পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
Exam - 23 The Code of Civil Procedure, 1908 : Subject Final Topic ➝ CPC-Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কত ধারায় “Order” (আদেশ) এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২(১০)
  2. ধারা ২(১২)
  3. ধারা ২(১৪)
  4. ধারা ২(১৬)
ব্যাখ্যা

ধারা ২(১৪): “Order” (আদেশ):
“Order” means the formal expression of any decision of a Civil Court which is not a decree.
“আদেশ” বলতে বোঝায় দেওয়ানি আদালতের যে কোন সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ, যা ডিক্রি (decree) নয়।

⇒ আদালতের যে সিদ্ধান্ত ডিক্রি নয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, তাকে আদেশ (Order) বলা হয়। অর্থাৎ, প্রতিটি আদালতের সিদ্ধান্ত হয় ডিক্রি, নয়তো আদেশ — যদি তা দেওয়ানি আদালতের হয়। যেমন - মামলার অগ্রগতি, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, বা মামলার খারিজ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইত্যাদি “আদেশ” হিসেবে গণ্য হয়।

.
'রায় (Judgment)' বলতে বোঝায়-
  1. আদালতের চূড়ান্ত আদেশ
  2. আদালতের যে কোনো আদেশ
  3. আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা
  4. কেবল বিচারকের মতামত
ব্যাখ্যা

ধারা ২(৯): “Judgment” (রায়):
“রায়” বলতে বোঝায় বিচারকের প্রদত্ত সেই বিবৃতি, যেখানে ডিক্রি (decree) বা আদেশের (order) ভিত্তি বা কারণসমূহ উল্লেখ থাকে।
“Judgment” means the statement given by the Judge of the grounds of a decree or order.

রায় হলো সেই লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য, যেখানে বিচারক ব্যাখ্যা করেন কেন এবং কোন কারণে তিনি একটি নির্দিষ্ট ডিক্রি বা আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, রায় হলো আদালতের সিদ্ধান্তের যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা।

.
নিম্নলিখিত কোনটি Res Judicata প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত নয়?
  1. উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন
  2. পূর্ববর্তী মামলা আপিলাধীন রয়েছে 
  3. পূর্ববর্তী মামলা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে
  4. পরবর্তী মামলার পক্ষ ও বিষয় এক
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ. পূর্ববর্তী মামলা আপিলাধীন রয়েছে।

Res Judicata (ধারা ১১, দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮) নীতি প্রযোজ্য হতে হলে- পূর্ববর্তী মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি (finally decided) হতে হবে। কিন্তু যদি পূর্ববর্তী মামলা এখনও আপিলাধীন (pending in appeal) থাকে, তবে সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয় না, এবং সেই কারণে Res Judicata নীতি প্রযোজ্য হবে না।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়। ১১ ধারার নিয়ম অনুসরণ করা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

শর্তসমূহ:
⇒ দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
⇒ উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় একই;
⇒ পরবর্তী মোকদ্দমাটি যারা দায়ের করেছে, পূর্ববর্তী চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমাটি সেই একই পক্ষগণের মধ্যে ছিল বা সেই পক্ষগণের মধ্যে ছিল যাদের মাধ্যমে তারা বা তাদের কোন একজন প্রতিকার দাবী করে;
⇒ উক্ত পক্ষগণ পূর্ববর্তী মোকদ্দমায় একই বিষয়বস্তু নিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করেছে;
⇒ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করেছে।

.
ধারা ১৮(২) অনুসারে, আপিল আদালত কখন এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করবে?
  1. যখন এখতিয়ার নিয়ে যুক্তিসঙ্গত অনিশ্চয়তা ছিল
  2. যখন এখতিয়ার নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না
  3. যখন আপিলকারী পক্ষ পরিবর্তন করেছে
  4. যখন ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটে নাই
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ. যখন কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না।

ধারা ১৮(২) – Code of Civil Procedure, 1908 অনুসারে:
যদি কোনো মামলা দায়ের করা হয় যেখানে সম্পত্তির অবস্থান নিয়ে স্থানীয় এখতিয়ার অনিশ্চিত ছিল, এবং উপধারা (১) অনুসারে কোনো বিবৃতি রেকর্ড করা হয়নি, এবং পরে আপিল বা পুনর্বিবেচনা আদালতে আপত্তি তোলা হয় যে মূল আদালত যার এখতিয়ার ছিল না, সেই মামলা নিষ্পত্তি করেছে- তাহলে আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না দেখা যায় যে:
- মামলা দায়েরের সময় এখতিয়ার নিয়ে কোনো যৌক্তিক অনিশ্চয়তা ছিল না,
- এবং এর ফলে ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা ঘটেছে (failure of justice)।

অর্থাৎ, যদি পূর্বেই যৌক্তিক অনিশ্চয়তা থাকত, আপিল আদালত আপত্তি গ্রহণ করবে না। শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তার অনুপস্থিতি থাকলে আপত্তি গ্রহণযোগ্য।

ধারা ১৮- যেখানে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার সীমা অনিশ্চিত, সেই ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের স্থান:
(১) যদি এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকে যে, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি (immovable property) দুই বা ততোধিক আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার সীমার মধ্যে কোথায় অবস্থিত, তাহলে ঐ আদালতগুলোর যেকোনো একটি আদালত, যদি সে অনিশ্চয়তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়, তবে সে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি (statement) রেকর্ড করতে পারবে এবং পরবর্তীতে সেই সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমাটি শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে পারবে। এবং সেই আদালতের প্রদত্ত ডিক্রি (decree) এমনভাবে কার্যকর হবে যেন সম্পত্তিটি তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায়ই অবস্থিত।
তবে শর্ত হলো- মামলাটির প্রকৃতি ও মূল্যের বিচারে আদালতটি এখতিয়ারপ্রাপ্ত হতে হবে।

(২) যদি উপধারা (১) অনুসারে কোনো বিবৃতি রেকর্ড করা না হয়, এবং পরবর্তীতে আপিল বা পুনর্বিবেচনা আদালতে আপত্তি তোলা হয় যে, মূল আদালত যার এখতিয়ার ছিল না সে মামলা নিষ্পত্তি করেছে - তাহলে আপিল বা পুনর্বিবেচনা আদালত সেই আপত্তি গ্রহণ করবে না, যদি না দেখা যায় যে - মামলা দায়েরের সময় এখতিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না, এবং এর ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটেছে।

.
In every plaint, how must the facts be proved?
  1. evidence
  2. affidavit
  3. cross-examination
  4. oral testimony
ব্যাখ্যা

Section 26- Institution of Suits:
(1) Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed.
(2) In every plaint, facts shall be proved by affidavit.

