পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৪
সিলেবাস
Full Model Test - 3
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৪ প্রশ্ন

.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
সঠিক উত্তর:
সংশোধন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশোধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
সঠিক উত্তর:
প্রভঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
সঠিক উত্তর:
সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
সঠিক উত্তর:
গৃহস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১৬.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও বেলারুশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৭.
শরিয়তে যেসব অপরাধের শাস্তি ও শাস্তির পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে, তাদের সংখ্যা—
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৩ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা

ইসলামী শরিয়ত কিসাস ছাড়াও সাত ধরনের অপরাধের শাস্তি (হদ) নির্ধারণ করে দিয়েছে। যথা :
১) ব্যভিচার সংশ্লিষ্ট বিধান। যেমন অবিবাহিত ব্যভিচারী নারী-পুরুষ উভয়কে ১০০ বেত্রাঘাত। (সুরা: নুর, আয়াত: ২)
২) কারো ওপর ব্যভিচারের মিথ্যারোপকারীকে ৮০ বেত্রাঘাত। (সুরা: নুর, আয়াত: ৪)
৩) বিবাহিত নারী-পুরুষের ব্যভিচারে রজম (প্রস্তারাঘাত করে হত্যা)-এর শাস্তি। (বুখারি, হাদিস: ৬৮২৯; মুসলিম, হাদিস: ৪৩১০; তিরমিজি, হাদিস: ১৪৫৪)
৪) যথোপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে চোরের হাত কাটা। (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৩৮)
৫) ডাকাতি, সন্ত্রাস কিংবা সমাজে নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীকে শূলে চড়িয়ে হত্যা, নতুবা বিপরীত দিকের হাত-পা কেটে দেওয়া অথবা দেশান্তর করা। (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৩৩)
৬) মদপানকারীকে ৮০ বেত্রাঘাত করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৩৪৬; আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪৭৯)
৭) ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারী মুরতাদের শাস্তি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৮৭৮)

১৮.
নবি কারিম (সা) এর বিষয়ে সুরা হুজুরাতে কয়টি শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. অগণিত
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

নবি কারিম (সা) এর বিষয়ে সুরা হুজুরাতে ৩ টি শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে:

আদব-০১: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আদব-০২: হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবির আওয়াজের উপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা নিজেরা পরস্পর যেমন উচ্চস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরকম উচ্চস্বরে কথা বলো না।

আদব-০৩: নিশ্চয় যারা তোমাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে ডাকাডাকি করে, তাদের অধিকাংশই বুঝে না।

১৯.
কয়টি পদ্ধতিতে রাসুলে কারিম (সা) এর নিকট ওহি আসত?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ১৪টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

৭টি পদ্ধতিতে রাসুলে কারিম (সা) এর নিকট ওহি আসত: স্বপ্নযোগে, ইলহামের মাধ্যমে, ঘণ্টাধ্বনির মতো, জিবরাইল (আ) মানুষের আকৃতিতে, জিবরাইল (আ) আপন আকৃতিতে, সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন ও ইসরাফিল (আ) এর মাধ্যমে।

২০.
হাদিস অনুসারে কোন ৩ ধরনের লোক নসিহত করতে পারেন?
  1. ফকিহ, আলেম, নবি
  2. নবি, আলেম, সুফি
  3. আমির, আমিরের প্রতিনিধি, অহঙ্কারী ব্যক্তি
  4. মুর্শিদ, আমির, আমিরের প্রতিনিধি
সঠিক উত্তর:
আমির, আমিরের প্রতিনিধি, অহঙ্কারী ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমির, আমিরের প্রতিনিধি, অহঙ্কারী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) এর হাদিস অনুসারে ৩ ধরনের লোক কেবল নসিহত করতে পারেন। তারা হলো: আমির, আমিরের প্রতিনিধি, অহঙ্কারী ব্যক্তি। অর্থাৎ, আমির বা আমিরের প্রতিনিধি ছাড়া কোন জ্ঞানহীন লোকের নসিহত করা অহংকারের নামান্তর।

২১.
আচরণে কঠোরতা পরিত্যাগ ও কোমলতা গ্রহণ এবং নেতিবাচক আচরণ থেকে বিরত থাকাকে কী বলে?
  1. ইহসান
  2. তাহযির
  3. জামিল
  4. হাসান
সঠিক উত্তর:
তাহযির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহযির
ব্যাখ্যা

তাহযির হলো কোনো ব্যক্তি বা সমাজকে নেতিবাচক, অশালীন বা নিষিদ্ধ আচরণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ, পরামর্শ বা উপদেশ প্রদান। এর লক্ষ্য হলো মানুষকে সদাচরণ, কোমলতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ধৈর্যের পথে পরিচালিত করা, যাতে ব্যক্তি ও সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

২২.
অমুসলিমদের কোন বাক্যের মাধ্যমে সালাম দিতে হয়?
  1. السَّلَامُ عَلَيْكُمْ
  2. السَّلامُ عَلَيْكُم ورَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكاتُهُ
  3. السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى
  4. السََّامُ عَلَيْكُمْ
সঠিক উত্তর:
السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى
উত্তর
সঠিক উত্তর:
السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) এর হাদিস অনুসারে কোন অমুসলিমকে সালাম দিতে হলে এ বাক্যের মাধ্যমে দিতে হবে: السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى অর্থাৎ, শান্তি তার ওপর, যে সঠিক পথ অনুসরণ করেছে।

২৩.
রাসুলে কারিম (সা) কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কোন ইলম শিখতে গুরুত্বারোপ করেছেন?
  1. ফিকহ
  2. ইলমে ফারায়েজ
  3. তাফসির
  4. হাদিস
সঠিক উত্তর:
ইলমে ফারায়েজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলমে ফারায়েজ
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা (আমার নিকট হতে) ফারায়েজ ও কুরআন শিখে নাও এবং লোকেদেরকেও তা শিখিয়ে দাও। কারণ আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে (আমার মৃত্যু হবে)।

২৪.
রাস্তার হক কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

রাস্তার হক ৪টি: ১। চক্ষু হেফাজত করা, ২। কাউকে কষ্ট না দেওয়া, ৩। সালামের উত্তর দেওয়া, ৪। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা। অন্য হাদিসে রাস্তার ৫/৬টি হক বর্ণিত হয়েছে।

২৫.
কোনটি মাক্কি সুরা?
  1. সুরা হুজরাত
  2. সুরা নুর
  3. সুরা ফুরকান
  4. সুরা ফাতহ
সঠিক উত্তর:
সুরা ফুরকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরা ফুরকান
ব্যাখ্যা

কুরআনিক স্টাডিজ সিলেবাসের ৩টি সুরা অর্থাৎ সুরা ফাতহ, সুরা হুজরাত ও সুরা নুর- ৩ টিই মাদানি সুরা। তবে সুরা ফুরকান একটি মাক্কি সুরা। মাদানি সুরা ৯২টি এবং মাক্কি সুরা ২২টি।

২৬.
কী পরিমাণ ইলম শিখলে কাউকে ফকিহ বলা যাবে?
  1. দ্বীনের বিষয়ে ১০০টি হাদিস
  2. দ্বীনের বিষয়ে ২০টি হাদিস
  3. দ্বীনের বিষয়ে ৪০টি হাদিস
  4. দ্বীনের বিষয়ে ১০০০টি হাদিস
সঠিক উত্তর:
দ্বীনের বিষয়ে ৪০টি হাদিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বীনের বিষয়ে ৪০টি হাদিস
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের জন্য দীন সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ করেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন ফকিহ হিসেবে (কবর হতে) উঠাবেন।

২৭.
সুরা নুরের আলোকে নিচের কোনটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. রাসুল (সা) এর সাথে সমষ্টিগত কাজে মিলিত হওয়া
  2. আল্লাহ ও রাসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা
  3. রাসুলের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করা
  4. ধারণা থেকে বেঁচে থাকা
সঠিক উত্তর:
ধারণা থেকে বেঁচে থাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারণা থেকে বেঁচে থাকা
ব্যাখ্যা

“মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় তোমার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উপর ঈমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা তোমার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।” (সুরা নুর, আয়াত ৬২) সুতরাং, ‘ধারণা থেকে বেঁচে থাকা’ সুরা নুর অনুসারে মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।

২৮.
কোনটি হযরত আলি (রা) এর উপাধি নয়?
  1. আসাদুল্লাহ
  2. হায়দার
  3. মুর্তাজা
  4. আবু তোরাব
সঠিক উত্তর:
আবু তোরাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু তোরাব
ব্যাখ্যা

