পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ১৫: টপিক সমূহ: বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদুল্লা কায়সার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সিকান্দার আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বর্ণকুমারী দেবী, সোমেন চন্দ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি বিবিসি রেডিওতে পাঠ করেন -
  1. জহির রায়হান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক: 
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ এক সময় মানুষের মুখে-মুখে ছিল।
- তাঁর রচিত দুটি কাব্যনাট্য 'নুরলদিনের সারাজীবন' এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' বাংলা নাটকে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। 
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- সৈয়দ শামসুল হকের আঙ্গিক-নিরীক্ষার অন্যতম প্রধান ফসল 'পরানের গহীন ভিতর'।
- তেত্রিশটি সনেটের পরম্পরায় রচিত এই কাব্যটি বাংলাদেশের সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি তিনি দৃপ্তকন্ঠে বিবিসি রেডিওতে পাঠ করে শুনিয়ে সমগ্র বিশ্বের বাঙালি জাতিকে আনন্দে আত্মহারা করে তোলেন। 
- তার দৃঢ়কণ্ঠ সাবলীল উচ্চারণের জন্য তিনি জনসাধারণ্যে পরিচিতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র:
১. বিবিসি বাংলা,
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশে লিখিত প্রথম অপেরা -
  1. বিচিত্রা
  2. স্বপ্নবাণী
  3. বসন্ত উৎসব
  4. মিলনরাত্রী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম ২৮ আগস্ট, ১৮৫৫ সালে। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)।
- এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। দ্বাদশ শতকে দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে আত্মকলহ গৃহবিবাদ ও পররাজ্য দখলের প্রবণতা থেকে সৃষ্ট অনৈক্য এর বিষয়বস্তু। 
- ১৮৭৯ সালে তাঁর রচিত গীতিনাটক 'বসন্ত উৎসব' বাংলায় লিখিত প্রথম অপেরা।
- ৩ জুলাই, ১৯৭২ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4.  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. মৌলিক মুখোশ
  4. একগ্লাস অন্ধকার
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।

• 'উপদ্রুত উপকূল':
- ছাত্রজীবনেই তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- অভিমানের খেয়া,
- আজীবন জন্মের ঘ্রানে,
- বাতাসে লাশের গন্ধ,
- অবরোধ চারিদিকে,
- প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি,
- জানালায় জেগে আছি,
- আমি সেই অভিমান,
- বিষবৃক্ষ ভালোবাসা,
- কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি।

- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
শওকত আলী কোন উপন্যাসের জন্য ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
শওকত আলী
- ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শওকত আলী দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিটি সাহিত্যে পরম মমতায় তুলে এনেছেন নিম্নবর্গের মানুষের উপাখ্যান।
- 'পিঙ্গল আকাশ' তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'। 
- ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস :
- ১.দক্ষিণায়নের দিন,
- ২.কুলায় কালস্রোত,
- ৩.পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- এই ত্রয়ী উপন্যাসের জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

♦ অন্যান্য উপন্যাস :
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- অপেক্ষা,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- ভালোবাসা কারে কয়,
- ওয়ারিশ,
- উত্তরের খেপ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. ডেইলি স্টার বাংলা।  
.
শওকত ওসমানের 'মস্কুইটো ফোন’ একটি -
  1. শিশুতোষ গ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান
- কিংবদন্তী সাহিত্যিক শওকত ওসমানের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়।
- তার পারিবারিক নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- ‘জাতির কথাশিল্পী’ বলা হয় তাকে।
- ১৯৪৯ সালে তিনি রচনা করেন তার প্রথম নাটক ‘আমলার মামলা’। 
- শওকত ওসমানের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। 
- তার শিশুতোষ গ্রন্থ ‘মস্কুইটো ফোন’। 
- ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস ‘জননী’। 
- শওকত ওসমানের মোট উপন্যাসের সংখ্যা ১৫টি।

- তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। 
- মূলত স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস লেখা হয়। যে উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী

♦ শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক  উপন্যাস
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমান চারটি উপন্যাস রচনা করেন। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস), 
- দুই সৈনিক,
- জলাঙ্গী,
- নেকড়ে অরণ্য।

