পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
Exam -13:The Evidence Act, 1872 Topic: Section 1-100
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
The Evidence Act,1872 is categorized under which type of law?
  1. Objective Law
  2. Procedural Law
  3. Substantive Law
  4. None of them
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন একটি পদ্ধতিগত আইন বা ইংরেজিতে Procedural Law বা Adjective law. এই আইনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, আদালত মামলার বিচার্য বিষয় প্রমাণের জন্য মামলার কোন পক্ষ কোন কোন বিষয়ের উপর সাক্ষ্য দিতে পারবে, কোনটিতে দিতে পারবে না, কোন সাক্ষ্যগুলো প্রাসঙ্গিক, কোনগুলো অপ্রাসঙ্গিক, গ্রহণযোগ্যতা, সাক্ষ্য সম্পর্কে আদালতের অনুমান, কে প্রমাণ করবে অর্থাৎ প্রমাণের ভার ইত্যাদি। 

⇒ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।
.
বর্তমানে বলবৎ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের কয় নং আইন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৫নং
  4. ৯নং
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:

আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর: ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা: ১৬৭ টি।
অধ্যায়: ১১টি।

খন্ড: ৩টি
১ম খন্ড: ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খন্ড: ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খন্ড: ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।
.
নিম্নলিখিত কোনটি The Evidence (Amendment) Act, 2022 অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হবে-
  1. ম্যাগনেটিক রেকর্ড
  2. ড্রোন ডেটা
  3. ক ও খ উভয়ে
  4. ক বা খ কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• The Evidence(Amendment) Act, 2022 দ্বারা ডিজিটাল রেকর্ডকে দলিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত যে কোন লেখা, সিসিটিভির ভিডিও বা মোবাইলে ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও বা ওয়েবসাইট প্রকাশিত গেজেট ইত্যাদি ডিজিটাল রেকর্ড মর্মে গণ্য হবে এবং এগুলো সাক্ষ্য আইন অনুসারে দলিলের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ধারা ৩: The Evidence(Amendment) Act, 2022 এর সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রিক রেকর্ড বলতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যুক্ত হবে-
ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম;
⇒ অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল বহুমুখী ডিস্ক বা ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), কম্পিউটার উৎপাদিত মাইক্রোফিচ ইত্যাদিতে প্রস্তুতকৃত, প্রেরিত, গৃহীত বা ধারণকৃত কোন রেকর্ড, ডাটা বা তথ্য;
ড্রোন ডেটা বা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের রেকর্ড (সিসিটিভি), সেল ফোন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার; বা
⇒ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ তে সংজ্ঞায়িত অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইসের কোন রেকর্ডস।
.
সাক্ষ্য আইনের সর্বশেষ সংশোধনী অনুসারে, সাক্ষ্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ সালের সংশোধনী অনুসারে সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় সাক্ষ্য ৩ প্রকার। যথা:
১) দালিলিক সাক্ষ্য,
২) মৌখিক সাক্ষ্য,
৩) শারীরিক বা ফরেনসিক।

⇒  সাক্ষ্য (Evidence): 'সাক্ষ্য' শব্দের অর্থে অন্তর্ভুক্ত হবে-

(১) বিচার্য বিষয়ের অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত যে সকল বিবৃতি দেওয়ার জন্য আদালত অনুমতি দেন বা সাক্ষীর যে সকল বিবৃতি আদালতের প্রয়োজন হয়; এ ধরনের বিবৃতিকে মৌখিক সাক্ষ্য বলে।

(২) যে সকল দলিল আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত করা হয়, এ ধরণের দলিলপত্রকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে।

(৩) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, বীর্য, চুল, সকল দৈহিক উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ; এবং পায়ের ছাপ সম্পর্কিত সকল উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ বা অনুরুপ প্রকৃতির অন্যকোন উপাদান বা বস্তু শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে যদি এমন উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ-
i. প্রতিষ্ঠা করে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; বা
ii. অপরাধ এবং এর ভুক্তভোগীর মধ্যে বা অপরাধ এবং এর অপরাধীর মধ্যেকার কোন সংযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে; এবং 
iii. কোন ঘটনা প্রমাণ করে বা মিথ্যা প্রমাণ করে।
.
According to Section 5, what type of facts can be proven in a suit or proceeding?
  1. Only the facts in issue
  2. Only irrelevant facts
  3. Any opinion of witnesses
  4. Facts in issue and relevant facts
ব্যাখ্যা
Section 5⇒ Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.

সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী-
'বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা'- এই দুই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।
.
Test Identification Parade (TI Parade) এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. দলিল যাচাই করা
  2. অপরাধীর স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা
  3. সন্দেহভাজন অপরাধীকে শনাক্ত করা
  4. সাক্ষীকে শনাক্ত করা
ব্যাখ্যা
• শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সাক্ষীরা একজন অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।

এই প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. একটি গ্রুপ তৈরি করা হয় যেখানে অপরাধী সন্দেহভাজন এবং অন্যান্য কিছু লোকদের রাখা হয়। সকলের বয়স, চেহারা ও পোশাক প্রায় একই ধরনের হয়।
২. সাক্ষীদের এই গ্রুপের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।
৩. সাক্ষীদের অনুরোধ করা হয় যে তারা যদি সত্যিকারের অপরাধীকে দেখতে পান তাহলে তাকে শনাক্ত করবেন।
৪. সাক্ষীরা যদি কাউকে শনাক্ত করেন তাহলে সেটাই রেকর্ড করা হয়। আর যদি না করেন তাহলে তাও রেকর্ড করা হয়।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে শনাক্তকরণ প্যারেড বা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেডকে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। ৯ ধারায় "প্রাসঙ্গিক তথ্য" (Facts Relevant) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
"Facts necessary to be proved are those which are...facts which establish their design or conduct, tending to show a particular knowledge or intent of any person."
অর্থাৎ, প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলি সেই সব তথ্য যা কোনো ব্যক্তির জ্ঞান বা উদ্দেশ্যমূলক আচরণ প্রমাণ করে।

এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীদের কাছে একটি বাস্তবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দেখানো যাতে তারা নিঃসন্দেহে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি বিশেষত চুরি, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি মামলায় অপরাধীর পরিচয় নির্ণয়ের জন্য অনুসৃত হয়। আদালতসমূহও শনাক্তকরণ প্যারেডের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন।
.
ডিজিটাল রেকর্ডের মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. মৌখিক স্বীকৃতি কখনই প্রাসঙ্গিক হবে না
  2. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
  3. ডিজিটাল রেকর্ড পুরানো হলে
  4. ডিজিটাল রেকর্ডের কোনো অংশ হালনাগাদ করা হলে
ব্যাখ্যা
• The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা ২২ক ধারাটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ডের বিবরণ বিষয়ে মৌখিক বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত ২২ক ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২২ক ধারায় বলা হয়েছে,
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না উত্থাপিত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
[Oral admissions as to contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question].
.
নিম্নলিখিত কোনটি শারীর সম্বন্ধীয় সাক্ষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. চুল
  2. ডিএনএ
  3. হস্তাক্ষর
  4. পায়ের ছাপ
ব্যাখ্যা
ধারা-৩: শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য:
রক্ত, বীর্য, চুল, সকল দৈহিক উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ; এবং পায়ের ছাপ সম্পর্কিত সকল উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ বা অনুরুপ প্রকৃতির অন্যকোন উপাদান বা বস্তু শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে যদি এমন উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ-
i. প্রতিষ্ঠা করে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; বা
ii. অপরাধ এবং এর ভুক্তভোগীর মধ্যে বা অপরাধ এবং এর অপরাধীর মধ্যেকার কোন সংযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে; এবং 
iii. কোন ঘটনা প্রমাণ করে বা মিথ্যা প্রমাণ করে।