আবু তোরাব ও আবুল হাসান হযরত আলি (রা) এর উপনাম; উপাধি নয়। তাঁর উপাধি হলো- আসাদুল্লাহ, হায়দার ও মুর্তাজা।

২৯.
রাসুল (সা) পৃথিবীতে কী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন?
  1. শাসক
  2. শিক্ষার্থী
  3. শিক্ষক
  4. যোদ্ধা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের কিতাবুল ইলম অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।”

৩০.
হাদিসে জিবরিলে কোন বাক্যের মাধ্যমে হযরত জিবরাইল (আ) আল্লাহর রাসুলের (সা) বর্ণনাসমূহকে সত্যয়ন করছিলেন?
  1. صَدَقَ تَصْداقًا
  2. صَدَقْتَ
  3. صَدَقَتْ رُسُلُكَ
  4. تَصْداقًا صَدَقْتَ
সঠিক উত্তর:
صَدَقْتَ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
صَدَقْتَ
ব্যাখ্যা

হাদিসে জিবরিলে হযরত জিবরাইল (আ) আল্লাহর রাসুলের (সা) বর্ণনাসমূহকে সত্যয়ন করছিলেন صَدَقْتَ বাক্যের মাধ্যমে; যার অর্থ হলো- “আপনি সত্য বলেছেন”।

৩১.
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে সংকলিত ‘হাদিসে জিবরিল’ এর রাবি কে?
  1. হযরত আবু হুরায়রা (রা)
  2. হযরত উমর (রা)
  3. হযরত আলি (রা)
  4. হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা)
সঠিক উত্তর:
হযরত উমর (রা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হযরত উমর (রা)
ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে সংকলিত ‘হাদিসে জিবরিল’ এর রাবি হযরত উমর (রা)। হাদিসটি সহিহ মুসলিম থেকে সংকলিত হয়েছে।

৩২.
হাদিসে মুনাফিককে তুলনা করা হয়েছে—
  1. বানডাকা গাভীর সাথে
  2. দুই নৌকায় পা দেওয়া মানুষের সাথে
  3. বানডাকা ছাগীর সাথে
  4. পথহারা পথিকের সাথে
সঠিক উত্তর:
বানডাকা ছাগীর সাথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানডাকা ছাগীর সাথে
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুনাফিক্বের দৃষ্টান্ত সে (বানডাকা) বকরীর ন্যায়, যে দুই ছাগপালের মধ্যে থেকে (নরের খোঁজে) একবার এ পালে ঝুঁকে আর একবার ঐ পালের দিকে দৌড়ায়।

৩৩.
حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ইমানের দৃঢ়তা
  2. ইমানের বিশুদ্ধতা
  3. ইমানের স্বাদ
  4. ইমানের পরিপূর্ণতা
সঠিক উত্তর:
ইমানের স্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানের স্বাদ
ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের কিতাবুল ইলম অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমানের স্বাদ প্রাপ্তির কিছু শর্ত বর্ণনা করেছেন। ‘ইমানের স্বাদ’ এর আরবি প্রতিশব্দ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ ।

৩৪.
পবিত্র কুরআনের কোন অংশ নিয়ে তর্কবিতর্ক করার হুকুম কী?
  1. কবিরা গুনাহ
  2. শিরক
  3. কুফর
  4. ফাসেকি
সঠিক উত্তর:
কুফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুফর
ব্যাখ্যা

আবু হুরায়রাহ্ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনের কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া কুফরী।

৩৫.
সুরা ফাতহে রুকু সংখ্যা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুরা ফাতহ-এর রুকু সংখ্যা ৪টি। এই সুরাটি কুরআনের ৪৮তম সুরা এবং এতে মোট ২৯টি আয়াত রয়েছে। এটি 'আল-ফাতহ' নামে পরিচিত এবং এর অর্থ 'বিজয়'।

৩৬.
ইমানের মূল অভিব্যক্তি কী?
  1. সৎকাজে আনন্দ ও অসৎকাজে কষ্ট পাওয়া
  2. নিয়মিত সালাত আদায়
  3. নিয়মিত রোজা রাখা
  4. সকল মৌলিক ইবাদাত প্রতিপালন
সঠিক উত্তর:
সৎকাজে আনন্দ ও অসৎকাজে কষ্ট পাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎকাজে আনন্দ ও অসৎকাজে কষ্ট পাওয়া
ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের কিতাবুল ইমান অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমানের মূল অভিব্যক্তি হলো সৎকাজে আনন্দিত হওয়া ও অসৎকাজে কষ্ট পাওয়া।

৩৭.
‘আমানত’ শব্দের অর্থ কী?
  1. দান করা
  2. গোপন রাখা
  3. সংরক্ষণ করা
  4. সংকলন করা
সঠিক উত্তর:
সংরক্ষণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

‘আমানত’ শব্দের অর্থ হলো গচ্ছিত রাখা, সংরক্ষণ করা, জমা বা বিশ্বস্ততার সঙ্গে কোনো কিছু রক্ষা করা। এটি অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ হতে পারে, যা কোনো ব্যক্তি ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা রাখতে পারে।

৩৮.
লেখার সময় প্রয়োজনীয় কথা মনে রাখার উপায় কী?
  1. চোখ বন্ধ রাখা
  2. কানে কলম রাখা
  3. ধীরে ধীরে লেখা
  4. মাঝেমধ্যে বিরতি দেওয়া
সঠিক উত্তর:
কানে কলম রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানে কলম রাখা
ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের কিতাবুল ইলম অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেখার সময় প্রয়োজনীয় কথা মনে রাখার উপায় হিসেবে ‘কানে কলম রাখা’র কথা উল্লেখ করেছেন।

৩৯.
হুদায়বিয়ার দিনে সাহাবিদের অন্তরে যে প্রশান্তি নাযিল হয়েছিল, কুরআনে তাকে কী বলা হয়েছে?
  1. রহমাত
  2. সাকিনাহ
  3. নাসরান আঝিঝা
  4. মাগফিরাত
সঠিক উত্তর:
সাকিনাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাকিনাহ
ব্যাখ্যা

“তিনিই মুমিনদের অন্তরে ‘প্রশান্তি’ নাযিল করেছিলেন, যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়।” সুরা ফাতহের ৪ নং আয়াতে ‘সাকিনাহ’ শব্দের অর্থ ‘প্রশান্তি’।

৪০.
হুদায়বিয়ার সন্ধিতে মুসলিমদের পক্ষে অনুপস্থিত ছিল কোন গোত্র?
  1. গিফার
  2. কুরাইশ
  3. বানু হাশিম
  4. বানু নাজ্জার
সঠিক উত্তর:
গিফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিফার
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা) যখন সকল সাহাবিদের মাঝে সাধারণ ঘোষণা দিলেন উমরার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। সাহাবিরা প্রস্তুতি নিয়েছিল কিন্তু মদিনার চতুর্দিকে বসবাসকারী কয়েকটি গোত্র প্রস্তুতি নেয়নি। যেমন গিফার, মুযাইনা, জাহাইনা, আসলাম এবং দুআল গোত্রসমূহ। প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণ কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে- তারা সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের মোহে যেতে পারেনি।

৪১.
বাইআতে রিদওয়ানকে অন্য যে নামে ডাকা হয়—
  1. বাইআতে হুদায়বিয়া
  2. বাইআতে শাজার
  3. বাইআতে সামুরা/বাবলা
  4. বাইআতে মাগানিম
সঠিক উত্তর:
বাইআতে শাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইআতে শাজার
ব্যাখ্যা

বাইয়াতে রিদওয়ানকে বাইয়াতে শাজার বা গাছের শপথ নামেও ডাকা হয়। ৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদাইবিয়া নামক স্থানে রাসুল (সা.) তার ১৪০০ সাহাবীর কাছ থেকে উসমান (রা.) হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটি গাছের নিচে এই শপথ গ্রহণ করান।

৪২.
তাবুক যুদ্ধ ইসলামি ইতিহাসে পরিচিত—
  1. গাজওয়াতুল উসরাহ হিসেবে
  2. গাজওয়াতুল আরব হিসেবে
  3. গাজওয়াতুল ইসলাম হিসেবে
  4. ঠাণ্ডা যুদ্ধ হিসেবে
সঠিক উত্তর:
গাজওয়াতুল উসরাহ হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজওয়াতুল উসরাহ হিসেবে
ব্যাখ্যা

