• ‘রাইকমল’ উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'রাইকমল’ প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।
- ‘রাইকমল’ উপন্যাসে বৈষ্ণব প্রেমতত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে লেখক একদিকে কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধি হরি মোড়লের ছেলে রঞ্জন অন্যদিকে খঞ্জনী বাজিয়ে গান গেয়ে ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা উপার্জনকারী কামিনী বোষ্টমীর মেয়ে কমলিনী, উভয়ের বাল্য প্রেমের বিচ্ছেদজাত সমস্যা এবং নবদ্বীপে কামিনীর মৃত্যুর পর আধবুড়া রসিক দাসের সঙ্গে কমলিনীর বিবাহ নারীর নিম্নবর্গতার স্বরূপ উন্মোচিত করেছেন।
উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
কমলিনী বাল্যকালে রঞ্জনকে ভালোবেসেছে, যৌবনে রসিকদাসকে বিয়ে করেছে তারপর জীবনকে নিয়ে খেলেছে। তার স্বপ্ন ভেঙেছে বাল্যে, যৌবনের তীব্র যৌন ক্ষুধার জ্বালা দেখেছে দাম্পত্য জীবনে। তারপর কাম্য-স্নিগ্ধতার জায়গায় এসেছে যন্ত্রণার আবেশ। একাকী, নিঃসঙ্গ এক নারীর সংগ্রামই ব্যক্ত হয়েছে উপন্যাসটিতে। একইসঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে প্রেম ও দাম্পত্য সংকটের জটিলতা।
--------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) ছিলেন সমকালীন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমাজসচেতন লেখক। তিনি তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তির ওপরে সমাজকে স্থান দিয়েছেন। ফলে তাঁর উপন্যাসে সামন্ত সমাজের সঙ্গে ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রায়শই প্রকট হয়েছে।
• তাঁর রচিত দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস- রাইকমল ও কবি-তে (১৯৪২) বৈষ্ণব ও কবিয়ালের বাস্তব জীবন চিত্রায়িত হয়েছে।
• হাসুলী বাঁকের উপকথায় (১৯৪৭) রাঢ়ের নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
• তাঁর প্রতিভার পূর্ণ পরিচয় রয়েছে গণদেবতা (১৯৪২), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৩), কালিন্দী (১৯৪০), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩), ধাত্রী দেবতা (১৯৩৯), চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩১), জলসাঘর (১৯৪২) ইত্যাদি উপন্যাসে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘রাইকমল’ উপন্যাস তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।