পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮৩
সিলেবাস
Exam - 20 Full Model Test-3 Topic ➝ Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৮৩ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধি কী ধরনের আইন?
  1. Criminal Law
  2. Procedural Law
  3. Substantive Law
  4. Constitutional Law
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির নিয়মকানুন নির্ধারণ করে।
- সর্ব প্রথম ১৮৫৯ সালে সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ [codified] করা হয়।
- বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি পাশ হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ ।
- ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন।
- The Code of Civil Procedure,1908 (ACT NO. V OF 1908)

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law বা Adjective law]। দেওয়ানি মোকদ্দমার বিচার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন হলো দেওয়ানি কার্যবিধি।
- এই আইনে দেওয়ানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কোর্টসমূহ কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবে, মোকদ্দমার পক্ষসমূহ কীভাবে মোকদ্দমা দায়ের করবে, মোকদ্দমার আরজি এবং লিখিত জবাব দাখিল করবে, সমন জারি, পক্ষসমূহের শুনানির সময় উপস্থিতি, মোকদ্দমার শুনানি, রায় ঘোষণা, ডিক্রি জারি এবং বলবৎকরণ, আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। তাই এটি একটি পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law বা Adjective law]।
- এই আইনে দেওয়ানি আদালত এবং মামলার পক্ষগুলোর জন্য যে-সব নিয়ম মানতে হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে জানা যায়:
- কীভাবে মামলা দায়ের করতে হয়।
- মামলার আবেদন বা জবাব কীভাবে দিতে হয়।
- কীভাবে সমন (জবানবন্দি বা উপস্থিতির আদেশ) জারি করতে হয়।
- কীভাবে আদালতে শুনানি হয়।
- রায় এবং ডিক্রি (আদালতের আদেশ) কীভাবে ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়।
- আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম।
- অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধি মামলার প্রতিটি ধাপে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে, মধ্যবর্তী মুনাফা কোন ধরনের দখলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থায়ী দখল
  2. বেআইনী দখল
  3. আইনসম্মত দখল
  4. সকল ধরনের দখল
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে, "মধ্যবর্তী মুনাফা" (Mesne Profits) বলতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তি থেকে যে লাভ (স্বাভাবিক নিয়মে বা সাধারণ বুদ্ধিমত্তায়) তৈরি হয় বা হতে পারতো, তা বোঝায়। এখানে স্পষ্টভাবে "wrongful possession" (বেআইনী দখল) উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই সংজ্ঞার মূল ভিত্তি।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা 2(12)-এ "Mesne Profits" বা মধ্যবর্তী মুনাফা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি সেই মুনাফাকে বোঝায় যা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সম্পত্তি থেকে প্রকৃতপক্ষে অর্জন করেছে বা সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অর্জন করতে পারতো, তবে বেআইনীভাবে দখলদারের উন্নয়নের ফলে হওয়া মুনাফা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

⇒ ধারা ২(১২) অনুসারে, বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম- বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
--------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession.

.
আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি সম্পর্কিত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ২০
  3. ধারা ২১
  4. ধারা ৯৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২১-এ "Objections to jurisdiction" সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এই ধারায় আদালতের আঞ্চলিক (territorial) এবং আর্থিক (pecuniary) এখতিয়ার সম্পর্কে আপত্তি তোলার নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, এমন আপত্তি প্রথম আদালতে সর্বপ্রথম সুযোগে উত্থাপন করতে হবে, অন্যথায় আপিল বা রিভিশন আদালতে সাধারণত গ্রহণ করা যাবে না, যদি না ন্যায় বিচারের ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটে থাকে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section-21: Objections to jurisdiction:-
No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসারে সুপ্রীম কোর্ট কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে?
  1. ধারা ৯৬
  2. ধারা ১০২
  3. ধারা ১২২
  4. ধারা ১৫১
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১২২ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টকে সময় সময়ে পূর্বকালীন প্রকাশনার পরে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিভাগ এবং এর নিয়ন্ত্রণাধীন দেওয়ানি আদালতসমূহের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিধির মাধ্যমে প্রথম তফশীলের সকল বা যেকোনো বিধি বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করা যায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১২২ ধারা- বিধি প্রণয়নে সুপ্রীমকোর্টের ক্ষমতা:
- সুপ্রীমকোর্ট সময় সময়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রত্যেক বিভাগের ও ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন দেওয়ানী আদালতসমূহের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণকালে পূর্বকালীন প্রকাশনার পরে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন এবং এরূপ প্রণীত বিধি দ্বারা প্রথম তফশীলের সকল বা যে কোন বিধি বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারবেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 122. Power of the Supreme Court to make rules.
- The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৬-এর অধীনে সিভিল কারাগারে আটকের নিষেধাজ্ঞা কার জন্য প্রযোজ্য নয়?
  1. বৃদ্ধ মহিলার জন্য
  2. অসুস্থ মহিলার জন্য
  3. গর্ভবতী মহিলার জন্য
  4. সাধারণ যুবতী মহিলার জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৬ অনুসারে, অর্থের ডিক্রির কার্যকরে শুধুমাত্র বৃদ্ধ, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের গ্রেপ্তার বা সিভিল কারাগারে আটকের আদেশ দেয়া নিষিদ্ধ। সাধারণ যুবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়, যদি না তারা উপরোক্ত ধরনের মধ্যে পড়ে।
অর্থাৎ কোনো নারীকে টাকার রায় বাস্তবায়নে গ্রেপ্তার করা যাবে না, যদি তিনি বুড়ো, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হন। 

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section- 56. Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money: Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of an old, infirm, pregnant or breast-feeding woman in execution of a decree for the payment of money.

.
অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে দায়িকের (judgment-debtor) সম্পর্কে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় না?
  1. সিভিল জেলে আটক করা
  2. সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় করা
  3. উভয় পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করা
  4. দায়িকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৩০ অনুসারে, অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারি করার জন্য শুধুমাত্র সিভিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায়, যেমন দায়িককে সিভিল জেলে আটক করা (ক), সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় করা (খ), অথবা উভয় পদ্ধতি একসাথে (গ)। কিন্তু ফৌজদারি মামলা দায়ের করা (ঘ) এর আওতায় পড়ে না, কারণ এটি সিভিল এক্সিকিউশনের অংশ নয় এবং ফৌজদারি আইনের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান: অর্থ পরিশোধের ডিক্রি: বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক এবং নিলাম বিক্রয় করে অথবা উভয় প্রকারেই জারি করা যাবে।
-----------

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order-21 Rule-30- Decree for payment of money:
Every decree for the payment of money, including a decree for the payment of money as the alternative to some other relief, may be executed by the detention in the civil prison of the judgment-debtor, or by the attachment and sale of his property, or by both.

.
সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের (Senior Assistant Judge) সর্বোচ্চ আর্থিক এখতিয়ার কত টাকা?
  1. ১৫ লক্ষ টাকা 
  2. ২০ লক্ষ টাকা
  3. ২৫ লক্ষ টাকা
  4. ৩০ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ: দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং আঞ্চলিক এখতিয়ার—এই দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। নিচে এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:

⇒ ১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction):
আর্থিক এখতিয়ার বলতে মামলার মূল্যমান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। The Civil Courts Act, 1887 অনুসারে, বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালতগুলোর আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরূপ:
•সহকারী জজ আদালত (The Court of Assistant Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (The Court of Senior Assistant Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

• যুগ্ম জেলা জজ আদালত (The Court of Joint District Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকার উপরে।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ২৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

⇒ ২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction):
আঞ্চলিক এখতিয়ার বলতে মামলার বিষয়বস্তু বা পক্ষগণের অবস্থান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৫ থেকে ২৩ পর্যন্ত আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:
ধারা ১৫: সাধারণ নিয়ম হলো, মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যেখানে প্রতিবাদী (Defendant) বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে।
ধারা ১৬: স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে।
ধারা ১৭: যদি স্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হয়, তাহলে সম্পত্তির অংশ বিশেষ যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ১৮: যদি আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার অনিশ্চিত হয়, তাহলে যেকোনো একটি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ২০: চুক্তি ভঙ্গের মামলায় চুক্তি সম্পাদনের স্থান বা চুক্তি ভঙ্গের স্থানে মামলা দায়ের করা যাবে।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন নিয়মে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-২, নিয়ম-৭
  2. আদেশ-১, নিয়ম-৮
  3. আদেশ-২, নিয়ম-৮
  4. আদেশ-৩, নিয়ম-১
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC)-এর আদেশ-১, নিয়ম-৮-এ প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে, যখন একই স্বার্থে অসংখ্য ব্যক্তি জড়িত থাকে, তখন আদালতের অনুমতিক্রমে এক বা একাধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে মামলা দায়ের বা রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order-1, Rule-8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct.
2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১৪ অনুসারে কমিশনার আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে কত সময় পাবেন?
  1. অনূর্ধ্ব ১ মাস
  2. অনূর্ধ্ব ২ মাস
  3. অনূর্ধ্ব ৩ মাস
  4. অনূর্ধ্ব ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ২৬, বিধি ১৪(২) অনুসারে, কমিশনারের প্রতিবেদন (বা প্রতিবেদনসমূহ) কমিশনের সাথে সংযুক্ত করে আদালত নির্ধারিত অনূর্ধ্ব তিন মাস সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করতে হবে। তবে, কমিশনারের আবেদনক্রমে এবং পর্যাপ্ত কারণ দেখানো হলে আদালত সময় বৃদ্ধি করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৪- কমিশনারের কার্যপদ্ধতি:
১) কমিশনার প্রয়োজন হতে পারে এরূপ তদন্ত অনুষ্ঠানের পর, যে আদেশের অধীনে কমিশন প্রেরিত হয়েছিল সে আদেশে নির্দেশিত অংশ অনুপাতে সম্পত্তিটি ভাগ করবেন এবং উক্ত অংশগুলো পক্ষগণের মধ্যে বণ্টন করবে এবং যদি উপরোক্ত আদেশ দ্বারা ক্ষমতাবান হয়ে থাকে তবে বিভিন্ন অংশের মূল্য সমান করার জন্য যে টাকা পরিশোধ করতে হবে তা বিনিময় করতে পারে।

২) কমিশনার অতঃপর একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং অনুস্বাক্ষর করবে কিংবা কমিশনারগণ (একাধিক ব্যক্তির নিকট কমিশন প্রেরিত হয়ে থাকলে এবং তারা একমত হতে না পারলে) প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্দেশ করে এবং (যদি উক্ত আদেশ দ্বারা নির্দেশিত হয়ে থাকলে) প্রত্যেক অংশের পরিমাণ ও চৌহদ্দি আলাদাপূর্বক পৃথক প্রতিবেদন সমূহ প্রণয়ন এবং অনুস্বাক্ষর করবে। অনুরূপ প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ কমিশনের সঙ্গে সংযুক্ত রে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনূর্ধ্ব তিন মাস সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরীত হবে; এবং উক্ত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদন সম্পর্কে কোন পক্ষ কোন আপত্তি উত্থাপন করলে তা শুনানির পরে আদালত তা বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কমিশনারের আবেদনক্রমে এবং পর্যাপ্ত কারণ দর্শানো হলে সময় বৃদ্ধি করতে পারে।

৩) যেক্ষেত্রে আদালত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ বহাল বা পরিবর্তন করেন সেক্ষেত্রে বহাল বা পরিবর্তিত প্রতিবেদন মোতাবেক আদালত একটি ডিক্রি দিবে, কিন্তু আদালত যদি কমিশনের প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ বাতিল করেন তবে আদালত নতুন কমিশন পাঠাবে কিংবা উপযুক্ত অন্য কোন আদেশ প্রদান করবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order 26 Rule 14- Procedure of Commissioner:
(1) The Commissioner shall, after such inquiry as may be necessary, divide the property into as many shares as may be directed by the order under which the commission was issued, and shall allot such shares to the parties, and may, if authorized thereto by the said order, award sums to be paid for the purpose of equalizing the value of the shares.