হস্তাক্ষর (Handwriting) শারীরিক বা বস্তুগত প্রমাণের উদাহরণ নয়, কারণ এটি মূলত একটি লিখিত নিদর্শন বা ডকুমেন্টারি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
.
সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারার অধীনে কোন ক্ষেত্রে দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে?
  1. যখন একজন অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করে
  2. যখন একাধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথভাবে বিচার করা হচ্ছে
  3. যখন একজন অভিযুক্ত শুধুমাত্র নিজের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি দেয়
  4. যখন একজন অভিযুক্ত অন্য মামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩০- যখন দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের [co-accused) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার করা যায়:

সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করে উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে অন্যকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম।

সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে-
যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শর্তসমূহ:
১. একই অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে হবে:
২. উক্ত একই অপরাধের জন্য তাদের যৌথ বিচার (Tried jointly) করা হবে:
৩. উক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকেসহ অন্যান্য অভিযুক্তকে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করবে;
৪. এমন দোষ স্বীকারোক্তি প্রমাণিত হলে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসাবে আমলে নিতে পারে।
১০.
সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার অধীনে কোন ধরনের ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. শুধুমাত্র ঘটনার পূর্ববর্তী ঘটনা
  2. যেসব ঘটনা প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা করে
  3. যেসব ঘটনা অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়
  4. যেসব ঘটনা সরাসরি অপরাধ প্রমাণ করে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts):
যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
১১.
একজন অভিযুক্তকে প্রথমে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, তাকে মুক্তি দেওয়া হবে যদি সে অপরাধ স্বীকার করে। পরবর্তীতে এই প্রতিশ্রুতি অপসারিত হয় এবং অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় একটি স্বীকারোক্তি প্রদান করে। আদালত এই স্বীকারোক্তি-
  1. গ্রহণ করবে
  2. প্রত্যাখ্যান করবে
  3. মুলতবি রাখবে
  4. নতুনভাবে তদন্ত শুরু করবে
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act, 1872 এর ২৮ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে প্রলোভন, ভয় প্রদর্শন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে কোনো ধারণা দেওয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারণা আদালতের মতে পূর্ণরূপে অপসারিত হয়ে গেলে এবং তার পরে অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় কোনো স্বীকারোক্তি করেন, তাহলে সেই স্বীকারোক্তিটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

⇒ এই ধারার মূল লক্ষ্য হল নিশ্চিত করা যে স্বীকারোক্তিটি পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছায় এবং কোনো প্রভাব বা চাপ ছাড়াই করা হয়েছে। যখন প্রলোভন, ভয় বা প্রতিশ্রুতিজনিত ধারণা পূর্ণরূপে দূর করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি করেছেন, তখনই সেই স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে।

⇒ বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে এক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রলোভন, ভয় বা প্রতিশ্রুতিজনিত ধারণা সম্পূর্ণরূপে দূর করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কোনো প্রভাব বা চাপ ছাড়াই তার স্বীকারোক্তি করেছেন।
১২.
কোন ক্ষেত্রে ৫৯ ধারার অধীনে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য?
  1. শুধু দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক রেকর্ড প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  3. দলিলের বিষয়বস্তু এবং ইলেকট্রনিক রেকর্ড উভয় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  4. দলিলের বিষয়বস্তু ও ইলেকট্রনিক রেকর্ড ছাড়া অন্য কিছু প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৫৯ এবং ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

৫৯ ধারায় বলা হয়েছে:
"All facts, except the contents of documents or electronic records, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য সব তথ্য মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে।

৬০ ধারায় বলা হয়েছে:
"Oral evidence must, in all cases whatsoever, be direct."
অর্থাৎ, যেকোনো ক্ষেত্রেই মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে।

সুতরাং, উপরোক্ত এই দুই ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিষয় যেমন দলিলের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য যেকোনো ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য। এছাড়াও মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সরাসরি হতে হবে। এসব নিয়মাবলী ৫৯ এবং ৬০ ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
১৩.
'Res Gestae' সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে-
  1. অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য
  2. অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর আচরণ
  3. দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে 'Res Gestae' একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যখন একাধিক ঘটনা অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত এবং একই ঘটনার ধারাবাহিক অংশ হয়, তখন তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ Res Gestae এর মাধ্যমে এমন কথা বা আচরণকে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয় যা কোনো ঘটনার সময় বা ঘটনার পূর্বে বা পরবর্তীতে বলা বা করা হয়েছিল এবং যা সেই ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপ:
⇒ একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে "X আমাকে আঘাত করেছে" বলে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে, এই বক্তব্যটি Res Gestae হিসাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হবে।
⇒ অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য বা আচরণ Res Gestae হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
⇒ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য Res Gestae হিসেবে গৃহীত হতে পারে।

