পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮২
সিলেবাস
Exam - 13 Full Model Test - 03 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৮২ প্রশ্ন

.
১) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কতজন সদস্য নির্বাচিত হয়-
  1. ১৪ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৫ জন
ব্যাখ্যা
♦ ১৫ জন সদস্য নিয়ে বার কাউন্সিল গঠিত হবে যাদের মধ্যে পদাধীকার বলে এটর্নি জেনারেল সদস্য হবেন। বাকি ১৪ জন হবেন সমগ্র বাংলাদেশের আইনজীবিদের মাধ্যমে নির্বাচিত। এদের মধ্যে ৭ জন নির্বাচিত হবেন সাধারণ আইনজীবিদের মাধ্যমে এবং ৭ জন নির্বাচিত হবেন অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবি সমিতির আইনজীবিগণের মাধ্যমে ।
.
'রহিম' নাবালক থাকাকালে একটি মামলা করার অধিকার লাভ করে। এই অধিকার অর্জনের পর নাবালক থাকা কালেই সে উন্মাদ হয়ে যায়। রহিমের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে-
  1. তার নাবালকত্ব অবসান হওয়ার পর থেকে
  2. উন্মাদনা অবসানের তারিখ থেকে
  3. তার নাবালকত্ব এবং উন্মাদনা অবসানের তারিখ থেকে
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ মোতাবেক- যদি এক আইনগত অপারগতা অবসান হওয়ার পর ( সময় গণনা শরুর আগে ) সে পুনরায় আর এক আইনগত অপারগতায় পতিত হয়, তখন উভয় আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ শুরু হবে এবং যে মেয়াদের মধ্যে সে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারত সেই মেয়াদের মধ্যে তা করতে পারবে।

♦ যেহেতু 'রহিম' নাবালক থাকাকালে পুনরায় উন্মাদ হয়ে যায়, তাই তার নাবালকত্ব এবং উন্মাদনা উভয় অবসানের তারিখ থেকে মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
.
দণ্ডবিধির কোন ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না?
  1. ৩০২ ধারা
  2. ৩০৩ ধারা
  3. ৩০৪ ধারা
  4. ৩৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের জন্য, ৩০৩ ধারায় যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত খুনের জন্য এবং ৩৯৬ ধারায় ডাকাতির সময় খুনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।
♦ কিন্তু ৩০৪ ধারায় খুন বলে গণ্য নয় এমন নিন্দনীয় নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড । অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না।
.
কতিপয় বিবাদীর মধ্যে একজন সম্পর্কে কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত তার মামলা-
  1. ফেরত দিবেন
  2. খারিজ করবেন
  3. সমস্ত মামলা স্থগিত করবেন
  4. তার বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ আদেশের ১ বিধি মোতাবেক- পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আইন বা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত শুনানীর প্রথম দিনেই রায় ঘোষণা করতে পারে।

♦  দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ আদেশের ২ বিধি মোতাবেক- কতিপয় বিবাদীর মধ্যে একজন সম্পর্কে কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত তার পক্ষে বা বিরুদ্ধে রায় প্রদান করবেন ও বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে।
.
ইন্টার-প্লিডার মোকদ্দমার অর্থ হচ্ছে-
  1. একাধিক দাবীদারের বিরুদ্ধে মামলা
  2. একজন দাবিদারের বিরুদ্ধে মামলা
  3. কতিপয় বাদীর পক্ষে মামলা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৮ এবং আদেশ ৩৫ মতে- ইন্টার-প্লিডার মামলায় বাদীর নয় বরং সম্পত্তিতে বিবাদীর স্বার্থ নির্ধারিত হয়। এই সম্পত্তিতে বাদীর কোন দাবী থাকে না। ইন্টার-প্লিডার মামলা হচ্ছে একাধিক দাবীদারের বিরুদ্ধে মামলা।

♦  ইন্টার-প্লিডার মামলা হতে পারে টাকা, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দাবী নিয়ে। এই মামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পত্তি সঠিক মালিকের নিকট অর্পণ করা।
.
‘ক’ ‘খ’ এর মুখে ঘুষি মারলে ‘খ' এর একটি দাঁত পড়ে যায়। ‘ক’ এর কৃত অপরাধ হলো?
  1. সাধারণ জখম
  2. মারাত্মক জখম
  3. ইচ্ছাকৃত জখম
  4. হত্যার চেষ্টা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩২০ ধারায় ৮ ধরণের গুরুতর জখমের উল্লেখ রয়েছে।

(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

♦ এর মধ্যে সপ্তমটি হলো হাড় বা দাঁত ভাঙা বা বিচ্যুতকরণ।
.
৩০ বছর পুরাতন দলিলের সম্পাদন সঠিক ধরে নেয়া যেতে পারে যদি তা উপস্থাপিত হয়-
  1. একজন আইনজীবীর নিকট হতে।
  2. সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে
  3. উপযুক্ত হেফাজত হতে
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্যদানের সময়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯০ মতে- যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলে বুঝতে দেয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলে আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরে নিতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষর বলে বুঝতে দেওয়া হয়, তা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরে নিতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা এটি সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলে বুঝতে দেয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা এটি যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়েছে।
.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত তামাদির মেয়াদের পর দায়েরকৃত প্রত্যেকটি মামলা, আপীল এবং আবেদন খারিজ হবে-
  1. যদি বিবাদী তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন করে মামলাটি বারিত বলে দাবী করে
  2. যদি কোন সময় তামাদি মওকুফ প্রার্থনা করে
  3. বিবাদী তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন করুক বা না করুক
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ মোতাবেক- প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।
.
৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোন বিষয়গুলি প্রমাণ করতে হবে?
  1. স্বত্ব ও দখল
  2. সীমানা
  3. দখল ও বেদখল
  4. স্বত্ব
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য উক্ত সম্পত্তিতে দখল এবং বিগত ৬ মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া প্রমাণ করতে হবে, তবে স্বত্ব প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যে, ৮ ধারায় দখল প্রমাণের প্রয়োজন নেই তবে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে।
১০.
মেয়াদান্তে বার কাউন্সিলের সদস্যদের শেষ কর্মদিবস কোনটি?
  1. ৩১ মে
  2. ৩০ জুন
  3. ৩১ জুন
  4. ১ লা জুলাই
ব্যাখ্যা
♦ নির্বাচিত কমিটির মেয়াদকাল হবে ৩ বছর। মেয়াদ শেষ হবার বছরে ৩১ শে মে অথবা তার পূর্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য বার কাউন্সিল গঠিত হবে।

♦ অর্থাৎ মেয়াদান্তে বার কাউন্সিলের সদস্যদের শেষ কার্য দিবস হচ্ছে ৩০ জুন
১১.
ক, গ এর পকেটে হাত ঢুকিয়ে গ এর পকেট মারার চেষ্টা করে। গ এর পকেটে কিছু না থাকায় ক এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধী হবে?
  1. ৫১০ ধারা
  2. ৫০৯ ধারা
  3. ৫১১ ধারা
  4. ৫০৮ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৫১১ এর উদাহরণ ( খ) অনুযায়ী ক অপরাধ সংঘটনের  উদ্যোগ করেন এই জন্য সে অপরাধী হবে।

