পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
৪৪তম বি.সি.এস. সাবজেক্ট ফাইনাল - বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত ‘বেনের মেয়ে’ উপন্যাসের পটভূমি কিরূপ?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রাজনৈতিক
  3. রোমান্টিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

‘বেনের মেয়ে’ (১৯১৯) উপন্যাসটি ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত।
- উপন্যাসের চতিত্রগুলি কাল্পনিক কিন্তু পটভূমি ঐতিহাসিক।
- দশম - একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশে, বৌদ্ধ ধর্মের অবসান আর হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান এর সময়কালে সপ্তগ্রামের এক বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনীটি রচিত হয়েছে।

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- বাল্মীকি জয়
- মেঘদূত
- কাঞ্চনমালা
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা।
- প্রাচীন বাংলার গৌরব
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

.
প্রাচীন বাংলা সাহিত্য চর্যাপদে বর্ণিত ‘কামালি’ বলতে কোন পেশার মানুষকে বুঝানো হয়েছে?
  1. কামার
  2. শিকারী
  3. কুমোর
  4. মাঝি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ প্রাচীন বাংলার সামাজিক রুপের বিশ্বস্ত দলিল।
- এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কথা বলা হয়েছে।
- কাপালিক (কাপালি)
- ব্রাহ্মন (বাহমন)
- যোগী (জোই)
- ডোম্বী ইত্যাদী নানা বর্ণের মানুষের কথা বর্ণিত হয়েছে

এসকল মানুষেরা নানা পেশায় যুক্ত থাকিতেন, যেমন-
- মাঝি (কামালি)
- বেশ্যা (দারী)
- শিকারী (অহেরী)
- নেয়ে (নৌবাহী) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

.
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী”
উপরোক্ত পদের পদকর্তা কে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. ঢেন্ডণপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩ মতান্ত্বরে ২৪ জন। 

- ঢেন্ডণপা নবম শতকের কবি।
- তার পদ সংখ্যা একটি (৩৩ নং)।
- তিনি তার পদে বাঙ্গালী জীবনের দারিদ্রের ছবি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

ঢেন্ডণপা তাঁর পদে তিনি লিখেছেন,
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী”
অর্থাৎ, লোকশূণ্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাড়িতে ভাত নাই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া

.
প্রাচীন যুগের তন্ত্র সাধকদের মতে ‘পিঙ্গলা’ অন্য কী নামে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ছিল?
  1. পার্বতী
  2. গঙ্গা
  3. যমুনা
  4. সরস্বতী
ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে মেরুদন্ডের বাঁ দিকের একটি নাড়িকে ‘ইড়া’ বলা হত।
- মেরুদন্ডের দক্ষিণ দিকের একটি নাড়িকে ‘পিঙ্গলা’ এবং ‘ইড়া’ এবং ‘পিঙ্গলা’ মধ্যস্থিত অপর একটি সূক্ষ্ম নাড়িকে ‘সুষুম্না’ বলা হত।
- এই ৩ নাড়ির মিলনকে ‘ত্রিবেণী’ বলা হত।
- তন্ত্র সাধনায় এসব নাড়ি চন্দ্র সূর্য ও অগ্নির গুন বিশিষ্ট।।
- তন্ত্র সাধকদের কাছে ‘ইড়া’ ‘পিঙ্গলা’ ও সুষুম্না যথাক্রমে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নামে পরিচিত এবং শ্রদ্ধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

.
নিম্নের কোনটি মঙ্গল কাব্যের অংশ নয়?
  1. বন্দনা
  2. আত্মপরিচয়
  3. দেবপরিচয়
  4. দৈব্যলোক
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
• প্রতিটি মঙ্গলকাব্যে একেকজন দেবতার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এরা লৌকিক দেবতার সঙ্গে পৌরাণিক দেবতার সংমিশ্রণে সৃষ্ট বাঙালির নিজস্ব দেবতা। বহিরাগত আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে অনেক সংগ্রাম করে এদেরকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হয়েছে। আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে এই বিজয়ের কারণে মঙ্গলকাব্যের ‘মঙ্গল’ শব্দটি ‘বিজয়’ অর্থেও গ্রহণ করা হয়। এমনকি কোনো কোনো মঙ্গলকাব্যের নামের সঙ্গে ‘বিজয়’ শব্দটি সংযুক্তও হয়েছে, যেমন বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের মনসাবিজয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর। এদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের সাধারনত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা -
-  বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড
- শ্রুতিফল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