ধারা ২৬- মোকদ্দমা দায়ের করা:
(১) প্রতিটি মোকদ্দমা (suit) আরজি (plaint) দাখিলের দ্বারা দায়ের করতে হবে অথবা সেইভাবে, যা আইনে নির্ধারিত হতে পারে।(২) প্রতিটি আরজির (plaint) তথ্য (facts) শপথপত্র (affidavit) দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।

.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ২২ এর অধীনে মামলা হস্তান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে-
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. বিচারিক আদালত
  4. বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ২২- একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মামলা হস্তান্তর করার ক্ষমতা:
যদি কোনো মামলা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়ের করা যায় এবং তা এক আদালতে দায়ের করা হয়, তবে যে কোনো বিবাদী (defendant), অন্যান্য পক্ষকে নোটিশ দিয়ে, সর্বোত্তম সুযোগে (যখন মামলার ইস্যু স্থির হয় বা স্থির করার আগে), আবেদন করতে পারবে মামলাটি অন্য কোনো আদালতে হস্তান্তরের জন্য।
যে আদালতকে এই আবেদন করা হয়, সে অন্য পক্ষের আপত্তি বিবেচনা করার পর, নির্ধারণ করবে কোন আদালত যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন, এবং মামলাটি সেই আদালতে স্থানান্তর করা হবে।

.
যখন মামলাকারী নিশ্চিত নয় যে কার কাছ থেকে প্রতিকার প্রাপ্য, তখন তিনি আদেশ ১ এর বিধি ৭ অনুসারে-
  1. মামলা দায়ের করতে পারবেন না
  2. মামলাটি স্থগিত রাখতে হবে
  3. আদালতের নির্দেশমতে যেকোনো একজন বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন
  4. একাধিক বিবাদীকে একত্রে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন
ব্যাখ্যা

আদেশ ১ এর বিধি ৭:
যখন মামলাকারী (plaintiff) নিশ্চিত নন যে, কার (কোন ব্যক্তির) কাছ থেকে তিনি প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ (redress) পাওয়ার অধিকারী, তখন তিনি দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে বিবাদী (defendant) হিসেবে একত্রে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন—যাতে আদালত সব পক্ষের মধ্যে নির্ধারণ করতে পারে, কোন বিবাদী দায়ী এবং কতটুকু পরিমাণে দায়ী।

সহজভাবে বললে,
যদি মামলাকারীর সন্দেহ থাকে যে কার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত, তাহলে তিনি একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে বিবাদী করতে পারেন, যাতে আদালত ঠিক করতে পারে কে দায়ী এবং কতটা দায়ী।

.
A, B-কে বছরে ৫,০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ২০০৮ সালে শুধু ২০০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। এক্ষেত্রে, A পরে ২০০৫ বা ২০০৭ সালের ভাড়ার জন্য-
  1. আলাদা মামলা করতে পারবে
  2. আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা করতে পারবে
  3. আলাদা মামলা করতে পারবে না
  4. আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় বিচার করবে
ব্যাখ্যা

Order II Rule 2 of the Code of Civil Procedure (CPC):
প্রতিটি মামলা এমনভাবে দায়ের করতে হবে যাতে তা মামলাকারীর (plaintiff) পুরো দাবি (claim) অন্তর্ভুক্ত করে, যা তিনি ঐ একই কারণ (cause of action) থেকে করার অধিকার রাখেন।
তবে, মামলাকারী চাইলে তার দাবির কোনো অংশ ত্যাগ করতে পারেন, যদি তা করার মাধ্যমে মামলাটি কোনো নির্দিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের (jurisdiction) মধ্যে আনা সম্ভব হয়।

(২) যদি কোনো মামলাকারী তার দাবির কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেন বা সেই অংশের জন্য মামলা না করেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া অংশের জন্য আবার মামলা করতে পারবেন না।
অর্থাৎ: একবার কোনো অংশ বাদ দিলে বা ত্যাগ করলে, পরে সেই অংশের জন্য পুনরায় মামলা করা যাবে না।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি একই “cause of action” (অর্থাৎ একই ঘটনার ভিত্তিতে) একাধিক প্রতিকার (relief) পাওয়ার অধিকারী হন, তাহলে তিনি চাইলে সবগুলো প্রতিকার বা যেকোনো একটি প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারেন। তবে যদি তিনি আদালতের অনুমতি (leave of Court) ছাড়া কোনো প্রতিকার বাদ দেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া প্রতিকারের জন্য আলাদা করে মামলা করতে পারবেন না।

Explanation (ব্যাখ্যা):
একটি বাধ্যবাধকতা (obligation), তার সাথে সম্পর্কিত জামানত বা সিকিউরিটি, এবং সেই বাধ্যবাধকতা থেকে ক্রমাগত উদ্ভূত দাবিগুলো — সব মিলিয়ে একটি cause of action বলে গণ্য হবে।

Illustration (উদাহরণ):
A, B-কে বছরে ১,২০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ১৯০৫, ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ১৯০৮ সালে শুধু ১৯০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। তাহলে A পরে ১৯০৫ বা ১৯০৭ সালের ভাড়ার জন্য আলাদা মামলা করতে পারবে না।

