫(ঘ)(২)]
২১.
ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কিভাবে নালিশ দায়ের করা যায়?
  1. মৌখিক ভাবে
  2. লিখিত ভাবে
  3. ম্যাজিস্ট্রেট যেই রকম আদেশ দেন
  4. ক বা খ 
সঠিক উত্তর:
ক বা খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ 
ব্যাখ্যা
• ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়ের করা হয় নালিশের মাধ্যমে এবং থানায় মামলা দায়ের করা হয় এজাহার বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে। নালিশ মৌখিক বা লিখিত দু'ভাবেই হতে পারে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪(১) (জ) ধারায় নালিশ [Complaint] -কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪(১) (জ) ধারায় বলা হয়েছে,

“ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক বা লিখিত কোন অভিযোগ এই মর্মে দায়ের করা যে, জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ করেছে, কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট বা প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত হবেনা।”

• উপাদান:
- অভিযোগটি [Allegation] অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করতে হবে;
- জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছে অভিযোগটি সেই সম্পর্কিত হতে হবে;
- অভিযোগটি মৌখিক বা লিখিত আকারে হতে পারে;

• নালিশটি অবশ্যই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করতে হবে। কারণ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪ক ধারায় বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট বলতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ বলে ধরতে হবে । সুতরাং নালিশ (Complaint ) হলো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিষ্পত্তির জন্য মৌখিক বা লিখিত আকারে দায়েরকৃত অভিযোগ।

• নালিশ (Complaint) বলতে পুলিশ রিপোর্ট [Police Report] অন্তর্ভুক্ত হবে না।
২২.
ফৌজদারি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিয়ে,আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হবার অনুমতি- কোন ধারায় দেয়া হয়েছে?
  1. ৭৫ ধারায়
  2. ৯০ ধারায়
  3. ১৯০ ধারায়
  4. ২০৫ ধারায় 
সঠিক উত্তর:
২০৫ ধারায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৫ ধারায় 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিতে পারেন (Magistrate may dispense with personal attendance of accused)-

(১) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেন তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে, তাকে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।

(২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলার যে কোন পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।
২৩.
কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মতো মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা দিতে পারেন?
  1. সরকার 
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
সরকার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার 
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

• আমলে নেয়া অর্থ হলো -অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার জন্য উপাদান আছে বলে ম্যাজিস্ট্রেট মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন অগ্রসর হওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি আমলে নিয়েছে বলে গণ্য হবে।

• যে সকল ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারেন:

i. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ii. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
iii. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
iv. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা
v. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন ম্যাজিস্ট্রেট

• ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে (Cognizance) নিতে পারেন। যথা-

i. অভিযোগ (Complaint ) [ধারা ১৯০ (১)(ক)]
ii. পুলিশের লিখিত রিপোর্ট (Report) [ধারা ১৯০ (১)(খ)]
iii. তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান ( knowledge ) বা সন্দেহবশত (suspicion) কোন তথ্য পেলে [ধারা ১৯০ (১)(গ)]

• ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট অভিযোগ ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন। [ধারা ১৯০(৩)]

• ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান (knowledge) বা সন্দেহ (suspicion) এর উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন না।

• সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। (Government may empower any Executive Magistrate to take cognizance) [ধারা ১৯০ (৪)]
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারামতে পুলিশকে আমলঅযোগ্য অপরাধ তদন্তের নির্দেশ কে দিতে পারে?
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট 
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে- যেকোন ব্যক্তি ২ টি উপায়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে পারে । তিনি কোন অপরাধ সংঘটন বিষয়ে থানায় পুলিশের নিকট সংবাদ প্রদান করতে পারে বা তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট গিয়ে নালিশ দায়ের করতে পারে। থানায় পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করলে পুলিশ ১৫৪ ধারার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং আমলঅযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করা হলে ১৫৫ ধারা অনুসরণ করে।

