পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; ২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ; ৩. অন্ধকার যুগ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম; ৪. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; ৫. সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; ৬. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
ছন্দের বিচারে 'চর্যাপদ' আধুনিক কোন ছন্দে রচিত বলে ধরা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে 
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে 
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' রচিত - মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।

• 'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত অনুসারে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ১৫০ বছর
  2. ৩৫০ বছর
  3. ৬০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল - ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তি গুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. গীতাঞ্জলি
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'অনন্ত প্রেম' কবিতার অন্তর্গত।

অনন্ত প্রেম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

উৎস: 'অনন্ত প্রেম' কবিতা।

.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• "কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদকর্তা-
  1. ২০ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম  বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. সমকাল
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. মোসলেম ভারত
  4. মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• সমাচার সভারাজেন্দ্র: 
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'-কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।"
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ও বাংলাপিডিয়া।

.
'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'শূন্যপুরাণ' রচনা করেছেন -
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

• শূন্যপুরাণ: 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০.
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ

• ‘আদর্শ ছেলে’:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ"৷

• কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট মহিলা কবি।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- কুসুমকুমারী দেবী মূলত শিশুতোষ ও নীতিপ্রধান কবিতার জন্য সুপরিচিত।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা “আদর্শ ছেলে”।
- কবিতাটির প্রথম পঙক্তি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”—বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য লিখেছিলেন “কবিতা মুকুল” নামে একটি পুস্তিকা, যা তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে: “পৌরাণিক আখ্যায়িকা”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১১.
'কাহ্নপা' রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ১২তম
  2. ২২তম
  3. ২৩তম
  4. ২৪তম
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ শুরু হয়—
  1. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৯০০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১১০০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ : '৯৫০-১২০০ খ্রি:'। অর্থ্যাৎ, ৯৫০ খ্রি: থেকে শুরু হয়।

• বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: 
- গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন।
- একেই সাহিত্যের যুগবিভাগ বলে।
- বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ এরকম:
- প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি.;
- মধ্যযুগ ১২০১- ১৮০০ খ্রি.;
- আধুনিক যুগ ১৮০০ খ্রি.- বর্তমান. 

• বি.দ্র. দীনেশচন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ সম্পর্কিত
অভিমত উল্লিখিত যুগ বিভাগকে সমর্থন করে।

• তবে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা : ৬৫০ খ্রি: থেকে ১২০০ খ্রি: পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে বাংলা শাসনভার ছিল কাদের উপর?
  1. মুঘল
  2. সেন
  3. পাল
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে তুর্কিরা বাংলা শাসন করত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া। অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।
- অন্যদিকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' বা ‘ইউসুফ জোলেখা'র ভাষা বৈশিষ্ট্যের বিচারেই সেগুলো ১৩৫০ সালের পরের রচনা বলে প্রমাণিত। এগুলো মধ্যযুগের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

১৫.
চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামটি কার?
  1. মধুসূদন মজুমদার
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

কবি, সাহিত্যিক শামসুর রহমান 'মজলুম আদিব ' ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন। 

অন্যদিকে, 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
- কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনামগুলি হল: ধূমকেতু, নুরু, নরুল ইসলাম, ব্যাঙাচি ইতাদি।

শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬):
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটি চর্যাপদের কোন কবির রচনা?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল 
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

পদ - ১:
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল 
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।''
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।
 
• লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
“সেক শুভোদয়া” সাহিত্যকর্মটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা ও ফারসি
  2. ফারসি ও সংস্কৃত
  3. আরবি ও ফারসি
  4. বাংলা ও সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২০.
'চিত্রগুপ্ত' কার ছদ্মনাম? 
  1. বিমল মিত্র
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।

অন্যদিকে: 
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর। 
- বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন।
-‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা - ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।। (পদ: ৩৩)

• চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামটি কার?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3.  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২৩.
ভুসুকুপা মোট কতটি পদ রচনা করেন?
  1. পাঁচটি
  2. আটটি
  3. দশটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৪.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. আহসান হাবীব
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫.
‘বেগম’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. স্বর্ণকুমারি দেবী
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

সুফিয়া কামাল:
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬.
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন- 
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ ভাষা আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৭.
'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির'—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। এটি তাঁর রচিত ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ক্ষুদ্রের দম্ভ’ বা ‘উপকারদম্ভ’ নামক একটি ছোট কবিতা বা ব্যঙ্গকৌতুক।

কণিকা:
- কণিকা ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ছোটো ছোটো কবিতার সংকলন। তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য। অণুকাব্যও বলা যায়। ক্যাপশনের মতো, অন্তে মিল আছে।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
- বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা।

২৮.
''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'' কথাটি মুদ্রিত থাকতো কোন সাহিত্য পত্রিকায়?
  1. কল্লোল
  2. শিখা
  3. মোহাম্মদী
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

• শিখা পত্রিকা: 
- শিখা ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)। 
 
উল্লেখ্য, 
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত। 
- এ উক্তিকেই শিখা পত্রিকার লেখকগোষ্ঠী তাদের মটো বা আদর্শবাণী হিসেবে বিবেচনা করত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৯.
'সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়’ কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শামসুর রাহমান 
  3. আহসান হাবীব
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

'সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়’ কবিতাংশটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থের দুর্মর কবিতার অন্তর্গত।

