পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি টপিক: ১. আধুনিক বিজ্ঞান, ২. স্কেল, রাশি ও পরিমাপক, ৩. তড়িৎ ও অন্যান্য শক্তি এবং শক্তির রূপান্তর। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
কোন উপকরণের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করা যায়?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. পাইরোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করতে হাইগ্রোমিটার ব্যবহৃত হয়। হাইগ্রোমিটার এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাণ বা আর্দ্রতার শতকরা মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে। বায়ুর আর্দ্রতা হলো বায়ুর মধ্যে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, যা আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। হাইগ্রোমিটার বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন: কাপড় বা কাশ্মীরের তন্তু ব্যবহার করে তৈরি অ্যানালগ হাইগ্রোমিটার, কিংবা আধুনিক ডিজিটাল হাইগ্রোমিটার। অন্যদিকে, পাইরোমিটার তাপমাত্রা মাপার জন্য, ম্যানোমিটার চাপ পরিমাপের জন্য এবং ব্যারোমিটার বায়ুর চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই আর্দ্রতা নির্ণয়ের জন্য সঠিক উত্তর হলো ক) হাইগ্রোমিটার।
 
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  4. কার্বন ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
ব্যাখ্যা

• ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)। এটি বিভিন্ন এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এবং স্প্রে ক্যানের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। যখন CFC বায়ুমণ্ডলে উঠে ওজোন স্তরে পৌঁছায়, সানলাইটের আলোর কারণে এটি ক্লোরিন আয়ন বের করে। এই ক্লোরিন আয়ন ওজোন অণুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাকে ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়। ওজোন স্তর আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। CFC ছাড়া অন্য উপাদান যেমন নাইট্রোজেন অক্সাইড বা মিথেনও ওজোন ক্ষয় ঘটাতে পারে, তবে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তাই CFC কে ওজোন স্তর নষ্টের প্রধান দায়ী ধরা হয়।

• ওজোন স্তর:
- ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামুলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে ।

• ওজোন স্তরের ভূমিকা- 
-  সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultra-Violet Ray) শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
 - বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
 - জীববৈচিত্র রক্ষা করে ।
 - ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও তা বায়ুমন্ডলীয় তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

• CFC (Chlorofluorocarbons) হলো এমন রাসায়নিক যৌগ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (stratosphere) পৌঁছে ওজোন (O3) গ্যাসকে ধ্বংস করে।

• ক্ষয় প্রক্রিয়া:
- CFC গ্যাস UV রশ্মিতে ভেঙে যায় → ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু → হাজার হাজার ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।

.
কোন যন্ত্র বা পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা সম্ভব?
  1. ওহমমিটার
  2. সেক্সট্যান্ট
  3. ওডোমিটার
  4. মাল্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা

• অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য সেক্সট্যান্ট (খ) ব্যবহার করা হয়। সেক্সট্যান্ট একটি নৌযানের বা নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের যন্ত্র, যা সূর্য, চাঁদ বা তারা থেকে কোনো বস্তুর কোণ পরিমাপ করতে সক্ষম। মূলত এটি জ্যোতির্বিদ্যা ও নৌপথ নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। সমুদ্রপথে অবস্থান নির্ধারণের জন্য সেক্সট্যান্ট দিয়ে সূর্য বা তারা এবং দিগন্তের মধ্যে কোণ পরিমাপ করে ভৌগোলিক অক্ষাংশ নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, ওহমমিটার, ওডোমিটার ও মাল্টিমিটার  যথাক্রমে বিদ্যুৎ বা গাড়ির দূরত্ব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়; এগুলি অক্ষাংশ নির্ণয়ের কাজে আসে না। তাই অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য সঠিক যন্ত্র হলো সেক্সট্যান্ট।

• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude):
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০০।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

- অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

• সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
যে ভৌত রাশিগুলোর মান ও দিক উভয়ই আছে, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ঘূর্ণন রাশি
  3. অদিক রাশি 
  4. ভেক্টর রাশি 
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশি 
ব্যাখ্যা

