পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ৮ টপিক: সমাস - দ্বিগু, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব ও অন্যান্য সমাস [লাইভ ক্লাস - ১৩ ও ১৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
বিভক্তিযুক্ত একটি পদের সাথে অন্য এক বিভক্তিযুক্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে কী বলে?
  1. নিত্য সমাস
  2. সুপসুপা সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা সমাস
ব্যাখ্যা
সুপসুপা সমাস: 
- বিভক্তিযুক্ত একটি পদের সাথে অন্য এক বিভক্তিযুক্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে সুপসুপা সমাস বলে।

সুপসুপা সমাসের উদাহরণ:
রাত্রির মধ্য = মধ্যরাত, 
রাত্রির পূর্ব = পূর্বরাত, 
পর রাত্র = পররাত্র, 
পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'দ্বিগু সমাস' এর ক্ষেত্রে কোনটি শুদ্ধ?
  1. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে
  2. পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়
  3. সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার/সমষ্টি বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মন্তব্য করেন?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস: 
- দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন।

এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি।
যথা: 
- দ্বন্দ্ব সমাস, 
- তৎপুরুষ সমাস,
- বহুব্রীহি সমাস ও
- অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।।
.
"প্রাদি সমাস" কীভাবে গঠিত হয়?
  1. কেবল কৃৎ প্রত্যয় সহযোগে
  2. সংখ্যাবাচক শব্দ সহযোগে
  3. অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
  4. বিশেষ্য এবং বিশেষণ সহযোগে
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস: 
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন, 
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
অব্যয়ীভাব সমাসের ক্ষেত্রে পূর্বপদে কী থাকে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  
- তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস।
- এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'যথাসাধ্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. দ্বিগু
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস কোন সমাসের রূপান্তর?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি', 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত,
- পরি যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস তৎপুরুষ সমাসের রূপান্তর।

• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, প্রাদি সমাস অব্যয়ীভাব সমাসের অন্য নাম।

• ড. হায়াৎ মামুদের মতে, তৎপুরুষ, নিত্য সমাস ও অব্যয়ীভাব - এর সঙ্গে প্রাদি সমাসের সম্পর্ক দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিম্নের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস নয়?
  1. বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন
  2. ঈষৎ নত = আনত
  3. কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র
  4. মরণ পর্যন্ত = আমরণ
সঠিক উত্তর:
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

অন্যিদিকে,
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র- নিত্য সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. নগরীর সমীপে = উপনগরী
  2. অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
  3. অক্ষির সমীপে = সমক্ষ
  4. ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
→ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
→ কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
→ অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
→ (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
→ তুমি আমি ও সে = আমরা,
→ দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
"নগরীর সমীপে = উপনগরী;
অক্ষির সমীপে = সমক্ষ;
ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ" অপশনগুলো অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'যথারীতি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. রীতির সহিত
  2. রীতির সহিত বর্তমান
  3. রীতিকে অতিক্রম না করে
  4. যথার রীতি
সঠিক উত্তর:
রীতিকে অতিক্রম না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রীতিকে অতিক্রম না করে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
"ভূতপূর্ব" শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. সুপসুপা
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা
ব্যাখ্যা
• সুপসুপা সমাস: 
- বিভক্তিযুক্ত একটি পদের সাথে অন্য এক বিভক্তিযুক্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে সুপসুপা সমাস বলে।

সুপসুপা সমাসের উদাহরণ:
• রাত্রির মধ্য = মধ্যরাত, 
• রাত্রির পূর্ব = পূর্বরাত, 
• পর রাত্র = পররাত্র, 
• পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
"তিন মাথার সমাহার" এর সঠিক সমস্ত পদ কোনটি?
  1. ত্রিমাথা
  2. ত্রিমাথিত
  3. তেমাথা
  4. ত্রিমাথী
সঠিক উত্তর:
তেমাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেমাথা
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'উপকণ্ঠ' - শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কণ্ঠ পর্যন্ত
  2. কণ্ঠের সমীপে
  3. কণ্ঠের সদৃশ
  4. উপ যে কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠের সমীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠের সমীপে
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস: 
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

সামীপ্য (উপ) অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
কূলের সমীপে = উপকূল,
নগরীর সমীপে = উপনগরী,
শহরের সমীপে = উপশহর,
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সমাসবদ্ধ শব্দ ‘নিরামিষ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
প্রাদি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অনুগমন
  2. পরিভ্রমণ
  3. উপবন
  4. আপাদমস্তক
সঠিক উত্তর:
পরিভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিভ্রমণ
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = অনুগমন।
- সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = উপবন।
- পর্যন্ত অর্থে - অব্যয়ীভাব সমাস = আপাদমস্তক ( পা থেকে মাথা পর্যন্ত)।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
কোনটি ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপকূল
  2. উপশহর
  3. আরক্তিম
  4. অনুধাবন
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
ব্যাখ্যা
• 'ঈষৎ (আ)' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- আনত = ঈষৎ নত,
- আরক্তিম = ঈষৎ রক্তিম।
----------------------------- 
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

• সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

অন্যদিকে,
• সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

• পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে: 
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।