পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: সন্ধি, কারক - বিভক্তি, প্রবাদ প্রবচন। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে 'বাবা' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অপাদান কারক
- 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই - বাক্যে 'বাবা' হলেন ভয়ের কারণ, তাই এটি অপাদান কারক।  
- ভয় পাওয়ার বিষয়টি 'বাবা'-র কাছ থেকে আসছে, তাই 'বাবাকে' শব্দটি অপাদান কারকে 'কে' বা দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- উদাহরণ: মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- উদাহরণ: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বা দিয়ে বিভক্তি
- উদাহরণ: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। 

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- উদাহরণ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- উদাহরণ: লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়।

য় বিভক্তি:
- উদাহরণ: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
‘যথার্থ’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. যথা + অর্থ 
  2. যথা + আর্থ
  3. যথঃ + অর্থ
  4. যথ + আর্থ
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) যথা + অর্থ 

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

স্বরসন্ধির উদাহরণ:
১. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- অ + অ = আ → নর + অধম = নরাধম। এরূপ: হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত।
- অ + আ = আ → হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ: দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন।
- আ + অ = আ → যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ: আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ।
- আ + আ = আ → বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ: কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
কোনটি ‘বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি নয়?
  1. সম্ + কার = সংস্কার
  2. পরি + কার = পরিষ্কার
  3. বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
  4. সম্ + কৃত = সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি

বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি
- বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ:
  উৎ + স্থান = উত্থান
  সম্ + কার = সংস্কার
  উৎ + স্থাপন = উত্থাপন
  সম্ + কৃত = সংস্কৃত
  পরি + কার = পরিষ্কার
এরূপ: সংস্কৃতি, পরিষ্কৃত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি একটি নিপাতনে সিদ্ধসন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
‘বোকার ফসল পোকায় খায়’ প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. অন্তর্বেদনা
  2. আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
  3. বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা
  4. নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
সঠিক উত্তর:
নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
বোকার ফসল পোকায় খায় প্রবাদের অর্থ হচ্ছে নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ-
- বুকের মাঝে ঢেকির পাড় (অন্তর্বেদনা): কথাটা শুনেই ভাই আমার কেমন যেন বুকের মাঝে টেকির পাড় পড়তে শুরু করেছে।
- বেল পাকলে কাকের কী (আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া): বড়লোকের রাজসূয় যজ্ঞে গরিবের বাঁ আসে যায়-বেল পাকলে কাকের কী?
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা): অথর্ব বুড়োটার আবার বিয়ের সাধ জেগেছে-একেই বলে বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
‘অহরহ’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. অহ + রহ
  2. অহঃ + রহ
  3. অহঃ + অহ
  4. অহঃ + অহঃ
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) অহঃ + অহ

- অ-কারের পর র্-জাত বিসর্গ থাকলে এবং পরবর্তী ধ্বনিসমূহের মধ্যে কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' লেখা হয়।
- উদাহরণ:
  অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
  অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
  পুনঃ + আয় = পুনরায়,
  পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
  অহঃ + অহ = অহরহ,
- এরূপ: পুনর্জন্ম, পুনর্বার, প্রাতরুত্থান, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। এখানে 'বাঘে-মহিষে' কোন কর্তৃকারক?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ব্যতিহার কর্তা
- যখন কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ব্যতিহার কর্তা বলে।
- এখানে দুটি কর্তা (বাঘ এবং মহিষ) একত্রে একই জাতীয় ক্রিয়া (জল খাওয়া) সম্পন্ন করছে, তাই 'বাঘে-মহিষে' ব্যতিহার কর্তা। 

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
  খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
  মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার:
1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়।
  উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
  উদাহরণ: রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।
4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. উত্থান
  2. বনস্পতি
  3. অন্বেষণ
  4. বাচস্পতি
সঠিক উত্তর:
বনস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনস্পতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বনস্পতি

কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
আ+ চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
বন্ + পতি = বনস্পতি,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
তৎ + কর = তস্কর,
পর্ + পর = পরস্পর,
মনস্ + ঈষা = মনীষা,
ষট্ + দশ = ষোড়শ
এক্ + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি একটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধি।  
অনু + এষণ = অন্বেষণ একটি স্বর সন্ধি। 
উৎ + স্থান = উত্থান একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

.
'অবিশ্বাস্য ব্যাপার' অর্থে ব্যবহৃত প্রবাদ প্রবচন কোনটি? 
  1. ব্যাঙের আবার সর্দি
  2. আগুন পোহাতে ধোঁয়ায় কষ্ট
  3. মরা হাতি লাখ টাকা
  4. ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের আবার সর্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের আবার সর্দি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) ব্যাঙের আবার সর্দি
ব্যাঙের আবার সর্দি প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে - অবিশ্বাস্য ব্যাপার। 

অপশনের অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ:
- 'আগুন পোহাতে ধোঁয়ায় কষ্ট' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ।
- 'মরা হাতি লাখ টাকা' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - প্রকৃত গুণিজন দুর্দশায় পড়লেও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- 'ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'। - বাক্যে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. কর্মকারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
  3. কর্তৃকারক, প্রথমা বিভক্তি
  4. কর্তৃকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে 'আমারে' উত্তর পাওয়া যায় এবং 'রে' বিভক্তিটি দ্বিতীয় বিভক্তি। 

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মের প্রকার:
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম।
- উদাহরণ: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- তাকে বল।

রে বিভক্তি:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১০.
'অসারের তর্জনগর্জন' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. অল্প বয়সেই স্বভাব নষ্ট হওয়া
  2. হঠাৎ বড়োলোক হওয়া
  3. অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
  4. দুই পক্ষ ছাড়া ঝগড়া হয় না
সঠিক উত্তর:
অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
'অসারের তর্জনগর্জন' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে - অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি। 

অন্যদিকে, 
- কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা (অল্প বয়সেই স্বভাব নষ্ট হওয়া),
- আঙুল ফুলে কলা গাছ (হঠাৎ বড়োলোক হওয়া),
- এক হাতে তালি বাজে না (দুই পক্ষ ছাড়া ঝগড়া হয় না)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১.
"ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।" - বাক্যে ঘাটে কোন ধরণের আধারাধিকরণ?
  1. অভিব্যাপক
  2. বৈষয়িক
  3. ঐকদেশিক 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ঐকদেশিক 
- এই বাক্যে 'ঘাটে' শব্দটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ কারক। এখানে 'ঘাট' স্থানটি একটি নির্দিষ্ট অংশকে বোঝায়, যেখানে নৌকাটি বাঁধা আছে। অর্থাৎ, এটি পুরো স্থান জুড়ে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অংশে (ঘাটের কাছে বা ঘাটে) সংঘটিত হয়েছে।  

আধারাধিকরণ
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১২.
কোনটি সম্প্রদান কারক নয়? 
  1. ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।
  2. ধোপাকে কাপড় দাও।
  3. অন্ধজনে দেহ আলো।
  4. সমিতিতে চাঁদা দাও।
সঠিক উত্তর:
ধোপাকে কাপড় দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোপাকে কাপড় দাও।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) ধোপাকে কাপড় দাও।
- যদি স্বত্বত্যাগ না করে - তবে এটি কর্মকারক হিসেবে গণ্য হবে।
- তাই বাক্যটি কর্মকারক ২য়া বিভক্তি। 

সম্প্রদান কারক: 
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)

(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"

জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৩.
'নাবিক' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. নো + বিক 
  2. না + বিক 
  3. নৈ + এক
  4. নৌ + ইক 
সঠিক উত্তর:
নৌ + ইক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ + ইক 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) নৌ + ইক

এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ, ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ যুক্ত হয়।
উদাহরণসমূহ:
- নে + অন = নয়ন, শে + অন = শয়ন।
- নৈ + অক = নায়ক, গৈ + অক = গায়ক।
- পো + অন = পবন, লো + অন = লবণ।
- গো + আদি = গবাদি, গো + এষণা = গবেষণা, পো + ইত্র = পবিত্র।
- নৌ + ইক = নাবিক।
- ভৌ + উক = ভাবুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৪.
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. গরিবের কথা তেতো হলে ফলে
  2. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন
  3. গোদের ওপরে বিষফোঁড়া
  4. ঘরের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা 
সঠিক উত্তর:
গরিবের কথা তেতো হলে ফলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরিবের কথা তেতো হলে ফলে
ব্যাখ্যা

সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমনঃ 'গরিবের কথা তেতো হলে ফলে' বাক্যটি ভুল। এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োেগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- গরিবের কথা বাসি হলে ফলে  (নগণ্য লোকের পরামর্শও কাজে লাগে)।

অপশনের অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ:
- গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন = অধ্যবসায়ের ফলে দক্ষতা অর্জন,
- গোদের ওপরে বিষফোঁড়া = কষ্টের ওপর আরো কষ্ট,
- ঘরের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা = কাম্য বস্তুকে অবহেলা করা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫.
"মনঃ + কষ্ট"- এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মনোকষ্ট
  2. মনকষ্ট
  3. মনোঃকষ্ট
  4. মনঃকষ্ট
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মনঃ + কষ্ট

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন-
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
শিরঃ + পীড়া – শিরঃপীড়া।

আবার,
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন-
নিঃ + স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ।
দুঃস্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।
নিঃ+ স্পন্দ = নিঃস্পন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৬.
মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে - এখানে কি বুঝাতে অপাদান কারক হয়েছে?
  1. গৃহীত
  2. দূরীভূত
  3. জাত
  4. বিচ্যুত
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) বিচ্যুত
'মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে' বাক্যে 'বিচ্যুত' বোঝাতে অপাদান কারক হয়েছে। অপাদান কারক বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যেখান থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত (যেমন - মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়া), জাত (যেমন - দুধ থেকে দই), গৃহীত (যেমন - ঘি থেকে ঘি), আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত বা রক্ষিত হয়। 

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও 'হইতে', 'হতে', 'থেকে', 'দিয়া', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৭.
‘মহর্ষি’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. মহা + ঋষি
  2. মহ + ঋষি
  3. মহা + র্ষি
  4. মহর্ষ + ঋ
সঠিক উত্তর:
মহা + ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঋষি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) মহা + ঋষি

স্বরসন্ধির ক্ষেত্রে, 
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ (') রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
- উদাহরণ:
  অ + ঋ = অর্ → দেব + ঋষি = দেবর্ষি
  আ + ঋ = অর্ → মহা + ঋষি = মহর্ষি
- এরূপ: অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৮.
‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ কথার অর্থ কী?
  1. বাড়াবাড়ি পতনের কারণ
  2. বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা
  3. অভিজ্ঞতা বা প্রবীণত্বের মূল্য বেশি)
  4. সুবিধে পেতে হলে কষ্ট স্বীকারে অসুবিধে হয় না
সঠিক উত্তর:
বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা
পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে প্রবাদের অর্থ হচ্ছে বাড়াবাড়ি পতনের কারণ। 

অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ-
- বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো (বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা): তোমাকে আমি ভালো করেই চিনি, তোমার স্বভাবটাই হল বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো গোছের।
- পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে (অভিজ্ঞতা বা প্রবীণত্বের মূল্য বেশি): দাদুর যুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগল-আসলে পুরোনো চালই ভাতে বাড়ে।
- পেটে খেলে পিঠে সয় (সুবিধে পেতে হলে কষ্ট স্বীকারে অসুবিধে হয় না): টাকা পেলে দশ মাইল কেন, পঞ্চাশ মাইল ছুটতে রাজি আছি, জানই তো পেটে খেলে পিঠে সয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৯.
'সংবাদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. সং + বাদ
  2. সমং + বাদ
  3. সম্ + বাদ
  4. সব + বাদ 
সঠিক উত্তর:
সম্ + বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + বাদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) সম্ + বাদ

ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। যেমন-
সম্ + যম = সংযম,
সম্ + বাদ = সংবাদ,
সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
সম্ + লাপ = সংলাপ
সম্ + শয় = সংশয়
সম্ + সার = সংসার,
সম্ + হার = সংহার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।