তাবুক যুদ্ধ ইসলামী ইতিহাসে ‘গাজওয়াতুল উসরা’ (غَزْوَة الْعُسْرَة) বা কষ্টের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এটি ছিল নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনের সর্বশেষ যুদ্ধাভিযান এবং এটি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল। তাবুক নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে এটি তাবুক যুদ্ধ নামে পরিচিত।

এই যুদ্ধ গাজওয়াতুল উসরা বা কষ্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ হলো, মুসলিম বাহিনী এই অভিযানে যাওয়ার সময় বেশ কিছু প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল। মদিনা থেকে তাবুকের দূরত্ব অনেক বেশি ছিল এবং সে সময় মুসলিমদের মধ্যে অভাব ও সংকট ছিল। এছাড়া, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন ছিল।

৪৩.
দাদা আব্দুল মুত্তালিব নবি মুহাম্মদ (সা) কে কত বছর লালন-পালন করেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৮ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা

নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের পর তাঁর মা আমিনার ইন্তেকালের পর তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন দাদা আব্দুল মুত্তালিব। তিনি প্রায় দুই বছর নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখাশোনা করেন, এরপর ৮ বছর বয়সে দাদা মারা যান।

৪৪.
কত বছর বয়সে রাসুল (সা) এর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা) ইন্তেকাল করেন?
  1. ৫৫
  2. ৬৫
  3. ৬৯
  4. ৬৩
সঠিক উত্তর:
৬৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫
ব্যাখ্যা

মৃত্যুর সময় খাদিজা (রাঃ)-এর বয়স ছিল প্রায় ৬৫ বছর। তিনি নবুয়তের দশম বর্ষের রমজান মাসে মক্কায় ইন্তেকাল করেন, যাকে ‘দুঃখের বছর’ বলা হয়।

৪৫.
মদিনা সনদ অনুযায়ী কোনো সম্প্রদায়ের কারো অপরাধ—
  1. রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
  2. আল্লাহর উপর ন্যস্ত হবে
  3. গোত্রীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
  4. ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদ অনুযায়ী, কোনো সম্প্রদায়ের কারো অপরাধ করলে তা ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, অপরাধীর কৃতকর্মের জন্য তার সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না, বরং অপরাধীকে একাই তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

মদিনা সনদের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা তৎকালীন সমাজের প্রচলিত প্রথা থেকে ভিন্ন ছিল। সনদে আরও বলা হয়েছে যে, কেউ যদি কোনো অন্যায় বা চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার ও প্রতিকার লাভের অধিকারী হবে।

৪৬.
রাসুলে কারিম (সা) এর কাছে হযরত খাদিজা (রা) এর পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব কে নিয়ে আসেন?
  1. নাফিসা বিনতে মানিয়্যা
  2. আবু তালিব
  3. মুনজির ইবন সাওয়া
  4. জায়ফর ইবন জুলন্দি
সঠিক উত্তর:
নাফিসা বিনতে মানিয়্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাফিসা বিনতে মানিয়্যা
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) এর কাছে হযরত খাদিজা (রা) এর পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসেন তার বান্ধবী নাফিসা বিনতে মানিয়্যা। এর আগে খাদিজা (রা) হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে ব্যবসা দেখাশোনা করার জন্য নিয়োগ করেন এবং তাঁর সততা ও দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেই বিবাহের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

৪৭.
রাসুল (সা) নিচের কোন ব্যক্তিকে মা বলে ডাকতেন না?
  1. হালিমা সাদিয়া
  2. উম্মে আয়মান
  3. ফাতেমা বিনতে আসাদ
  4. উম্মে জামিল
সঠিক উত্তর:
উম্মে জামিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উম্মে জামিল
ব্যাখ্যা

মা আমিনার মৃত্যুর পর রাসুল (সা) তাঁর দুধ মাতা হালিমা আস-সাদিয়া এবং তাঁর বাবা-মায়ের দাসী উম্মে আইমান-কে ‘মা’ বলে ডাকতেন ও গভীর সম্মান করতেন, যিনি তাঁর জন্মের সময় থেকে তাঁর দেখাশোনা করেছিলেন। এছাড়া চাচা আবু তালিবের স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আসাদকেও তিনি মা বলে সম্বোধন করতেন। তবে আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিলকে তিনি মা বলে ডাকেননি। তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদের (সা) খালা ও আবু সুফিয়ানের বোন।

৪৮.
নিচের কোন ব্যক্তি রাসুলে কারিম (সা) এর চাচা নন?
  1. যুবায়ের
  2. যেরার
  3. আবু লাহাব
  4. মুয়াত্তাল
সঠিক উত্তর:
মুয়াত্তাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুয়াত্তাল
ব্যাখ্যা

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের দশজন পুত্র ছিলেন। হারিছ, যুবায়ের, হাজাল, মুকাওয়িম, আব্বাস, হামজা, আবু তালিব, আব্দুল্লাহ। সুতরাং মুয়াত্তাল রাসুলে কারিম (সা) এর চাচা নন।

৪৯.
রাসুলে কারিম (সা) এর ডাকনাম কী ছিল?
  1. আবু আব্দুল্লাহ
  2. আবুল কাসিম
  3. আবু ইবরাহিম
  4. আবু ফাতিমা
সঠিক উত্তর:
আবুল কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কাসিম
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা)-এর উপনাম/ডাকনাম বা কুনিয়াত ছিল আবুল কাসিম। তার প্রথম পুত্র কাসিমকে কেন্দ্র করে এই উপনামটি দেওয়া হয়েছিল, যদিও কাসিম শৈশবেই মারা যান।

৫০.
হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্বে কুরাইশদের নেতৃত্বে খালিদ বিন ওয়ালিদ কোন সালাতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত হন?
  1. যোহর
  2. আসর
  3. মাগরিব
  4. ফজর
সঠিক উত্তর:
যোহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোহর
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্বে কুরাইশদের নেতৃত্বে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (তখনো মুসলিম হননি) কাফেরদের পক্ষ থেকে মুসলিমদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। নবি (সা) সাহাবিদের নিয়ে যোহর সালাত আদায় করলে খালিদ আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি।

৫১.
হুদায়বিয়ার সন্ধীকালীন মুসলিম শিবিরে আগত কোন নওমুসলিমকে শর্তানুযায়ী কুরাইশদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়?
  1. বুদাইলা
  2. জানদাল
  3. উম্মে মাকতুম
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জানদাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানদাল
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী মুসলিম শিবিরে আগত নওমুসলিমকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল আবু জান্দাল ইবন সুহাইল (রা)-কে। তিনি ছিলেন চুক্তি স্বাক্ষরকারী কুরাইশ প্রতিনিধি সুহাইল ইবন আমর-এর ছেলে। আবু জান্দাল (রা) ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার মুশরিকদের হাতে বন্দী ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিনি শৃঙ্খল অবস্থায় মুসলিম শিবিরে আসেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নবী করিম (সা) তাঁকে অত্যন্ত কষ্টের সাথেও কুরাইশদের কাছে ফিরিয়ে দেন।

৫২.
বিভিন্ন দেশের বাদশাদের কাছে রাসুলে কারিম (সা) এর পক্ষ থেকে ইসলামের দাওয়াতসহ পত্র প্রেরণের জন্য যে রৌপ্যনির্মিত সিলমোহর তৈরি করা হয়, তাতে লেখা ছিল—
  1. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ
  2. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
  3. মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
  4. বিসমিকা আল্লাহুম্মা
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ (সা) যখন বিভিন্ন দেশের বাদশাহ ও শাসকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য পত্র পাঠান, তখন একটি রৌপ্যনির্মিত সিলমোহর প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল— ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’।

৫৩.
গোপনে ইসলাম প্রচারের ৩ বছরে মুসলিমরা কোথায় পরস্পর মিলিত হতেন?
  1. শিয়াবে আবু তালিব
  2. দারুল আরকাম
  3. হেরা গুহার পাদদেশ
  4. খানায়ে কাবা
সঠিক উত্তর:
দারুল আরকাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারুল আরকাম
ব্যাখ্যা

ইসলামের শুরুতে গোপনে প্রচারের সময় (নবুয়তের প্রথম তিন বছর) মুসলিমরা সাধারণত মক্কার বিভিন্ন বাড়িতে, বিশেষ করে দারুল আরকাম নামক একটি বাড়িতে গোপনে মিলিত হতেন, যেখানে তাদের ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হতো এবং এর মাধ্যমে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হতো।