• যে সকল ভৌত রাশির মানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দিকও থাকে, সেগুলোকে ভেক্টর রাশি বলা হয়। ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ জানলেই যথেষ্ট নয়, কোন দিকে ক্রিয়া করছে তাও জানা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বল, বেগ, ত্বরণ ও বল উল্লেখযোগ্য। এর বিপরীতে স্কেলার রাশির শুধু মান থাকে, দিক থাকে না, যেমন ভর বা তাপমাত্রা। 

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Photoelectric Effect ব্যাখ্যার জন্য কোন তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে?
  1. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. কণিকা তত্ত্ব
  3. তরঙ্গ তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• Photoelectric Effect বা আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তত্ত্ব প্রথম দেন আলবার্ট আইনস্টাইন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলো ধারাবাহিক তরঙ্গ নয়, বরং শক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট বা কণা আকারে নির্গত হয়, যাদের ফোটন বলা হয়। যখন নির্দিষ্ট ন্যূনতম কম্পাঙ্কের আলো কোনো ধাতুর পৃষ্ঠে আপতিত হয়, তখন ফোটন ধাতুর ইলেকট্রনকে শক্তি সরবরাহ করে। পর্যাপ্ত শক্তি পেলে ইলেকট্রন ধাতুর পৃষ্ঠ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসে। তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়ে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি, তাই কোয়ান্টাম তত্ত্বই সঠিক উত্তর।
 
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন অংশ বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ সম্ভব করে?
  1. আয়নোস্ফিয়ার
  2. মেসোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের যে অংশ বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ সম্ভব করে, তা হলো আয়নোস্ফিয়ার। আয়নোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডলের উপরের একটি স্তর, যেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গ্যাসগুলো আয়নিত হয়ে বিদ্যুত্‌ চার্জযুক্ত কণায় পরিণত হয়। এই আয়নিত কণাগুলো রেডিও বা বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত বা বাঁকিয়ে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে দিতে পারে। ফলে বেতার তরঙ্গ সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে গিয়েও বহু দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এ কারণেই রেডিও সম্প্রচার, দূরপাল্লার যোগাযোগ এবং নৌ ও বিমান যোগাযোগে আয়নোস্ফিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।
- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
ক) তাপ বায়ুমণ্ডলের খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য। 
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমণ্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়। 
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। 
ঘ) এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ,
- ট্রপোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ও জলবায়ুর ঘটনাবলী ঘটে।
- স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এখানে ওজোন স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে।
- মেসোস্ফিয়ার: উল্কাপিণ্ড পুড়ে যায় এই স্তরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
লব্ধ রাশির উদাহরণ হচ্ছে -
  1. বেগ
  2. সময়
  3. ভর 
  4. দৈর্ঘ্য 
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা

• লব্ধ রাশি হলো সেই ভৌত রাশি, যা এক বা একাধিক মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত হয়। প্রদত্ত উদাহরণগুলোর মধ্যে বেগ একটি লব্ধ রাশি, কারণ বেগ নির্ণয় করা হয় দূরত্ব ও সময়ের সাহায্যে (বেগ = দূরত্ব ÷ সময়)। এখানে দূরত্ব ও সময় উভয়ই মৌলিক রাশি। অন্যদিকে সময়, ভর এবং দৈর্ঘ্য নিজেরা মৌলিক রাশি; এদেরকে অন্য কোনো রাশির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয় না। তাই এরা লব্ধ রাশি নয়। সুতরাং প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে কেবল বেগই লব্ধ রাশির উদাহরণ।

রাশি: 
- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায় যেখানে ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। পানির তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায় যেখানে পানির তাপমাত্রাও একটি রাশি ইত্যাদি। 