• ১৫৫(১) ধারায় বলা হয়েছে- আমলঅযোগ্য অপরাধ সংঘটনের সংবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হলে-

i. থানায় রক্ষিত বহিতে তিনি উক্ত তথ্যের সারমর্ম লিপিবদ্ধ করবে; এবং

ii. সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবে

আবার  ১৫৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, এমন মামলা বিচার করার এখতিয়ার আছে বা বিচারের জন্য প্রেরণের এখতিয়ার আছে এমন প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করবে না।
২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬২ ধারার অধীন পুলিশের নিকট প্রদত্ত সাক্ষ্য কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. যেকোনো অনুসন্ধানে
  2. যেকোনো অনুসন্ধানে বা বিচারে
  3. উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের বৈপরীত্য প্রদর্শনের জন্য
  4. কোনো ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে না
সঠিক উত্তর:
উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের বৈপরীত্য প্রদর্শনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের বৈপরীত্য প্রদর্শনের জন্য
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬২ তে দেয়া আছে-

(১) তদন্তের সময় কোন ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসারের নিকট কোন বিবৃতি দিলে তা যদি লিপিবদ্ধকৃত হয়, তাহলে বিবৃতিদাতা তাতে স্বাক্ষর করবেন না; এরূপ কোন বিবৃতি যে অপরাধের তদন্তের সময় দেয়া হয়েছিল, সেই অপরাধের কোন অনুসন্ধান বা বিচারে ব্যবহার করা যাবে না:
তবে শর্ত এই যে, যে ব্যক্তির বিবৃতি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাকে সরকার পক্ষের সাক্ষী হিসাবে তলব করা হলে উক্ত লিখিত বিবৃতি ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৪৫ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। প্রদত্ত ধারা অনুসারে উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের বৈপরীত্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

• পুলিশ সাক্ষীর যে জবানবন্দি ১৬১ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে, তা বিচার বা অনুসন্ধানে নিম্নলিখিত ২ টি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়-

i. জবানবন্দিটি যদি মৃত্যুকালীন ঘোষণা হয়। [সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা]
ii. জবানবন্দিটির উপর ভিত্তি করে পুলিশ কোন বিষয় উদঘাটন করলে। [সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা]
২৬.
একটি চায়ের দোকানে দুইজন ব্যক্তির ছুরিকাঘাতের ঘটনায়, পুলিশ সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য নেবার জন্য ক্ষমতাবান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মোতাবেক?
  1. ১৫৯ ধারা 
  2. ১৬০ ধারা
  3. ১৬১ ধারা
  4. ১৬২ ধারা
সঠিক উত্তর:
১৬০ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। 

• ১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা এবং ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

১৬০ ধারা অনুযায়ী তদন্তকারী পুলিশ ঘটনার সাথে পরিচিত যেকোনো ব্যক্তিকে লিখিতভাবে তলব করতে পারে। এই ধারায় যে ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে তলব করা হয়, সে হাজির হতে বাধ্য কিন্তু পুলিশ তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে বলপ্রয়োগ করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারায় দণ্ডিত হতে পারে যা ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বা জরিমানাসহ যা ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয়।
২৭.
পুলিশের তদন্ত ক্ষমতা সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সত্য?
  1. পুলিশ আমলঅযোগ্য মামলার তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই করতে পারবেন
  2. পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে প্রদত্ত ক্ষমতার অধীন কৃত কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না 
  3. পুলিশ আমলযোগ্য মামলার সংবাদ পেলেই ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি নিয়ে তদন্ত করবেন
  4. বর্ণিত সবগুলো বাক্যই সত্য
সঠিক উত্তর:
পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে প্রদত্ত ক্ষমতার অধীন কৃত কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে প্রদত্ত ক্ষমতার অধীন কৃত কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না 
ব্যাখ্যা
• যেকোন ব্যক্তি ২ টি উপায়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে পারে। তিনি কোন অপরাধ সংঘটন বিষয়ে থানায় পুলিশের নিকট সংবাদ প্রদান করতে পারে বা তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট গিয়ে নালিশ দায়ের করতে পারে। থানায় পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করলে পুলিশ ১৫৪ ধারার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং আমলঅযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করা হলে ১৫৫ ধারা অনুসরণ করে।

• ১৫৪ ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেইস (FIR case) বা পুলিশ কেইস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত।আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে। এ ধারার অধীন পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে সেটির প্রসিডিংয়ে তার তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না,যদি না তার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কিছু করে। 

