পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
Exam - 11 Subject: বাংলা ব্যাকরণ Topic: ধ্বনি, শব্দ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ, শব্দ ও পদের গঠন, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ। বাগ্‌ধারা ও প্রবাদ-প্রবচন, বিপরীতার্থক শব্দ, শব্দার্থ/ প্রতিশব্দ, শব্দজোড় (সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ), উপসর্গ, অনুসর্গ, বানান ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
কোনটি উষ্মধ্বনি?
ব্যাখ্যা

• উষ্মধ্বনি:
- "শ, ষ, স, হ "এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি।
- এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- নাসিক্য ধ্বনি: ঞ;
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনি: ম;
- তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি: য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি? 
  1. শ্চ
  2. ল্ফ
  3. ষ্ট
  4. ব্ধ 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

.
অনুসর্গ এক প্রকারের - 
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিভক্তি
  4. শব্দ বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালো করে তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয় 
  2. বলক 
  3. নির্দেশক 
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
​- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যে সব শব্দাংশ যুক্ত থাকতে সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
​- 
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
​- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

​​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

.
'প্রথম >পরথম'কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিত
  2. স্বরভক্তি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরলোপ
ব্যাখ্যা

 মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, প্রথম >পরথম
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. খোয়াব
  2. আলিশান 
  3. গ্রেফতার
  4. আসমান
ব্যাখ্যা

• আলিশান আরবি ভাষা।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

​উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'শুভ্র' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. দুর্গন্ধ
  2. অস্বস্তি
  3. কৃষ্ণ
  4. পানি
ব্যাখ্যা

• 'শুভ্র' শব্দের অর্থ: সাদা, শ্বেত।
​• কৃষ্ণ শব্দের অর্থ: কালো।
• ​শুভ্র এর বিপরীত শব্দ  কৃষ্ণ।


​গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- ‘হর্ষ’ শব্দের বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
- ‘সচেষ্ট’ শব্দের বিপরীত শব্দ - নিচেষ্ট।
- ‘আকুঞ্চন’ শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- ‘আবির্ভাব’ শব্দের বিপরীত শব্দ - তিরোভাব।
- ‘অনন্ত’ শব্দের বিপরীত শব্দ - সান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি মেঘের সমার্থক শব্দ নয়? 
  1. বলাহক
  2. জীমূত
  3. বারিদ
  4. জলধি
ব্যাখ্যা

• জলধি শব্দের অর্থ সমুদ্র।
- ​সুতরাং ‘মেঘ’ এর সমার্থক শব্দ নয়- জলধি।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধর, জীমূত, বারিদ, নীরদ, বলাহক, পয়োদ, ঘন, তোয়দ, পয়োধর, বলাহক, তোয়ধর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমুদ্র শব্দের সমার্থক শব্দ:
সাগর, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধুই, বারিধি, বারীশ, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, তোয়নিধি, বারীশ, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার, পয়োনিধি, জলধর, অম্বুনিধি, বারীন্দ্র ইত্যাদি।

​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
গঠন বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

বাংলা শব্দভান্ডারকে বিভিন্ন বিবেচনায় ভাগ করা যায়। যথা:
- গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই প্রকার: মৌলিক ও সাধিত শব্দ।
-  উৎস বিবেচনায় শব্দ চার প্রকার: তৎসম শব্দ, তদ্ভব শব্দ, দেশি শব্দ ও বিদেশি শব্দ।
- পদ বিবেচনায় শব্দ আট প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১০.
'জ্বলজ্বল' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. আকাঙ্খা
  2. বিভূতিভূষণ
  3. অভিভুত
  4. শশীভূষণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'বিভূতিভূষণ'।
​- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বিভূতি+ভূষণ।
এর অর্থ:
- ভস্ম যার অঙ্গের ভূষণ; শিব, ভস্মরূপ অলংকার।

​অন্যদিকে,
- ​অশুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্খা।
- ​শুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্ক্ষা।

​- ​অশুদ্ধ শব্দ: অভিভুত।
- ​শুদ্ধ শব্দ: অভিভূত।

​- ​অশুদ্ধ শব্দ: শশীভূষণ।
- ​শুদ্ধ শব্দ: শশিভূষণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. শ্রীমতী
  2. রূপবতী
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. বর্ষীয়সী
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক সংস্কৃত শব্দ:
সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ইনী / - নী প্রত্যয় যোগ করে: দুঃখী-দুঃখিনী, শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী।
- বতী, -মতী, -ঈয়সী প্রত্যয় যোগ করে:
- বতী: গুণবান-গুণবতী, ধনবান-ধনবতী, ভাগ্যবান-ভাগবতী, রূপবান-রূপবতী।
- মতী: আয়ুষ্মান-আয়ুষ্মতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।
- ঈয়সী: গরীয়ান- গরীয়সী, বর্ষীয়ান-বর্ষীয়সী, মহীয়ান-মহীয়সী।

​​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩.
মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: মৌলিক স্বরধ্বনি ও মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি।

​মৌলিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি:
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১৪.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. কিরীট 
  2. জাজ্জ্বল্যমান
  3. নিষ্পৃহ 
  4. প্রাঙ্গন 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'কিরীট'।
• 'কিরীট':
- মুকুট, শিরোভূষণ।