মৌলিক রাশি: 
- এসকল রাশির মধ্যে কয়েকটি রাশি রয়েছে যেগুলো পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এই রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ রাশি: 
- অপরদিকে, এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
যখন বৈদ্যুতিক পাখা চালানো হয়, তখন বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তিতে 
  2. রাসায়নিক শক্তিতে
  3. শব্দ শক্তিতে
  4. তাপ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে 
ব্যাখ্যা

• যখন বৈদ্যুতিক পাখা চালানো হয়, তখন এতে প্রবাহিত বিদ্যুৎ শক্তি মূলত যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। পাখার ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক মোটর বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে ঘূর্ণন সৃষ্টি করে, ফলে পাখার ব্লেড ঘুরতে শুরু করে এবং বাতাস প্রবাহিত হয়। এই ঘূর্ণন ও গতি যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। যদিও পাখা চালানোর সময় সামান্য শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তিও উৎপন্ন হয়, সেগুলো গৌণ ফলাফল। মূল ও প্রয়োজনীয় শক্তি রূপান্তরটি ঘটে বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যান্ত্রিক শক্তিতে।


বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ চালনা করলে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আবার, 
- বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে পাখা ঘুরতে থাকে। 
- এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি হতে আমরা আলো পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

.
সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে দায়ী কোনটি? 
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. নিম্ন তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

• সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে প্রধানত নিম্নচাপ দায়ী, অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক) নিম্নচাপ। উষ্ণ সমুদ্রের উপর যখন বায়ু দ্রুত গরম হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে, তখন সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু দ্রুত ওই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে এই প্রবাহিত বায়ু ঘূর্ণায়মান রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, যাকে সাইক্লোন বলা হয়। উচ্চচাপ, সমুদ্রস্রোত বা নিম্ন তাপমাত্রা সরাসরি সাইক্লোন সৃষ্টির মূল কারণ নয়, বরং নিম্নচাপই এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
 
সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি কোন কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. আলো ও বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  3. রাসায়নিক ও তাপ শক্তি 
  4. তাপ ও শব্দ শক্তি
সঠিক উত্তর:
তাপ ও শব্দ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা

• ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকি ব্যবহার করলে মানুষের পেশিশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়। এই যান্ত্রিক শক্তি যখন ধানের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন ঢেঁকি ও ধানের মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং আঘাতের ফলে শক্তির রূপান্তর ঘটে। ঘর্ষণের কারণে কিছু শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যার ফলে সামান্য উষ্ণতা অনুভূত হয়। আবার ঢেঁকি পড়া ও ধান ভাঙার সময় যে শব্দ হয়, তা থেকে বোঝা যায় যে কিছু শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি মূলত তাপ ও শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সঠিক উত্তর: ঘ) তাপ ও শব্দ শক্তি।

 
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১১.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব কোনটি?
  1. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  2. বিগব্যাং তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব (খ)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রসারিত হতে শুরু করে। সেই বিস্ফোরণের ফলেই স্থান, সময়, পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহ ও অন্যান্য জাগতিক বস্তুর গঠন ঘটে। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব জীবজগতের বিকাশ ব্যাখ্যা করে, আপেক্ষিক তত্ত্ব মহাকর্ষ ও স্থান-সময়ের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে এবং নিউটনের গতি সূত্র বস্তুগত গতি বোঝায়, কিন্তু মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে না।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. ক্রোনোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ওডোমিটার
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

• উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে গ) ট্যাকোমিটার সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। ট্যাকোমিটার মূলত কোনো যন্ত্র বা ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতির হার (RPM) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে, তা জানার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উড়োজাহাজের গতি ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপতে, ক্রোনোমিটার সময় নির্ণয়ে এবং ওডোমিটার দূরত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। তাই উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ট্যাকোমিটারই প্রাসঙ্গিক যন্ত্র।
 
• বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অলটিমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র - অডিওমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৩.
বিজ্ঞানীরা কোন কণাটিকে “গডস পার্টিকল” নামে অভিহিত করেন?
  1. হিগস বোসন কণা
  2. গেজ বোসন কণা
  3. গ্রাভিটন কণা
  4. লেপটন কণা
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন কণা
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানীরা “গডস পার্টিকল” বা ঈশ্বর কণা হিসেবে হিগস বোসন কণাকে অভিহিত করেন। এটি একটি মৌলিক কণা, যা হিগস ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত এবং অন্যান্য কণাগুলোর ভর উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। হিগস বোসন না থাকলে, মৌলিক কণাগুলি ভরহীন থাকত এবং মহাবিশ্বে পারমাণবিক কাঠামো তৈরি হতো না। ২০১২ সালে সিএমএস ও এটিএলএস এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (LHC) এই কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা ও সমর্থিত হলো। তাই হিগস বোসনকে “গডস পার্টিকল” বলা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) হিগস বোসন কণা।

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়। 
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, কারণ সেখানে-
  1. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

• মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করার সময় মূলত তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy) ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারির ভিতরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি রাসায়নিক শক্তিতে (Chemical Energy) রূপান্তরিত হয়। ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো এই শক্তি জমা রাখে এবং পরে যখন মোবাইল ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয় যা ফোনের কাজ চালায়। তাই, মোবাইল চার্জ করার সময় তড়িৎ শক্তি সরাসরি যান্ত্রিক, আলোক বা চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না, বরং এটি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সংরক্ষিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
কাচের বা গোলীয় পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্ফেরোমিটার
  2. স্ক্রু গজ
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
ব্যাখ্যা

• কাচ বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য স্ফেরোমিটার ব্যবহার করা হয়। এটি একটি বিশেষ যন্ত্র যা সাধারণত তিনটি পা এবং একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু দিয়ে তৈরি। কাচের লেন্স বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ নির্ধারণে এর ব্যবহার সবচেয়ে সুবিধাজনক। যন্ত্রটি পৃষ্ঠের ওপর স্থাপন করে কেন্দ্রীয় স্ক্রুতে সামান্য চাপ দিলে পায়ের উচ্চতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বক্রতার মান বের করা যায়। এরপর স্ক্রুতে থাকা স্কেল থেকে পৃষ্ঠের ব্যাসার্ধ গণনা করা হয়। স্ফেরোমিটার লেন্স, আয়না বা অন্যান্য বক্র পৃষ্ঠের সঠিক ব্যাসার্ধ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় এবং প্রায়শই অপটিক্যাল এবং যান্ত্রিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য যন্ত্র যেমন স্ক্রু গজ, স্লাইড ক্যালিপার্স বা ভার্নিয়ার স্কেল সাধারণ মাত্রা মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বক্রতার ব্যাসার্ধের জন্য নয়।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ফেরোমিটার।
 
স্ফেরোমিটার (Spherometer): 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা।

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।  
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১৬.
কোন বস্তু পরিমাপের জন্য ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহ
  2. তাপমাত্রা
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ভর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স একটি সুনির্দিষ্ট যন্ত্র যা মূলত দৈর্ঘ্য, ব্যাসার্ধ, গভীরতা বা ভিতরের এবং বাইরের আকার পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি খুব ক্ষুদ্র পরিবর্তনও ঠিকভাবে মাপতে সক্ষম, কারণ এতে একটি ভার্নিয়ার স্কেল থাকে যা মূল স্কেলের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাপের ফলাফলকে আরও নিখুঁত করে। ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করে আমরা কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা বা ব্যাসার্ধ সহজে এবং সঠিকভাবে মাপতে পারি। এটি সাধারণত বিদ্যুৎ প্রবাহ বা তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয় এবং ভর পরিমাপের জন্যও ব্যবহার হয় না। তাই, ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স মূলত দৈর্ঘ্য পরিমাপের যন্ত্র।

- সঠিক উত্তর: গ) দৈর্ঘ্য।

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স:
- ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স (Vernier Calipers) হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপক যন্ত্র যা খুব ছোট দৈর্ঘ্য বা ব্যাস, গভীরতা ইত্যাদি 0.01 সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভার্নিয়ার স্কেল বিশিষ্ট ক্যালিপার্স দিয়ে ছোট দৈর্ঘ্য খুব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়, যা সাধারণ স্কেলের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ।