Res Gestae সাক্ষ্যগুলো ঘটনার সঙ্গে এতটাই নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে যে, তা স্বাভাবিক ও আকস্মিক হয়ে পড়ে এবং মিথ্যা বলার সম্ভাবনা থাকে না। এজন্য আদালত Res Gestae সাক্ষ্যগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেয়। অন্যদিকে, যদি একাধিক ঘটনা পরস্পর খুব অতিরিক্ত পৃথক হয়, তাহলে তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য বলে গণ্য করা যায় না। একইভাবে, কোনো ঘটনার স্বাতন্ত্র্য বা অপ্রাসঙ্গিকতাও Res Gestae সাক্ষ্য গঠনে সাহায্য করে না।
১৪.
'একটি মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে, আদালত এই বিষয়ে পুনরায় বিচার করতে পারবে না কারণ একই বিষয়ে আগে রায় হয়েছে।' এটি কোন নীতির উদাহরণ?
  1. Prima Facie Evidence
  2. Res Gestae
  3. Res Judicata
  4. Burden of Proof
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় ২টি নীতির প্রতিফলন হয়েছে। তা হলো:
i) Res-judicata;
ii) Double Jeopardy (দোবারা সাজা নীতি)।

Res Judicata:
এটি এমন একটি নীতি যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আদালতে একবার চূড়ান্ত রায় হয়ে গেলে, সেই একই বিষয়ে পুনরায় মামলা করা যায় না। অর্থাৎ, একটি মামলার রায় একবার চূড়ান্ত হলে, তা নতুন করে আরেকটি মামলা হিসেবে আদালতে আনা যাবে না।

সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারার বিধান: দ্বিতীয় মোকদ্দমা বা বিচার বন্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী রায় প্রাসঙ্গিক:
যে রায়, আদেশ বা ডিক্রি আদালতকে আইনত অন্য একটি মামলাকে বিচারার্থে গ্রহণ করতে বা এর বিচার করতে বাধা দেয়, সেই রায় বা আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব তখনই প্রাসঙ্গিক বিষয়, যখন প্রশ্ন উঠে যে, উক্ত মোকদ্দমা বিচারার্থে গ্রহণ করা বা এর বিচার করা সেই আদালতের পক্ষে উচিত কি না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেটিকে Judgment in personam (ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বলে।
⇒ এই ধারানুযায়ী পূর্ববর্তী মামলার রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরবর্তী মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে।
⇒ এই ধারার বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) এবং General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারার সাথে প্রাসঙ্গিক।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৫.
সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারার অধীনে, কোন দলিল যদি কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হয়, তাহলে—
  1. কেবল এক খণ্ডই প্রাথমিক সাক্ষ্য হবে
  2. প্রত্যেক খণ্ডই প্রাথমিক সাক্ষ্য হবে
  3. শুধু প্রধান খণ্ড প্রাথমিক সাক্ষ্য হবে
  4. খণ্ডিত দলিল সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary evidence) বিধান রয়েছে।

প্রাথমিক সাক্ষ্য:
প্রাথমিক সাক্ষ্যের মানে সংশ্লিষ্ট দলিলটিই আদালতের পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা।

ব্যাখ্যা-১: কোন দলিল কতিপয় খন্ডে সম্পাদিত হইলে প্রত্যেক খন্ডই ঐ দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য।
কোন দলিল যখন প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয়, এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন মাত্র কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি উহার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ব্যাখ্যা-২: যে ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল একই পদ্ধতিতে প্রস্তুত হয়, যথা মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হইয়া থাকে, সেইক্ষেত্রে উহার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য কিন্তু যেক্ষেত্রে সেইগুলি একই মূল দলিলের নকল সেই ক্ষেত্রে ঐগুলি মূল দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য হইবে না।

Section 62⇒ Primary evidence:
Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court. 
 