অন্যদিকে,
- প্রাঙ্গন - প্রাঙ্গণ (উঠান);
- নিষ্পৃহ - নিস্পৃহ (বাসনাহীন);
- জাজ্জ্বল্যমান - জাজ্বল্যমান(অতিশয় উজ্জ্বল, সুস্পষ্ট)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. নাক
  2. পরিচালক
  3. গরমিল
  4. চলন্ত
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ: 
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- চাঁদ, গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।
​ 
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, বন্ধুত্ব, প্রশাসন, দায়িত্ব, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১৬.
'পর্ণ' শব্দের সমার্থক শব্দ-
  1. শান্ত
  2. বিশুদ্ধ
  3. পান
  4. শাপলার ফুল 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- পর্ণ শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা ইত্যাদি।

• আরো কিছু শব্দার্থ:
- 'আফতাব' শব্দের অর্থ - সূর্য।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর।
- চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর।
- পর্ণমোচী শব্দের অর্থ - পত্রঝরা; পত্রমোচী।
- 'সলিল' শব্দের অর্থ - 'জল'।
- 'খগ' শব্দের অর্থ - পাখি।
- ‘সওগাত’ শব্দের অর্থ - উপঢৌকন; উপহার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. চার প্রকার
  2. পাঁচ প্রকার
  3. ছয় প্রকার
  4. আট প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১৮.
'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. ভাবনাচিন্তাহীন
  2. তোষামোদকারী
  3. তুচ্ছ ব্যাক্তি
  4. সীমাবন্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

 • 'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারা অর্থ - সীমাবন্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

উল্লেখ্য,
- কেউকেটা - তুচ্ছ ব্যক্তি।
- খয়ের খাঁ - তোষামোদকারী।
- খোদার খাসি - ভাবনাচিন্তাহীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নিচের কোনটি সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. অতিমানব 
  2. ইতিকথা
  3. পাতিলেবু
  4. হাভাতে
ব্যাখ্যা

উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০.
'গুরুভার' অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. জগদ্দল পাথর
  3. টুপ ভুজঙ্গ
  4. গাছপাথর
ব্যাখ্যা

• 'জগদ্দল পাথর' বাগধারাটির অর্থ = 'গুরুভার'।

অন্যদিকে,
- 'গাছপাথর' বাগধারাটির অর্থ = হিসাবনিকাশ
- 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ = ভুমিকা
- 'টুপ ভুজঙ্গ' বাগধারাটির অর্থ = নেশাগ্রস্ত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'নীর' ও 'নীড়' শব্দের অর্থ যথাক্রমে-
  1. পাখির বাসা ও আবাস
  2. পানি ও পাখির বাসা
  3. নীলাভ বর্ণ ও আবাস
  4. আকাশ ও আবাস
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নীর'
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: পানি, জল, রস।
​ 
• নীড় (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [নি+√ঈড়্‌+অ]
অর্থ: পাখির বাসা, কুলায়

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
ফুলের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নলিনী
  2. শিরোজ
  3. প্রসূন
  4. তামরস
ব্যাখ্যা

• 'ফুল' শব্দের প্রতিশব্দ - পুষ্প, কুসুম, প্রসূন

অন্যদিকে,
- 'পরাগ' শব্দের প্রতিশব্দ: ফুলের রেণু, পুষ্পরজ, রেণু, গন্ধদ্রব্যচূর্ণ ইত্যাদি।
- 'চুল' শব্দের প্রতিশব্দ: কুন্তল, অলক, কেশপাম, কেশদাম, চুল, কচ, শিরোজ, শিবসিজ, চিকুর ইত্যাদি।
- 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:- তামরস, নলিনী, উৎপল, কমল, শতদল, সরসিজ,পঙ্কজ, সরোজ, অরবিন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৩.
কোনটি  বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. শরীর > শরীল
  4. কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- লাল > নাল,
- শরীর > শরীল

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: কবাট > কপাট।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪.
'মনীষা' এর বিপরীতার্থক শব্দ-
  1. নির্বোধ
  2. চাপল্য
  3. অসংযত
  4. কুটিল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
​• 'মনীষা' এর বিপরীতার্থক শব্দ- 'নির্বোধ'। 

- 'মনীষা' শব্দের অর্থ- প্রজ্ঞা; তীক্ষ্ণবুদ্ধি; প্রতিভা।
- 'নির্বোধ' শব্দের অর্থ- বোধহীন; অজ্ঞান; মূর্খ; ‍বুদ্ধিশূন্য।

অন্যদিকে,
- 'সরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কুটিল/জটিল/বক্র।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসংযত।
- ‘গাম্ভীর্য’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - চাপল্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫.
'অপরিষ্কৃত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপোরিশকৃতো
  2. অপোরিশকৃত
  3. অপরিশকৃতো
  4. অপোরিসকৃতো
ব্যাখ্যা

• 'অপরিষ্কৃত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ অপোরিশকৃতো। 
​ 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
'তামার বিষ' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা
  2. অর্থের কুপ্রভাব
  3. পারিবারিক কুশিক্ষা
  4. কঠিন পরিক্ষা 
ব্যাখ্যা

- 'তামার বিষ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অর্থের কুপ্রভাব।

• গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
-​ ‘অহিনকুল সম্পর্ক’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ভীষণ শত্রুতা।
- ‘দা-কুমড়া সম্বন্ধ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - শত্রুতা।
- 'অগ্নিশর্মা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ক্ষিপ্ত।
- 'অগ্নিপরীক্ষা' বাগ্‌ধারার অর্থ - কঠিন পরিক্ষা।
- 'তামার বিষ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অর্থের কুপ্রভাব।
- 'তাসের ঘর' বাগ্‌ধারার অর্থ - ক্ষণস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী ঘর।

​​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
'কুক্ষিগত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কুক্‌খিগোত
  2. কুক্‌খিগতো
  3. কুক্‌খিগত
  4. কুক্‌খিগোতো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ​'কুক্ষিগত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কুক্‌খিগতো। 




​উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।