পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৯ টপিক: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সমূহ; প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরণ ও প্রকৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Class Lecture – 14 & 15]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে সাধারণত কয়টি ঋতুতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রকৃতি এখানকার জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মৌসুমী বায়ুর অত্যধিক প্রভাবের দরুণ এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
১) গ্রীষ্মকাল।
২) বর্ষাকাল।
৩) শীতকাল।

উল্লেখ্য, 
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ুর নিয়ামক।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন স্থানে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়?
  1. লালাখাল, সিলেট
  2. লালপুর, নাটোর
  3. মিঠাপুকুর, রংপুর
  4. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিস্থিতি:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার এবং এপ্রিল উষ্ণতম মাস।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: মেহেরপুর।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বিশ্বব্যাংক এর মতে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের কোন ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. ঝড়
  2. বন্যা
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. উল্লিখিত সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। 
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
⇒ বন্যা: - বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
⇒ ঝড়:- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
⇒ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
⇒ মরুকরণ:- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
⇒ কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ভূ-অভ্যন্তরে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেই স্থানটিকে কী বলে?
  1. বিন্দুস্থল
  2. কেন্দ্রস্থল
  3. উপকেন্দ্রস্থল
  4. সমকেন্দ্রস্থল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেই স্থানটিকে "কেন্দ্রস্থল" (Focus) বলা হয়।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র: - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. সিলেট অঞ্চলে
  3. যমুনা অববাহিকায়
  4. ঢাকা শহর অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. আর্দ্রতা
  2. নিম্নতাপ
  3. নিম্নচাপ
  4. উচ্চচাপ 
ব্যাখ্যা
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈখাশী ঝড়।
- এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে আসে এবং সেই সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়।
- এটিই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। 
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
- নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
- ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
-  অর্থাৎ বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।

তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
.
কত সালে "জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন" তৈরি করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০:
- বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে 'জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০' তৈরি করেন।
- ১৩ অক্টোবর ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ এর বিল পাশের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
- ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল এর সার্বিক পরিচালনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ৯ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে।
- ট্রাস্ট ফান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহনেরে ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ বোর্ড।
- ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী।
- প্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের যাচাই-বাছাই করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ১২ অনুযায়ী একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর কার্যাবলি:
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা;
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড এবং কারিগরি কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান;
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে প্রাপ্ত প্রকল্পসমুহ কারিগরি কমিটিতে উপস্থাপন এবং কারিগরি কমিটি কর্তৃক  সুপারিশকৃত প্রকল্প প্রস্তাবসমুহ ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন;
- ট্রাস্টি বোর্ড এর সিদ্ধান্তসমুহ বাস্তবায়ন করা;
- ভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফোকাল পয়েন্টদের সাথে সমন্বয় সাধন;
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত সুবিধাভোগী, সিভিল সোসাইটি সাথে, এনজিও, প্রাইভেট সেক্টর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন;
- বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

তথ্যসূত্র: জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা ধরা হয়-
  1. মার্চ থেকে জুন
  2. মার্চ থেকে এপ্রিল
  3. মার্চ থেকে মে
  4. ফেব্রুয়ারী থেকে মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল (Summer Season):
- বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু গ্রীষ্মকাল।
- মার্চ থেকে মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল ধরা হয়। 
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কালবৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলিপিডিয়া।
১০.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোনটি বায়ুপ্রবাহের দিক?
  1. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে ও উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে
ব্যাখ্যা
⇒ কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই শক্তিকেই বলা হয় কোরিওলিস প্রভাব/শক্তি।
- গোলার্ধভিত্তিক এই পরিবর্তন কোনো প্রবাহিত চলমান বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এই দিক পরিবর্তনকারী শক্তি -
১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে যা সর্বদা লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিসের প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

⇒ পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।