.
মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা কে ছিলেন?
  1. শাহবাজ খান
  2. সুধর্মা
  3. আশরাফ খান
  4. থিরি থু ধম্মার
ব্যাখ্যা

আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা ছিলেন রাজা সুধর্মা।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);

নীতিকাব্য
- তোহফা (১৬৬৪)
সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।
- 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' সাধনকৃত 'মৈনাসত', 'সপ্তপয়কর' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর', 'তোহফা' ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
‘লালমোতি সয়ফুলমুলক’ কার রচিত কাব্য?
  1. আলাওল
  2. আব্দুল হাকিম
  3. বাহরাম খান
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহন করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ১৬৯০ -এ
তার রচিত কাব্য সংখ্যা ৫টি
- ইউসুফ জোলেখা।
- নুরনামা
- দুররে মজলিশ
- লালমোতি সয়ফুলমুলক
- হানিফার লড়াই

তার বিখ্যাত পঙক্তি-
"যেসব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবানী
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
> বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। সব কয়টি বিভাগে কয়েকজন পন্ডিত ও মুন্সি ছিলেন। কলেজ কর্মচারীদের মধ্যে তাঁরাই ছিলেন দেশীয়। এভাবে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

> শ্রীরামপুর প্রেস ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ শুরু হয়।
> কলেজের শিক্ষক ও প্রাক্তন বিদ্বান ব্যক্তিগণ বাংলাসহ ভারতের প্রায় সকল ভাষার সংস্কার ও আধুনিকায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
> ডালহৌসীর সরকার ১৮৫৪ সালে ফোর্ট উইলিয়মের এ ফ্যানট্যাম কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা গদ্যে প্রথম জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হরপ্রসাদ রায়
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা

রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, (১৮শ-১৯শ শতক) ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের পন্ডিত ও গদ্য লেখক।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার খড়দহ গ্রামে তাঁর জন্ম। সরল ও স্বচ্ছন্দ গদ্যভঙ্গির লেখক রাজীবলোচন একমাত্র গ্রন্থ - কৃষ্ণচন্দ্ররায়স্য চরিত্রম (১৮০৫) মৌলিক গদ্যরচনা এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম জীবনীসাহিত্য হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
- এই গ্রন্থে বর্ধমানের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবনকথা ও চরিত্র-মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে, সেই সঙ্গে ইংরেজ তোষণনীতিও প্রকাশিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরী তাঁকে এ গ্রন্থ রচনায় অনুপ্রাণিত করেন এবং তাঁরই সুপারিশক্রমে তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ-কাউন্সিল কর্তৃক ১০০ টাকা পারিতোষিক লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০.
A Code of Gentoo Laws কে রচনা করেন?
  1. ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ব্রাশি হ্যালহ্যাড
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড,(১৭৫১-১৮৩০) প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
> তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
> তিনি শেরিডনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় The Love Epistles of Aristaenetus শীর্ষক গ্রন্থটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বেশ খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন।
> হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gentoo Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন। পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। 
> তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থ প্রকাশের পর হ্যালহেড লন্ডনে ফিরে যান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১১.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যেগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবিব
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদের কবি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল ‘সোনালী কাবিন’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
- কালের কলস (১৯৬৬)
- সোনালী কাবিন (১৯৭৩)
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬)
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না
- দিনযাপন
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের কোন কবির রচনাকে ‘চিত্ররূপময়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ অন্যতম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে বলেছেন ‘চিত্ররূপময়’।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।