.
যদি আদালত বাদীর ব্যক্তিগত হাজিরা প্রয়োজন মনে করে, তখন আদেশ ৫ এর বিধি ৩ অনুসারে আদালত-
  1. মামলাটি খারিজ করবে
  2. শুনানি স্থগিত করবে
  3. উপস্থিতির আদেশ দিতে পারে
  4. সমন জারি স্থগিত করবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৫ বিধি ৩:
(১) যদি আদালত মনে করে যে বিবাদীর (defendant) ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, তাহলে সমন (summons)-এ উল্লেখ থাকবে যে, নির্দিষ্ট দিনে তাকে নিজে আদালতে হাজির হতে হবে।

(২) যদি আদালত মনে করে যে বাদীর (plaintiff) ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, তাহলে আদালত সেই একই দিনের জন্য তার উপস্থিতির আদেশ দিতে পারবে।

১০.
“Precept” বলতে কী বোঝায়?
  1. মামলার নথি
  2. ডিক্রির অনুলিপি
  3. আদালতের চূড়ান্ত রায়
  4. বিচারকের আদেশপত্র
ব্যাখ্যা

বিচারকের আদেশপত্র বা অনুরোধলিপি [Precept]:
Precept অর্থ হলো বিচারকের আদেশপত্র বা নির্দেশাজ্ঞা বা অনুরোধলিপি। দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় Precept সম্পর্কিত বিধান করা হয়েছে। ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত উপযুক্ত মনে করলে, অন্য কোনো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রিটি জারি করার অনুরোধ করতে পারে এবং এইরুপ আদালত ডিক্রি জারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে। যে আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারির ব্যাপারে সম্পত্তি ক্রোকের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে সম্পত্তি ক্রোক করবে।

ডিক্রি প্রদানকারী আদালত সময় বাড়িয়ে না দিলে, অথবা যে-আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেই আদালতের নিকট ডিক্রি হস্তান্তর না করা হলে এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন না করলে বিচারকের আদেশপত্র বা অনুরোধলিপি-অনুসারে কোনো ক্রোক ২ (দুই) মাসের অধিককাল বলবৎ থাকবে না।

১১.
যদি কোনো পক্ষ অনুপস্থিত থাকেন বা স্বাক্ষর দিতে অক্ষম হন, তখন তার প্লিডিং এ স্বাক্ষর করতে পারেন কে?
  1. কোনো সাক্ষী
  2. মামলার প্রতিপক্ষ
  3. আদালতের বিচারক
  4. তার অনুমোদিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

Order VI Rule 14 – Pleading to be signed:
প্রতিটি প্লিডিং (pleading) অর্থাৎ plaint (আরজি) বা written statement (বিবাদীর উত্তর) পক্ষ নিজে এবং তার নিযুক্ত আইনজীবী (pleader) উভয়ের স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে।

তবে শর্ত হলো:
দি কোনো কারণে (যেমন অনুপস্থিতি বা অন্য যুক্তিসঙ্গত কারণবশত) পক্ষ নিজে স্বাক্ষর করতে না পারেন, তাহলে তার পক্ষে যথাযথভাবে অনুমোদিত (duly authorized) অন্য কোনো ব্যক্তি তার হয়ে সেই প্লিডিং এ স্বাক্ষর করতে পারবেন অথবা মামলা করতে বা আত্মরক্ষা দিতে পারবেন।

১২.
পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ এর বিধান কোন বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৬
  2. আদেশ ৭ বিধি ৬
  3. আদেশ ৮ বিধি ৬
  4. আদেশ ৯ বিধি ৬
ব্যাখ্যা

• আদেশ ৮ বিধি ৬: লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ-
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে দায়ের করা মামলায় বাদীর নিকট থেকে বিবাদীর প্রাপ্য টাকা বাদীর দাবী পরিশোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয়, এবং বাদীর মামলা অনুযায়ী বিবাদীর দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তখন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখে, আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে পরবর্তী সময়ে নয়, বিবাদী তার পাওনা টাকার বিস্তারিত সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবেন।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্য:
- এই লিখিত বিবৃতি ক্রস-মামলার আরজির সমতুল্য কার্যকরী হবে।
- আদালত এতে মূল দাবি এবং পারস্পরিক দাবী একত্রিত করে চূড়ান্ত রায় দিতে সক্ষম হবে।

তবে, ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে উকিলের খরচের দাবী থাকলে, এটি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবাদীর লিখিত বিবরণের জন্য প্রযোজ্য নিয়মাবলী, প্রদত্ত লিখিত বিবৃতির উত্তর দানেও প্রযোজ্য হবে।

১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII Rule 13 এ বাদীকে কী অধিকার দেয়া হয়েছে?
  1. আরজি সংশোধনের
  2. আরজির সাথে দলিল দাখিলের
  3. নতুন আরজি দায়েরের
  4. মোকদ্দমার মূল্যমান সংশোধনের
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) নতুন আরজি দায়েরের।

Order VII Rule 13 – Where rejection of plaint does not preclude presentation of fresh plaint:
যদি কোনো আরজি পূর্বোক্ত কারণগুলির (যেমন: ত্রুটি, ভুল মূল্যায়ন, স্ট্যাম্প না থাকা ইত্যাদি) কারণে আদালত দ্বারা খারিজ (rejected) হয়, তবে শুধুমাত্র সেই কারণে বাদী (plaintiff) একই cause of action (মোকদ্দমার মূল কারণ)-এর ভিত্তিতে নতুন করে আরজি দায়ের করতে বাধা প্রাপ্ত হবেন না।

১৪.
আদেশ ১০ বিধি ২ এর অধীন কার থেকে মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করা যেতে পারে?
  1. কেবল বাদীর থেকে
  2. কেবল বিবাদী থেকে
  3. কেবল প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম কোনো পক্ষের সাক্ষী থেকে
  4. প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম আদালতে উপস্থিত যে কেউ থেকে
ব্যাখ্যা

উত্তর: ঘ) প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম আদালতে উপস্থিত যে কেউ থেকে।

আদেশ ১০ বিধি ২- পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি:
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