দুর্মর
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলা দেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ।
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।
হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলা দেশের প্রাণ।
"হয় ধান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।
সাবাস, বাংলা দেশ, এ পৃথিবী
সাবাস, বাংলা দেশ,
এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়:
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

• কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- “অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্ধ স্বদেশ ভূমি”,
- “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নব্জাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার” (ছাড়পত্র);
- “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”;
- “সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়” ( দুর্মর);
- “হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে উঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে” ইত্যাদি।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
 - আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।
- এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে।
- বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ, 
- প্রেমপ্রবাহিণী, 
- নিসর্গসন্দর্শন, 
- বঙ্গসুন্দরী, 
- সারদামঙ্গল, 
- নিসর্গসঙ্গীত, 
- মায়াদেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১.
বাংলার মিল্টন বলা হয় কাকে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আহসান হাবীব
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কে করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
"ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকান্ত ভট্টাচার্য।
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন- 
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

৩৬.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
বাংলাদেশে ইসলামী রেনেসাঁর কবি কাকে বলা হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদকে- বাংলাদেশে ইসলামি রেনেসাঁর কবি বলা হয়। 

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি;
- সিরাজাম মুনিরা; 
- নৌফেল ও হাতেম;
- মুহূর্তের কবিতা;
- হাতেমতায়ী;
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা;
- হরফের ছড়া;
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

•  ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ‘সাম্যবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
"দুঃখবাদী কবি" কার উপাধি?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মুকুন্দদাস
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন "দুঃখবাদী কবি" আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

অন্যদিকে,
- মোজাম্মেল হক - শান্তিপুরের কবি।
- মুকুন্দদাস - চারণকবি। 
- গোবিন্দচন্দ্র দাস - স্বভাব কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে:
- বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিগদর্শন এর সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র -  বঙ্গদর্শন।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা - সাধনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪১.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' কার উপাধি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কালিপ্রসন্ন সিংহ
  3. মোহিতালাল মজুমদার
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি কবি, সমাজসেবক মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
আমার পণ
মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)

-  তিন খন্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও আমার পণ কবিতা।

৪৩.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই উক্তিতে পথিক কে?
  1. কাপালিক
  2. নবকুমার
  3. কপালকুন্ডলা
  4. অমিত
ব্যাখ্যা

- কপালকুন্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস৷
- এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি।

এ উপনাসের উল্লেখযোগ্য কথোপকথনঃ
“অনন্তর সমুদ্রের জনহীন তীরে, এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিলেন। অনেক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনা গেল।
তিনি অতি মৃদুস্বরে কহিলেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল।”

দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যে প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত কারণ এটি প্রথম আধুনিক উপন্যাস এবং রোমান্টিক উপাদান প্রবর্তন করে। তবে, কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস এবং এর ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ!’ উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি হিসেবে বিবেচিত কারণ এটি প্রকৃতি, প্রেম, এবং রহস্যের কাব্যিক সমন্বয় ঘটায়। এই উক্তিটি রোমান্টিক ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের গভীর প্রকাশের সূচনা করে।

উৎস: কপালকুণ্ডলা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৪৪.
'অনিলা দেবী' ছদ্মনামটি কার?
  1. কামিনী রায়
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মহাশ্বেতা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম — ‘অনিলা দেবী'।
- তিনি 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধটি 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
• কামিনী রায় - এর ছদ্মনাম হচ্ছে — জনৈক বঙ্গমহিলা।
• মহাশ্বেতা দেবী - এর ছদ্মনাম হচ্ছে — সুমিত্রা দেবী।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- পরশুরাম;
- অনুরূপা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫.
চর্যাপদের কত নং পদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) নাম আছে?
  1. ৬নং
  2. ২৪নং
  3. ২৩নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত ৪৯নং পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬.
‘ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মনে ধনে; করিওনা ঘৃণা তব নীচ শির জনে!’ - পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

 ‘ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মনে ধনে; করিওনা ঘৃণা তব নীচ শির জনে!’পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রসাল ও স্বর্ণলতিকা কবিতার অন্তর্গত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

রসাল ও স্বর্ণলতিকা
– মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে;-
শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে।
নিদারুণ তিনি অতি;
নাহি দয়া তব প্রতি;
তেঁই ক্ষুদ্র-কায়া করি সৃজিলা তোমারে।
-----------------------
মহাঘাতে মড়মড়ি
রসাল ভূতলে পড়ি
হায়, বায়ুবলে
হারাইল আয়ু-সহ দর্প বনস্থলে!
ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মান ধনে;
করিও না ঘৃণা তবু নিচ-শির জনে।

উৎস: রসাল ও স্বর্ণলতিকা– মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭.
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম-
  1. পরশুরাম
  2. কালকূট
  3. নীল লোহিত
  4. অবধূত
ব্যাখ্যা

- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-  ‘নীল লোহিত’।
- স্বামী কালিকানন্দ - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এই উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কালী প্রসন্ন সিংহ
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)। 
- নানাকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০.
'হুতোম পেঁচা' কার ছদ্মনাম?
  1. কালী প্রসন্ন সিংহ
  2. প্যারীচাদ মিত্র
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• 'হুতোম পেঁচা' কালী প্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী- জরাসন্ধ।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত - বানভট্ট।
- প্যারীচাদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর।

তাঁর দুটি বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম :
- হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং
- পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)

- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- তাঁর অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।