- তাঁর জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

আরও কিছু বিখ্যাত কবির উপাধি- 
> সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত - ছন্দের জাদুকর
> গোবিন্দচন্দ্র দাশ - স্বভাবকবি
> ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত - যুগুসন্ধিক্ষণের কবি
> ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা - বিদ্যাসাগর
> কাজী নজরুল ইসলাম - বিদ্রোহী কবি
> জসীমউদ্দিন - পল্লীকবি
> নজিবর রহমান - সাহিত্যরত্ন
> বিহারীলাল চক্রবর্তী - ভোরের পাখি
> মালাধর বসু - গুণরাজ খান ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

১৩.
‘সংশপ্তক’ কার রচিত উপন্যাস?
  1. জহির রায়হান
  2. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শহীদুল জহির
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

 কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ-
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪.
“Tree without roots” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. জহির রায়হান
  4. আবূ ইসহাক
ব্যাখ্যা

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

> ১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত লালসালু উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টিকর্ম হিসেবে বিবেচিত। এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ। মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়।

> লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন অ্যান-মারি-থিবো, জেফ্রি ডিবিয়ান, কায়সার সাঈদ এবং মালিক খৈয়াম। তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজে এতে সম্প্রসারণের কাজ করেন। ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের Chatto অ্যান্ড Windus লিমিটেড থেকে Tree Without Roots শিরোনামে প্রকাশিত হয়।পরবর্তীতে উপন্যাসটি জার্মান ও চেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস:  সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া

১৫.
‘সম্বাদপ্রভাকর” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ভবানিচরন বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর জন্ম ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- তিনি সংবাদ প্রভাকর (বা 'সম্বাদ প্রভাকর') এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- তাঁর কবিতায় মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ উভয়ের লক্ষণ প্রকাশ পায় , তাই তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা এবং তাদের সম্পাদকের নাম নিম্নরূপ-
- সম্বাদ কৌমুদী - রাজ আরামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
- জ্ঞানান্বেষণ - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
- তত্ত্বোবোধিনী - অক্ষয়কুমার দত্ত
- বঙ্গদর্শন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সবুজপত্র - প্রমথ চৈধুরী
- সওগাত - মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন
- ধূমকেতূ, লাঙল - কাজী নজরুল ইসলাম
- শিখা - আবুল হোসেন
- সন্দেশ - সুকুমার রায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)

১৬.
নিচের কোনটি রাজা রামমোহন রায় -এর ছদ্মনাম?
  1. শিব প্রসাদ রায়
  2. পরশুরাম
  3. বনফুল
  4. কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
ব্যাখ্যা

বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- দিল্লির বাদশা কতৃক ১৮৩০ সালে তিনি রাজা উপাধি লাভ করেন।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন, তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, গোস্বামীর সহিত বিচার, সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ, গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মোশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কাল্কূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
বিদ্যাসাগরের শোকগাথা মূলক রচনা নিম্নের কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. ব্রজবিলাস
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. প্রভাবতীসম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

বিদ্যাসাগরের “প্রভাবতী সম্ভাষণ”ও একটি আবেগপূর্ণ রচনা। তাঁহার প্রিয়পাত্র রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিশুকন্যা প্রভাবতীর মৃত্যুতে ইহা রচিত। তাই এই রচনা টি শোকগাথা মূলক রচনা বলা চলে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
-  ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী মূলক, বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনা 'আত্মচরিত'

তাঁর কিছু শিক্ষামূলক গ্রন্থ
- বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
- ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)
- সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)
- ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

তাঁর রচিত মৌলিক গ্রন্থ
- সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩)
- বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)
- বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (প্রথম খন্ড ১৮৭১, ২য় খন্ড ১৮৭৩)
- অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক (১৮৭৩, বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে।)
- ব্রজবিলাস (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখিত হয়।
- রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬)
- প্রভাবতী সম্ভাষণ (সম্ভবত ১৮৬৩)
- জীবন-চরিত (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)
- শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪)
- নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস (১৮৮৮)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া ।