১৫.
প্রশ্নমালা রদ বা কর্তনের জন্য দরখাস্ত কবে পেশ করা যেতে পারে?
  1. মামলার যেকোনো সময়
  2. প্রশ্নমালা জারির ৩ দিনের মধ্যে
  3. প্রশ্নমালা জারির ৭ দিনের মধ্যে
  4. প্রশ্নমালা জারির ১০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১১ বিধি ৭- প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন:
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে-এই অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, বা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন দরখাস্ত করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের ভিতর পেশ করা যেতে পারে।

১৬.
মোকদ্দমার একাধিক বিবাদীর মধ্যে কেউ অনুপস্থিত থাকলে কী হবে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিত হবে
  2. মোকদ্দমা অগ্রসর হবে
  3. মোকদ্দমা বাতিল হবে
  4. শুধুমাত্র উপস্থিতদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯ বিধি ১১: কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants]:
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয় এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

১৭.
আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে কোন দলিলের বিষয়বস্তু বিবেচনায় নিতে পারে?
  1. কেবল আদালতের নিজস্ব নথি
  2. যে কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
  3. কেবল বাদীর দাখিলকৃত দলিল
  4. কেবল সাক্ষী কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৪ বিধি-৩: যে সকল বিষয় হতে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা যায়:
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন-
ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উক্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ;
খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূহ;
গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু।

১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৭৫ অনুযায়ী, আদালত কোন উদ্দেশ্যে কমিশন ইস্যু করতে পারে না?
  1. কোনো ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা
  2. স্থানীয় তদন্ত করা
  3. রায় কার্যকর করা
  4. সম্পত্তি বাটোয়ারা করা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ. রায় কার্যকর করা।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৭৫ এর বিধান- কমিশন প্রেরণের জন্য আদালতের ক্ষমতা:

- নির্ধারিত শর্তাবলি ও সীমা সাপেক্ষে আদালত নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কমিশন ইস্যু করতে পারবেন-
ক) কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে;
খ) স্থানীয় তদন্ত পরিচালনার জন্য;
গ) হিসাব পরীক্ষা বা সমন্বয় করার জন্য;
ঘ) সম্পত্তি বাটোয়ারা করার জন্য।

⇒ কিন্তু রায় কার্যকর করা কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। এটি আদালতের আদেশ বা ডিক্রির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, কমিশনের মাধ্যমে নয়।

১৯.
মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবির ক্ষেত্রে আদালত অভিযোগকারী পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কত টাকা পর্যন্ত খরচ প্রদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১০,০০০ টাকা
  2. ২০,০০০ টাকা
  3. ৩০,০০০ টাকা
  4. ৫০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

Code of Civil Procedure (CPC) এর ধারা ৩৫ক: মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষতিপূরণমূলক খরচ:
(১) যদি কোনো মোকদ্দমা বা অন্য কোনো কার্যধারা (যেমনঃ পরিপালন কার্যধারা), যা আপিল নয়, তাতে কোনো পক্ষ কোনো দাবি বা প্রতিরক্ষার (বা তার কোনো অংশের) বিরুদ্ধ অভিযোগ করেন যে, উক্ত দাবি বা প্রতিরক্ষা মিথ্যা বা হয়রানিমূলক, এবং পরবর্তীতে যদি সেই দাবি বা প্রতিরক্ষা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়, তাহলে আদালত, উক্ত দাবি বা প্রতিরক্ষাকে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক বলিয়া ঘোষণার কারণসমূহ লিখিতভাবে উল্লেখ করিয়া, অভিযোগকারী পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে খরচ প্রদানের আদেশ দিবে, যা আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অতিক্রম না করিয়া, সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত হইতে পারিবে।

(২) এই ধারায় যাহার বিরুদ্ধে খরচ প্রদানের আদেশ দেওয়া হইবে, সে ব্যক্তি কেবল উক্ত আদেশের কারণে তার দায়িত্বরত কোনো ফৌজদারি দায় হইতে অব্যাহতি পাইবেন না, যদি তিনি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষা প্রদান করেন।

(৩) এই ধারায় প্রদত্ত খরচের পরিমাণ পরবর্তীকালে ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতির দাবিতে দায়েরকৃত যেকোনো মোকদ্দমায় বিবেচনায় নেওয়া হইবে, যদি সেই মোকদ্দমা একই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত হয়।

⇒ আগে মামলা-মোকদ্দমা অপ্রয়োজনে দায়ের করে হয়রানি করলে আদালত সর্বোচ্চ ২০,০০০/- টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারত। বর্তমানে Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে আদালত ৫০,০০০/- টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারবেন।

২০.
যদি কেবল বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং মোকদ্দমার পক্ষ আপত্তি না করে, আদালত আদেশ-১৫, বিধি-৩ অনুসারে কী করতে পারে?
  1. মামলা স্থগিত করতে পারে
  2. রায় বাতিল করতে পারে
  3. সরাসরি রায় ঘোষণা করতে পারে
  4. নতুন মামলা শুরু করতে পারে
ব্যাখ্যা

আদেশ-১৫, বিধি ৩-
১) যদি মামলার পক্ষদের মধ্যে আইন বা ঘটনার কোনো প্রশ্ন বিচারযোগ্য হয় এবং আদালত আগে থেকেই বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, তবে আদালত যদি মনে করেন যে আরও যুক্তি বা প্রমাণের দরকার নেই এবং তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করলে কারো প্রতি অবিচার হবে না, তাহলে আদালত সরাসরি বিচার্য বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন।

তবে, যদি শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয়ে থাকে এবং মামলার পক্ষ বা তাদের উকিল উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না করেন, তাহলে আদালত সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করতে পারেন।

২) কিন্তু, যদি আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি, তাহলে তিনি মামলার অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