♦ দণ্ডবিধির ধারা ৫১১ তে বলা আছে কোন ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে অথবা কারাদন্ডে দান্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য দণ্ডবিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১২.
পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ হলে নাম পরিবর্তন, কর্তন বা যুক্তকরণের আবেদন করতে হয়ে-
  1. ১ আদেশের ১০ বিধিতে
  2. ১ আদেশের ১২ বিধিতে
  3. ১ আদেশের ১১ বিধিতে
  4. ১ আদেশের ৯ বিধিতে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশের ১০ বিধি মতে- আদালত মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা আদালত নিজেই কোন বাদী বাবিবাদীর নাম পরিবর্তন, কর্তন বা সংযোজন করতে পারেন। উল্লেখ্য পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগের ফলে কোন মোকদ্দমা ব্যর্থ হবে না।
১৩.
যে সকল ঘটনা বিচার্য ঘটনার উপলক্ষ্য, কারণ বা পরিণাম, সে গুলো প্রাসঙ্গিক হবে সাক্ষ্য আইনের কত ধারায়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৭
  3. ধারা ১৭
  4. ধারা ১৮
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭ ধারায় নিম্নলিখিত ঘটনাকে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। যথা-

*যে সকল ঘটনা (Fact), বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপলক্ষ্য (Occasion) বা কারণ (Cause)

*যে সকল ঘটনা (Fact), বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রভাব (Effect)

*যে অবস্থার প্রেক্ষাপটে কোন বিষয় ঘটেছে সেই অবস্থা গঠন করে এমন বিষয়

*কোন কার্য ঘটতে যে বিষয় সুযোগ করে দিয়েছে, সেই সকল বিষয় [সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭]
১৪.
'ক' নাবালক থাকাবস্থায় স্বত্বের মামলা করার অধিকারী হয়। এর ১১ বছর পর 'ক' সাবালক হয়। এই ক্ষেত্রে 'ক' অতিরিক্ত কত বছর সময় পাবে?
  1. ২ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৮ অনুসারে- যে মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তা কোনো কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করেছে বলে গণ্য হবে না।
♦ সাধারণত স্বত্বের মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর,  যেহেতু ক ১১ বছর পর সাবালক হয়েছে ও মামলা করার অধিকারী হয়েছে। আইনগত ভাবে মামলা করার শুধু মাত্র এক বছর সময় বাকি থাকে।
♦ কিন্তু তামাদি আইনের ৮ ধারার বিশেষ ব্যতিক্রম অনুযায়ী আইনগত অপারগতা অবসান হওয়ার পর মামলা করার জন্য তিন বছর সময় পাবে । অর্থাৎ সাবালক হওয়ার পরে ক মামলা করার জন্য মোট  তিন বছর সময় পাবে। এক্ষেত্রে ক তার স্বত্বের অধিকারের মামলার এক বছর মেয়াদের সাথে অতিরিক্ত  দুই বছর সময় বেশি পাবে ।

বি:দ্র: ৮ ধারার উদাহরণ: (ক)
⇒ 'ক' নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্ৰ অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে৷
১৫.
বিবাদী নাবালক হলে মামলার ফল কী হবে?
  1. মামলা স্থগিত থাকবে
  2. একতরফা ডিক্রি হবে
  3. মামলা খারিজ হবে
  4. উপযুক্ত ব্যক্তি নাবালকের পক্ষে অভিভাবক নিযুক্ত হবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩২ আদেশের ৩ বিধি অনুসারে- বিবাদী নাবালক হলে (১৮ বছরের কম বয়স্ক) তার পক্ষে আদালত একজন অভিভাবক নিযুক্ত করবেন। নাবালক বিবাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অভিভাবক নিযুক্ত করেন আদালত।
১৬.
৩ মাসের অধিক নির্জন কারাদণ্ডে (solitary confinement) দণ্ডিত আসামির ক্ষেত্রে মাসে কয়দিন নির্জন কারাবাস প্রদান করতে হবে?
  1. ১৪ দিন
  2. ২ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ৫ দিন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৭৪ মতে- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
১৭.
নিম্নের কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য নয়?
  1. প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি
  2. বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যে প্রশ্নের ধরণ বুঝতে পারে ।
  3. অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু
  4. বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি আদালতের মতে যে প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে অক্ষম
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী শিশু বা পাগল বা মানসিক রোগী সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য। কোন মানসিক রোগী যোগ্য সাক্ষী হবে যদি সে এমন কোনো মানসিক অবস্থায় থাকে যখন সে তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে বা তার যুক্তি সংগত উত্তর দিতে সক্ষম, সেই ক্ষেত্রে উক্ত মানসিক রোগী যোগ্য সাক্ষী হবে।
১৮.
নন-জি-আর মামলা কী?
  1. বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশি মামলা
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এর নিকট দখল সংক্রান্ত মামলা
  3. পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের মামলা
  4. পুলিশের নিকট আমল অযোগ্য অপরাধের মামলা
ব্যাখ্যা
♦ নন-জি-আর মামলা হলো ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৫৫ এর অধীনে কোন সংবাদদাতা কর্তৃক পুলিশের নিকট আমলঅযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে কোন সংবাদ দেওয়া। পুলিশ তখন উক্ত সংবাদ জিডি আকারে লিপিবদ্ধ করে ও সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করে। এটিই নন-জি-আর মামলা নামে পরিচিত। ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট করা মামলাকে সি.আর মামলা বলা হয়। পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের মামলাকে জি.আর মামলা বলা হয়।
১৯.
কোন সংস্থা কর্তৃক মামলায় আরজিতে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ করতে পারবে উক্ত সংস্থার-
  1. সেক্রেটারী
  2. প্রধান কর্মচারী
  3. ডিরেক্টর
  4. উপরের যে কোন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ২৯ আদেশের ১ বিধি অনুসারে- কোন সংস্থা মামলা করলে বা তার বিরুদ্ধে মামলা হলে প্লিডিংস-এ বা আরজিতে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ করবেন-