(2) The Commissioner shall then prepare and sign a report or the Commissioners (where the commission was issued to more than one person and they cannot agree) shall prepare and sign separate reports appointing the share of each party and distinguishing each share (if so directed by the said order) by metes and bounds. Such report or reports shall be annexed to the commission and transmitted to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court; and the Court, after hearing any objections which the parties may make to the report or reports, shall confirm, vary or set aside the same:
Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.

(3) Where the Court confirms or varies the report or reports it shall pass a decree in accordance with the same as confirmed or varied; but where the Court sets aside the report or reports it shall either issue a new commission or make such other order as it shall think fit.

১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারা অনুযায়ী যদি পক্ষদ্বয় ১০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ না করেন, তাহলে আদালত কত দিনের মধ্যে নিয়োগ করবে?
  1. পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে
  2. পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে
  3. পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে
  4. কোনো সময়সীমা নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক(৪) অনুসারে, মধ্যস্থতার রেফারেন্সের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় যদি মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ না করে, তাহলে আদালত পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। এতে সর্বোচ্চ ১৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ নিশ্চিত হয়, যা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও দক্ষতা বজায় রাখার জন্য নির্ধারিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিবে। উক্ত সময়ের মধ্যে না পারলে আদালত পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিবে।
- নিয়োগ দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মীমাংসা করবে। তাও সম্পন্ন না হলে আরও ৩০ দিন বাড়াবে।
- অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
- মধ্যস্থতা প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সোলে ডিক্রি (Compromise Decree) জারি করবেন।
- সোলে ডিক্রি এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল কিংবা রিভিশন করা যাবে না।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-89A: Mediation: 
(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, 9[or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.

১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৭, বিধি ৬
  2. আদেশ ৭, বিধি ৯
  3. আদেশ ৮, বিধি ৬
  4. আদেশ ৯, বিধি ৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ৮, বিধি ৬-এ পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই বিধি অনুসারে, অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী বাদীর দাবীর বিরুদ্ধে নিজের পূর্বের নির্দিষ্ট পাওনা (Legal Set-off) দাবি করতে পারে, যাতে দায়শোধ সম্ভব হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা: ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6], খ) Equitable Set-off.

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।

১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৫০
  2. ধারা ১৪৫
  3. ধারা ১৫১
  4. ধারা ১৫২
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর ধারা ১৫১-এ আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, "Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court" অর্থাৎ CPC-এর কোনো বিধান আদালতের সহজাত ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে না, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আদালতের কার্যধারার অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয়।

⇒ দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা:-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.

১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশ ও বিধিতে প্লিডিংস সংশোধনের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৬, বিধি ১৭
  2. আদেশ ১, বিধি ১০
  3. আদেশ ৭, বিধি ১১
  4. আদেশ ৪, বিধি ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৭: প্লিডিংস সংশোধন:
- মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে আরজি বা জবাবের ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন।
- বাদী বা বিবাদী উভয় পক্ষের বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সংশোধন করা যাবে।
- আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর আরজি জবাব সংশোধনের আদেশ নির্ভর করে।
- প্লিডিংস সংশোধনের দরখাস্ত দাখিল করতে হয় বিচারিক আদালতে।
- প্লিডিংস মামলার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 6 Rule 17: Amendment of pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings allow either party to alter or amend his pleadings in such manner and on such terms as may be just, and all such amendments shall be made as may be necessary for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties:
Provided that no application for amendment shall be allowed after the trial has commenced, unless the Court is of opinion that in spite of due diligence, the party could not have raised the matter before the commencement of trial:
Provided further that if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as it thinks fit. 

১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-২ কী সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষী তলব
  2. দলিল উপস্থাপন
  3. লিখিত জবাব দাখিল
  4. মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ২-এ পক্ষ বা তার সঙ্গী ব্যক্তির মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের (Oral examination of party or companion of party) বিধান রয়েছে। এই বিধি অনুসারে, প্রথম শুনানি বা পরবর্তী শুনানিতে আদালত মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পেতে পক্ষ বা তার সঙ্গীকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, এবং চাইলে পক্ষের সুপারিশকৃত প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করতে পারে (আদালতের বিবেচনাধীন)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০, বিধি ২ অনুযায়ী, আদালত প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোনো শুনানিতে যদি কোনো পক্ষ বা তার সাথে থাকা ব্যক্তি মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হন, তবে আদালত তাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order-10 Rule-2: Oral examination or party of companion of party:-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.

১৫.
কোর্ট ফি নির্ধারিত না থাকলে নিঃস্ব হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ কত টাকার সম্পত্তি থাকতে পারে?
  1. ২,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ২০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ ৩৩ (Order XXXIII) নিঃস্ব ব্যক্তির (pauper) পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
আদেশ ৩৩, বিধি ১ অনুযায়ী “কোন ব্যক্তি যদি মামলার জন্য নির্ধারিত কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হন, অথবা কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত না থাকলে তার পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু ব্যতীত অন্য কোন সম্পত্তি যদি ৫০০০ টাকার বেশি না থাকে, তবে সেই ব্যক্তি 'নিঃস্ব' (pauper) হিসেবে গণ্য হবেন এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করতে পারবেন।”

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতে, নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation- person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে মোকদ্দমা প্রত্যাহার বা দাবির আংশিক পরিত্যাগের বিধান রয়েছে- 
  1. আদেশ ১২, বিধি ১০
  2. আদেশ ২৩, বিধি ১ 
  3. আদেশ ২১, বিধি ১১
  4. আদেশ ২৫, বিধি ৫
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৩, বিধি ১-এ "Withdrawal of suit or abandonment of part of claim" সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, মোকদ্দমা দায়েরের পর যেকোনো সময় বাদী সকল বা যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারেন। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ বিধি-১ এর বিধান মোকদ্দমা প্রত্যাহার কিংবা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
১) মোকদ্দমা রুজু হওয়ার পর যে কোন সময় বাদি সকল বা যে কোন বিবাদির বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে কিংবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে।
--------
⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-1. Withdrawal of suit or abandonment of part of claim.
(1) At any time after the institution of a suit the plaintiff may, as against all or any of the defendants, withdraw his suit or abandon part of his claim.

১৭.
Order XVIII এর Rule 20 অনুসারে, দৈনিক কার্যতালিকায় চূড়ান্ত শুনানির জন্য কতটির বেশি মামলা নির্ধারণ করা যাবে না?
  1. পাঁচটির বেশি
  2. সাতটির বেশি
  3. দশটির বেশি
  4. পনেরোটির বেশি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার XVIII, বিধি-২০ (সংশোধিত) অনুসারে, আদালত দৈনিক কার্যতালিকার চূড়ান্ত শুনানির জন্য মুলতবি শুনানিতে থাকা চারটি মামলাসহ দশটির বেশি মামলা নির্ধারণ করবে না। এটি সংশোধনের পরবর্তী পরিবর্তনে "পাঁচ" থেকে "দশ"-এ বাড়ানো হয়েছে, যাতে আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার XVIII, বিধি-২০: আদালত দৈনিক কার্যতালিকার চূড়ান্ত শুনানির জন্য মুলতবি শুনানিতে থাকা চারটি মামলাসহ দশটির বেশি মামলা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে দুইশ'র বেশি মামলা নির্ধারণ করবে না; এবং যখন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ে মামলার মোট সংখ্যা একশ' চল্লিশটির নিচে নেমে আসবে, তখন আদালত সাধারণত মামলা দায়েরের তারিখের ক্রমানুসারে আরও মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো আদালতে উপরোক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণের জন্য শুনানির জন্য প্রস্তুত মামলার সংখ্যা যথেষ্ট না হয়, তবে আদালত যুক্তিসঙ্গতভাবে মামলা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে নিজস্ব বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারবে। 

ব্যাখ্যা: এই বিধিতে "চূড়ান্ত" ("peremptory") শব্দটি সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারসে ব্যবহৃত শব্দের অনুষঙ্গ হিসাবে অর্থ বহন করবে। 

১৮.
'অধিকার ঘোষণা' সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন উপধারায় আছে?
  1. ধারা ৫(ক)
  2. ধারা ৫(খ)
  3. ধারা ৫(গ)
  4. ধারা ৫(ঘ)
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫(ঘ) অনুসারে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় "ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে"। এটি "অধিকার ঘোষণা" (Declaratory Relief)-এর সরাসরি বিধান, যা পক্ষগুলোর অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই।

অন্যান্য উপধারাগুলো:
(ক): সম্পত্তির দখল গ্রহণ ও প্রদান।
(খ): কোনো কাজ করার আদেশ।
(গ): কোনো কাজ না করার বিরতি (Injunction)।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৫ ধারা মতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
The Specific Relief Act, 1877 Section-5: Specific relief how given:
-Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.

১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী কোন ধরনের সম্পত্তির জন্য মামলা দায়ের করা যায়?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. অর্থ ও ক্ষতিপূরণ
  4. চুক্তিভিত্তিক সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১০ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির (specific moveable property) দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। এটি স্থাবর সম্পত্তি (immoveable property) বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য প্রযোজ্য নয়, বরং অস্থাবর যেমন গাড়ি, জুয়েলারি ইত্যাদির জন্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১:- এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২:- সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-10: Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ থাকলে কী হবে?
  1. চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যাবে না
  4. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যেতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ (liquidated damages) উল্লেখ থাকলেও, যদি চুক্তি অন্যথায় সুনির্দিষ্ট কার্যকরণের (specific performance) উপযুক্ত হয় এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট কার্যকরণ প্রদানে কোনো বাধা হয় না। এটি নিশ্চিত করে যে ক্ষতিপূরণের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী, একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারার বিধান ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা নয়:
যেকোনো চুক্তি, যা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা উপযুক্ত, তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হিসেবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘন হলে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করা থাকে এবং চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে ইচ্ছুক।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 20. Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same. 

Illustration:
A contracts to grant B an under-lease of property held by A under C, and that he will apply to C for a license necessary to the validity of the under lease, and that, if the license is not procured, A will pay B taka 10,000. A refuses to apply for the license and offers to pay B the taka 10,000. B is nevertheless entitled to have the contract specifically enforced it C consents to give the license.

২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ঘোষণা সংক্রান্ত বিধান
  2. চুক্তি কার্যকর করার বিধান
  3. ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান
  4. নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিধান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩ সরাসরি নিষেধাজ্ঞা (Injunctions) সংক্রান্ত বিধানের সাথে সম্পর্কিত। এই ধারাটি বিশেষভাবে দু'ধরনের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করে: 
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction)

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
-চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------------
⇒ The Specific Relief Act,1877, Section-53: Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
-Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

২২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারা অনুসারে, সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হলে বাদীর কোন অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. চুক্তির পুনরায় স্বীকৃতির অধিকার
  2. চুক্তির পরিবর্তনের অধিকার
  3. চুক্তির ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবির অধিকার
  4. কোনো অধিকারই বাধাগ্রস্ত হয় না
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে, যদি একটি চুক্তি বা তার অংশবিশেষের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে যায়, তাহলে বাদী ওই একই চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে আলাদা কোনো মামলা দায়ের করতে পারবে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারার সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল বা 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.