২১.
Peremptory hearing এর আগে খরচ ছাড়া কোনো পক্ষকে সর্বোচ্চ কতটি মুলতবি আদেশ দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৭ বিধি ১(৩):
উপ-বিধি (১) ও (২)-এ যা বলা হয়েছে, তা থাকলেও, আদালত কোনো পক্ষকে Peremptory hearing এর আগে এক মামলার জন্য চারটির বেশি মুলতবি আদেশ দিতে পারবে না।

যদি কোনো পক্ষকে উল্লিখিত সীমার পরও মুলতবি আদেশ প্রদান করা হয়, তবে সেই পক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য পক্ষকে খরচ হিসেবে ন্যূনতম দুইশত টাকা এবং সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা দিতে হবে।

যদি এই খরচ প্রদানের নিয়ম পালন না করা হয়:
- বাদী যদি তা না দেয়, তাহলে মামলাটি বাতিল হতে পারে।
- বিবাদী যদি তা না দেয়, তাহলে মামলাটি একতরফা রায়ে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পক্ষকে খরচ সহ হলেও সর্বোচ্চ তিনটি মুলতবি আদেশই দেওয়া যাবে।

২২.
নিচের কোনটি আদেশ ১৮ বিধি ৪ অনুযায়ী সঠিক নয়?
  1. সাক্ষ্য মৌখিকভাবে দিতে হবে
  2. সাক্ষ্য প্রকাশ্য আদালতে দিতে হবে
  3. সাক্ষ্য লিখিত ভাবে দিতে হবে 
  4. সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে গ্রহণ করতে হবে
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ (প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি)-
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

[Witnesses to be examined in open Court-
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.]

২৩.
আদেশ ১২ বিধি ২ এর অধীন নোটিশ দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
  1. সাক্ষী হাজির করানো 
  2. দলিল স্বীকার করানো
  3. ঘটনা স্বীকার করানো
  4. মোকদ্দমার খরচ প্রদান
ব্যাখ্যা

আদেশ ১২ বিধি ২: দলিল স্বীকারের নোটিশ:
মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে নোটিশ প্রদান করতে পারে, যাতে বলা হয় যে, তারা পনেরো দিনের মধ্যে কোনো দলিল স্বীকার করবে, তবে উপযুক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া। যদি অন্য পক্ষ তা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বা অবহেলা করে, তবে দলিল প্রমাণের খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যেহেতু তারা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে আদালত যদি অন্যভাবে নির্দেশ না দেয়।

২৪.
আদেশ ৪ বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার জন্য কোর্ট ফি কখন পরিশোধ করতে হবে?
  1. আরজি দাখিলের পর
  2. আরজি দাখিলের সময়
  3. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  4. মামলার প্রথম শুনানির দিন
ব্যাখ্যা

• আদেশ ৪ বিধি ১: মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে:
১) আদালত অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে এবং আরজি সংশ্লিষ্ট যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলো আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর পরোয়ানা জারি করার জন্য পেশ করতে হবে।

১ক) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করার জন্য নির্ধারিত প্রদেয় কোর্ট ফি আরজি দাখিল করার সময় এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যখন সমন ব্যবহার করা হয় তখন পরিশোধ করতে হবে।


১খ) সমনের একটি নকলসহ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সকল বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা যুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সঙ্গে বাদীকে পেশ করতে হবে।


২) ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশের বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য হয়, তদনুসারে প্রত্যেকটি আরজি প্রণয়ন করতে হবে।

২৫.
আদেশ ২১ বিধি ৬৮ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রির পূর্বে সর্বনিম্ন কতদিনের সময় দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর বিধান- বিক্রয়ের সময়:
বিক্রয়ের আদেশদানকারী বিচারকের আদালত ভবনে ইশতেহারের নকল লটকিয়ে দেয়ার তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি দায়িকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

২৬.
আদেশ ৭ বিধি ৬ অনুযায়ী, তামাদি আইনের অধীন অব্যাহতি দাবি করার সময় কী প্রয়োজন?
  1. নোটিশ জারি করতে হবে
  2. বাদীকে আদালতে হাজির হতে হবে
  3. আরজিতে অব্যাহতির কারণ লিখতে হবে
  4. মৌখিকভাবে শুনানিতে কারণ বলতে হবে
ব্যাখ্যা

• আদেশ ৭ বিধি-৬ (তামাদি আইন হতে অব্যাহতি লাভের কারণসমূহ) 
"যদি তামাদি আইনে বিধৃত সময়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মোকদ্দমা দাখিল করা হয়, তাহলে উক্ত তামাদী আইনের বিধান হতে যে কারণে অব্যাহতি দাবী করা হয়, তা আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।"

Grounds of exemption from limitation law-
Where the suit is instituted after the expiration of the period prescribed by the law of limitation, the plaint shall show the ground upon which exemption from such law is claimed.

২৭.
“In forma pauperis” দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আদেশ ৩১
  2. আদেশ ৩২
  3. আদেশ ৩৩
  4. আদেশ ৩৭
ব্যাখ্যা

“In forma pauperis” একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হলো “দরিদ্র ব্যক্তির রীতিতে” বা “নিঃস্বভাবে।” In forma pauperis-এর মাধ্যমে দায়ের করা মামলা দরিদ্র ব্যক্তিকে মামলার খরচ বহন না করেই মামলা দায়ের করার সুযোগ দেয়। তবে, in forma pauperis অনুযায়ী মামলা পরিচালনা করা কোনো স্বাভাবিক অধিকার নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতে, নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis)।

- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।

২৮.
নিচের কোনটি ধারা ১০৯ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে আপিলের যোগ্য নয়?
  1. জেলা আদালতের রায় 
  2. হাইকোর্ট বিভাগের রায়
  3. সুপারিশকৃত মামলার রায়
  4. চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক. জেলা আদালতের রায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

কিন্তু জেলা আদালতের রায় সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আপিলযোগ্য নয়।

২৯.
ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা কার বিরুদ্ধে দায়ের করা যায়?
  1. শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধে
  2. শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদিত পক্ষের বিরুদ্ধে
  3. সমস্ত পক্ষের বিরুদ্ধে যারা একই সম্পত্তি বা টাকা দাবী করছে
  4. একই সম্পত্তি বা টাকা দাবীকারীদের মধ্যে একজন দাবিদারের বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ. সমস্ত পক্ষের বিরুদ্ধে যারা একই সম্পত্তি বা টাকা দাবী করছে।

