পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়11 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৬: বাংলা বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশ, ভাষারীতি ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার, যথার্থ অনুবাদ ও শিরোনাম, ধ্বনি পরিবর্তন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
কে প্রথম বাংলা গদ্যে বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটান?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু ব্যবহার করেন। এটিই মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত মত।
- ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ গ্রন্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম যতিচিহ্নের/বিরামচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
অনুবাদ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
অনুবাদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা -
১. আক্ষরিক অনুবাদ
২.ভাবানুবাদ

আক্ষরিক অনুবাদ: মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে  অনুবাদ করা হয় তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা হয়। যেমন:`Many men many mind'  এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘অনেক মানুষ অনেক মন’ তাহলে তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা যেতে পারে।

ভাবানুবাদ: যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষার স্থিত মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে নিজের ভাষার বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষার মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয় তাকে ভাবানুবাদ বলে। যেমন: ‘Many men many mind' এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘নানা মুনির নানা মত’ তাহলে তাকে ভাবানুবাদ বলা হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘Cut your coat according to your cloth'- বাক্যটির বাংলা অনুবাদ নিচের কোনটি?
  1. ক) নিজের অবস্থান বুঝে এগনো
  2. খ) ব্যয় বুঝে আয় কর
  3. গ) সুবিধা বুঝে কাজ কর
  4. ঘ) আয় বুঝে ব্যয় কর
ব্যাখ্যা
ভাবানুবাদ: যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষার স্থিত মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে নিজের ভাষার বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষার মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয় তাকে ভাবানুবাদ বলে। 

ইংরেজি কোনো প্রবাদ বাক্যের আক্ষরিক অর্থ না করে বাংলায় ওই অর্থ বা ভাব প্রকাশের জন্য কোনো সুবিধামত একটি প্রবাদবাক্য ব্যবহার করাই উত্তম।
যেমন- 
`Tit for tai' - যেমন কুকুর তেমন মুগুর (আক্ষরিক অর্থে নয়)
`Cut your coat according to your cloth' - আয় বুঝে ব্যয় কর(আক্ষরিক অর্থে নয়)      

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
“কল্পনার দ্বারা রচিত মূর্তি” এ বাক্যের সংকোচিত রূপ কোনটি?
  1. ক) পরিণামদর্শী
  2. খ) দূরদর্শী
  3. গ) ভাবমূর্তি
  4. ঘ) ভূয়োদর্শী
ব্যাখ্যা
“কল্পনার দ্বারা রচিত মূর্তি” বাক্যের সংকোচিত রূপ - ভাবমূর্তি

কয়েকটি বাক্য সংকোচন:
পরিণাম চিন্তা করে যে কাজ করে - পরিণামদর্শী 
ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কাজ করে যে - দূরদর্শী
বহু দেখেছে যে - ভুয়োদর্শী
ধ্যানে যিনি মগ্ন - ধ্যানস্থ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তা কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অপনিহিত
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony): একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) : আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়
যেমন- মুলা » মুলাে, শিকা » শিকে, তুলা > তুলল।
⇒ পরাগত (Regressive) : অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে রাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে> আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।
⇒ মধ্যগত (Mutual) : আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
⇒ অনন্যান্য (Reciprocal) ; আদ্য ও অন্ত্য দুই সরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অনন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
One should love one's parents- বাক্যটির বাংলা অনুবাদ নিচের কোনটি?
  1. ক) প্রতি জনের উচিত প্রতি জনের মা-বাবাকে ভালোবাসা।
  2. খ) একজনের উচিত একজনের মা-বাবাকে ভালোবাসা।
  3. গ) মা-বাবাকে ভালোবাসা সবার উচিত।
  4. ঘ) মা-বাবাকে ভালোবাসা উচিত।
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি বাক্যের subject কোনো impersonal pronoun হলে তা সাধারণভাবে সবাইকে বোঝায়। এরূপ বাক্যকে বাংলায় অনুবাদ করতে হয় সচরাচর পরোক্ষভাবে কিংবা কর্মবিহীন কর্মবাচ্যে।
যেমন: ‘One should love one's parents’ - মা-বাবাকে ভালোবাসা উচিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন চিহ্নের ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. ক) (।)
  2. খ) (;)
  3. গ) (‘ ‘)
  4. ঘ) (-)
ব্যাখ্যা
(-)হাইফেন হচ্ছে শব্দসংযোগ চিহ্ন। হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
(-)হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই
যেমন- সোনা-রুপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রুপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরাম চিহ্নের বিরতি কাল:
দাড়ি (।) - এক সেকেন্ড
সেমিকোলন (;) - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
এক- উদ্ধৃুত চিহ্ন (‘ ‘) - ১ সেকেন্ড
কমা (,) - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কি বলে?
  1. ক) ধ্বনি বিপর্যয়
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন: দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন-
শরীর > শরীল
লাল > নাল ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যাঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ>পিচাশ, লাফ>ফাল ইত্যাদি।

সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তার সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: ধোবা>ধোপা, ধাইমা>দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘যা গলে যায় না’ এক কথায় বলে-
  1. ক) অবিনশ্বর
  2. খ) দুর্মর
  3. গ) দাহ্য
  4. ঘ) অদ্রব
ব্যাখ্যা
’যা গলে যায় না’ এককথায় বলে - অদ্রব
 কিছু এককথায় প্রকাশ:
যা নষ্ট হয় না - অবিনশ্বর
যা সহজে মরে না - দুর্মর
যা সহেজে পোড়ানো যায় - দাহ্য  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
‘Many men many mind' বাক্যটির বাংলা ভাবানুবাদ নিচের কোনটি?
  1. ক) অনেক মানুষ অনেক মন।
  2. খ) অনেক মানুষ অনেক মত।
  3. গ) নানা মুনির নানা মত।
  4. ঘ) অনেক মানুষ অনেক বুদ্ধি।
ব্যাখ্যা
অনুবাদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা -
১. আক্ষরিক অনুবাদ
২.ভাবানুবাদ

আক্ষরিক অনুবাদ: মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে  অনুবাদ করা হয় তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা হয়। যেমন:`Many men many mind'  এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘অনেক মানুষ অনেক মন’ তাহলে তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা যেতে পারে।

ভাবানুবাদ: যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষার স্থিত মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে নিজের ভাষার বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষার মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয় তাকে ভাবানুবাদ বলে। যেমন: ‘Many men many mind' এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘নানা মুনির নানা মত’ তাহলে তাকে ভাবানুবাদ বলা হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
নাটক বা গল্প-উপন্যাসের সংলাপের আগে কোন বিরাম-চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) উদ্ধৃতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
নাটক বা গল্প উপন্যাসের সংলাপের আগে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হ গীত না তর মাথা।  
- অপরাধ স্বীকার করলে? ইত্যাদি।

আরো কিছু ক্ষেত্রে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়:

• বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে।
• কোন কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে।
• স্থান বা কালগত ব্যবধান নির্দেশ করতে।
• উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• অভিধানে শব্দ ও তার অর্থের মাঝখানে ড্যাশ বসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
‘হরিণের চামড়ার আসন’ এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. ক) অজিনাসন
  2. খ) কৃত্তি
  3. গ) অজিন
  4. ঘ) নির্মোক
ব্যাখ্যা
• হরিণের চামড়ার আসন - অজিনাসন

• কয়েকটি বাক্য সংকোচন:
- হরিণের চামড়া: অজিন।
- বাঘের চামড়া: কৃত্তি।
- সাপের চামড়া: নির্মোক।
- হাতির শাবক: করভ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
‘দাড়ি (।)’ বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ-
  1. ক) পাদচ্ছেদ
  2. খ) অর্ধচ্ছেদ
  3. গ) পূর্ণচ্ছেদ
  4. ঘ) দৃষ্টান্তচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্ন দাড়ি (।)-এর বাংলা অর্থ - পূর্ণচ্ছেদ

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
কমা - পাদচ্ছেদ
সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ
কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ
কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।