পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২০ বাংলা পরীক্ষা - ৩ বিষয়: বাংলা টপিক: আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জসীমউদ্দীন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মীর মশাররফ হোসেন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কায়কোবাদ, দীনবন্ধু মিত্র, ফররুখ আহমেদ, বেগম রোকেয়া, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন নাটককে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন?
  1. লীলাবতী
  2. নীলদর্পণ
  3.  নবীন তপস্বিনী
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীলদর্পণ নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

• নীলদর্পণ নাটক:

- ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাটক এবং তাঁর সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- নাটকের মূল বিষয় হল সে সময়ের নীলচাষ ব্যবস্থা, নীলকর সাহেবদের নির্যাতন, এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষপাতমূলক আচরণ।
- প্রকাশের পর এই নাটক তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উৎসাহ জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- পাদ্রি জেমস লং অনুবাদটি প্রকাশ করায় আদালত তাঁকে অর্থদণ্ড দেয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র এই নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’—এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
- রচনার পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি জাতীয় চেতনার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
- এটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রথম ঢাকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ রঙ্গালয়-এর অভিনয় শুরু হয় এই নাটক দিয়েই।
------------------------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি কে দিয়েছিলেন?  
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন - বুদ্ধদেব বসু।
-----------------------------------
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু  (১৯০৮–১৯৭৪) ছিলেন পঞ্চপাণ্ডব এর একজন।
- তিনি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক ও সম্পাদক হিসেবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
- বুদ্ধদেব বসু ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনাগুলোর মধ্যে ‘আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার যৌবন’ এবং ‘আমাদের কবিতাভবন’ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের এক সব্যসাচী প্রতিভা।
----------------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
• বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।

• তার উপন্যাসগুলো হলো : 
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
ফাঁস কাগজ প্রহসনটি কার রচনা?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. কাঙ্গাল হরিনাথ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

ফাঁস কাগজ প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেনের রচিত।
------------------------------------------
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'।

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিনটি খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।

অন্যদিকে,
• নবীনচন্দ্র সেন— ‘পলাশীর যুদ্ধ’ ও ‘ত্রয়ী ’ মহাকাব্যের রচয়িতা।
• কাঙ্গাল হরিনাথ— ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’র সম্পাদক ছিলেন।
• দীনবন্ধু মিত্র— ‘নীলদর্পণ’ নাটকের রচয়িতা।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

.
নিচের কোনটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. মায়াকানন
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

‘একেই কি বলে সভ্যতা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
---------------------------------------
• “একেই কি বলে সভ্যতা”:
- মধুসূদন দত্তের “একেই কি বলে সভ্যতা” একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
- যা উনিশ শতকের কলকাতার তথাকথিত ‘ভদ্র’ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি এবং অতিমাত্রায় ইংরেজি শিক্ষাকে যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তার প্রতি আলোকপাত করেছেন।
- এই প্রহসনের মাধ্যমে লেখক সমাজকে তীক্ষ্ণভাবে ব্যঙ্গ করেছেন;
- একই সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ যে হ্রাস পাচ্ছে তাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
--------------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
-মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী 
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
---------------------------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ও বহুভাষী জ্ঞানী ব্যক্তি।
- তৎকালীন সমাজে মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানীর উৎসাহে তিনি শিক্ষা অর্জনের পথ খুঁজে পান।
- পরবর্তীতে তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত হোসেন মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।
- নারীদের সংগঠিত করার জন্য ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাকে বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি কোন বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ 
  3. তিতুমীরের বিদ্রোহ
  4.  চট্টগ্রাম বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।