• এটি প্রধানত দুটি স্কেল নিয়ে গঠিত। যথা:
– প্রধান স্কেল ও
– ভার্নিয়ার স্কেল।

• এটি দিয়ে পরিমাপ করা হয়- 
- ছোট বস্তু বা নলাকার জিনিসের দৈর্ঘ্য, বাহ্যিক ব্যাস বা প্রস্থ। 
- ফাঁপা বস্তুর অভ্যন্তরীণ ব্যাস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১৭.
‘পিকো’ প্রিফিক্সের মান কী?
  1. 10-18
  2. 10-15
  3. 10-9
  4. 10-12
সঠিক উত্তর:
10-12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10-12
ব্যাখ্যা

• ‘পিকো’ (pico) একটি মেট্রিক প্রিফিক্স যা কোনো এককের খুব ছোট অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিমাপে ব্যবহৃত হয়, যেমন দৈর্ঘ্য, ভল্টেজ বা সময়। মেট্রিক সিস্টেমে ‘পিকো’ মানে 10-12 অর্থাৎ এক ইউনিটের এক ট্রিলিয়ন ভাগের একটি অংশ।

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত কোন অংশ উপস্থিত থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. নিউট্রন
  4. প্রোটন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটন উপস্থিত থাকে। প্রোটন হলো পরমাণুর একটি মূল কণা যা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের বড় অংশ হাইড্রোজেন গ্যাসের আকারে থাকে, এবং প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটিমাত্র প্রোটন থাকে। তাই মহাবিশ্বের জ্যোতির্মণ্ডলে যে রশ্মি বা বিকিরণ দেখা যায়, তার প্রধান উপাদান হিসেবে প্রোটনই প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন ও কার্বন মহাবিশ্বে কম পরিমাণে আছে, আর নিউট্রন সাধারণত প্রোটনের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং স্বাধীনভাবে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না। ফলে, মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটনই উপস্থিত।

- সঠিক উত্তর: ঘ) প্রোটন।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 

১৯.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মি কোন উৎস থেকে আসে?
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মি মূলত আইসোটোপ থেকে আসে। রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ হলো এমন একটি রসায়নিক উপাদান যার নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গামা রশ্মি, বিটা বা অ্যালফা কণার মাধ্যমে বিকিরণ করে স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয় কোবাল্ট-৬০ বা অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ যেগুলো উচ্চ শক্তির গামা রশ্মি নির্গত করে। এই গামা রশ্মি ক্যান্সারের টিস্যুতে পৌঁছায় এবং ক্যান্সার কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে কোষ ধ্বংস হয়। তাই গামা রশ্মি নির্গমনের জন্য সরাসরি উৎস হিসেবে কাজ করে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ, যা চিকিৎসায় অপরিহার্য।

- সঠিক উত্তর: গ) আইসোটোপ।

আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়।
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা যাচাই করার জন্য কোন রশ্মি প্রয়োগ করা হয়?
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি 
  3. আলফা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।

 
• এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার জন্য জগদীশচন্দ্র বসু কোন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন? 
  1. ক্রেস্কোগ্রাফ
  2. স্পেকট্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

• জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদবিদ্যা এবং পদার্থবিজ্ঞানের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং মাপার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। এই যন্ত্রটির সাহায্যে উদ্ভিদের অতি সূক্ষ্ম বৃদ্ধি নিরীক্ষণ করা সম্ভব ছিল, যা সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা যেত না। ক্রেস্কোগ্রাফ উদ্ভিদের পাতার বৃদ্ধি, লতাপাতা বা শিকড়ের দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে রেকর্ড করতে সাহায্য করত। বসুর এই উদ্ভাবন উদ্ভিদবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সৃষ্টি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও জীবনচক্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে নতুন দিশা দেখায়। ফলে এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণাকে অনেক উন্নত ও সূক্ষ্ম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