Explanation 1.- Where a document is executed in several parts, each part is primary evidence of the document. 
Where a document is executed in counterpart, each counterpart being executed by one or some of the parties only, each counterpart is primary evidence as against the parties executing it. 
 
Explanation 2.- Where a number of documents are all made by one uniform process, as in the case of printing, lithography or photography, each is primary evidence of the contents of the rest; but, where they are all copies of a common original, they are not primary evidence of the contents of the original.
১৬.
একজন ব্যক্তি মৃত্যুর আগে বলেন, "আমাকে X হত্যা করেছে।" এই বিবৃতিটি কোন ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. ৩২(১) ধারা
  2. ৩২(২) ধারা
  3. ৩২(৩) ধারা
  4. ৩২(৮) ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
 
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;
১৭.
সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারায় "নিয়ন্ত্রক" বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
  1. আদালতের কোন প্রযুক্তিবিদ
  2. ডাটাবেজ পরিচালনা কমিটি
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক
  4. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ:
যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।
 
ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।

Section  73A⇒ Proof as to verification of digital signature:
In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.
 
Explanation- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
১৮.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন শর্তে স্বীকৃতি দেয়া হলে, তা প্রাসঙ্গিক হবে না?
  1. স্বীকৃতিটি শর্তহীন হলে
  2. সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হলে
  3. উক্ত স্বীকৃতি সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য
  4. উক্ত স্বীকৃতি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না
ব্যাখ্যা
• ধারা ২৩: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।
১৯.
The Evidence Act, 1872 এর ৫৭ ধারার অধীনে আদালত যে বিষয়গুলো বিচারিক দৃষ্টিগোচরে নিবে, তার উদাহরণ-
  1. ব্যক্তিগত চুক্তির শর্ত
  2. ব্যবসায়িক চুক্তির শর্তাবলী
  3. সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নিয়োগের তথ্য
  4. ক, খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন [Facts of which Court must take judicial notice].
 
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ;
iii) সংসদের কার্যসমূহ;
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা;
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।
২০.
'ক' এর বিরুদ্ধে আদালতে চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য শুনানীর সময় তার আইনজীবী 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরতে চাইলে-
  1. আদালত বাধা প্রদান করবে
  2. বিপক্ষ আইনজীবীর অনুমতি নিতে হবে
  3. আদালতের অনুমতি নিতে হবে
  4. আদালত বাধা প্রদান করবে না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে,
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।

অর্থাৎ, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সচ্চরিত্র বা ভালচরিত্র তার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে গণ্য। এটি আইনগতভাবে স্বীকৃত এবং সাক্ষ্য আইনে ব্যবস্থা রয়েছে। তাই উল্লিখিত ক্ষেত্রে 'ক' এর আইনজীবী কর্তৃক 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরার আইনগত অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে ৫৪ ধারা অনুসারে, অভিযুক্তের পূর্বাচারের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ তার আগের অপরাধমূলক কাজকর্ম বা খারাপ চরিত্র প্রমাণ করা যাবে না।
২১.
The Army Act, 1952 এর অধীন বিচার-প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য কিনা?
  1. প্রযোজ্য
  2. প্রযোজ্য নয়
  3. আংশিক প্রযোজ্য
  4. শুধুমাত্র বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
• ধারা ১: সাক্ষ্য আইন নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়-
ⅰ) The Army Act, 1952 অথবা The Naval Discipline Ordinance, 1961 অথবা The Air Force Act, 1953 এর ক্ষেত্রে;
ii) আদালত বা বিচারকের নিকট দাখিলকৃত কোন হলফনামার (Affidavits) ক্ষেত্রে;
iii) কোন সালিশকারক বা Arbitrator এর সম্মুখে সংঘটিত কার্যাবলীর ক্ষেত্রে অর্থাৎ সালিশের ক্ষেত্রে।