ধারা ৮৮: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা কখন রুজু করা যেতে পারে:

যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয়, উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি- দাওয়া না থাকে এবং যদি তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন, তবে ঐ সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ঐরূপ দাবিদারগণের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সকল পক্ষের অধিকার যা দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে, এমন কোন মোকদ্দমা যদি বিচারাধীন থাকে তাহলে, ঐরূপ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।

৩০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কত ধারার অধীনে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে 'compliance report' জমা দেয়ার আদেশ দিতে পারে?
  1. ধারা ৯০
  2. ধারা ৯১
  3. ধারা ৯৪
  4. ধারা ৯৪ক
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৯৪ক: আদেশ বা ডিক্রি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে:
 আদালত যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার জন্য নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অন্তর্ভুক্ত, তাদের নির্দেশ দিতে পারে যাতে তারা আদালত কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সহায়তা করে এবং আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মতি প্রতিবেদন (compliance report) জমা দেয়।

[For the purpose of execution of any decree or order, the Court may direct the executive authorities, including law enforcement agencies, to assist any person designated by it and to submit compliance report within the time specified by it.]

৩১.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র কী?
  1. মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ফি আদায় নিশ্চিত করা
  2. কেবল আদালতের কার্যধারা নিশ্চিত করা
  3. ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা
  4. মামলা স্থানান্তর এবং ফি আদায় নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।

৩২.
ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সমন পাঠানোর খরচ কে বহন করবে?
  1. আদালত
  2. বাদী
  3. বিবাদী
  4. আদালত নির্ধারণ করবে
ব্যাখ্যা

Order V, Rule 9 – Service of Summons (সমনের প্রেরণ):
(1) যদি বিবাদী (defendant) সেই আদালতের এখতিয়ারের (jurisdiction) মধ্যে বসবাস করেন, অথবা তার একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি (agent) সেখানে বসবাস করেন যিনি সমন গ্রহণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত, তাহলে সমন পাঠানো হবে— আদালতের সংশ্লিষ্ট অফিসার (proper officer) বা তার অধীনস্থ কর্মচারীর মাধ্যমে, অথবা জেলা জজ কর্তৃক অনুমোদিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। (তবে আদালত চাইলে ভিন্ন নির্দেশ দিতে পারে।)

(2) যদি “proper officer” অন্য কোনো আদালতের কর্মকর্তা হন, তাহলে সমন তাকে ডাকযোগে বা আদালত নির্দেশিত অন্য কোনো উপায়ে পাঠানো যেতে পারে।

(3) আদালত চাইলে মামলাকারীর (plaintiff) আবেদনক্রমে, সমন পাঠানোর পাশাপাশি নিম্নলিখিত মাধ্যমেও সমন প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারে:
- Short Message Service (SMS)
- Voice Calls
- Instant Messaging (যেমন WhatsApp, Messenger ইত্যাদি)
- Fax Message
- E-mail
এগুলো মামলাকারী নিজের খরচে করবে, তবে প্রমাণ (proof of service) অবশ্যই নথিভুক্ত রাখতে হবে।

(4) জেলা জজ (District Judge) এক বা একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের তালিকা প্রস্তুত করবেন, এবং তা সময়ে সময়ে হালনাগাদ করে অধীনস্থ সকল দেওয়ানি আদালতকে জানাবেন।

(5) যখন সমন কোনো অফিসার বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হবে, তারা ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সমন পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে এবং সে সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

শর্ত:
৩০ দিনের মধ্যে সমন পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে-
- সেই কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলার (misconduct) জন্য দায়ী হবেন;
- কুরিয়ার সার্ভিস হলে, জেলা জজ তাকে অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ দেবেন।

৩৩.
আদেশ ২৩-এর বিধান কখন প্রযোজ্য হবে না?
  1. মামলা দায়েরের কার্যক্রমে
  2. ডিক্রি কার্যকর করার কার্যক্রমে
  3. দাবির আংশিক পরিত্যাগের সময়
  4. মামলার আপোষ মীমাংসার কার্যক্রমে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ এর বিধি ৪ স্পষ্টভাবে বলে:
"এই আদেশের কোনো কিছুই ডিক্রি বা আদেশের জারির কোন কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে না।"
অর্থাৎ, একবার ডিক্রি হয়ে গেলে সেটি কার্যকর করার বা execution চালানোর জন্য আদেশ ২৩-এর বিধান প্রযোজ্য নয়। এ জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

৩৪.
ধারা ১৪৭ অনুযায়ী, অক্ষম ব্যক্তির পক্ষে কে চুক্তি সম্পাদন করতে পারে?
  1. নেক্সট ফ্রেন্ড
  2. রিসিভার
  3. আদালত
  4. অক্ষম ব্যক্তি নিজে
ব্যাখ্যা

ধারা ১৪৭- অক্ষম ব্যক্তির সম্মতি বা চুক্তি (Consent or agreement by persons under disability):
যে সমস্ত মোকদ্দমায় কোনো অক্ষম ব্যক্তি (যেমন—নাবালক, মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি ইত্যাদি) পক্ষ হিসেবে থাকে, সেই মোকদ্দমার কোনো কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কিত সম্মতি বা চুক্তি, যদি তা আদালতের সুস্পষ্ট অনুমোদনক্রমে (express leave of the Court) ঐ ব্যক্তির next friend বা guardian for the suit দ্বারা প্রদান বা সম্পাদিত হয়, তবে সেই সম্মতি বা চুক্তি তেমনই কার্যকর এবং বলবৎ হবে, যেমনটি ঐ ব্যক্তি সম্পূর্ণ সক্ষম অবস্থায় নিজেই প্রদান বা সম্পাদন করতেন।

