পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 14” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয়: ভূগোল ও নৈতিকতা (রিভিশন) সিলেবাস: i) ভূগোল ও দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা (সম্পূর্ণ); ii) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (সম্পূর্ণ)। উৎস: অষ্টম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কোথায় অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. আরব সাগরে
  3. প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল: 
- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হলো আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি বিশেষ অঞ্চল।
- এর এক কোণে বারমুডা দ্বীপ আর অন্য দুই প্রান্তে মায়ামি বিচ ও পুয়ের্তে রিকোর সান জুয়ান।
- সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাঁচটি টিভিএম অ্যাভেঞ্জার উড়োজাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। সেই থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য কথাটার চল। এরপরও বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ সেখানে নিখোঁজ হয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো।

.
পামির মালভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. পূর্ব ইউরোপে
  2. দক্ষিণ আমেরিকায়
  3. উত্তর আফ্রিকায়
  4. মধ্য এশিয়ায়
ব্যাখ্যা

পামির মালভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- 'পামির মালভূমি' মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

.
দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. এপ্রিল
  4. জুলাই
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere) পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও, এই গোলার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশসহ কিছু অঞ্চল রয়েছে।
- এখানকার ঋতু ও জলবায়ু উত্তর গোলার্ধের থেকে ভিন্ন।
- প্রতি বছর ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা ডটকম।

.
ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান কোনটি?
  1. ভিনসন ম্যাফিস
  2. কিলিমানজারো
  3. এলব্রুস পর্বত
  4. মাউন্ট এলব্রুস
ব্যাখ্যা

⇒ ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান - মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus)।

মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus):
- মাউন্ট এলব্রুস ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যা দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি নিঃশেষিত আগ্নেয়গিরি।
- আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছিল।
- এর পূর্ব ঢালে এখনো সালফারযুক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
- মাউন্ট এলব্রুসের ৫৩ বর্গমাইল (১৩৮ বর্গ কিমি) এলাকা জুড়ে ২২টি হিমবাহ রয়েছে।
- এই হিমবাহগুলো থেকে কুবান নদী এবং তেরেক নদীর উপনদীগুলো পানি সরবরাহ পায়।
- এটি ককেশাস অঞ্চলের পর্বতারোহণ এবং পর্যটনের একটি প্রধান কেন্দ্র।

এছাড়াও, বিভিন্ন মহাদেশের উচ্চতম স্থান:
- এশিয়া মহাদেশ - মাউন্ট এভারেস্ট।
- আফ্রিকা মহাদেশ - কিলিমানজারো।
- উত্তর আমেরিকা - দেনালি।
- দক্ষিণ আমেরিকা - আকানকাগুয়া পর্বত।
- ওশেনিয়া মহাদেশ - পুঞ্জাক জায়া।
- অ্যান্টার্কটিকা - ভিনসন ম্যাফিস।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

.
'শ্লেট' কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2.  আগ্নেয় শিলা
  3. মিশ্র শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
→ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
→ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
→ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
→ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
→ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করা
  2. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
  4. ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
ব্যাখ্যা

- ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দুর নাম কী?
  1. ভিনসন হ্যাসিও
  2. অ্যাপেলেশিয়ান
  3. ভিনসন ম্যাসিফ
  4. মাউন্ট ইরেবাস
ব্যাখ্যা

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ:
- অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবস্থিত একটি বিরল এবং শীতল মহাদেশ।
- এটি পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ এবং প্রায় পুরোপুরি বরফে ঢাকা।
- এর আয়তন ১,৪২,০০,০০০ বর্গ কি.মি.।
- অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়া অত্যন্ত শীতল, গড় তাপমাত্রা -২০°C থেকে -৫০°C এর মধ্যে থাকে।
- এখানে মানব বসতি নেই, তবে বিভিন্ন দেশের গবেষণা স্টেশনগুলো থাকে যেখানে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য এবং অন্যান্য পরিবেশগত বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন।
- বিশ্বের প্রায় ৭০% স্বাদু পানির রিজার্ভ সেখানে হিমায়িত রয়েছে।

-  অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ বিন্দু হলো ভিনসন মাসিফ (Vinson Massif)।
- এটি অ্যান্টার্কটিকার পেনিনসুলা অঞ্চলে অবস্থিত।
- ভিনসন মাসিফ একটি পর্বতশৃঙ্গ এবং এটি অ্যান্টার্কটিকার একমাত্র পর্বতশৃঙ্গ যা ৪,৮০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার।
- সর্বনিম্ন বিন্দু: বেন্টলে স্যাবগ্লাসিয়াল।
- এখানকার প্রাণীকুলে পেঙ্গুইন, সিল, নরওয়েসহ নানা ধরনের শীতকালীন জীবের বাসস্থান রয়েছে।
- এ মহাদেশের প্রধান সম্পদ: পাথর।
- অ্যান্টার্কটিকার উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং সেখানে সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

উৎস: World Atlas.