২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪৩ অনুযায়ী ঘোষণার প্রভাব কাদের উপর বাধ্যকর হয়?
  1. মোকদ্দমার পক্ষগণ
  2. পক্ষগণের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ
  3. সমগ্র জনসাধারণের উপর
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪৩ অনুযায়ী, একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি (declaratory decree) নিম্নলিখিতদের উপর বাধ্যকর হয়:
ক) মোকদ্দমার পক্ষগণ (parties to the suit)
খ) পক্ষগণের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ (persons claiming through them respectively)
এবং জিম্মাদার (trustees) থাকলে তাদের ক্ষেত্রে, ঘোষণার তারিখে যারা জীবিত থাকবে তাদের জন্য।
সুতরাং, "ক এবং খ উভয়"ই সঠিক।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান ঘোষণার ফলাফল : এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
-------------
⇒ The Specific Relief Act,1877, Section 43:- Effect of declaration:- A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees. 
Illustration 
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারা অনুসারে দায়রা আদালতের বিচারকদের নিয়োগ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়
  2. প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়
  3. আইনমন্ত্রী কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়
  4. সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৯(৩ক) উপ-ধারা অনুযায়ী, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এটি সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি প্রণীত বিধি সাপেক্ষে করা হয়।

⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।

ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রনীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।

⇒অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে পারেন।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for  Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.

(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore. 
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts. 

 (3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.

(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct. 
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.

২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফশিলের কোন কলামে অপরাধটি আমলযোগ্য না আমল-অযোগ্য তা উল্লেখ থাকে?
  1. প্রথম কলাম
  2. তৃতীয় কলাম
  3. চতুর্থ কলাম
  4. পঞ্চম কলাম
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফশিলের তৃতীয় কলামে উল্লেখ থাকে যে অপরাধটি আমলযোগ্য (Cognizable) নাকি আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই সরাসরি গ্রেফতার করতে পারে এবং তদন্ত শুরু করতে পারে, যেখানে আমল-অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া প্রয়োজন। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফশিলে বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। এই কলামগুলো বিচার প্রক্রিয়া, পুলিশি ক্ষমতা, জামিন, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।
- ১ম কলামে উল্লেখ থাকে দণ্ডবিধির (Penal Code) কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধটি হয়েছে।
- ২য় কলামে লেখা থাকে সেই ধারার অধীনে অপরাধটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
- ৩য় কলামে বলা হয়, পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না, অর্থাৎ এটি আমলযোগ্য (Cognizable) না আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)।
- ৪র্থ কলামে বলা থাকে, প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট, তা নির্ধারণ করা হয়।
- ৫ম কলামে উল্লেখ থাকে অপরাধটি জামিনযোগ্য (Bailable) না জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)।
- ৬ষ্ঠ কলামে বলা হয় অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কি না — অর্থাৎ ভুক্তভোগী চাইলেই কি সেটি মিটমাট করে নিতে পারে।
- ৭ম কলামে উল্লেখ থাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ।
- ৮ম তথা শেষ কলামে বলা হয়, সেই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের আছে।

২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৩ অনুসারে, দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের একটি নকল কাদের নিকট প্রেরণ করবে না?
  1. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিকট
  2. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিকট
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  4. সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৩ অনুসারে, দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের নকল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (মহানগর ক্ষেত্রে) অথবা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা ক্ষেত্রে) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবে।
- তবে এই ধারায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের নিকট নকল প্রেরণের কোনো বিধান নেই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৩: দায়রা আদালত সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ- দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের একটি নকল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন। অর্থাৎ মহানগর দায়রা আদালত হলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।
এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 373: Court of Session send copy of finding and sentence to District Magistrate:
In cases tried by the Court of Session, the Court shall forward a copy of its finding and sentence (if any) to the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, as the case may be, and District Magistrate within the local limits of whose jurisdiction the trial was held.

২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুসারে, পুলিশের তদন্তের সর্বোচ্চ সময় - 
  1. ৬০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ১২০ দিন
  4. ১৮০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় পুলিশের তদন্তের সর্বোচ্চ সময় ১২০ দিন উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নির্দেশনামূলক। যদি উক্ত ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে:
- যে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন বা যে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি [release the accused on bail] দিতে আদেশ দিতে পারেন; যদি না অপরাধটির জন্য শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বৎসরের অধিক কারাবাস হয়; অথবা
- দায়রা আদালত তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডণীয় অপরাধ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় অপরাধ বা ১০ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধের ক্ষেত্রেও আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন।

২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০২ অনুযায়ী সাজা রদবদলের ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০২(১) অনুসারে, সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিনা সম্মতিতে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা রদ বদল করে পরবর্তী উল্লিখিত যেকোনো সাজায় পরিবর্তন করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০২: সাজা রদ বদলের ক্ষমতা-
(১) সরকার দণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির বিনা সম্মতিতে নিম্নে বর্ণিত যে কোন দণ্ড রদবদল করে ইহার পরে উল্লিখিত যেকোনো দণ্ড দিতে পারবেন-মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আসামি যে সময়ের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হতে পারত তার অনধিক সময়ের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড, অনুরূপ মেয়াদের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা।
(২) এই ধারার কোন কিছুই দণ্ডবিধির ধারা-৫৪ বা ৫৫ এর বিধানবলীকে প্রভাবিত করবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 402: Power to commute punishment:
(1) The Government may, without the consent of the person sentenced, commute any one of the following sentences for any other mentioned after it:-death, transportation, rigorous imprisonment for a term not exceeding that to which he might have been sentenced, simple imprisonment for a like term, fine.
(2) Nothing in this section shall affect the provisions of section 54 or section 55 of the Penal Code.

২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪-এর বিধান মতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে জরিমানার পরিমাণ কত টাকা পর্যন্ত হলে আপিল করা যায় না?
  1. ২০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ৩,০০০ টাকা
  4. ৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪ অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে (summary trial) ম্যাজিস্ট্রেট যদি জরিমানা ৫,০০০ টাকা অতিক্রম না করে দেন, তাহলে সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না।

⇒ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 অনুসারে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪-এর সংশোধনের মাধ্যমে পূর্বে উল্লিখিত "two hundred taka" (২০০ টাকা) শব্দগুলির পরিবর্তে "five thousand taka" (৫,০০০ টাকা) শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, ধারা ২৬০-এর অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট যদি সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করেন, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো আপিল করতে পারবেন না। তবে, জরিমানার পরিমাণ ৫,০০০ টাকার বেশি হলে বা কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে।

অর্থাৎ সংশোধিত ধারা ৪১৪ অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না। অতএব, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ৫,০০০ টাকা। 

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 414. No appeal from certain summary convictions:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in any case tried summarily in which a Magistrate empowered to act under section 260 passes a sentence of fine not exceeding five thousand taka only.

৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা কোন ধরনের পরোয়ানা ইস্যু সম্পর্কে?
  1. জব্দ পরোয়ানা
  2. তল্লাশি পরোয়ানা
  3. গ্রেপ্তার পরোয়ানা
  4. হাজিরা পরোয়ানা
ব্যাখ্যা

⇒ তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-
i) কোনো দলিল বা অন্য কোনো বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে।
ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোনো প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।
- ৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশি পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
-------
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান (১) যখন কোনো আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোনো সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোনো সমন জারি করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোনো ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোনো প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধৃত কোনো কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পারসেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশি করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 96:When search-warrant may be issued:
(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition, 
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person, 
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection, 
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.
(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate] to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.

৩১.
যখন একটি অপরাধ কিছুটা আংশিকভাবে একটি স্থানীয় এলাকায় এবং বাকি কিছুটা আংশিকভাবে অন্য একটি স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়, তখন এর বিচার কীভাবে হবে?
  1. শুধু প্রথম এলাকার আদালতে
  2. শুধু দ্বিতীয় এলাকার আদালতে
  3. উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে
  4. যেকোনো একটি এলাকার আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮২ অনুসারে, অপরাধটি যখন আংশিকভাবে এক স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অন্য এলাকায় সংঘটিত হয়, তখন যেকোনো একটি এলাকার আদালতে অনুসন্ধান বা বিচার করা যাবে, যেখানে সেই এলাকার বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮২ ধারা অনুযায়ী, যখন কোন স্থানে বা এলাকায় অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা অনিশ্চিত থাকে অথবা আংশিকভাবে একটি স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অপর একটি স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়, সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি এলাকা যে আদালতের অধিক্ষেত্রভুক্ত সেই আদালতে উক্ত অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার করা যাবে - এতে কোনো বাধা নেই।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ১৮২: অপরাধের স্থান অনিশ্চিত বা একাধিক জেলার মধ্যে অথবা অপরাধ চলমান হলে বা একাধিক কাজের সমন্বয়ে সংঘটিত হলে অনুসন্ধান বা বিচার কোথায় হবে:
যখন এটি অনিশ্চিত যে, কোন একাধিক এলাকার মধ্যে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, অথবা
যখন অপরাধটি এক এলাকার একটি অংশে এবং অন্য একটি এলাকায় তার অন্য অংশে সংঘটিত হয়, অথবা
যখন অপরাধটি চলমান এবং একাধিক এলাকায় সংঘটিত হচ্ছে, অথবা
যখন অপরাধটি একাধিক কাজের সমন্বয়ে সংঘটিত হয় যা বিভিন্ন এলাকায় করা হয়েছে,
তাহলে এই ধরনের অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে কোনো একটি এলাকার আদালতে করা যেতে পারে, যেখানে সেই এলাকার বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-182: Place of inquiry or trial where the scene of offence is uncertain or not in one district only or where the offence is continuing or consists of several acts:
When it is uncertain in which of several local areas an offence was committed, or
where an offence is committed partly in one local area and partly in another, or
where an offence is a continuing one, and continues to be committed in more local areas than one, or
where it consists of several acts done in different local areas,
it may be inquired into or tried by a Court having jurisdiction over any of such local areas.

৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬ অনুসারে আপিল আদালত আপিল চলাকালীন দণ্ড স্থগিত রাখার পাশাপাশি আর কী করতে পারে?
  1. শাস্তি বাড়াতে পারে
  2. দণ্ড বাতিল করতে পারে
  3. নতুন করে বিচার করতে পারে
  4. অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১) অনুসারে, আপিল আদালত আপিল চলাকালীন দুইটি কাজ করতে পারে:
১. দণ্ড বা আদেশ কার্যকর করা স্থগিত রাখতে পারে।
২. যদি দণ্ডিত ব্যক্তি বন্দী থাকেন, তাকে জামিনে বা স্ব-জামিনে মুক্তি দিতে পারে।
অতএব, দণ্ড স্থগিত রাখার পাশাপাশি অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা আপিল আদালতের রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ধারা ৪২৬: আপিল চলাকালীন দণ্ড স্থগিতকরণ এবং আপিলকারীকে জামিনে মুক্তি:
(১) যখন কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করে এবং সেই আপিল বিচারাধীন থাকে, তখন আপিল আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে, যে দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তা কার্যকর করা স্থগিত রাখতে পারে এবং যদি সেই ব্যক্তি বন্দী থাকে, তবে তাকে জামিনে বা স্ব-জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।
(২) আপিল আদালতের উপর যে ক্ষমতা এই ধারায় আরোপ করা হয়েছে, তা হাইকোর্ট বিভাগও প্রয়োগ করতে পারে, যদি আপিল তার অধীনস্থ কোনো আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক করা হয়ে থাকে।
(২ক) যদি কোনো ব্যক্তি ১ (এক) বছরের বেশি নয় এমন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার থাকে, এবং যদি দণ্ডিত ব্যক্তি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে তিনি আপিল দায়ের করতে চান, তাহলে আদালত আদেশ দিতে পারে যে তাকে এমন একটি সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে যা আপিল দায়ের ও আপিল আদালতের আদেশ প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট মনে করে, এবং যতদিন তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন, ততদিন তার দণ্ড স্থগিত থাকবে বলে গণ্য হবে।
(২খ) যদি হাইকোর্ট বিভাগ সন্তুষ্ট হয় যে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রতি বিশেষ অনুমতি (special leave to appeal) পেয়েছেন, সেই দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে যা হাইকোর্ট বিভাগ প্রদান বা বহাল রেখেছে, তবে হাইকোর্ট বিভাগ চাইলে আদেশ দিতে পারে যে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত থাকবে, এবং যদি ঐ ব্যক্তি কারাবন্দী থাকেন, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাবে।
(৩) যদি আপিলকারী শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পরিবহণে (transportation) দণ্ডিত হন, তাহলে তিনি যে সময় জামিনে মুক্ত ছিলেন, তা সেই দণ্ডের মেয়াদ গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না, অর্থাৎ সে সময় বাদ যাবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 426: Suspension of sentence pending appeal Release of appellant on bail:
(1) Pending any appeal by a convicted person, the Appellate Court may, for reasons to be recorded by it in writing, order that the execution of the sentence or order appealed against be suspended and, also, if he is in confinement, that he be released on bail or on his own bond.
(2) The power conferred by this section on an Appellate Court may be exercised also by the High Court Division in the case of any appeal by a convicted person to a Court subordinate thereto.
(2A) When any person is sentenced to imprisonment for a term not exceeding one year by a Court, and an appeal lies from that sentence, the Court may, if the convicted person satisfies the Court that he intends to present an appeal, order that he be released on bail for a period sufficient in the opinion of the Court to enable him to present the appeal and obtain the orders of the Appellate Court under sub-section (1) and the sentence of imprisonment shall, so long as he is so released on bail, be deemed to be suspended.
(2B) Where High Court Division is satisfied that a convicted person has been granted special leave to appeal to the 2[Appellate Division of the Supreme Court] against any sentence which it has imposed or maintained, it may if it so thinks fit order that pending the appeal the sentence or order appealed against be suspended, and also, if the said person is in confinement, that he be released on bail.
(3) When the appellant is ultimately sentenced to imprisonment, or transportation, the time during which he is so released shall be excluded in computing the term for which he is so sentenced.

৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫-এর টেবিলের তৃতীয় কলামে কী উল্লেখ থাকে?
  1. শাস্তির পরিমাণ
  2. অপরাধের নাম
  3. দণ্ডবিধির ধারা নম্বর
  4. আপস করার অধিকারী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী, আপসযোগ্য (compoundable) অপরাধসমূহের তালিকা একটি টেবিল আকারে দেওয়া হয়েছে।
এই টেবিলের—
প্রথম কলামে: অপরাধের নাম বা প্রকৃতি 
দ্বিতীয় কলামে: দণ্ডবিধির কোন ধারার অপরাধ
তৃতীয় কলামে: কোন ব্যক্তি সেই অপরাধ আপস করতে পারেন— তা উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় যে সকল অপরাধসমূহ আপসযোগ্য, সেই সকল অপরাধের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
- ৩৪৫ (১) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের আপস মীমাংসার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির সম্মতিই যথেষ্ট কিন্তু ৩৪৫ (২) ধারায় টেবিলে উল্লেখিত অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে তৃতীয় কলামে উল্লেখিত ব্যক্তিরা অপরাধের আপস মীমাংসা করতে পারে।
- দণ্ড আরোপের পূর্বে যেকোনো সময় ৩৪৫ ধারায় অপরাধ আপস মীমাংসা হতে পারে এবং সেটা কোর্টের ভিতরে বা অপরাধের আপস করার জন্য অন্যভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে বা জড়বুদ্ধ হলে বা পাগল হলে, তার পক্ষে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে আপস মীমাংসা করতে পারে ধারা।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ (৬) ধারা অনুযায়ী অপরাধের আপস মীমাংসা আসামীর খালাস বলে গণ্য হবে।
⇒ প্রতিকার- যেহেতু ৩৪৫ ধারায় আপস মীমাংসা আসামীর খালাস বলে গণ্য হয় এবং যেহেতু খালাসের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়, তাই ৩৪৫ ধারায় আপস মীমাংসার বিরুদ্ধে ৪১৭ ধারায় সরকার আপীল করতে পারে।

৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারার ৩৫(২)(ক) অনুযায়ী, একাধিক দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত?
  1. ৭ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫(২)(ক) অনুযায়ী, একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত পরপর কারাদণ্ডের (consecutive sentences) সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৪ বছর-এর বেশি হবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ:
(১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপোক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন;
এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।
(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তার চেয়ে একাধিক দণ্ড পর পর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবলমাত্র ইহার জন্য উক্ত আদারতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে না:
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ: কোনভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।
(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশী হবে না।
(৩) আপীলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধরে নিতে হবে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-35: Sentence in cases of conviction of several offences at one trial Maximum term of punishment:
(1) When a person is convicted at one trial of two or more offences, the Court may, subject to the provisions of section 71 of the Penal Code sentence him, for such offences, to the several punishments prescribed therefor which such Court is competent to inflict; such punishments, when consisting of imprisonment or transportation to commence the one after the expiration of the other in such order as the Court may direct, unless the Court directs that such punishments shall run concurrently.
(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate, the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
(3) For the purpose of appeal, the aggregate of consecutive sentences passed under this section in case of convictions for several offences at one trial shall be deemed to be a single sentence.

৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী, ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার কারণ জানাতে বাধ্য?
  1. ধারা ৫৪
  2. ধারা ৫৪ক
  3. ধারা ৪৫ক
  4. ধারা ৪৫ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে, প্রত্যেক পুলিশ অফিসার ওয়ারেন্ট ছাড়া যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে গ্রেফতারের সময়ই তাকে গ্রেফতারের কারণ অবহিত করতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার হলে পুলিশ অফিসারকে অবশ্যই তাকে গ্রেফতারের কারণ অবহিত করতে হবে। এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার এবং বেআইনি আটক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54A. Person arrested to be informed of reason of arrest:
- Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ -
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদ:
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।

৩৭.
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির শাস্তির সর্বোচ্চ মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর 
  2. ২ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির [defamation] শাস্তি হল ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

৩৮.
"যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক খুনের শাস্তি" দণ্ডবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৩০০ ধারায়
  2. ৩০১ ধারায়
  3. ৩০৩ ধারায়
  4. ৩০৪ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি যদি খুন করে, তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। এটি "Punishment for murder by life-convict" নামে পরিচিত।

⇒ দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান- যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক খুনের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 303- Punishment for murder by life-convict:
Whoever, being under sentence of imprisonment for life, commits murder, shall be punished with death.

৩৯.
দণ্ডবিধি অনুসারে, ব্যভিচারের সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ -
  1. তিন বছর
  2. পাঁচ বছর
  3. সাত বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৭-এর অধীন, ব্যভিচার (adultery) অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ড। এই অপরাধে শুধুমাত্র পুরুষ ব্যক্তিকে দায়ী করা যায়, এবং স্ত্রীকে সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত করা যায় না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার বিধান- ব্যভিচার:
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 497- Adultery:
Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of another man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both. In such case the wife shall not be punishable as an abettor.

৪০.
দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারা অনুসারে, অবৈধ অবরোধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারায় উল্লেখ আছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে, তাহলে তাকে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে তিন বছর পর্যন্ত দণ্ডিত করা যাবে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারা- দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 344- Wrongful confinement for ten or more days:
 Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

৪১.
Under which section of the Penal Code is kidnapping from Bangladesh defined?
  1. Section 359
  2. Section 360
  3. Section 361
  4. Section 362
ব্যাখ্যা

⇒ According to Section 360 of the Penal Code, 1860, whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of someone legally authorized to consent on their behalf, is said to kidnap that person from Bangladesh.

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান- বাংলাদেশ হইতে মনুষ্যহরণ:
- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-360: Kidnapping from Bangladesh, etc.
- Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.

৪২.
দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুসারে, শিশুর কাজের প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. পর্যাপ্ত অর্থ 
  2. পর্যাপ্ত বয়স
  3. পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা
  4. পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৮৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সী শিশুর কোনো কাজ অপরাধ হবে না, যদি সেই শিশু সংশ্লিষ্ট কাজের সময় তার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা (sufficient maturity of understanding) লাভ না করে থাকে। অর্থাৎ, শিশুর বুদ্ধিমত্তা এবং সচেতনতা বিবেচনা করে দোষীত্ব নির্ধারণ করা হয়।
সুতরাং, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে অপরাধের জন্য দায়ী হতে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা থাকা আবশ্যক। বয়স, অর্থ বা অভিজ্ঞতা নয়। অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা।

⇒ দণ্ডবিধির ৮২ ধারার বিধান নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৮৩ ধারার বিধান নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সের অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 82. Act of a child under nine years of age:- Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.
⇒ The Penal Code, 1860, Section 83. Act of a child above nine and under twelve of immature understanding:
 Nothing is an offence which is done by a child above nine years of age and under twelve, who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion.

৪৩.
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুসারে, বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) গঠনের জন্য ন্যূনতম কত সংখ্যক ব্যক্তির সমাবেশ প্রয়োজন?
  1. তিন ব্যক্তি
  2. পাঁচ ব্যক্তি
  3. ছয় ব্যক্তি
  4. দুই ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ যদি নির্দিষ্ট সাধারণ উদ্দেশ্য (common object) নিয়ে গঠিত হয় (যেমন সরকারকে ভয় দেখানো, আইন বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া ইত্যাদি), তাহলে তা "বেআইনি সমাবেশ" (Unlawful Assembly) বলে গণ্য হবে। ন্যূনতম পাঁচজনের সমাবেশ ছাড়া এটি প্রযোজ্য নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনি সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-
১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

→ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনি সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
---------------------
⇒ The Penal Code Section-141.Unlawful assembly:
- An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is:
First: -To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or 
Second: To resist the execution of any law, or of any legal process; or 
Third: To commit any mischief or criminal trespass, or other offence ; or 
Fourth.- By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or 
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do. 
Explanation.-An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.

৪৪.
'ক' একজন পুলিশ অফিসারকে দাঙ্গা দমন করার সময় শারীরিকভাবে বাধা দিল। এ ক্ষেত্রে 'ক' এর বিরুদ্ধে কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ১৫২ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি দাঙ্গা দমন বা অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গের প্রচেষ্টাকালে সরকারি কর্মচারীকে (যেমন পুলিশ অফিসার) আক্রমণ করে, হুমকি দেয়, বাধাদান করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে তাকে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে তিন বছর পর্যন্ত, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এখানে 'ক'-এর শারীরিক বাধাদান দাঙ্গা দমনের সময় পুলিশকে বাধা দেওয়ার কারণে ১৫২ ধারা সরাসরি প্রযোজ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.