• ইছামতী উপন্যাস:
-
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস ইছামতী ১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি মিত্রালয় প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ইছামতী উপন্যাসে উনিশ শতকের বাংলার নীলচাষ, নীল বিদ্রোহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন চিত্রায়িত হয়েছে।
- উপন্যাসে ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের জীবন, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্পভিত্তিক পুঁজিবাদের দিকে পরিবর্তনের প্রভাব দেখানো হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্রদের মাধ্যমে লেখক সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রাম, আবেগ এবং সামাজিক মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- ইছামতী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
• ভবানী বাড়ুয্যে, 
• অশোক এবং
• নীলা।
---------------------------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
- তিনি অসংখ্য কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখায় প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন এবং মানুষের মানসিকতার গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়।
- বিভূতিভূষণের সাহিত্য গ্রামীণ সমাজের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- জীবনের শেষ সময়ে তিনি ইছামতী উপন্যাসের জন্য মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

• তাঁর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস —
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, ও
- অপুর সংসার।
- পথের পাঁচালী অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- ইছামতী,
- আরণ্যক,
- চাঁদের পাহাড়,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল ও
- অশনি সংকেত।

• বিভূতিভূষণের গল্প:
- মৌরিফুল।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো:
- স্মৃতির রেখা ও
- অভিযাত্রিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
‘লালসালু’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৩
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
----------------------------------------
লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস যা ১৯৪৮ সালে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়;
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

.
তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? — উক্তিটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. কপালকুণ্ডলা 
  2. রাজসিংহ
  3. বিষবৃক্ষ
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• ‘তুমি অধম হলে আমি উত্তম না হইব কেন’ — উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা থেকে নেয়া।
--------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- এবং ১৮৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল - কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি:
• বাংলার স্কট,
• সাহিত্যসম্রাট, এবং
• আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় কবিতা রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, যার বিখ্যাত উক্তি —
• “তুমি অধম হইলে আমি উত্তম না হইব কেন?”
• “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।”

∗ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
∗ সাম্য তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
∗ মানস ও ললিতা তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
∗ তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
∗ তাঁর অন্য উপন্যাসগুলি হলো:
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাধারাণী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা এবং
- বিষবৃক্ষ (প্রথম সামাজিক উপন্যাস)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
‘লাবণ্য’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চতুরঙ্গ
  2. ঘরে বাইরে
  3. চার অধ্যায়
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

‘লাবণ্য,' রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের চরিত্র।
---------------------------------
শেষের কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসে লাবণ্য হচ্ছে প্রধান নারী চরিত্র।
- তিনি প্রেমকে স্মৃতিতে ধরে রাখলেও বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
- লাবণ্য কেবল রোমান্টিক চরিত্র নন, বরং দায়িত্ববোধ ও বুদ্ধিমত্তায় সমৃদ্ধ এমন এক নারী, যিনি অমিতের জীবনে ‘শেষের কবিতা’ হয়ে রয়ে যান।
- "কবিতা তো আমি পড়ি না, কবিতা তো আমার বুকে বাজে" - এই উক্তিটি তাঁর গভীর সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়, যেখানে তিনি অনুভূতিকে কথার চেয়েও বেশি মূল্য দিয়েছেন।
-----------------------------------
• ‘শেষের কবিতা’:
- ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের একটি রোমান্টিক কাব্যোপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৭ সালের ভাদ্র (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) থেকে ১৯২৮ সালের চৈত্র পর্যন্ত প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় এবং ১৯২৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র: অমিত, লাবণ্য, কেতকী ও শোভনলাল।
- এদের চরিত্রের মাধ্যমে কবি আধুনিক প্রেম, জীবনবোধ ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম জটিলতা সহজ, সাবলীল ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছে।
- অমিতের উচ্ছ্বল, স্বাধীনচিন্তার বিপরীতে শোভনলাল শান্ত, বাস্তববাদী এবং সমাজের চোখে ‘মানানসই’ একজন মানুষ।
- অমিত–লাবণ্যের অসমাপ্ত প্রেমের পরে শোভনলালের উপস্থিতিতে লাবণ্যের জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
----------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। 
- তাঁর ‘শেষের কবিতা’; একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস।
 - ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
- আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
'চলে মুসাফির' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