.
নিম্নের কোন জেলায় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি দেখা যায়?
  1. সিলেট
  2. খাগড়াছড়ি
  3. দিনাজপুর
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

অন্যদিকে,
⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

⇒ স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি?
  1. পোপো আগ্নেয়গিরি
  2. ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
  3. ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
  4. স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ:
পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি

ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- যেমন: স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি।

খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে।
- যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি।

গ. মৃত আগ্নেয়গিরি:
- পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
মহাদেশীয় ভূত্বকের স্তরকে কি বলে?
  1. সিয়াল
  2. ভূত্বক
  3. সিমা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সিয়াল (Sial) স্তর: সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- সিমা (Sima) স্তর: এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১১.
৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে কী বলে?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. মকরক্রান্তি
  3. কর্কটক্রান্তি
  4. সুমেরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা

অক্ষাংশ:
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে কর্কটক্রান্তি বলে।
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলে সুমেরুবৃত্ত এবং
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে কুমেরুবৃত্ত।
- বিষুবরেখাকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১২.
'নরওয়েস্টার' বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. কালবৈশাখী
  3. ঝড়ো বাতাস
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড়: 
- কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- তীব্র গতি সম্পন্ন কালবৈশাখী ঝড় দেশের প্রচুর ক্ষতি করে।
- দেশে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বজ্রঝড় হয়।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, সব কালবৈশাখীই বজ্রঝড়।
- কিন্তু সব বজ্রঝড় কালবৈশাখী নয়।
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত যেসব বজ্রঝড় হয় সেগুলো আসলে কালবৈশাখী।
- এর ইংরেজি প্রতিশব্দের সঙ্গে মিলিয়ে বলা যায়, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা বায়ুর কারণে এই ঝড়বৃষ্টি হয়।
- তাই একে ইংরেজিতে ‘নরওয়েস্টার’ বলে।
- বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত কালবৈশাখীর দ্বারা সংঘটিত হয়।
-গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত ধান, পাট ও আখ চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

১৩.
 নিম্নের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. বাষ্পীভবনের তারতম্য
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. পৃথিবীর আবর্তন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের কততম দীর্ঘতম সীমান্ত?
  1. ৫ম
  2. ৪র্থ
  3. ৩য়
  4. ২য়
ব্যাখ্যা

​ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত:
​- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা বিশ্বের ৫ম দীর্ঘতম সীমান্ত।
​- সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ৪১৪২ কিলোমিটার।

​পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
১. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
২. কাজাকিস্তান ও রাশিয়া: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
৩. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
৪. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
৫. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমান্ত হলো স্পেন এবং মরক্কো।

উৎস: World Atlas.

১৫.
বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড়ের নাম কী?
  1. সীতাকুণ্ড পাহাড়
  2. কুলাউড়া পাহাড়
  3. গারো পাহাড়
  4. লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় গারো পাহাড়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- নদীটির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় নকরেক অঞ্চলে, পরবর্তীতে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয়, যা বান্দরবানে অবস্থিত এবং উচ্চতা ১২৩১ মিটার।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত এবং যা হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬.
সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। - সুশাসন সম্পর্কে এই অভিমত প্রকাশ করেন - 
  1. মারটিন মিনোগ
  2. মিশেল ক্যামডেসাস
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. উপরের কেউ নন 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৭.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. হেরাক্লিটাস
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium
- Apologia Socrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।

১৮.
নৈতিকতার উৎপত্তি ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ থেকে এসেছে— কে এই মত দেন?
  1. সক্রেটিস
  2. জোনাথান হেইট
  3. জন রলস
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৯.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  2. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২০.
“সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে”— কে বলেছেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. জেফ্রি স্যাচস
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২১.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. দারিদ্র্য বিমোচন
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।'

- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল- 
(i) দায়িত্বশীলতা 
(ii) স্বচ্ছতা 
(iii) আইনী কাঠামো ও 
(iv) অংশগ্রহণ।  

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।

২২.
'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা - 
  1. পিটার সিঙ্গার
  2. হাইডেগার
  3. কিয়ের্কেগার্ড
  4. হেগেল
ব্যাখ্যা

- 'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

২৩.
'সৃষ্টিরহস্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. আহমদ শরীফ
  3. হুমায়ূন আজাদ
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও স্বশিক্ষিত দার্শনিক।
- তিনি ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর, তিনি নিজ প্রচেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি একটি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
- তাঁর রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১ চৈত্র বরিশালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৪.
কোনটির মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. আইন প্রয়োগ
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৫.
সুশাসন দ্বারা শাসনের কোন দিকটি বুঝায়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

সুশাসন:
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
কোনটিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ বলা হয়?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. জনপ্রশাসন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।

সুশাসনের ধারণা:
- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

গণতন্ত্র:
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৭.
কোন শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতি, প্রথা ও আদর্শের বিকাশ ঘটে?
  1. প্রযুক্তি শিক্ষা
  2. বিজ্ঞান শিক্ষা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. সুশাসন শিক্ষা 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৮.
মূল্যবোধ কাকে বলা হয়?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. কেবল রাষ্ট্রীয় আইন
  4. ব্যক্তিগত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।