১৮.
সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা 'শনিবারের চিঠি' প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯৩১
  3. ১৯৩৪
  4. ১৯৪২
ব্যাখ্যা
শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন - যোগানন্দ দাস। এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।
১৯.
“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।”
- বিখ্যাত পঙক্তি টি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পৌষপার্বণ
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. শূরসুন্দরী
  4. কাঞ্চীকাবেরী
ব্যাখ্যা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক এক আখ্যায়িকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'স্বাধিনতা' কবিতা। 
- এ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি - “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?”
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। 
- তিনি কাব্যের কাহিনী আরোহন করেছেন টডের রাজস্থান কাহিনী নামক বই থেকে। 

কবির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পদ্মিনী উপাখ্যান (১৮৫৮)
- কর্মদেবী(১৮৬২)
- শূরসুন্দরী(১৮৬৮)
- কাঞ্চীকাবেরী(১৮৭৯)
- ভেক-মূষিকের যুদ্ধ(১৮৫৮),
- হোমারের কাব্যের অনুবাদ।[৩]
- নীতি কুসুমাঞ্জলি (১৮৭২)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যটির বিষয়বস্তু কি?
  1. শিবের স্তুতি
  2. দেশপ্রেম
  3. রাধা কৃষ্ণের প্রেম
  4. রাধার বিরহ
ব্যাখ্যা

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)

তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

> মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যটির বিষয়বস্তু রাধার বিরহ
- ব্রজাঙ্গনা কাব্যের কবিতাগুলো Ode জাতীয় গীতি কবিতা।
- কবি কাব্যটিকে দুই খন্ডে বিভক্ত করে রচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন - বিরহ ও মিলন
- তবে মিলন খন্ডটি তিনি শেষ করে যেতে পারেন নি। তাই কাব্যটিতে এখন শুধু রাধার বিরহই রয়েছে।
- এজন্য রাধা সম্পর্কে মধুসূদন বলেছেন, রাধা হলেন - 'Poor Old Mrs. Radha of Braja' (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে বাংলা গীতি কবিতায় ‘ভোরের পাখি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালেরউল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
পূর্ণিমা,
সাহিত্য-সংক্রান্তি,
অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২২.
‘সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেনো মরুর মতন,
চারিদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।”
-পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কামিনী রায়
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালের উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮), 
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২) 
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০), 
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০), 
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০), 
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০), 
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯), 
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১), 
- মায়াদেবী (১৮৮২), 
- দেবরাণী (১৮৮২), 
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭), 
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং 
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: 
- পূর্ণিমা, 
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

২৪.
আধুনিক বাংলা কবিতা সৃষ্টিতে যে পাঁচজন কবি বিখ্যাত তাদের অন্তর্ভূক্ত নন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বাঙলা ভাষায় যারা আধুনিক বাংলা কবিতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন প্রধান।
- রবীন্দ্রনাথের পর তাঁরাই বাঙলার প্রধান কবি।
তাঁর হচ্ছেন- 
- বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)
- জীবনানন্দ দাস (১৮৯৯- ১৯৫৪)
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০)
- বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২)
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬)
এ পাঁচজন মিলে সৃষ্টি করেছেন বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতা। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

২৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘শাশ্বতী’ কবিতাটি তার কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক্রন্দসী
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. সংবর্ত
  4. আর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা

বাঙলার অধিকাংশ কবি সাধারনত স্বভাবকবি। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পরিহার করেছিলেন স্বভাবকবিত্ব। তাই তাঁর কবিতা দুরূহ বলে মনে হয়। 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। কবিতা ছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধের বই রয়েছে। তাঁর গদ্যও বাংলা ভাষায় দুরূহতম।
- আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি :
- তন্বী (১৯৩০)
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫)
- ক্রন্দসী (১৯৩৭)
- উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০)
- সংবর্ত (১৯৫৩)
- দশমী (১৯৫৬)

তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ :
- স্বগত (১৯৩৮)
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)

তাঁর একমাত্র অনুবাদগ্রন্থ :
- প্রতিধ্বনি (১৯৫৪)

> তাঁর শাশ্বতী কবিতাটি রয়েছে 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২৬.
বাংলা ভাষায় মার্কসীয় ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট। 
- তাকে বলা হয় বাংলা ভাষায় মার্কসীয় ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।
- 'আঠারো বয়স কাবিতা টি তাঁর 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ এর অন্তর্গত।
- এ কবিতাটি মাত্রবৃত্ত ছন্দে রচিত। কবিতায় প্রতিটি চরনের মাত্রার সংখ্যা ১৪ টি
- এ কবিতা অবলম্বনে আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে- যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দূর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যানব্রত।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ), লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।

২৭.
১৯৪৩ এর মন্বন্তর এর চিত্র ফুটে উঠেছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)

> খোয়াবনামা উপন্যাসটি আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। এর মাধ্যমে মূলত গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির -সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন অ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।

২৮.
নিম্নের কোন কবি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

সাংবাদিক আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) পেশাগত জীবনে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন।
- পঞ্চাশ দশকের ক্যারিয়ারিস্ট জেনারেশনের চলতি রীতি ধরে তিনি ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল পরীক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদে কাজ করেন।
১৯৮২ সালে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন।
- ১৯৮৪ সালে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।
- ১৯৯১ সালে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাংককস্থ FAO কার্যালয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৭ সালে FAO থেকে অবসর গ্রহণের সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো
- সাত নরীর হার (১৯৫৫),
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।

২৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

> গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত আমলাতন্ত্রের সহায়তায় কার্যকরভাবে ব্রিটিশ ভারত শাসনের এক পরিকল্পনা করেন লর্ড ওয়েলেসলী।
- ভারতের প্রধান প্রধান ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কলেজে এক একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে ছিলেন একজন অধ্যাপক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক।
- ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- উইলিয়াম কেরি ১৭৯৩ সালে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আসেন।
- উইলিয়াম কেরি রচিত 'A Grammar of the Bengali Language'' প্রকাশিত হয় ১৮০১ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩০.
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুণ কাহিনী বর্ণিত হয়েছে নিম্নের কোন রচনায় ?
  1. একাত্তরের অগ্নিকন্যা
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা

'আমি বীরাঙ্গণা বলছি' লেখিকা নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি বই। এই বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 

- ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে আমি বীরাঙ্গণা বলছি'র দুইটি খণ্ড প্রকাশ করেন।এই গ্রন্থে ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে বীরাঙ্গণাদের দুঃখ এবং যুদ্ধের পরবর্তী সুখ-দুঃখের কথা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে সুন্দরভাবে।
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- বিশ শতকের মেয়ে ১৯৫৮
- এক পথ দুই বাক ১৯৫৮
- কেয়াবন সঞ্চারিনী ১৯৫৮
- বহ্নিবলয় ১৯৮৫

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
- শরৎ প্রতিভা
- বাংলার কবি মধুসূদন

তাঁর রচিত নাটক
- দুইয়ে দুইয়ে চার ১৯৬৪
- যে অরণ্যে আলো নেই(মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক) ১৯৭৪
- রোদজ্বলা বিকেল ১৯৭৪
- সূর্যাস্তের পর
- নব মেঘদূত
- রমনা পার্কে

-একাত্তরের অগ্নিকন্যা তুষার আব্দুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনা।
-নীল দংশন সৈয়দ শাসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ।

৩১.
গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে song offerings নামে প্রকাশ করেন। কাব্যটির ভূমিকা লিখেন WB yets।

- আট বছর বয়সে ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় কবি-কাহিনী (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। 
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
-
 রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- তাঁর প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ ইউরোপ-প্রবাসীর পত্র ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী কবি।
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এদুটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস রচনার প্রচেষ্টা।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া। 

