পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ভাষণে বলেছিলেন— ‘আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই”।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
.
'পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। এই কথাটি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন -
  1. ক) ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে
  2. খ) ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে
  3. গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-শিক্ষকদের সমাবেশে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন- 'পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। উপস্থিত ছাত্ররা ‘না না না -- ধ্বনিতে এর প্রতিবাদ জানায়। দেশের শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেন।

• পাকিস্তান গণপরিষদে বাঙালি সদস্য একাত্তরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। দুঃখের বিষয় মুসলিম লীগের অনেক বাঙালি সদস্যও এই বিরোধিতায় যোগ দিয়েছিলেন। অথচ বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া ছিল যুক্তিযুক্ত। পাকিস্তানের তৎকালীন মোট জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লক্ষ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ বাঙালি। বাকি আড়াই কোটি মানুষের মাতৃভাষাও উর্দু ছিল না।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
.
কতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় -
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয় -
  1. ক) ১৯৫৬ সালের সংবিধানে
  2. খ) ১৯৫৯ সালের মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে
  3. গ) ১৯৬২ সালের সংবিধানে
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৬ সালের সংবিধানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৬ সালের সংবিধানে
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। 
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র নাম ধারণ করে। 
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়। 
- সংবিধানে দুই প্রদেশের পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃত হয়। 
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সূত্র: ইতিহাস, ওপেন স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাকিস্তানি শাসনপর্বে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ছয় দফা দাবি আন্দোলন
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে।
- ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশকব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল।
- ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
- এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে।
- পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৮ম শ্রেণি।
.
আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল মনসুর আহমদের প্রণীত ২১ দফা প্রকাশিত হয় -
  1. ক) ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৯৫৪ সালের ৪ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালের ৫ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।
- আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল মনসুর আহমদের প্রণীত ২১ দফায় বিভিন্ন নেতা স্বাক্ষর করেন। ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা প্রকাশিত হয়।

• ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা এবং মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল হারিকেন। ১৯৫৪ সালের ৭-১২ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট আসন ছিল ৩০৯টি। তার মধ্যে ৭২টি হিন্দু ও তফসিলি। ২৩৭টি মুসলমান আসন। ৯টি বাদে সব আসনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।

• পূর্ব বাংলায় ভোটের বিপ্লব হলো। জাতীয়তাবাদের জয় হলো। ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল সরকারিভাবে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়।

• শেরেবাংলা যুক্তফ্রন্টের নেতা নির্বাচিত হন। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে যুক্তফ্রন্টে মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল এ কে ফজলুল হক চার সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। ১৯৫৪ সালের ১৫ মে পূর্ণাঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো। 
.
কোন বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়?
  1. ক) দ্বি-জাতি তত্ত্বকে
  2. খ) লাহোর প্রস্তাবকে
  3. গ) ভাষা আন্দোলনকে
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর প্রস্তাবকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর প্রস্তাবকে
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় গণপরিষদ সংবিধান রচনার কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে।
- ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংবিধান বিল' উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি ২১ জানুয়ারি গণপরিষদে চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয় এবং ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি প্রদান করে।
- ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এ সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
.
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দীন
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) নূরুল আমীন
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমুদ্দীন
ব্যাখ্যা
খাজা নাজিমুদ্দীন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৮ম শ্রেণি।
.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবদুস সালাম খান
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন:
- এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন;
- আবু হোসেন সরকার অর্থ;
- আতাউর রহমান খান বেসামরিক সরবরাহ;
- আবুল মনসুর আহমদ জনস্বাস্থ্য;
- কফিল উদ্দিন চৌধুরী বিচার ও আইন;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন;
- আবদুস সালাম খান শিল্প ও পূর্ত;
- শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন;
- আবদুল লতিফ বিশ্বাস রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার;
- আশরাফ আলী চৌধুরী সড়ক ও গৃহ নির্মাণ;
- হাশিম উদ্দিন আহমদ বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন;
- রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী স্বাস্থ্য ও কারা;
- ইউসুফ আলী চৌধুরী কৃষি, বন ও পাট এবং
- মোয়াজ্জেম উদ্দিন হোসেন জমিদারি অধিগ্রহণ।

সূত্র: প্রথম আলো।
১০.
জেনারেল আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন -
  1. ক) ১৯৫৮ সনের ২৭ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৫৮ সনে ২৮ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৫৯ সনের ২৭ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৫৯ সনের ২৮ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৮ সনের ২৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৮ সনের ২৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
১৯৫৮ সনের ২৭ অক্টোবর মাত্র ২০ দিনের মাথায় জেনারেল আইয়ুব খান ৪ জন জেনারেলকে পাঠান প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) ইস্কান্দার মীর্জার কছে।
- সশস্ত্র ৪ জেনারেল প্রেসিডেন্ট মীর্জাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। আইয়ুব খান এ কুচক্রীকে পাকিস্তানে রাখতে সাহস পেলেন না। এজন্যই পরদিন তাঁকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হলাে । জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা কোনােদিনই আর দেশে ফিরিতে পারেনি । তিনি নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করে যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলাে-
১। নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘােষণা
২। পূর্ব ঘােষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা
৩। দুর্নীতি ও চোরাচালান দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত ও
৪। রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা 

১৯৫৮ সনের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান এক সামরিক আদেশ জারি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদটি বিলুপ্ত ঘােষণা করেন এবং নিজেই রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । তিনি অপর এক ঘােষণাবলে ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত্য  সাধারন নির্বাচনের পূর্ব ঘােষণাকে বাতিল করে দেন । পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবরেই তিনি ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
১১.
বাংলা ভাষা ছিল জনসংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তানের -
  1. ক) প্রথম ভাষা
  2. খ) দ্বিতীয় ভাষা
  3. গ) তৃতীয় ভাষা
  4. ঘ) পঞ্চম ভাষা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম ভাষা
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়।
- ভাষা, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাসসহ সকল ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কেবল ধর্মের ভিত্তিতে এক হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করে এই অসম রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়।
- এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে।
- অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা, ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক।
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল -
  1. ক) লাহোর প্রস্তাব
  2. খ) দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  3. গ) দেশভাগ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
-  যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল ‘কপ' গঠিত হয়েছিল—
  1. ক) ৪ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
  2. খ) ৫ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
  3. গ) ৬ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
  4. ঘ) ৭ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ টি বিরোধী দল সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
• সম্মিলিত বিরোধী জোট Combined Opposition Party (COP):
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়, যা ‘সম্মিলিত বিরোধী জোট' (Combined Opposition Party-COP) নামে পরিচিত।
- এ জোটের শরিক দলগুলো হলো-
১. পাকিস্তান আওয়ামী লীগ,
২. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী),
৩. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল),
৪. নেজাম-ই-ইসলাম,
৫. জামায়াতে ইসলামী।

- 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই ফাতেমা জিন্নাহর প্রতি জনসমর্থন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর মূল কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের ফলে জনগণের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ, মৌলিক গণতন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের তোষামোদি ও চাটুকারিতা, বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি।
- কিন্তু ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীকে (Basic Democrats) নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান পূর্বের মতোই তার সপক্ষে ধরে রাখতে সমর্থ হন।
- যেসব মৌলিক গণতন্ত্রী বিরোধিতা করতে শুরু করেছিলেন তাদেরকে আইয়ুব-মোনায়েম খান জেল-জুলুমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পুনরায় বশে আনেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন এ নির্বাচনে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান থাকলে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান বিজয় লাভ করতে পারতেন না।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজ্জামেল হক।