১) সংস্থার সেক্রেটারী বা

২) ডিরেক্টর বা

৩) প্রধান কর্মচারী
২০.
সুপ্রীমকোর্টের 'রুল মেকিং পাওয়ার' সম্পর্কে দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিধান আছে?
  1. ১২১
  2. ১২২
  3. ১২৩
  4. ১২৬
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১২২ অনুসারে- দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তার নিজের ও অধঃস্তন আদালতের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে রুল তৈরি, সংযোজন, পরিবর্তন ও বাতিল করতে পারেন।
২১.
ক ও খ আনন্দ করার জন্য পরস্পর অসি খেলার জন্য একমত হয়। অসি খেলা চলাকালে ক এর কারনে খ আঘাত পায় এবং খ এর পা ভেঙ্গে যায়। ক এর অপরাধ?
  1. কোন অপরাধ করেনি
  2. গুরুতর জখমের চেষ্টা
  3. গুরুতর জখম
  4. সাধারণ জখম
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৮৭ এর উদাহরণ অনুযায়ী- মৃত্যু ঘটাবার অথবা গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত নয়, অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে বা গুরুতর আঘাত করতে পারে এইরূপ না জেনে সম্পাদিত কোন কাজ করার পর এতে কোন ক্ষতি হওয়ার ফলে অপরাধ হবে না; অথবা ১৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরূপ কাজের ফল হতে উদ্ভূত ক্ষতি স্বীকার করার সম্মতিদানের পর তার সম্মতি নিয়ে উক্তরূপ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না; অথবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে, সে ব্যক্তি কাজটি করার ফলে ক্ষতি অনুষ্ঠিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারে সম্মতিক্রমে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না।
২২.
অপরাধ সংজ্ঞায়িত করে এমন কোনো আইনে উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম [Special exceptions] প্রমাণের দায়ভার সর্বদা আসামীর উপর বর্তাবে। সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১০১
  2. ধারা ১০২
  3. ধারা ১০৩
  4. ধারা ১০৫
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০৫ মতে- কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে অভিযুক্ত হলে মামলাটি যাতে দন্ডবিধিতে বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের মধ্যে পড়তে পারে, অথবা দন্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা উহার অপর কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে বা উক্ত অপরাধ সম্পর্কিত অপর কোন আইনে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এইরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত থাকে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে অবশ্যই ধরে নিবেন।
২৩.
এ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য একজন প্রার্থীর বয়স কত হবে ?
  1. ১৮ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 197 (President's Order No. 46 of 1972) এর ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য একজন প্রার্থীর ২১ বছর বয়স হতে হবে।
২৪.
ভবঘুরে, দস্যু, চোরাইমাল গ্রহণকারীকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা যায় কত ধারায়?
  1. ৫৪
  2. ৫৫
  3. ১৫৪
  4. ১৫৫
ব্যাখ্যা
♦ সাধারনত পুলিশ আমলযোগ্য অপরাধ ছাড়া কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারে না। তবে ৫৪ ধারায় ৯টি ক্ষেত্রে এবং ৫৫ ধারা অনুযায়ী পুলিশ ভবঘুরে, অভ্যাসগত দস্যুকে বিনা ওয়ারেন্টে বা বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধের উদ্দেশ্যে নিজের পরিচয় গোপন করে, যে উক্ত থানা এলাকায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারে না এবং অভ্যাসগত ডাকাত, গৃহভঙ্গকারী, চোর বা চোরাইমাল গ্রহণে যার বদনাম রয়েছে পুলিশ তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে। [ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৫]
২৫.
Set-off এর দাবী কিসের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়?
  1. অতিরিক্ত জবাব
  2. লিখিত জবাব
  3. লিখিত দরখাস্ত
  4. নতুন আরজি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৬ মোতাবেক- বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা হলে বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করেন; এসময় বিবাদী তার পাওনা টাকার জন্য Set-off এর দাবী ও উত্থাপন করতে পারেন। দাবী সমন্বয়ের দাবীসহ বিবাদীর লিখিত জবাব বিবেচিত হয় পাল্টা মামলার আরজির ন্যায়। এ ক্ষেত্রে বিবাদী কোর্ট ফি দিতে বাধ্য।
২৬.
‘ক’ এর প্ররোচনায় ‘খ’ খুন করার উদ্দেশ্যে ‘গ’ কে ছুরিকাঘাত করে। ‘গ’ চিকিৎসান্তে সুস্থ হয়ে উঠে। ‘ক’ নিম্নের কোন অপরাধ করেছে?
  1. গুরুতর আঘাতের প্ররোচনা
  2. নরহত্যার প্ররোচনা
  3. খুন করার প্ররোচনা
  4. ‘গ’ সুস্থ হওয়ার কোন অপরাধ হয়নি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ১১৫ মতে কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডে ও দণ্ডিত করা হবে।
২৭.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও প্রমাণে কী ধরনের বাধা সৃষ্টি করে?
  1. স্বকার্য জনিত
  2. দোবারা দোষ
  3. মামলা স্থগিত
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩১ মতে- স্বীকৃতি স্বকার্য জনিত বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত- প্রমাণ নয় তবে তা এই আইনের বর্ণিত বিধান সমূহ অনুসারে প্রতিবন্ধ হিসাবে কার্যকারী হতে পারে। যে সকল লোককে স্বাক্ষী রুপে আহ্বান করা যায় না, তাদের বিবৃতিও এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

♦  সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারামতে স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ বা conclusive proof না হলেও estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধা সৃষ্টি করতে পারে। 
২৮.
লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল (Result of acknowledgment in writing) সম্পর্কিত বিধানটি তামাদি আইনের কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১০
  2. ২০
  3. ১৯
  4. ১৮
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৯ মতে- যেই ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বেই যেই পক্ষের নিকট হতে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার দাবি করা হয়েছে, সেই পক্ষ স্বয়ং অথবা যাহার মাধ্যমে তিনি উক্ত সম্পত্তির স্বত্ব বা দায় প্রাপ্ত হয়েছেন, সেই ব্যক্তি লিখিত স্বাক্ষরিতভাবে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হবার সময় হইতে নতুন করে মেয়াদ গণনা করতে হবে।
২৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হলে সেটি হবে একটি?
  1. রায়
  2. আদেশ
  3. ডিক্রি
  4. রিভিউ
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(২) অনুসারে- আরজি প্রত্যাখ্যান বা নাকচের সিদ্ধান্ত ও প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হচ্ছে ডিক্রি। ডিক্রী বা আদেশের ভিত্তিসমূহকে রায় বলে। Order এবং ডিক্রী উভয়ই আদালত কর্তৃক কোন সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। আদেশের মাধ্যমে পক্ষ সমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ণয় হতেও পারে, নাও পারে। আদালতের কোন রায়কে একই আদালতে পুনঃবিবেচনার আবেদন কে রিভিউ বলে।
৩০.
আত্মহত্যা প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. অর্থদণ্ডসহ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১ বছরের সশ্রম করাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৯ মতে- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৩১.
সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারায় নিম্নলিখিত কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. বিবাহের বৈধতা
  2. সন্তানের বৈধতা
  3. দত্তক সন্তানের বৈধতা
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারায় সন্তানের বৈধতার [Legitimacy of Child] অনুমান সম্পর্কে আলোচন করা হয়েছে। কোন সন্তানের বৈধতার প্রশ্ন উঠলে, তা নির্ধারণের সাক্ষ্যগত দিক ১১২ ধারায় উল্লেখ করাহয়েছে। ১১২ ধারায় আদালত কোন সন্তানকে বৈধ বলে অনুমান করবে যদি সন্তানটি-