- উত্তর: ক) ক্রেস্কোগ্রাফ। 

জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন ধরনের শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়?
  1. জলবিদ্যুৎ শক্তি
  2. সৌর শক্তি
  3. নিউক্লিয়ার শক্তি
  4. বায়ু শক্তি
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার শক্তি
ব্যাখ্যা

• রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিউক্লিয়ার শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা দেশের বৈদ্যুতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো পারমাণবিক ইন্ধনকে নিয়ন্ত্রণকৃত নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এই তাপ জলকে বাষ্পে পরিণত করে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। রূপপুরের মতো নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের সুবিধা হলো এটি স্থায়ী ও বড় পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যেখানে কার্বন নিঃসরণও কম থাকে। তাই রূপপুর প্রকল্পটি বাংলাদেশের শক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

সঠিক উত্তর: গ) নিউক্লিয়ার শক্তি।

প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিকাশ: 
- আইনস্টাইন তার থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে E = mc2 সূত্রটি বের করে দেখিয়েছিলেন ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- 1938 সালে অটোহান এবং স্ট্রেসম্যান একটি নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেখান যে, নিউক্লিয়াসের ভর যেটুকু কমে গিয়েছে, সেটা শক্তি হিসেবে বের হয়েছে। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি করে। শুধু যে এই মারণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব তা নয়, এই শক্তি মানুষের কাজেও লাগানো সম্ভব। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বৈদ্যুতিক কেন্দ্র (Nuclear Power Plant) তৈরি করা হয়। যেমন- রূপপুরে সেরকম একটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান এবং সেখানে অর্ধপরিবাহী নিয়ে কাজ করা হয়। এই অর্ধপরিবাহীর সাথে বিশেষ মৌল মিশিয়ে তাদের যুক্ত করে ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়। এই প্রযুক্তি দিয়ে ইলেকট্রনিকসের একটি অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমান সভ্যতায় এই ইলেকট্রনিকসের একটি অনেক বড় অবদান রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩.
"ওজন" এর এসআই একক হচ্ছে:
  1. আউন্স
  2. নিউটন
  3. পাউন্ড
  4. কেজি
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা

• ওজন হলো একটি পদার্থের উপর গুরুত্বাকর্ষীয় শক্তির কারণে কার্যকর হওয়া বল। যেহেতু এটি একটি বল, তাই ওজনের পরিমাপও বলের এককে হয়। এস আই একক ব্যবস্থায় বলের একক হলো নিউটন (N)। একটি নিউটন হলো এমন বল যা ১ কেজি ভরের একটি পদার্থকে প্রতি সেকেন্ড² তে ১ মিটার ত্বরণ প্রদান করে। অন্য একক যেমন কেজি হলো ভরের একক, আউন্স এবং পাউন্ড হলো অন্য একক ব্যবস্থার ভর বা ওজন পরিমাপের একক। সুতরাং, ওজনের সঠিক এস আই একক হলো নিউটন, যা গুরুত্বাকর্ষীয় বলকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে।

- সঠিক উত্তর: খ) নিউটন।

• নিউটন (Newton) হলো বলের এসআই একক, এবং যেহেতু ওজন হলো ভরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রয়োগ, তাই ওজনের এককও নিউটন।

• সূত্র: ওজন = ভর × মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ (W = m × g)
• যেখানে ভরের (m) একক কেজি (kg) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) একক m/s2, তাই ওজনের (W) একক হয়  Kg·m/s2 = নিউটন।

• ভৌত রাশি ও তাদের SI একক:
- দৈর্ঘ্য - মিটার (m), 
- ভর - কিলোগ্রাম (kg), 
- সময় - সেকেন্ড (s), 
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K), 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A), 
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol), 
- আলোক তীব্রতা - ক্যান্ডেলা (cd), 
- বল - নিউটন (N)।

উৎস: ব্রিটানিকা।