৫৪.
লুত (আ) ও ইবরাহিম (আ) এর পরে আল্লাহর রাস্তায় হিজরতকারী প্রথম দম্পতি কারা?
  1. হযরত আলি (রা) ও হযরত ফাতিমা (রা)
  2. হযরত উসমান (রা) ও হযরত রুকাইয়া (রা)
  3. হযরত উসমান (রা) ও হযরত জয়নব (রা)
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হযরত উসমান (রা) ও হযরত রুকাইয়া (রা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হযরত উসমান (রা) ও হযরত রুকাইয়া (রা)
ব্যাখ্যা

হযরত লুত (আ.) ও হযরত ইবরাহিম (আ.) এর পর আল্লাহর রাস্তায় হিজরতকারী প্রথম দম্পতি ছিলেন হযরত উসমান (রা.) ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়া (রা.)। তারা ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম দিকে (পঞ্চম বছরে) হাবশায় হিজরত করেছিলেন।

৫৫.
রাসুল (সা) এর পত্রপ্রেরণের কারণে নিচের কোন বাদশাহ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. বাহরাইনের গভর্নর মুনজির
  2. ওমানের রাজা জাফর
  3. মিশরের রাজা মুকাওকিস
  4. সিরিয়ার রাজা হারিছ
সঠিক উত্তর:
ওমানের রাজা জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওমানের রাজা জাফর
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ (সা) এর দাওয়াতী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজা ও শাসকের কাছে ইসলাম গ্রহণের আহ্বানপত্র প্রেরণ করেছিলেন। এর মধ্যে ওমানের রাজা জাফর ইবনে আল-জুলআন্দা ও তার ভাই আবদ রাসুলের পত্র পাওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। অপশনের বাকি ৩জনের কাছে পত্র প্রেরিত হলেও কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি।

৫৬.
গাযওয়ায়ে যাতুর রিকা কবে সংঘটিত হয়?
  1. ২য় হিজরি
  2. ৩য় হিজরি
  3. ৭ম হিজরি
  4. ১০ম হিজরি
সঠিক উত্তর:
৭ম হিজরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম হিজরি
ব্যাখ্যা

গাযওয়ায়ে যাতুর রিকা ৭ম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল। এর সংঘটিত হওয়ার সময় নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে; কিছু পন্ডিতের মতে এটি ৫ম হিজরিতে (৬২৫ খ্রিস্টাব্দে) এবং কিছু পন্ডিতের মতে ৭ম হিজরিতে (৬২৭ খ্রিস্টাব্দে) সংঘটিত হয়। তবে ৭ম হিজরির মতটি অধিক পরিশুদ্ধ।

৫৭.
কোন যুদ্ধে রাসুল (সা) এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে পরপর ৩জন মুসলিম সেনাপ্রধান শহিদ হন?
  1. হুনাইনের যুদ্ধ
  2. মুতার যুদ্ধ
  3. বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ
  4. তাবুকের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মুতার যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুতার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে মুতার যুদ্ধে পরপর তিনজন মুসলিম সেনাপতি, অর্থাৎ জায়েদ ইবনে হারেসা (রা.), জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.) এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) শহিদ হন। এই যুদ্ধটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এবং এতে মুসলিম বাহিনী উল্লেখযোগ্য সাহসিকতা প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে মুসলিম বাহিনী খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর নেতৃত্বে বিজয় লাভ করে।

৫৮.
রাসুল (সা) তার সম্পূর্ণ জীবনে হজ ও ‍উমরা পালন করেছেন যথাক্রমে—
  1. ১ ও ২ বার
  2. ১ ও ৩ বার
  3. ২ ও ২ বার
  4. ১ ও ৪ বার
সঠিক উত্তর:
১ ও ৪ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ও ৪ বার
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা.) তাঁর জীবনে ১টি ফরজ হজ এবং ৪টি উমরাহ পালন করেছিলেন। তিনি মোট ৪টি উমরাহ পালন করেন, যার সবগুলোই ছিল জিলকদ মাসে। তিনি জীবনে একবারই ফরজ হজ আদায় করেছিলেন, যা ছিল ১০ম হিজরিতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ)।

৫৯.
নিচের কোন সাহাবি তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন?
  1. কাব বিন মালিক
  2. মুরারা বিন রাবি
  3. হেলাল বিন উমাইয়া
  4. আবু খায়সামা
সঠিক উত্তর:
আবু খায়সামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু খায়সামা
ব্যাখ্যা

তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এমন উল্লেখযোগ্য সাহাবিগণ হলেন হযরত কাব ইবনে মালেক, হযরত হিলাল ইবনে উমাইয়্যা এবং হযরত মুরারা ইবনে রাবি’ (রা)। এই তিনজন সাহাবি অলসতার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, যার ফলে তাদের ৫০ দিন পর্যন্ত সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছিল। সুতরাং, তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন আবু খায়সামা (রা)।

৬০.
মক্কা বিজয়ের পর সাধারণ ক্ষমার বাহিরে সাজাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. হুয়াইরিত
  2. মিকইয়াস বিন সাবাহা
  3. ওয়াহশি বিন হারব
  4. আব্দুল উযযা
সঠিক উত্তর:
ওয়াহশি বিন হারব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহশি বিন হারব
ব্যাখ্যা

ওয়াহশি ইবনে হারব (রা) ছিলেন ইথিওপিয় বংশোদ্ভূত একজন দাস। তার মনিবের নাম ছিল জুবায়ের ইবনে মুতিম । ওয়াহশি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবীর মর্যাদা লাভ করেন। অমুসলিম থাকাবস্থায় উহুদের যুদ্ধে তিনি মুহাম্মদ (সা) এর চাচা হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা) কে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ভন্ড নবী মুসাইলিমাকে হত্যা করেন। অপশনের বাকি ৩জন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন।

৬১.
কোন বিবাহিতা নারীর ইদ্দত নেই?
  1. নাবালিকা নারী
  2. বৃদ্ধা নারী
  3. দাসী
  4. বিবাহিতা কিন্তু সঙ্গম হয়নি
সঠিক উত্তর:
বিবাহিতা কিন্তু সঙ্গম হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহিতা কিন্তু সঙ্গম হয়নি
ব্যাখ্যা

যে নারীকে বিয়ের পর সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয় তার ওপর কোনো ইদ্দত নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نَكَحۡتُمُ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ ثُمَّ طَلَّقۡتُمُوهُنَّ مِن قَبۡلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمۡ عَلَيۡهِنَّ مِنۡ عِدَّةٖ تَعۡتَدُّونَهَاۖ

“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দেবে, তাহলে তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে।” (সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৯)

ইবন কাসির (র) তার তাফসীর: (৫/৪৭৯) গ্রন্থে বলেন: এ মাস’আলার ক্ষেত্রে সকল আলেম একমত, অর্থাৎ নারীকে যদি সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয়, তাহলে তার ওপর কোনো ইদ্দত নেই, সে তালাকের পর তৎক্ষণাৎ যার সাথে ইচ্ছা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

৬২.
মোহর নির্ধারনের প্রধান মূলনীতি কোনটি?
  1. পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য
  2. স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা
  3. উভয়ের বংশীয় আভিজাত্য
  4. স্ত্রীর গুণাবলি
সঠিক উত্তর:
পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য
ব্যাখ্যা

মোহর নির্ধারণের প্রধান মূলনীতি হলো পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য। তবে, ‘মোহরে মিছাল’ বা সমমানের নারীর অধিকারও বিবেচনা করা হয়। যদিও মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১০ দিরহাম, এর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

৬৩.
ফারায়েজশাস্ত্রে ‘রাদ’ কাকে বলে?
  1. অবশিষ্ট অংশ মূল উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া
  2. মূল অংশ অন্য পরিবারের হাতে দেওয়া
  3. দূর সম্পর্কের উত্তরাধিকারদের অন্তর্ভূক্ত করা
  4. ওসিয়তের অংশ বাদ দেওয়া
সঠিক উত্তর:
অবশিষ্ট অংশ মূল উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবশিষ্ট অংশ মূল উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া
ব্যাখ্যা

ফারায়েজ শাস্ত্রে ‘রাদ’ হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নির্ধারিত অংশ বণ্টন করার পর যদি মোট অংশ পুরো সম্পত্তির চেয়ে কম হয়, তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাগীদারদের মধ্যে তাদের প্রাপ্ত অংশের অনুপাতে পুনরায় বাড়িয়ে বণ্টন করা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যখন আসাবা ওয়ারিশ থাকে না এবং নির্দিষ্ট ওয়ারিশদের প্রাপ্ত অংশের যোগফল মোট সম্পত্তির চেয়ে কম হয়, তখন অবশিষ্ট সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