তথ্যসূত্র -
১. ডেইলি স্টার বাংলা,
২. দৈনিক জনকন্ঠ, 
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
৪) বাংলাপিডিয়া।
.
প্রবন্ধ গ্রন্থ 'স্বগত' এর রচয়িতা -
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2.  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
 সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু হয় ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- ভসংবর্ত, 
- দশমী।

প্রবন্ধ গ্রন্থ :
- স্বগত, 
- কুলায় ও কালপুরুষ।

-  প্রতিধ্বনি - তাঁর অনুবাদগ্রন্থ।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই অমর চরণটি তাঁর কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. রানার
  2. দুরাশা মৃত্যু
  3. হে মহাজীবন
  4. আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায়। 
-  তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- মাত্র ৮ কিংবা ৯ বছর বয়সেই "সঞ্চয়" শিরোনামে প্রকাশিত হয় সুকান্তের প্রথম ছোট গল্প।
-  ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কোলকাতায় চিরতরে পৃথিবী থেকে চলে যান সুকান্ত।
- সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। 
- কিংবদন্তী চরণ 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' তাঁর রচিত ‘ছাড়পত্র’ কাব্যের 'হে মহাজীবন' কবিতার একটি লাইন।

- সুকান্ত জীবিত থাকাকালীন তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। 
- ‘ছাড়পত্র’ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ছাড়পত্র, রানার, দুরাশা মৃত্যু, হে মহাজীবন, আঠারো বছর বয়স সহ মোট ৩৮ টি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছে। 
- মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় তার ৮টি কাব্যগ্রন্থ।

- তার রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো -
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল প্রভৃতি। 

উৎস : ১.ডেইলি স্টার বাংলা।
২. প্রথম আলো। 
৩. বাংলাপিডিয়া।
৪) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা সাহিত্যে 'দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব' ধারার প্রচলন করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন
- ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন নোয়াখালী (বর্তমান ফেনী) জেলার সোনাগাজী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রোত্তরকালের বাংলা নাটকের প্রধান পুরুষ সেলিম আল দীন। 
- ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উদ্যোগেই খোলা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। 
- তিনি ১৯৮১-৮২ সালে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মর্ত্যলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে যান অনন্তলোকে।

- সেলিম আল দীন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে এক নতুন নাট্যরীতির প্রচলন করেন।
- পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার করে তিনি এই নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়াও তিনি ফিউশন তত্ত্ব’র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। 

উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- জণ্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসির, শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামত মঙ্গল,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস : ১. যুগান্তর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১০.
'গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ স্মৃতিকথার রচয়িতা -
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যকর্ম: 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রবীন্দ্র-সান্নিধ্য ও শান্তিনিকেতনের জীবনের সব কথা লিপিবদ্ধ আছে তাঁর ‘গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ বইয়ে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়্যাত-ই-ওমর খৈয়ম' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন। 
--------------------- 
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ডেইলি স্টার বাংলা, দৈনিক জনকন্ঠ।
১১.
'ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে' কার রচনা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিম আল দীন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৯ সালে সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তিনি।
- জলোচ্ছ্বাস তাঁর ১ম উপন্যাস।

♦ শিশু-কিশোর সাহিত্য: 
- কুড়কুড়ির মুক্তিযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে,
- যখন বৃষ্টি নামে।

♦ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: 
- জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা,
- হাঙর নদী গ্রেনেড ,
- যুদ্ধ,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা।

♦ ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস: 
- যাপিত জীবন , 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি।

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা।

উৎস : বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. তাঁর আদিনিবাস বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলায়।
  2. তিনি ননসেন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।
  3. 'হ য ব র ল' এবং 'খাই-খাই' তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য।
  4. তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়
- উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে "ননসেন্স ছড়া"র প্রবর্তক। 
- তাঁর জন্ম হয় ৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ সালে কলকাতায়।
- তাঁর আদিনিবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- 'সন্দেশ'পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন তার লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। 
- 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
- প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়বার সময় তিনি ননসেন্স ক্লাব নামে একটি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন। 
- এই ক্লাবের মুখপাত্র সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা পত্রিকাতেই তার আবোল-তাবোল ছড়ার চর্চা শুরু।
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস) আক্রান্ত হয়ে মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন।