১. তার পিতা ও মাতার মধ্যে বৈধ বিবাহ স্থির থাকাকালীন অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে; অথবা
২. পিতা মাতার বিবাহ বিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে এবং উক্ত সময়ে তার মাতা অবিবাহিত ছিল।
৩২.
একটি আরজিতে সত্যপাঠে স্বাক্ষর করবে কে?
  1. সম্পাদনকারী
  2. বাদীর উকিল
  3. পুলিশ
  4. বিবাদীর উকিল
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১৫ নং বিধিতে প্লিডিংস সত্যাখ্যানের (Verification of pleadings) বিধান রয়েছে। ১৫ নং বিধিমতে প্রত্যেক Pleadigns-এর শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অর্থাৎ আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী সত্যপাঠে স্বাক্ষর করবে, যাকে প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন (Verification of pleadigns) বলে। অর্থাৎ আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখান বা সত্যতা প্রতিপাদন করবে।
৩৩.
A, Z কে হুমকি দেয় যে, তাকে টাকা না দিলে Z সম্পর্কে সে মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করবে। A যে অপরাধ করেছে তা-
  1. মানহানি
  2. অনিষ্টসাধন
  3. বলপূর্বক আদায়
  4. বিশ্বাস ভঙ্গ
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৮৩ অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তা দ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
৩৪.
আদালতের স্থানীয় সীমার বাইরে সমন জারি করতে হবে আসামী যার এখতিয়ারভুক্ত সেই-
  1. পুলিশ সুপার বরাবর
  2. ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  4. সরাসরি ঐ ব্যক্তি বরাবর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৭৩ অনুযায়ী- আদালতের স্থানীয় সীমার বাইরে সমন জারি করতে হবে সমনকৃত ব্যক্তির স্থানীয় সীমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সমনের ২টি কপি পাঠিয়ে। উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সমনকৃত ব্যক্তির উপর সমন জারি করবেন।
৩৫.
একতরফা ডিক্রী হলে তা সরাসরি বাতিলের জন্য বিবাদী কত দিনের মধ্যে আবেদন করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
♦  শুনানীর ধার্য তারিখে বাদী উপস্থিত এবং বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে বাদীর পক্ষে এক তরফা ডিক্রী প্রদান করেন। একতরফা ডিক্রী রদের আবেদন করে বিবাদী; ডিক্রী প্রদানের তারিখ বা জ্ঞাত হবার ৩০ দিনের মধ্যে এই আবেদন করতে হয়। 

আদেশ ৯ বিধি ১৩ক অনুযায়ীয় একতরফা ডিক্রী  সরাসরি বাতিলের জন্য  বিবাদী  আবেদন করতে পারবেন।
৩৬.
ক্রোকী সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রমাণ করতে হবে-
  1. অপুরনীয় ক্ষতি
  2. পলাতক ছিলো না
  3. আত্মগোপন করে নাই
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৮৯ ধারা মতে ক্রোকী সম্পত্তি ফেরৎ পাওয়ার জন্য ৮৮(৭) ধারা অনুযায়ী হুলিয়াধীন ব্যক্তি যদি ২ বৎসরের মধ্যে হাজির হয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি পলাতক ছিলেন না বা আত্মগোপন করেন নাই বা হুলিয়ার নোটিশ পান নাই, তাহলে আদালত ক্রোক সম্পর্কিত খরচ কেটে রেখে বাকি সম্পত্তি অবমুক্ত করতে পারেন।
৩৭.
'ক' একটি জমির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে 'ক’ উক্ত জমির মালিক না । এখানে 'ক' যে উক্ত জমির মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. 'ক' এর উপর
  2. দখলকারীর উপর
  3. 'খ' এর উপর
  4. মালিকের উপর
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১০ অনুসারে- যে ব্যক্তির দখলে কিছু আছে বলে দেখানো আছে, সেই ব্যক্তি উক্ত জিনিসের মালিক কিনা এই প্রশ্ন উঠলে, দখলকারী ব্যক্তি যে মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর বর্তায়, যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সেই জিনিসের মালিক না। যেহেতু 'খ' দাবি করে যে, 'ক উক্ত জমির মালিক না, তাই তা প্রমাণের দায়িত্ব 'খ' এর উপর বর্তায়।
৩৮.
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় কোন অপরাধ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. চুরি
  2. ডাকাতি
  3. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ।
  4. অ্যাবেটমেন্ট ।
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ ক অনুযায়ী- দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যদি -একটি বেআইনী কাজ; অথবা যে কার্যটি বেআইনী নয় এমন একটি কার্য বেআইনী উপায়ে করার জন্য কিংবা কার্যটি যাতে সম্পন্ন হয় তজ্জন্য সম্মত বা একমত হয় তবে- অনুরূপ সম্মতি বা ঐকমত্যকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলে।