• অপরদিকে, ১৫৫ ধারায় আমলঅযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে যে মামলা শুরু হয় তা  Non-Gr (Non-Registered) Case বা Non-FIR Case বা Non-Cognizable Case নামে পরিচিত।আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ১৫৫(২) ধারায় প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিলে শুধুমাত্র তখনই পুলিশ তদন্ত করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারেনা।
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৪ ধারা অনুসারে নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করা যায় না?
  1. যদি বাদীপক্ষ সাক্ষীদের তালিকা প্রদান না করে থাকে 
  2. যদি বাদীপক্ষের সকল সাক্ষী মামলা দায়েরের দিনে হাজির না থাকে
  3. যদি নালিশের সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকে
  4. বর্ণিত যেকোনো কারণই প্রযোজ্য হতে পারে
সঠিক উত্তর:
যদি বাদীপক্ষ সাক্ষীদের তালিকা প্রদান না করে থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি বাদীপক্ষ সাক্ষীদের তালিকা প্রদান না করে থাকে 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৪ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেটের মতে,

i. মামলায় অগ্রসর হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে এবং
ii. এমন একটি মামলা বলে মনে হয়,যেক্ষেত্রে দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলাম অনুসারে প্রথমে সমন ইস্যু করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজিরার জন্য সমন ইস্যু করবে।

কিন্তু যদি এমন একটি মামলা বলে মনে হয়, যেক্ষেত্রে চতুর্থ কলাম অনুসারে প্রথমে ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট-

i. ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে বা
ii. যদি তিনি উপযুক্ত মনে করে, হাজির হওয়ার জন্য সমন ইস্যু করতে পারে।

•  অর্থাৎ সমন কেস হলে প্রথমে সমন দিবে কিন্তু ওয়ারেন্ট কেস হলে ওয়ারেন্ট দিবে। কিন্তু ওয়ারেন্ট কেসে প্রয়োজন মনে করলে সমনও দিতে পারে তবে, প্রসিকিউশন(বাদী) পক্ষের সাক্ষীর তালিকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত কোন সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে না। [২০৪(১ক)]
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুসারে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা কে অর্পণ করতে পারেন?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দায়রা জজ 
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  4. যুগ্ম দায়রা জজ
সঠিক উত্তর:
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারে-

-মহানগর এলাকায়

১. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

-মহানগর এলাকার বাইরে

১. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট

• ধারা ১৯০(২) অনুসারে, সরকার এবং এই আদেশ হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক প্রদেয় কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশের প্রেক্ষিতে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যেসব অপরাধ বিচার করতে বা বিচারার্থে পাঠাতে পারেন, সেসব অপরাধ যেকোন দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারার্থ গ্রহণ করতে ক্ষমতায়ন করতে পারেন।
৩০.
কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর,১৮৯৮ অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্তকার্য সম্পন্ন করার বিধানটি-
  1. নির্দেশনামূলক 
  2. বিচার বিবেচনামূলক 
  3. বাধ্যতামূলক
  4. নিষেধাজ্ঞামূলক
সঠিক উত্তর:
নির্দেশনামূলক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশনামূলক 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় পুলিশের তদন্তের সর্বোচ্চ সময় ১২০ দিন উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নির্দেশনামূলক। যদি উক্ত ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলেঃ

- যে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন বা যে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি [release the accused on bail] দিতে আদেশ দিতে পারেন; যদি না অপরাধটির জন্য শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বৎসরের অধিক কারাবাস হয়; অথবা

- দায়রা আদালত তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডণীয় অপরাধ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় অপরাধ বা ১০ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধের ক্ষেত্রেও আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন।
৩১.
স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য কার পরোয়ানা বা সমন জারির ক্ষমতা (Power to issue summons or warrant for offence committed beyond local jurisdiction) আছে?
  1. ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় এবং ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৬ তে দেয়া আছে,
যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করেন যে, তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি উক্ত সীমার বাইরে বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে এমন কোন অপরাধ করেছে যা বাংলাদেশে বিচার্য, তখন তিনি অপরাধটি তার স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে ধরে নিয়ে সেই সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার নিকট হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন এবং এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাকে প্রেরণ করতে পারবেন অথবা অপরাধটি জামিনযোগ্য হলে তাকে হাজির হওয়ার জন্য মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন।