৬৪.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে আসাবা কত প্রকার?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে আসাবা তিন প্রকার: আসাবা বি নাফসিহী (স্বয়ংসম্পূর্ণ আসাবা), আসাবা বি গাইরিহী (অন্যের সাথে প্রাপ্ত আসাবা), এবং আসাবা মা'আল গাইরিহী (অন্যের সাথে সহযোগী আসাবা)। আসাবা হলেন সেইসব আত্মীয়, যারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ (অংশীদার) পাওয়ার পর যে অবশিষ্ট অংশ থাকে, তা লাভ করেন।

৬৫.
নিচের কোন ব্যক্তি স্থায়ী মাহরাম নন?
  1. দুধবোন
  2. শাশুড়ি
  3. পুত্রবধু
  4. স্ত্রীর আপন বোন
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর আপন বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর আপন বোন
ব্যাখ্যা

অস্থায়ী মুহাররামাত হলো যাদের সাথে অস্থায়ী সময়ের জন্য বিবাহ হারাম হয়। স্ত্রীর সাথে বিবাহবন্ধনে থাকাকালীন স্ত্রীর আপন বোন অস্থায়ী মাহরাম থাকেন। কিন্তু যখন স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে যায় কিংবা স্ত্রী মারা যান, তখন তাকে বিবাহ করা যায়।

৬৬.
প্রতিবেশীর অধিকারগুলির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া
  2. জানাযায় অংশ নেওয়া
  3. ঋণ দেওয়া
  4. নিয়মিত মেহমানদারি করা
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত মেহমানদারি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত মেহমানদারি করা
ব্যাখ্যা

হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকারের মধ্যে রয়েছে সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, বিপদে সাহায্য করা, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, হাঁচির জবাব দেওয়া, তাদের প্রতি কষ্টকর কিছু না করা এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ রাখা। ‘নিয়মিত মেহমানদারি করা’ প্রতিবেশীর অধিকারগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

৬৭.
وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰهِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا আয়াতের মূল থিম হলো—
  1. তাকওয়া
  2. ঐকমত্য
  3. মিতব্যয়িতা
  4. পারস্পরিক সদাচার
সঠিক উত্তর:
ঐকমত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকমত্য
ব্যাখ্যা

“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না।” (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ১০৩) এ আয়াতের মূল বিষয় হলো ‘ঐকমত্য’।

৬৮.
‘লা ইকরাহা ফিদ্দিন’ আয়াত দ্বারা কী বোঝানো হয়?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. ইসলামি সমাজের কঠোরতা
  3. ধর্মীয় কঠোরতা
  4. প্রচলিত অসাম্প্রদায়িকতা
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

“দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই।” (সুরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৬) পবিত্র কুরআনের এই আয়াতে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে।

৬৯.
ইসলামী সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো—
  1. ন্যায় ও সমতা
  2. শ্রেণি বিভাজন
  3. তাকওয়া ভিত্তিক ব্যবস্থা
  4. বর্ণভিত্তিক ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ন্যায় ও সমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায় ও সমতা
ব্যাখ্যা

ইসলামী সমাজের একটি অন্যতম প্রধান মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায় ও সমতা। যেখানে সকল মানুষের অধিকার, দায়িত্ব ও চাহিদা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য থাকে।

৭০.
কোন সুরায় মুসলিম ভ্রাতৃত্বের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুরা হুজরাত
  2. সুরা নূর
  3. সুরা বাকারাহ
  4. সুরা আলে ইমরান
সঠিক উত্তর:
সুরা হুজরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরা হুজরাত
ব্যাখ্যা

সুরা হুজরাতের ১০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ- মীমাংসা করে দাও।” এখানে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।

৭১.
ইসলামি সমাজব্যবস্থায় ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে?
  1. উৎসাহিত
  2. নিরুৎসাহিত
  3. শর্তসাপেক্ষে বৈধ
  4. বাধ্যতামূলক
সঠিক উত্তর:
নিরুৎসাহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরুৎসাহিত
ব্যাখ্যা

ইসলামী সমাজব্যবস্থায়, শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষমদের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং এটিকে একটি অসম্মানজনক ও নিন্দনীয় পেশা হিসেবে দেখা হয়।

৭২.
‘আদল’ শব্দ দ্বারা ইসলামি সমাজনীতিতে কী বোঝানো হয়?
  1. ন্যায়
  2. সুশাসন
  3. সহনশীলতা
  4. তাকওয়া
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
ব্যাখ্যা

‘আদল’ (আরবি: عدل) শব্দের দ্বারা ইসলামি সমাজনীতিতে মূলত ন্যায়বিচার, ইনসাফ, সুষম বা ন্যায়পরায়ণ আচরণ বোঝানো হয়। এর অর্থ হলো, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বান্দার যা প্রাপ্য, তা সঠিকভাবে আদায় করা এবং মানবসমাজে যার যা পাওনা, তাকে তা যথাযথভাবে প্রদান করা। এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক ও পারিবারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

৭৩.
মদিনা সনদে অমুসলিমদের কোন অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল?
  1. ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
  2. শাসন ক্ষমতা
  3. যুদ্ধের নেতৃত্ব
  4. যাকাত নেওয়ার অধিকার
সঠিক উত্তর:
ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদে অমুসলিমদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই সনদের একটি ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অমুসলিমদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুসলমানদের জন্য তাদের ধর্ম থাকবে, যা তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে।

৭৪.
ইসলামে দাসপ্রথা বিলুপ্তির একটি প্রধান উপায় কী?
  1. যুদ্ধ
  2. কিতাবুল মুকাতাবাহ
  3. দাসকে বিক্রি
  4. সমাজচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
কিতাবুল মুকাতাবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিতাবুল মুকাতাবাহ
ব্যাখ্যা

কিতাবুল মুকাতাবাহ ছিল ইসলামে দাসপ্রথা বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মুকাতাবাহ অর্থ চুক্তি করা। ইসলামী শরীয়তে কোনো দাস তার মালিকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অর্থ বা শর্তের বিনিময়ে মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে পারত। কুরআনে এর উল্লেখ এসেছে— “তোমাদের অধীনস্থ দাসদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাও, তবে তাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করো এবং আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তাদের দাও।” (সুরা নুর, আয়াত ৩৩)

৭৫.
ইসলামি শাসনের মূলনীতি কী?
  1. শুরা
  2. রাজতন্ত্র
  3. পরিবারতন্ত্র
  4. তাকওয়া
সঠিক উত্তর:
শুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরা
ব্যাখ্যা

ইসলামি শাসনের একটি মূলনীতি হলো ‘শুরা’ বা পরামর্শ। এটি একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ একে অপরের সাথে পরামর্শ করা এবং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কুরআন মুসলমানদেরকে তাদের সামগ্রিক বিষয়, এমনকি রাষ্ট্রীয় বিষয়েও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে, যা একটি প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত।

৭৬.
ইসলামি রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের উৎস কয়টি?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের উৎস মূলত চারটি: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। কুরআন হলো আল্লাহর বাণী, সুন্নাহ হলো নবী মুহাম্মদের (সা) কর্ম ও উক্তি, ইজমা হলো ফিকহবিদদের ঐক্যমত্য, এবং কিয়াস হলো সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৭৭.
‘আদল’ ও ‘ইহসান’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. আদল হলো ন্যায়, ইহসান হলো উত্তম আচরণ
  2. উভয়ই সমান
  3. আদল কেবল শাসকের জন্য, ইহসান কেবল শাসিতের জন্য
  4. আদল কেবল বিচারকের জন্য, ইহসান কেবল বাদির জন্য
সঠিক উত্তর:
আদল হলো ন্যায়, ইহসান হলো উত্তম আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদল হলো ন্যায়, ইহসান হলো উত্তম আচরণ
ব্যাখ্যা

আদল মানে ন্যায় বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে পক্ষপাতহীনভাবে সবার প্রতি সমান আচরণ করা হয় এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, ইহসান হলো আদলের চেয়েও উচ্চতর একটি ধারণা, যার অর্থ উত্তম আচরণ করা, দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শন করা এবং অন্যের প্রতি এমনভাবে আচরণ করা যা নিজের জন্য পছন্দ করা যায়।

৭৮.
ইসলামে অমুসলিম নাগরিকের কর কী নামে পরিচিত?
  1. জিজিয়া
  2. খারাজ
  3. উশর
  4. ফাই
সঠিক উত্তর:
জিজিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিজিয়া
ব্যাখ্যা

