পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ: ধ্বনিতত্ত্ব (ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি র্-জাত বিসর্গ সন্ধি?
  1. ক) আ+চর্য = আশ্চর্য
  2. খ) বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
  3. গ) নিঃ+আকার = নিরাকার
  4. ঘ) বাক্+ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ+আকার = নিরাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ+আকার = নিরাকার
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি: পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের  শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ হয়।
যেমন:
র্-জাত বিসর্গ: নির্ >নিঃ; দুর্ >দুঃ; অন্তর্ >অন্তঃ ইত্যাদি।
স্-জাত বিসর্গ: সরস্ >সরঃ; মনস্ >মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

কয়েক টি র্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
[ইঃ+আ = ই+রা] - নিঃ+আকার = নিরাকার
[অঃ+অ = র্+অ] - অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ
[উঃ+অ = উ+র] - দুঃ+অবস্থা = দুরবস্থা

কয়েকটি স্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
[ঃ+চ = শ্চ্] নিঃ+চয় = নিশ্চয়
[উঃ+ক = উষ্ক] দুঃ+কৃতি = দুষ্কৃতি
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'ণ' -এর সঠিক ব্যবহার হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) ত্রিণয়ন
  2. খ) লবণ
  3. গ) দুর্ণাম
  4. ঘ) অগ্রণায়ক
সঠিক উত্তর:
খ) লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লবণ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
• এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমনঃ
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
- অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মসিদ্ধ উপায়ে গঠিত?
  1. ক) দর্ষন
  2. খ) অর্ষ
  3. গ) আষাঢ়
  4. ঘ) বিষম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষম
ব্যাখ্যা
• ই -কারান্ত এবং উ -কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমনঃ অভিসেক > অভিষেক, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• দর্শন, আদর্শ, অর্শ, বর্শা ইত্যাদি শব্দে ষ হয় না।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
যে সকল সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসরণ করে না তাদের কে বলে-
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গসন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
• কিছু স্বরসন্ধি ও কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি কোনো সূত্র বা নিয়ম অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে

নিপাতনে সিদ্ধ কিছু স্বরসন্ধি হলো:
কুল+অটা = কুলটা
গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

নিপাতনে সিদ্ধ কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি হলো:
গো+পদ = গোষ্পদ
এক+দশ = একাদশ
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘উল্লাস’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উছ+লাস
  2. খ) উল+লাস
  3. গ) উচ্ছ+লাস
  4. ঘ) উৎ+লাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উৎ+লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উৎ+লাস
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন-
উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)
বাক্+দান = বাগ্দান ( এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)
তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে ( এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)
শম্+কা = শঙ্কা ( এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)
ষষ্+থ = ষষ্ঠ ( এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) নৈ+অক = নায়ক
  2. খ) মহা+ঋর্ষি =মহর্ষি
  3. গ) জন+অক = জনৈক
  4. ঘ) নৌ+বিক = নাবিক
সঠিক উত্তর:
ক) নৈ+অক = নায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নৈ+অক = নায়ক
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে: [ঐ+অন্য স্বর = আয়্+স্বর] নৈ+অক = নায়ক

অন্যান্য গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
[অ/আ+ঋ = অর্] মহা+ঋষি = মহর্ষি।
[ঔ+অন্য স্বর = আব্+স্বর] নৌ+ইক = নাবিক।
[অ/আ+এ/ঐ =ঐ] জন+এক = জনৈক।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চিকীর্ষা
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) বর্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধানের নিয়মাবলী:
১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন—ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন—অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
৩। ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন—ঋষি, কৃষক।
৪। তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন—বর্ষা, ঘর্ষণ।
৫। ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন—কষ্ট, কাষ্ঠ।
৬। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন—ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ, ভূষণ ।
৭। বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন—জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘উত্তমর্ণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উত্তম+মর্ণ
  2. খ) উত্তম+উম্ম
  3. গ) উত্তম+ঋণ
  4. ঘ) উত্তম+ঋত
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তম+ঋণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তম+ঋণ
ব্যাখ্যা
‘উত্তমর্ণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে- উত্তম+ঋণ = উত্তমর্ণ

• প্রথম পদের শেষে অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি এবং পরের পদের প্রথমে ঋ-ধ্বনি থাকলে দুয়ের সন্ধিতে আর্ হয়। বানানে অ আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যৃক্ত হয় এবং র্-ধ্বনি রেফ হয়ে পরের ব্যঞ্জনের ওপরে বসে। 

• [অ+ঋ = অর্] - দেব+ঋষি = দেবর্ষি, উত্তম+ঋণ = উত্তমর্ণ, সপ্ত+ঋষি = সপ্তর্ষি, অধম+ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।
• [আ+ঋ = অর্] - রাজা+ঋষি = রাজর্ষি, মহা+ঋষি = মহর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) উল্লাস
  3. গ) সঞ্চয়
  4. ঘ) মরূদ্যান
সঠিক উত্তর:
ক) পুনর্মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পুনর্মিলন
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরণের পরিকর্তন লক্ষ করা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যামান থাকে: মঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন,
২.বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান,
৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার,  ‍পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন
৪. বিসর্গ শ্/ষ্/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর,
৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিরঃ+রব = নীরব, নিরঃ+রস = নীরস।

অন্যদিকে,
উৎ+লাস = উল্লাস
সম্+চয় = সঞ্চয়,  এই দুইটি ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
মরু+উদ্যান = মরূদ্যান , স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
ণ-ত্ব বিধান কোন শব্দের জন্য প্রযোজ্য?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ
  2. খ) বিদেশি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য-
  1. ক) শব্দের অলংকার বৃদ্ধি
  2. খ) সরল লেখ্যরুপ প্রদান
  3. গ) শব্দ গঠন
  4. ঘ) উচ্চারণে সহজপ্রবণতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চারণে সহজপ্রবণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চারণে সহজপ্রবণতা
ব্যাখ্যা
•সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি।