• এরূপ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে একাধিক এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে বা হাজির হতে বাধ্য করা হবে তা এই ধারানুসারে কার্যরত ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করতে না পারলে তিনি উপযুক্ত আদেশের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে প্রেরণ করবেন।
৩২.
একজন অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না, যদি অভিযোগকারী একজন-
  1. সরকারী কর্মকর্তা
  2. প্রাপ্ত বয়স্ক
  3. সাক্ষীসহ উপস্থিত 
  4. নারী হলে
সঠিক উত্তর:
সরকারী কর্মকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারী কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা। ২০০ বিধান অনুযায়ী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি নিতে বাধা ।

• ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

• যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-

ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]

খ. যেকোন মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা

গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।
৩৩.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ ফেরত [return of complaint] দিতে পারেন?
  1. ২০৩ ধারা
  2. ২০১ ধারা
  3. ২০৪ ধারা
  4. ২০২ ধারা
সঠিক উত্তর:
২০১ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১ এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে-

• লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে- আমলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

• মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে- যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে মালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।
৩৪.
C.R কেইস এর পূর্ণ রূপ হলো-
  1. Complaint Registered
  2. Complaint and Report
  3. Complainant Registered
  4. Criminal Report
সঠিক উত্তর:
Complaint Registered
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Complaint Registered
ব্যাখ্যা
•  যেকোন ব্যক্তি ২ টি উপায়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারে-

- তিনি কোন অপরাধ সংঘটন বিষয়ে থানায় পুলিশের নিকট সংবাদ প্রদান করতে পারে বা
- তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট গিয়ে নালিশ দায়ের করতে পারে। 

•  থানায় পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করলে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং আমলঅযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করা হলে ১৫৫ ধারা অনুসরণ করে। 

• অন্যদিকে, কোন ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আমলযোগ্য বা আমলঅযোগ্য উভয় অপরাধ বিষয়ে নালিশ দায়ের করতে পারে। অপরাধ আমলে নেয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের মাধ্যমে যে মামলা শুরু হয় তাকে নালিশী মামলা বা [Complaint Registered(C.R)] কেইস বলা হয়।
৩৫.
মহানগর এলাকায় কে অপরাধ আমলে নিতে পারে?
  1. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. খ এবং গ উভয়ে
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারে-

- মহানগর এলাকায়

১. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

- মহানগর এলাকার বাইরে

১. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসারে কার অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ আমলে নেওয়া যাবে?
  1. শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির 
  2. যেকোন ব্যক্তির
  3. আদালতের
  4. সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির 
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ১৯৬ ধারা অনুযায়ী- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তৈরীকৃত অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে।

• ১৯৭ ধারা অনুযায়ী- বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের অনুমতি ছাড়া অভিযোগ আমলে নেয়া যাবেনা।

• ১৯৮ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৩ থেকে ৪৯৬ পর্যন্ত বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ, যেমন মুসলিম নারী কর্তৃক বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা বা দ্বিগামিতা [bigamy] শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেয়া যাবে।

• ১৯৯ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার অধীন ব্যভিচার [Adultery] বা ৪৯৮ ধারায় অপরাধজনক উদ্দেশ্যে বিবাহিত নারীকে প্ররোচিত করে নিয়ে যাওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীর স্বামী কর্তৃক বা স্বামীর অনুপস্থিতিতে উক্ত অপরাধ সংঘটনের সময় যে সকল লোকজন উক্ত মহিলাকে দেখাশোনা করতো, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নেয়া যাবে।
৩৭.
মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে কে পুলিশকে আমলঅযোগ্য অপরাধের তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা আদালত
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির  ১৫৫ (২) ধারা অনুযায়ী আমলঅযোগ্য অপরাধের [Non-cognizable offences] বিচার করার এখতিয়ার আছে এমন প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ব্যতীত কোন পুলিশ কর্মকর্তা আমলঅযোগ্য অপরাধের তদন্ত করবে না।

• অর্থাৎ আমলঅযোগ্য অপরাধের তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারে উক্ত অপরাধটির বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন বা মামলাটি বিচারের জন্য পাঠাতে পারে এমন এখতিয়ারসম্পন্ন-
- মহানগর এলাকার বাইরে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা
-
মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।
৩৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৬১ অনুযায়ী সাক্ষীদের পরীক্ষা (Examine) করতে পারেন-
  1. তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সকলেই
সঠিক উত্তর:
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ মোতাবেক- তদন্ত পরিচালনাকারী কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে পারেন, যে ব্যক্তি ঘটনা ও এর অবস্থা সম্পর্কে জানে।এরূপ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে সকল প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য থাকবে। তবে যে সকল প্রশ্নের জবাব তাকে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য নন।