ইসলামে অমুসলিম নাগরিকদের উপর ধার্যকৃত বার্ষিক করকে জিজিয়া বলা হয়। এই কর ইসলামি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত অমুসলিমদের ওপর আরোপিত হতো, এবং এটি তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিনিময়ে নেওয়া হতো।

৭৯.
ইসলামী অর্থনীতিতে ‘ইহসান’ পরিভাষাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. আর্থিক সমৃদ্ধি
  2. যথাযথ মজুরি
  3. দান-সাদাকাহ
  4. খাজনা
সঠিক উত্তর:
দান-সাদাকাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দান-সাদাকাহ
ব্যাখ্যা

‘ইহসান’ (إحسان) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উত্তম ও উৎকৃষ্ট কাজ করা, শ্রেষ্ঠত্ব বা সুন্দরভাবে আচরণ করা, এবং ভালো কিছু করা। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইহসান মানে হলো সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতি, ব্যবসায় সততা, লেনদেনে ন্যায্যতা, এবং প্রয়োজনমতো দান-সদকা করা।

৮০.
ইসলামে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার হাতে?
  1. রাষ্ট্র
  2. ব্যবসায়ী গোষ্ঠী
  3. জনগণ
  4. সংশ্লিষ্ট সিন্ডেকেট
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

ইসলামের নীতি অনুযায়ী, বাজার স্বাভাবিক রাখতে রাষ্ট্র মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে ভূমিকা পালন করে, তবে সাধারণ মূল্যের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না, বরং অন্যায্য মূলবৃদ্ধি রোধ ও জনদুর্ভোগ কমাতে বাজার স্থিতিশীল রাখে। বাজার তদারকি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

৮১.
অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ কী?
  1. সুদ
  2. সামাজিক বৈষম্য
  3. কর্কটক্রান্ত্রি ও মকরক্রান্তি রেখা
  4. ধর্মীয় বৈষম্য
সঠিক উত্তর:
সুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদ
ব্যাখ্যা

সুদকে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার একটি অন্যতম মূল কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে এটি সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি করে, যেখানে ধনীরা আরও ধনী হয় এবং গরিবরা আরও গরিব হয়। এছাড়া, সুদ শোষণমূলক, কারণ ঋণগ্রহীতার লাভ হোক বা না হোক, তাকে সুদের অর্থ শোধ করতে হয়, যা সমাজে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সহানুভূতির পরিবর্তে বিভেদ তৈরি করে।

৮২.
রাসুল (সা)-এর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত কোনটি?
  1. হিজরত
  2. বদর যুদ্ধ
  3. হুদায়বিয়ার সন্ধি
  4. মদিনা সনদ প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
মদিনা সনদ প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদিনা সনদ প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত ছিল মদিনা সনদ প্রণয়ন। এটি ছিল মদিনার প্রথম লিখিত সংবিধান, যা মুসলিম ও অমুসলিমসহ সকল গোত্রের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি করা হয়। এই সনদের মাধ্যমে একটি আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং এটি পরবর্তীকালে ইসলামী সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

৮৩.
ইসলামী আইনে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. সম্পদের সুষম বণ্টন
  2. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  3. সুশাসন ও মানবাধিকার
  4. ইসলামি রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ইসলামী আইনে রাষ্ট্রের একটি প্রধান দায়িত্ব হলো ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, যা পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নির্ধারিত হবে এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনবে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই নাগরিকদের বৈষম্যহীন অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।

৮৪.
ইসলামে কোন অপরাধ প্রমাণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ সাক্ষীর প্রয়োজন হয়?
  1. লিআন
  2. অপবাদ
  3. যিনা
  4. রাষ্ট্রদ্রোহিতা
সঠিক উত্তর:
যিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনা
ব্যাখ্যা

ইসলামে, যিনা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অর্থাৎ চারজন পুরুষ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য প্রয়োজন। এই সাক্ষীদের অবশ্যই নিজেদের চোখে অপরাধটি ঘটতে দেখতে হবে এবং তা সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে বলে সাক্ষ্য দিতে হবে।

৮৫.
ইসলামি রাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধী যদি অনুতপ্ত হয় তবে শাস্তি—
  1. মাফ হবে এবং জরিমানা প্রযোজ্য হবে
  2. মাফ হবে
  3. মাফ হবে তবে সামাজিক চাপ প্রযোজ্য হবে
  4. কার্যকর হবে
সঠিক উত্তর:
কার্যকর হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে, যেমন হদ বা নির্ধারিত শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অপরাধী অনুতপ্ত হলেও সাধারণত শাস্তি কার্যকর হয়, কারণ এখানে সমাজের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রধান। তবে, কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে, বিশেষত যেখানে তাওবা বা অনুতাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, সেখানে কখনো কখনো শাস্তি মওকুফ বা হ্রাস হতে পারে।

৮৬.
নিচের কোনটি ইসলামি ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতি নয়?
  1. কিসাস
  2. দিয়ত
  3. হুদুদ
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

ইসলামি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হুদুদ (নির্ধারিত অপরাধের শাস্তি), কিসাস (প্রতিশোধ বা হত্যার বদলা), দিয়াত (রক্তের মূল্য বা ক্ষতিপূরণ) এবং তাযির (বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) হলো প্রধান নীতি বা শাস্তির রূপ। এই চারটি নীতি অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়, যেখানে হুদুদ ও কিসাস নির্দিষ্ট, আর তাযির ও দিয়ত বিচারকের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইসলামি ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতি নয়।

৮৭.
ইসলামি রাষ্ট্রের কোষাগারকে কী বলা হয়?
  1. যাকাত ফান্ড
  2. বায়তুল মাল
  3. খাজানা
  4. সঞ্চয় ফান্ড
সঠিক উত্তর:
বায়তুল মাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়তুল মাল
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রের কোষাগারকে বায়তুল মাল বলা হয়। এটি একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘অর্থের ঘর’ বা ‘ধনের ঘর’। ঐতিহাসিকভাবে, বায়তুল মাল ইসলামি খিলাফতে কর প্রশাসন, আয়-ব্যয় পরিচালনা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

৮৮.
‘খুমস’ বলতে কী বোঝায়?
  1. গনিমতের ১/৫ ভাগ
  2. যাকাতের ১/৫ ভাগ
  3. ফাই এর ১/৫ ভাগ
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
গনিমতের ১/৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গনিমতের ১/৫ ভাগ
ব্যাখ্যা

খুমুস একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো কোনো বস্তুর এক-পঞ্চমাংশ বা ২০%। ইসলামী পরিভাষায় এটি একটি কর, যা কিছু নির্দিষ্ট সম্পদ থেকে আহরিত হয় এবং বাইতুলমালে জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, খনি, স্থল ও সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং সমাহিত ধন অন্তর্ভুক্ত।

৮৯.
তাকাফুল ইসলামের কোন নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?
  1. পারস্পরিক বিশ্বাস
  2. পারস্পরিক সহযোগিতা
  3. মুনাফা
  4. মাইসির
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক সহযোগিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক সহযোগিতা
ব্যাখ্যা

তাকাফুলের মূল লক্ষ্যই হলো সমাজে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একটি সাধারণ তহবিলে অবদান রাখে এবং ভবিষ্যতের কোনো ক্ষতি বা দুর্যোগের সম্মুখীন হলে সেই তহবিল থেকে একে অপরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এটি প্রচলিত বীমার বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং ‘পরস্পরকে গ্যারান্টি’ বা ‘যৌথ গ্যারান্টি’ দেওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সাহায্য ও দায়িত্ব ভাগাভাগির নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।

৯০.
সাদাকাতুল ফিতর কোন ধরনের দান?
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ঐচ্ছিক
  3. ফরজে কেফায়া
  4. মুবাহ
সঠিক উত্তর:
বাধ্যতামূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা

সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক একটি আর্থিক ইবাদত। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় কারো যদি তার নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদে অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর নিজের এবং নিজের ওপর নির্ভরশীলদের (যেমন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা) পক্ষ থেকে ফিতরা ওয়াজিব হয়। এই ফিতরা ঈদের নামাজের আগেই আদায় করতে হয়, যাতে দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।

৯১.
মুসলিম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান কোন শতকে সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে ইউরোপে পৌঁছায়?
  1. ১২–১৩শ শতক
  2. ৯–১০ম শতক
  3. ১৪–১৫শ শতক
  4. ১৬শ শতক
সঠিক উত্তর:
১২–১৩শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২–১৩শ শতক
ব্যাখ্যা