চলে মুসাফির - জসীম উদ্‌দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে একটি।
---------------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
-জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
 -‘পল্লীকবি’ জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, লোকসংস্কৃতি ও মানবিক অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় চিত্রিত করেছেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ (১৯২৯) এক অনন্ত প্রেমকাহিনি, যেখানে রূপাই ও সাজুর বেদনার গল্প বোনা হয়েছে লোকজ চেতনায়।
- এই কাব্যর জন্যই তাঁকে “পল্লীকবি” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

• তাছাড়া তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- ভোর হইলো দোর খোলো, প্রভৃতি।

• জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে, এবং
- যে দেশে মানুষ বড়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনী:
- যাত্রী,
- 'ইউরোপ প্রবাসীর পত্র।
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমণকাহিনী: দেশে-বিদেশে।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী: পথে-প্রবাসে।
• মুহম্মদ আব্দুল হাই-এর ভ্রমণকাহিনী: বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোন নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে? 
  1. কোপাই
  2. পবন
  3. দামোদর
  4. অজয়
সঠিক উত্তর:
কোপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোপাই
ব্যাখ্যা

‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোপাই নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
----------------------------------------
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হাঁসুলি বাঁকের উপকথা  ১৯৫১সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি কোপাই নদীর তীরে বাঁশবাঁদি গ্রামের কাহার সমাজের জীবনচিত্র নিয়ে রচিত।
- এতে গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, জমিদারী ব্যবস্থার বৈষম্য এবং যন্ত্রসভ্যতার আগমনে প্রাচীন কৃষিনির্ভর জীবনের টানাপোড়ন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- কাহারদের লোকবিশ্বাস, সংস্কার, উৎসব, শিকার, সঙ্গীত—এসবই লেখক গভীর বাস্তবতায় চিত্রিত করেছেন।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৩৫৩ সালের শারদীয় আনন্দবাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে গ্রন্থাকারে বের হয়।
- বইটি উৎসর্গ করা হয় কবিশেখর কালিদাস রায়কে।
----------------------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
'ইন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবদাস
  2. শ্রীকান্ত 
  3. পথের দাবী
  4.  রমা  
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত 
ব্যাখ্যা

- ইন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল।
---------------------------------------------- 
• 
'শ্রীকান্ত':
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মূলত শ্রীকান্তের ভবঘুরে জীবনের উপ ভিত্তি করে রচিত।
- বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি।
- এটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হল শ্রীকান্ত।
- ইন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল।
- উপন্যাসে ইন্দ্রনাথকে শ্রীকান্তের এক নির্ভীক ও দুঃসাহসপ্রবণ সঙ্গী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
------------------------------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পল্লীসমাজ,
- পরিণীতা,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- দেনা পাওনা, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
ফররুখ আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১৮
  3. ১৯২৫
  4. ১৯৩০
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।  
- তিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন বিধায় তাকে ইসলামী রেনেসার কবি বলা হয়ে থাকে।
- তিনি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য 'পাখির বাসা' লিখেছিলেন।
- বইটিতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়কে ছড়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা্তে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উপভোগের সঞ্চার ঘটাতে পারেন।
- তিনি অত্যন্ত  সাবলীল ও সহজ ভাষায় জাদুকারি ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা শিশুদের সহজেই পাঠপ্রক্রিয়ায় আকৃষ্ট করেছিল।
- 'পাখির বাসা' গ্রন্থের জন্য ফররুখ আহমদ ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

• ফররুক আহমদ এর কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি।
• তাঁর কাব্যনাটক:
- নৌফেল;
- হাতেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিচের কোনটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. মতিচূর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. পদ্মরাগ
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা

‘সুলতানার স্বপ্ন’ বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনি।
---------------------------------------------
সুলতানার স্বপ্ন’:
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি নারীবাদী ইউটোপিয়ান কল্পকাহিনী।
- এখানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে ব্যঙ্গ করে নারীমুক্তির এক আদর্শ ভবিষ্যৎ তুলে ধরা হয়েছে।
- এতে কবি একটি সম্পূর্ণ উল্টো সমাজব্যবস্থা কল্পনা করতে চেয়েছেন।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় নারীরা গড়ে তুলবে শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব এক উন্নত দেশ—Land of Ladies.
- গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী-পুরুষ সমতা, শিক্ষার গুরুত্ব এবং প্রচলিত পর্দাপ্রথা ও সামাজিক নিয়ম উল্টে নারীর ক্ষমতায়নকে সামনে আনা।
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ এমন এক ভবিষ্যৎ সমাজের চিত্র তুলে ধরে - যেখানে নারী নিজের যোগ্যতা, যুক্তি এবং বিজ্ঞানের শক্তিতে শোষণহীন, শান্ত এবং উন্নত এক পৃথিবী নির্মাণ করবে।
-----------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
-  বাংলার নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান অসাধারণ।
- নারীশিক্ষা, লিঙ্গসমতা ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি সারাজীবন নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন।
- বাংলাদেশে নারীশিক্ষা আন্দোলনের প্রকৃত অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজের লেখনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিলেন।
- বলা যায়, তাঁর উদ্যোগেই বাংলার নারীরা মুক্তির পথে আলোকিত হতে পেরেছে।
- বাংলাদেশে সরকারিভাবে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
- বাঙালি লেখক, শিক্ষাবিদ এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন - ৯ ডিসেম্বর - কে "রোকেয়া দিবস" হিসেবে উদযাপন করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল।
------------------------------------
বেগম’:
- বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল ‘বেগম’।
-পত্রিকাটি ২০ জুলাই ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল;
- আর পরে এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন নূরজাহান বেগম।
- নারীদের সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য পত্রিকাটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল: 
- সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশালে একটি অভিজাত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, লেখিকা ও নারীবাদী আন্দোলনের নেত্রী।
- একই সঙ্গে তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও সুপরিচিত।
- ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যেকোনো সংকটে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—একজন জননীর মতো।
- তিনি শুধু কবিতার স্রষ্টা নন, বরং বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও নারী মুক্তির সংগ্রামের এক আলোকবর্তিকা।
- তিনি তাঁর সাহিত্য ও কর্মের শক্তিতে সমাজকে নতুন পথে পরিচালিত করেছেন।

• সাহিত্যজীবনে সুফিয়া কামাল বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন:
- কেয়ার কাঁটা,
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি কাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. শ্রীঅরবিন্দ
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি নেতাজিকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
-------------------------------------------
তাসের দেশ:
- তাসের দেশ একটি রূপকধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক নাটক, যা ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের পরাধীনতা, মানুষের যান্ত্রিক ও আবেগহীন জীবনযাপন এবং অন্ধ নিয়মকানুনের শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে।
- এখানে তাস খেলার সমাজকে জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেখানে মানুষ নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ।
- কৌতুক ও ব্যঙ্গের আড়ালে নাটকটি মুক্তি, স্বাধীনতা ও মানবিক জাগরণের কথা বলে।
---------------------------------------------
তাসের দেশ ও নেতাজি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই নৃত্যনাট্যটি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছিলেন। 
- উৎসর্গপত্রে তিনি সুভাষচন্দ্রকে ‘কল্যাণীয়’ সম্বোধনে স্মরণ করে জানান, স্বদেশের চিত্তে নতুন প্রাণ সঞ্চারের যে মহান ব্রত তিনি গ্রহণ করেছেন, তারই প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রচনাটি উৎসর্গ করা হলো।
- তিনি সুভাষচন্দ্রকে “দেশনায়ক” আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন বাঙালি কবি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে জাতির নেতার আসনে গ্রহণ করছেন।
- ১৯৪১ সালে মৃত্যুর কিছু আগে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বদনাম নাটকে শৃঙ্খল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
- নাটকের ভাব ও ভাষায় যেন নেতাজির আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়ার পথে যাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- রবী ঠাকুরের বিশ্বাস ছিল, অধর্মের জয় ক্ষণস্থায়ী; 
- শেষ পর্যন্ত সত্য ও মানবতারই বিজয় হবে।
----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• তাঁর অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  ‘চণ্ডালিকা’, ‘শ্যামা’ ও ‘বসন্তগীতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৭.
কায়কোবাদের 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের মূল সুর কী?
  1. ধর্মীয় ভাবনা ও আবেগ
  2. দেশপ্রেম ও বিরহ
  3. প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ
  4. দার্শনিক চিন্তাধারা ও ধর্মীয় ভাবনা
সঠিক উত্তর:
প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ
ব্যাখ্যা

অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থের মূল সুর: প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ।
-----------------------------------------
অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদের অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত রোমান্টিক গীতিকবিতার সংকলন।
- এখানে প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের গভীর অনুভূতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 
- কবি তাঁর কৈশোর ও যৌবনের ব্যক্তিগত আবেগ ও বেদনা এই কাব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
- অশ্রুমালা বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------------------
কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ এর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশি।
- কায়কোবাদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট মহাকবি।
- তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং তিনি ২১ জুলাই ১৯৫১ সালে প্রয়াত হন।
- কায়কোবাদ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক মহাকাব্য ধারার শেষ কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেছেন, বিশেষভাবে নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর প্রধান সাহিত্যিক আদর্শ।
- তার প্রধান মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’ (১৯০৪) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে লেখা হয়েছে।
- এই কাব্য থেকেই নাট্যকার মুনীর চৌধুরী অনুপ্রাণিত হয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি রচনা করেন।
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিরহ বিলাপ কাব্য প্রকাশ পায়।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- অশ্রুমালা: বিখ্যাত গীতিকাব্য;
- কুসুম কানন: কাব্যগ্রন্থ;
- বিরহ বিলাপ: প্রথম কাব্যগ্রন্থ;
- শিব-মন্দির: হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির চেতনা;
- অমিয়ধারা: উল্লেখযোগ্য কাব্য;
- মহররম শরীফ: বৃহৎ কাহিনী কাব্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র 
  2. চাচা-কাহিনী
  3. ময়ূরকণ্ঠী 
  4. শবনম
সঠিক উত্তর:
শবনম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবনম
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস: শবনম।
-----------------------------------------------
• শবনম:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম একটি প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি আফগানিস্তানে কর্মরত এক বাঙালি যুবক মজনুন ও আফগান রাজ পরিবারের মেয়ে শবনমের নিষিদ্ধ ও বেদনাদায়ক প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে তাঁদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে চলে যায়।
- উপন্যাসে আফগানিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংস্কৃতিক চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এবং এতে ফার্সি ও উর্দু কবিতার প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়।
-------------------------------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৯.
“যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।” — উক্তিটি কোন উপন্যাসের অংশ?
  1.  গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• “যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি, 
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ থেকে নেওয়া;
- এবং এটি অমিত  লাবণ্যকে বলেছে।
----------------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।
- তাঁকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন।
- আর ‘গুরুদেব’ উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।

• রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’।
• তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।

• ‘শেষের কবিতা’, একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস; 
- এর বিখ্যাত চরিত্র হলো লাবণ্য, অমিতরায়, শোভনলাল ও কেতকী।

• আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস;
- যার প্রধান চরিত্র হলো মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী ও বিনোদিনী।

• ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
• 'ঘরে বাইরে' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস যা বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
• 'যোগাযোগ' রবীঠাকুরের একটি সামাজিক উপন্যাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' কোন নাটকের গদ্য অনুবাদ ? 
  1. এ মিড সামার নাইটস্ ড্রিম
  2. কমেডি অব এররস
  3. ম্যাকবেথ
  4. মার্চেন্ট অব ভেনিস
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
ব্যাখ্যা