রচনাবলি: 
- আবোল তাবোল, 
- পাগলা দাশু, 
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরি, 
- খাই-খাই, 
- অবাক জলপান, 
- লক্ষ্মণের শক্তিশেল, 
- ঝালাপালা ও অনান্য নাটক, 
- হ য ব র ল, 
- শব্দ কল্প দ্রুম ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩.
সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'র মুখবন্ধ লেখেন -
  1. জসীম উদ্দিন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সাঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা/মুখবন্ধ লিখেছিলেন ⎯ কাজী নজরুল ইসলাম।
- উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
 
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।
----------------------- 
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
১৪.
'দেশপ্রেমিক' ও 'বিশ্বকর্মা' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুকুমার রায়
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার
- তার প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা।
- তিনি একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। 
- শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলনে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন তিনি গ্রেফতার হন।
- তিনি ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন৷

- শহীদুল্লা কায়সার সংবাদ পত্রিকায় 'দেশপ্রেমিক' ছদ্মনামে রাজনৈতিক পরিক্রমা এবং 'বিশ্বকর্মা' ছদ্মনামে বিচিত্র কথা এই দুটি কলাম লিখতেন।

- তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং সাহিত্যে ১৯৯৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৪ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে তাঁকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে আইয়ুব সরকার। এরপর তিনি মুক্তি পেলেন ১৯৬২ সালের অক্টোবরে। 
- এই সময় কারাগারে বসেই তিনি লিখেন তাঁর অমর উপন্যাস 'সারেং বৌ', যা কারাগার মুক্তি হওয়ার এক মাস পরে ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে ছাপা হয়।  
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'(১৯৬৫), স্মৃতিকথা 'রাজবন্দীর রোজনামচা'ও  কারাগারে বসেই লিখেছিলেন।  

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ, 
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন, 
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

♦ স্মৃতিকথা: 
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

♦ ভ্রমণকাহিনী: 
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তথ্যসূত্র - প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ওয়েবসাইট।

১৫.
'ছন্দ সরস্বতী’ কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দনাথ দত্ত
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার অদূরে নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফার্সি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তারই।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত পরলোকগমন করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথের ছন্দ-সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ সরস্বতী’ ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাহিত্যে ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে আখ্যায়িত করেন। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন, 
- অভ্র-আবীর, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

♦ অনুবাদ:
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু, 
- ফুলের ফসল ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র - ১. যুগান্তর,
২. বাংলাপিডিয়া।
১৬.
উপমহাদেশের কোন কবি ব্রিটিশ বিরোধিতার কারণে সর্ব-প্রথম কারাবন্দী হন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
-  একজন কবি, কৃষক নেতা ও রাজনীতিবিদ।
-  তার জন্ম ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই বর্তমান সিরাজগঞ্জের বাণীকুঞ্জে। 
-  আধুনিক চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীশিক্ষা আন্দোলন, কৃষক প্রজার দুর্দশামোচন ইত্যাদি বহুমুখী -  কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
-  তিনি হিন্দু-মুসলান সমতা নিয়ে অসংখ্য কাজ করেছেন।
-  ব্রিটিশ সরকার তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৮২ বার ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।
-  ১৯১৯ সালের দিকে মাসিক নূর নামে একটি পত্রিকা বের করেন। 
-  ১৯৩১ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ৫১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর প্রথম রচনা ‘অনল-প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- উপমহাদেশের প্রথম কবি হিসেবে তিনি কারাবন্দী হন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। 

- অনল প্রবাহে তিনি লিখেছিলেন—
‘আর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া
উঠরে মোসলেম উঠরে জাগিয়া,
আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া,
পূত বিভু নাম স্মরণ করি।’

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ গীতিকাব্যকে অনুসরণ করে সিরাজী রচনা করেছিলের ‘প্রেমাঞ্জলি’ গীতিকাব্য। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
-  অনল-প্রবাহ, 
-  আকাঙ্ক্ষা, 
-  স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

♦ উপন্যাস: 
-  রায়নন্দিনী, 
-  তারাবাঈ, 
-  বঙ্কিম দুহিতা ইত্যাদি।

♦ সঙ্গীত গ্রন্থ: 
-  সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
-  প্রেমাঞ্জলি।

♦ প্রবন্ধ:
-  স্ত্রীশিক্ষা,
-  আদব কায়দা শিক্ষা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী:
-  তুরস্ক ভ্রমণ।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া,
২. ডেইলি স্টার বাংলা।