৪৫.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুসারে চুরির জন্য নিচের কোন উপাদানটি আবশ্যক?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. অসাধু অভিপ্রায়
  3. সম্পত্তির মালিকের সম্মতি না নেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা-এ চুরির সংজ্ঞায় নিম্নলিখিত উপাদানগুলি আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
১. অস্থাবর সম্পত্তি (Moveable Property): শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তি নয়, অস্থাবর সম্পত্তিই চুরির বিষয় হতে পারে।
২. অসাধু বা Dishonest অভিপ্রায় (Dishonest Intention): সম্পত্তি নেওয়ার সময় অসাধু বা dishonest মনোভাব থাকতে হবে।
৩. সম্পত্তির দখল থেকে নেওয়া (Taking out of Possession): সম্পত্তিটি কারও দখল থেকে নেওয়া হতে হবে।
৪. সম্মতি না নেওয়া (Without Consent): যে ব্যক্তির দখলে সম্পত্তি রয়েছে, তার সম্মতি ছাড়া নেওয়া হতে হবে।
৫. সম্পত্তি স্থানান্তর (Moving the Property): চুরি সম্পন্ন করার জন্য সম্পত্তিটিকে নড়াতে বা স্থানান্তর করতে হবে।
সুতরাং, প্রশ্নে উল্লিখিত অস্থাবর সম্পত্তি, অসাধু অভিপ্রায় এবং সম্পত্তির মালিকের সম্মতি না নেওয়া—এই তিনটি উপাদানই চুরির জন্য আবশ্যক। অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) উপরের সবগুলো।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরূপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
------------
⇒ The Penal Code, 1860 Section, 378. Theft:
Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft. 
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth. 
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft. 
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it. 
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal. 
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

৪৬.
"Cheating by Personation" এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪১৫ ধারায়
  2. ৪১৬ ধারায়
  3. ৪১৭ ধারায়
  4. ৪১৮ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা:
- কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-416. Cheating by personation:
A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is.
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person.

Illustrations
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation.
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.

৪৭.
"Abetment" বা প্ররোচনার সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ১০৫ ধারা
  2. ১০৬ ধারা
  3. ১০৭ ধারা
  4. ১০৮ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় "প্ররোচনা বা Abetment" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ সংঘটনের জন্য কাউকে প্ররোচিত করে (instigation), ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (conspiracy) বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding), তাহলে তা প্ররোচনা বলে গণ্য হবে।

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.
Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.

৪৮.
দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুসারে, ডাকাতিতে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা যোগ করলে মোট সংখ্যা কত হতে হবে?
  1. দুই বা ততোধিক
  2. চার বা ততোধিক
  3. পাঁচ বা ততোধিক
  4. দশ বা ততোধিক
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারায় ডাকাতি (Dacoity) বলতে বোঝায় যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা (robbery) সংঘটন করে বা চেষ্টা করে, অথবা দস্যুতা সংঘটনকারী, চেষ্টাকারী এবং সহায়তাকারী ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়। অর্থাৎ, সহায়তাকারীদের সংখ্যা যোগ করলে মোট পাঁচ বা তার বেশি হতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-391: Dacoity: When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".

৪৯.
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুসারে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের সাথে যুক্ত সম্পত্তি কী বলে গণ্য হবে?
  1. বৈধ সম্পত্তি
  2. সাধারণ সম্পত্তি
  3. চোরাই সম্পত্তি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় "চোরাই সম্পত্তি" (Stolen Property) এর সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) এর সাথে যুক্ত সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে গণ্য হবে। এছাড়াও চুরি, জোরপূর্বক আদায়, দস্যুতা বা অপরাধমূলক আত্মসাতের মাধ্যমে হস্তান্তরিত সম্পত্তিও এর অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বা সম্পর্কিত সম্পত্তিও দণ্ডবিধি অনুযায়ী চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:
- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
-----------
⇒The Penal Code, 1860- Section 410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.

৫০.
"Mischief" এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪১৫ ধারায়
  2. ৪২০ ধারায়
  3. ৪২৫ ধারায়
  4. ৪২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারায় "ক্ষতি বা অনিষ্ট" (Mischief) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, জনসাধারণ বা কোনো ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্টের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ধ্বংস বা তার মূল্য/উপযোগিতা হ্রাস করলে তা "Mischief" বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:-
- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
---------------
⇒ The Penal Code,1860, Section 425: Mischief:
- Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation 1.-It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation 2.-Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

৫১.
দণ্ডবিধির ১৬০ ধারা অনুসারে, মারামারির শাস্তির সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ - 
  1. এক সপ্তাহ
  2. এক মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মারামারি (Affray) সংঘটনকারী ব্যক্তিকে যেকোনো ধরনের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডে এক মাস পর্যন্ত দণ্ডিত করা যাবে, অথবা একশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে।
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒The Penal Code, 1860-Section-160: Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

৫২.
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা অনুযায়ী বলপ্রয়োগের উপায় কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা-এ বলপ্রয়োগের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং বলপ্রয়োগের উপায় তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে:
১. প্রথমত: নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
২. দ্বিতীয়ত: কোনো বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোনো ব্যক্তির কোনো কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
৩. তৃতীয়ত: কোনো পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ৩টি।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোনো একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
------
The Penal Code,1860: Section 349: Force:
-A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling: Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:
Firstly, By his own bodily power.
Secondly, By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly, By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.

৫৩.
ক একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসালয়ে নিয়ে যায় এবং জোর করে গর্ভপাত করায়। নারীটি ভ্রূণের গতি অনুভব করছিল না। দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা অনুসারে ক-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত (যা ৩১২ ধারায় বর্ণিত অপরাধ) সংঘটন করে – স্ত্রীলোক আসন্ন প্রসবা (quick with child, অর্থাৎ ভ্রূণের গতি অনুভব করা) হোক বা না হোক – তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। এখানে 'ক'-এর কাজ (ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে গর্ভপাত) সরাসরি ৩১৩ ধারার অধীনে পড়ে, এবং "ভ্রূণের গতি অনুভব করছিল না" হওয়া শাস্তির মাত্রাকে প্রভাবিত করে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ :- কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 313. Causing miscarriage without women's consent:
Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

৫৪.
খ একটি পেট্রোল পাম্পে জানতো যে জ্বালানি মাপার মেশিনটি ভুল এবং ৫% কম তেল দেয়। সে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই মেশিন ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রতারিত করে। দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারা অনুযায়ী খ-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারায় "প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা ওজন যন্ত্র ব্যবহার" (Fraudulent use of false instrument for weighing) এর শাস্তি হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, অপরাধীকে যেকোনো ধরনের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডে এক বছর পর্যন্ত, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এখানে 'খ'-এর কাজ (জ্বালানি মাপার মেশিন, যা ওজন যন্ত্রের অনুরূপ, ভুল জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করে প্রতারণা) এই ধারার অধীনে পড়ে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে এমন কোনো ওজন যন্ত্র ব্যবহার করে যা সে জানে মিথ্যা বা ভুল, তবে সে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 264. Fraudulent use of false instrument for weighing:
- Whoever fraudulently uses any instrument for weighing which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

৫৫.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রনিক রেকর্ড" এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. সিসিটিভি ফুটেজ
  3. মোবাইল ফোন রেকর্ড
  4. ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রনিক রেকর্ড" বলতে বোঝায় যেকোনো রেকর্ড, ডেটা বা তথ্য যা ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রো ফিল্ম, কম্পিউটার জেনারেটেড মাইক্রো ফিচে ইত্যাদি মাধ্যমে উৎপন্ন, প্রস্তুত, পাঠানো, গৃহীত বা সংরক্ষিত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত: অডিও, ভিডিও, ডিভিডি, সিসিটিভি রেকর্ডস, ড্রোন ডেটা, সেল ফোন রেকর্ডস, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস (ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ অনুসারে সংজ্ঞায়িত)।

অপশন ক, খ এবং গ (ড্রোন ডেটা, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন রেকর্ড) সকলই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত ডেটা।
কিন্তু ঘ) ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA) একটি জৈবিক উপাদান (বডি ম্যাটেরিয়াল), যা ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি পরিবর্তে ধারা ৩-এ "ফিজিক্যাল বা ফরেনসিক সাক্ষ্য"-এর অংশ, যেখানে রক্ত, সেমেন, চুল, অঙ্গ বা DNA-সম্পর্কিত উপাদানগুলো অপরাধ প্রমাণ বা অস্বীকারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- DNA ডিজিটাল ডিভাইস বা ইলেকট্রনিক স্টোরেজের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং এটি একটি শারীরিক বা জেনেটিক উপাদান যা ফিজিক্যাল বা ফরেনসিক সাক্ষ্য।

৫৬.
'ক' এবং 'খ' কে যৌথভাবে 'গ' এর হত্যার জন্য বিচার করা হচ্ছে। 'ক' এর স্বীকারোক্তি যে "আমি এবং 'খ' 'গ' কে হত্যা করেছি" - আদালত এই স্বীকারোক্তি কার বিরুদ্ধে বিবেচনা করতে পারবে?
  1. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে
  2. শুধুমাত্র 'খ' এর বিরুদ্ধে
  3. 'ক' এবং 'খ' উভয়ের বিরুদ্ধে
  4. কারও বিরুদ্ধেই না
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩০ অনুসারে, যখন একাধিক ব্যক্তি একই অপরাধের (যেমন হত্যা) জন্য যৌথভাবে বিচার করা হয় এবং একজনের স্বীকারোক্তি (কনফেশন) যা নিজেকে এবং অন্যদের প্রভাবিত করে (অর্থাৎ, অন্যদের অপরাধের সাথে জড়িত দেখায়), তখন আদালত সেই স্বীকারোক্তি অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিবেচনা করতে পারে। এখানে 'ক'-এর স্বীকারোক্তি ("আমি এবং 'খ' 'গ'-কে হত্যা করেছি") নিজেকে এবং 'খ'-কে প্রভাবিত করে, এবং যেহেতু তারা যৌথভাবে বিচারাধীন, তাই এটি উভয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে বিবেচ্য।

ধারার ইলাস্ট্রেশন (a)-এও একইভাবে উল্লেখ আছে: A এবং B যৌথভাবে C-এর হত্যার জন্য বিচার। A-এর স্বীকারোক্তি ("B এবং আমি C-কে হত্যা করেছি") B-এর বিরুদ্ধেও বিবেচ্য। যদি যৌথ বিচার না হয় (ইলাস্ট্রেশন b), তাহলে অন্যের বিরুদ্ধে বিবেচনা করা যায় না।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 30. Consideration of proved confession affecting person making it and others jointly under trial for same offence:
When more persons than one are being tried jointly for the same offence, and a confession made by one of such persons affecting himself and some other of such persons is proved, the Court may take into consideration such confession as against such other persons as well as against the person who makes such confession.
Explanation.-"Offence", as used in this section, includes the abatement of, or attempt to commit, the offence.

Illustrations:
(a) A and B are jointly tried for the murder of C. It is proved that A said-"B and I murdered C." The Court may consider the effect of this confession as against B.
(b) A is on his trial for the murder of C. There is evidence to show that C was murdered by A and B, and that B said- "A and I murdered C".
This statement may not be taken into consideration by the Court against A, as B is not being jointly tried.