৩২.
বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মুতি
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. আবদুল কাদির
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব।
- পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষক-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, জনশিক্ষা পরিচালক (ডিপিআই), বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সিলর, শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞাব ও মানুষ
- সাগরের রহস্যপুরী
- তারার দেশের হাতছানি
- বিজ্ঞানের বিস্ময়
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
কোন উপন্যাসে পঞ্চাশ এর মন্বন্তর, দেশবিভাগ প্রভৃতি চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. লালসালু
  2. সংশপ্তক
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

 সূর্য দীঘল বাড়ী: বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫)। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬), এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল।
- আবু ইসহাকের উপন্যাসেরই মূল উপজীব্য অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। 

তাঁর রচিত গল্প
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)
- জোঁক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
নীল দর্পণ নাটকটি কোন ইংরেজি উপন্যাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
  1. Apple of Discord
  2. The Taming of the Shrew
  3. The Comedy of Errors
  4. Uncle Tom's Cabin
ব্যাখ্যা

নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কতৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক। এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- নীল দর্পণ নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশ স্থান, মুদ্রনকাল, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশে দীনবন্ধুর নাম ছিল না, গ্রন্থাকারে তা গুপ্ত রাখা হয়।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তা প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস্‌ লঙ।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকে একে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন হলো:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

সধবার একাদশী ও লীলাবতী উচ্চাঙ্গের সামাজিক নাটক। বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
‘History of Bengali Language and Literature’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ব্রাসি হ্যালহ্যাড
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার দীনেশচন্দ্র সেনের জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে। 
- তিনি গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং সেসব উপকরণের সাহায্যে ১৮৯৬-এ ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। ১৯০৫ সালে বিনোদবিহারী কাব্যতীর্থের সহযোগিতায় শ্রীকর নন্দীর লেখা ‘ছুটিখানের মহাভারত’-এর পুঁথি এবং হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সহায়তায় মানিক গাঙ্গুলীর লেখা ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ পুঁথি দুটি দীনেশচন্দ্র সেন প্রথম প্রকাশ করেন।
- ১৯১১ সালে তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ History of Bengali Language and Literature’ প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ''রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোসিপ'' প্রদান করে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- The Vaisnava Literature of Medieval Bengal (১৯১৭),
- Chaitanya and his Companions (১৯১৭)
- The Folk Literature of Bengal (১৯২০),
- The Bengali Ramayana (১৯২০),
- Bengali Prose Style : ১৮০০-১৮৫৭ (১৯২১),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- Glimpses of Bengal Life (১৯২৫),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
‘একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী’ ছোটগল্পটি কোন সময়কার পটভূমি নিয়ে রচিত?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. দেশভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে। এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গ্লল্পটি।
- তাঁর লালসালু উপন্যাসে তিনি গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র তুলে ধরেন।

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

তাঁর ছোটগল্প
- নয়নচারা
 -জাহাজী
- পরাজয়
- মৃত্যু-যাত্রা
- খুনী
 -রক্ত
- খণ্ড চাঁদের বক্রতায়
- সেই পৃথিবী
- দুই তীর
- একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী
- পাগড়ী
- কেরায়া
 -নিষ্ফল জীবন নিষ্ফল যাত্রা
- গ্রীষ্মের ছুটি
- মালেকা প্রভৃতি

তাঁর নাটক
- বহিপীর (১৯৬০)
- উজানে মৃত্যু (১৯৬৩)
 -সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)
- তরঙ্গভঙ্গ (১৯৭১)

উৎস: বাংলাপিডিয়া, সাহিত্যপাঠ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৭.
‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মুনির চৌধুরী
  4. মমতাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন
- এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকেদেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিলো না, সেই চিত্র ফুটে উঠেছে।

