উত্তর
ব্যাখ্যা
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান।
- এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনী।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান।
- এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনী।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
কপালকুণ্ডলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে
- ১৮৭৩ সালে গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন।
- এই উপন্যাসের চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি
- গোবিন্দলাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র।
- নিখিলেশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ;ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের চরিত্র।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- রূপজালাল তাঁর একমাত্র সাহিত্য কর্ম।
অন্যদিকে,
- ‘চাষাভূষার’ কাব্য নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি গ্রন্থ।
- ‘আমাদের শিক্ষা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘আঁখিজল’ কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি কাব্য।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
নীলিমা ইব্রাহিম একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
নীলিমা ইব্রাহিম সমাজকর্ম ও সাহিত্যে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।
সেগুলি হলো:
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯),
- জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭৩),
- মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭),
- লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯),
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতিপদক (১৯৯০),
- অনন্য সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬),
- বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬),
- বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৯৭),
- শেরে-বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭),
- থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮) ও
- একুশে পদক (২০০০)।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
বদরুদ্দীন উমর একজন বাংলাদেশি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর)-এর নেতা।
- তিনি সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের।
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।
উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬) ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- পাঞ্জেরী,
- সিন্দবাদ,
- আকাশ-নাবিক,
- ডাহুক,
- এই সব রাত্রি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সাত সাগরের মাঝি]
বন্দে আলী মিয়া একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
তার সাহিত্যকর্ম-
- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫)
- ময়নামতীর চর তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠকাব্য।
তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গুলো হলো:
- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৬২ সালে লাভ করেন।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
বিষ্ণু দে, একজন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩),
- চোরাবালি (১৯৩৭),
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪),
- রুচি ও প্রগতি (১৯৪৬),
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ (১৯৫২),
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩),
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮),
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত (১৯৬৩),
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা (১৯৬৬),
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা (১৯৬৭)
- In the Sun and the Rain (১৯৭২),
- উত্তরে থাকো মৌন (১৯৭৭),
- সেকাল থেকে একাল (১৯৮০),
- আমার হূদয়ে বাঁচো (১৯৮১) ইত্যাদি।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি
- ‘ললিতা তথা মানস’ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কাব্যগ্রন্থ।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য।
- এটি ১৮৬১ সালে দুই খণ্ডে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- মেঘনাদবধ কাব্য হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো :
- তিলোত্তমা সম্ভব
- ব্রজাঙ্গনা
- বীরাঙ্গনা
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো :
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
ব্রজাঙ্গনা রাধা কৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক গীতিকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য
- তিলোত্তমা সম্ভব অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ।
- মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক,অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক হলে মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
পুতুলনাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো :
- শশী,
- কুসুম,
- কুমুদ,
- মতি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।
তিনি টিভির জন্যেও অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং অভিনয় করেছেন।
'ওরা কদম আলী’ নাটকটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।
মামুনুর রশীদ প্রকাশিত নাটকের নাম হলো :
- ওরা কদম আলী
- ওরা আছে বলেই
- মে দিবস পাথর
- সমতট
- লেবেদেফ
- এখানে নোঙ্গর
মামুনুর রশীদ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করে।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
বঙ্কিমচন্দ্রচট্টোপাধ্যায় ছিলেন ঔপন্যাসিক,বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- বঙ্কিমচন্দ্রচট্টোপাধ্যায় চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি লাভ করেন ।
[উৎস : বাংলাপিডিয়া]
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অধিকাংশ কবিতাই কবির মৃত্যু সম্পর্কে ভাবনা এবং পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থে ২২টি কবিতা রয়েছে।
এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- জন্মদিন
- পত্রোত্তর
- যাবার মুখে
- অমর্ত
- পলায়নী
- স্মরণ
- সন্ধ্যা
- ভাগীরথী ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ]
- ফররুখ আহমেদ মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন
এছাড়া
- হাফেজ পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- শিখা পত্রিকার সম্পাদক আবুল হোসেন।
- কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক দীনেশচন্দ্র দাস।
[উৎস : বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা]
মোতাহের হোসেন চৌধুরী(১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, লেখক। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।
- তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২)-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। এরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান,
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন.
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড
- দণ্ডধর
- দন্ডকারণ্য
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯):
তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২), [অনুবাদ গ্রন্থ]
- Essays on Islam (১৯৪৫),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খন্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪),
- বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯),
- কুরআন শরীফ (১৯৬৩),
- অমরকাব্য (১৯৬৩),
- সেকালের রূপকথা (১৯৬৫) ইত্যাদি।
উল্লেখ্য,
ড. শহীদুল্লাহ ছাড়াও বাংলা ভাষায় কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬), কান্তি ঘোষ, নরেন দেব (১৮৮৮-১৯৭১), সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪), সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫), শক্তি চট্টোপাধ্যায়সহ (১৯৩৪-১৯৯৫) অনেকে রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম অনুবাদ করেছেন।
তবে কাজী নজরুল ইসলাম ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এক অপূর্ব ও অসাধারণ অবদান।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিবেদন।
মুসলিম প্রথম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩),
- বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩),
- জমিদার দর্পণ (১৮৭৩),
- এর উপায় কি (১৮৭৫),
- বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১),
- সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭),
- গো-জীবন (১৮৮৯),
- বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৯৮),
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- তহমিনা (১৮৯৭),
- টালা অভিনয় (১৮৯৭),
- নিয়তি কি অবনতি (১৮৮৯),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯),
- মৌলুদ শরীফ (১৯০৩),
- মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা (দুই ভাগ ১৯০৩, ১৯০৮),
- বিবি খোদেজার বিবাহ (১৯০৫),
- হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ (১৯০৫),
- মদিনার গৌরব (১৯০৬),
- বাজীমাৎ (১৯০৮),
- আমার জীবনী (১৯০৮-১৯১০),
- আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০) ইত্যাদি।
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
- তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯): তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হচ্ছে:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা। এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক; তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- কাব্য কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);
- গদ্য রচনা মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);
উপন্যাস -
- জোহরা (১৯১৭),
- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চতুরঙ্গ হলো ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস।
- অন্যদিকে তার রচিত নষ্টনীড় হলো উপন্যাসধর্মী ছোট গল্প।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চোখের বালি হলো বাংলা সাহিত্যে প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো - মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করছেন - নবাব সুজাউদ্দৌলা।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রাঙ্গদা নাটকটি রচনা করেন।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।