পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals. উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। -------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?  
  1. দানশীল হওয়া
  2. বড়দের সম্মান করা
  3. আতিথেয়তা 
  4. ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা

- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি। 

সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

 পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ-সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. নির্বাচন
  2. ক্ষমতার ভারসাম্য
  3. জন সচেতনা
  4. দলীয়করণ
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
’The Elements of Ethics’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জ্যা জ্যাক রুশো
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল : 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিজমের কারণে ক্যামব্রিজ থেকে পদত্যাগ;
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

.
’An Essay Concerning Human Understanding’ গ্রন্থের লেখক-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন লক
  3. সক্রেটিস
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

• জন লক বিখ্যাত বই: 
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.
- আধুনিক গনতন্ত্রের জনক জন লক।

অন্যদিকে,

জন স্টুয়ার্ট মিল:

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

• প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  3. সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য
  4. মিতাচার, ন্যায়, সততা, প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।


উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।


উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন ধরনের অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে?
  1. সুশীলতা 
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. সহমর্মিতা
  4. সচেতনতা
ব্যাখ্যা

সহমর্মিতা: 
- সহমর্মিতা একটি অন্যতম মানবীয় গুন।
- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যকে আমরা পরের তরে, এটা সহমর্মিতার মূল কথা।
- সহমর্মিতার অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

অপরদিকে, 
- সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ  নাগরিকের অন্যতম গুন।
- সব ধরনের শ্রমের মর্যাদার প্রতি  শ্রদ্ধা করাকে শ্রমের মর্যাদা  বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. গণতন্ত্র 
  4. আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:

১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে কোন সংস্থা? 
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইডিবি
  4. আফ্রিকান ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১০.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কে বলেছেন? 
  1. ডেবিড আর্চার
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. ক্লাইড ক্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

অন্যদিকে,
• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: 
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩৫ তম
  2. ১৩০ তম
  3. ১২৫ তম
  4. ১২৮ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের
অবস্থান ১৩০ তম।

অন্যদিকে,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম।
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১২.
নিচের কোনটি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ?
  1. সৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা
  2. অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা
  3. সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া
  4. ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 
- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১৩.
নিচের কোনটি ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা
  2. ভোটার হবার স্বাধীনতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. সম্পত্তি ভোগ করার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 

- একটি রাষ্ট্রে নাগরিকগণ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে।স্থান, কাল, পাত্রভেদে এটি আবার ভিন্ন হয়ে থাকে।
- যেমন-(১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (২) সামাজিক স্বাধীনতা (৩) রাজনৈতিক স্বাধীনতা (৪) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (৫) জাতীয় স্বাধীনতা ও (৬) পৌর স্বাধীনতা

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: 
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

অন্যদিকে,

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত। 

•  পৌর স্বাধীনতা: 
- জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকারগুলো পৌর স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও সমাজে সখ-শান্তি নিশ্চিতকরণে এই সব স্বাধীনতা অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয়? 
  1. কর্তব্যবোধ
  2. শৃঙ্খলা
  3. যোগ্যতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয় মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।


• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস- 
  1. সরকার
  2. জনগণ 
  3. রাষ্ট্র
  4. আইন
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy,
- যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

সংজ্ঞাসমূহ-
- বার্কার: -"গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।"।
- আব্রাহাম লিংকন: "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা" ("Democracy is a government of the people,by the people and for the people)"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি?
  1. দর্শন
  2. ধ্যান-ধারণা
  3. পোশাক
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:

- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে- 
  1. দর্শন
  2. প্রথা 
  3. আইন
  4. নৈতিকতা 
ব্যাখ্যা

- "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"

আইন: 
- আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিতনিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারাব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৮.
 নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়? 
  1. মানসিক 
  2. অর্থনৈতিক
  3. শারীরিক 
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতার উদ্ভব মানুষের বিবেকবোধ থেকে।
- নৈতিকতা একটি মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতার উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপিত নয়। অর্থাৎ নৈতিকতা লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় আইন শাস্তি প্রদান করতে পারে না।
বিবেকের দংশনই নৈতিকতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
- মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।