৫৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে আদালত বৈরী সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দিতে পারেন?
  1. ধারা ১১৯
  2. ধারা ১৫৪
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১১২
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুসারে, যদি কোনো সাক্ষী (বৈরী সাক্ষী) সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের স্বার্থের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় বা সত্য বলতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সেই পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা (cross-examination) করতে পারে। এটি সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা এবং সত্য বের করার উদ্দেশ্যে। আইনের সাধারণ নিয়ম অনুসারে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না, কিন্তু ধারা ১৫৪-এর অধীনে এই ব্যতিক্রম অনুমোদিত।

⇒ ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।

৫৮.
The Evidence Act-এর ৫ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ের সাক্ষ্য দিতে পারে না যা -
  1. আদালতের অনুমতিসাপেক্ষ
  2. নথি দ্বারা প্রমাণ করা যায় না
  3. সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ
  4. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫-এর ব্যাখ্যায় (Explanation) অনুসারে, এই ধারা কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো ফ্যাক্টের সাক্ষ্য দেওয়ার অধিকার প্রদান করে না যা সে বর্তমানে কার্যকর দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের (Code of Civil Procedure) যেকোনো বিধান দ্বারা প্রমাণ করতে অযোগ্য বা নিষিদ্ধ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে:
কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যা: দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।
--------------
⇒The Evidence Act,1872: Section 5. Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others. 
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.

৫৯.
কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কিনা তা প্রমাণের জন্য নিম্নলিখিত কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক?
  1. চিঠির বিষয়বস্তু
  2. চিঠি লেখকের নাম
  3. চিঠি লেখার তারিখ
  4. চিঠিটি ডাকবাক্সে রাখা হয়েছিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬ অনুসারে, কোনো নির্দিষ্ট কাজ (যেমন চিঠি পাঠানো) করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সেই কাজটি স্বাভাবিকভাবে করার ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার (course of business) অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক হয়। সাক্ষ্য আইনের ১৬ ধারার ইলাস্ট্রেশন (illustration) (a)-এ উল্লেখ আছে যে, নির্দিষ্ট চিঠি পাঠানো হয়েছে কিনা তা প্রমাণের জন্য, সেই স্থানে চিঠি রাখার সাধারণ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং সেই চিঠিটি সেই স্থানে রাখা হয়েছে কিনা—এই তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক।

এখানে "চিঠিটি ডাকবাক্সে রাখা হয়েছিল" তথ্যটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চিঠি পাঠানোর প্রমাণে সাহায্য করে, কারণ ডাকবাক্সে রাখা মানে স্বাভাবিকভাবে এটি ডাকঘরে যাবে এবং পাঠানো হবে। অন্য অপশনগুলো (চিঠির বিষয়বস্তু, লেখকের নাম বা লেখার তারিখ) চিঠির পাঠানোর অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, বরং এগুলো চিঠির সত্যতা বা বিষয়বস্তুর সাথে যুক্ত হতে পারে, কিন্তু ধারা ১৬-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক নয়।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section-16.  Existence of course of business when relevant:
When there is a question whether a particular act was done, the existence of any course of business, according to which it naturally would have been done, is a relevant fact.

Illustrations: 
(a) The question is, whether a particular letter was dispatched.
The facts that it was the ordinary course of business for all letters put in a certain place to be carried to the post, and that that particular letter was put in that place are relevant.
(b) The question is, whether particular letter reached A.
The facts that it was posted in due course, and was not returned through the Dead Letter office, are relevant.

৬০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৭ এর শর্তানুযায়ী, তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে কী অবস্থায় থাকতে হবে?
  1. মুক্ত অবস্থায়
  2. আদালতে উপস্থিতিতে
  3. পুলিশ অফিসারের হেফাজতে
  4. আইনজীবীর উপস্থিতিতে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুসারে, যদি কোনো আসামি পুলিশের হেফাজতে থেকে এমন কোনো তথ্য দেয়, যা দ্বারা কোনো বস্তু বা প্রমাণ উদ্ধার হয়, তবে সেই তথ্যের প্রাসঙ্গিক অংশ আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি নয়, শুধুমাত্র যে অংশটি উদ্ধারকৃত আলামতের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, সেটি প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।

- সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে:
পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে, যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।
-------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 27: How much of information received from accused may be proved:
Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.

৬১.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে সরকারি ট্রাইব্যুনালের কার্যাবলির রেকর্ড কী ধরনের দলিল?
  1. গোপন দলিল
  2. সরকারি দলিল
  3. অস্থায়ী দলিল
  4. ব্যক্তিগত দলিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪(১)(ii) অনুসারে, সরকারি ট্রাইব্যুনালের (official bodies and tribunals) কার্যাবলির রেকর্ড সরকারি দলিল (public documents) হিসেবে গণ্য হয়। এই দলিলগুলো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা বা অফিসিয়াল বডিজের অ্যাক্টস বা রেকর্ডসের অংশ, যা প্রমাণ হিসেবে সহজে গ্রহণযোগ্য এবং সেকেন্ডারি এভিডেন্সের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.

৬২.
"কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা (যেমন ইচ্ছা, জ্ঞান, বিশ্বাস) যখন মামলার বিষয়বস্তু হয়, তখন সেই অবস্থা প্রমাণকারী তথ্য প্রাসঙ্গিক" — এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার মূলনীতি?
  1. ধারা ১৩
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৬
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪-এর মূলনীতি হলো: যখন কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা (যেমন ইচ্ছা/intention, জ্ঞান/knowledge, সদ্ভাব/good faith, অবহেলা/negligence, দুরাগ্রহ/ill-will ইত্যাদি) বা শারীরিক অবস্থা/অনুভূতি ইস্যুতে (fact in issue) বা প্রাসঙ্গিক (relevant) হয়, তখন সেই অবস্থা প্রমাণকারী ফ্যাক্টগুলো প্রাসঙ্গিক হয়। এই ধারা স্পষ্টভাবে মানসিক অবস্থা (state of mind) প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, যাতে কোর্ট নির্দিষ্ট বিষয়ের সাপেক্ষে (not generally) সেই অবস্থা বিশ্লেষণ করতে পারে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section-14. Facts showing existence of state of mind, or of body, or bodily feeling:
Facts showing the existence of any state of mind, such as intention, knowledge, good faith, negligence, rashness, ill-will, or good-will towards any particular person, or showing the existence of any state of body or bodily feeling, are relevant, when the existence of any such state of mind or body or bodily feeling is in issue or relevant.

Explanation 1.– A fact relevant as showing the existence of a relevant state of mind must show that the state of mind exists, not generally, but in reference to the particular matter in question.
Explanation 2.–But where, upon the trial of a person accused of an offence, the previous commission by the accused of an offence is relevant within the meaning of this section, the previous conviction of such person shall also be a relevant fact.

৬৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২-এর মোট কতগুলো ক্ষেত্র বা পরিস্থিতি রয়েছে যা মৃত বা অক্ষম ব্যক্তির বিবৃতিকে প্রাসঙ্গিক করে?
  1. ৫টি 
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হয়, তখন তার কিছু নির্দিষ্ট বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই ধারায় নিম্নলিখিত ৮টি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত:
১) মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration) — যখন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে কোনো ঘটনার সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
২) ব্যবসার কার্যক্রমে বিবৃতি (statement made in course of business) — যখন কোনো ব্যক্তি তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবৃতি দেন।
৩) স্বার্থবিরোধী বিবৃতি (statement against interest) — যে বিবৃতি ব্যক্তির নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে।
৪) জনস্বার্থ বা প্রথা সংক্রান্ত বিবৃতি (opinion as to public right or custom) — যখন কোনো ব্যক্তি সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা সম্পর্কিত বিবৃতি দেন।
৫) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (relates to existence of relationship) — আত্মীয়তার অস্তিত্বের ব্যাপারে বিবৃতি।
৬) পারিবারিক দলিল বা উইলে করা বিবৃতি (statement made in will or deed relating to family affairs) — উইল বা পারিবারিক দলিলে করা বিবৃতি।
৭) লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি- "transaction mentioned in section 13, clause (a)"ধারা ১৩-এর (ক) অংশে উল্লেখিত লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি।
৮) কিছু ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি (statement made by several persons) — যখন একাধিক ব্যক্তি একটি বিশেষ বিষয় সম্পর্কে একই মতামত দেন।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

৬৪.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬(১)-এর অধীনে জেরায় (cross-examination) জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা
  2. পক্ষের মোটিভ প্রমাণ করা
  3. সাক্ষীর সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা
  4. অপরাধের বিবরণ বর্ণনা করা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৬(১) অনুসারে, জেরায় সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করা যায় এমন প্রশ্ন যা তার সত্যবাদিতা (veracity) পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে হয়। এর মাধ্যমে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হয়, যাতে তার দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। অন্য অপশনগুলো (ডকুমেন্ট উপস্থাপন, মোটিভ প্রমাণ বা অপরাধের বিবরণ) ধারা ১৪৬-এর অধীনে জেরার প্রশ্নের উদ্দেশ্য নয়; এগুলো অন্যান্য ধারা বা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-146. Questions lawful in cross-examination:
 When a witness is cross-examined, he may, in addition to the questions hereinbefore referred to, be asked any questions which tend –
(1) to test his veracity,
(2) to discover who he is and what is his position in life, or
(3) to shake his credit, by injuring his character, although the answer to such questions might tend directly or indirectly to criminate him or might expose or tend directly or indirectly to expose him to a penalty or forfeiture:
Provided that in a prosecution for an offence of rape or attempt to rape, no question under clause (3) can be asked in the cross-examination as to general immoral character or previous sexual behaviour of the victim:
Provided further that such question can only be asked with the permission of the Court, if it appears to the Court necessary for the ends of justice.

৬৫.
Test Identification Parade (T.I.P) সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৯
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের অধীন T.I.P অর্থ Test Identification Parade. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts): যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

৬৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০৮ অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে মৃত বলে অনুমান করার জন্য কত বছরের অনুপস্থিতির প্রমাণ প্রয়োজন?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০৮-এর প্রভিশন অনুসারে, যখন কোনো ব্যক্তি জীবিত কিনা মৃত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে এবং প্রমাণিত হয় যে সে ৭ (সাত) বছর ধরে যাদের কাছে স্বাভাবিকভাবে খবর পাওয়া যেত তাদের কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তখন ব্যক্তিটিকে মৃত বলে অনুমান করা হয়। এই অনুমানের ফলে জীবিত বলে দাবি করলে প্রমাণের বোঝা (burden of proof) সেই দাবিকারীর উপর স্থানান্তরিত হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 108: Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.

৬৭.
সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারা অনুসারে ডিজিটাল স্বাক্ষরটি কার তা নিশ্চিত করতে আদালত সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারে-
  1. নিয়ন্ত্রককে
  2. যে ব্যক্তির স্বাক্ষর তাকে
  3. প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে
  4. উল্লিখিত যে কোন একজনকে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৩ক (Proof as to verification of digital signature) অনুসারে, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি যার দ্বারা সংযুক্ত বলে ধারণা করা হয়, সেই স্বাক্ষরটি সত্যিই তার কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে:
(ক) সেই ব্যক্তি (যার স্বাক্ষর বলে ধারণা), নিয়ন্ত্রক (Controller, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৮(১)-এর অধীনে নিযুক্ত), বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ (Certifying Authority)-কে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) দাখিল করতে।
(খ) অন্য কোনো ব্যক্তিকে সেই সনদের পাবলিক কী ব্যবহার করে স্বাক্ষর যাচাই করতে।

অপশন ক, খ, গ—এগুলো আংশিক সঠিক, কিন্তু ধারা ৭৩ক(a)-এর অধীনে আদালত এই তিনটির (নিয়ন্ত্রক, সেই ব্যক্তি, প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ) যেকোনো একজনকে নির্দেশ দিতে পারে। তাই, ঘ) উল্লিখিত যে কোন একজনকে সঠিক উত্তর, যা অপশন ক, খ, গ-কে নির্দেশ করে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।
ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section  73A: Proof as to verification of digital signature:
  In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.
Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).