শেকসপিয়ার রচিত কমেডি অব এররস এর অনুবাদ ভ্রান্তিবিলাস।
----------------------------------------
• ভ্রান্তিবিলাস:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস গ্রন্থটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভ্রান্তিবিলাস উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক The Comedy of Errors অবলম্বনে রচিত একটি গদ্য অনুবাদ। 
- বিদ্যাসাগর তাঁর নিজস্ব লিখার আদলে এই নাটকটি অনুবাদ করেন।
- নাটকটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি, দ্বৈত চরিত্র এবং হাস্যরসাত্মক ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- গল্পে দুই যমজ ভাই এবং তাদের ভৃত্যদের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দেখানো হয়েছে।
- সবশেষে এই ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে মিলনান্তক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।
--------------------------------------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক।
- তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল  আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত  কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি: সংস্কৃত থেকে অনুবাদ।
- শকুন্তলা: কালিদাসের সংস্কৃত নাটকের অনুবাদ।
- সীতার বনবাস: বাল্মীকির রামায়ণ থেকে নেওয়া অংশ।
- ভ্রান্তিবিলাস: উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Comedy of Errors' নাটকের অনুবাদ।
- কথামালা: ঈশপের গল্পের অনুবাদ।
- অখ্যানমঞ্জরী: সংস্কৃত নীতিগল্পের অনুবাদ।
- বোধোদয়: শিশুদের উপযোগী পাঠ্যপুস্তকের অনুবাদ, ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

২১.
”কাঁদো নদী কাঁদো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮) উপন্যাসটির রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
---------------------------------------
কাঁদো নদী কাঁদো:
- কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত।
- উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঁকাল নদীর তীরে অবস্থিত কুমুরডাঙ্গা শহরের মানুষের জীবন ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
- নদীটি পলি জমে মৃতপ্রায় হওয়ায় স্টিমারঘাট সরানো হয়, যা শহরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সংকট সৃষ্টি করে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুহাম্মদ মুস্তাফা।
- তার বাবা খেদমতউল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন ছেলে উকিল হোক।
- বাবার মৃত্যুর পর মুস্তাফা বহু কষ্টের মধ্য দিয়ে শিক্ষালাভ করে সেই স্বপ্ন পূরণ করে।
- উপন্যাসটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা, যেখানে মুস্তাফার জীবন ও অবচেতন মন তবারক ভুঁইয়া নামের স্টিমারযাত্রীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে নদীর মৃত্যু, শহরের সংকট, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও চেতনাপ্রবাহের মাধ্যমে মানুষের জীবনের করুণতা ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল।
----------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২২.
জসীমউদদীন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বোবা কাহিনী
  2. মধুমালা
  3. বালুচর
  4. সূচয়িনী
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

জসীম উদদীনের রচিত উপন্যাস হলো: বোবাকাহিনী।
------------------------------------------------
বোবা কাহিনী:
- জসীম উদদীনের উপন্যাস বোবা কাহিনী ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের গ্রামীণ লোকজীবন ও কৃষকের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।
- বিশেষত ভূমিহীন কৃষকরা দারিদ্র্যতা, মহাজনের শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে কতটা কষ্টে জীবনযাপন করে তাই তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে।
- উপন্যাসের চরিত্র: আজাহার, বছির, রহিমদ্দী ও গরীবুল্লা।
- বোবা কাহিনী সম্পূর্ণরূপে লোকজীবনভিত্তিক আখ্যান, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ ও সংগ্রাম বর্ণিত হয়েছে।
----------------------------------------------------
জসীম উদদীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তাকে পল্লীকবি উপাধি দেয়া হয়।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- বালুচর প্রভৃতি।

• জসীম উদদীন রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে,
- ওগো পুস্পধনু এবং
- আসমান সিংহ।

