পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ----------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
কোন দুটি তৎসম উপসর্গ?
  1. উৎ, পরি
  2. আব, ইতি
  3. ভর, রাম
  4. সা, সু
সঠিক উত্তর:
উৎ, পরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ, পরি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. বনাম
  2. বলে
  3. কাছে
  4. দ্বারা
সঠিক উত্তর:
বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
 
অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' - এখানে 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধ
  2. সাধারণ
  3. বিকল্প
  4. সাপেক্ষ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে, 
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে "ছাগল' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'চা-বিস্কুট' এটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. মিলনার্থক
  2. বিরোধার্থক
  3. বিপরীতার্থক
  4. সমার্থক
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -

মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'বেকুবের মতো কাজ করো না।' - এখানে 'মতো' অনুসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত
  2. সক্ষমতা
  3. ন্যায়
  4. মত
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:

যেমন:
অবধি: পর্যন্ত অর্থে-  সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।
পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে - এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত।
মতে: ন্যায় অর্থে - বেকুবের মতো কাজ করো না।
তরে: মত অর্থে – এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।
পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে- রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ধরে
  2. করে
  3. হর
  4. অবধি
সঠিক উত্তর:
হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর'।

অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ - 
  1. অনুক্ষণ
  2. অনন্ত
  3. অন্তরীপ
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
- নঞ বহুব্রীহি সমাস - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কি
  2. সামনে
  3. টিপ টিপ
  4. যথাসময়ে
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে
ব্যাখ্যা

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 

যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। 

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০.
'বেশ, তবে যাওয়াই যাক।' - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সিদ্ধান্ত আবেগ
  2. বিরক্তি আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
ব্যাখ্যা

সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।

যেমন:
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

অন্যদিকে, 
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১.
'শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট' এটি কোন প্রকার সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
‘যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. খণ্ড
  3. সরল
  4. জটিল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
‘শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।’ - বাক্যে ‘সহিত’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুলনায়
  2. বিরুদ্ধগামিতা
  3. সহগামিতা
  4. সমসূত্রে
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
ব্যাখ্যা

• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।

যেমন:
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
 ৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. দুর্জন লোকেরা পরিত্যাজ্য।
  2. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  3. তারা পরিত্যাজ্য, যারা দুর্জন।
  4. লোকটি দুর্জন এবং পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

সরল বাক্য: পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
জটিল বাক্য: যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক ও
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬.
কোনটি নিত্য সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. ক্ষুধা ও পিপাসা 
  2. মাতা ও পিতা
  3. দুই এবং নব্বই
  4. দোয়াত ও কলম
সঠিক উত্তর:
দুই এবং নব্বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই এবং নব্বই
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি। 
 
অন্যদিকে,
দ্বন্দ্ব সমাস: - ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম, মাতা ও পিতা = মাতাপিতা, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৭.
নিচের কোন শব্দটি ফারসি উপসর্গযোগে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবহেলা
  2. আনমনা
  3. বদমেজাজ
  4. নিখুঁত
সঠিক উত্তর:
বদমেজাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদমেজাজ
ব্যাখ্যা

• 'বদমেজাজ' এটি ফারসি উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ।
- শব্দটিতে ‘বদ্‌' উপসর্গটি 'মন্দ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
 
ফারসি উপসর্গের উদাহরণ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে, 
- 'অবহেলা' শব্দে 'অব' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- 'আনমনা' শব্দে 'আন' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'নিখুঁত' শব্দে ''নি' একটি বাংলা উপসর্গ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।' - এখানে 'বল' কোন কারক? 
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৯.
কোন কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়?
  1. রূপক
  2. উপমান
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমেয়
সঠিক উত্তর:
রূপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

যেমন-
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি- মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. বন্ধনী চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২১.
'ওখানে কেন গেলে?' - এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. কেন কেউ ওখানে গিয়েছিল?
  2. ওখানে কেন যাওয়া হলো?
  3. তোমার কর্তৃক কেন ওখানে যাওয়া হল?
  4. ওখানে যাওয়া কেন হয়েছিল?
সঠিক উত্তর:
ওখানে কেন যাওয়া হলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওখানে কেন যাওয়া হলো?
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।

যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২২.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2.  মরতে মরতে
  3. ভালোভাবে
  4. যায় যায়
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩.
'হরহামেশা' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. উর্দু-হিন্দি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
উর্দু-হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্দু-হিন্দি
ব্যাখ্যা

• 'হরহামেশা' এটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর':
'প্রত্যেক অর্থে -
- হররোজ,
- হরমাহিনা,
- হরকিসিম,
- হরহামেশা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪.
'এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. এবার বাঁশিটি বাজাও।
  2. বাঁশিটি বাজাও তোমারা।
  3. তোমরা বাঁশিটি বাজাও।
  4. বাঁশিটি বাজানাে হােক।
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।

যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫.
'আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
কোনটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. খাঁচাছাড়া
  2. বিপদাপন্ন
  3. বিলাতফেরত
  4. মনগড়া
সঠিক উত্তর:
বিপদাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদাপন্ন
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭.
'আসমুদ্র' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত
  2. বিপরীত
  3. সম্মুখ
  4. ঈষৎ
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৮.
'এক যে ছিলো রাজা।' - বাক্যে 'রাজা' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তৃকারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
 দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 ষষ্ঠী বা র বিভক্তি:  আমার যাওয়া হয়নি।
 সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. ইতি
  2. ভর
  3. দুর
  4. বর
সঠিক উত্তর:
বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
অন্যদিকে,
- 'ইতি, ভর' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'দুর' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. কর্ম
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩১.
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. ছেলেটি বলেছিল যে, গতদিন সে অনেক পড়েছে।
  2. ছেলেটি বলেছিল যে, আরেক দিন সে অনেক পড়েছে।
  3. ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
  4. ছেলেটি বলেছিল যে, এইদিন সে অনেক পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২.
'গায়েপড়া' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. যষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- গায়ে পড়া = গায়েপড়া,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩.
'দীনে দয়া কর।' এখানে 'দীন' কোন কারক?
  1. করণ
  2. সম্প্রদান
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান। যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩৪.
কোনটি আরবি উপসর্গ?
  1. বাজে
  2. বদ
  3. হাফ
  4. কার
সঠিক উত্তর:
বাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজে
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. চোরটা ধরা পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য: - ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
কর্মবাচ্য: - আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬.
কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  2. আমার যাওয়া হল না।
  3. চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
  4. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:  
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে, 
কর্মবাচ্য: - আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। চিঠিটা পড়া হয়েছে।   
ভাববাচ্য: - আমার যাওয়া হল না। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
অপাদানে দ্বিতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।