পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯ টপিক: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সমূহ; প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরণ ও প্রকৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Live Class – 14 & 15]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুর চাপ
  3. ভূমির ঢাল
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু (Climate):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়।

• নিম্নে জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ,
২। উচ্চতা,
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
৫। সমুদ্রস্রোত,
৬। ভূমির ঢাল,
৭। ভূ-প্রকৃতি,
৮। বায়ুপ্রবাহ,
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী?
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
পোতাশ্রয়ের ঢেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোতাশ্রয়ের ঢেউ
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। -
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. কালবৈশাখী
  3. হিমবাহ ধ্বস
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ ধ্বস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ ধ্বস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ:
- পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
- এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন, ক্ষয়ক্ষতি হয় সম্পদ ও জীবনের।
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কালবৈশাখী ও টর্নেডো, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, খরা, আর্সেনিক, ভূমিকম্প ও সুনামি অন্যতম।
- হিমবাহ ধ্বস বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন স্তর সবচেয়ে ব্যয়বহুল? 
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রশমন
  3. পূর্ব প্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
প্রশমন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রশমন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন,
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সুনামির কারন হলো-
  1. জলবায়ুর পরিবর্তন
  2. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. মৌসুমী বায়ুর প্রভাব
  4. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- তবে, ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেয়ু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' হচ্ছে একটি -
  1. অর্থনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  2. দুর্যোগ কালীন উন্নয়ন কৌশল
  3. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- যা জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রণীত হয়েছে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে।
- এটি ২০১৫ সালের মার্চ মাসে জাপানের সেনদাই শহরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্ব দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সম্মেলনে গৃহীত হয়।

৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Global Targets):
- দুর্যোগে মৃত্যুহার হ্রাস,
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সংখ্যা হ্রাস,
- অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস,
- গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থার ক্ষতি হ্রাস,
- DRR কৌশলের সংখ্যা বৃদ্ধি,
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি,
- সময়মতো সতর্কবার্তা ও ঝুঁকি সচেতনতা বৃদ্ধি।

উৎস: UNDRR[link]
.
’অগ্নিকাণ্ড’ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  3. মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
  4. ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
অগ্নিকাণ্ড বা দাবানল:
- আমাদের দেশে দাবানলের ঘটনা সাধারণত ঘটে না।
- কাজেই আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ডকে ঠিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যাবে না।
- এখানে দুর্ঘটনা বা মানুষের অসাবধানতাই অগ্নিকাণ্ডের কারণ।
- অগ্নিকাণ্ড এটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগ।
- দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড সাধারণত শিল্পকারখানা, তেলশোধনাগার, গার্মেন্টস শিল্প, পাটকল, রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা, এমনকি বসতবাড়ি, দোকানপাট, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে
ঘটতে দেখা যায়।
- এছাড়াও আমাদের দেশে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে জ্বলন্ত চুলা, কুপি, মশার কয়েল, সিগারেটের আগুন, হারিকেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট প্রভৃতি থেকেও অসাবধানতাবশত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ-পূর্ব
  2. উত্তর-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
• খরার কারণগুলো:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাটির আর্দ্রতা কমে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়ায়।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়।
- আবহাওয়ার চক্র: বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ’সাড়াদান’ ধাপের কাজ কী?
  1. প্রশমন
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
  4. দুর্যোগ প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
ব্যাখ্যা
সাড়াদান (Response):
- সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র।
- দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়।
- আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, অষ্টম শ্রেণি।
১০.
কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত (hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. তুষারপাত
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত:
- Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট।
- এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।
- ভূমিকম্প জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।প্রা
১১.
মৌসুমি জলবায়ুতে বায়ুপ্রবাহ কোন সূত্র অনুযায়ী হয়?
  1. ওয়েবারের তত্ত
  2. ফেরেলের সূত্র
  3. কোপেনের থিওরি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে।
- জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে।
- গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা গড়ে ২৭° সে. এর বেশি থাকে এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ সে. থেকে ২২° সে. এর মধ্যে থাকে।
- শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫০ সে. থেকে ১০০ সে. হয়।
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়।
- কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. আর্কটিক সাগর
  3. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
- সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
- আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৩.
নিচের কোন দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. খরা
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):
- বাংলাদেশ যেহেতু মহাসাগরগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত সেহেতু এ দেশকে সরাসরি সামুদ্রিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে তেমন চিহ্নিত করা যায় না।
- তবে বাংলাদেশের উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়,
- হিমালয়ের পাদদেশ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ভূমিকম্প প্রবণতা যথেষ্ট লক্ষ করা যায়।
- এছাড়াও রয়েছে ভূ-গাঠনিক গতিময়তা। সামগ্রিক দিক হতে দেখা যায় বাংলাদেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের পূর্বাংশে রয়েছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।
- উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত স্বল্প ভাঁজবিশিষ্ট ভঙ্গিল প্রকৃতির পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধরা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, সেলপাথর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- গঠনগত কারণে এ চত্বর ভূমিকম্পপ্রবণ।
- ভূমিকম্প কোন পূর্ভাবাস পাওয়া যায় না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা এগুলো পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, অষ্টম শ্রেণি।

১৪.
বাংলাদেশে ভূমিকম্পন প্রবণ অঞ্চলকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪টি
  3. ৫ টি
  4. ২ টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
- বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ,
- দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
• অঞ্চল ১: Z = ০.১২
• অঞ্চল ২: Z = ০.২
• অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
• অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬
- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬৪।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

• ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ,
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
- অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
- অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
- অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০।