• জসীম উদদীন রচিত কবিতার সংকলন: সূচিয়িনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ 
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল 
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস– দুর্গেশনন্দিনী।
----------------------------------------
• 
দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসটি ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এটি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার মুঘল ও পাঠান দ্বন্দ্বের পটভূমিতে রচিত রোমান্টিক আখ্যান।
- উপন্যাসের মূল কাহিনী জগৎসিংহ, তিলোত্তমা ও আয়েশার ত্রিভুজ প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক জীবনও আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে।
---------------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তার মৃত্যু ঘটে ১৮৯৪ সালে।
- তাঁর ছদ্মনাম কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী।
- সাম্য তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ, এবং
- মানস ও ললিতা তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
- বঙ্কিমের বিষবৃক্ষ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক উপন্যাস।
- কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাসগুলি হলো:
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- রাধারাণী,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

২৪.
'কবিতার কথা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা সংকলন
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধসংকলন।
-----------------------------------------
কবিতার কথা:
- কবিতার কথা জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই প্রবন্ধগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এতে তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত পনেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- গ্রন্থটি গদ্যরূপে রচিত।
- এই প্রবন্ধে তিনি কবিতা, কবির দায়িত্ব, আধুনিক কবিতা, চিত্রকল্প ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর মৌলিক চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চেয়েছেন। 
- এটি কোনো সৃজনশীল কবিতা নয়, এই প্রবন্ধসংকলনে তিনি কবিতার তত্ত্ব ও রূপ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন।
---------------------------------------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চা শুরু হয় অল্পবয়স থেকেই।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা বর্ষ-আবাহন ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় ১৯১৯ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর কবিতায় নিঃসঙ্গতার এক স্বতন্ত্র জগৎ ফুটে ওঠে।
- জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি, যিনি অতীত ও বর্তমানকে ইতিহাসচেতনার মাধ্যমে সংযুক্ত করেছেন। - তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার লাইনগুলিতে প্রকৃতি, মানবিক অনুভূতি এবং ইতিহাসচেতনার গভীরতা ফুটে উঠেছে।
- যেমন:
• বনলতা সেন–এর "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা"।
• আবার আসিব ফিরে–এর "ধানক্ষেতের আঁধার-মাঝি, চিল"।
• ধূসর পাণ্ডুলিপি–এর "অনেক ফেনার গন্ধ পৃথিবীর পুরোনো ভাঁড়ার ভরে গেছে"।
- যদিও জীবদ্দশায় তিনি খুব পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর বিশেষত ১৯৯৯ সালে জন্মশতবার্ষিকী পালনের পর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো
  2. ইন্দ্রা দেবী
  3. প্রতিমা দেবী
  4. আন্না
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পূরবী কাব্যগ্রন্থটি তাঁর বান্ধবী ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পোকে উৎসর্গ করেছিলেন।
-----------------------------------------
• 
পূরবী:
যারা আমার সাঁঝ-সকালের গানের দীপে জ্বালিয়ে দিলে আলো, 
আপন হিয়ার পরশ দিয়ে; 
এই জীবনের সকল সাদা কালো, 
যাদের আলো-ছায়ার লীলা; 
সেই যে আমার আপন মানুষগুলি, 
নিজের প্রাণের স্রোতের পরে আমার প্রাণের ঝর্না নিল তুলি; 
তাদের সাথে একটি ধারায় মিলিয়ে চলে, 
সেই তো আমার আয়ু, নাই সে কেবল দিন-গণনার পাঁজির পাতায়, 
নয় সে নিশ্বাস-বায়ু।’ 

- পূরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা সংকলিত রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থের মূল বিষয় মানবিক প্রেম, বিরহ, মৃত্যুচেতনা ও আধ্যাত্মিকতা।
- রবীন্দ্রনাথ জীবনকে এক দীর্ঘ পথচলা হিসেবে দেখিয়েছেন, যেখানে প্রেম ও বৈরাগ্যের মিশ্র অনুভূতি ফুটে ওঠে।
- কবিতাগুলিতে মানবিক দুর্বলতার বাইরে গিয়ে মানুষকে ভালোবাসার অভিপ্রায় ও গভীর অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। 
------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- দক্ষিণ আমেরিকা সফরে গিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার কবি ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো-র আতিথ্য গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রতি অনুরাগ থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে “বিজয়া” নামে সম্বোধন করতেন এবং পরবর্তীতে নিজের পূরবী কাব্যগ্রন্থটি তাঁকেই উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্য বনফুল (১৮৭৬)।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিকাহিনী (১৮৭৮)।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• 'গীতাঞ্জলি',
• 'সোনার তরী',
• 'চিত্রা',
• 'চৈতালি',
• 'কণিকা',
• 'কল্পনা', 'বলাকা',
• 'মহুয়া', 
• 'পুনশ্চ',
• 'পুনশ্চ',
• 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী', ইত্যাদি। 

