পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১১ টপিক: কারক ও বিভক্তি, যতিচিহ্ন, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়া ভাব ছন্দ ও অলংকার। [লাইভ ক্লাস - ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
'এই বনে বাঘের ভয় নেই।' এখানে 'বাঘের' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

- এই বনে বাঘের ভয় নেই।
[বাক্যে বাঘের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং 'বাঘের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি অভ্যন্তর যতি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?), 
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!), 
৪. দুই দাঁড়ি (।।)। 

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,), 
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (_), 
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-), 
১১. বিন্দু (.)। 

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('), 
১৩. ত্রিবিন্দু (...), 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."), 
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)। 
.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  2. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
  3. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  4. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)
.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন কোনটিকে?
  1. পয়ার ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
.
'কথায় কথা বাড়ে।'- বাক্যে 'কথায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অপাদানে শূন্য
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।(উপকরণ = কলম)।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায় (উপায় = সাধনা)।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।(উপকরণ = সাবান)।

এরূপ- 
- কথায় কথা বাড়ে।
[বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কথায়'। সুতরাং 'কথায়' য়-বিভক্তি যুক্ত হয়ে করণে ৭মী কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
'তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।' এখানে 'উঠল' কোন কালের ক্রিয়া নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. নিত্য অতীত
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম
- তারা মাঠে খেলছিল

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে

• নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'দৃষ্টান্তচ্ছেদ' কোন যতিচিহ্নের অপর নাম?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. দাড়ি
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

অন্যদিকে, 
• 'কমা' এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।
• 'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অনুজ্ঞাসূচক ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে কি গিয়েছিল?
  2. মিথ্যা বলবে না।
  3. ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
  4. আমি পড়ি।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাবৰ হয়।
যেমন:
- চুপ করো (আদেশ)।
- মিথ্যা বলবে না (নিষেধ)।
- দয়া করে একবার দেখবেন ব্যাপারটা (অনুরোধ)।
- মন দিয়ে পড়ো (উপদেশ)।

----------------
• নির্দেশক ভাব: এতে কোনো কাজের সাধারণ নির্দেশ হয় বা কিছু জিজ্ঞেস করা হয়।
যেমন:
- আমি পড়ি।
- সে কি গিয়েছিল?

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সম্ভাবনায়: যদি বৃষ্টি হয়, ফসল ভালো হবে।
- উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
- ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে, আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
.
'জটাতে তাপস চিনি।'- বাক্যে 'তাপস' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

এরূপ-
- জটাতে তাপস চিনি।
[ বাক্যকে 'কাকে চিনি?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তাপস’। অর্থাৎ, ‘তাপস’ হলো চেনার কাজের লক্ষ্য বা ফল। এজন্য ‘তাপস’ হলো কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
শব্দের অলংকার ধ্বনিগত ও অর্থগতভাবে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
অলংকারের প্রকারভেদ-
ভাষার অলংকার তার শব্দের ওপর নির্ভরশীল, শব্দের আছে দুটো দিক- বাইরের উচ্চারণে সে ধ্বনি, আর ভেতরে সে অর্থময়। অর্থাৎ বাইরে তার ধ্বনি- যা শোনা যায়। আর অন্তরে তার অর্থ- যা বোঝা যায়। শব্দের এই বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে অলংকারকে ধ্বনিগত ও অর্থগতভাবে দু ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. শব্দাললার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 
১১.
জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. হাইফেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
• ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
• ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১২.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়া কোনটি?
  1. ওঠে
  2. যাচ্ছি
  3. ফিরেছে
  4. করো
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি
- আমাদের পরীক্ষা চলছে

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি
- তারা বাড়িতে ফিরেছে

• অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো
- সকলের মঙ্গল হোক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩.
'গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।' বাক্যে 'গগনে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।  
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কোথায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় গগনে। সুতরাং 'গগনে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
১৪.
উৎপত্তির বিচারে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ-
  1. খাঁটি বাংলা ছন্দ
  2. দেশি ছন্দ
  3. তৎসম ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-
১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার। 
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
১৫.
কোনটি পদসংযোজক চিহ্ন?
  1. উদ্ধৃতি
  2. ত্রিবিন্দু
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'যদি তোমার মতো ভাই পেতাম!'- বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা-প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যদি তোমার মতো ভাই পেতাম!
- যেন তাই হয়।

----------------
• নির্দেশক ভাব: এতে কোনো কাজের সাধারণ নির্দেশ হয় বা কিছু জিজ্ঞেস করা হয়।
যেমন:
- আমি পড়ি।
- সে কি গিয়েছিল?

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সম্ভাবনায়: যদি বৃষ্টি হয়, ফসল ভালো হবে।
- উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
- ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে, আমার এত কষ্ট হতো না।

• অনুজ্ঞাসূচক ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাবৰ হয়।
যেমন:
- চুপ করো (আদেশ)।
- মিথ্যা বলবে না (নিষেধ)।
- দয়া করে একবার দেখবেন ব্যাপারটা (অনুরোধ)।
- মন দিয়ে পড়ো (উপদেশ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'অর্থ অনর্থ ঘটায়।' বাক্যে 'অর্থ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা করকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

কর্তা কারকে কখনো কখনো-এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।

এরূপ-
অর্থ অনর্থ ঘটায়।

[বাক্যে ‘অর্থ’ হলো কর্তৃকারক, কারণ এটি ‘ঘটায়’ ক্রিয়াটির কাজ করছে। ‘অনর্থ’ হলো কর্মকারক, কারণ এটি ক্রিয়াটির ফল বা লক্ষ্য। এভাবে, বাক্যটি বোঝাচ্ছে যে ‘অর্থ’ (কর্তৃকারক) কাজ করে ‘অনর্থ’ (কর্মকারক) ঘটাচ্ছে। সুতরাং 'অর্থ' কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তি।]

উল্লেখ্য, 
অর্থে অনর্থ ঘটে।- বাক্যে আবার 'অর্থে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
'এক' সেকেন্ড থামতে হয় কোন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে?
  1. কমা চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. সেমিকোলন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
•  কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
•  হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।