পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: বাংলায় স্বাধীন সুলতানী আমল আফগান শাসন, বাংলায় মোঘল শাসন, নবাবী আমল ও পলাশী যুদ্ধ, উপমহাদেশে মুঘল শাসকগণ-দিল্লি সালতানাত মুঘল সম্রাটদের অবদান, ইতিহাসে ঢাকা নির্মাণ শৈলী ও প্রাচীন নাম। [Live Class - 3 & 4 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. ইরান
  3. উজবেকিস্তান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. মীর তকি
  2. গালিব
  3. ইকবাল
  4. তানসেন
ব্যাখ্যা

→ তানসেনকে 'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয়।

তানসেন:
- তানসেন ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ।
- তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ও সভাকবি ছিলেন।
- তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
- তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- তিনি দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. সিকান্দার শাহ
  3. রুকনউদ্দীন বারবক শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

.
ভারতবর্ষে 'জিজিয়া কর' রহিত করেন কে?
  1. ফারুখসিয়ার
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর ।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

.
কোন শাসককে পরাজিত করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন। 
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বক্সারের যুদ্ধ কোন স্থানে সংঘটিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. বিহার
  3. কানপুর
  4. জয়পুর
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

.
কোন মুঘল সম্রাটের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে?
  1. দ্বিতীয় শাহ আলম
  2. ফারুখসিয়ার
  3. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. শাহ আলম
ব্যাখ্যা

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনাপতি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
  1. কাউন্ট শ্যালী
  2. সিনফ্রে
  3. মার্কুইস সি
  4. দুপ্লেই
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে দিল্লির জামে মসজিদ নির্মিত হয়?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত। 

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
কোন মুঘল সুবেদার লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন?
  1. মীর মানস
  2. শাহ সুজা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসমাইল খান
ব্যাখ্যা

লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত। 
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১১.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন -
  1. ফৌজদার
  2. সুবাহদার
  3. শিকদার
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
বিখ্যাত তারা মসজিদ নির্মাণ করেন -
  1. মির্জা গোলাপ পীর
  2. মির্জা আহমদ খান
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. মির্জা মোহাম্মদ খান
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

১৩.
রাজা মানসিংহ কোন মুঘল সম্রাটের শেষ সুবাদার ছিলেন?
  1. হুমায়ুন
  2. আওরঙ্গজেব
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
রাজা টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মুঘল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মুঘল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব খাজা আহসানউল্লাহ
  2. নওয়াব খাজা আব্দুল গণি
  3. নওয়াব খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. নওয়াব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. বাবর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহর রাজত্বকাল: ১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.।
- তিনি মাত্র পাঁচ বছর বাজত্ব করেন।
- তিনি সামান্য একজন জায়গীদার থেকে নিজ প্রতিভা বলে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।
- মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
- বাংলা, মালব, রাজপুতনা বিজয় তাঁর সামরিক সাফল্যের পরিচয় বহন করে।
- তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে রণকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন।
- শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী ছিল না।
- তিনি জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
- শাসনকাজের সুবিধার্থে তিনি পুরো সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন।
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
ঢাকার শেষ নবাব ছিলেন -
  1. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৮.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন -
  1. মুর্শিদ কুলি খান
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার নাম রাখেন জান্নাতাবাদ?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২০.
নিচের কোন শাসক 'নৃপতি তিলক' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. নাসিরউদ্দীন নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।