• এরূপ পরীক্ষাকালে পুলিশ কর্মকর্তা তার নিকট প্রদত্ত বিবৃতি লিখে নিতে পারেন এবং একাধিক ব্যক্তির বিবৃতি পৃথকভাবে রেকর্ড করবেন।
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারার অধীন জবানবন্দি গ্রহণ করার সময় কোন প্রকার প্রলোভন দেখাবেন না-
  1. পুলিশ অফিসার
  2. কর্তৃত্বসম্পন্ন অন্য ব্যক্তি
  3. ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৩ অনুযায়ী পুলিশ অফিসার অথবা কর্তৃত্বসম্পন্ন অন্য ব্যক্তি ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রকার প্রলোভন, হুমকি বা প্রতিশ্রুতি দিবেন না।

• তাছাড়া তদন্ত চলার সময় কোন ব্যক্তি তাহার স্বাধীন ইচ্ছায় কোন বিবৃতি দিতে চাইলে অফিসার বা অপর কেউ তাকে হুঁশিয়ারি দ্বারা বা অন্য কোনভাবে বারণ করবেন না।
৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬২ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না সাক্ষ্য আইনের-
  1. ২৪ ধারার ক্ষেত্রে
  2. ২৭ ধারায় ক্ষেত্রে
  3. ৩২(১) ধারার ক্ষেত্রে
  4. খ এবং গ উভয় ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয় ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬২ তে দেয়া আছে-
তদন্তের সময় কোন ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসারের নিকট কোন বিবৃতি দিলে তা যদি লিপিবদ্ধকৃত হয় তাহলে বিবৃতিদাতা তাতে স্বাক্ষর করবেন না এবং এরূপ কোন বিবৃতি যে অপরাধের তদন্তের সময় দেয়া হয়েছিল, সেই অপরাধের কোন অনুসন্ধান বা বিচারে ব্যবহার করা যাবে না।

• কিন্তু এই নিয়মটি - সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারায় মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা ২৭ ধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা হলে বা পুলিশের নিকট প্রদত্ত বক্তব্য অনুযায়ী কোন বিষয় উদঘাটন করলে সেই বক্তব্য তদন্ত বা বিচারে ব্যবহার করা যাবে।
৪১.
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যাপ্ত হলে কে অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের বরাবর প্রেরণ করবে?
  1. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  2. মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
  3. কর্তৃত্বসম্পন্ন যেকোন ব্যক্তি
  4. ম্যাজিস্ট্রেট যাকে আদেশ দিবেন
সঠিক উত্তর:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭০ অনুযায়ী-
তদন্তে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,পর্যাপ্ত সাক্ষ্য আছে তাহলে অভিযুক্তকে বিচারের জন্য পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন অথবা অপরাধ জামিনযোগ্য হলে এবং অভিযুক্ত জামানত দিতে সমর্থ হলে কোন নির্ধারিত দিনে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হওয়ার জন্য জামানত গ্রহণ করবেন।

• সেই সাথে যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করেন,তখন তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করার প্রয়োজন হতে পারে এরূপ কোন অস্ত্র বা অন্যান্য দ্রব্য তার নিকট প্রেরণ করবেন এবং অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পরিচালনা বা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ফরিয়াদি (যদি থাকে) এবং ঘটনার অবস্থা সম্পর্কে জানেন এরূপ যেকোন সংখ্যক লোককে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হওয়ার উদ্দেশ্যে একটি মুচলেকা সম্পাদন করতে বলবেন।
৪২.
The Code of Criminal Procedure,1898 এ নিম্নোক্ত কোন শব্দটির প্রয়োগ নেই?
  1. Inquiry
  2. Re-investigation
  3. Investigation
  4. Further investigation
সঠিক উত্তর:
Re-investigation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Re-investigation
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে। [do further investigation]

• অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet] দাখিল করতে পারে। তবে ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের [Re-investigation] কোন বিধান নেই