মুসলিম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান ১২ থেকে ১৩ শতকে সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে ইউরোপে পৌঁছেছিল, বিশেষ করে যখন গ্রীক ও রোমান জ্ঞান মুসলিম পণ্ডিতদের মাধ্যমে সংরক্ষিত ও বিকশিত হয়েছিল এবং পরে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁর ভিত্তি তৈরি করেছিল।

৯২.
মুসলিম বিজ্ঞানীরা দূরদৃষ্টি বা পর্যবেক্ষণের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করতেন?
  1. অ্যাস্ট্রোল্যাব
  2. লেন্স
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. জলচক্র
সঠিক উত্তর:
অ্যাস্ট্রোল্যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাস্ট্রোল্যাব
ব্যাখ্যা

মুসলিম বিজ্ঞানীরা দূরদৃষ্টি এবং পর্যবেক্ষণের জন্য অ্যাস্ট্রোল্যাব ব্যবহার করতেন। অ্যাস্ট্রোল্যাব ছিল একটি জটিল যন্ত্র, যা প্রাচীন গ্রিকদের দ্বারা উদ্ভাবিত হলেও মুসলিম বিজ্ঞানীরা এর নির্মাণ ও ব্যবহারকে অনেক উন্নত করেন এবং ইসলামী বিশ্বে এর নির্মাণ ও ব্যবহার ব্যাপক ছিল। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ, সময় নির্ণয় এবং দিক নির্ণয়ের মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো।

৯৩.
মুসলিম স্থাপত্যে কোন উপাদান বেশি ব্যবহৃত হতো?
  1. পাথর ও চুন
  2. লোহা
  3. কাচ
  4. কাঠ
সঠিক উত্তর:
পাথর ও চুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথর ও চুন
ব্যাখ্যা

ইসলামী স্থাপত্যে পাথর ও চুন খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ উপাদান ছিল। পাথর ব্যবহার করা হতো মসজিদ, প্রাসাদ, মিনার ও দুর্গ নির্মাণে (যেমন: কুতুব মিনার, তাজমহল, উমাইয়া মসজিদ)। চুন ব্যবহার করা হতো ইট বা পাথরের বাঁধাইয়ের জন্য এবং দেয়াল প্লাস্টারের কাজে।

৯৪.
মুসলিম চিকিৎসকরা অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কোন উপকরণ ব্যবহার করতেন?
  1. মধু
  2. জল
  3. বালি
  4. চুন
সঠিক উত্তর:
মধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধু
ব্যাখ্যা

মুসলিম চিকিৎসকরা অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে মধু ব্যবহার করতেন, কারণ এটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতের নিরাময়ে সহায়ক। মধুর অ্যান্টিসেপটিক গুণ থাকার কারণে এটি পুরনো যুগে ক্ষত সারানোর জন্য একটি কার্যকর প্রাকৃতিক ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহৃত হত।

৯৫.
‘কিতাব আল-জাদরি ওয়াল হাসবাহ’ কোন বিষয়ে লেখা গ্রন্থ?
  1. হৃদরোগ
  2. জ্যোতির্বিদ্যা
  3. গুটি বসন্ত ও হাম
  4. চোখের রোগ
সঠিক উত্তর:
গুটি বসন্ত ও হাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুটি বসন্ত ও হাম
ব্যাখ্যা

‘কিতাব আল-জাদরি ওয়াল হাসবাহ’—এটি মূলত গুটি বসন্ত (smallpox) ও হাম (measles) বিষয়ে লেখা ইসলামী চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গুটি বসন্ত ও হামের লক্ষণ, কারণ ও প্রাদুর্ভাব, রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগের সময়ে শরীরের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বইটিতে।

৯৬.
মুসলিম গণিতবিদরা কোন সমস্যা সমাধানের জন্য বীজগণিত ব্যবহার করেছিলেন?
  1. জমির হিসাব
  2. চিকিৎসা
  3. জ্যোতির্বিদ্যা
  4. স্থাপত্য
সঠিক উত্তর:
জমির হিসাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমির হিসাব
ব্যাখ্যা

মুসলিম গণিতবিদরা বিশেষভাবে জমি ও সম্পত্তির হিসাব সমাধানের জন্য বীজগণিত ব্যবহার করতেন। বীজগণিতের জনক আল-খাওয়ারিজমী তাঁর গ্রন্থ “কিতাব আল-জবর ওয়াল-মুকাবালা”-তে জমি পরিমাপ, উত্তরাধিকার বণ্টন ও ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য সমীকরণ ব্যবহার করেছিলেন। কৃষিজমি ভাগ, সীমানা নির্ধারণ ও জমির ক্ষেত্রফল নির্ণয়ে বীজগণিত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৯৭.
আল-খাওয়ারিজমির একটি বিখ্যাত বই হলো-
  1. আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা
  2. কিতাবুল ফালাক
  3. কিতাবুল মিযান
  4. কিতাবুল মানাজির
সঠিক উত্তর:
আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা
ব্যাখ্যা

আল-খাওয়ারিজমি একটি বিখ্যাত বই লিখেছেন যার নাম আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা বা ‘কিতাব আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা’। এই গ্রন্থটি মূলত বীজগণিতের উপর লেখা প্রথম বই এবং এটি থেকে ‘বীজগণিত’ শব্দটি এসেছে। এটি আনুমানিক ৮২০ খ্রিস্টাব্দে লেখা হয়েছিল এবং এতে ব্যবসা, জরিপ ও আইনগত উত্তরাধিকারের মতো সমস্যা সমাধানের উদাহরণ এবং গাণিতিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৯৮.
মুসলিম নেভিগেশন ও নৌপথের উন্নয়নে কার অবদান সর্বাধিক?
  1. আল-ইদরিসি
  2. আল-বিরুনি
  3. আল-খাওয়ারিজমি
  4. আল-রাযি
সঠিক উত্তর:
আল-ইদরিসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল-ইদরিসি
ব্যাখ্যা

আল-ইদরিসি ছিলেন একজন বিখ্যাত মুসলিম ভূগোলবিদ ও মানচিত্রকার। তিনি সিসিলির রাজা রজার এর অনুরোধে বিশাল ভৌগোলিক গ্রন্থ Tabula Rogeriana রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি পৃথিবীর মানচিত্র, সমুদ্রপথ, বন্দর, দ্বীপ ও নৌযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মানচিত্র ও নৌপথ নির্দেশিকা বহু শতাব্দী ইউরোপে ব্যবহৃত হয়েছে এবং মুসলিম নেভিগেশন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৯৯.
আল-হাজিনির ‘আল-মানাজির’ গ্রন্থ কোন ভাষায় প্রথম রচিত হয়?
  1. আরবি
  2. পারস্য
  3. লাতিন
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

‘আল-মানাজির’ গ্রন্থটি আরবি ভাষায় প্রথম রচিত হয়। এটি দৃষ্টিবিদ্যা (Optics) বিষয়ক বিশ্বের প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী গ্রন্থগুলোর একটি। এতে আলো, প্রতিফলন, প্রতিসরণ, দৃষ্টি-প্রক্রিয়া, ক্যামেরা অবস্কুরা (Camera Obscura) ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে।

১০০.
পৃথিবীর ব্যাসার্ধ পরিমাপ করেছিলেন কে?
  1. আল-খাওয়ারিজমি
  2. আল-বিরুনি
  3. আল-রাজি
  4. ইবনে সিনা
সঠিক উত্তর:
আল-বিরুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল-বিরুনি
ব্যাখ্যা

আবু রায়হান আল-বিরুনি (৯৭৩–১০৪৮ খ্রি.) ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও ভূগোলবিদ। তিনি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয়ের জন্য একটি অভিনব ত্রিকোণমিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।

পদ্ধতি: আল-বিরুনি একটি উঁচু পাহাড়ে উঠে দিগন্তের কোণ পরিমাপ করেন। এরপর ত্রিকোণমিতি ব্যবহার করে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ গণনা করেন। তাঁর নির্ণীত মান আধুনিক পরিমাপের তুলনায় আশ্চর্যজনকভাবে সঠিক ছিল ।

১০১.
কুরআনের কোন আয়াতে বলা হয়েছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই”?
  1. সুরা আল-মায়িদা ৩২
  2. সুরা আল-বাকারা ২৫৬
  3. সুরা শুরা ৩৮
  4. সুরা তাওবা ৬০
সঠিক উত্তর:
সুরা আল-বাকারা ২৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরা আল-বাকারা ২৫৬
ব্যাখ্যা