Section 1 ⇒ Extent:
It extends to the whole of Bangladesh and applies to all judicial proceedings in or before any Court, including Courts-martial, other than Courts-martial convened under the Army Act, 1952, the Naval Discipline Ordinance, 1961 or the Air Force Act, 1953 but not to affidavits presented to any Court or officer, nor to proceedings before an arbitrator.
২২.
সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে কোন বিষয়টি বিবেচিত হয়?
  1. সাক্ষীর পরিচয়
  2. ব্যক্তির চরিত্র
  3. মামলার জটিলতা
  4. অপরাধের ধরন
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারা অনুসারে,
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে চরিত্র প্রাসঙ্গিক হবে।
 
Section 55⇒ Character as affecting damages:
In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant. 
২৩.
বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন হয় না:
  1. বিদেশী আইনের ক্ষেত্রে
  2. ডিজিটাল রেকর্ডের ক্ষেত্রে
  3. সাধারণ জ্ঞানের বিষয়ে
  4. শারীর সম্বন্ধীয় সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন এই বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।

নিম্নলিখিত ১৩টি ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-
(i) বিদেশী আইন;
(ii) বিজ্ঞান;
(iii) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য;
(iv) ডিজিটাল রেকর্ড;
(v) চারুকলা;
(vi) হস্তলিপি বা হাতের লেখা;
(vii) আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসহি;
(viii) পায়ের ছাপ;
(ix) তালুর ছাপ;
(x) চোখের কনীনিকার ছাপ;
(xi) টাইপ রাইটিং;
(xii) ট্রেড বা টেকনিকাল অভিব্যক্তির ব্যবহার;
(xiii) ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচিতি।
২৪.
'অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক?
  1. ৭ ধারায়
  2. ৮ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারায় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

পরবর্তী কার্য (Subsequent Conduct):
অপরাধের পর অপরাধীর আচরণ যেমন পলাতক অবস্থা, সন্দেহজনক কাজ, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান ইত্যাদি।
উদাহরণ:
ক) হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল এবং জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল।
খ) অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।

অভিপ্রায়, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য মামলার প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে কাজ করে এবং এগুলি ঘটনার প্রকৃতি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২৫.
According to Section 31, admissions can be used in what capacity?
  1. As conclusive evidence
  2. To operate as estoppels
  3. As preliminary evidence only
  4. To determine guilt in criminal cases
ব্যাখ্যা
Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
 
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
২৬.
The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় বিবাহ সংক্রান্ত রায় চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. ৩৯ ধারায়
  2. ৪০ ধারায়
  3. ৪১ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪১ ধারা- প্রবেট, এখতিয়ার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোন রায়ের প্রাসঙ্গিকতা:
প্রবেট, এডমিরালটি, বিবাহ ও দেউলিয়াত্ব বিষয়ক এখতিয়ার প্রয়োগকালে কোন উপযুক্ত আদালত উহার চূড়ান্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি বলে যখন কোন আইনগত চরিত্র কাহারও উপর আরোপ করে বা কাহাকেও উহা হইতে বঞ্চিত করে, অথবা কোন ব্যাক্তিকে অনুরূপচরিত্রের অধিকারী অথবা নিদিষ্ট কোন কিছুর অধিকারী বলিয়া ঘোষণা করে এবং সেই অধিকার কোন ব্যাক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নহে, বরং সবাত্মাক বলিয়া ঘোষণা করে তখন অনুরূপকোন আইনগত চরিত্র বা অনুরূপকোন কিছুর উপর কোন ব্যাক্তির অধিকারের অস্তিত্ব যদি প্রাসঙ্গিক হয়, তবে উহা চূড়ান্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি প্রাসঙ্গিক।