অন্যদিকে:
- ১৬ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ আন্নার প্রেমে পড়েছিলেন।
- ইন্দ্রা দেবী ছিলেন তাঁর ভাইয়ের মেয়ে, যাকে উদ্দেশ্য করে তিনি ‘ছিন্নপত্র’ নামে ১৪৫টি পত্র লিখেছিলেন।
- প্রতিমা দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ ও সংগীতশিল্পী। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৬.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি নাম কোনটি?
  1. Field of the  Embroidery Flowers
  2. The Woven Carpet 
  3. The Field of Embroidered Quilt
  4. Field of the  Embroidery Threads
সঠিক উত্তর:
The Field of Embroidered Quilt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Field of Embroidered Quilt
ব্যাখ্যা

নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি নাম: Field of the Embroidery Quilt.
------------------------------------------
• নকশী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।
----------------------------------------------------
জসীম উদ্দীন :
- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তাকে পল্লীকবি উপাধি দেয়া হয়।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- ভোর হইলো দোর খোলো, প্রভৃতি।

• জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে, এবং
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৭.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. বনলতা সেন
  2. কল্লাণী
  3. বেলা অবেলা কালবেলা
  4. মল্লিকা
সঠিক উত্তর:
কল্লাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লাণী
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর প্রকাশিত উপন্যাস: কল্লাণী।
--------------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথিকৃৎ হিসেবে তিনি পরিচিত।
- এছাড়া, রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবেও তাকে গণ্য করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, মানবতা এবং নিঃসঙ্গতার এক স্বতন্ত্র জগৎ ফুটে ওঠে।
- যদিও জীবদ্দশায় তিনি খুব পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর বিশেষত ১৯৯৯ সালে জন্মশতবার্ষিকী পালনের পর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর তাঁর কল্লাণী উপন্যাসটি প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি জমিদারি প্রথার অবক্ষয়ের পটভূমিতে রচিত, যেখানে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ছিল পঙ্কজবাবুর মেয়ে কল্যাণী।

• তার উপন্যাসগুলো হলো : 
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৮.
‘রমা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধসংকলন
  4. কবিতাসংকলন
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• 'রমা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি হৃদয়স্পর্শী বাংলা নাটক।
-----------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা’ নাটকটি গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- এতে জমিদারী প্রথার শোষণ, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, সামাজিক কুসংস্কার এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা ফুটে ওঠে।
- প্রধান চরিত্র রমা ও রমেশের প্রেম ও সংঘাতের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, ভালোবাসার টানাপোড়েন এবং ন্যায়বিচারের প্রয়াস নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে রমা একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয় থাকে, যা তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
- নাটকটি একই সঙ্গে পল্লী জীবনের সরলতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
- এছাড়াও এতে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের দ্বন্দ্ব এবং মানুষের ভেতরের স্বার্থপরতা ও মহত্ত্বের সংমিশ্রণও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- অনিলা দেবী তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।

• তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’।
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, বিলাসী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’। 
• তাঁর দীর্ঘগল্প মেজদিদি।

তাঁর বিখ্যাত নাটক হচ্ছে:
- রমা;
- ষোড়শী।

• তাঁর অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস:
- শ্রীকান্ত, 
- দেবদাস,
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়।

উৎস :
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর ;
বাংলাপিডিয়া।