পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১: বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
  2. গিরী + ঈশ = গিরীশ
  3. অভি + ইপ্সা = অভীপ্সা
  4. ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
ব্যাখ্যা
⇒ সন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• ই + ই = ঈ (ঈ-তে রূপান্তর):
⇒ অতি + ইত = অতীত;
⇒ অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট;
⇒ প্রতি + ইতি = প্রতীতি;
⇒ অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• ই + ঈ = ঈ (ই-ধ্বনির লোপ):
⇒ গিরি + ঈশ = গিরীশ;
⇒ ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ;
⇒ অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর;
⇒ অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘সারঙ্গ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হাতি
  2. সিংহ
  3. ঘোড়া
  4. হরিণ
সঠিক উত্তর:
হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণ
ব্যাখ্যা
⇒ 'হরিণ' এর সমার্থক শব্দ: মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ।
• ‘অশ্ব’ এর সমর্থক শব্দ: বাহ, ঘোড়া, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
‘রোগ হলে ওষুধ খাবে।’- বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
⇒ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন- অয়ন গোসল করবে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ যথা:
১. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল,
২. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল,
৩. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল,
৪. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা।

⇒ ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়গুলোর কোনটি ‘পদক্রম’ নামে পরিচিত?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব 
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা: 
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব, 
- বাক্যতত্ত্ব/পদক্রম,
- অর্থতত্ত্ব।

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব:
শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

⇒ বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

⇒ অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ পারস্পারিক সর্বনাম পদ

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:  সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. মহেন্দ্র
  2. সুধীন্দ্র
  3. গবাস্থি
  4. সতীশ
সঠিক উত্তর:
গবাস্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবাস্থি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
- গো + অস্থি = গবাস্থি,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর অন্যান্য।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধি যোগে গঠিত শব্দ গলো:
- মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র;
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘নির্দোষ’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. নঞ্ বহুব্রীহি
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ্ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
‘চক চক করলেই সোনা হয় না।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘চকচক’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের দৃষ্টান্ত?
  1. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• চক চক করলেই সোনা হয় না।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘চকচক’ ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
 
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
‘আমি রোজ আসতাম।’ - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. সাধারণ অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
⇒ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।

[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
- আমি রোজ আসতাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. অঙ্গনা
  2. পুণ্যবতী
  3. তেজস্বিনী
  4. শারি
সঠিক উত্তর:
অঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঙ্গনা
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন- সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

•  নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন— রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-  শুক শব্দের নারীবাচক শব্দ শারি।
- ‘বতী’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ পুণ্যবান- পুণ্যবতী।
- ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ তেজস্বি - তেজস্বিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩.
‘যদিও তিনি ধনী তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. তারা বাড়ি যাবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. অন্যায় কাজ করো না।
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
‘ধ্বনিপ্রধান’ নামে অভিহিত করা হয় কোন ছন্দকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।

• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কত চালে কত ধান।
  2. এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।
  3. যেমন বুনো কচুঁ তেমনি বাঘা তেতুঁল।
  4. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
সঠিক উত্তর:
এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• কত ধানে কত চাল।
• যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেতুঁল।
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. উল্লেখিত
  2. উপরিউক্ত
  3. উপরিস্থিত
  4. উপরন্তু
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: উল্লেখিত।

• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্ + √লিখ্ +ত,
যার অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বোক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
‘আহা! বেচারার কত কষ্ট।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘আহা’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. আবেগ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
⇒ আবেগ শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
‘ভাগ্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অংশু
  2. কপোত
  3. তনয়া
  4. অদৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• ‘ভাগ্য’ এর সমার্থক শব্দ: ললাট, বরাত, ভাল, অদৃষ্ট, ভাগ্য, নিয়তি, নসিব।

অন্যান্য শব্দ গুলোর প্রতিশব্দ হলো:
• ‘কবুতর’ এর সমার্থক শব্দ: কপোত, পায়রা, পারাবত, নোটন।
• ‘কিরণ’ এর সমার্থক শব্দ: অংশু, রশ্মি, প্রভা, দীপ্ত, জ্যোতি, আলোকচ্ছবি , শিখা, কর।
• ‘তনয়া’ এর সমার্থক শব্দ: তনয়া, মেয়ে, দুহিতা, আত্মাজা, নন্দিনী, পুত্রী, ঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
‘Fricative’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উষ্ম
  2. পার্শ্বিক
  3. ওষ্ঠ্য
  4. নাসিক্য
সঠিক উত্তর:
উষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ম
ব্যাখ্যা
• ‘Fricative’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উষ্ম।