♦ তবে শর্ত থাকে যে, একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য উপনীত সম্মতি ছাড়াই অপর কোনরূপ সম্মতি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলে পরিগণিত হবে না, যদি না উপযুক্ত সম্মতি অনুযায়ী সম্মতিটির সাথে জড়িত এক বা একাধিক ব্যক্তি দ্বারা সম্মতিটির বহির্ভূত কোন কার্য সম্পন্ন হয়।
৩৯.
শুনানির সময় বাদী পক্ষ অনুপস্থিত ও বিবাদী উপস্থিত থাকলে তাহার ফলাফল কী?
  1. আদালত মামলা ফেরত দিবে
  2. মামলা স্থানান্তর করবে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে পাঠিয়ে দিবে
  4. মামলা খারিজ করে দিবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ আদেশের ৮ বিধি মতে শুনানির সময় বাদী যদি অনুপস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে বিবাদী যদি বাদীর দাবীর সম্পূর্ণ অংশ বা অংশ বিশেষ মেনে নেয়, তাহলে আদালত তদানুসারে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রী দান করবেন। আর বিবাদী যদি এটির কোন অংশই মেনে না নেয়, তাহলে আদালত সম্পূর্ণ মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিবেন।
৪০.
দণ্ডিত ব্যক্তির শান্তি রক্ষার মুচলেকা কতদিনের জন্য নেওয়া যায়?
  1. ১ বৎসরের জন্য
  2. ৩ বৎসরের জন্য
  3. ৬ মাসের জন্য
  4. ৭ বৎসরের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৬ ধারা অনুযায়ী দন্ডিত ব্যক্তির শান্তি রক্ষার মুচলেকা নেওয়া যায় ৩ বৎসরের জন্য। জামিনদার সহ বা ব্যতীত। যে আদালত দন্ড দেয় সেই আদালত দন্ড দেওয়ার সময় শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশও দিতে পারেন।
৪১.
‘K’ তার পকেটে কুকুরের জন্য একটি টোপ রাখে এবং ইহার সাহায্যে ‘Z’-এর কুকুরকে ইহার অনুসরণ করতে প্রলুব্ধ করে। এক্ষেত্রে যদি কুকুরটিকে ‘Z’-এর অধিকার হতে ‘Z’-এর সম্মতি ব্যতিরেকে অসাধুভাবে নিয়ে যাওয়া 'K' -এর অভিপ্রায় হয়ে থাকে তাহলে ‘Z’-এর কুকুরটি ‘K’ কে অনুসরণ করার সঙ্গে কী ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে?
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. অসাধুভাবে বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৭৮ এর উদাহরণ খ অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
৪২.
'ক' এবং তার তিন বন্ধু মিলে 'গ' কে গুরুতর জখম করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় 'গ' মারা যায়। মৃত্যুর পূর্বে 'গ' তার মৃত্যুর কারণ হিসাবে 'ক' কে দায়ী করে পুলিশের নিকট বিবৃতি দেয়। 'গ' এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা সম্পর্কে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ' গ' এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা ৩২ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য
  2. মৃত্যুকালীন ঘোষণা পুলিশের নিকট দিলেও তা ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক
  3. 'গ' যেহেতু পুলিশের নিকট মৃত্যুকালীন ঘোষণা দিয়েছে তাই তা অপ্রাসঙ্গিক ।
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী- যদিও মৃত্যুর পূর্বে 'গ' তার মৃত্যুর কারণ হিসাবে 'ক' কে দায়ী করে পুলিশের নিকট বিবৃতি দেয়। 'গ' এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য।
৪৩.
আদালতের সমন জারিতে বাধা দিলে শাস্তি হতে পারে-
  1. ৬ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড
  2. ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড
  3. ৩ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড
  4. ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, সমন জারিতে বাধা সৃষ্টি করলে তার শাস্তি হতে পারে ১ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড এবং উক্তরূপ সমনে বা বিজ্ঞপ্তিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়া বা কোন দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ থাকলে তার শাস্তি হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা ১০০০ টাকা।
৪৪.
তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুসারে Pauper Suit দাখিল হয়েছে বলে গণ্য হবে-
  1. যখন নিঃস্ব ব্যক্তি আদালতে আরজি দাখিল করেন।
  2. যখন উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট নিঃস্ব হিসাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত দাখিল করবেন।
  3. যখন আদালত নিঃস্ব ব্যক্তির আবেদন গ্রহণ করেন।
  4. ক অথবা খ
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ অনুসারে Pauper Suit দাখিল হয়েছে বলে গণ্য হবে- যখন উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট নিঃস্ব হিসাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত দাখিল করবেন
৪৫.
এক পক্ষের দাবীকৃত ঘটনা প্রমাণের দরকার হবে না, যদি তা হয়-
  1. অপরপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত
  2. ঐতিহাসিক সত্য
  3. প্রাকৃতিক নিয়মসিদ্ধ
  4. সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা অনুযায়ী কোন পক্ষ বা তার প্রতিনিধি শুনানীর সময় কোন বিষয় স্বীকার করলে অপরপক্ষকে তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও আইনের মাধ্যমে অনুমানযোগ্য বিষয়সমূহও প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই (৮৬-৯০ ধারা)। উল্লেখ্য উপরোক্ত বিষয়সমূহ প্রমাণ না করলেও আদালত উহা প্রমাণিত হিসাবে ধরে নিবেন।
৪৬.
দন্ডবিধির কোন ধারায় Volentinon fit injuria মতবাদের প্রকাশ ঘটেছে?
  1. ২৮৩
  2. ৩০৪ খ
  3. ৮৭
  4. ৩০৪ ক
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৮৭ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানোর জন্য অভিপ্রেত নহে, তবে অনুরূপ সম্ভাবনাপূর্ণ কোন কার্য কারোর সম্মতিতে করলে তা অপরাধ নয়; তবে যে সম্মতি দান করেছে তার বয়স নূন্যতম ১৮ বছর হতে হবে। Volenti non fit injuria অর্থ হলো-সম্মতিতে কৃত কোন ক্ষতিকারক কার্য অপরাধ নয়।
৪৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে আরজি নাকচের সিদ্ধান্ত হচ্ছে একটি-
  1. আদেশ
  2. ডিক্রি
  3. প্রাথমিক সিদ্ধান্ত
  4. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(২) মোতাবেক- আরজি ত্রুটিযুক্ত হলে আদালত আরজি খারিজ বা আরজি নাকচ  করেন এবং আরজি খারিজ একটি ডিক্রি বিধায় এর বিরুদ্ধে ৯৬ ধারায় আপিল করা যায়। উল্লেখ্য আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আদেশ। আদেশ অন্তবর্তীকালীন বা চূড়ান্ত হতে পারে। ডিক্রী প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আদেশ হলেও এটি ১০৪ ধারায় আপীল যোগ্য।
৪৮.
আগাম জামিন দিতে পারেন-
  1. হাইকোর্ট
  2. দায়রা কোর্ট
  3. চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
  4. হাইকোর্ট এবং দায়রা কোর্ট উভয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আগাম জামিনের বিধান আছে। এ ধারায় আগাম জামিন দিতে পারেন হাইকোর্ট বিভাগ ও দায়রা জজ আদালত। এ ধারার অধীনে আদালত যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন এবং জামানত হ্রাস করতে পারেন। [ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৯৮]
৪৯.
ভুল আদালতে মামলা দায়ের করলে বিলম্ব মওকুফের জন্য কত ধারায় আবেদন করতে হবে?
  1. ৫ ধারায়
  2. ১৪ ধারায়
  3. ১৮ ধারায়
  4. ১৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী ভুল আদালতে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের ফলে বাদীর যে সময় নষ্ট হয় তামাদি মেয়াদ হতে সে সময় বাদ যাবে। উল্লেখ্য ১৪ ধারা প্রযোজ্য হয় শুধুমাত্র মূল মামলা ও দরখাস্ত দায়েরের ক্ষেত্রে।
৫০.
অপরাধী স্বামীকে লুকিয়ে রাখলে বা আশ্রয় দিলে স্ত্রী দোষী হবে না এটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ১৭৩ ধারায়
  2. ১৭১ ধারায়
  3. ১৬৫ ধারায়
  4. ২১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ২১২ ধারার ব্যতিক্রম অনুযায়ী অপরাধী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অভিযুক্ত অপরাধীকে লুকিয়ে রাখলে বা আশ্রয় দিলে এই ধারায় সে দোষী হবে না;

♦ দন্ডবিধির ২১৬ ধারায় হাজত হতে পলায়নকারীকে স্বামী বা স্ত্রীকে আশ্রয় দান করলে দায়ী হবে না ।