- উক্ত রায় আদেশ বা ডিক্রি চূড়ান্তরুপে প্রমাণ করে যে, উক্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা যে আইনগত চরিত্র আরোপিত হয়, উহা বলবৎ হইবার সময় তাহা উদ্ভুত হইয়াছিল।
- উক্ত রায় আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা কোন ব্যাক্তিকে আইন ভিত্তিক সত্তা হইতে বঞ্চিত করা হয়, তাহা হইতে উক্ত ব্যক্তিকে উহা দ্বারা বঞ্চিত করিবার সময় উক্ত ব্যক্তি উক্ত সত্তা হারাইয়াছিল।
- এবং উক্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তির অধিকারী ছিল বা থাকা উচিত বলিয়া ঘোষণা করা হয়, সেই সম্পত্তির উক্ত সময় তাহারই সম্পত্তি ছিল।
২৭.
সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুযায়ী অনুমান (Presumption) কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারা মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
২৮.
যখন আদালতকে একটি দলিলের হস্তলিপি সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করতে হয়, তখন কাদের মতামত প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. যেকোনো সাধারণ সাক্ষী
  2. আদালতের কোনো কর্মকর্তা
  3. যে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছেন
  4. দলিল লিখিত বা স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির যে কোন পরিচিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারা- হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
একটি দলিল কোন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্বন্ধে আদালতকে যখন কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন যে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হচ্ছে বা হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক পরিগণিত।

ব্যাখ্যা- এক ব্যক্তি যেক্ষেত্রে অন্য এক ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে অথবা যেক্ষেত্রে সে ব্যক্তির নিকট প্রেরিত নিজের লেখার বা নিজ কর্তৃত্বে লিখিত কোন নথির উত্তরে তার নিকট হতে তার দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান নথি পেয়েছে প্রতীয়মান কাগজপত্র বরাবর তার নিকট দাখিল হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির শেষোক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত বলে ধরা হয়।
২৯.
যদি পক্ষগণ কোন ঘটনা মোকদ্দমার শুনানির সময়কালে স্বীকার করে নেয়, তবে তাদের সেই ঘটনাটি কি প্রমাণ করতে হবে?
  1. হ্যাঁ, প্রমাণ করতে হবে
  2. না, প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই
  3. আদালত যদি মনে করে তবে প্রমাণ করতে হবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
 
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।

Section-58- Facts admitted need not be proved:
No fact need be proved in any proceeding which the parties thereto or their agents agree to admit at the hearing, or which, before the hearing, they agree to admit by any writing under their hands, or which by any rule or pleading in force at the time they are deemed to have admitted by their pleadings:
Provided that the Court may, in its discretion, require the facts admitted to be proved otherwise than by such admissions.
৩০.
কোনো ব্যক্তিগত দানপত্র সরকারীভাবে রক্ষিত হলে, এটি কোন ধরনের দলিল হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ব্যক্তিগত দলিল
  2. সরকারি দলিল
  3. বেসরকারি দলিল
  4. অপ্রমাণিত দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।


⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
৩১.
Under Section 61, how can the contents of a document be proven?
  1. Only by oral testimony
  2. Only by primary evidence
  3. By primary or secondary evidence
  4. By physical inspection of the document only
ব্যাখ্যা
• দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary evidence)- আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয় তাকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায় -
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
 
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্যের দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।

Section 61⇒ Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
৩২.
কোন অবস্থায় একজন সাক্ষীর পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তী মামলায় প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. উভয় মামলার বিচার্য বিষয় প্রধানত একই হতে হবে
  2. সাক্ষী প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি হতে হবে
  3. মামলাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হতে হবে
  4. সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করতে হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৩: যখন পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তীতে মামলায় প্রমানের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে:
কোন মামলায় কেউ আইন অনুসারে সাক্ষ্য দেওয়ার পর যদি তার-
ক) মৃত্যু হয়; বা
খ) সন্ধান পাওয়া না যায়; বা
গ) যে পরে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়ে; বা
ঘ) প্রতিপক্ষ তাকে আটকিয়ে রাখে;
ঙ) যুক্তিসংগত কারনে তাকে আদালতে উপস্থিত করা সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষ;