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫)
- সংবাদ কার্টুন (১৯৭২)
- বাসন (১৯৮৫)
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী( ১৯৭৬ )
- শকুন্তলা(১৯৭৮)
- কীত্তনখোলা (১৯৮০)
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৬)
- যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩)
- চাকা (১৯৯১)
- হরগজ (১৯৯২)
- প্রাচ্য (২০০০)
- হাতহদাই (১৯৯৭)- নিমজ্জন (২০০২)
- ধাবমান
- স্বর্ণবোয়াল (২০০৭)
- পুত্র (২০০৮)
 -বনপাংশুল(২০০৩) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের তার কোন কাব্য গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন?
  1. ক্ষণিকা
  2. মানসী
  3. আকাশ প্রদীপ
  4. কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। 
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের। 
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৯.
হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমনি
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. আয়োময়
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে'।
- তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। 
- হিমু, মিসির আলী, শুভ্র চরিত্রে সৃষ্টি করেছেন তিনি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪)
- সূর্যের দিন প্রভৃতি।

স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩),
আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪),
আমার আছে জল (১৯৮৫),
ফেরা (১৯৮৬),
নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭),
ছায়াসঙ্গী (১৯৯০),
এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০),
বহুব্রীহি (১৯৯০),
অয়োময় (১৯৯০),
গৌরীপুর জংশন (১৯৯০),
শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০),
আশাবরী (১৯৯১),
অমানুষ (১৯৯১),
চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক (১৯৯১),
দুই দুয়ারী (১৯৯১),
কোথাও কেউ নেই (১৯৯২),
কবি (১৯৯৬),
মহাপুরুষ (১৯৯৬),
মেঘ বলেছে যাব (১৯৯৭),
মৃন্ময়ী (২০০১),
বৃষ্টি ও মেঘমালা (২০০১),
বাদশাহ নামদার (২০১১),
মেঘের ওপর বাড়ি (২০১২) প্রভৃতি।

- তাঁর মৃত্যু নিউইয়র্কে, ১৯ জুলাই ২০১২

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া

৪০.
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা কে?
  1. আ ন ম গাজীউল হক
  2. আবদুল লতিফ
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'
- এক জনপ্রিয় হিন্দী গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

একুশের প্রথম
- নাটক: কবর
- উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন
- কবিতা:কাঁদতে আসিনি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৪১.
চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. উত্তর পুরুষ
  3. পোকা মাকরের ঘর বসতি
  4. কর্ণফুলি
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলি উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি অঞ্চলভিত্তিক জীবনের রূপায়নভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। চাকমা অঞ্চলের ভাষাও এতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, জলি, রমজান, ইসমাইল।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার পান।

 তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬)- শ্যাম ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬)
- জ্যোৎস্নার অজানা জীবন (১৯৮৬)
- যেখানে দাঁড়িয়ে আছি (১৯৮৬)
- স্বাগতম ভালোবাসা (১৯৯০)
- অপর যোদ্ধারা (১৯৯২)
- পুরানা পল্টন (১৯৯২)
- অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি (১৯৯২)
- প্রিয় প্রিন্স (১৯৯৫)
- ক্যাম্পাস (১৯৯৪)
- অনূদিত অন্ধকার (১৯৯১)
- স্বপ্নশীলা (১৯৯২)
- কালো জ্যোৎস্নায় চন্দ্রমল্লিকা (১৯৯৬)
- বিশৃঙ্খলা 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৪২.
৯৬ জন সাধকের জীবনচরিত নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘তাপসমালা’ এর রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. ভাই গিরিশ্চন্দ্র সেন
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন।
- তাঁর জন্ম নারায়ণগঞ্জের পাঁচদোনা গ্রামে । 
- ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন। গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত গ্রন্থ 'তাপসমালা'।
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা (১৯০৭)। এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- তিনি মূল ফারসি গ্রন্থ থেকে গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁর হিতোপাখ্যানমালা, হাদিস বা মেসকাত্ মসাবিহ (১৮৯২-৯৮), দীউয়ান-ই-হাফিজ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষচরিত (১৮৮২-১৮৮৭), মহাপুরুষ মোহাম্মদ ও তৎপ্রবর্তিত এসলাম ধর্ম, এমাম হাসান ও হোসায়নের জীবনী (১৯১১), চারিজন ধর্মনেতা, চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী, খলিফাবর্গ, সবমিলিয়ে ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৪৩.
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়” গানের রচয়িতা কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. হাসন রাজা
  3. লালন শাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

 বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক লালন শাহ।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুহাজার গান রচনা করেন। তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। সহজ-সরল শব্দময় অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী তাঁর গানে মানব জীবনের আদর্শ, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
- লালন শাহ এর প্রচলিত স্কেচটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর জনপ্রিয় কিছু গান:
- আমি অপার হয়ে বসে আছি
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে
- জাত গেলো জাত গেলো বলে
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়
- আপন ঘরের খবর লে না
- আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী
- মন তুই করলি একি ইতরপনা
- এই মানুষে সেই মানুষ আছে
- যেখানে সাঁইর বারামখানা
- বাড়ির কাছে আরশিনগর
- আমার আপন খবর আপনার হয় না
- দেখ না মন,ঝকমারি এই দুনিয়াদারী
- ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফান্দ পেতে
- সব সৃষ্টি করলো যে জন
- সময় গেলে সাধন হবে না
- আছে আদি মক্কা এই মানব দেহে
- তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
- এসব দেখি কানার হাট বাজার
- মিলন হবে কত দিনে
- কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
“মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে,
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না
বলো, মা
তাই কি হয়?”
- কোন কবিতার অংশ?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. কুমড়ো ফুলে ফুলে
  4. কোন এক মা-কে
ব্যাখ্যা

'কোন এক মা-কে' কবিতা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি বিখ্যাত কবিতা। 
- বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের পঞ্চাশের দশকের একজন মৌলিক কবি। তার পুরো নাম আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ খান

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো
- সাত নরীর হার (১৯৫৫),
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)

৪৫.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ' দিন’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখেন। 
-১৯৬২ সালে যখন তিনি অধ্যাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন, তখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে ছিল এক দুঃসময়। গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্ত্তত ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি সাহিত্য পত্রিকা (১৯৫৭) প্রকাশ করেন। উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি ।

পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. মাওলানা আকরাম খাঁ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ।
- তিনি সাপ্তাহিক সোলতান ও মোহাম্মদীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন (১৯২৩-১৯২৬)। তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নীতির বিরুদ্ধে।
- তিনি চিত্তরঞ্জন দাশ এর (১৮৭০-১৯২৫) স্বরাজ্য পার্টির রাজনীতি সমর্থন করেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত ব্যঙ্গরচনা
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭)
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)
- গালিভারের সফরনামা

তাঁর স্মৃতিকথা
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯)
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

তাঁর অন্যান্য রচনা
- সত্য মিথ্যা (১৯৫৩)
- জীবনক্ষুধা (১৯৫৫)
- আবে হায়াত (১৯৬৮)
- হুযুর কেবলা (১৯৩৫)
- বাংলাদেশের কালচার (১৯৬৬)
- আসমানী পর্দা (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
‘বনি আদম’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফার জন্ম যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- তিনি ১৯৬০ সালে পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কবিতা
- রক্তরাগ
- হাসনাহেনা
- খোশরোজ
- সাহারা
- গুলিস্তান
- বনী আদম(মহাকাব্য)
- কাব্য কাহিনী
- সাহারা
- তারানা ই পাকিস্তান
- বুলবুলিস্তান
- কিশোর
- কবর

তাঁর রচিত জীবনী
- বিশ্বনবী
- মরুদুলাল

তাঁর রচিত উপন্যাস
- রূপের নেশা
- ভাঙাবুক
- এক মন এক প্রান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।