৩৫.
আদেশ ৪০ বিধি ১ এর অধীন আদালত কোন শর্তে রিসিভার নিয়োগ করতে পারে?
  1. সরকারের অনুমতিতে
  2. ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক মনে হলে
  3. মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের আবেদন সাপেক্ষে
  4. আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল থাকলে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪০ বিধি ১- রিসিভার নিয়োগ:
(১) আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়া-
ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন;
খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;
গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপদ করতে পারেন; এবং
ঘ) মামলা দায়ের করা ও জবাব দেয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্ৰহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

(২) কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল ও জিম্মাদারী হতে অপসারণের জন্য যাকে মামলার কোন একটি পক্ষের অনুরূপ ভাবে অপসারণের বর্তমান অধিকার নাই, অত্র বিধির কোন কিছু আদালতকেও উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ অপসারণের ক্ষমতা দিবে না।

৩৬.
ধারা ১১৫(৪) অনুসারে পুনর্বিবেচনার (revision) আবেদনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. জেলা জজ আদালতের অনুমতি
  2. হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি
  3. পক্ষদ্বয়ের সম্মতি
  4. আবেদনকারীর খরচ পরিশোধ করে
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১৫(৪):
জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ, যথাযথ ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) বা (৩)-এর অধীনে প্রদত্ত আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা যাবে। তবে, হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেবে যদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের ভুলের কারণে ভ্রান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার কারণ হয়। হাইকোর্ট বিভাগ মামলা বা কার্যক্রমে যে আদেশ উপযুক্ত মনে করবে তা প্রদান করতে পারে।

⇒ Section 115(4)- An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit.

৩৭.
আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে কোন নিয়মাবলি প্রযোজ্য হয়?
  1. আদেশ ৪৩-এর নিজস্ব নিয়মাবলি
  2. আদেশ ৪১-এর নিয়মাবলি
  3. আদেশ ২১-এর নিয়মাবলি
  4. আদেশ ৪৫-এর নিয়মাবলি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৩, বিধি-২ (Order XLIII, Rule 2) অনুযায়ী:
"The rules of Order XLI shall apply, so far as may be, to appeals from orders."

- অর্থাৎ, আদেশ-৪৩ এর আওতাভুক্ত আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে যখন আপিল করা হয়, তখন আদেশ-৪১ (Order XLI)–এর নিয়মাবলি প্রযোজ্য হয়, যতদূর প্রয়োগযোগ্য হয়।

৩৮.
আদেশ ৩৯, বিধি ৬-এর অধীনে আদালত কোন ধরনের সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তি
  2. শুধুমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি
  3. স্থাবর এবং অস্থাবর উভয় সম্পত্তি
  4. কোনো সম্পত্তিই নয়
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, আদেশ ৩৯, বিধি ৬. অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা:
আদালত, মামলার কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে, এমন কোনো অস্থাবর সম্পত্তি, যা মামলার বিষয়বস্তু বা মামলায় রায়ের আগে ক্রোক করা হয়েছে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, বা অন্য কোনো ন্যায্য ও পর্যাপ্ত কারণে যা অবিলম্বে বিক্রয় করা কাম্য বলে মনে হয়, সেই সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে। এই বিক্রয় আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা, নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং আদালত যে শর্তাবলি উপযুক্ত মনে করে তা মেনে সম্পন্ন হবে।

৩৯.
আদেশ ৪১-এর বিধি ১৯ক অনুযায়ী, পুনঃগ্রহণ এর নোটিশ জারির খরচ কে বহন করবে?
  1. আদালত
  2. বিবাদী
  3. আপিলকারী
  4. উভয় পক্ষ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮: আদেশ ৪১, বিধি ১৯ক: আপিলের সরাসরি পুনঃগ্রহণ:
(১) বিধি ১৯ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়াতে এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করতে, বিধি ১৯-এর অধীনে প্রয়োজনীয় যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য আপিলকারীকে প্রমাণ পেশ করতে না দিয়ে সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করাতে পারে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে আপিল পুনঃগ্রহণ করানো হবে না যদি না আপিল ডিফল্টে খারিজ হওয়ার তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে আদালতে পুনঃগ্রহণ এর জন্য শপথপত্রসহ একটি আবেদন দাখিল করা হয়:
আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোনো আপিল একবারের বেশি পুনঃগ্রহণ করানো যাবে না।

(২) উপ-বিধি (১)-এর অধীনে আপিল পুনঃগ্রহণ এরআদেশ দেওয়া হলে, আদালত আপিলকারীর খরচে আপিলে উপস্থিত থাকা বিবাদীর উপর এই আদেশের নোটিশ জারি করবে।

৪০.
ধারা ১৪৪ অনুসারে প্রত্যর্পণের আবেদন কখন করা যায়?
  1. ডিক্রি জারির আগে
  2. মামলা শুরুর সময়
  3. ডিক্রি পরিবর্তন বা রদ হলে
  4. যেকোনো সময় মামলার পক্ষের ইচ্ছায়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিধান: প্রত্যর্পণের দরখাস্ত: 
(১) যে ক্ষেত্রে কোন - ডিক্রির পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত -(ডিক্রি প্রদানকারী আদালত) এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা - করবেন, যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন তাদেরকে সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদবদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য মোকদ্দমার খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা পরিশোধসহ আদালত যথোপযুক্ত আদেশ দান করতে পারেন।

(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে, এই উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না।

৪১.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী কোন শর্তে রায় মহিলা বিবাদীর স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে?
  1. স্বামী যদি মামলায় সরাসরি পক্ষ হন
  2. স্বামী যদি মামলায় সাক্ষী হন
  3. স্বামী যদি আইন অনুসারে স্ত্রীর দেনার জন্য দায়ী হন
  4. কোনো শর্ত ছাড়াই 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির, আদেশ-২২, বিধি-৭: মহিলা পক্ষের বিবাহের ফলে মামলা স্থগিত হবে না:
(১) কোনো মহিলা বাদী বা বিবাদীর বিবাহ হলেও মামলাটি স্থগিত হবে না, বরং মামলা অগ্রসর হয়ে রায় প্রদান করা যাবে; এবং যেখানে রায় মহিলা বিবাদীর বিরুদ্ধে থাকে, সেখানে রায় শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে।

