পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals. উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ---------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
  3. সুশাসন থাকলে মূল্যবোধ শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়
  4. মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের জন্য নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো গুণাবলি প্রয়োজন হয়, যা মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে বিকশিত হয়।
- যদি মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকে, তাহলে প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে, আইন থাকলেও তা কার্যকর হবে না এবং জনগণের কল্যাণ ব্যাহত হবে।
- এভাবে, মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং একটি ন্যায়সংগত, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটিকে সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড বলা হয়?
  1. সাম্য
  2. আইন
  3. স্বাধীনতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values):
- মূল্যবোধ হলো সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড যা মানুষের আচরণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- এটি মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও সামাজিক রীতিনীতি নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিক জীবনযাপনে সহায়তা করে।
- সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
- সমাজ কোন কাজ ভালো বা মন্দ তা মূল্যবোধের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে,
- সাম্য (Equality) হলো সমাজে সকল মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
- স্বাধীনতা (Freedom) হলো ব্যক্তির মত প্রকাশ, চলাফেরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।
- আইন (Law) সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রণীত নিয়মকানুন। আইনের প্রয়োগ মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য করা হয়, তবে এটি সমাজের ভালো-মন্দ নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা কোনটি?
  1. কর্তৃত্ববাদী সরকার
  2. গণতান্ত্রিক সরকার
  3. সমাজতান্ত্রিক সরকার
  4. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা হলো - গণতান্ত্রিক সরকার।

গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা ও সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুশাসনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী কারণ এটি জনগণের মতামত, অধিকার এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসনের মূল উপাদানগুলো হচ্ছে- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ।
- এই উপাদানসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- গণতন্ত্রে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে, যা সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এছাড়া, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনের শাসন অপরিহার্য, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কার্যকর থাকে।
- গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একজন ব্যক্তি কোনটি থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. মূল্যবোধের শিক্ষা
  3. আইনের শাসন
  4. কর্মমুখী শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা একটি নৈতিক গুণ যা একজন ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা (Values Education) থেকে অর্জন করে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ধৈর্য, শ্রদ্ধাবোধ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় ।
- রাগ, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা কমিয়ে সহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধকে উৎসাহিত করে।

অন্য বিকল্পগুলো:
কর্তব্যবোধ (ক) – এটি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়, তবে সরাসরি সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আইনের শাসন (গ) – এটি শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, কিন্তু সহনশীলতার শিক্ষা দেয় না।
কর্মমুখী শিক্ষা (ঘ) – এটি পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়, তবে নৈতিক গুণাবলি বা সহনশীলতা গড়ে তোলে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'অন্যায়ের বিরোধিতা করা' কোন মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 

মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ-
সামাজিক মূল্যবোধ: শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ।
নৈতিক মূল্যবোধ: সত্যবাদিতা, ভাল-খারাপ জ্ঞান, অন্যায়ের বিরোধিতা, সাহায্য করা।
গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাক্-স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা।
আধুনিক মূল্যবোধ: সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল (যৌতুক প্রথা বাতিল করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহপ্রথা বন্ধ)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. অংশগ্রহনমূলক প্রক্রিয়া
  3. লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
  4. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসন মানে এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার পায়।
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।
- সুশাসনে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না।
- লিঙ্গ বৈষম্য থাকলে তা সুশাসনের পরিপন্থী হয়, তাই এটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