৬৮.
'ক' এর বিরুদ্ধে ১০ই অক্টোবর ঢাকায় একটি ডাকাতির মামলা হয়েছে। 'ক' Plea of Alibi দাখিল করে এবং প্রমাণ করে যে, সেই তারিখে সে ছিল চট্টগ্রামে। উক্ত প্রমান সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়?
  1. ধারা ৭
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ Plea of Alibi অর্থ:- "Alibi" একটি লাতিন শব্দ যার অর্থ "অন্যত্র"। ফৌজদারি মামলায় আসামি যদি দাবি করে যে, অপরাধ সংঘটনের সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল না, বরং অন্যত্র ছিল, তাহলে সেটিই Plea of Alibi।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১১ অনুসারে, যে সকল ঘটনা (ফ্যাক্ট) অন্য কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলো প্রাসঙ্গিক হয় যদি: (১) এগুলো কোনো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, অথবা (২) এগুলো স্বয়ং বা অন্য বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে কোনো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতাকে অধিক সম্ভব বা অসম্ভব করে তোলে।

- এখানে 'ক'-এর Plea of Alibi (অর্থাৎ, ১০ অক্টোবর ঢাকায় ডাকাতির সময় সে চট্টগ্রামে ছিল) অপরাধের অস্তিত্বকে অসম্ভব করে তোলে, কারণ আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। এটি ধারা ১১(২)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারার বিধান: যে সকল ঘটনা অন্য কোনভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলি যখন প্রাসঙ্গিক হয়: যে সকল বিষয় অন্য কোন ভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, নিম্নবর্ণিত ভাবে সেগুলি প্রাসঙ্গিক-
(১) যদি সেগুলি কোন বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
(২) যদি সেগুলি স্বয়ং অথবা অন্যকোন বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করে তোলে।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 11. When facts not otherwise relevant become relevant:
- Facts not otherwise relevant are relevant–
(1) If they are inconsistent with any fact in issue or relevant fact;
(2) If by themselves or in connection with other facts they make the existence or non-existence of any fact in issue or relevant fact highly probable or improbable.

৬৯.
The Limitation Act, 1908 কবে বলবৎ হয়?
  1. ৭ই আগস্ট, ১৯০৯
  2. ৭ই আগস্ট, ১৯০৮
  3. ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯
  4. ১লা জানুয়ারী, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ধারা 1(3) অনুসারে, ধারা 1 (প্রারম্ভিক) এবং ধারা 31 অবিলম্বে বলবৎ হয়, অর্থাৎ আইনটি পাস হওয়ার তারিখ ৭ই আগস্ট, ১৯০৮-এ। তবে আইনের বাকি অংশ বলবৎ হয় ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯ থেকে।
সুতরাং, আইনটি পাস হয় ৭ই আগস্ট, ১৯০৮-এ কিন্তু সম্পূর্ণরূপে বলবৎ হয় ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯-এ।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) হল একটি প্রক্রিয়াগত (procedural) আইন, যা মূলত দেওয়ানি মামলা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
- এই আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের অধীনে প্রণীত হয়।
- এটি ৯ নং আইন (Act No. IX of 1908) হিসেবে পরিচিত।
এই আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো ব্যক্তি অনন্তকাল পর্যন্ত মামলা করে বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে এবং বিরোধ নিরসনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
তামাদি আইনের (Limitation Act, 1908) ধারা ১(৩) অনুযায়ী, ধারা ১ ও ধারা ৩১ অবিলম্বে কার্যকর হয় এবং বাকি অংশ ১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।
→ অর্থাৎ তামাদি আইন ৭ আগস্ট ১৯০৮ তারিখে প্রণীত হয় এবং ১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।

- বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।
- তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

৭০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে সর্বনিম্ন তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে। যা হচ্ছে মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে ৭ দিন মেয়াদ থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ১৫০- দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, দায়রা আদালত কর্তৃক বা হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- আপিলের ধরন: মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল। 
- তামাদি মেয়াদ: ৭ দিন। 
- সময় গণনার শুরু: দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে। 
এটি তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লিখিত সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদগুলোর মধ্যে একটি। মৃত্যুদণ্ড একটি গুরুতর বিষয় হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য খুব সীমিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

৭১.
তামাদি আইনের ধারা ১১ এর আওতায় আসে কোন ধরনের চুক্তি?
  1. বৈদেশিক চুক্তি
  2. নাবালকের চুক্তি
  3. বাতিলযোগ্য চুক্তি
  4. ক্ষতিপূরণমূলক চুক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১-এর শিরোনামই হলো "বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা" (Suits on foreign contracts)। এই ধারা বিশেষভাবে সেই সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যেগুলো বিদেশে সম্পাদিত হয়েছে কিন্তু সেগুলোর ভিত্তিতে মামলা বাংলাদেশে দায়ের করা হয়েছে।

ধারা ১১-এর মূল বিধানসমূহ:
১. উপ-ধারা (১): বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশে দায়েরকৃত সকল মামলা এই তামাদি আইনে বর্ণিত সীমাবদ্ধতার নিয়মের অধীন হবে।
২. উপ-ধারা (২): সাধারণ নিয়ম হলো, বাংলাদেশে দায়েরকৃত এমন মামলায় কোনো বিদেশী তামাদি বিধি প্রতিরক্ষা (defence) হিসেবে গৃহীত হবে না।
ব্যতিক্রম: কেবলমাত্র তখনই বিদেশী বিধি গ্রহণযোগ্য হবে যদি প্রমাণিত হয় যে: সেই বিদেশী বিধি চুক্তিটিকেই বিলুপ্ত (extinguished) করেছে, এবং চুক্তির উভয় পক্ষই সেই বিদেশী বিধিতে নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত ঐ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা (domiciled) ছিল।

অতএব, ধারা ১১ স্পষ্টভাবে বৈদেশিক চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। অন্যান্য বিকল্প যেমন নাবালকের চুক্তি, বাতিলযোগ্য চুক্তি বা ক্ষতিপূরণমূলক চুক্তির জন্য এই ধারা প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
----------
⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

৭২.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৬-এর মতে, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর 
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুসারে, একটি লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ হলো ৬ বছর।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬: - লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছর বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে: চুক্তি নিবন্ধিত না হলে যখন মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে তখন থেকে।

৭৩.
তামাদি আইনের ধারা ৯ অনুসারে, একবার সময় চালু হলে, পরবর্তী অক্ষমতা কী করে?
  1. সময় বন্ধ করে
  2. সময় চালু রাখে
  3. সময় রিসেট করে
  4. সময় বাড়িয়ে দেয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৯-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "যেখানে একবার সময় চলা শুরু হয়েছে, কোন পরবর্তী অক্ষমতা বা মামলা দায়ের করতে অক্ষমতা এটিকে থামায় না।"
অর্থাৎ, মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টির তারিখ থেকে সময় গণনা শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীতে যদি কোনও ব্যক্তি নাবালক বা পাগল হয়ে যান কিংবা অন্য কোনও অক্ষমতার সৃষ্টি হয়, তবুও সময়ের গণনা বন্ধ হবে না।

⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান অবিরাম সময়ের গণনা:
- একবার সময় শুরু হলে, পরে কোন অক্ষমতা বা মোকদ্দমা দায়েরের অক্ষমতা সময়ের গণনাকে থামায় না:
যেহেতু, যদি কোন ক্রেডিটরের সম্পত্তির জন্য প্রশাসনের পত্র তার ঋণগ্রহীতার হাতে দেওয়া হয়, তাহলে ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা দায়েরের জন্য নির্ধারিত সময়ের গণনা প্রশাসন চালু থাকা কালীন স্থগিত থাকবে।
-------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

৭৪.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের কোন বিভাগে আবেদনের তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত?
  1. প্রথম বিভাগ
  2. দ্বিতীয় বিভাগ
  3. তৃতীয় বিভাগ
  4. প্রথম ও তৃতীয় বিভাগ
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের তৃতীয় বিভাগে বিভিন্ন ধরনের দরখাস্ত ও আবেদন (Applications and Petitions) দায়েরের তামাদি মেয়াদ বর্ণিত আছে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
- মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]
- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
- আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
- বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।

৭৫.
তামাদি আইনের ধারা ২১(২) অনুসারে, একাধিক যৌথ চুক্তিকারী/ঋণগ্রহীতার মধ্যে একজন কর্তৃক দায় স্বীকারোক্তি অন্যদের জন্য –
  1. বাধ্যতামূলক নয়
  2. মামলা বাতিল করে
  3. স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক
  4. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, একাধিক যৌথ চুক্তিকারী, অংশীদার, নির্বাহক বা বন্ধকগ্রহীতার মধ্যে মাত্র একজন কর্তৃক স্বাক্ষরিত দায় স্বীকারোক্তি (Acknowledgement) বা প্রদত্ত অর্থ পরিশোধ শুধুমাত্র সেই কাজের জন্য প্রযোজ্য হবে। এটি অন্যদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
অর্থাৎ, যৌথ চুক্তিকারী, পার্টনার, এক্সিকিউটর বা ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে একজনের লিখিত দায় স্বীকারোক্তি (acknowledgement) বা পেমেন্ট অন্যদেরকে দায়ী (chargeable) করে না। এটি শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে যিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন বা পেমেন্ট করেছেন, অন্যদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। এর ফলে লিমিটেশনের সময় শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির জন্য নতুন করে গণনা হয়, অন্যদের জন্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারার বিধান: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি:
(১) “তাঁহার পক্ষ থেকে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট” শব্দবন্ধটি, ধারাঃ ১৯ ও ২০-এর ক্ষেত্রে, একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাঁর আইনগত অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপক, অথবা এমন একজন এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করবে যিনি এই অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপকের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান স্বাক্ষরের জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(২) উল্লিখিত ধারাগুলোর অধীনে একাধিক যৌথ চুক্তিকারক, অংশীদার, নির্বাহী বা বন্ধকী কর্তাকে শুধুমাত্র অন্য একজন বা তাঁদের এজেন্টের দ্বারা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদানের কারণে দায়বদ্ধ করবে না।
(৩) উল্লিখিত ধারাগুলোর উদ্দেশ্যে-
(a) একজন বিধবা বা অন্য সীমিত মালিকের দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি স্বীকৃতি, অথবা কোনো দায়ের জন্য অর্থ প্রদান, অথবা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা, যিনি হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত, তা সংশ্লিষ্ট পুনঃসূত্রের বিরুদ্ধে একটি বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে গণ্য হবে;
(b) যখন একটি হিন্দু অখণ্ড পরিবারের পক্ষে কোনো দায়ভার সৃষ্টি করা হয়, তখন বর্তমান ব্যবস্থাপক বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান সম্পূর্ণ পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-21. Agent of persons under disability:
(1) The expression “agent duly authorised in his behalf,” in sections 19 and 20, shall, in the case of a person under disability, include his lawful guardian, committee or manager, or an agent duly authorised by such guardian, committee or manager to sign the acknowledgement or make the payment.
(2) Nothing in the said sections renders one of several joint contractors, partners, executors or mortgagees chargeable by reason only of a written acknowledgment signed or of a payment made by, or by the agent of, any other or others of them.
(3) For the purposes of the said sections-
(a) an acknowledgment signed, or a payment made, in respect of any liability, by, or by the duly authorised agent of, any widow or other limited owner of property who is governed by the Hindu law, shall be a valid acknowledgment or payment, as the case may be, as against a reversioner succeeding to such liability; and
(b) where a liability has been incurred by, or on behalf of, a Hindu undivided family as such, an acknowledgment or payment made by, or by the duly authorised agent of, the manager of the family for the time being shall be deemed to have been made on behalf of the whole family.