♦ দন্ডবিধির ২১৬ক ধারায় ডাকাত/দস্যু ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী তাকে লুকিয়ে রাখলে বা আশ্রয় দিলে এই ধারায় সে দোষী হবে না।
৫১.
সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০ টাকা অর্থদন্ড হলে, ঐ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো-
  1. রিভিশন
  2. আপীল
  3. রেফারেন্স
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০ টাকা অর্থদন্ড হলে তার বিরুদ্ধে আপীল চলে না। অতএব ঐ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো রিভিশন।
৫২.
'ক', 'খ'-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, 'খ' ১০০০ টাকা প্রদান করলে সে 'খ' এর ছবি আঁকবে। এই ক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে
  2. ক্ষতিপূরণ পাবে
  3. বাদীকে চুক্তি পালনে বাধ্য করা যাবে
  4. চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১  মতে- যেহেতু চুক্তি সম্পাদন ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভর করছে। তাই এটা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য না।
৫৩.
আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কী হবে?
  1. আরজি ফেরত
  2. আরজি নাকচ
  3. মামলা খারিজ
  4. মামলা চলবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ অনুযায়ী- আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে আদালত আরিজ নাকচ করবেন। ভুল আদালতে আরজি পেশ করলে আদালত আরজি ফেরত দেয়। আরজি খারিজ ও মামলা খারিজ একই বিষয় নয়। উল্লেখ্য যে, আরজি খারিজ বা নাকচ হলেও নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আরজি পেশ করা যায়। শুনানীর দিন পক্ষগণের অনুপস্থিতির কারণে বা সমন জারি না হওয়ার কারণে মামলা খারিজ হতে পারে।
৫৪.
কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের বিচারের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যায়-
  1. খালাস প্রাপ্ত ব্যক্তি
  2. অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি
  3. দণ্ডিত ব্যক্তি
  4. কাউকে না
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৩ মতে- কোন ব্যক্তি একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত হলে একই অপরাধের জন্য তাকে পুন:বিচার করা যাবে না। তবে, আসামীকে পূর্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকলে নতুন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যাবে। অর্থাৎ একই অপরাধের বিচারের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যায় না,  এই বিধান শুধু দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৫৫.
ক' 'খ' এর নিকট একটিবাড়ী ১০০০ টাকায় বিক্রি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' ক্রয়মূল্য প্রদান করলেও 'ক' বাড়ী বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। 'খ' এর প্রতিকার কী?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  3. চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১২ অনুচ্ছেদ (গ) অনুযায়ী- আমরা জানি স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কোন চুক্তি করা হলে উক্ত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য। ক এবং খ এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়বস্তু হলো স্থাবর সম্পত্তি, বাড়ী। তাই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য। কারণ স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না
৫৬.
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞের মতামতের রিপোর্টকে কী বলে -
  1. সুরতহাল
  2. বিশেষজ্ঞের মতামত
  3. ময়নাতদন্ত
  4. মৃত্যু রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৭৪(৩) মতে- মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞের (ডাক্তারের) মতামতের রিপোর্টকে বলা হয় ময়নাতদন্ত এবং তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্টকে বলা হয় সুরতহাল রিপোর্ট।
৫৭.
কত বছরের বয়স্ক লোককে প্ররোচিত করে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুবরণ করালে তা খুন হিসাবে বিবেচিত হবে-
  1. ১৮ বছরের কম
  2. ১২ বছরের কম
  3. ২০ বছরের কম
  4. ২১ বছরের কম
ব্যাখ্যা
৩০০ ধারার ব্যতিক্রম- ৫ অনুযায়ী ১৮ বছরের বেশী বয়স্ক লোককে প্ররোচিত করার ফলে উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত মৃত্যুবরণ করলে তা খুন নয় বরং অপরাধজনক নরহত্যা হিসাবে বিবেচিত হবে। কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে, শিশু হলে বা উম্মাদ হলে সেক্ষেত্রে উক্ত হত্যা খুন হিসাবে বিবেচিত হবে
৫৮.
মোকদ্দমা ভুল আদালতে দায়ের করা হলে বিচারাক কী করবেন?
  1. আরজি ফেরত দিবেন
  2. আরজি খারিজ করবেন
  3. স্থানান্তর করবেন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১০ নং বিধিতে আরজি ফেরতের বিধান রয়েছে। কোন আরজি এখতিয়ারবিহীন আদালতে দায়ের করা হলে, আরজিটি সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়াকে আরজি ফেরত বা Return of plaint বলে।

♦ সঠিক আদালতে মামলা দায়ের করা না হলে অর্থাৎ এখতিয়ার বহির্ভূত আদালতে মামলা দায়ের করা হলে, উক্ত আদালত আরজিটি উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে দায়ের করার জন্য দাখিলকারী অ্যাডভোকেটের নিকট ফেরত পাঠাবে।

♦ আরজি ফেরতের সময় আদালত দাখিল ও ফেরতের তারিখ, দাখিলকারকের নাম ও ফেরতের কারণ সম্পর্কে বিবৃতি লিখবেন ।
৫৯.
ফৌজদারী মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে-
  1. পুনরায় সাক্ষীদের পরীক্ষা করবে
  2. আসামীদের পরীক্ষা করবে
  3. বাদী পক্ষদের পরীক্ষা করবে
  4. পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পরীক্ষা করবে
ব্যাখ্যা
♦ প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষে ৩৪২ ধারার আদালত আসামীকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন; আসামী লিখিত বা মৌখিক বা উভয়ভাবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও সরকার পক্ষের সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এ ধারায় আসামীকে শপথ পড়ানো যাবে না এবং আসামী কোন ঘটনা অস্বীকার করলে বা মিথ্যা জবাব দিলেও এ মিথ্যা জবাবের জন্য দন্ডিত হবে না। উল্লেখ্য এ ধারায় আসামীকে প্রশ্ন করবেন শুধুমাত্র আদালত; বাদীপক্ষ কোন প্রশ্ন করতে পারবে না।
৬০.
আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের পূর্ব শর্ত কোনটি?
  1. ক্রোক (৮৮ ধারা)
  2. জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
  3. হুলিয়া (৮৭ ধারা)
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ অনুযায়ী- যে ক্ষেত্রে আসামী পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং কখনই আদালতে উপস্থিত হয় নাই সে ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতি বিচার শুরু করার আগে- প্রথমে কমপক্ষে ৩০ দিনের সময় দিয়ে হুলিয়া জারি করতে হবে, অতপর ম্যাজিস্ট্রেট তার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিবেন এবং সর্বশেষে বহুল প্রচারিত ২ টি বাংলা পত্রিকায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিবেন

♦ উল্লেখ্য, যে ক্ষেত্রে আসামী হাজির হওয়ার পর বা জামিন নেওয়ার পর পলায়ন করে বা হাজির হতে ব্যর্থ হয়- সেক্ষেত্রে উপরোক্ত বিধান প্রযোজ্য নয়।
৬১.
দেনা আংশিক পরিশোধের ফলাফল কী?
  1. নতুন করে তামাদি গণনা
  2. পূর্বের তামাদির মেয়াদ অব্যাহত থাকবে
  3. তামাদি গণনা স্থগিত থাকবে
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৯ মতে- দেনা আংশিক পরিশোধ বা লিখিত স্বীকৃতি ফলে নতুন করে তামাদি মেয়াদ শুরু হবে।
৬২.
নিচের কোনটি পদ্ধতিগত আইন নয়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি
  2. সাক্ষ্য আইন
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
  4. তামাদি আইন
ব্যাখ্যা
♦যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।