অন্যদিকে:
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া (ক) → জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- আইনের শাসন (খ) → ন্যায়বিচার ও আইনের সমান প্রয়োগ সুশাসনের ভিত্তি।
- জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব (ঘ) → সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড
  4. রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস, মতাদর্শ ও সাংস্কৃতিক চর্চা, যা একটি রাষ্ট্র বা সমাজের রাজনৈতিক নীতিমালাকে প্রভাবিত করে।
- গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সমতা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা- এসব রাজনৈতিক মূল্যবোধের অংশ।
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মূলত রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি চর্চার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও নীতি প্রণয়ন সহজ হয়।
- ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
সামাজিক প্রথা (ক) – এটি রাজনৈতিক মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে মূল ভিত্তি নয়।
নৈতিক মূল্যবোধ (খ) – এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক মূল্যবোধের সরাসরি ভিত্তি নয়।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (গ) – এটি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, তবে রাজনৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
________ মাধ্যমে মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়।
  1. নেতৃত্বের
  2. শিক্ষার
  3. ধর্মের
  4. আচরণের
সঠিক উত্তর:
আচরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণের
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিকতা, নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
- এটি ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- একজন ব্যক্তির নৈতিকতা যত দৃঢ় হবে, তার মূল্যবোধ ততই উন্নত হবে।
- যদিও শিক্ষা ও আচরণ মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবুও মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা, কারণ এটি মানুষের স্বভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
.
সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার কী?
  1. সরকার
  2. জনগণ
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স:
- সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার হলো ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance বা ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা)।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- এটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, জনগণ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করে।
- সরকারি সেবা ও তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই মতামত প্রদান ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ ও অনিয়ম কমানো যায়।

উল্লেখ্য:
সরকার (ক) – সুশাসন বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র হাতিয়ার নয়।
জনগণ (খ) – জনগণ সুশাসনের অন্যতম অংশীদার, তবে প্রযুক্তির সহযোগিতা ছাড়া তাদের ক্ষমতায়ন সীমিত হতে পারে।
রাজনৈতিক দল (ঘ) – রাজনৈতিক দল সুশাসনের নীতি নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সরাসরি বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
একজন নাগরিকের জীবনে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের গুরুত্ব কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়
  2. প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে
  3. নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
  4. এটি শুধুমাত্র সরকারি প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয়
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
→ সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হলেও, এটি মূল্যবোধ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়।
→ প্রযুক্তিগত শিক্ষা মূল্যবান, কিন্তু এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন শুধু প্রশাসনের জন্য নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে-
  1. উন্নত প্রশাসন
  2. শিক্ষার প্রসার
  3. সুশাসনের অভাব
  4. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
ব্যাখ্যা
ন্যায়বিচার ও সুশাসন:
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন (Good Governance) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যখন সুশাসনের অভাব থাকে, তখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যায়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমে যায়।
- এর ফলে বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
- সুতরাং, সুশাসনের অভাবই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোন মূল্যবোধটি সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ‘সৃজনশীলতা’ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো সুশাসন নিশ্চিত করে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখে।
- এছাড়া, বিশ্বস্ততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো ন্যায়বিচার, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
- তবে সৃজনশীলতা সাধারণত নীতিনির্ধারণের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- যদিও সৃজনশীলতা নতুন ধারণা ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতাই প্রধান ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
সুশাসনের __________ নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে।
  1. স্বচ্ছতা
  2. সাম্য ও সমতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের নীতি:
- সুশাসনের অন্যতম মূলনীতি হলো অংশগ্রহণ (Participation)।
- সুশাসনের "অংশগ্রহণ" নীতিটি জনগণ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
- এটি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বিভিন্ন সংগঠন, যেমন – শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, এনজিও, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
- অংশগ্রহণ নীতি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে জনগণ ও সংগঠনের মতামত নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
- অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে আরও বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে।

অন্যদিকে:
- স্বচ্ছতা তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে, কিন্তু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকা রাখে না।
- সাম্য ও সমতা নাগরিকদের সমান সুযোগ ও অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়, তবে সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মূল নীতি নয়।
- জবাবদিহিতা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে সরাসরি সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
১৪.
কোন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. রাজনৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. প্রশাসনিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- কারণ সুশাসন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে, যা ব্যবসা ও শিল্পের প্রসারে সহায়তা করে।