কুরআনের সুরা আল-বাক্বারাহ ২৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই’ (লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন)। এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, কাউকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না, কারণ এটি একটি স্পষ্ট ও প্রামাণিক ধর্ম।

১০২.
ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের কী বলা হয়?
  1. মুসফির
  2. জিম্মি
  3. জিজিয়া
  4. আহলুল কিতাব
সঠিক উত্তর:
জিম্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিম্মি
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের জিম্মি (আরবি: ذمي) বলা হয়, যারা রাষ্ট্রের সুরক্ষা ও আইনের অধীনে থেকে তাদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করে। ইসলামী আইন অনুসারে, জিম্মিদের জীবন, সম্পদ, এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিরাপদ থাকে। এর বিনিময়ে, তাদের ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয় এবং নির্দিষ্ট কর বা জিজিয়া প্রদান করতে হতে পারে, যদিও এটি পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

১০৩.
গনিমতের সম্পদের ভাগীদার নয় কে?
  1. রাসুল (সা) এর আত্মীয়
  2. ইয়াতিম
  3. মিসকিন
  4. ঋণগ্রস্ত
সঠিক উত্তর:
ঋণগ্রস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণগ্রস্ত
ব্যাখ্যা

সুরা আনফালের ৪১ নং আয়াত অনুসারে, যুদ্ধলব্ধ সমস্ত সম্পদ প্রথমে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়: এর চার ভাগ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, আর এক ভাগ (পঞ্চমাংশ বা খুমুস) আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এই পাঁচ ভাগের এক ভাগ আবার বিভিন্ন খাতে (যেমন: আল্লাহ ও রাসুলের হক, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির) ব্যয় করা হয়। সুতরাং ঋণগ্রস্ত গনিমতের সম্পদের ভাগীদার নয়।

১০৪.
কোন মাসগুলোতে যুদ্ধ নিষিদ্ধ?
  1. রমজান, মুহাররম, রজব, শাবান
  2. যুল-ক্বা‘দাহ, যুল-হিজ্জাহ, মুহাররম, রজব
  3. রবিউল আউয়াল, রমজান, শাওয়াল, রজব
  4. শাবান, যুল-ক্বা‘দাহ, রমজান, মুহাররম
সঠিক উত্তর:
যুল-ক্বা‘দাহ, যুল-হিজ্জাহ, মুহাররম, রজব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুল-ক্বা‘দাহ, যুল-হিজ্জাহ, মুহাররম, রজব
ব্যাখ্যা

ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, বছরের চারটি হারাম মাস (নিষিদ্ধ বা সম্মানিত মাস) রয়েছে যেখানে যুদ্ধ নিষিদ্ধ। এই মাসগুলো হলো: মুহররম, রজব, যুল-ক্বা‘দাহ, এবং যুল-হিজ্জাহ। এই সময়গুলোতে আগ্রাসন বা আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাত করা হারাম বা নিষিদ্ধ।

১০৫.
ইসলামে শিশু ও নারী হত্যার বিষয়ে কী নির্দেশনা আছে?
  1. অনুমোদিত
  2. সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  3. কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে বৈধ
  4. কেবল অবিশ্বাসীদের জন্য বৈধ
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
ব্যাখ্যা

ইসলামে শিশু ও নারী হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যুদ্ধকালেও ইসলামে নিরীহ নারী ও শিশুদের হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং রাসুল (সা) বহুবার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইসলামে মানুষের জীবন অত্যন্ত পবিত্র; প্রতিআক্রমণ কেবল বৈধ আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে অনুমোদিত।

১০৬.
ইসলামে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দায়িত্ব কার?
  1. আলেম সমাজ
  2. রাষ্ট্র
  3. সাধারণ জনগণ
  4. মজলিশে শুরা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

ইসলামে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ইসলামি রাষ্ট্র শুধু নয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে ইসলামে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০৭.
সর্বজনীন মাধবাধিকার সনদে ‘ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা’ কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১৯
  3. অনুচ্ছেদ ২০
  4. অনুচ্ছেদ ২২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ১৮ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা সম্পর্কিত, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, বিবেক এবং ধর্মের স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হল নিজ ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তন করার স্বাধীনতা এবং একা বা অপরের সঙ্গে মিলিতভাবে, প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে নিজের ধর্ম বা বিশ্বাস প্রকাশ করার স্বাধীনতা, যা শিক্ষা, অনুশীলন, উপাসনা এবং পালনের মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে।

১০৮.
সর্বজনীন মাধবাধিকার সনদটি কবে গৃহীত হয়েছিল?
  1. ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮
  2. ২৫ জুন ১৯৪৫
  3. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৫০
  4. ২১ মার্চ ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

সর্বজনীন মানবাধিকার সনদটি ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যখন বিশ্বের সকল অঞ্চল ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত এই ঘোষণাপত্রটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বজনীনভাবে গৃহীত হয়।

১০৯.
নিচের কোনটি আর্যসত্য নয়?
  1. দুঃখের কারণ আছে
  2. দুঃখের পরে সুখ আছে
  3. দুঃখের নিবৃত্তি আছে
  4. দুঃখ নিরোধের উপায়
সঠিক উত্তর:
দুঃখের পরে সুখ আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখের পরে সুখ আছে
ব্যাখ্যা

বৌদ্ধধর্মে ৪টি আর্যসত্য রয়েছে: জীবন দুঃখময়, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিবৃত্তি আছে, দুঃখ নিরোধের উপায় আছে। সুতরাং, ‘দুঃখের পরে সুখ আছে’ কোন আর্যসত্য নয়।

১১০.
ইহুদি ধর্মের আদিপুরুষ কে?
  1. হযরত মুসা (আ)
  2. হযরত ইসা (আ)
  3. হযরত ইব্রাহিম (আ)
  4. হযরত ইদ্রিস (আ)
সঠিক উত্তর:
হযরত ইব্রাহিম (আ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হযরত ইব্রাহিম (আ)
ব্যাখ্যা

ইহুদি ধর্মের আদিপুরুষ হলেন আব্রাহাম বা ইব্রাহিম (রা)। তিনি ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম এই তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারীদের আধ্যাত্মিক পিতা বা পূর্বপুরুষ হিসেবে পরিচিত।

১১১.
যীশুর শিষ্য জুডাস কীসের বিনিময়ে যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে?
  1. ৩০টি রৌপ্যমুদ্রা
  2. ২০টি রৌপ্যমুদ্রা
  3. ১০টি স্বর্ণমুদ্রা
  4. ৩০টি স্বর্ণমুদ্রা
সঠিক উত্তর:
৩০টি রৌপ্যমুদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি রৌপ্যমুদ্রা
ব্যাখ্যা

যীশুর শিষ্য জুডাস মাত্র ৩০টি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যীশুর মোট ১২জন প্রধান শিষ্য ছিল।

১১২.
পৃথিবীতে সর্বজনীন ধর্মের সংখ্যা-
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে অনেক ধর্ম থাকলেও সর্বজনীন ধর্ম কেবল ইসলাম। অর্থাৎ এটি মানুষের জীবন ও সমাজের সব দিককে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সকল জাতি ও কালকে লক্ষ্য করে প্রেরিত। ইসলামকে ‘আল-দীনুল কামিল’ বা পূর্ণাঙ্গ ধর্ম বলা হয়। কারণ এটি শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক দিক নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক দিকও নিয়ন্ত্রণ করে।

১১৩.
হযরত শীশ (আ) এর উপর কতটি সহিফা অবতীর্ণ হয়েছিল?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৪০
  4. ৫০
সঠিক উত্তর:
৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০
ব্যাখ্যা

হযরত আদমের উপর ১০ টি সহিফা; হযরত শীষের উপর ৫০টি সহিফা; হযরত ইদ্রিসের উপর ৩০টি সহিফা এবং হযরত ইব্রাহিমের উপর ১০টি সহিফা অবতীর্ণ হয়েছিল।

১১৪.
মহানবি (সা) কোন ইবাদতকে মুমিনের মিরাজ বলে ঘোষণা করেছেন?
  1. সালাত
  2. যাকাত
  3. সিয়াম
  4. কিয়ামুল লাইল
সঠিক উত্তর:
সালাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালাত
ব্যাখ্যা

মহানবি (সাঃ) নামাজকে মুমিনের মিরাজ বলে ঘোষণা করেছেন। এই উক্তিটি একটি বহুল প্রচলিত হাদিস। নামাজের মাধ্যমে একজন মুমিন তার প্রতিপালকের সঙ্গে নিভৃতে কথা বলার সুযোগ পায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।