(২) যেখানে স্বামী আইন অনুসারে তার স্ত্রীর দেনার জন্য দায়ী, সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে; এবং স্ত্রীর পক্ষে রায় হলে, স্বামীর আবেদনপত্রে, যেখানে স্বামী আইন অনুযায়ী রায়ের বিষয়ভিত্তিক অধিকারী, সেখানে রায় কার্যকর করার জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

৪২.
অধস্তন আদালতের ভাষা এবং কার্যধারার লিখিত রীতি কে নির্ধারণ করতে পারে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. সরকার
  3. উক্ত আদালতের বিচারক
  4. আদালতের রেজিস্টার
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) সরকার।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা: অধস্তন আদালতে ভাষা:
১) এই আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোন হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে ভাষা যা ছিল, সরকার অন্যভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেটাই উক্ত অধস্তন আদালতে ভাষা হিসাবে চলতে থাকবে।

২) অনুরূপ আদালতের ভাষা কি হবে এবং কোন রীতিতে অনুরূপ আদালত সমীপে দরখাস্ত এবং আদালতে কার্যধারা লিখিত হবে তা সরকার ঘোষণা করতে পারবে।

৩) যখন অনুরূপ কোন আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু লিখিতরূপে নিরূপণ করার জন্য এই আইন আদেশ প্রদান করে বা অনুমতি প্রদান করে, তখন অনুরূপ লিখন ইংরেজিতে হতে পারে; কিন্তু কোন পক্ষ বা তার আইনজীবী যদি ইংরেজির সঙ্গে অপরিচিত হন, তবে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় উক্ত ইংরেজির অনুবাদ তাকে সরবরাহ করা হবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যে-রূপ উপযুক্ত মনে করেন, অনুবাদের খরচ প্রদানের ব্যাপারে সেরূপ আদেশনামা প্রদান করবে।

৪৩.
রায় একবার স্বাক্ষরিত হলে, পরবর্তীতে তা কখন সংশোধন করা যাবে?
  1. পুনরীক্ষণের মাধ্যমে
  2. পক্ষগণের সম্মতির ভিত্তিতে
  3. মামলাকারীর অনুমতি পেলে
  4. কখনোই সংশোধন করা যাবে না
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২০নং আদেশের বিধি ৩ অনুযায়ী-
রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক কর্তৃক তা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত তা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন (Amendment of judgement, decree & order) করার বিধান রয়েছে। এই ধারামতে, আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে-
- করনিক বা গানিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes),
- আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।

৪৪.
রিসিভারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. রিসিভারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে
  2. রিসিভারের সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪০ বিধি-৪: রিসিভারের দায়িত্ব বলবৎকরণ:
যেক্ষেত্রে রিসিভার-
ক) আদালতের নির্দেশিত সময়ে এবং ফরমে তার হিসাবাদি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, অথবা
খ) তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা আদালতের নির্দেশ মতে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, বা
গ) তার ইচ্ছামত বরখেলাপ বা গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করতে বা তার দ্বারা সাধিত অনিষ্টের খেসারত প্রদানে ব্যবহার করতে পারে এবং অবশিষ্ট টাকা (যদি কোন) রিসিভারের নিকট প্রদান করবে।

৪৫.
বিবাদী কত দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।

৪৬.
সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমায় বিবাদী হিসেবে কী নাম উল্লেখ করতে হবে?
  1. প্রজাতন্ত্র
  2. বাংলাদেশ
  3. রাষ্ট্রপতির নাম
  4. প্রধানমন্ত্রীর নাম
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৭৯ ধারার বিধান-সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা:
সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে 'বাংলাদেশ'।

Section 79. Suits by or against the Government:
In a suit by or against the Government the authority to 79. In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.

৪৭.
আদেশ ৩৮ বিধি ৪ এর অধীন বিবাদীকে সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩৮ বিধি ৪: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত দিতে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধির অধীনে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে,সেক্ষেত্রে ডিক্রি না মিটানো অবধি তাকে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করতে পারেঃ 
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য জেলে আটক রাখা চলবে না, অথবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক মেয়াদের জন্যঃ তবে আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ পালন করার পর তাকে এই বিধির অধীনে জেলে আটক রাখা যাবে না।

৪৮.
পুনর্বিবেচনার (review) আবেদন মঞ্জুর করার আগে আদালত কী করতে বাধ্য?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে
  2. আবেদনকারীকে নোটিশ দিতে হবে
  3. প্রতিপক্ষকে নোটিশ দিতে হবে
  4. আবেদনকারী এবং প্রতিপক্ষ উভয়কে নোটিশ দিতে হবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, আদেশ–৪৭, বিধি–৪ : আবেদন বাতিল বা মঞ্জুর করার নিয়ম:
(১) যখন আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে পুনর্বিবেচনার (review) আবেদনের জন্য যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি নেই, তখন আদালত উক্ত আবেদন বাতিল করবে।

(২) যদি আদালতের মতে পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা উচিত হয়, তবে আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবে,
তবে নিম্নলিখিত শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে—

(ক) উক্ত আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে প্রতিপক্ষকে (opposite party) নোটিশ দিতে হবে, যাতে সে উপস্থিত হয়ে সেই ডিক্রি বা আদেশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, যার পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়েছে; এবং

(খ) যদি আবেদনকারী দাবি করেন যে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উদ্ঘাটিত হয়েছে, যা ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় তার জ্ঞাত ছিল না বা পেশ করা সম্ভব ছিল না, তবে সে ক্ষেত্রে উক্ত দাবির কঠোর প্রমাণ (strict proof) ব্যতিরেকে কোনো আবেদন মঞ্জুর করা যাবে না।