পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ ⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯ টপিক: ধ্বনি ও শব্দ, পদ, প্রত্যয়, সমাস, বাগধারা, সন্ধি, উপসর্গ, এক কথায় প্রকাশ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বানান, পরিভাষা, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ। [নম্বর কাভার - ৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তিতীর্ষু
  2. তিরস্কৃত
  3. তিলোত্তমা
  4. তীক্ষ্মদৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তীক্ষ্মদৃষ্টি।
• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

অন্যদিকে, শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

• শুদ্ধ বানান: তিলোত্তমা,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পরমা সুন্দরী।

• শুদ্ধ বানান: তিরস্কৃত,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অবজ্ঞাত, নিন্দিত, র্ভৎসনা করা হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
‘Proverb’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. প্রবাদবাক্য
  2. ভাববাদ
  3. বাগধারা
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• ‘Proverb’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রবাদবাক্য।

অন্যদিকে,
• ‘Idealism’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ভাববাদ।
• ‘Idiom’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - বাগধারা।
• ‘Utterance’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উক্তি/বচন।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি এবং অভিগম্য অভিধান।
.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. নীরোগ
  2. নিরহঙ্কারী
  3. নিরভিমান
  4. নিরপরাধ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিরহঙ্কারী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরহঙ্কার।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘ফুল ফুটেছে গাছে গাছে।’ বাক্যে ‘ফুল’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘ফুল ফুটেছে গাছে গাছে।’ বাক্যে ‘ফুল’ জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ।

⇒ বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

⇒ নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

⇒ জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

⇒ বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

⇒ গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

⇒ ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জুতসই
  2. ইতরামি
  3. দারোয়ান
  4. ধোঁকাবাজি
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।
- জমিদার + ই = জমিদারি।
- বড় + আই = বড়াই।

অপরদিকে,
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে বোঝালে কী ধরনের পূরণবাচক হয়?
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. ক্রম পূরণবাচক
  3. তারিখ পূরণবাচক
  4. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান প্রথম, প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের। যথা:
⇒ ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

⇒ সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

⇒ তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি। 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ঝরনা
  2. ঘূর্ণায়মান
  3. বামন
  4. কর্ণেল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
⇒ কর্ণেল বানানটি অশুদ্ধ।
- কারণ বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহৃত হয় না। 

• এর শুদ্ধ বানান হবে - কর্নেল।
- যার অর্থ: সামরিক বাহিনীর রেজিমেন্টের অধিনায়ক। 

অন্যদিকে, 
ঝরনা, বামন ও ঘূর্ণায়মান শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
আ + অ = আ; সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ?
  1. বিদ্যালয়
  2. যথার্থ
  3. হিমালয়
  4. নরাধম
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
আ + আ = আ  বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
অ + আ = আ  হিম+আলয় = হিমালয়।
আ + অ = আ  যথা+অর্থ = যথার্থ।
অ + অ = আ  নর+অধম = নরাধম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অঘাচণ্ডী
  2. অনাচার
  3. অবতরণ
  4. অজপুকুর
ব্যাখ্যা
⇒ তৎসম উপসর্গ ‘অব’ যোগে গঠিত শব্দ - অবতরণ।
- অন্যদিকে, খাঁটি বাংলা উপসর্গ অনা, অঘা, অজ যোগে গঠিত শব্দ হলো: অনাচার, অঘাচণ্ডী, অজপুকুর।

=============
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ?
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. মানী পক্ষের সর্বনাম
  2. শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম
  3. বক্তা পক্ষের সর্বনাম
  4. অন্য পক্ষের সর্বনাম
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ বক্তা পক্ষের সর্বনাম।

⇒ ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

⇒ শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
⇒ সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. আমরণ
  2. ক্ষুৎপিপাসা
  3. বেআক্কেল
  4. দম্পতি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

অন্যদিকে,
- জায়া ও পতি = দম্পতি; ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা; দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল; নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
‘মরিয়া’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মরি্ + আ
  2. √মরি্ + ইয়া
  3. √মর্ + ঈয়া
  4. √মর্ + ইয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ইয়া > ইয়ে-প্রত্যয়:
বিশেষণ গঠনে ইয়া/ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: 
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া।
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে।

এরূপ- নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  3. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অব্যার্থ
  2. কৃষিজীবী
  3. অপদস্ত
  4. বিভিষীকা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: কৃষিজীবী (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: চাষি; কৃষক; কৃষিকর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারী।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা (বিশেষ্য),
অর্থ: আতঙ্ক, ভীতিকর ঘটনা।

• শুদ্ধ বানান: অপদস্থ।
অর্থ: লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

• শুদ্ধ বানান: অব্যর্থ।
অর্থ: কখনো বিফল হয় না এমন, অমোঘ, সার্থক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. টঙ্কশালা
  2. বেতন
  3. নালিশ
  4. টুকরি
ব্যাখ্যা
⇒ টুকরি (বিশেষ্য),
- এটি দেশি শব্দ।
- যার অর্থ: বাঁশ বা বেতের তৈরি ছোঠো ঝুড়ি, চেঙারি।

অন্যদিকে,
• টঙ্কশালা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ধাতব মুদ্রা তৈরির কারখানা। 

• নালিশ (বিশেষ্য),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
যার অর্থ: অভিযোগ, ফরিয়াদ।

• বেতন (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: কোনো ব্যক্তিকে কাজের বিনিময়ে নিয়োগকারীর দেওয়া পারিশ্রমিক, মাইনে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. অবগ্নি
  2. অজন্ত
  3. আস্পদ
  4. অবিন্ধন
ব্যাখ্যা
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• আ + চর্য = আশ্চর্য।
•  গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. গায়ক
  2. নায়ক
  3. করণীয়
  4. খেলনা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

⇒ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
‘Lateral’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উষ্ম
  2. ওষ্ঠ্য
  3. পার্শ্বিক
  4. নাসিক্য
ব্যাখ্যা
• ‘Lateral’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - পার্শ্বিক।

অন্যদিকে,
• ‘Fricative’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উষ্ম।
• ‘Labial’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ওষ্ঠ্য।
• ‘Nasal’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - নাসিক্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
২০.
নিচের কোন শব্দে ‘বহুল’ এর প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ব্যয়বহুল
  2. কর্মবহুল
  3. বহুলপ্রয়োগ
  4. বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা
• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে - বহুলপ্রয়োগ শব্দে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
‘ভাতরাঁধা’ কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত, ‍
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

⇒ অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।  

⇒ দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।