অন্যদিকে,
• ‘Lateral’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - পার্শ্বিক।
• ‘Labial’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ওষ্ঠ্য।
• ‘Nasal’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - নাসিক্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
২১.
‘পাতিহাঁস’ শব্দে ব্যবহৃত ‘পাতি’ কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. খাঁটি বাংলা
  3. তৎসম
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘পাতিহাঁস’ শব্দে ছোটো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• যেমন- পাতি+হাঁস = পাতিহাঁস। 

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
‘জোখ’ শব্দের অর্থ কী?
  1. আসক্তি
  2. পরিমাপ
  3. উপায়
  4. গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
পরিমাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিমাপ
ব্যাখ্যা
• জোখ (বিশেষ্য),
- এটি হিন্দি শব্দ।
যার অর্থ:
- পরিমাপ,
- ওজন।

এরূপ,
• জোখা শব্দের অর্থ: 
- ওজন করা,
- পরিমাপ করা হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. কাঁদন
  2. নায়ক
  3. দোলনা
  4. নাচন
সঠিক উত্তর:
নায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নায়ক
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

⇒ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
‘ঢাক ঢাক গুড় গুড়’ বাগধারাটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. সাংঘাতিক ঘটনা
  2. দুর্নাম রটনা
  3. লুকোচুরি
  4. প্রচারণা
সঠিক উত্তর:
লুকোচুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুকোচুরি
ব্যাখ্যা
• ‘ঢাক ঢাক গুড় গুড়’ বাগধারাটির অর্থ - লুকোচুরি।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা হলো:
• ‘ঢাকঢোল পেটানো’ বাগধারাটির অর্থ - প্রচারণা।
• ‘ঢি ঢি পড়া’ বাগধারাটির অর্থ - দুর্নাম রটনা।
• ‘তুলকালাম’ বাগধারাটির অর্থ - হৈ চৈ/ সাংঘাতিক ঘটনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
‘নিবৃত্ত’ শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. বিরত
  2. অপ্রকাশিত
  3. নিরিবিলি
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিরত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• নিবৃত্ত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (নি+√বৃৎ+ত),
অর্থ: বিরত, ক্ষান্ত, সমাপ্ত, প্রত্যাবৃত্ত।

অন্যদিকে,
• নিভৃত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (নি+√ভৃ+ত),
অর্থ: একান্ত, অপ্রকাশিত, গুপ্ত, নিরিবিলি, নির্জন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬.
‘চড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চর + আও
  2. √চড়া + অও
  3. √চড়া + আও
  4. √চড় + আও
সঠিক উত্তর:
√চড় + আও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√চড় + আও
ব্যাখ্যা
⇒ আও-প্রত্যয়:
ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আও’ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √পাকড় + আও = পাকড়াও।
- √চড় + আও = চড়াও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
কোনটি অপনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সত্যি
  2. সত্য > সইত্য
  3. সত্য > সচ্চ
  4. সত্য > সত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ;
- সাধু > সাউধ;
- রাখিয়া > রাইখ্যা;
- বাক্য > বাইক্য;
- সত্য > সইত্য;
- চারি > চাইর;
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম - সত্য > সত্যি।
• অন্যোন্য সমীভবন -  সত্য > সচ্চ।
• প্রগত সমীভবন - সত্য > সত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
‘দিবারাত্র’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ সমার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব,
⇒ অলুক দ্বন্দ্ব,
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব: 
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: 
- অহঃ ও নিশা = অহর্নিশ।
- অহঃ ও রাত্র = অহোরাত্র।
- দিবা ও রাত্রি = দিবারাত্র।
- কুশ ও লব = কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৯.
‘Utterance’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. বিভক্তি
  3. উক্তি
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
উক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক্তি
ব্যাখ্যা
• ‘Utterance’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উক্তি/বচন।

অন্যদিকে,
• ‘Prepositional prefix / prefix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উপসর্গ।
• ‘Case Suffix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - বিভক্তি।
• ‘Case’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কারক। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৩০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. পশ্চার্ধ
  2. অবিন্ধন
  3. অজন্ত
  4. অবগ্নি
সঠিক উত্তর:
পশ্চার্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চার্ধ
ব্যাখ্যা
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• আ + চর্য = আশ্চর্য।
•  গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অহর্নিশ
  2. নিষ্পাপী
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
নিষ্পাপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্পাপী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিষ্পাপী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিষ্পাপ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।