সন্ধির উদ্দেশ্য:
ক. সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং
খ. ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। 
যেমন- ‘আশা’ ও ‘অতীত’ উচ্চারণে যে প্রয়াস প্রয়োজন, ‘আশাতীত’ তার চেয়ে অল্প আয়াসে উচ্চারিত হয়। তবে যে ক্ষেত্রে আয়াসের লাঘব হয় কিন্তু ধ্বনি-মাধুর্য রক্ষিত হয় না, সে ক্ষেত্রে সন্ধি করার নিয়ম নেই। যেমন- কচু+আদা+আলু =কচ্চাদালু হয় না অথবা কচু+আলু+আদা = কচ্চাল্বাদা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
‘মিথ্যুক’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মিথ্যা+অক
  2. খ) মি+থ্যুক
  3. গ) মিথ্যা+থ্যুক
  4. ঘ) মিথ্যা+উক
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিথ্যা+উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিথ্যা+উক
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।
• সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়। যেমন-
- আ+উ = উ (আ লোপ), যেমন- মিথ্যা+উক = মিথ্যুক
- অ+এ = এ (অ লোপ), যেমন- শত+এক = শতেক।
- আ+আ = আ (একটি আ লোপ), যেমন- শাঁখা+আরি = শাঁখারি।
- ই+এ = ই (এ লোপ), যেমন- কুড়িিএক = কুড়িক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
ষোড়শ এর সন্ধি বিচ্ছেদ নিচের কোনটি?
  1. ক) ষো+অড়শ
  2. খ) ষো+অড়শ
  3. গ) ষট্+দশ
  4. ঘ) ষড়্+দশ
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্+দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্+দশ
ব্যাখ্যা
- ষোড়শ হচ্ছে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি,  ষোড়শ এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে- ষট্+দশ = ষোড়শ।

কিছু নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হচ্ছে:
- পৎ+অঞ্জলি= পতঞ্জলি।
- এক্+দশ= একাদশ।
- তৎ+কর= তস্কর।
- গো+পদ= গোষ্পদ


উৎস:- বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
ষ-ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিম্নের কোন শব্দে?
  1. ক) পোষাক
  2. খ) পোষ্ট
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) মাষ্টার
সঠিক উত্তর:
গ) ষোড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষোড়শ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে ষোড়শ শব্দে।
- ষোড়শ একটি তৎসম শব্দ।

ষ-ত্ব বিধান নিয়ম অনুযায়ী-
- কেবল তৎসম শব্দেই ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য।
- বিদেশি শব্দে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।

 অন্যদিকে,
- ‘পোষাক’ ‘পোষ্ট’ ও ‘মাষ্টার’ শব্দের সঠিক বানান- পোস্ট, মাস্টার, পোশাক।
- পোস্ট ও মাস্টার ইংরেজি শব্দ এবং পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
ণ-ত্ব বিধান খাটে না কোন শব্দে?
  1. ক) মাণিক্য
  2. খ) ত্রিনয়ণা
  3. গ) বাণী
  4. ঘ) আপণ
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিনয়ণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিনয়ণা
ব্যাখ্যা
‘ত্রিনয়ণা’ শব্দটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন- পোস্ট, পোশাক, মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
নিচের কোনটি স্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) প্রাতঃ+আশ =প্রাতরাশ
  2. খ) পুরঃ+কার = পুরস্কার
  3. গ) বাক্+ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী
  4. ঘ) বিশ্ব+মিত্র = বিশ্বমিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) পুরঃ+কার = পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুরঃ+কার = পুরস্কার
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি: পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের  শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ হয়।
যেমন:
র্-জাত বিসর্গ: নির্ >নিঃ; দুর্ >দুঃ; অন্তর্ >অন্তঃ ইত্যাদি।
স্-জাত বিসর্গ: সরস্ >সরঃ; মনস্ >মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
কয়েকটি স্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
[অঃ+ক = অ+স্ক] - তিরঃ+স্কার = তিরস্কার, পুরঃ+কার = পুরস্কার
[আঃ+ক = আ+স্ক] - ভাঃ+কর =ভাস্কর
[অঃ+প = অ+স্প] - বাচঃ+পতি = বাচস্পতি

অন্যদিকে,
প্রাতঃ+আশ =প্রাতরাশ, র্-জাত বিসর্গসন্ধি।
বাক্+ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী এবং বিশ্ব+মিত্র = বিশ্বমিত্র, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
‘হুঁশিয়ার’ শব্দে ষ ব্যবহৃত হয়নি কেন?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ বলে
  2. খ) বিদেশি শব্দ বলে
  3. গ) অর্ধসংস্কৃত শব্দ বলে
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ বলে
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি শব্দ বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নায়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

• প্রশ্নে দেয়া ‘হুঁশিয়ার’ শব্দটি ফারসি শব্দ, তাই ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ষ এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ক) অনু+অয় = অন্বয়
  2. খ) পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়
  3. গ) দুঃখ+ঋত = দুঃখার্ত
  4. ঘ) গো+অক্ষ = গবাক্ষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গো+অক্ষ = গবাক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গো+অক্ষ = গবাক্ষ
ব্যাখ্যা
• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ সন্ধি বলে। যেমন:
- গো+ অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র+ঊঢ় =প্রৌঢ়,
- স্বর+ঈর = স্বৈর,
- মার্ত+অণ্ড = মার্তণ্ড,
- কুল+অটা =কুলটা,
- গো+অস্থি =গবাস্থি,
- গো+ইন্দ্র =গবেন্দ্র,
- পর+পর = পরস্পর,
- প্র+এষণ = এষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।