পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৪ টপিক: পদ প্রকরণ বা ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (ক্রিয়া বিশেষণ, ক্রিয়া, যোজক ও আবেগ শব্দ) [লাইভ ক্লাস - ২৫ ও ২৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. উদয় হওয়া
  2. সরে দাঁড়ানো
  3. ঠনঠন করা
  4. রাজি হওয়া
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
ধাতুর সঙ্গে কোনটি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. অনুসর্গ
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামুল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - (নবম ও দশম শ্রেণি)- (২০২২ সংস্করণ)।
.
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, সেটি কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. গুণ–বিশেষ্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ক্রিয়া–বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ ও
• পদাণুবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন বাক্যটির ক্রিয়াপদ অকর্মক?
  1. মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
  2. ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
  3. তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।
যেমন:
- মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
- তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
এখানে,
'কী হাসে' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই উদাহরণগুলোর ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।’ – বাক্যে ‘তখনই’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক
  2. ধরনবাচক
  3. কালবাচক
  4. নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

• প্রদত্ত বাক্যটি: "তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।"
এখানে, 'কখন' বৃষ্টি শুরু হলো প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তখনই'। সুতরাং, 'তখনই' - কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটি ‘যোজক’?
  1. অতি
  2. অবশ্যই
  3. অনেক
  4. অথবা
ব্যাখ্যা
• যোজক:
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।

যোজক এর উদাহরণ:
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

যেমন,
- কামাল অথবা জামাল এই কাজটা করবে।
- তুমি চা অথবা কফি নিতে পারো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - এ বাক্যে ‘শেখাচ্ছেন’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটিকে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন:
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

• ‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - 
"শেখাচ্ছেন" ক্রিয়াপদটি এমন একটি ক্রিয়া, যেখানে কাজটি অন্য কাউকে দ্বারা করানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ওস্তাদ নিজে গান শিখছেন না, বরং শিষ্যকে শেখাচ্ছেন। এ ধরনের ক্রিয়াপদকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

উল্লেখ্য,
প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন :
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘আবেগ শব্দ’ বাক্যে কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. নিয়ন্ত্রিতভাবে
  2. শর্ত সাপেক্ষে
  3. অনুমোদিতভাবে
  4. স্বাধীনভাবে
ব্যাখ্যা
আবেগ:
- মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলােকে আবেগ শব্দ বলা হয়।

এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলাের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2. যায় যায়
  3. সহজে
  4. চুপি চুপি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, যায় যায়, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
"ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — কোন আবেগ বোঝায়?
  1. কারণ
  2. সাপেক্ষ
  3. বিস্ময়
  4. বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

• বাক্যটি "ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — এতে বিরক্তি বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, কারণ এখানে কেউ টাকা পেতে এত নিচে নামার ব্যাপারে নিন্দা করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সাইরেন বেজে উঠলো।
  2. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  3. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্য অপশনে,
'সাইরেন বেজে উঠলো'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।'- মিশ্র ক্রিয়ায়র উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
‘এখানেই আমি অপেক্ষা করব।’ – বাক্যে ‘এখানেই’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কালেবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ধরনবাচক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• প্রদত্ত বাক্যটি: "এখানেই আমি অপেক্ষা করব।"
এই বাক্যে ‘এখানেই’ শব্দটি স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। কারণ এটি ক্রিয়া (অপেক্ষা করব) সংঘটিত হওয়ার স্থান নির্দেশ করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার ভাব:
ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।

ক্রিয়ার ভাব — ৪ প্রকার।
যথা -
১. নির্দেশক ভাব (Indicative Mood),
২. অনুজ্ঞা ভাব (Imperative Mood),
৩. সাপেক্ষ ভাব (Subjunctive Mood),
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব (Optative Mood)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
১৪.
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ এর উদাহরণ কোনটি?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- বা: কখনো বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- তো: মরি তো মরব।

অন্যদিকে,
- 'আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।' কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।' ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোনটি দ্বারা বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করা যায়?
  1. উহ্‌ !
  2. হায় !
  3. বাহ্‌ !
  4. শাবাশ !
ব্যাখ্যা
বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে ! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!
- হায় ! আমি তো ভাবতেই পারিনি!

অন্যদিকে,
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।
• শাবাশ ! - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬.
নিচের কোন বাক্যে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
  2. সে গল্প শুনে মজা পায়।
  3. তুমি গান শিখলে ভালো করবে।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
১. ভূত অসমাপিকা;
২. ভাবী অসমাপিকা;
৩. শর্ত অসমাপিকা।

যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়। সে গল্প শুনে মজা পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে অলংকার আবেগ প্রকাশ পায়?
  1. জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারি না।
  2. বাহ, চমৎকার লিখেছ।
  3. যাকগে, ওসব কথা থাক।
  4. উহ! কি বিপদে পরা গেল।
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
- দূর, এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন,
- ছি ছি ! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারি না।

• প্রশংসা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: বাহ, চমৎকার লিখেছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: উহ! কি বিপদে পরা গেল।

• করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’— বাক্যটিতে 'তবু' কোন ধরনের যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা
• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
(এখানে, 'তবু' যোজকটি দুইটি বাক্যাংশের মধ্যে বিরোধ নির্দেশ করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।