বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১. প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: ইউসুফ-জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, লায়লী- মজনু, গুলে- বকাওলী ইত্যাদি।
২. যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি।
৩. পীর পাঁচালি গাজী-কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি ইত্যাদি।
৪. ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী-আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য: কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।
এসব বিষয়বস্তু থেকে লক্ষ করা যাবে যে, বিচিত্র ধরনের উপকরণ পুঁথি সাহিত্যের উপজীব্য হয়েছিল।
অপশনে সৈয়দ হামজা ও শাহ মুহম্মদ সগীর উভয়েই পুঁথি সাহিত্য রচনা করেছেন। একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।--------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
• সৈয়দ হামজা: - দোভাষী পুথি রচয়িতা।
- তাঁর প্রথম কাব্য মধুমালতী।
- তিনি পাঁচালি ও হেঁয়ালি জাতীয় ছড়া রচনার মাধ্যমে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- সৈয়দ হামজার দ্বিতীয় কাব্য - আমীর হামজা।
- তাঁর পরের দুটি কাব্য জৈগুনের পুথি (১৭৯৭) ও হাতেম তাই-এ একই ভাষারীতি অনুসৃত হয়েছে।
• শাহ মুহম্মদ সগীর:- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।