♦ কিন্তু এই অপরাধের বিচার পদ্ধতি দণ্ডবিধিতে উল্লেখ করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধের বিচার করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে ফৌজদারী কার্যবিধিতে। এই কারণে ফৌজদারী কার্যবিধি হলো পদ্ধতিগত আইন।
৬৩.
সি. আর. মামলায় সমন ইস্যুর পর অভিযোগকারী হাজির না হলেও ম্যাজিস্ট্রেট অগ্রসর হবেন-
  1. সরকার আদেশ দিলে
  2. অভিযোগকারী সরকারী কর্মকর্তা হলে
  3. পিপি সহযোগীতা করলে
  4. অভিযোগকারী মামলা তুলে নিলে
ব্যাখ্যা
♦ ফরিয়াদী অনুপস্থিত থাকলে ২৪৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস দিবেন অথবা পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত মূলতবী রাখবেন। তবে ফরিয়াদী সরকারী কর্মচারী হলে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্যক্রম চলতে পারে। [ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৪৭]
৬৪.
Assault or criminal force to woman with intent to outage hermodesty করার শাস্তি কী?
  1. অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ মতে- যদি কোন ব্যক্তি কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা সে তৎকর্তৃক তার শালীনতা নষ্ট করতে পারে জেনে তাকে আক্রশ করে বা তৎপ্রতি অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে সে ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে—যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৬৫.
‘ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ চার্জ গঠনের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী আদালত প্রদত্ত নিম্নের কোন রায়টি প্রাসঙ্গিক?
  1. ক' অন্য একটি যৌতুক মামলায় খালাস পেয়েছে
  2. ক' অন্য একটি যৌতুক মামলায় দণ্ডিত হয়েছে
  3. ক' অন্য একটি চুরি মামলায় দণ্ডিত হয়েছে
  4. ক' অন্য একটি চুরি মামলায় খালাস পেয়েছে
ব্যাখ্যা
♦ সাধারণভাবে অভিযোগের সারমর্মকে চার্জ বলে। চার্জ হচ্ছে একটি লিখিত বিবরণ যাতে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কৃত অপরাধের সময়, স্থান, প্রকৃতি এবং যে ব্যক্তি বা বস্তুর বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে তার বর্ণনা ও আইনের যে ধারার অধীনে আসামীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার উল্লেখ থাকে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির২২১(৭) ধারামতে পরবর্তী অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধির জন্য চার্জে পূর্ববর্তী দন্ডের ঘটনা, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২২১(৭) ধারা অনুযায়ী আসামী পূর্বে একই ধরনের কোন অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত হলে চার্জে তা উল্লেখ করতে হবে। পুর্বেও যেহেতু চুরির অপরাধে দন্ডিত হয়েছিল তাই উহা বর্তমানের চার্জ গঠনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক।
৬৬.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে?
  1. বিচারিক কার্যধারা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  2. ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  3. বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  4. কোন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদন করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,  ১৮৭৭ এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী- যে সকল কারণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যায় না তা উল্লেখ আছে। 

♦  = নিম্নেবর্ণিত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না-
১. বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
২. অধীনস্থ আদালত ছাড়া অন্য কোন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪. সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
৫. কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ।
৬. যে চুক্তির কার্য সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় না এমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্য।
৭. উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য ।
৮. এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যেটাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রাদান করেছে।
৯. ট্রাস্ট ভঙ্গের মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সমপরিমাণ যথার্থ প্রতিকার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন যে, যা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে।
১১. যেখানে আবেদনকারীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

♦ এখানে অপশন ক, খ, ঘ এর জন্য আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে না। তবে বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে  নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারবেন। 
৬৭.
কোন ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি বিবাদী হিসেবে মোকদ্দমায় পক্ষভূক্ত হতে পারে?
  1. ন্যায় বিচারের স্বার্থে
  2. দাবিকৃত প্রতিকার ভিন্ন হলে
  3. দাবিকৃত প্রতিকার একই কার্য থেকে উদ্ভব হলে
  4. একই তারিখে মামলা হলে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশ ৩ বিধি মতে- যেক্ষেত্রে কতিপয় বিরুদ্ধে দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য থেকে উদ্ভব হয় এবং উক্ত বিবাদীদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হতে পারে, সেক্ষেত্রে ঐ সকল ব্যক্তিকে একই মোকদ্দমায় বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা যায়।
একই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে যুক্ত করতে হলে নিম্নোক্ত শর্তপূরণ করতে হবে-
১) যাদের বিরুদ্ধে একই কাজ বা বিষয় আদান-প্রদান দ্বারা একত্রে বা পৃথকভাবে কোন প্রতিকার দাবি করা যায়। এবং
২) উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মোকদ্দমা দায়ের করলে আইন বা তথ্যসংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হতে পারে অনুরূপ সকলকে একই মোকদ্দমায় বিবাদীপক্ষে যুক্ত করা যায়।
৬৮.
নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দী ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় রেকর্ড করেন?
  1. ১৯০ ধারা
  2. ২০০ ধারা
  3. ২০১ ধারা
  4. ২০২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ আমলযোগ্য ও আমল অযোগ্য অপরাধের সম্পর্কে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে মেট্রোপলিটন বা ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারেন।

ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ প্রাপ্তির পর ২০০ ধারায় শপথ পূর্বক বাদী বা ফরিয়াদীকে ও উপস্থিত সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে পারেন ।
৬৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৯ ধারার মামলায় নিচের কোনটি প্রমাণ করতে হবে না-
  1. সম্পত্তিটি দখলে ছিল
  2. বিবাদী তাকে বেদখল করেছে
  3. সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব রয়েছে
  4. বাদী ৬ মাসের মধ্যে মামলাকরেছে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধার করতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে নালিশী সম্পত্তি তার দখলে ছিল এবং উক্ত সম্পত্তি হতে তাকে গত ৬ মাসের মধ্যে জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে। এই ধারায় স্বত্ব প্রমাণ বা স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তথাপিও পক্ষ চাইলে উত্থাপন করতে পারেন।
৭০.
তামাদি আইনের ২৩ ধারায় বিষয় হচ্ছে-
  1. অবিরাম চুক্তি ভঙ্গের ফল
  2. দায় স্বীকারের ফল
  3. অবিরাম অন্যায়ের ফল
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী অবিরামভাবে চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহুর্তে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। এছাড়াও অবিরাম ভাবে অন্যায় করা হলে অন্যায়ের প্রতি মুহুর্তে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে
৭১.
দেওয়ানী মামলার আরজি সমর্থিত হতে হবে-
  1. হলফনামা দ্বারা
  2. সত্যপাঠ দ্বারা
  3. এফিডেভিট দ্বারা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ আদেশ-বিধি ১৫ মতে- দেওয়ানি মামলার আরজি সমর্থিত হতে হবে সত্যপাঠ দ্বারা। সত্যপাঠে প্লিডিংস এর অনুচ্ছেদ সংখ্যা উল্লেখ থাকে, সম্পাদনকারীর স্বাক্ষর থাকে এবং সম্পাদনের তারিখ ও স্থান উল্লেখ থাকে। সত্যপাঠ করেন সাধারণত পক্ষ বা পক্ষগণের একজন।
৭২.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর কত ধারা অনুযায়ী শোনা সাক্ষ্য ( Hearsay Evidence) সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য না?
  1. ধারা ৫৯
  2. ধারা ৬০
  3. ধারা ৬১
  4. ধারা ৬২
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে- মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে ( oral evidence must be direct)। অথাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
৭৩.
কেস ডায়েরী কে তৈরী করেন?
  1. আমলী আদালত
  2. তদন্ত কর্মকর্তা
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. বিচারিক আদালত
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির  ১৭২ ধারা অনুযায়ী, প্রতিদিনের তদন্তের অগ্রগিত পুলিশ যে ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করেন তাকে পুলিশ ডায়েরী বলা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বা পুলিশ ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করেন- প্রতিদিনের তদন্তের অগ্রগিত, কখন তদন্ত আরম্ভ ও শেষ করলেন, কোন স্থান পরিদর্শন করেছেন ইত্যাদি সহ তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম।
৭৪.
কোন ধারায় চুক্তি ভঙ্গের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের বিকল্প হিসাবে বা অতিরিক্ত হিসাবে ক্ষতিপূরণও চাওয়া যায়?
  1. ১৮ ধারা
  2. ২২ ধারা
  3. ২৭ ধারা
  4. ১৯ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা করেছে সে উক্ত চুক্তি ভঙ্গের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের বিকল্প হিসাবে বা অতিরিক্ত হিসাবে ক্ষতিপূরণও চাইতে পারে।
৭৫.
নিম্নে সাক্ষ্য গ্রহণের কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. জেরা, জবানবন্দি, পুনঃজবানবন্দি
  2. জবানবন্দি, পুনঃজবানবন্দি, জেরা
  3. জেরা, পুনঃজবানবন্দি, জবানবন্দি
  4. জবানবন্দি, জেরা, পুনঃজবানবন্দি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ মতে- প্রথমে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হবে। তারপর (বিরুদ্ধপক্ষ ইচ্ছা করলে) সাক্ষীকে জেরা করবে, তারপর (সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ ইচ্ছা করলে) পুনঃজবানবন্দী গ্রহণ করাতে পারবে। সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ও জেরা প্রাসঙ্গিক সম্পর্কে হতে হবে। কিন্তু সাক্ষী তার জবানবন্দীতে যে সকল বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কেবল সেই সকল বিষয়েই জেরা করা চলবে, এমন নয়। জেরা প্রসঙ্গে সাক্ষী যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করেন, পুনঃজবানবন্দীতে সেইগুলির ব্যাখ্যা চাইতে হবে, পুনঃজবানবন্দী গ্রহণের সময় যদি আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন নতুন বিষয়ের অবতারণা করা হয়, তবে বিরুদ্ধপক্ষ সেই সকল বিষয়ে আরও জেরা করতে পারবে।