৭৬.
সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ইজমেন্ট অধিকার অর্জনের জন্য কত বছরের শান্তিপূর্ণ ভোগ প্রয়োজন?
  1. ২০ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ৯০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৬(২) অনুসারে, সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে ইজমেন্ট (সুবিধাভোগী অধিকার) অর্জনের জন্য ২০ বছর শান্তিপূর্ণ, নিরবচ্ছিন্ন ও অধিকার হিসেবে ভোগ করতে হয়। তবে যদি সম্পত্তিটি সরকারি হয়, সেক্ষেত্রে ৬০ বছর ভোগ করতে হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৬ ‘সুখাধিকার’ (Easement) সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 
এই ধারা অনুযায়ী:
সুখাধিকারের সংজ্ঞা ও অর্জন: সুখাধিকার বলতে এমন অধিকার বোঝায় যা কোনো চুক্তি ছাড়াই উদ্ভূত হয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তির কোনো অংশ (যেমন, মাটি, গাছপালা, বা অন্য কিছু) নিজের লাভের জন্য ব্যবহার বা অপসারণ করতে পারে। ধারা ২৬(১) বলে, যদি কেউ শান্তিপূর্ণভাবে, প্রকাশ্যে এবং অধিকার হিসেবে ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আলো, বাতাস, পথ, পানি বা অন্য কোনো সুখাধিকার উপভোগ করে, তবে তা পরম ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে: ধারা ২৬(২) অনুযায়ী, যদি সুখাধিকার সরকারি সম্পত্তির উপর দাবি করা হয়, তবে ২০ বছরের পরিবর্তে ৬০ বছরের সময় প্রয়োজন।
মামলার সময়সীমা: সুখাধিকার দাবি করার জন্য মামলা দায়ের করতে হলে, ২০ বছরের উপভোগের সময়টি মামলা দায়েরের ২ বছরের মধ্যে শেষ হতে হবে।
-------- 
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 26: Acquisition of right to easements-
(1) Where the access and use of light or air to and for any building have been peaceably enjoyed therewith as an easement, and as of right, without interruption, and for twenty years, and where any way or watercourse, or the use of any water, or any other easement (whether affirmative or negative) has been peaceably and openly enjoyed by any person claiming title thereto as an easement and as of right without interruption, and for twenty years, the right to such access and use of light or air, way, water-course, use of water, or other easement shall be absolute and indefeasible.
Each of the said periods of twenty years shall be taken to be a period ending within two years next before the institution of the suit wherein the claim to which such period relates is contested.
(2) Where the property over which a right is claimed under sub-section (1) belongs to the Government, that sub-section shall be read as if for the words “twenty years” the words “sixty years” were substituted.
Explanation - Nothing is an interruption within the meaning of this section, unless where there is an actual discontinuance of the possession or enjoyment by reason of an obstruction by the act of some person other than the claimant, and unless such obstruction is submitted to or acquiesced in for one year after the claimant has notice thereof and of the person making or authorising the same to be made.

৭৭.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য মামলা দায়ের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2.  ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, একটি চুক্তি বলবৎ করার (Specific Performance of a Contract) জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ হলো ১ বছর।
⇒ চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।

৭৮.
প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা রাখা হলে তামাদির মেয়াদ গণনা কবে থেকে শুরু হবে?
  1. প্রতারকের মৃত্যুর পর
  2. মামলা দায়েরের সময় থেকে
  3. অধিকার সৃষ্টির সময় থেকে
  4. প্রতারণা আবিষ্কারের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৮ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণার মাধ্যমে তার কোনো অধিকার বা দাবি সম্পর্কে অজ্ঞ রাখা হয়, অথবা কোনো প্রয়োজনীয় দলিল জোরপূর্বক গোপন করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে যে সময়ে প্রতারণাটি প্রথমবারের মতো আবিষ্কৃত হয় সেই তারিখ থেকে।
ধারা ১৮-এর মূল বিধান:
- প্রতারণার মাধ্যমে অধিকার বা দাবি সম্পর্কে অজ্ঞ রাখা হলে।
- অথবা প্রয়োজনীয় দলিল গোপন করা হলে।
তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে: প্রতারণা প্রথমবারের মতো জানতে পারার তারিখ থেকে।
অথবা (গোপনকৃত দলিলের ক্ষেত্রে) যখন প্রথমবার সেই দলিলটি উপস্থাপন করার বা আদায় করার সুযোগ হয়।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.

৭৯.
বার কাউন্সিল অর্ডার এর অনুচ্ছেদ ২১(১)(a) অনুসারে, হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করার জন্য অ্যাডভোকেটকে নিম্ন আদালতে কত বছরের প্র্যাকটিস অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ বার কাউন্সিল অর্ডার-এর ২১ নং আর্টিকেলে বলা আছে যে নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাক্টিস করার অনুমতি পাবে না।
- অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাক্টিস করার জন্য নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছরের প্র্যাক্টিসের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
-------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-21. (1) No advocate other than an advocate permitted to practise before the High Court immediately before the commencement of this Order shall be permitted to practise before the High Court unless-
(a) he has practised as an advocate before subordinate courts in Bangladesh for a period of two years;
(b) he is a law graduate and has practised as an advocate before any High Court outside Bangladesh notified by the Government in the official Gazette;
(c) he has, for reason of his legal training or experience, been exempted by the Bar Council from the foregoing requirements of this clause on the basis of the prescribed criteria.
(2) Permission to practise before the High Court shall be given in the form prescribed by the Bar Council on proof that the fee prescribed under Article 22 has been paid and that the relevant condition laid down in clause (1) are duly satisfied.

৮০.
Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে মোট কতগুলো বিধি রয়েছে যা আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব উল্লেখ করে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
- প্রথম অধ্যায়ে ১১ টি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪টি, তৃতীয় অধ্যায়ে ৯টি, চতুর্থ অধ্যায়ে ৮টি।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ২য় অধ্যায়ে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে বর্ণিত আছে।
- সেখানে ১৪টি বিধি রয়েছে যেখানে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন তা উল্লেখ আছে।

অর্থাৎ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে ১৪টি বিধি রয়েছে। এই অধ্যায়টি মক্কেলের সাথে আইনজীবীর সম্পর্ক, গোপনীয়তা, লয়্যালটি, কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়গুলো কভার করে।

৮১.
বার কাউন্সিল অর্ডার-এর ৩৬ আদেশের বিধান মোতাবেক কতদিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন 
  2. ৬০ দিন 
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ শাস্তি বিধানের বিরুদ্ধে প্রতিকারের বিধান:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ আদেশের বিধান মোতাবেক কোন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিলে এবং উক্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে, অনুরূপ আদেশ প্রাপ্তির দিন হতে নব্বই (৯০) দিনের মধ্যে উক্ত সংক্ষুব্ধ অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
- অনুরূপ আপিল হাই কোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক শ্রবণ করতে হবে এবং ঐ বেঞ্চের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।
-এই আপিল বার কাউন্সিল নিজে অথবা অভিযুক্ত আইনজীবী স্বেচ্ছায় করতে পারেন।
----------------------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-36. (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.

৮২.
Canons of Professional Conduct and Etiquette- এর ৩য় অধ্যায়ের ১ম বিধি অনুসারে, আদালতের মর্যাদার প্রতি আইনজীবীদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
  1. শ্রদ্ধাশীল
  2. উদাসীন
  3. রাজনৈতিক
  4. অসম্মানজনক
ব্যাখ্যা

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ৩য় অধ্যায়ের ১ম বিধি অনুসারে, আইনজীবীদের আদালতের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রদর্শন করা উচিত। এটি পেশাগত নৈতিকতার একটি মৌলিক নীতি।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এর ৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি আইনজীবীদের কর্তব্যের সারমর্ম:
১. মর্যাদা ও সুরক্ষা: - আদালতের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা উচিত।
- বিচারকদের বিরুদ্ধে অন্যায় সমালোচনা বা কুৎসা থেকে সুরক্ষা প্রদান করা আইনজীবীদের কর্তব্য। তবে, সঠিক অভিযোগ থাকলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
২. সাক্ষীর পরিচয়: - মামলার জন্য সহায়ক ব্যক্তির সাক্ষ্য সংগ্রহে আইনজীবীকে কোন প্রকার অস্বাভাবিক কার্যকলাপ বা পরামর্শ প্রদান করা উচিত নয়।
৩. সত্যতার প্রতি প্রতিশ্রুতি: - বিচারক, বিচারিক কর্মকর্তার কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন বা ভুল উদ্ধৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে থাকা উচিত।
- বাতিল হয়ে যাওয়া নজির বা আইন আদালতে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
৪. বিচারকের সাথে আচরণ: - বিচারকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে বা গোপনে মামলার বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- বিচারকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা এবং বিশেষ সুবিধার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত নয়।
৫. সরকারি আইনজীবীর দায়িত্ব: - আসামীর শাস্তি নিশ্চিত করার চেয়ে ন্যায়বিচার পর্যবেক্ষণ করা প্রধান দায়িত্ব।
- সত্য গোপন করা বা নির্দোষ সাক্ষীকে না আনা গুরুতর তিরস্কারযোগ্য।
৬. মামলা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা: - বিচারাধীন মামলা পত্রিকায় প্রকাশ করা উচিত নয়।
- মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে একতরফা মন্তব্য করা উচিত নয়।
৭. বিচারক নিয়োগ: - রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত।
- বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।
৮. মামলা ডাকার সময় উপস্থিতি: - আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবীর দায়িত্ব।
- উপস্থিত থাকতে না পারলে সন্তোষজনক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।
৯. মতামত প্রদান: - নিজে জড়িত না থাকলে স্বেচ্ছায় মতামত দেওয়া উচিত নয়।
- প্রকাশ্য আদালতে বিজ্ঞ বিচারকের আহ্বানে মতামত প্রদান করা যেতে পারে, তবে নিরপেক্ষভাবে।

৮৩.
বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১-এ কতগুলো স্থায়ী কমিটির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ১১ অনুচ্ছেদে ৩ টি স্থায়ী কমিটির (Standing Committees] উল্লেখ আছে।
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ১১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি নিয়ে গঠিত হবে:
১. নির্বাহী কমিটি।
২. আর্থিক কমিটি।
৩. আইন শিক্ষা কমিটি। 
---------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972, Article-11: (1) The Bar Council shall constitute the following standing committees namely:-
(a) an executive committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(c) a finance committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(d) a legal education committee consisting of nine members-five elected by the Council from amongst its members and four co-opted by the Council from persons other than the members of the Council at least two of whom shall be teachers of law in any university or college in Bangladesh.
(2) The aforesaid committees shall have such powers and functions as may be prescribed.
(3) The Bar Council may constitute from amongst its members such other committees as it may deem necessary for the performance of its functions under this Order.