যেভাবে সুশাসন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক:
- সুশাসন থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে, যা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- বিনিয়োগকারীরা যখন দেখেন যে প্রশাসন স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত, তখন তারা বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হন।
- দক্ষ প্রশাসন ও কার্যকর নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫.
একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারে না-
  1. অর্থের অভাবে
  2. মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
  3. প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাবে
  4. উচ্চশিক্ষার অভাবে
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একজন ব্যক্তির নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা গড়ে তোলে।
- একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে না পারার প্রধান কারণ হলো মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব।
- যদি কেউ মূল্যবোধ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হতে পারে এবং ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা হারাতে পারে। - ফলে, সে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. জনকল্যাণ
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ ও নৈতিকতা:
মূল্যবোধ (Values) গঠিত হয় মানুষের নৈতিকতা (Morality) ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে। নৈতিকতা মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তি যা সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নৈতিকতার গুরুত্ব:
- নৈতিকতা মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করার বোধ তৈরি করে।
- সৎ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ আচরণ নিশ্চিত করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলি গড়ে তোলে।
- নৈতিকতা দুর্নীতি, প্রতারণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অর্থাৎ, মূল্যবোধের মূল ভিত্তি নৈতিকতা, কারণ এটি মানুষের আচরণ ও নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
১৭.
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে-
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে
  2. সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
  3. রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নতি হয়
  4. সার্বিক জীবনাচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "সামাজিক বৈষম্য দূর করা", কারণ এটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতা শেখায়, যা সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন নিশ্চিত করলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা হয়।
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যার ফলে সামাজিক বৈষম্য কমে যায়।

অন্যদিকে,
→ সুশাসনের মূল নীতি হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, যাতে একক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পুরো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
→ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নতি সুশাসনের একটি লক্ষ্য হতে পারে, তবে মূল্যবোধ শিক্ষার সরাসরি প্রভাব এটি নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, কিন্তু এটি সুশাসনের সরাসরি প্রভাব নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
__________ সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
  1. দুর্নীতির বিস্তার
  2. ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
সুশাসন বলতে বোঝায় এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বজায় থাকে। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমকে জনবান্ধব ও কার্যকর করা।

সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য:
স্বচ্ছতা (Transparency): সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ সচেতন থাকে এবং তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
জবাবদিহিতা (Accountability): সরকারি কর্মকর্তা ও নেতারা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
আইনের শাসন (Rule of Law): সকল নাগরিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনের অধীন থাকেন এবং সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
নাগরিক অংশগ্রহণ (Participation): জনগণ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. জাতীয় আদর্শ কেবল আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
  3. জাতীয় আদর্শ গঠনে মূল্যবোধ শিক্ষার কোনো ভূমিকা নেই
  4. জাতীয় আদর্শ শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের জন্য প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
ব্যাখ্যা
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- জাতীয় আদর্শ হলো একটি জাতির নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি, যা দেশ, সমাজ ও জনগণের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে।
- কারণ এটি মানুষের চিন্তাধারা, আচরণ ও সমাজ পরিচালনার নীতিগুলোকে গড়ে তোলে এবং একটি উন্নত, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখায়। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের সুশাসন সম্পর্কে সচেতন করে এবং দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যায়বিচারের চেতনা তৈরি করে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
২০.
মিশেল ক্যামডেসাসের মতে, "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য _____ অত্যাবশ্যক।"
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বিভিন্ন সংজ্ঞা:
⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কোন ক্ষেত্রে অপরিহার্য?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে
  2. ব্যক্তির নীতিবোধ প্রতিষ্ঠায়
  3. ব্যক্তির ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠায়
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি নীতিবোধ ও ঔচিত্যবোধের ভিত্তি তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ন্যায়পরায়ণভাবে জীবনযাপনে সহায়তা করে।

নীতিবোধ ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ শিক্ষা:

১. নীতিবোধ প্রতিষ্ঠা:
- নীতিবোধ হলো সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক গুণাবলি রক্ষার মানসিকতা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখায় এবং ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
- এটি মানুষকে অনৈতিকতা, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে।

২. ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা:
- ঔচিত্যবোধ মানে হচ্ছে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় তা বোঝার ক্ষমতা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ন্যায়ের পথে চলতে সহায়তা করে।
- এটি দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য,
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
- যদিও নৈতিকতা ও সততা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, তবে এটি সরাসরি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২২.
সুশাসন কার্যকরে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরকারের
  2. শিক্ষার্থীদের
  3. আমলাদের
  4. গণমাধ্যমের
সঠিক উত্তর:
সরকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও সরকার:
- সুশাসন কার্যকরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সরকার পালন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর আইন ও নীতি সরকারকেই তৈরি করতে হয়।
- সরকার যদি আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, তবে সুশাসন নিশ্চিত হয়।
- সরকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
- নাগরিক স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

অন্য বিকল্পগুলো:
শিক্ষার্থীরা (খ) – তারা ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি সুশাসন বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের নেই।
আমলারা (গ) – তারা নীতি বাস্তবায়ন করে, কিন্তু নীতি নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা সরকারের হাতে থাকে।
গণমাধ্যম (ঘ) – এটি তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না।

সুশাসন কার্যকরের জন্য সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সরকারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও ____ ধারণা জাগ্রত করে।
  1. শিক্ষার
  2. সুশাসনের
  3. সুন্দরের
  4. বিভাজনের
সঠিক উত্তর:
সুন্দরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ধারণা জাগ্রত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিকতা, সততা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সত্যবাদী হতে শেখায়, যা সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু নৈতিকতা নয়, বরং সুন্দর চিন্তা, সুন্দর ব্যবহার এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
২৪.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের _______ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. সামরিক শক্তির
  2. সার্বিক উন্নয়নের
  3. শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার
  4. কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের
সঠিক উত্তর:
সার্বিক উন্নয়নের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বিক উন্নয়নের
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এগুলোর প্রভাব শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো খাতে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক- সবক্ষেত্রে পড়ে।

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ-
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সুশাসন রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নৈতিকতা ও সুশাসন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এবং দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।
সামাজিক উন্নয়ন: মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীসের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে?
  1. ব্যক্তিগত সফলতার
  2. শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার
  3. সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
  4. কেবলমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
সঠিক উত্তর:
সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৬.
সুশাসন কখন বাধাগ্রস্থ হয়?
  1. জনসংখ্যা কম থাকলে
  2. অর্থ সম্পদ না থাকলে
  3. আইনের শাসন না থাকলে
  4. শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন না থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন না থাকলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও আইনের শাসন:
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যদি আইনের শাসন না থাকে, তবে প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সবক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয়ে যায়।
- আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে:
ক) জনসংখ্যা কম থাকলে: জনসংখ্যা সুশাসনের সরাসরি বাধা নয়; বরং দক্ষ প্রশাসন ও সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খ) অর্থ সম্পদ না থাকলে: অর্থনৈতিক সংকট চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থের চেয়েও বেশি দরকার স্বচ্ছ প্রশাসন ও আইনের শাসন।
ঘ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে: সামরিক শক্তি সুশাসনের মূল উপাদান নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা সুশাসনের ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭.
Asian Development Bank (ADB) কত সালে 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
→ ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘ, UNDP সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সুশাসন' সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা শুরু করে।
→ ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
→ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
→ ১৯৯৭ সালে UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২৮.
ব্যক্তির বিশ্বাস ও নীতি-নৈতিকতা থেকে কোন ধরনের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়?
  1. পেশাগত মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে কী দেখা দেয়?
  1. নৈতিকতার বিকাশ
  2. ন্যায়বিচার বৃদ্ধি
  3. স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  4. বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যেখানে সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা বিদ্যমান, সেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। 
- কিন্তু এগুলোর অভাব থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয়।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- যখন নৈতিক শিক্ষা ও সুশাসন কার্যকর থাকে না, তখন সমাজে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচার বৃদ্ধি পায়।

যেমন-
: মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে মানুষ সৎ ও ন্যায়পরায়ণ থাকার পরিবর্তে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
: সুশাসনের অভাবে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দেখা দেয়, যা সমাজের একটি বড় অংশকে অবহেলিত করে রাখে।
: নৈতিক মূল্যবোধ না থাকলে আইন ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।