অর্থাৎ জবানবন্দী- জেরা- পুনঃজবানবন্দি।
৭৬.
কতিপয় বাদীর মধ্যে হতে যে কোন একজন বা একাধিকজন সকলের পক্ষে মোকদ্দমা পরিচালনা করতে অনুমতি লাগবে-
  1. আদালতের
  2. বাদীগণের
  3. বিবাদীর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশ-১২ বিধি অনুযায়ী একাধিক বাদী থাকলে তাদের পক্ষে যেকোন একজন বাদীদের লিখিত সম্মতি নিয়ে সকলের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। এই লিখিত সম্মতি আদালতে জমা দিতে হবে এবং ১ আদেশ-১২ বিধি অনুযায়ী আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
এক্ষেত্রে ১ আদেশের ৮ বাদী অনুযায়ী নিজ খরচে
১) ব্যক্তিগত জারির মাধ্যমে বা
২) গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকলকে নোটিশ প্রদান করবেন। 
৭৭.
ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্তকার্য সম্পন্ন করার বিধানটি-
  1. নির্দেশনামূলক
  2. বিচার-বিবেচনামূলক
  3. বাধ্যতামূলক
  4. নিষেধাজ্ঞামূলক
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৬৭ অনুযায়ী- পুলিশের তদন্তের সর্বোচ্চ সময় হচ্ছে ১২০ দিন। ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য সকল অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন এবং দায়রা আদালত মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধসহ সকল ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন।

♦উল্লেখ্য ফৌজদারী কার্যবিধির এ বিধানটি আদালতের প্রতি নির্দেশনামূলক, বাধ্যতামূলক নয়
৭৮.
হলফনামায় মিথ্যা বিবৃতি দিলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে?
  1. ২ বৎসর পর্যন্ত করাদন্ড
  2. ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড
  3. ১ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড
  4. ৩০০০ টাকা অর্থদন্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৮১ ধারা অনুযায়ী, হলফ বা শপথনামায় মিথ্যা বিবৃতি দিলে তার শাস্তি হতে পারে ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৭৯.
কোন ক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার
  2. দলিল বাতিলের মামলা
  3. রিসিভার নিয়োগ
  4. দলিল সংশোধন
ব্যাখ্যা
♦ আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে:
১) চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
২) দলিল সংশোধন
৩) দলিল বাতিল
৪) ঘোষণামূলক প্রতিকার
৫) রিসিভার নিয়োগ
৬) নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
কিন্তু সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
৮০.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারীদের কোন প্রাসঙ্গিক কাজ সাক্ষ্য হিসেবে কত ধারা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য?
  1. ৮ ধারা
  2. ১০ ধারা
  3. ৬ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারীদের কোন কাজ প্রাসঙ্গিক হবে সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী। উল্লেখ্য, কোন ঘটনার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক হবে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী।
 
♦ অর্থাৎ
সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠনের জন্য ষড়যন্ত্র করে এবং সেই (Common design) অভিন্ন অভিপ্রায়ের লক্ষে, (Conspirator) ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা কোন কিছু করা, বলা বা লেখা হলে সেগুলো ষড়যন্ত্র এবং অভিন্ন অভিপ্রায় প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে।
৮১.
‘ক', 'খ'-কে একটি দেওয়ানি মামলা পরিচালনা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে ‘খ’- এর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখায়; ‘ক’এর অপরাধ কী?
  1. ঘরে আগুন দেয়া
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. অনিষ্ট সাধন
  4. ভয় দেখানো
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৩  মতে- দেহের, সম্পত্তির বা সুনামের ক্ষতি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোন ব্যক্তির দেহের বা সুনামের ক্ষতির ভয় দেখালে তা অরাধজনক ভীতি প্রদর্শন হিসাবে পরিগণিত হবে।
৮২.
রেস সাবজুডিস ও রেস জুডিকাটার মধ্যে সাদৃশ্য কোনটি-
  1. উভয় ক্ষেত্রে মামলা একই আদালতে দায়ের হবে
  2. উভয় ক্ষেত্রে মামলার বিষয়বস্তু একই থাকবে
  3. প্রথম ক্ষেত্রে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে
  4. প্রথম মামলাটি বিচারাধীন থাকবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১০ ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে বিচারাধীন কোন মামলা অন্য কোন আদালতে নতুন করে একই বিষয় নিয়ে মামলা করা যাবে না।

♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১১ ধারা অনুযায়ী একই পক্ষগনের মধ্যে কোন বিষয়ে একবার বিচার নিষ্পত্তি হলে উক্ত বিষয়ে পুনরায় মামলা করা যাবে না।

♦ রেস সাবজুডিস ও রেস জুডিকাটার মধ্যে সাদৃশ্য হলো- উভয় ক্ষেত্রে মামলার বিষয়বস্তু একই থাকবে।