তাহলে এই ধরনের সাক্ষীর পূর্বে দেওয়া প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য পরবর্তী পর্যায়ে প্রমানের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে। তবে নিম্নে বর্ণিত ৩টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
১। পরবর্তী মামলা একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে অথবা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
২। পূর্বে সাক্ষ্য দেয়া সাক্ষীকে প্রতিপক্ষ জেরা করার সুযােগ পেতে হবে; এবং
৩। উভয় মামলার বিচার্য বিষয় প্রধানত একই ধরনের হতে হবে।
৩৩.
'The admission of a party to an attested document of its execution by himself shall be sufficient proof of its execution as against him.'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৬২ ধারায়
  2. ৬৫ ধারায়
  3. ৬৮ ধারায়
  4. ৭০ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৭০: স্বাক্ষরিত দলিলের সম্পাদন স্বীকারোক্তি:
একটি স্বাক্ষরিত দলিলের ক্ষেত্রে, যদি দলিলে একটি পক্ষ নিজের দ্বারা এই দলিলের স্বাক্ষর করার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এটি সেই পক্ষের বিরুদ্ধে সেই দলিলের স্বাক্ষর করার যথেষ্ট প্রমাণ হবে, যদিও এই দলিলটি আইন অনুসারে স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

[The admission of a party to an attested document of its execution by himself shall be sufficient proof of its execution as against him, though it be a document required by law to be attested.]
৩৪.
According to the definition given in Section 63, who can give oral accounts of the contents of a document?
  1. Only legal professionals
  2. The document's author only
  3. Anyone who knows about the document
  4. A person who has personally perceived document
ব্যাখ্যা
Section-63: Secondary evidence means and includes, among other things-
(1) Certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) Copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) Copies made from or compared with the original;
(4) Counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) Oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself perceived it.

• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) সম্পর্কিত বিধানাবলী রয়েছে। এই ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেমন:
১. এই আইনে বর্ণিত বিধানমতে প্রদত্ত সার্টিফাইডকৃত অনুলিপি;
২. যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মূল থেকে তৈরিকৃত অনুলিপি যা নিজেই অনুলিপির নির্ভুলতা নিশ্চিত করে এবং সেই অনুলিপির সাথে তুলনাকৃত অন্যান্য অনুলিপি;
৩. মূল থেকে তৈরিকৃত বা মূলের সাথে তুলনাকৃত অনুলিপি;
৪. দলিলের মূল অংশবিশেষ যা যারা এটি সম্পাদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য;
৫. একটি দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ যা সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া হয়েছে যিনি নিজে এটি দেখেছেন।
৩৫.
সাক্ষ্য আইনের ৯৯ ধারায়, দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তনকারী চুক্তির প্রমাণ প্রদান করতে সক্ষম-
  1. আদালত
  2. শুধুমাত্র দলিলের পক্ষ
  3. শুধুমাত্র দলিলের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি
  4. দলিলের পক্ষ নন এমন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯৯- দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তনকারী চুক্তির প্রমাণ কে দিতে পারবে:
যে ব্যক্তিরা দলিলের পক্ষ নন বা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধি নন, তারা এমন যে কোনো তথ্যের প্রমাণ দিতে পারেন যা দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তনকারী সমসাময়িক চুক্তির অস্তিত্ব প্রদর্শন করে।

[Persons who are not parties to a document, or their representatives in interest, may give evidence of any facts tending to show a contemporaneous agreement varying the terms of the document.]
৩৬.
বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি ধারা ৪৫ক(১) অনুযায়ী কাকে প্রদান করতে হবে?
  1. অভিযোগকারী পক্ষকে
  2. মামলার সকল পক্ষকে
  3. মামলার সকল সাক্ষীকে
  4. মামলার সকল পক্ষ এবং সাক্ষীকে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
৩৭.
কোন পরিস্থিতিতে আদালত ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে স্বাক্ষর এবং সম্পাদনার সত্যতা অনুমান করতে পারেন?
  1. দলিলটি অর্ধেক নতুন হলে
  2. দলিলটি আদালতের বাইরে থেকে পাওয়া গেলে
  3. দলিলটি কোনো পক্ষের হাতে ভুলভাবে থাকলে
  4. দলিলটি সঠিক হেফাজত থেকে দাখিল হলে
ব্যাখ্যা
৯০ ধারা: ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান-
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।